নিজের বিপ্লবী জীবনের শুরু নিয়ে কমরেড গনজালো’র সাক্ষাৎকার

Shining Path guerrilla leader Abimael Guzman is pictured in jail after his capture in Lima in this September 24, 1992 file photograph. REUTERS/Anibal Solimano/File

১৯৯২ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর পেরুর লিমা থেকে শাইনিং পাথ প্রধান কমরেড গনজালো’র গ্রেফতার হওয়ার পর কারাগারে তোলা ছবি– 

১৯৩৪-এ জন্ম নেয়া গনসালো ১৯৮৮-এর সাক্ষাতকারে ঘটনাসমূহ বর্ণনা করেন যা তার জীবনকে চিত্রিত করে:

“আমি বলব রাজনীতিতে যাওয়ার পেছনে যা আমাকে সবচেয়ে প্রভাবিত করেছে তা হচ্ছে জনগণের সংগ্রাম। ১৯৫০-এ আরেকুইপাতে উত্থানের সময় আমি জনগণের যুদ্ধ উদ্যম দেখেছি-তরুণদেরকে বর্বর গণহত্যার জবাবে কীভাবে জনগণ অপরিমেয় ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে লড়েছেন।

আর আমি দেখেছি কীভাবে তারা সৈন্যবাহিনীকে লড়েছেন তাদের ব্যারাকে পশ্চাদপসারণ করতে বাধ্য করে।  আর অন্য এলাকা থেকে বাহিনী আনা হয়েছে জনগণকে ধ্বংস করতে।  এটা একটা ঘটনা যা আমাদের স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে রয়েছে।

কারণ সেখানে, লেনিনকে বোঝার পর, আমি বুঝলাম কীভাবে জনগণ, আমাদের শ্রেণী, যখন তারা, রাস্তায় অবস্থান নেয় ও এগিয়ে যায় প্রতিক্রিয়াশীলদের সমস্ত ক্ষমতা সত্ত্বেও তাদের কাঁপিয়ে তোলে।

আরেকটি জিনিস ছিল ১৯৫৬-এর সংগ্রাম, যখন জনগণ লড়েন, অন্যরা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলেও-যা সুবিধাবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীলরা করে থাকে, কিন্তু জনগণ লড়াই করল এবং সেই দিনটিকে বহন করল, আর গণআন্দোলন সংঘটিত হল, খুবই শক্তিশালি।  এই ঘটনাসমূহ, উদাহারণস্বরূপ, আমাকে সাহায্য করল জনগণের ক্ষমতা বুঝতে: এই যে তারা ইতিহাস সৃষ্টি করে।

আরেকটু পেছনে যাই। আমার কাল্লাওয়ে ১৯৪৮-এ জনগণ দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল, জনগণের সাহসিকতা নিজের চোখে দেখেছি, কীভাবে জনগন বীরত্বে উদ্বেল, কীভাবে নেতৃত্ব বিশ্বাসঘাতকতা করল।”

সাক্ষাতকারে তিনি ব্যাখ্যা করেন কীভাবে এসব গণসংগ্রাম তাকে সাম্যবাদে নিয়ে এসেছে:

“উচ্চস্কুল জীবনের শেষে আমার রাজনীতিতে আগ্রহ বিকশিত হয় ১৯৫০-এর ঘটনাসমূহের ওপর ভিত্তি করে।

পরবর্তী বছরগুলিতে; আমার স্কুলের সহপাঠীদের নিয়ে একটা গ্রুপ গঠন করার কথা আমার মনে আছে রাজনৈতিক ভাবধারা অধ্যয়ন করতে।  সকল ধরণের রাজনৈতিক অধ্যয়নে আমরা খুবই আগ্রহী ছিলাম।  সম্ভবত আপনি বুঝবেন সেটা কী ধরণের সময় ছিল।  এটা ছিল আমার জন্য সূচনা।

তারপর কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামে আমি দেখলাম প্রত্যক্ষ ধর্মঘট, আপ্রিস্টা ও কমিউনিস্টদের মধ্যে সংঘাত ও বিতর্কসমূহ।  তাই বইয়ের প্রতি আমার আগ্রহ জ্বলে উঠলো।কেউ একজন আমাকে একটা বই ধার দেওয়া যায় মনে করলো।  আমি বিশ্বাস করি এটা ছিল “এক কদম আগে, দুই কদম পেছনে”, আমি এটা পছন্দ করলাম, আমি মার্কসবাদী বই অধ্যয়ন শুরু করলাম।  তখন কমরেড স্তালিনের ব্যক্তিত্ব আমার ওপর বড় প্রভাব সৃষ্টি করলো। সেসময় জনগণ যারা সাম্যবাদে এসেছে, পার্টি সদস্য হয়েছে তাদের লেনিনবাদের সমস্যা ব্যবহার করে ট্রেইন করা হয়েছে।

এটা ছিল আমাদের প্রধান অবলম্বন, এর গুরুত্ব লক্ষ্য করে, আমি এটা অধ্যয়ন করি যেহেতু এটা পড়ার মতই সিরিয়াস।  স্তালিনের জীবন আমাকে আকৃষ্ট করল। তিনি ছিলেন আমাদের জন্য বিপ্লবের উদাহারণ।

কমিউনিস্ট পার্টিতে ঢুকতে আমার সমস্যা হল।  তাদের ছিল একটা উদ্ভট মানদন্ড, সদস্য হতে হলে আপনাকে একজন শ্রমিকের ছেলে বা মেয়ে হতে হবে, যা আমি ছিলামনা।  কিন্তু অন্যদের ছিল ভিন্ন মানদন্ড,তাই পার্টিতে যোগ দিতে সক্ষম হই।  আমি স্তালিনকে রক্ষায় অংশ নেই।  সেসময় স্তালিনকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া মানে আমাদের আত্মাকে কেড়ে নেয়া।  সেই দিনগুলিতে, স্তালিনের রচনা লেনিনের চাইতেও বেশি প্রচারিত ছিল।সেসময়টা এমনই ছিল।

পরে আমি কাজের উদ্দেশ্যে আয়াকুচোতে ভ্রমনে যাই।  আমি ভেবেছিলম এটা সংক্ষিপ্ত অবস্থান হবে। কিন্তু তা বছর বছর হয়ে যায়।  আমি ভেবেছিলাম এটা স্রেফ এক বছরের হবে, কারণ পরিকল্পনাটা তেমনই ছিল।  আমার ছিল আমার পরিকল্পনা, সর্বহারা শ্রেণীর ছিল তার পরিকল্পনা।

জনসাধারণ আমাদের বহুভাবে পরিবর্তন করেন। আয়াকুচো কুষক জনগণকে আবিষ্কার করতে সাহায্য করেছে। সেসময়, আয়াকুচো ছিল খুবই ছোট শহর, প্রধানত: গ্রাম।  আপনি যদি গরীব অংশে যান, এমনকি আজও সেখানে কৃষক দেখতে পাবেন।  আপনি যদি শহরতলীর দিকে যান, পনের মিনিটেই আপনি গ্রাম পেয়ে যাবেন।  সেখানেও আমি মাওসেতুঙকে বুঝতে শুরু করলাম।  আমি মার্কসবাদ বুঝতে অগ্রসর হলাম।  মার্কসবাদ ও সংশোধনবাদের মধ্যে সংঘাত ছিল আমার বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

দুরভাগ্যবাণ কেউ আমাকে এক চীনা পত্র “আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাধারণ লাইনের ওপর একটি প্রস্তাবনা” ধার দিয়েছিল। সে আমাকে ফেরত দেবার শর্তে ধার দিয়েছিল।নিশ্চিতভাবে এটা ছিল একটা বুঝে শুনে চুরি করা।  পত্রটি মার্কসবাদ ও সংশোধনবাদের মধ্যকার মহান সংগ্রামে গভীরভাবে ঢুকতে আমাকে চালিত করে।আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলাম পার্টির মধ্যে কাজ করতে এবং সংশোধনবাদকে উতপাটন করতে।  আমি বিশ্বাস করি, অপরাপর কমরেডদের সাথে মিলে আমরা এটা অর্জন করেছি। আমরা দুএকজনকে ত্যাগ করেছি যারা সংশোধনবাদের রঙে রঙীন হয়ে অনেক দূর গেছিল।

আয়াকুচো আমার জন্য প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এর সাথে বিপ্লবী পথ ও চেয়ারম্যান মাওয়র শিক্ষা জড়িত ছিল।  এই সমগ্র প্রক্রিয়ায় আমি একজন মার্কসবাদীতে পরিণত হলাম।  আমি বিশ্বাস করি, পার্টি আমাকে গড়ে তুলেছে দৃঢ়তা ও ধৈর্য সহকারে।

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s