সংগঠন বাড়াতে শীর্ষনেতা গণপতির চিঠি‌

main-qimg-4ccdaf7940052d8dad7fba38d0091e4d-c

গ্রামে ছড়িয়ে পড়ুন। এবার সরাসরি সংগঠনকে মজবুত করার লক্ষ্যে অঞ্চলভিত্তিক যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য মাঠে নামছে মাওবাদীরা। দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কাজকর্ম থেকে কিছুটা আড়ালে থাকা যে আসলে কৌশল, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে প্রচার করা এক বার্তায়। এই মুহূর্তে ২৫ লক্ষ টাকা যাঁর মাথার দাম ঘোষণা করেছে ভারত সরকার‌, দলের সাধারণ সম্পাদক খোদ গণপতি এই বার্তা প্রচার করছেন। গোয়েন্দাদের কাছে সেই বার্তা এসে পৌঁছেছে। স্বভাবতই রাজ্যে রাজ্যে মাওবাদী প্রভাবিত অঞ্চলগুলিতে শুরু হয়েছে তল্লাশি। হঠাৎ শীর্ষনেতা গণপতির (‌মুপাল্লা লক্ষ্মণ রাও)‌ এই বার্তা যে নিছক কাগুজে প্রচার নয়, মানছেন গোয়েন্দাকর্তারা। তাঁদের বক্তব্য, বিভিন্ন রাজ্যে যৌথবাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে একসময় বহু শীর্ষনেতা থেকে শুরু করে কমান্ডার, স্কোয়াড নেতা, সমর্থক, সহমর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে গত ৫ বছরের কোনও ঘটনা না ঘটলেও মাওবাদীদের অস্তিত্ব মুছে গেছে এমন ধারণা যুক্তিযুক্ত নয়। পরিস্থিতির বিচারে বহু স্কোয়াড নেতা ও কর্মী অন্যান্য রাজ্যে আত্মগোপন করেছিলেন। এমনকী নিজেদের মধ্যে যোগাযোগও বন্ধ ছিল। কিন্তু পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ড, বিহার, ছত্তিশগড়ে কাজকর্ম কমবেশি চালু ছিল। সম্প্রতি বিহারে নাশকতার মধ্য দিয়ে গোয়েন্দাদের একটি স্পষ্ট ছবি চোখে পড়ছে, তা হল নতুন করে সংগঠন সাজানোর কাজ তলায় তলায় জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে। তার পরেই গণপতির এই বার্তা অর্থহীন নয়। ওই বার্তায় বলা হয়েছে, পিপলস্‌ লিবারেশন গেরিলা আর্মি (‌পিএলজিএ)‌ রেভলিউশনারি পিপলস্‌ কমিটিজ (‌আরসিপিএস )‌ এবং রেভলিউশনারি মাস অর্গানাইজেশন (‌এমওএস)‌–‌গুলিকে চাঙ্গা করতে হবে। বার্তায় বলা হয়েছে, শহর অঞ্চলগুলিতে বিভিন্ন প্রকাশ্য সংগঠন গড়ে কাজ বাড়াতে হবে, জনসংযোগ বাড়াতে হবে। গণ‌সংগঠনের নেতৃত্বকে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে হবে। ইস্যুভিত্তিক সাংগঠনিক প্রচার। এ ছাড়াও বলা হয়েছে, সুবিধেবাদী বামপন্থী কোনও দলের সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে প্রকৃত শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। এই মুহূর্তে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বেশ কয়েকজন আত্মগোপন করে আছেন। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাজ্যের সম্পাদকরা যে বার্তা প্রচার করতেন লিখিতভাবে, তা আপাতত বন্ধ। কিন্তু গণপতির স্বাক্ষর করা এই বার্তায় গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছেন। চিঠিতে গণপতি জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষ এ ধরনের কাজের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই বিচিত্র ধরনের বাধার সৃষ্টি করবেই। তা প্রতিহত করতে হবে। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চল ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলেও সংগঠনকে জোরদার করার কাজ করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দারা চিন্তিত, চিঠিতে বলা হয়েছে যে অঞ্চলগুলিতে দখল রয়েছে, সেখানে প্রতিহত করার সব ধরনের প্রস্তুতি রাখতে হবে এবং গোপন বৈঠক যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, শত্রুপক্ষ চেষ্টা করলেও তা প্রতিহত করতে হবে। দলের বিভিন্ন অংশকে সহজভাবে প্রচারমূলক পত্রিকা ও লিফলেট ছাপানোর জন্য উদ্যোগী হতে হবে। এই বার্তা গোয়েন্দাদের হাতে আসার পরেই নজরদারি শুরু করেছেন। পরিচিত মুখ এবং পলাতক মাওবাদীদের যে তালিকা রয়েছে, সেগুলি ধরে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। কিন্তু যে প্রশ্নটি চিন্তার, তা হল— দেশের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (‌এন আই এ)‌ গণপতির মাথার দাম ঘোষণা করলেও তাঁর বা অন্য শীর্ষনেতাদের অবস্থান কোথায়, তা এখনও খুঁজে পায়নি। মাথার দামের টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে শীর্ষনেতাদের সহজে ধরা যাবে, তা বোধহয় খুব সহজ নয়। ‌‌‌

 

সূত্রঃ http://www.aajkaal.in/enewspaper/bistaritakhabar/3/10185

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s