বিপ্লবী লেখক ভারাভারা রাওকে গ্রেফতার করা হয়েছে –

6106_varavara_rao

বিপ্লবী লেখক এবং নাগরিক অধিকার কর্মী ভারাভারা রাও এবং কিছু অন্যান্য কর্মীদের এনটিআর ট্রাস্ট ভবনের সামনে প্রতিবাদ করার সময় বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভারাভারা রাওয়ের নেতৃত্বে এই সকল কর্মীরা রামকৃষ্ণসহ মাওবাদী নেতার অবিলম্বে আদালতে উপস্থাপন করার জন্যে অবস্থান প্রতিবাদ করছিলেন।

এ সময় কর্মীরা স্লোগান এবং ট্রাফিক ব্লক করতে থাকলে বিশাল সংখ্যক পুলিশ এতে হস্তক্ষেপ করে এবং তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।

পরে mediapersons এর সাথে কথা বলার সময়, ভারাভারা রাও বলেন- তিনি তথ্য পেয়েছেন যে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রিয় মাওবাদী নেতা – রামকৃষ্ণ ওরফে আরকে এবং গাজারলা রবি- যিনি অন্ধ্র-ওড়িশা বর্ডার (AoB) এলাকার সম্পাদক নামে পরিচিত, তাদের কথিত নকশাল এনকাউন্টার পর পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। যে ঘটনায় সাম্প্রতিক ২০জন মাওবাদীকে হত্যা করা হয়।

তিনি তাদের আদালতগুলোতে উপস্থাপন না করায় সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। ভারাভারা রাও বলেন, কোন মাওবাদী নেতা পুলিশের হেফাজতে ছিল এটা অস্বীকার করে বিশাখাপত্তনমের গ্রামীণ এসপি রাহুল দেব শর্মার দেয়া বিবৃতি তারা বিশ্বাস করেননি।

ভারাভারা রাও এসময় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আরকে ও তার সহযোগীদের কোন ক্ষতি করা হলে তার জন্যে অন্ধ্রপ্রদেশের টিডিপি সরকার দায়ী থাকবে বলে সতর্ক করে দেন।

তিনি বনাঞ্চলে চিরুনি অভিযানের অজুহাতে ভুয়া এনকাউন্টারের জন্য অন্ধ্রপ্রদেশের টিডিপি সরকারের কঠিন সমালোচনা করেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার মাওবাদীদের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্যেও সরকারের প্রতি ভারাভারা রাও দাবি জানান।

সূত্রঃ http://www.thehansindia.com/posts/index/Andhra-Pradesh/2016-10-28/Varavara-arrested-as-activists-stage-sit-in-at-NTR-Trust-Bhavan/261442

 


উড়িষ্যায় আরো ২জন মাওবাদী গেরিলাকে হত্যা করেছে পুলিশ

মাওবাদী গেরিলা

মাওবাদী গেরিলা

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় একটি প্রত্যন্ত এলাকায় পুলিশের অভিযানে আরো দু’জন মাওবাদী গেরিলা নিহত হয়েছে। একই এলাকায় গেরিলাদের একটি ঘাঁটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক হামলার কয়েকদিন পর এ অভিযান চালানো হলো। আজ শুক্রবার দেশটির পুলিশ এ কথা জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, গভীর জঙ্গলে তল্লাশি অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন দুই গেরিলার সন্ধান পাওয়ার পর তারা সেখানে হামলা চালায়। এতে ওই দুই সন্দেহভাজন নিহত হয়। গত সোমবার এ জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২৮ জন গেরিলা নিহত হয়।

কিন্তু বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন জানাচ্ছেন, ভুয়া সংঘর্ষের নামে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি ছিল গেরিলাদের ওপর সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা।

হামলাস্থল উড়িষ্যা রাজ্য থেকে টেলিফোনে সাব-ইন্সপেক্টর সি কে ধারুয়া এএফপিকে বলেন, সোমবারের বন্দুকযুদ্ধের পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত সন্ধ্যায় অভিযান চলাকালে এনকাউন্টারে অরো দুই মাওবাদী গেরিলা নিহত হয়।

উল্লেখ্য, ভারতের কমপক্ষে ২০টি রাজ্যে মাওবাদী গেরিলারা সক্রিয় রয়েছে। তারা আদিবাসীদের ভূমি, চাকরি ও নিজেদের অধিকার আদায়ে রাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে।

সূত্রঃ এএফপি

 


ভারতে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংহতির আহবান –

naxalwar-800x445

Redspark– ভারতের একটি গণতান্ত্রিক সংগঠনের একজন কমরেড থেকে গত ২৫শে অক্টোবর এই বার্তাটি পেয়েছে:

আজ, রাষ্ট্র ঠান্ডা মাথায় আরো ৩জন কমরেডকে হত্যা করেছে, এ নিয়ে ভারত রাষ্ট্র গত দুই দিনে ২৭জন কমরেডকে হত্যা করল।  ভারতীয় রাষ্ট্র মাওবাদীদের বিরুদ্ধে একটি গণবিরোধী লড়াইয়ে নেমেছে, যারা প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে জমি লুটে নিয়োজিত কর্পোরেট-সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে যুক্ত আছে।

একদিকে শাসক শ্রেণী মাওবাদীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য অনুরোধ করছে, কিন্তু অন্যদিকে রাষ্ট্র তার বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, রাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানের নিন্দা ও কমরেডদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করার জন্য।

Redspark টিম, ভারতের বিপ্লবের নেতৃস্থানীয় কমরেডদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছে। আমরা, ভারতীয় ভূখন্ডে গণবিরোধী চলমান যুদ্ধের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার ও প্রচারাভিযানের জন্যে সব প্রগতিশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আহবান জানাচ্ছে। ভারত রাষ্ট্র কর্তৃক অবিলম্বে সমাজের নিপীড়িতদের বিরুদ্ধে তার বিভীষিকাময় অভিযান বন্ধ করার এবং ভারতের কারাগারে আটক সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেয়ার জন্যে আমরা রাষ্ট্রের কাছে দাবী জানাচ্ছি।

সূত্রঃ http://www.redspark.nu/en/peoples-war/india/call-for-international-solidarity-against-the-ongoing-military-campaign-against-maoists-in-india/


শহীদ ২৪জন গেরিলার হত্যার বদলা নেয়ার ঘোষণা মাওবাদীদের

suicide-bomber-against-naidus-family-ultras-issues-threat-letter-800x445

পুলিশের বিরুদ্ধে ভুয়ো সংঘর্ষের অভিযোগ মাওবাদীরা তুলেছিলেন বুধবারই। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মালকানগিরির এই ‘ভুয়ো সংঘর্ষের’ বদলা নেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মাওবাদীরা। বৃহস্পতিবার মাওবাদীদের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে চিঠি দিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু এবং তাঁর ছেলে এন লোকেশকে খতমের হুমকি দেওয়া হয়েছে। যদিও চিঠিটির সত্যতা সংবাদমাধ্যমের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সোমবার ভোরে অন্ধ্রের সীমানার কাছে ওড়িশার মালকানগিরিতে ওড়িশা ও অন্ধ্র পুলিশের যৌথ বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হন ২৮ জন মাওবাদী। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন বহু শীর্ষস্থানীয় নেতা। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের হাতে এসে পৌঁছেছে মাওবাদীদের একটি চিঠি। চিঠির নীচে সই রয়েছে মাওবাদীদের অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্য কমিটির মুখপাত্র শ্যামের। চিঠিতে মাওবাদীদের অভিযোগ, মালকানগিরিতে ওই হত্যালীলার পিছনে রয়েছেন অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু। প্রথমে মাওবাদীদের খাবারে বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার পর তাঁদের নির্বিচারে গুলি করা হয়েছে।

২০০৩ সালে এক বার চন্দ্রবাবুর উপর হামলা চালিয়েছিলেন মাওবাদীরা। কিন্তু বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। চিঠিতে সেই হামলার উল্লেখ করে মাওবাদীদের হুমকি, ‘‘২০০৩-এর অক্টোবরে চিত্তোর জেলার আলিপিরিতে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন চন্দ্রবাবু। কিন্তু এ বার আর তিনি বাঁচতে পারবেন না। প্রয়োজনে আত্মঘাতী বাহিনী ব্যবহার করা হবে। কোনও পুলিশ, কোনও সেনাবাহিনী চন্দ্রবাবুকে এ বার বাঁচাতে পারবে না।’’ যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রামকৃষ্ণের ২৫ বছরের ছেলে মুন্নাও। বুধবার পুলিশের কাছ থেকে ছেলের মৃতদেহ নিতে এসেছিলেন রামকৃষ্ণের স্ত্রী তথা মাওবাদী নেত্রী শিরিসা ওরফে পদ্মা। তখনই তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে ভুয়ো সংঘর্ষের অভিযোগ তোলেন। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তও দাবি করেছেন পদ্মা।

সূত্রঃ   https://www.telugu360.com/suicide-bomber-against-naidus-family-ultras-issues-threat-letter/