কাশ্মীরঃ ‘আজাদী’র গান

Advertisements

বাস্তারে মাওবাদীদের নামের মিলে মরছেন আদিবাসীরা

bastar-murder-lead

বাস্তারে মাওবাদীদের নামের সঙ্গে নাম মিলে যাওয়া মরতে হচ্ছে আদিবাসীদের।  ৫ জুলাই  ক্ষেতে কাজ করছিলেন সিতু হেমলা ও তাঁর স্ত্রী।  মুখে কাপড় বাঁধা নিরাপত্তারক্ষীরা সিতুকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।  তাঁর অপরাধ এলাকার এক মাওবাদী কম্যান্ডারের নামের সঙ্গে তাঁর নামের মিল রয়েছে।  এরপর যা হওয়ার তাই হয়। বিজাপুর পুলিসের তরফে বলা হয় সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন সিতু হেমলা।  তাঁর মৃতদেহ ঝুলতে দেখা যায় গাছে। গুলি করে খুন করার  আগে সিতুকে ক্রুশ বিদ্ধ করে অত্যাচার করা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।  বিস্তারিতভাবে খবরটি পড়ুন catch news এ।


কলকাতাঃ আজ অধ্যাপক অভী দত্ত মজুমদার স্মারক বক্তৃতা

13700185_1747840732164306_5951205777442781864_n

অধ্যাপক অভী দত্ত মজুমদার স্মারক বক্তৃতা তৃতীয় বর্ষ

কর্পোরেটতন্ত্র বনাম জনগণের প্রতিরোধ

বক্তাঃ
শুভজিৎ বাগচি (সাংবাদিক, দ্য হিন্দু পত্রিকা)
অভ্র চক্রবর্তী (বিজ্ঞান কর্মী)
এবং
সোনি সোরি

২৬ শে জুলাই ২০১৬, বিকেল ৪টা থেকে ৮টা
স্থানঃ মৌলালী যুবকেন্দ্র সভাগৃহ, মৌলালী।

প্রবেশ অবাধ
আয়োজকঃ একচেটিয়া আগ্রাসন বিরোধী মঞ্চ(ফামা)

‘Prof. Abhee Dutt-Mazumder Memorial Lecture’-3rd On ‘Corporatocracy Versus People’s Resistance’

Venue: Vivekananda Auditorium, State Youth Centre, Entally, Moulali

Date: July 26, 2016 (Tuesday)

Time: 4pm- 8pm Speakers: • Suvojit Bagchi, Chief of Bureau, The Hindu, Calcutta. • Avra Chakraborty, Science Activist, Kolkata. • Soni Sori, Social Activist, Dantewada, South Bastar.

বক্তৃতার শিরোনামঃ কর্পোরেটতন্ত্র বনাম জনগণের প্রতিরোধ (Corporatocracy vs People’s Resistance)।

বক্তাঃ

শুভজিৎ বাগচি (চিফ অব ব্যুরো, দ্য হিন্দু পত্রিকা, কোলকাতা), বলবেন ‘কর্পোরেটতন্ত্র ও প্রচারমাধ্যম’ নিয়ে। অভ্র চক্রবর্তী (বিজ্ঞান কর্মী), বলবেন ‘জিন সাম্রাজ্যবাদ’ নিয়ে। এবং থাকবেন, ছত্তিশগড়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সেনানী সোনি সোরি। হাজারো অত্যাচার আর সন্ত্রাস চালিয়েও যাকে এলাকা ছাড়া করতে ব্যর্থ হয়েছে হিংস্র কর্পোরেটতন্ত্র। সোনি শোনাবেন বাস্তারের বাস্তবতা, প্রতিরোধের আখ্যানগুলো।

————————————————- দরজা খোলাই ছিল, এবার সেগুলো হাট করে খুলে দেওয়া শুরু হল। লুঠের জন্য সরকারি ছাড়পত্র। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার গত ২০ জুলাই প্রতিরক্ষা, ঔষধ সহ অনেকগুলো ক্ষেত্রে ১০০% পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ঢালাও অনুমতি দিয়ে দিয়েছে। কর্মসংস্থান, উন্নত পরিকাঠামো আর প্রযুক্তির প্রসারের যুক্তি দেখিয়ে মোদী সরকার ‘দেশ বিক্রির নীল নকশা’য় সীলমোহর লাগিয়ে দিয়েছে। অবশ্য ‘বিক্রি-বাটা’র আয়োজন যে এর আগে বন্ধ ছিল, তা নয়। একেআই চুক্তি, সেজ, দ্বিতীয় সবুজ বিপ্লব, চুক্তি চাষ, এপিএমসি ইত্যাদি আইন, জিএম শষ্য চাষে সরকারী বৈধতা, শ্রম আইন লঘু করা– এইসব নানারকম উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বিদেশি-দেশী কর্পোরেটদের ‘আচ্ছে দিন’ অনেক আগেই ভারতের বুকে এসে পড়েছে। গত জুন মাসের এই ঘোষণা শুধু দেখিয়ে দিচ্ছে যে কর্পোরেট শক্তির প্রথম পছন্দ মোদী সরকার কত দ্রুততায় ওদের হয়ে ব্যাটিং করতে নেমে প্রায় প্রতি বলে ছক্কা হাঁকাচ্ছে। এ এক এমন ফরমান যা ‘অন্য ভারত’ নির্মাণের পথকে সুগম করবে বলে মিডিয়া তথা সংবাদমাধ্যম প্রথম পাতায় এই খবর ছাপায়। সেই ভারতের মূলনিবাসী আপনার আমার মত সাধারণ মানুষ উন্নয়নের উড়ালপুলের নীচে চাপা পড়লেই বা কি আসে যায়! ‘শাইনিং ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের মুখ উজ্জ্বল করে হাইরাইজের ছাদে ‘স্কাইওয়াক’ করা ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র নীচে চাপা পড়ে থাকা অন্ধকারের খোঁজ রাখে না গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। উন্নয়নের এই মডেল তো আসলে পুঁজিবাদী ব্লকের শক্তিশালী রাষ্ট্র-কর্পোরেশনগুলোর স্বার্থে। তাদের অতিমুনাফার আর সংকটে থাকা পুঁজিবাদের পুনরুজ্জীবনের জন্য চাই প্রচুর পরিমাণে সস্তা খনিজ, সস্তা শ্রম, বৈচিত্র্যে ভরপুর উর্বর কৃষিক্ষেত্র, জল আর জঙ্গল। ভারতবর্ষের মত এমন একটি সোনার খনি বিশ্বে আর ক’টাই বা আছে! গবেষণা বলছে যে পৃথিবীতে উৎপাদনক্ষম জমির পরিমাণ ক্রমশ কমে যাচ্ছে। তাই, যদি ভারতবর্ষের জমি, সম্পদের ওপর কিছু বড় বড় বিদেশি-দেশী একচেটিয়া পুঁজিপতি কোম্পানি থাবা বসাতে পারে, নিজেদের নিয়ম যেনতেন প্রকারেণ কায়েম করতে পারে, ভারতের বিশাল বাজারকে নিজেদের ব্যবস্থার সাথে একবার জুড়ে নিতে পারে, তাহলে এই পৃথিবীতে তাদের টিকে থাকা সুনিশ্চিত করতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত, হিংস্র শোষণের উপর ভর দিয়ে সুস্থিত হতে পারবে পুঁজিবাদের ইমারত। এ জন্যেই কৃষি, শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, খনি, জলসম্পদ, ওষুধ সর্বত্রই একচেটিয়া পুঁজির দখলদারি। ভারতবর্ষের নানা রঙের শাসক দল এই লুন্ঠনে সহযোগীর ভূমিকা পালন করছে। সহযোগী কর্পোরেট মদতে চলা গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ’রাও। রাষ্ট্র ক্ষমতার সবকটি যন্ত্রকে নির্লজ্জ ও হিংস্র উপায়ে ব্যবহার করে লুঠের চেষ্টা হলেও প্রায় প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে রুখে দাঁড়িয়েছে ভারতবর্ষের সাধারণ খেটে খাওয়া আম-জনতা। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম-লালগড়-হরিপুর-কুদানকুলাম থেকে নিয়মগিরি-পস্কো-জয়িতাপুর থেকে ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়া-বাস্তার। জনগণের প্রতিরোধের আসল চিত্র পৌঁছতে দেওয়া হচ্ছে না বাকি ভারতবর্ষের কাছে। প্রত্যক্ষদর্শীহীন এক নিশ্ছিদ্র ঘেরাটোপে নির্বাচিত সরকার পুলিশ-প্রশাসন-মিলিটারি সহযোগে যুদ্ধ চালাচ্ছে নিজেরই দেশের শিকর কামড়ে থাকা ভূমিপূত্রদের সাথে। যা চলছে তাকে ‘গণতন্ত্র’ বলে প্রহসন না করে সরাসরি ‘কর্পোরেটতন্ত্র’ বলাই বোধহয় আজ শ্রেয়… যার উল্টোদিকে এক এবং একমাত্র চ্যালেঞ্জ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে জাত-বর্ণ-ধর্ম সহ নানা বর্গে বিভাজিত ভারতবর্ষের সাধারণ জনগণ।

———————————————————- একচেটিয়া আগ্রাসন বিরোধী মঞ্চ (ফামা)’র জন্ম সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের পটভূমিতে ২০০৮ সালে। আগ্রাসনের নানা রূপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ভারতবর্ষের সাথে ফামা’ও লড়াইতে সামিল হয়েছিল… একচেটিয়া পুঁজি-প্রকল্পগুলির বিরুদ্ধে প্রচার সংগঠিত করা, আন্দোলন সংগঠন, চলমান আন্দোলনে অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে ফামা গত আট বছর কাজ করে এসেছে। অধ্যাপক অভী দত্ত মজুমদার ছিলেন ফামা’র প্রতিষ্ঠাতা সংগঠকদের অন্যতম একজন, ফামা’র প্রাণপুরুষ। খুচরো ব্যবসায় বিদেশি পুঁজির বিনিয়োগ, কেমিকেল হাবের দূষণ, কৃষিক্ষেত্রে জিন প্রযুক্তি, বিপন্ন ভূজীববৈচিত্র ও পরিবেশ দূষণ, ওষুধ শিল্পে ১০০% বিদেশি বিনিয়োগ,আধার কার্ড ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি লাগানো, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম-লালগড়ের সংগ্রাম, পূর্ব ভারতে দ্বিতীয় সবুজ বিপ্লবের কার্যসূচী, দমনমূলক আইনের বিরুদ্ধে সকল গণ-আন্দোলনে অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন অভী দত্ত মজুমদার। তাঁর হৃদয়ের অন্তঃস্থলে থাকা মঞ্চ ফামা দিশা পেয়েছে তাঁরই নেতৃত্বে। অভী দত্ত মজুমদার প্রকৃত অর্থেই ছিলেন একচেটিয়া আগ্রাসনবিরোধী অসংখ্য গণ-আন্দোলনের, প্রতিবাদের স্বাভাবিক নেতৃত্ব— অন্যতম প্রধান যোদ্ধা। এখনও আমাদের কানে বাজে অভী দত্ত মজুমদারের কন্ঠস্বর—‘আমরা প্রত্যেকেই এক যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে আছি।’ যুদ্ধ আজও জারি আছে। প্রতি বছর ২৬শে জুলাই ফামা তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আয়োজন করে থাকে একচেটিয়া আগ্রাসন ও প্রতিরোধ বিষয়ক একটি ‘পাবলিক লেকচার’। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে অধাপক অভী দত্ত মজুমদারের মৃত্যুর পর থেকে এই সভা ‘অভী দত্ত মজুমদার স্মারক বক্তৃতা’ রূপে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, তাঁর সংগ্রামী জীবনকে স্মরণ করা ও সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তাগিদে আগামী ২৬ জুলাই ২০১৬ বিকেল ৪টা- ৮টা কোলকাতার মৌলালী যুবকেন্দ্রে ‘অভী দত্ত মজুমদার স্মারক বক্তৃতা, তৃতীয় বর্ষ’ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

————————————————— একচেটিয়া আগ্রাসন বিরোধী মঞ্চ/ Forum Against Monopolistic Aggression(FAMA), ৮৯ মহাত্মা গান্ধী রোড, কোলকাতা ৭০০০০৭ থেকে মেরুনা মুর্ম, জ্যোতির্ময় মাইতি ও ঈশিতা কুন্ডু কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত FORUM AGAINST MONOPOLISTIC AGGRESSION (FAMA)

অভী দত্ত মজুমদার

অভী দত্ত মজুমদার

 


কাশ্মীরের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য’র বিবৃতি

India Kashmir Internet War

13823265_10210137999152374_1387787204_n