ভারত: (ভিডিও) কেরালায় মর্গের বাইরে সিপিআই(মাওবাদী) কমরেড ‘কুপ্পু দেবরাজ’ এর প্রতি শ্রদ্ধা

Advertisements

চারু মজুমদারের সংগৃহীত রচনা সংকলন: ঐতিহাসিক আটটি দলিল (২নং দলিল)

500x350_0718bd934ac49f1e112b30cd4cfd4285_charu_Majumder

চারু মজুমদারের সংগৃহীত রচনা সংকলন: ঐতিহাসিক আটটি দলিল

শোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবকে সফল করুন (২নং দলিল)

ভারতবর্ষের পার্টিতে দীর্ঘদিন যাবৎ শোধনবাদী চিন্তা বাসা বাঁধার ফলে সঠিক বিপ্লবী পার্টি আমরা গড়ে তুলতে পারি নি। এই শোধনবাদী চিন্তাধারার বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম করে সঠিক বিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলাই আজ প্রাথমিক কাজ।

১। শোধনবাদী চিন্তাধারার মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে কৃষকসভা ও ট্রেড ইউনিয়নকে পার্টির একমাত্র কাজ হিসাবে চিন্তা করা। পার্টির কমরেডরা প্রায়ই কৃষক সভা ও ট্রেড ইউনিয়নের কাজের সঙ্গে পার্টির রাজনৈতিক কাজকে গুলিয়ে ফেলেন। তারা ভাবেন না যে পার্টির রাজনৈতিক কর্তব্য কৃষকসভা ও ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে করা যায় না। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এ কথাও মনে রাখতে হবে যে ট্রেড ইউনিয়ন ও কৃষক সভা আমাদের উদ্দেশ্য সাধনের অনেকগুলি হাতিয়ারের মধ্যে একটি। পক্ষান্তরে ট্রেড ইউনিয়ন ও কৃষকসভাকে পার্টির একমাত্র কাজ হিসাবে কল্পনা করার অর্থই হলো পার্টিকে অর্থনীতিবাদের পক্ষে নিমজ্জিত করা। এই অর্থনীতিবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রমা করা ছাড়া সর্বহারা বিপ্লবকে সফল করা যায় না। কমরেড লেনিন এই শিক্ষাই দিয়েছেন।

২। অনেক কমরেড ভাবেন এবং আজও ভাবছেন যে কিছু দাবী-দাওয়ার আন্দোলন করলেই পার্টির রাজনৈতিক কর্তব্য পালন হয়ে গেল। এই আন্দোলনের মাধ্যমে একটি জয়কে তারা পার্টির রাজনৈতিক জয় হিসাবে চিন্তা করেন। শুধু তাই না, এইসব কমরেডরা পার্টির রাজনৈতিক কর্তব্য পালনের দায়িত্বকে এই আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান। কিন্তু আমরা মার্কসবাদীরা জানি যে পার্টির রাজনৈতিক কর্তব্য পালনের অর্থ হল আমাদের সমস্ত প্রচার, সমস্ত আন্দোলন ও সংগঠনের শেষ লক্ষ্য হচ্ছে সর্বহারা শ্রেণীর রাজনৈতিক ক্ষমতা সুপ্রতিষ্ঠিত করা। এ কথা সব সময়েই মনে রাখতে হবে যে, ‘রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল’ কথাটিকে বাদ দিলে পার্টি আর বিপ্লবী পার্টি থাকে না। তখন নামে সেটা বিপ্লবী পার্টি থাকলেও আসলে তা ধনিক শ্রেণীর সংস্কারবাদী পার্টিতে পরিণত হয়। রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল বলতে অনেকেই কেন্দ্রকে বুঝে থাকেন। অর্থাৎ তারা ভাবেন যে আন্দোলনের পরিধি ক্রমশঃ বাড়তে বাড়তে কেন্দ্রীয়বাবে ক্ষমতা দখলই হবে একমাত্র লক্ষ্য। এই চিন্তাধারা শুধু যে ভুল তা নয়, এই চিন্তাধারা পার্টির মধ্যে সঠিক বিপ্লবী চিন্তাধারাকে নষ্ট করে দেয় এবং তাকে একটা সংস্কারবাদী পার্টিতে পরিণত করে। ১৯৫৩ সালে বিশ্ব ট্রেড ইউনিয়নের কংগ্রেসে চীনের প্রতিনিধি দৃপ্তভাবে ঘোষণা করেন যে, আগামীতে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় অর্ধসমাপ্ত বিপ্লবের কৌশল ও নীতি চীনের পশ্চাদ অনুসরণ করে চলবে। অর্থাৎ এলাকাভিত্তিক ক্ষমতা দখলই হবে সেইসব সংগ্রামগুলোর নীতি ও কৌশল। শুধু চীনের প্রতিনিধিই নয়, কমরেড লেনিনও তাঁর লেখায় এলাকাভিত্তিক ক্ষমতা দখলের কথা উল্লেখ করেছেন। সর্বোপরি রাশিয়ার শ্রমিকশ্রেণী তিন দিনের জন্য ক্রণষ্টাণ্ট  শহর দখল করে রেখে লেনিনের সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রমাণ রেখে গেছেন। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের যুগে এলাকাভিত্তিক ক্ষমতা দখলের সমস্ত উপাদানই আমাদের কাঠামোর মধ্যে বর্তমান। এটা যে সম্ভব নাগা বিদ্রোহ তার জ্বলন্ত প্রমাণ। এই এলাকাভিত্তিক ক্ষমতা দখলের প্রধান সর্ত হচ্ছে বিপ্লবী শক্তির হাতে অস্ত্র অস্ত্রহীনভাবে ক্ষমতা দখলের কথা চিন্তা করা স্বপ্ন বিলাসিতা ছাড়া আর কিছু নয়। আমাদের পার্টির সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাস আছে। উত্তরবঙ্গের বিশাল গ্রামাঞ্চলে কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্ব আমরা দিয়েছি। স্বভাবতই অতীত আন্দোলনের বিচার ও বিশ্লেষণ করে তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বর্তমান বিপ্লবী যুগে নতুন করে এগোতে হবে।

অতীত আন্দোলনের বাস্তব ঘটনা ও অভিজ্ঞতার বিশ্লেষণ

১৯৪৬-৪৭ সালের তেভাগা আন্দোলন

এই আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করা কৃষকের সংখ্যা ছিল ৬০ লক্ষ। মনে রাখতে হবে সশস্ত্র কৃষক আন্দোলনের এটা ছিল সুবর্ণ সুযোগ। আন্দোলনের বিশালতায়, আবেগের তীব্রতায়, শ্রেণীগত ঘৃণার প্রকাশ ভঙ্গীতে এই এই সংগ্রাম ছিল শ্রেণীসংগ্রামের চূড়ান্ত স্তর। সেই স্তরকে বোঝাবার জন্য সেই আন্দোলনের গুটিকয়েক মর্মস্পর্শী উদাহরণ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। একদিনের ঘটনা, আন্দোলনের স্বার্থে আমি তখন গোপনে আছি। বিপ্লবী আন্দোলনের জোয়ার আমি প্রত্যক্ষ দেখেছি। আমি দেখেছি যে,

[সশস্ত্র বিদ্রোহের প্রস্ততিতে অংশগ্রহণ করার লেনিনের নির্দেশানুযায়ী: মেনশেভিকদের বিপ্লব ও সশস্ত্র বিদ্রোহের শত্রুতার আসল চেহারা উদঘাটিত করতে গিয়ে ক্রণষ্টাণ্টের বলশেভিকরা শ্রমিকদের মধ্যে সশস্ত্র সংগ্রামী স্কোয়াডগুলি এবং নাবিক ও সৈনিকদের মধ্যে ইউনিট গঠন করেন। তাঁরা এলাকা ভিত্তিক ক্ষমতা দখলের লেনিনের তত্ত্বকে দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করেন। নভেম্বর ও অক্টোবর ১৯০৫-এর মধ্যে জনগণের বিপ্লবী সংগ্রাম তীব্র উৎসাহের সাথে বিকাশলাভ করতে থাকে। বহু শহরেই সৈনিকদের মধ্যে বিক্ষোভ বেড়ে যায়। ক্রণষ্টাণ্ট ও সেভৎসোপলের, কৃষ্ণ-উপসাগর (Black Sea) নৌবহরের নাবিকদের মধ্যে বিদ্রোহ ফেটে পড়ে (নভেম্বর, ১৯০৫)। কিন্তু এই সশস্ত্র বিদ্রোহে তাঁরা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে যান এবং জারের সরকার তাদের দমন করতে সমর্থ হয়।]

সামান্য একটা চিরকুটে ১০ মাইল দূরের লোককে পাগলের মত ছুটে আসতে। অপরদিকে স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে এও আমি দেখেছি যে, নব বিবাহিতা মুসলমান যুবতীর উপর শ্রেণীশত্রুর পৈশাচিক বর্বর অত্যাচার। আমি দেখেছি, সেই নিরস্ত্র স্বামীর কাতর-মিনতি, “কমরেড বদলা নিতে পারবি না?” পরমূহুর্তে দেখেছি শোষকের প্রতি শোষিতের তীব্র ঘৃণা। দেখেছি নির্বিকার চিত্তে জীবন্ত মানুষের ঘাড় মটকে মেরে ফেলার সেই ভয়াবহ দৃশ্য। কমরেড, উপরের দৃশ্যগুলো আমাদের কাছে কতকগুলো বিশ্লেষণ দাবী করে।

প্রথমত: কোন্ ঐতিহাসিক কারণ থাকার ফলে সেদিন সেই আন্দোলনের বিশাল রূপ ও শ্রেণীশত্রুর প্রতি তীব্র ঘৃণা সৃষ্টি করতে পেরেছিল?

দ্বিতীয়ত: কিইবা সেই কারণগুলো যা সেদিনকার সেই বিশাল আন্দোলনকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করেছিল?

প্রথমত: রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের আওয়াজই সেদিনকার সেই আন্দোলনের বিশাল রূপ ও শ্রেণীশত্রুর প্রতি তীব্র ঘৃণা সৃষ্টি করতে পেরেছিল। বিপরীত দিকে সেই আওয়াজই শ্রেণীশত্রুকে তার শ্রেণীগত ভূমিকায় দাঁড় করিয়েছিল। তারই প্রকাশ দেখি কৃষক যুবতীর উপর পাশবিক বলাৎকার ও আন্দোলনকে নিষ্পেষিত করার জন্য জানোয়ারের মত হিংসাত্মক কার্যকলাপের মাধ্যমে। অপরদিকে শ্রেণীশত্রুর বিরুদ্ধে আক্রমণ করতে কৃষকরাও পিছপা হয়নি। এখানে প্রশ্ন আসে তবুও কেন ক্ষমতা দখল হল না? হলো না একটি মাত্র কারণে; তা হচ্ছে সেদিনের সেই সংগ্রামী জনতা অস্ত্রের জন্য তাকিয়েছিলো কেন্দ্রের দিকে। লেনিন নির্দ্দেশিত পথের দিকে সেদিন আমরা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলাম। স্থানীয়ভাবে ক্ষমতা দখল করে-এলাকাভিত্তিক ক্ষমতা দখল করে বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়ে যাবার একমাত্র রাস্তা, লেনিনের সেই দৃপ্ত ঘোষণাকে মেনে নিতে আমরা সেদিন দ্বিধা বোধ করেছিলাম। ফলে অস্ত্রের সামনে নিরস্ত্র কৃষক রুখে দাঁড়াতে পারলো না। মৃত্যু দেখেও যারা লড়েছিল শেষ পর্যন্ত তারাও পিছিয়ে আসতে বাধ্য হল। সে দিনকার সেই ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে যে অস্ত্র সংগ্রহের দায়ীত্ব স্থানীয় সংগঠনের, কেন্দ্রের নয়। তাই এখন থেকেই তুলে ধরতে হবে অস্ত্র সংগ্রহের কথা প্রত্যেকটি সক্রিয় গ্রুপের সামনে। দা, ছুরি, লাঠি এসব হচ্ছে অস্ত্র। তাই দিয়েই সুযোগমত আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিতে হবে।

উপরের ঘটনাগুলো হলো তত্ত্বগত দিক দিয়ে শোধনবাদী চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ এবার সাংগঠনিক দিক দিয়ে এগুলোকে খুঁজে বার করতে হবে, যা সেদিনকার বিশাল বিশাল আন্দোলনগুলোর সঠিক নেতৃত্বের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পার্টির ভেতরকার সেই সমস্ত ভুল-ত্রুটিগুলোকে আজ চূর্ণ বিচূর্ণ করতে হবে। যাতে এগুলো পার্টিতে আর নতুন করে বাসা বাঁধতে না পারে।

ভুলগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে হলে পার্টিকে আজ সর্বপ্রথম গণসংগঠনের উপর তার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ দীর্ঘদিনের পার্টির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে ট্রেড ইউনিয়ন ও কৃষক সভার নেতাদের জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি ভাবায় শোধনবাদী চিন্তার ফলে পার্টি কতকগুলো ব্যক্তি বিশেষের পার্টি হিসাবে পরিণত হয়েছিল। এই চিন্তাধারার ফলেই পার্টির রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। সমস্ত আন্দোলনই দাবী-দাওয়ার আন্দোলনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। ফলে পার্টি সভ্যরা একটি জয়ে উৎসাহিত ও একটি পরাজয়ে নিরুৎসাহ হয়ে পড়েন।

দ্বিতীয়ত: এই গণসংগ্রামের গুরুত্বকে বেশী করে দেখার ফলে আর এক প্রকার এলাকাবাদের সৃষ্টি হয়। কমরেডরা ভাবেন তার এলাকা থেকে অন্য কমরেডকে সরিয়ে নিয়ে গেলে পার্টির গুরুতর ক্ষতি হবে। এবং এটাকে তাঁরা ব্যক্তিগত ক্ষতি হিসাবে চিন্তা করেন। এই এলাকাবাদ থেকে আর এক প্রকার সুবিধাবাদ জন্ম নেয়। কমরেডরা ভাবেন যে তার এলাকা সব চাইতে বেশী বিপ্লবী। স্বভাবতঃই এখানে এমন কিছু করা উচিত নয় যাতে পুলিশী হামলা হয়। এই দৃষ্টিকোণের ফলে তারা সমগ্র দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন না। ফলে হুকুমদারী মনোভাবের জন্ম হয়। ফলে যখন কোন সংগ্রামের আহ্বান আসে তখন তারা কোন ছোট কাজ করেন না বলে হঠকারিতা করে বসেন। প্রশ্ন আসে কিইবা সেই উপায়গুলো যার সাহায্যে এই সমস্ত বিচ্যুতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়? কিইবা সেই মার্কসবাদী নির্দ্দেশ যা বিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলার পক্ষে অবশ্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়?

প্রথমত: আগামী দিনের সংগঠনের সমস্ত কাজ পার্টির পরিপূরক হিসাবে করতে হবে। অর্থাৎ পার্টির একটা মুখ্য উদ্দেশ্য সাধনের একটা অংশ হিসাবে গণসংগঠনগুলোকে ব্যবহার করতে হবে। স্বভাবতই এর জন্য গণসংগঠনগুলোর উপর পার্টির নেতৃত্ব কায়েম করতে হবে।

দ্বিতীয়ত: এখন থেকেই পার্টির সমস্ত শক্তি ব্যয় করতে হবে নূতন নূতন কর্মী সংগ্রহের দিকে এবং তাদের দিয়ে সংযোজিত সষ্ক্রিয় গ্রুপ গড়ে তোলা দিকে। মনে রাখতে হবে আগামী সংগ্রামের যুগে বে-আইনী কাঠামোর (Set-Up) এর সাহায্যে জনসাধরণকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। তাই প্রতিটি পার্টি সভ্যকে এখন থেকেই বে-আইনী কাজে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। বে-আইনী কাজে অভ্যস্ত হতে গেলে বে-আইনী পোষ্টার মারা প্রতিটি সক্রিয় গ্রুপের অবশ্য কর্তব্য। একমাত্র এই প্রক্রিয়ার দ্বারাই এরা সংগ্রামের যুগে সংগ্রাম পরিচালনার খুঁটি হিসাবে কাজ করতে পারবে। অন্যথায় বিপ্লবটা মধ্যবিত্ত সুলভ স্বপ্ন বিলাসিতায় পরিণত হবে।

তৃতীয়ত: এই সক্রিয় সংগঠনের মাধ্যমেই পার্টি সংগঠনগুলোর উপর তার নেতৃত্ব কায়েম করতে পারবে। এই জন্য সক্রিয় গ্রুপের কর্মীদের, তাদের নেতাদের এবং তাদের কাজের সমালোচনা করার জন্য এখন থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে এবং নেতাদের কাজের সমালোচনা নির্ভীকভাবে করার জন্য এখন থেকে তাদেরকে আমাদের সাহায্য করতে হবে।

চতুর্থত: গণসংগঠনগুলোর কাজকর্ম, পার্টিতে আলোচিত ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হবার পর তবে তা গণসংগঠনগুলোতে কার্যকরী হবে। এখানে মনে রাখতে হবে যে গণসংগঠনগুলোর নীতি এতদিন ভুলভাবে পার্টিতে পরিচালিত হয়ে এসেছে। পার্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনাকে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতা বলে না। এই চিন্তাধারা মার্কসবাদ সম্মত নয়। এবং এই সমস্ত চিন্তাধারা থেকেই এই সিদ্ধান্তে আসতে হয় যে পার্টির কর্মসূচী নীচের থেকে গৃহীত হবে। কিন্তু নীচের থেকে গৃহীত হলে তা সঠিক মার্কসবাদী পদ্ধতিতে কার্য্যকরী করা সম্ভব নয়। এই সমস্ত কার্য্যাবলীর মধ্যে অনিবার্যভাবে বুর্জ্জোয়া বিচ্যুতি থাকে। গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার মার্কসবাদী সত্য হচ্ছে এই যে, পার্টির উর্দ্ধতন নেতার নির্দেশ অবশ্য পালনীয়। কারণ পার্টির উর্দ্ধতন নেতা তিনিই যিনি সুদীর্ঘকাল আন্দোলন ও তাত্ত্বিক বিতর্কের মাধ্যমে নিজেকে মার্কসবাদী হিসাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।

পার্টির সিদ্ধান্ত সমালোচনা করার অধিকার আমাদের আছে। কিন্তু একটা সিদ্ধান্ত গৃহীত হবার পর তা কার্য্যকরী না করে কেউ যদি তার সমালোচনা করেন অথবা কাজে বাধা দেন অথবা কার্য্যকরী করতে দ্বিধাবোধ করেন তবে তিনি পার্টির শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অপরাধে অপরাধী হবেন। পার্টি গণতন্ত্র সম্পর্কে এই বিতর্ক সভার ধারণা থাকার ফলে পার্টির মধ্যে গুপ্তচর বৃত্তির পথ উন্মুক্ত হয়। স্বভাবতই পার্টির নেতৃত্ব তখন দেউলিয়া হয়ে যায় এবং শ্রমিকশ্রেণী সঠিক নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে। পার্টির মধ্যে এই মধ্যেবিত্ত সুলভ চিন্তাধারা পার্টিকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যায়। এবং এটা হচ্ছে পার্টির মধ্যেকার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ। তাদের আয়াসী জীবন আর বিশৃঙ্খল সমালোচনার মনোভাব পার্টিকে নিছক বিতর্ক সভায় পরিণত করে। এই চিন্তাধারা সর্বহারা শ্রেণীর লৌহ কঠিন পার্টি গড়ে তোলার পক্ষে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

পঞ্চমত: মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিশৃঙ্খল জীবন তাকে বিশৃঙ্খল সমালোচনার পথে টেনে নিয়ে যায়। অর্থাৎ সাংগঠনিক চৌহদ্দির ভিতরে তারা সমালোচনা করতে চায় না। এই বিচ্যুতি থেকে উদ্ধার পেতে হলে সমালোচনা সম্বন্ধে মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গী সম্পর্কে আমাদের সতর্ক হতে হবে। মার্কসবাদী সমালোচনার বৈশিষ্ট্য হলো:

১। পার্টি সংগঠনের মধ্যে অর্থাৎ পার্টি মিটিংএ সমালোচনা করতে হবে।

২। সমালোচনার লক্ষ্য হবে-গঠনমূলক অর্থাৎ সমালোচনার লক্ষ্য নীতিগতভাবে ও সংগঠনগতভাবে পার্টিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সব সময়ে লক্ষ্য রাখতে হবে পার্টির মধ্যে যেন নীতিহীন ভাবে কোন সমালোচনা না হয়।

আসুন কমরেড, বর্তমান বৈপ্লবিক যুগে শোধনবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম করে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবকে আমরা শেষ করি।

ইনকিলাব-জিন্দাবাদ।

 


বাংলাদেশঃ ২রা জানুয়ারী, ২০১৭ ‘জাতীয় শহীদ দিবস’ এর কর্মসূচী

15380687_1369731403037731_910157016467952544_n


কলকাতাঃ মালকানগিরি ও ভূপালের গণহত্যা, বিহারে কৃষকের ফাঁসি রদের দাবীতে প্রতিবাদী গণঅবস্থান

15570919_10211579484828615_1261362466_n 15570960_10211579490628760_121006023_n 15645374_10211608727239657_1897959460_n