কলকাতাঃ ২য় সেপ্টেম্বর ধর্মঘট ; USDF এর অবস্থান

USDF2-800x445

জনৈক সাংবাদিক বলেছেন “কংগ্রেস + গরু = বিজেপি”। আবার জনৈক গন সঙ্গীত শিল্পী গেয়েছেন “মনমোহনী আজব দাওয়াই বুদ্ধ-জ্যোতির দোকানে পাই গো / শুধু লাল বুলি আর লাল কাগজে মোড়/ এদের বাইরে যত গালাগালি/ তলায় ততো ঢলা ঢলি গো/ এরা একই আত্মা একই মন আর প্রান/ উন্নয়নের ভাঙ্গা কাঁসরখান”

ভারতের শাসক শ্রেণির রাজনৈতিক দল গুলো তাদের আত্মা শোপেছে সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির কাছে। আজাদহিন্দ ফৌজ গেয়েছিল “ইয়ে জিন্দেগি হ্যায় কউম কি”। আর আমাদের মন্ত্রী মশাইরা গায় “ ইয়ে জিন্দেগি হ্যায় কর্পোরেট কি”। এদের রাজনৈতিক মতাদর্শ “নয়া- উদারনীতিবাদ”। মনমোহন, মোদী, বুদ্ধ বা মমতা সবাই উন্নয়ন আর কর্মসংস্থানের সমস্যা দূর করতে বড় বড় পুঁজিপতিদের বিনিয়োগ কে একমাত্র সমাধান মনে করেন। ছাত্রছাত্রী ও বেকারদের কর্মসংস্থানের লাড্ডু দেখিয়ে কৃষক, আদিবাসীদের বিরুদ্ধে জল্লাদ নামিয়ে তাদের “ভিটে মাটি চাটি” করার সরকারী প্রকল্পের পক্ষে আনবার চেষ্টা করে। অথচ মালিক যখন শ্রমিকদের পাওনা লোপাট করে কারখানা বন্ধ করে দেয় তখন সরকার ঠুঁটো জগন্নাথ! অন্যদিকে বন্ধ কারখানা চালু করা বা বন্ধ কারখানার জমিতে নতুন কারখানা খুলে ছাঁটাই শ্রমিক বা বেকার দের কর্ম সংস্থানের ব্যাবস্থা না করে একের পর এক আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে বন্ধ কারখানার জমিতে।

শিক্ষার শেষে কাজ পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার, এবং এই অধিকার নিশ্চিত করা আধুনিক জনকল্যানকামী রাষ্ট্রের কর্তব্য। কাজ দিতে না পারলে রাষ্ট্র বেকার ভাতা বা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করবে, যেমনটা ইউরোপ,আমেরিকার রাষ্ট্র গুলো করে থাকে। আমাদের দেশে বিপ্লবী ছাত্র ছাত্রী আন্দোলন শুধু শিক্ষার শেষে কাজের দাবি নয় আত্মমর্যাদার সাথে কাজের দাবি করে। আমাদের দেশের বিভিন্ন সরকার গুলো যে নিষ্ঠার সাথে রাষ্ট্রদ্রোহিতা সহ একাধিক জনবিরোধী আইন গুলো প্রয়োগ করে, শ্রমিক সুরক্ষার আইন, পরিবেশ আইন, গুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিষ্ঠার এক শতাংশও জিজ্ঞাসা চিহ্নতে ঝুলতে থাকে। তার উপরে দেশের সেই দুর্বল শ্রমিক সুরক্ষার আইনটাও বিলোপ করতে চলেছেন মোদী সরকার। শুধু তাই নয় দেশের অর্থনীতি হাট করে খুলে দেওয়া হচ্ছে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের জন্য, যার ফলে স্বাস্থ্য,শিক্ষা, পরিবহন সহ সব কিছুকে পুর পুরি তুলে দেওয়া হবে মুনাফাখোর দের হাতে। সংখ্যাগরিষ্ঠ নিম্ন আয়ের মানুষ বঞ্চিত হবে আবশ্যিক পরিষেবাগুলো থেকে। জনগনের আর্থিক সুরক্ষা তুলে দেওয়া হবে শেয়ার মার্কেটের জুয়া খেলার উপর।

পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের ধারাবাহিকতা মেনে এই জনবিরোধী নীতিগুলো বর্তমান বিজেপি সরকার লাগু করছে, বিশ্ব বানিজ্য সংস্থা বা সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিপতিদের নির্দেশে। এর ফলে দেশের সস্তা প্রাকৃতিক ও শ্রম সম্পদ কে আরও সস্তায় নিংড়ে নেবে বড় বড় পুঁজিপতিরা। বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে যেরকম খুশি শর্তে যেরকম খুশি পরিবেশে কাজ করতে এমনিতেই ভারতে শ্রমিক কর্মচারিরা বাধ্য হন, শ্রম আইন সংশোধন করে, সরকারী ক্ষেত্রে চাকরি সংকোচন করে ভারতের বেকারদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে দাসত্বের দিকে।

কেন্দ্রের জন বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ১২ দফা দাবী জানিয়ে আগামী ২ সেপ্টেম্বর শ্রমিক সংগঠন গুলো সারা ভারত ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। যদিও যারা এই ধর্মঘট ডেকেছে তাদের মধ্যে অনেকেই এই সব জন বিরোধী নীতিগুলোর অংশীদার। কিন্তু এই বার দফা দাবী ভারতের শ্রমজীবী জনতার সমস্যাকেই প্রতিফলিত করে। বিশেষত সরকারী চাকরি সঙ্কোচন, শ্রমিক সুরক্ষা আইন সংশোধন, প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের বিরোধিতা ও বন্ধ কারখানা খোলার দাবী গুলো শিক্ষার শেষে আত্মমর্যাদার সাথে কাজের অধিকারের দাবিকে এবং বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার (WTO)র কাছে আত্মসমর্পণ না করার দাবিকে শক্তিশালি করে। তাই আমাদের আবেদন আগামী ২ সেপ্টেম্বর স্কুল, কলেজ,ইউনিভার্সিটি গুলোতে ধর্মঘট পালন করো।

সূত্রঃ http://toanewdawn.blogspot.nl/2016/08/protest-dilution-of-labor-lawsobserve.html

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s