শুভ জন্মদিন – কমরেড মাও সে তুং, লাল সালাম!

2944f817dd27da03972b4326

Advertisements

চারু মজুমদারের সংগৃহীত রচনা সংকলন: ঐতিহাসিক আটটি দলিল (৪ নং দলিল)

500x350_0718bd934ac49f1e112b30cd4cfd4285_charu_Majumder

চারু মজুমদারের সংগৃহীত রচনা সংকলন: ঐতিহাসিক আটটি দলিল (৪ নং দলিল)

আধুনিক সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যান।

আঞ্চলিক ভিত্তিতে ক্ষমতা দখলের কৌশল নিয়ে আমাদের দৈনন্দিন শোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। কতকগুলি শোধনবাদী ধ্যান-ধারণা পার্টির মধ্যে দৃঢ়মূল হয়ে বসে আছে। সেগুলির বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। এখানে কতকগুলি প্রশ্নের আলোচনা আমরা করছি:

১। শোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সামনে আজ যে প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে সেটা হল সোভিয়েত নেতৃত্বের ভারতের প্রতিক্রিয়াশীল শাসকশ্রেণীকে পূর্ণ সমর্থন। তারা ঘোষণা করেছেন যে চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ভারতকে ৬০০ কোটি টাকা সাহায্য দেবেন। সোভিয়েত সাহায্য ভারতের স্বাধীনতাকে শক্তিশালী করছে এই ধারণা অত্যন্ত ভুল। কারণ এর পেছনে কোনো শ্রেণীবিচার নাই। এই সমর্থনের বিরুদ্ধে আমাদের বক্তব্য জনসাধারণের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরতে হবে। ভারতবর্ষে সাম্রাজ্যবাদ ও সামন্ততন্ত্রের সঙ্গে সহযোগিতার পথে চলছে যে সরকার, তাকে সাহায্য দিলে সেই প্রতিক্রিয়াশীল শ্রেণীই শক্তিশালী হয়। কাজেই সোভিয়েত সাহায্য দিলে সেই প্রতিক্রিয়াশীল শ্রেণীই শক্তিশালী হয় কাজেই সোভিয়েত সাহায্য ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করছে না, করছে মার্কিন নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ ও সোভিয়েত সহযোগিতার প্রতিক্রিয়াশীল শ্রেণীর শক্তি বৃদ্ধি। আধুনিক শোধনবাদের সোভিয়েত-মার্কিন সহযোগিতাই আমরা দেখতে পাচ্ছি ভারতবর্ষে, -ভবিষ্যৎ গণমুক্তি সংগ্রামের বিরুদ্ধে এক শয়তানি সমাবেশ। সোভিয়েত সাহায্যে যে বৃহৎ শিল্প গড়ে উঠছে রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্রে, ভারতবর্ষের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখি সেই শিল্পের উৎপাদনের উপর বৃহৎ একচেটিয়া মালিকদের কর্তৃত্ব রয়েছে। কাজেই রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্পের মাধ্যমে একচেটিয়া মালিকদের ক্ষমতাকে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না একচেটিয়া মালিকেরাই রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্পের উৎপাদনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। স্টিল ও পেট্টেলিয়াম এ দুটো ক্ষেত্রেই আমাদের অভিজ্ঞতা এক।

২। যে প্রশ্ন আজ আমাদের সামনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তা হলো বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদ। এই জাতীয়তাবাদ অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং এই সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদই আজ শাসকশ্রেণীর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। এই হাতিয়ার তারা যে শুধু চীনের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করছে তাই নয়, পাকিস্তান প্রভৃতি যে কোন প্রশ্নে ব্যবহার করছে। জাতীয় ঐক্য প্রভৃতি আওয়াজ তুলে এরা একচেটিয়া পুঁজির শোষণকে অব্যাহত রাখতে চায়। আমাদের মনে রাখতে হবে যে ভারতের ঐক্যবোধ জেগেছে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের ফলে। ভারত সরকার সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে আপোষ করে চলার ফলে সেই ঐক্যবোধের মূলে আঘাত করা হচ্ছে। বর্তমান শাসকশ্রেণীর ঐক্যের আওয়াজের মূলে একটিই লক্ষ্য এবং সেটা হল একচেটিয়া পুঁজির শোষণের জন্য ঐক্য। সুতরাং ঐ ঐক্যের আওয়াজ প্রতিক্রিয়াশীল, এবং মার্কসবাদীদের এই আওয়াজের বিরোধীতা করতে হবে। কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, শাসকশ্রেণীর এই আওয়াজ দেওয়া হয়েছে লুণ্ঠনের স্বার্থে। কোন মার্কসবাদীই এই আওয়াজকে সমর্থন করতে পারে না। প্রত্যেকটি জাতিসত্ত্বার আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকার করা মার্কসবাদীদের অবশ্য কর্তব্য। কাশ্মীর, নাগা প্রভৃতি প্রশ্নে মার্কসবাদীদের সমর্থন জানাতে হবে সংগ্রামীদের পক্ষে। ভারতের সাম্রাজ্যবাদ, সামন্ততন্ত্র ও বৃহৎ পুঁজিপতিদের এই সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই নূতন ঐক্যের চেতনা আসবে এবং বিপ্লবের স্বার্থেই তখন ভারতবর্ষ এক রাখার দরকার হবে। সে ঐক্যই হবে দৃঢ় ঐক্য। এই জাতিসত্ত্বার চেতনা থেকেই হিন্দী ভাষা চাপিয়ে দেবার বিরুদ্ধে সংগ্রাম হয়েছে দক্ষিণ ভারতে। এবং ৬০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এই ৬৫ সালেই। সুতরাং এই সংগ্রামের তাৎপর্যকে ছোট করে দেখলে শ্রমিকশ্রেণী ব্যাপক জনতার সংগ্রাম থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করবে। শ্রমিকশ্রেণীর স্বার্থেই এই সব জাতিসত্তার বিকাশের চেষ্টাকে সমর্থন করতে হবে।

৩। কৃষক আন্দোলনে শ্রেণী বিচার প্রতিষ্ঠা করা: কৃষক শ্রেণী বর্তমান বিপ্লবের স্তরে শ্রমিক শ্রেণীর মিত্র এবং এই কৃষক শ্রেণী ভারতের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সর্ববৃহৎ শক্তি। এবং এই কথা মনে রেখেই আমাদের কৃষক শ্রেণীর আন্দেলনে এগোতে হবে। কিন্তু কৃষকেরা সকলেই এক শ্রেণীতে পড়ে না। কৃষকের মধ্যে ধনী, মধ্য, দরিদ্র ও ভূমিহীন- প্রধানত: এই চারটি শ্রেণী আছে। এবং আছে গ্রামের কারিগর শ্রেণী। অবস্থা অনুযায়ী তাদের বিপ্লবী চেতনা ও কর্মশক্তির মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে, তাই মার্কসবাদীদের সর্বদাই চেষ্টা করতে হবে সমগ্র কৃষক আন্দোলনের ওপর দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। কৃষকের শ্রেণী বিচারের ক্ষেত্রে প্রায়ই যে ভুল হয়, সেটা হচ্ছে-জমির সত্বের ভিত্তিতে শ্রেণী বিচার, এটা মারাত্মক রকম ভুল, বিচার করতে হবে উপার্জনের ও জীবনধারণের মানের ভিত্তিতে। আমরা সমগ্র কৃষক আন্দোলনের ওপর দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকের নেতৃত্ব যতখানি প্রতিষ্ঠিত করতে পারব, কৃষক আন্দোলন ততখানি জঙ্গী রূপ নেবে। মনে রাখতে হবে, ব্যাপক কৃষক শ্রেণীর সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে যে কোনও সংগ্রামী কৌশলই গ্রহণ করা হোক, সেটা কোনমতেই হঠকারিতা হতে পারে না। মনে রাখতে হবে যে এতকাল আমরা অকৃষক শ্রেণীর সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে কৃষক আন্দোলনের সংকীর্ণতা খুঁজে বেড়িয়েছি এবং দমননীতি এলেই ধরে নিয়েছি যে সেখানে কিছু হঠকারিতা হয়েছে। মনে রাখতে হবে কৃষকের কোন মৌলিক দাবীর আন্দোলন শান্তিপূর্ণ পথে হবে না! কৃষক সংগঠনে শ্রেণী বিশ্লেষণ এবং দরিদ্র ভূমিহীন কৃষকের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হলে একথা স্পষ্ট ভাষায় কৃষক শ্রেণীকে জানিয়ে দিতে হবে যে এই প্রতিক্রিয়াশীল সরকারের কোন আইনের সাহায্যেই তাদের কোন মৌলিক সমস্যার সমাধান হতে পারে না। কিন্তু এ কথার অর্থ এই নয় যে আমরা কোন আইনগত আন্দোলনের সুযোগ নেব না বা আইনের সুবিধা নেব না বরং প্রকাশ্য কৃষক সমিতির কাজ প্রধানত: আইনগত সুবিধা আদায় ও আইনের পরিবর্তনের আন্দোলন চালানোই হবে। [তাই কৃষক জনসাধারণের মধ্যে পাটি গ্রুপ তৈয়ার করা ও কৃষিবিপ্লবে কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক ভিত্তিতে ক্ষমতা দখলের কর্মকৌশলকে ব্যাখ্যা করা অত্যন্ত জরুরী ও পার্টির প্রধান কাজ হবে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষক, কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হবে।]

৪। ১৯৫৯ সাল থেকে ভারতবর্ষের প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উপর সরকার ক্রমশই হিংস্র আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এই হিংস্র আক্রমণের বিরুদ্ধে আমরা কোন সক্রিয় প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেইনি। আমরা এই আক্রমণের সামনে নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধের আওয়াজ রেখেছি, যেমন খাদ্য আন্দোলনের পর শোক মিছিল প্রভৃতি। আমাদের মনে রাখতে হবে কমরেড মাও-সেতুঙের শিক্ষা-দমননীতির বিরুদ্ধে শুধুমাত্র নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ জনসাধারণের সংগ্রামী ঐক্যে ফাটল ধরায় এবং অনিবার্যভাবে আত্মসমর্পণের পথে নিয়ে যায়। কাজেই আজকের যুগে যে কোন গণ আন্দোলনের সময় সক্রিয় প্রতিরোধ আন্দোলন সংগঠিত করতে হবে। সক্রিয় প্রতিরোধের কার্যক্রম আজ যে কোনও গণ-আন্দোলনের সামনে অনিবার্য প্রয়োজন হিসাবে দেখা দিয়েছে। এই কার্যক্রম ছাড়া আজ যে কোন গণ-আন্দোলন সংগঠিত করার অর্থ হল জনসাধারণকে হতাশাগ্রস্ত করে তোলা। ১৯৫৯ সালের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধের ফলে ’৬০-৬১’ সালের কোলকাতায় খাদ্যের দাবীতে কোনও গণসমাবেশ করা সম্ভব হয়নি। এই সক্রিয় প্রতিরোধের সংগঠন জনসাধারণের মনে নূতন ভরসা জাগিয়ে তুলবে এবং সংগ্রামের জোয়ার আসবে। সক্রিয় প্রতিরোধ বলতে আমরা কি বুঝি?-প্রথমত: কর্মী সংরক্ষণ। এই কর্মী সংরক্ষণের জন্য দরকার উপযুক্ত শেল্টার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। দ্বিতীয়ত: সাধারণ মানুষকে প্রতিরোধের কলা কৌশল শেখানো, যেমন, গুলির সামনে শুয়ে পড়া বা কোনও শক্ত আড়ালের সাহায্য-নেওয়া, ব্যারিকেড রচনা করা ইত্যাদি। তৃতীয়ত: সক্রিয় কর্মী দলের সাহায্যে প্রত্যেকটি আক্রমণের বদলা নেওয়ার চেষ্টা করা-যাকে কমরেড মাও সে তুঙ বলেছেন-‘Tit for tat struggle’ [পাল্টা মারের লড়াই]। প্রথম দিকে ওদের আক্রমণের তুলনায় আমরা কমই বদলা নিতে পারব। কিন্তু একটা ক্ষেত্রে সামান্য সাফল্য লাভ করতে পারলেই জনগণের মধ্যে হতাশা কেটে যাবে। আমাদের প্রত্যেকটি সাফল্য জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রচার করতে হবে। স্থানীয়ভাবে কিছু কিছু প্রতিরোধ এর আগেও হয়েছে, কিন্তু পার্টি তার নেতৃত্ব দেয়নি। জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে নূতন উৎসাহ সঞ্চার করার চেষ্টা করেনি। এই সক্রিয় প্রতিরোধ সংগ্রাম শহরে ও গ্রামাঞ্চলে সব জায়গাতেই সম্ভব। আমেরিকার নিগ্রো প্রতিরোধ আন্দোলনে এই সত্য পরীক্ষিত হয়েছে।

৬। Underground [গোপন] সংগঠন সম্বন্ধে পার্টির মধ্যে কোনও সুস্পষ্ট ধারণা নেই। কয়েকজন নেতা টহফবৎমৎড়ঁহফ গোপন থাকলেই গোপন সংগঠন গড়ে উঠে না। বরং সেই নেতারাই Party rank [সাধারণ] থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার বিপদের সম্মুখীন হন। পার্টি নেতারা Underground এ (গোপন হয়ে) গিয়ে প্রকাশ্য গণ-সংগঠনের নেতা হিসাবে কাজ করতে গেলে অনিবার্যভাবে ধরা পড়বেন। কাজেই Underground (গোপন) নেতৃত্বকে গোপনে সংগঠন গড়ার কাজে এগিয়ে যেতে হবে। এই গোপন সংগঠন গড়ার কাজ যে শুধুমাত্র Underground (গোপন) নেতাদের কাজ তা নয়, প্রত্যেকটি পার্টি সভ্যকে গোপন সংগঠনের কাজ করতে শিখতে হবে। নূতন নূতন পার্টি কর্মী তৈরী করতে হবে এবং সেই সব নূতন পার্টি কর্মীর সাহায্যে পার্টির সঙ্গে জনসাধারণের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। তবেই Underground (গোপন) নেতারা নেতা হিসাবে কাজ করতে পারবেন। কাজেই এ যুগে পার্টির সামনে প্রধান আওয়াজ হলো-প্রত্যেকটি পার্টি সভ্যকে একটি করে Party activist group [সক্রিয় পার্টি কর্মীদল] তৈরী করতে হবে। এই activist [সক্রিয় কর্মী] দের বিপ্লবী রাজনীতি দিয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। Party activist group [সক্রিয় কর্মীদল] তৈরীর কাজ সমস্ত ফ্রণ্টের সমস্ত পার্টি সভ্যদের প্রধান কাজ হবে। activist [সক্রিয় কর্মী] দের কত দ্রুত আমরা পার্টি সভ্যে উন্নত করতে পারছি তা নির্ভর করবে এই activist [সক্রিয় কর্মীরা] আরও কতকগুলি নতুন activist [সক্রিয় কর্মী] সংগ্রহ করতে পারলেন তার উপর। তাহলেই আমরা ব্যাপক সংখ্যক পুলিশের অজ্ঞাতে পার্টির ক্যাডার পাব এবং Underground [গোপন] নেতাদের পার্টি র‌্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার সমস্ত অসুবিধা দূর হবে।

আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক, সাংগঠনিক, গণসংগঠন প্রভৃতি বিষয়ে কতকগুলি শোধনবাদী চিন্তাধারা এখানে তুলে ধরা হলো। পার্টি সভ্যদের আজ নতুন করে বিচার করতে হবে প্রত্যেকটি গণআন্দোলনকে আমাদের চলার ধরনে, আমাদের সাংগঠনিক চিন্তায়। অর্থাৎ আমাদের জীবনের প্রায় সর্বক্ষেত্রেই শোধনবাদ বাসা বেঁধে বসে আছে, তাকে যতক্ষণ আমরা উৎখাত করতে না পারব ততক্ষণ নতুন বিপ্লবী পার্টি গড়ে উঠবে না, ভারতবর্ষের বিপ্লবী সম্ভাবনা ব্যহত হবে, ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।