ডিমনিটাইজেশানের প্রহসন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কিছু প্রশ্ন

usdf

গত ৮ই নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নাটকীয় ভঙ্গিমায় ঘোষণা করেন যে সেইদিন রাত বারোটার পর থেকে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট আর চলবে না। ‘কালো’ টাকার সঞ্চয় ও চলাচল রুখতেই নাকি এহেন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমাদের মনে হচ্ছে এই সিদ্ধান্তের ফলে আদতে ক্ষতিগ্রস্তই হবেন সাধারণ মানুষ। আমরা সরকার কর্তৃক আরোপিত এই ‘অঘোষিত অর্থনৈতিক জরুরি’ অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সরকারের কাছে কিছু প্রশ্ন রাখছি –

১)২০১৪ সালে নির্বাচনের পূর্বে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে তারা সুইস ব্যাঙ্কে গচ্ছিত সমস্ত ‘কালো’ টাকা দেশে ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার এতদিন পরেও  সরকারের তরফে এই নিয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি, যদিও কাদের টাকা গচ্ছিত রয়েছে সুইস ব্যাঙ্কে, সে তালিকা সামনে এসেছে একবছরেরও বেশি আগে। এই দ্বিচারিতার কারণ কি?

২)হিসেব বহির্ভূত অর্থ উদ্ধার করার জন্য রয়েছে আয়কর বিভাগ, যা চলে জনগণের আয়করের টাকাতেই। তাহলে নরেন্দ্র মোদীর সরকার কেন অহেতুক সাধারণ মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে দুর্দশার মুখে?

৩)সরকারি প্রতিনিধিদের রিপোর্ট মোতাবেক ৪৪ জন কর্পোরেট কর্তা  বিভিন্ন পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কগুলি থেকে ৫০০০ কোটি টাকা করে ঋণ নিয়ে নিয়েছেন এবং মোট ঋণের পরিমান ২৩.৫২ লক্ষ কোটি টাকা। সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বের হয়ে যাওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারে সরকার কি পদক্ষেপ নিচ্ছে?

৪) ললিত মোদী ও বিজয় মালিয়ার মত ঋণখেলাপী, যাঁরা লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রেখেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সরকার কি ব্যবস্থা নিচ্ছে?

৫)বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে সরকার বিপুল পরিমাণ কর-ছাড় দিয়েছে, যার ফলে আর্থিকভাবে সংস্থাগুলি ব্যাপক লাভবান হয়েছে। এটাও কি ‘কালো’ টাকা ‘সাদা’ করার আরেকটা নমুনা?

৬)অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, আয়কর বৃদ্ধির সুফল শেষ বিচারে গরিব মানুষরাই পাবেন। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকারি বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবহণের মত সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির অর্থ বরাদ্দ ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। এই পলিসি কিভাবে গরিব মানুষের উপকারে আসতে পারে? এই সরকারের উপর কি আদৌ আস্থা রাখা যায়?

৭)জনসংখ্যার অর্ধেকেরই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই। দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করা মানুষজন ও এবং বিক্রেতারা সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে সবথেকে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কাজ ফেলে তাঁদেরকে ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। নোট বাতিল পরবর্তী অর্থসংকটের ফলে চা-বাগান শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মাইনে বন্ধ হয়ে রয়েছে। বেশ কিছু কৃষক ও মধ্যবিত্ত ব্যক্তির আত্মহত্যার ঘটনাও খবরে এসেছে। দেশের দুঃস্থ, দরিদ্র মানুষদেরকেই সরকারের এই ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’-এর লক্ষ্যবস্তু করা হল কেন?

৮) ছোটো ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত পরিবার, যাঁরা নিজেদের আয়ের পূর্ণ খতিয়ান সরকারকে দেননি, বর্তমান পদক্ষেপের ফলে তাঁদের আয়ের হিসেব চলে আসবে সরকারি নজরের আওতায়। কিন্তু এঁদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে যারা বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে, তাদের ছেড়ে কেবল এই মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের উপর চাপ দেওয়া হচ্ছে কেন?

৯)কাগজের নোটের বদলে ‘প্লাস্টিক মানি’র কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এই প্লাস্টিক মানির ব্যবহার আর্থিক দুর্যোগের হাত থেকে গরিব মানুষদের রক্ষা করতে সক্ষম নাও হতে পারে। ২০০৮ এর বিশ্বজোড়া আর্থিক সংকটের সময় তা আমরা দেখেছি। সমাজের অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল অংশকে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত রাখার জন্য সরকার কি ব্যবস্থা নিচ্ছে?

বাস্তবে মোদী সরকারের মুখোশ খুলে গিয়ে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে ব্যাপক জনসাধারণের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে তারা তাদের হিন্দু রাজনৈতিক কর্মসূচী রূপায়নের লক্ষ্যে কাজ করতেই বদ্ধপরিকর। সমস্ত গণতান্ত্রিক চেতনা সম্পন ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠনকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি এই ‘অঘোষিত অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার জন্য।

ইউনাইটেড স্টুডেন্টস’ ডেমোক্রাটিক ফ্রন্টের পক্ষে সৌম্য মণ্ডল (জেনারেল সেক্রেটারি) ও সিদ্ধার্থ(প্রেসিডেন্ট) কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত।

 

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s