বাস্তার নিয়ে সাংবাদিকের রিপোর্টের দায় নিতে নারাজ NDTV

maya-mirchandani_650x400_41425720255

বাস্তারে আদিবাসী মহিলাদের স্তনে হাত দিয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা পরীক্ষা করে দেখছে স্তনে দুধ রয়েছে কি না, যদি দুধ থাকে তাহলে সে বিবাহিত আর তা হলেই সে মাওবাদী নয়। এই ভয়ঙ্কর খবর আজ আর অনেকেরই অজানা নয়। ইতিপূর্বে এ বিষয়টি নিয়ে বাংলায় প্রথম সংবাদ প্রকাশ করেছিল লাল সংবাদ । এছাড়াও অজানা নয় ভুয়া সংঘর্ষে গত কয়েক মাসে বাস্তারে অন্তত ১০০জনের হত্যার খবরও।  মূল ধারার বড় বড় মিডিয়া হাউসগুলো  এই খবরগুলোকে সাধারণত এড়িয়েই চলে। তবে সম্প্রতি NDTV এর সাংবাদিক মায়া মিরচান্দানি বাস্তার সফর করে এরকমই খবর জানিয়েছেন তাঁর সংস্থাকে। NDTV এর ওয়েবসাইটে তা আপলোডও করা হয়েছে। তবে সতর্কীকরণ সহ। জানান হয়েছে রিপোর্টে যা বলা হয়েছে তা মায়ার ব্যক্তিগত মত এর দায়  NDTV -এর নয়।

রিপোর্টটি পড়ার জন্যে নীচে ক্লিক করুন –

How Breastfeeding Women Are Abused In Bastar – And Other Horror Stories

Advertisements

বিহারের পুলিশ অফিসারকে খতম করল মাওবাদীরা

নিহত পুলিশ আধিকারিক

নিহত পুলিশ অফিসার

গতকাল ভোরে বিহারের পুলিশ অফিসারকে খতম করল মাওবাদীরা। প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে মাওবাদীদের হাতে খতম হলেন বিহারের এই পুলিশ অফিসার। মৃত পুলিশ অফিসারের নাম কায়ামুদ্দিন আনসারি। ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের গয়ার কোঠিতে। তিনি কোঠি ওই পুলিস থানার অফিসার ছিলেন। গত ১০দিনে এটা ছিল পুলিশ কর্মকর্তাদের উপর দ্বিতীয় হামলা।

সোমবার সকালে হাঁটতে বেড়িয়েছিলেন কায়ামুদ্দিন আনসারি। তখনি তাঁর ওপর হামলা করে চার বন্দুকধারী মোটরসাইকেল আরোহী। কয়েক মিনিট কথা কাটাকাটির মাঝেই গুলি চালায় তারা। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। ঘটনাটি ঘটে কোঠি থানা থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে। খবর পেয়েই সেখানে ছুটে যায় পুলিশ। মৃত ওই পুলিশ আধিকারিকের দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত কোঠি এলাকায় মাওবাদীদের আধিপত্য চলছে। মাস চারেক আগেই কোঠি থানার দায়িত্ব নিয়েছিলেন কায়ামুদ্দিন। এসেই মাওবাদী দমনে সক্রিয় হন। কয়েক দিন আগে একডজন মাওবাদীকে জেলেও পাঠিয়েছেন। তারপর থেকেই নাকি খতমের হুমকি পাচ্ছিলেন তিনি। কোঠি থানার ডিআইজি সৌরভ কুমার জানিয়েছেন, কায়ামুদ্দিনের গায়ে মোট চারটে গুলি লেগেছে। বিগত কয়েকমাসে চার পুলিশ আধিকারিকের উপর হামলা চালাল মাওবাদীরা।

সূত্রঃ http://www.hindustantimes.com/india-news/cop-on-morning-walk-shot-dead-in-bihar-s-gaya-district/story-qvqmXQYimox5EyP6dCWOaI.html

http://www.kolkata24x7.com/bihar-police-officer-shot-dead-by-suspected-naxals-in-gaya.html


২০ বছর পর আসছে অরুন্ধতীর দ্বিতীয় উপন্যাস

Author Arundhati Roy photographed by Chiara Goia

ন্যায়-সমতা আর মুক্ত পৃথিবীর পক্ষে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর অরুন্ধতী রায়ের প্রথম উপন্যাস ‘গড অফ স্মল থিংস’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। এর ২০ বছর পর প্রকাশিত হতে চলেছে তার দ্বিতীয় উপন্যাস। সামনের বছর জুনে প্রকাশিত হবে বুকারজয়ী এই লেখকের নতুন উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অফ আটমোস্ট হ্যাপিনেস’।
একজন বুদ্ধিজীবী হিসেবে বিশ্বজুড়ে অরুন্ধতী এক পরিচিত নাম। নিজ রাষ্ট্র ভারত থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রসহ দুনিয়ার সব পরাক্রমশালী রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে ক্রমাগত প্রশ্ন তুলে যাচ্ছেন তিনি। ইরাক-আফগানিস্তানসহ বিশ্বর বিভিন্ন প্রান্তে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন শাণিতভাবে। কাশ্মিরের জনতার আত্মনিয়ন্ত্রুণের অধিকারের প্রশ্নে দাঁড়িয়েছেন নিজ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। ভারতের মাওবাদী আন্দোলন নিয়ে মূলধারার বুদ্ধিজীবীদের এবং এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অবস্থান নিয়েছেন তিনি। পেয়েছেন ‘রাষ্ট্রোদ্রাহিতা’র খেতাব।
এসব বিভিন্ন বিষয়ে লেখা তার বহু রচনা নিয়ে বই প্রকাশিত হয়েছে। বিপুল পরিমাণ পাঠক তা সাদরে গ্রহণও করেছেন। তবে ‘গড অফ স্মল থিংস’-এর পর আর কোনও উপন্যাস লেখেননি তিনি। তার লেখা নতুন উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অফ আটমোস্ট হ্যাপিনেস’ প্রকাশ করবে ব্রিটেনের হামিশ হ্যামিল্টন এবং পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া।
১৯৯৭ সালে প্রকাশিত অরুন্ধতীর প্রথম উপন্যাস ‘গড অফ স্মল থিংস’ এর জন্য সেবছরই বুকার পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।
নতুন উপন্যাস প্রসঙ্গে প্রকাশনা সংস্থার তরফ থেকে বলা হয়েছে, ‘এই উপন্যাস প্রকাশ করা একই সঙ্গে সম্মানের ও আনন্দের। বিভিন্নভাবে এটি একটি অসাধারণ বই, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের পড়া সেরা।’
হামিশ হ্যামিল্টন-এর প্রকাশনা পরিচালক সাইমন প্রসার এবং পেঙ্গুইনের প্রধান সম্পাদক মেরু গোখলে এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘তার (অরুন্ধতী) লেখনির মতোই চরিত্রগুলোও অসাধারণ – সজীব শব্দ প্রয়োগের মধ্য দিয়ে যা উদারতা ও সহমর্মিতায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে। সেখানে প্রতিটা শব্দই যেন জীবন্ত, যা আমাদের জাগিয়ে তুলে এক নতুন পথে দেখতে, অনুভব করতে, শুনতে ও যুক্ত হতে শেখায়। এসবের মধ্যদিয়েই উপন্যাসটি পেয়েছে নতুনত্ব, যা তাকে প্রকৃত উপন্যাসে পরিণত করেছে।’

বইটি লেখার ক্ষেত্রে তার বন্ধু বুকার পুরস্কারজয়ী জন বার্গার উৎসাহ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অরুন্ধতী। ২০১১ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে তিনি জানিয়েছিলেন, কিভাবে জন অরুন্ধতীকে তার দ্বিতীয় উপন্যাসটি লেখার জন্য অনুরোধ করতেন। তবে তখন অরুন্ধতী ভারতে মাওবাদী আন্দোলন নিয়ে কাজ করছিলেন।

২০১১ সালে অরুন্ধতী ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেছিলেন, “প্রায় দেড় বছর আগে আমি তখন জনের বাড়িতে, জন বলছিল, ‘এখনই তোমার কম্পিউটার চালু করো এবং তুমি কি ফিকশন লেখছো, তা আমায় দেখাও।’ সম্ভবত পৃথিবীতে সে-ই একমাত্র ব্যক্তি, যে কিনা আমাকে একথাগুলো বলার সাহস রাখে। আর আমি তাকে কিছুটা পড়েও শোনালাম। সে বললো, ‘তুমি সোজা দিল্লি যাও, আর বইটা শেষ করো।’”

অরুন্ধতী ইন্ডিপেন্ডেন্টকে আরও বলেন, ‘আমি দিল্লিতে ফিরে আসি। আর এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই টাইপরাইটারে লেখা একটি চিরকুট আসে আমার কাছে। তাতে মাওবাদীদের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমাকে মধ্য ভারতের জঙ্গলে যেতে বলা হয়।’

অরুন্ধতীর সাহিত্য-বিষয়ক এজেন্ট ডেভড গুইউইন নতুন উপন্যাস সম্পর্কে বলেন, ‘কেবল অরুন্ধতকীর পক্ষেই এমন উপন্যাস লেখা সম্ভব, যা ২০ বছর ধরে লেখা হয়েছে। এখন তা প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, কেননা আমরা প্রকাশক পেয়েছি। এই সুদীর্ঘ সময়টা সার্থক হয়েছে।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।