চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ১৬ দফা কর্মসূচি

dazibao-1

১৯৬৬ সালের ৮ আগস্ট, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ১৬ দফা কর্মসূচির বিশেষ অংশ তুলে ধরা হলোঃ
-সম্পাদনা বোর্ড

.সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে এক নতুন স্তর

………………..

পার্টির অষ্টম কেন্দ্রীয় কমিটির দশম বর্ধিত অধিবেশনে কমরেড মাও সেতুঙ বলেছিলেন: একটা রাজনৈতিক ক্ষমতাকে উৎপাটিত করতে হলে সর্বদা যা প্রয়োজন তাহলো সর্বপ্রথমে জনমত তৈরি করা, মতাদর্শগত ক্ষেত্রে কাজ করা। বিপ্লবী শ্রেণীর ক্ষেত্রে একথা যেমন সত্য, তেমনি সত্য প্রতিবিপ্লবী শ্রেণীর ক্ষেত্রেও। কমরেড মাও সেতুঙের এই তত্ত্ব প্রয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে।
যদিও বুর্জোয়া শ্রেণীকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, তথাপি সে শোষক শ্রেণীর পুরাতন ভাবধারা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও অভ্যাসকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে জনগণকে কলুষিত করতে, তাদের মনকে জয় করতে এবং ফিরে আসতে চেষ্টা করছে। সর্বহারা শ্রেণীকে অবশ্যই ঠিক বিপরীত কাজটাই করতে হবে। মতাদর্শগত ক্ষেত্রে সর্বহারা শ্রেণীকে বুর্জোয়াদের প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে মোকাবেলা করতে হবে এবং সমগ্র সমাজের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য সর্বহারা শ্রেণীর নতুন ধারণা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও অভ্যাসকে ব্যবহার করতে হবে। ……………….. সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্প এবং উপরিকাঠামোর অন্য সকল অংশকে রূপান্তর করা, যাতে করে ব্যবস্থার সুসংহতকরণ ও বিকাশসাধন সহজতর হয়।

. প্রধান ধারা এবং আঁকাবাঁকা পথ

…………………………

সাংস্কৃতিক বিপ্লব যেহেতু একটি বিপ্লব, সেহেতু অবিসংবাদিতভাবে তাকে প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই প্রতিরোধ প্রধানত আসছে সেই সব ক্ষমতায় আসীন ব্যক্তিদের নিকট থেকে যারা সংগোপনে পার্টিতে ঢুকে পড়েছে এবং পুঁজিবাদী পথে চলেছে। পুরনো সমাজের অভ্যাসগত শক্তি থেকেও এটা আসে। বর্তমানে, এই প্রতিরোধ এখনও বেশ শক্তিশালী ও অনমনীয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব হলো একটি অপ্রতিরোধ্য সাধারণ প্রবণতা। প্রচুর প্রমাণ আছে যে, জনগণ পরিপূর্ণভাবে জাগরিত হয়ে উঠলে এই ধরনের প্রতিরোধ দ্রুত খান খান হয়ে ভেঙে পড়বে।
…………………………………..

. সাহসকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখা এবং জনগণকে দৃঢ়ভাবে জাগিয়ে তোলা

এই মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পরিণতি বা ফলাফল নির্ভর করবে পার্টি নেতৃত্ব সাহসের সঙ্গে জনগণকে উদ্দীপ্ত করতে পারবে কি পারবে না তার উপর।
বর্তমানে, বিভিন্ন স্তরে পার্টি-সংগঠন কর্তৃক সাংস্কৃতিক বিপ্লব আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপারে চার রকম পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিরাজ করে:

(১) একটি অবস্থা হচ্ছে পার্টিসংগঠনের ভারপ্রাপ্ত কমরেডরা আন্দোলনে দাঁড়িয়ে থেকে সাহসের সঙ্গে জনগণকে কর্মকাণ্ডে উদ্দীপ্ত করে তোলে। তারা সাহসকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেয়, তারা নির্ভীক কমিউনিস্ট সংগ্রামী এবং চেয়ারম্যান মাও-এর ভাল ছাত্র। বড় হরফের পোস্টার ও বিরাট বিতর্কের তারা সমর্থক।…………..।
(২) বহু ইউনিটে, ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই বিরাট সংগ্রামে নেতৃত্বের কর্তব্য সম্পর্কে খুবই দুর্বল উপলব্ধি ধারণ করে, তাদের নেতৃত্ব বিবেকসঞ্জাত নয় এবং কার্যকর নয়। এবং এর ফলে তারা নিজেদের অযোগ্য ও দুর্বল অবস্থানে নিয়ে যায়।
(৩) কিছু কিছু ইউনিটে, ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা, যারা অতীতে কোন না কোন ভুলভ্রান্তি করেছে, তারা ভয়ভীতিকে সবার উপরে স্থান দেয়ার ক্ষেত্রে এমনকি বেশি পক্ষপাতি এবং ভয় করে যে জনগণ এই বুঝি তাদের ধরে ফেলবে। প্রকৃতপক্ষে, যদি তারা গুরুত্ব সহকারে তাদের ভুলত্রুটির জন্য আত্মসমালোচনা করে এবং গণসমালোচনা মেনে নেয়, তা হলে পার্টি ও জনগণ তাদের ভুলত্রুটি মার্জনা করবে।
(৪) কিছু কিছু পার্টি ইউনিট এমন সব ব্যক্তিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় যারা সংগোপনে পার্টির মধ্যে ঢুকে পড়েছে এবং পুঁজিবাদী পথ গ্রহণ করে। এরূপ ক্ষমতায় আসীন ব্যক্তিবর্গ, জনগণ তাদের মুখোশ উন্মোচন করবে, এই ভয়ে খুবই শঙ্কিত এবং এই হেতু তারা গণআন্দোলন দমন করার প্রতিটি সম্ভাব্য অজুহাত খোঁজে। আন্দোলনকে টুঁটি চেপে বিনষ্ট করার প্রচেষ্টায় তারা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু সরিয়ে দেয় এবং কালোকে সাদা করার মতো কৌশল তারা গ্রহণ করে।……..
সর্বস্তরের পার্টি কমিটিগুলোর কাছে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির দাবি হলো, তারা যেন সঠিক নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সবরকম অধ্যবসায় চালায়, সবার উপর সাহসকে স্থান দেয়, নির্ভীকভাবে জনগণকে উদ্দীপিত করে, দুর্বলতা ও অযোগ্যতা যেখানে আছে তা পরিবর্তন করে, আগেকার ভুলভ্রান্তি সংশোধন করে নিয়ে মনের ভার লাঘব করে সংগ্রামে ইচ্ছুক যারা সেইসব কমরেডদের উৎসাহ দেয় এবং যারা কর্তৃস্থানীয় ব্যক্তি যারা পুঁজিবাদী পথে চলতে চায় তাদেরকে হটিয়ে দেয় এবং এভাবে সর্বহারা বিপ্লবীর নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব করে তোলে।

. আন্দোলনের মধ্যে জনগণকে নিজেদের শিক্ষিত হতে দিন

জনগণ নিজেরাই নিজেদের মুক্ত করবে এটাই মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের একমাত্র পদ্ধতি, তাদের হয়ে অন্য কোন পদ্ধতির মাধ্যমে কিছু করে দেওয়া- এ জিনিষ একেবারেই চলবে না।
জনগণকে বিশ্বাস কর, তাদের উপর নির্ভর কর, তাদের উদ্যোগকে শ্রদ্ধা কর। ভয় দূর কর। বিশৃঙ্খলাকে ভয় পেওনা। চেয়ারম্যান মাও প্রায়ই আমাদের বলেছেন যে বিপ্লব কখনও অতি বেশি মার্জিত, ভদ্রভব্য হয় না, অত পরিমিত হয় না, অত দয়ালু, বিনয়ী, সংযত এবং ঔদার্যপূর্ণ হয় না। এই মহান বিপ্লবী আন্দোলনে জনগণকে নিজেদেরই শিখতে দাও এবং কোন্টা ঠিক আর কোন্টা ভুল ও কোন্ পথটা সঠিক আর কোন্টা বেঠিক, এই পার্থক্যটা তারা নিজেরা বুঝতে শিখুক।

………………..

. পার্টির শ্রেণী লাইন দৃঢ়ভাবে প্রয়োগ করুন

কে আমাদের শত্রু? কে আমাদের মিত্র? বিপ্লবের সামনে এই প্রশ্নটি প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং একইভাবে এই প্রশ্ন মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সামনেও প্রথম গুরুত্বপূর্ণ।
বামপন্থীদের খুঁজে বার করা এবং বামপন্থী কর্মীদের বিকাশ ঘটানো ও তাদের শক্তিশালী করায় পার্টি নেতৃত্বের যোগ্য হতে হবে; বামপন্থীদের উপর দৃঢ়ভাবে নির্ভর করতে হবে। আন্দোলন চলাকালে সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল দক্ষিণপন্থীদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, মধ্যপন্থীদের নিজেদের দিকে নিয়ে আসা এবং বৃহৎ সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে ঐক্য স্থাপন করার জন্য এটাই হচ্ছে একমাত্র পন্থা। যাতে করে আন্দোলন শেষে আমরা ৯৫ শতাংশেরও বেশি ক্যাডারদের সঙ্গে ও ৯৫ শতাংশেরও বেশি জনগণের সঙ্গে ঐক্য অর্জন করতে পারি।
………………..
. জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্বের সঠিক মীমাংসা করুন

দুই ভিন্ন ধরনের দ্বন্দ্বের মধ্যে সুতীক্ষ্ণ পার্থক্য অবশ্যই টানা হবেঃ জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্ব এবং আমাদের ও শত্রুর মধ্যকার দ্বন্দ্ব। জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্বগুলিকে আমাদের ও শত্রুর মধ্যকার দ্বন্দ্বে পরিণত করা যাবে না; আবার আমাদের ও শত্রুর মধ্যকার দ্বন্দ্বকে জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্ব হিসাবে দেখা সমুচিত হবে না।
জনগণের মধ্যে বিভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক। বিভিন্ন মতের মধ্যে লড়াই এড়ানো যাবে না, এবং এ লড়াই প্রয়োজনীয় ও উপকারী। সাধারণ ও পূর্ণ বিতর্কের প্রক্রিয়ায় জনগণই ঠিক করবে কোন্টা সঠিক, যেটা ভুল তাকে তারা সংশোধন করবে এবং ক্রমশঃ ঐকমত্যে পৌঁছবে।
…………………………………..
. যারা বিপ্লবী জনগণকে “প্রতিবিপ্লবী” বলে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে নজর রাখুন

সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কয়েকটি বিদ্যায়তনে, ইউনিটে ও ওয়ার্ক টিমে, ভারপ্রাপ্ত কিছু ব্যক্তিরা, জনগণের বিরুদ্ধে পাল্টা-আক্রমণ সংগঠিত করেছে, যারা তাদেরকে সমালোচনা করে বড় হরফের পোস্টার সাঁটিয়েছিল। এইসব ব্যক্তিরা এমনকি এরূপ শ্লোগান [ধ্বনি] দেয় যে, কোন ইউনিট অথবা ওয়ার্ক-টিমের নেতাদের বিরোধিতা করার অর্থ কেন্দ্রীয় কমিটির বিরোধিতা করা, পার্টির বিরোধিতা করা তথা সমাজতন্ত্রের বিরোধিতা করা এবং তার অর্থ প্রতিবিপ্লব। এইভাবে এটা অনিবার্য যে, তাদের আঘাত কিছু যথার্থ বিপ্লবী কর্মীদের উপর পড়বে। এটি হচ্ছে উদ্দেশ্যের বিষয়ে একটি ভুল, লাইনের ক্ষেত্রে ভুল, এবং এমন ব্যাপার কখনই চলতে দেওয়া যায় না।
গুরুতর মতাদর্শগত ভুলভ্রান্তিতে ভোগে এরূপ কিছু সংখ্যক লোক, বিশেষ করে কিছু সংখ্যক পার্টি-বিরোধী ও সমাজতন্ত্র-বিরোধী দক্ষিণপন্থী ব্যক্তি গণ-আন্দোলনের কোনরূপ দুর্বলতা ও ভুলভ্রান্তির সুযোগ গ্রহণ করে গুজব ও গালগল্প ছড়ায় এবং জনগণের অন্তর্ভুক্ত কিছু লোককে ইচ্ছাপূর্বক প্রতিবিপ্লবী আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনে নিজেদের নিয়োজিত করে। এধরনের ‘পকেটমারদের’ থেকে সতর্ক হওয়া এবং যথাসময়ে তাদের চালাকী প্রকাশ্যে তুলে ধরে দেখিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
………………………………………..
. ক্যাডার প্রশ্ন

মোটা দাগে ক্যাডারদের নিম্নলিখিত ৪টি বিভাগে সাজানো যায়ঃ
(১) ভাল;
(২) তুলনামূলকভাবে ভাল;
(৩) খুবই গুরুতর ভুল করেছে বটে, কিন্তু
পার্টি-বিরোধী, সমাজতন্ত্র-বিরোধী দক্ষিণপন্থীতে পরিণত হয়নি;
(৪) স্বল্প সংখ্যক পার্টি-বিরোধী, সমাজতন্ত্র-বিরোধী দক্ষিণপন্থী।

সাধারণ অবস্থায় উপরিউক্ত প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের (ভাল ও তুলনামূলকভাবে ভাল) কর্মীরাই বিপুল সংখ্যাধিক্য।
পার্টি-বিরোধী, সমাজতন্ত্র-বিরোধী দক্ষিণপন্থীদের সম্পূর্ণভাবে উন্মোচন করতে হবে, তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় আঘাত হানতে হবে, তাদের উচ্ছেদ করতে হবে ….। একইসাথে, তাদের সুযোগ দিতে হবে যাতে তারা জীবনের খাতায় নতুন পাতা উল্টাতে পারে।

. সাংস্কৃতিক বিপ্লব গ্রুপ, কমিটি এবং কংগ্রেস

মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে বহু নতুন জিনিসের উদ্ভব হতে শুরু করেছে। বহু বিদ্যায়তন ও ইউনিটে সাংস্কৃতিক বিপ্লবী গ্রুপ, কমিটি ও অন্যান্য নানা সাংগঠনিক রূপ জনগণ সৃষ্টি করে নিচ্ছে যা হলো নতুন জিনিস এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন।
এইসব সাংস্কৃতিক বিপ্লবী গ্রুপ, কমিটি, কংগ্রেস- এইগুলি সব সংগঠনের চমৎকার নতুন সব রূপ এবং এইসবের মধ্য দিয়ে জনগণ কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে নিজেদের নিজেরাই শিক্ষিত করে তুলছে। এগুলো জনগণের সঙ্গে পার্টির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংযোগ রক্ষার চমৎকার সেতু হিসেবে কাজ করছে। এগুলো সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ক্ষমতার সংস্থা।
প্রাচীন ধ্যান-ধারণা, সংস্কৃতি, রীতি ও অভ্যাস, যা হাজার হাজার বছর ধরে শোষকশ্রেণীগুলো চালু রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বহারা শ্রেণীর লড়াই স্বাভাবিক প্রয়োজনেই দীর্ঘ, দীর্ঘকাল ধরে চলবে। তাই, সাংস্কৃতিক বিপ্লবী গ্রুপ, কমিটি, কংগ্রেস- এইসব সাময়িক সংগঠন মাত্র নয়, এগুলি হলো স্থায়ী জীবন্ত গণসংগঠন। কলেজ, ইস্কুল, সরকার ও অন্য সংগঠনের জন্যই শুধু নয়, বরং কলকারখানা, খনি, অন্যান্য উদ্যোগ, শহর-নগর ও গ্রামগঞ্জেও এগুলো প্রয়োজনীয়।
……………………………………….
১০. শিক্ষা সংস্কার

মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে একটি খুবই গুরত্বপূর্ণ করণীয় কাজ হলো পুরানো শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পুরানো শিক্ষানীতি ও শিক্ষাদান পদ্ধতির রূপান্তর সাধন করা।
এই মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবীদের আধিপত্যের ব্যবস্থার সম্পূর্ণ পরিবর্তন সাধন করতে হবে।
সমস্ত ধরনের বিদ্যালয়ে কমরেড মাও সেতুঙ কর্তৃক তুলে ধরা পলিসির পুরোপুরি প্রয়োগ করতে হবে, যা সর্বহারা রাজনীতিকে সেবা করার শিক্ষা। এবং উৎপাদনমূলক শ্রমের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ সাধন করবে। যার ফলশ্রুতি হিসেবে শিক্ষাপ্রাপ্ত মানুষের নৈতিক, বুদ্ধি-বৃত্তিগত ও দৈহিক বিকাশ ঘটবে এবং সমাজতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন ও সংস্কৃতিসম্পন্ন শ্রমিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
…………………………..
১১. সংবাদপত্রে নাম ধরে সমালোচনার প্রশ্ন

সাংস্কৃতিক বিপ্লবের গণ-আন্দোলনের পথে বুর্জোয়া ও সামন্তবাদী তত্ত্বের সমালোচনাকে সর্বহারা বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদ মাও সেতুঙের চিন্তাধারার প্রচারের সঙ্গে ভালভাবে সংযুক্ত করতে হবে ।
যেসব বিশেষ বুর্জোয়া প্রতিনিধি পার্টির ভেতরে গোপনে ঢুকে পড়েছে তাদের বিরুদ্ধে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ‘কর্তৃত্বে আসীন’ বিশেষ প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে সমালোচনা সংগঠিত করতে হবে। এবং এই সমালোচনার অন্তর্ভুক্ত হবে দর্শন, ইতিহাস, রাজনৈতিক অর্থনীতি ও শিক্ষা, সাহিত্য ও শিল্পকলা সম্পর্কিত তত্ত্ব ও কাজ, প্রকৃতি-বিজ্ঞানের তত্ত্ব এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল অভিমতের বিরুদ্ধে সমালোচনা।
সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায় নাম ধরে কারও সমালোচনা করার আগে ঐ পর্যায়ের পার্টি-কমিটিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে উচ্চতর পার্টি-কমিটির অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করতে হবে।

১২. বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও কর্মকর্তাদের মধ্যকার সাধারণ সদস্যদের প্রতি পলিসি

বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ এবং সাধারণ কর্মকর্তাদের সম্বন্ধে- যতক্ষণ পর্যন্ত তারা দেশপ্রেমিক, সোৎসাহে কাজ করেন, পার্টি ও সমাজতন্ত্র বিরোধী নন এবং কোন বিদেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বে-আইনী যোগাযোগ রক্ষা করেন না, ততক্ষণ এ আন্দোলনে আমরা তাদের বেলায় ঐক্য-সমালোচনা-ঐক্য- এই নীতি প্রয়োগ অব্যাহত রাখবো। যেসব বৈজ্ঞানিক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অবদান রেখেছেন, তাদের সম্বন্ধে বিশেষ যত্নবান হতে হবে। ক্রমান্বয়ে তাদের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির ও কর্মপদ্ধতির রূপান্তর ঘটানোর কাজে তাদেরকে বিশেষভাবে সাহায্য করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

১৩. শহর ও গ্রামাঞ্চলে সমাজতান্ত্রিক শিক্ষা আন্দোলনের সাথে একীকরণের জন্য ব্যবস্থাবলীর প্রশ্ন
……………………………

গ্রামাঞ্চলে এবং শহরের উদ্যোগগুলিতে, যেখানে পূর্বের ব্যবস্থাদি যথাযথ ও আন্দোলন ভালভাবে চলছে, সেগুলোকে ওলটপালট হতে দেওয়া সমুচিত হবে না, বরং পূর্বের ব্যবস্থাদি অনুযায়ী অব্যাহত রাখাই হবে বিধেয়। যাইহোক, বর্তমান মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে উত্থাপিত প্রশ্নাদি সঠিক সময়ে জনসাধারণের নিকট আলোচনার জন্য তুলে ধরতে হবে, যাতে করে আরও বলিষ্ঠভাবে সর্বহারা মতাদর্শ উৎসাহিত হয় এবং বুর্জোয়া মতাদর্শের মূলোৎপাটন করে ফেলা যায়।
………………..
১৪. বিপ্লবের উপর দৃঢ় দখল রাখুন এবং উৎপাদনকে উদ্দীপ্ত করুন

মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উদ্দেশ্য হলো জনগণের মতাদর্শের বিপ্লবীকরণ করা এবং ফলস্বরূপ সমস্ত কর্মক্ষেত্রেই বৃহত্তর, দ্রুততর, অধিকতর ভাল ও আরো বেশি সাশ্রয়ী ফল অর্জন করা। জনগণকে যদি পূর্ণরূপে জাগরিত করা যায়, এবং সঠিক ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যায়, তবে সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও উৎপাদন উভয়টিকেই চালানো যায় পারস্পরিক বিঘ্ন সৃষ্টি না করে, পাশাপাশি আমাদের সকল কাজে উচ্চ মানকে নিশ্চিত করে।
আমাদের দেশে সামাজিক উৎপাদিকাশক্তির বিকাশের পক্ষে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি। উৎপাদন বিকাশের বিরুদ্ধে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে স্থাপন করার যেকোন ধারণা হলো ভুল।

১৫. সশস্ত্র বাহিনী

সামরিক বাহিনীর মধ্যে সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও সমাজতান্ত্রিক শিক্ষা-আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সামরিক কমিশন ও গণমুক্তি ফৌজের সাধারণ রাজনৈতিক বিভাগের নিদের্শ অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া উচিত।

১৬. মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে মাও সেতুঙের চিন্তাধারা হলো কর্মের পথনির্দেশক

মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে মাও সেতুঙের চিন্তাধারার মহান লাল পতাকা উচ্চে তুলে ধরা প্রয়োজনীয়। সর্বহারা রাজনীতিকে নির্দেশকের ভূমিকায় রেখেই অগ্রসর হতে হবে। শ্রমিকদের মধ্যে, কৃষকদের মধ্যে, সৈনিকদের মধ্যে, পার্টি-কর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে চেয়ারম্যান মাও সেতুঙের রচনাবলীর সৃজনশীল অধ্যয়ন ও প্রয়োগের আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে, এবং কর্মের পথ-নির্দেশক হিসেবে মাও সেতুঙের চিন্তাধারাকে গ্রহণ করতে হবে।
এই জটিল মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে সর্বস্তরের পার্টি-কমিটিগুলোকে চেয়ারম্যান মাও-এর রচনাবলী অবশ্যই পাঠ ও প্রয়োগ করতে হবে আরও সচেতনতার সঙ্গে ও আরও সৃজনশীলভাবে। বিশেষভাবে, তাদেরকে বারবার সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উপর এবং পার্টির নেতৃত্বের পদ্ধতির উপর মাও-এর রচনাবলী অধ্যয়ন করতে হবে। যেমন, ‘নয়া গণতন্ত্র সম্পর্কে’, ‘সাহিত্য ও শিল্প-কলা সম্পর্কে ইয়েনান ফোরামে প্রদত্ত ভাষণ’, ‘জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্বের সঠিক মীমাংসা সম্পর্কে’, ‘প্রচারকার্য সম্পর্কে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তৃতা’, ‘নেতৃত্বের পদ্ধতির উপর কিছু প্রশ্ন’ এবং ‘পার্টি-কমিটির কর্মপদ্ধতি’ প্রভৃতি পাঠ করতে হবে।

Advertisements

বলিভিয়ায় শ্রমিক-জনতার গণপিটুনিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিহত

40182-damprildyf-1472191389

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ার ধর্মঘটরত ও প্রতিবাদী খনি শ্রমিকরা দেশটির উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অপহরণের পর হত্যার দাবি করেছে বলিভিয়ান সরকার। রোদোলফো ইলানেস ও দেহরক্ষীদের বৃহস্পতিবার অপহরণ করা হয়েছিল। কর্মকর্তারা জানান, লা পাজের দক্ষিণে পান্ডুরো শহরে সড়ক পথে মন্ত্রীর গাড়ি থামিয়ে তাকে অপহরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাতে এ ঘটনা ঘটে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস রোমেরো জানান, সবকিছু পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইলানেসকে ‘নৃশংস ও কাপুরুষোচিত’ আক্রমণে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় লা রাজন পত্রিকা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রেইমি ফেরেইরাকে উদ্বৃত করে জানিয়েছে, ইলানেসকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পিটিয়ে হত্যার সময় পুলিশ বা কর্তৃপক্ষের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই খনি শ্রমিকও নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার থেকে খনি শ্রমিকরা পান্ডুরো মহাসড়ক অবরোধ করে আসছে।

এক সময় প্রেসিডেন্ট মোরালেজের অন্যতম সমর্থক দ্য ন্যাশনাল ফেডারেশন অব মাইনিং কো-অপারেটিভস অব বলিভিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।

খনি শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে, শ্রমিকদের আরও সুযোগ বৃদ্ধি, বেসরকারি কোম্পানিতে কাজের সুযোগ ও বড় ধরনের ইউনিয়ন করার অধিকার।

অপহৃত থাকা অবস্থায় বলিভিয়ান রেডিওকে তিনি জানান, অপহরণকারীরা তার মুক্তির জন্য একটি শর্ত দিয়েছিল। শর্তটি ছিল সরকারকে নতুন আইন নিয়ে খনি শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে।

উপ-মন্ত্রীর মৃত্যু দেশটির প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেজ কে ‘গভীরভাবে প্রভাবিত’ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

এর আগে গত মঙ্গলবার বলিভিয়ায় খনি শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দেশটির পানডুরো শহরের প্রত্যন্ত এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে খনি শ্রমিকরা।

খনি আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের অধিকার বাড়ানো সহ ১০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করে তারা। এসময় পুলিশ বাধা দিলে তাদের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। অন্তত ২৫ জন পুলিশ এ ঘটনায় আহত হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভ দমনে এক পর্যায়ে শ্রমিকদের ওপর পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

সম্প্রতি খনি শ্রমিকদের অধিকার আরও সুসংহত করাসহ ১০ দফা দাবি নিয়ে খনি আইনের সংস্কারে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় জাতীয় খনি সমবায় ফেডারেশন – ফেনকমিন। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের তাদের সমঝোতা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ খনি শ্রমিকরা।
f8fab9913c34aea1bc51454627297d7b-57c0077008c9d

সূত্র: বিবিসি।