খুলনায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য নিহত

14971962_10211155361505797_1096550222_n

গত ৮ই নভেম্বর, খুলনার ফুলতলা উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য বেল্লাল নিহত হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশি শাটারগান, বন্দুকের দুই রাউন্ড গুলি ও ৪টি বোমা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।  মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার দামোদর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বেল্লালের বাড়ি ফুলতলা উপজেলার যুগ্মিপাশা এলাকায়।

ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মুন্সি জানান, এদিন ভোরে দামোদর ইউনিয়নে পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছিল। পথে গাড়াখোলা গ্রামের মুক্তিস্বরী এলাকায় চরমপন্থী দলের সদস্যদের দেখে দাঁড়ানোর সংকেত দেয় পুলিশ। এসময় চরমপন্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা জবাবে গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে চরমপন্থীরা পালিয়ে গেলে বেল্লালকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, লাশ ফুলতলা থানা থেকে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত বেল্লালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ ৯টি মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওসি আসাদুজ্জামান মুন্সি।

সূত্রঃ  banglatribune.com

Advertisements

গাইবান্ধার গৌবিন্দগঞ্জের বাগদাফার্মে আদিবাসীদের হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ‘‘আদিবাসী মুক্তি মোর্চা”র বিবৃতি-

4bkb210ef394c3haxd_800c450

গত  ৬ই নভেম্বর রবিবার, গাইবান্ধা গৌবিন্দগঞ্জের বাগদা ফার্মের আদিবাসীদের উপর নির্বিচারে গুলি করে হত্যা ও নির্যাতন করার প্রতিবাদে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বাগদা ফার্মের জমি ১৯৬২ সালে তৎকালীন সরকার অধিগ্রহন করে মূলত আখ চাষের জন্য। কিন্তু দুভাগ্যের বিষয় এখন সেখানকার আদিবাসী ও কৃষকদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে রাষ্ট্র তার বাহিনীকে প্রতিবাদী আদিবাসী ও কৃষকদের উপর লেলিয়ে দিয়ে অবৈধ দখলের নামে নির্বিচারে গুলি ও উচ্ছেদের অভিযান চালিয়েছে। আমাদের সংগঠনের দাবী বাগদা ফার্মের জমি প্রকৃত ভূমি মালিক আদিবাসী জাতিসত্তা ও কৃষকদের মাঝে নিঃশর্তে প্রদান ও আন্দোলনকারীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার সহ ক্ষতিগ্রস্থ আদিবাসী ও কৃষক জনগনকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। বাগদা ফার্মে বসবাসকারী আদিবাসী জাতিসত্তার জনগণ সহ কৃষক জনগনকে উচ্ছেদের জন্য বসানো পুলিশ ক্যাম্প অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। অবৈধ উচ্ছেদের নামে বাড়ীঘর ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও আন্দোলনকারীদেরকে গৃহহীন করার তীব্র বিরোধীতা করছে আদিবাসী মুক্তিমোর্চা। হামলা পরিচালনাকারী পুলিশ ও স্থানীয় ভুমিদস্যু মাস্তানদের শাস্তি ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। জমি রক্ষার আন্দোলনে লড়াকু আদিবাসী কৃষক ও বাঙ্গালী কৃষক জনতার সাথে একাত্মতা ঘোষণা ও তাদের লড়াইয়ে আমরা পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।

বার্তা প্রেরক

শীতল সরেন

সাধারন সম্পাদক

আদিবাসী মুক্তিমোর্চা, কেন্দ্রীয় কমিটি।

যোগাযোগঃ ০১৮২৪-২৮০৬৯৯, ০১৭৮৬-৮৭২৮৬২


ডিমনিটাইজেশানের প্রহসন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কিছু প্রশ্ন

usdf

গত ৮ই নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নাটকীয় ভঙ্গিমায় ঘোষণা করেন যে সেইদিন রাত বারোটার পর থেকে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট আর চলবে না। ‘কালো’ টাকার সঞ্চয় ও চলাচল রুখতেই নাকি এহেন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমাদের মনে হচ্ছে এই সিদ্ধান্তের ফলে আদতে ক্ষতিগ্রস্তই হবেন সাধারণ মানুষ। আমরা সরকার কর্তৃক আরোপিত এই ‘অঘোষিত অর্থনৈতিক জরুরি’ অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সরকারের কাছে কিছু প্রশ্ন রাখছি –

১)২০১৪ সালে নির্বাচনের পূর্বে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে তারা সুইস ব্যাঙ্কে গচ্ছিত সমস্ত ‘কালো’ টাকা দেশে ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার এতদিন পরেও  সরকারের তরফে এই নিয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি, যদিও কাদের টাকা গচ্ছিত রয়েছে সুইস ব্যাঙ্কে, সে তালিকা সামনে এসেছে একবছরেরও বেশি আগে। এই দ্বিচারিতার কারণ কি?

২)হিসেব বহির্ভূত অর্থ উদ্ধার করার জন্য রয়েছে আয়কর বিভাগ, যা চলে জনগণের আয়করের টাকাতেই। তাহলে নরেন্দ্র মোদীর সরকার কেন অহেতুক সাধারণ মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে দুর্দশার মুখে?

৩)সরকারি প্রতিনিধিদের রিপোর্ট মোতাবেক ৪৪ জন কর্পোরেট কর্তা  বিভিন্ন পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কগুলি থেকে ৫০০০ কোটি টাকা করে ঋণ নিয়ে নিয়েছেন এবং মোট ঋণের পরিমান ২৩.৫২ লক্ষ কোটি টাকা। সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বের হয়ে যাওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারে সরকার কি পদক্ষেপ নিচ্ছে?

৪) ললিত মোদী ও বিজয় মালিয়ার মত ঋণখেলাপী, যাঁরা লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রেখেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সরকার কি ব্যবস্থা নিচ্ছে?

৫)বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে সরকার বিপুল পরিমাণ কর-ছাড় দিয়েছে, যার ফলে আর্থিকভাবে সংস্থাগুলি ব্যাপক লাভবান হয়েছে। এটাও কি ‘কালো’ টাকা ‘সাদা’ করার আরেকটা নমুনা?

৬)অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, আয়কর বৃদ্ধির সুফল শেষ বিচারে গরিব মানুষরাই পাবেন। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকারি বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবহণের মত সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির অর্থ বরাদ্দ ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। এই পলিসি কিভাবে গরিব মানুষের উপকারে আসতে পারে? এই সরকারের উপর কি আদৌ আস্থা রাখা যায়?

৭)জনসংখ্যার অর্ধেকেরই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই। দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করা মানুষজন ও এবং বিক্রেতারা সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে সবথেকে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কাজ ফেলে তাঁদেরকে ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। নোট বাতিল পরবর্তী অর্থসংকটের ফলে চা-বাগান শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মাইনে বন্ধ হয়ে রয়েছে। বেশ কিছু কৃষক ও মধ্যবিত্ত ব্যক্তির আত্মহত্যার ঘটনাও খবরে এসেছে। দেশের দুঃস্থ, দরিদ্র মানুষদেরকেই সরকারের এই ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’-এর লক্ষ্যবস্তু করা হল কেন?

৮) ছোটো ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত পরিবার, যাঁরা নিজেদের আয়ের পূর্ণ খতিয়ান সরকারকে দেননি, বর্তমান পদক্ষেপের ফলে তাঁদের আয়ের হিসেব চলে আসবে সরকারি নজরের আওতায়। কিন্তু এঁদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে যারা বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে, তাদের ছেড়ে কেবল এই মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের উপর চাপ দেওয়া হচ্ছে কেন?

৯)কাগজের নোটের বদলে ‘প্লাস্টিক মানি’র কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এই প্লাস্টিক মানির ব্যবহার আর্থিক দুর্যোগের হাত থেকে গরিব মানুষদের রক্ষা করতে সক্ষম নাও হতে পারে। ২০০৮ এর বিশ্বজোড়া আর্থিক সংকটের সময় তা আমরা দেখেছি। সমাজের অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল অংশকে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত রাখার জন্য সরকার কি ব্যবস্থা নিচ্ছে?

বাস্তবে মোদী সরকারের মুখোশ খুলে গিয়ে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে ব্যাপক জনসাধারণের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে তারা তাদের হিন্দু রাজনৈতিক কর্মসূচী রূপায়নের লক্ষ্যে কাজ করতেই বদ্ধপরিকর। সমস্ত গণতান্ত্রিক চেতনা সম্পন ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠনকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি এই ‘অঘোষিত অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার জন্য।

ইউনাইটেড স্টুডেন্টস’ ডেমোক্রাটিক ফ্রন্টের পক্ষে সৌম্য মণ্ডল (জেনারেল সেক্রেটারি) ও সিদ্ধার্থ(প্রেসিডেন্ট) কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত।