জাতিসত্তা প্রশ্নে লেনিন-স্ট্যালিন-মাও এর কয়েকটি উদ্ধৃতি

lenin_stalin_mao

জাতিসত্তা প্রশ্নে লেনিন-স্ট্যালিন-মাও এর কয়েকটি উদ্ধৃতি

 

কুুওমিনটাঙ-এর গণবিরোধী চক্রটি চীনে বহু জাতিসত্তা রয়েছে, এ কথাই অস্বীকার করে।  হান জাতিসত্তা ছাড়া আর সবাইকে তারা ‘উপজাতি’ বলে অভিহিত করে। . . . . . . . সরকারের প্রতিক্রিয়াশীল নীতি সংখ্যালঘু জাতিসত্তা সম্পর্কে তারা অনুসরণ করে চলেছে। সর্ববিধ উপায়ে তাদের নিপীড়ন ও শোষণ করে চলেছে। . . . . . . সংখ্যালঘু জাতিসত্তাসমূহের বিরুদ্ধে সশস্ত্র দমন অভিযান এবং . . . . . . . হত্যাকাণ্ডের অভিযান তার পরিষ্কার উদাহরণ।
কমিউনিস্টদের সক্রিয়ভাবে সকল সংখ্যালঘু জাতিসত্তাসমূহের জনগণকে . . . . . সংগ্রামে সাহায্য করতে হবে। . . . . . তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি ও বিকাশের জন্য সাহায্য করতে হবে। . . . . . তারা যাতে নিজস্ব সৈন্যবাহিনী গড়ে তুলতে পারে সে ব্যাপারেও তাদেরকে সাহায্য করতে হবে। তাদের কথা ও লিখিত ভাষা, তাদের আচার-আচরণ ও রীতি-নীতি এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করতে হবে।
– মাও সেতুঙ

জাতিসমূহকে অবাধভাবে আলাদা হবার অধিকারের প্রশ্ন, আর কোনো নির্দিষ্ট সময়ে জাতিকে আলাদা হতেই হবে কি না সে প্রশ্ন- এই দুটো প্রশ্নকে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেললে কিছুতেই চলবে না।
– স্ট্যালিন  (জাতীয় ও ঔপনিবেশিক প্রশ্ন সম্পর্কে নির্বাচিত প্রবন্ধাবলী।)

বাস্তবিকই কোনো সমস্যার বিচারে যদি দ্বান্দ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন থাকে তো সে সমস্যা জাতিসমস্যা।
– স্ট্যালিন

নিপীড়িত জাতির মুক্তির অর্থ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দ্বিবিধ রূপান্তরঃ (১) জাতিসমূহের পরিপূর্ণ সমাধিকার।  এ নিয়ে তর্ক নেই, এবং তা কেবল রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; (২) রাজনৈতিক বিচ্ছেদের স্বাধীনতা, এটা রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারণের সঙ্গে সংশি¬øষ্ট। কেবল এইটে নিয়েই তর্ক।
– লেনিন
(জাতীয় সমস্যায় সমালোচনামূলক মন্তব্য,
জাতিসমূহের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার।)

আমরা যদি একদিকে হাজার ঢঙে ঘোষণা ও পুনরাবৃত্তি করতে থাকি যে, সমস্ত জাতীয় অত্যাচারের আমরা ‘বিরোধী’ আর অন্যদিকে যদি নিপীড়কদের বিরুদ্ধে এক নিপীড়িত জাতির কোনো কোনো শ্রেণীর অতি গতিশীল ও আলোকপ্রাপ্ত অংশের বীরত্বপূর্ণ বিদ্রোহকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দেই, তাহলে আমরা কাউটস্কিপন্থীদের মতো সেই একই নির্বোধ স্তরে নেমে যাব।
– লেনিন

বিশুদ্ধ সমাজ বিপ্লব দেখবে এমন আশা যদি কারো থাকে তবে সে জীবনেও কখনো তা দেখতে পাবে না।  সে শুধু মুখেই বিপ্লবী, আসল বিপ্লব সে বোঝে না।
– লেনিন

জাতীয় সমস্যাকে অবহেলা করে, উপেক্ষা করে এবং তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করে- আমাদের কিছু কমরেড যা করেন- জাতীয়তাবাদকে ধ্বংস করা যাবে না।  কোনো মতেই না। . . . . . জাতীয়তাবাদকে চূর্ণ করার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন জাতীয় সমস্যার মোকাবিলা ও তার সমাধান করা।
– স্ট্যালিন
(জাতীয় ও ঔপনিবেশিক প্রশ্ন সম্পর্কে নির্বাচিত প্রবন্ধাবলী।)

লেনিন যেভাবে জাতিগুলির বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার অধিকারসমেত আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রশ্ন উপস্থিত করেছেন সেটা বিবেচনা করুন।  লেনিন কোনো-কোনো সময় জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের থিসিস একটি সরল সূত্রের আকারে প্রকাশ করেছেন; ‘সংযুক্তির জন্য বিচ্ছেদ’। চিন্তা করুন সংযুক্তির জন্য বিচ্ছেদ।  এটা এমন কি স্ববিরোধী বলে মনে হতে পারে এবং তা সত্ত্বেও এই ‘স্ববিরোধী’ সূত্রই মার্কসীয় দ্বন্দ্বতত্ত্বের জীবন্ত সত্যকে প্রকাশ করছে যার সাহায্যে বলশেভিকরা জাতি সম্পর্কিত প্রশ্নের সবচাইতে দুর্ভেদ্য দুর্গ দখল করতে পেরেছে।

যে কেউ পরিবর্তনের সময়ের এই বৈশিষ্ট্য এবং এই ‘স্ববিরোধী’ চরিত্র বুঝতে পারেননি; যে কেউ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার এই দ্বান্দ্বিক চরিত্র বুঝতে পারেননি, তিনিই মার্কসবাদে পৌঁছতে পারেননি।

আমাদের বিপথগামীদের দুর্ভাগ্য যে, তারা মার্কসীয় দ্বন্দ্বতত্ত্ব বোঝেন না, বুঝতে চান না।
– স্ট্যালিন

জাতি ও ভাষাসমূহের সমানাধিকার যে স্বীকার করে না এবং তার সপক্ষে দাঁড়ায় না, সর্বপ্রকার জাতীয় নিপীড়ন ও অসাম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে না, সে মার্কসবাদী নয়, এমন কি গণতন্ত্রীও নয়।
– লেনিন
(জাতীয় সমস্যায় সমালোচনামূলক মন্তব্য,
জাতিসমূহের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার।)

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.