ছাত্রনেতা উমর খালিদ এর খোলা চিঠিঃ টিভি চ্যানেলগুলো ‘বিনা বিচারে গণধোলাই’ দিয়ে যাচ্ছে

umarkhalid-800x445

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সম্প্রতি ছাত্র রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে যাকে ঘিরে, সেই বিতর্কিত ছাত্রনেতা উমর খালিদ দেশের টিভি চ্যানেলগুলোকে লেখা এক খোলা চিঠিতে অভিযোগ করেছেন তারা যেন রোজ স্টুডিওতে তাকে ‘বিনা বিচারে গণধোলাই’ দিয়ে যাচ্ছে।

গত এক বছর ধরে দেশের নানা টিভি চ্যানেল তার বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ ছাড়াই লাগাতার উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে চলেছে, আর তার জেরে তাকে ক্রমাগত মেরে ফেলার হুমকি ও শাসানিও শুনতে হচ্ছে বলে উমর খালিদ জানিয়েছেন।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির বিশ্ববিদ্যালয় জেএনইউ-তে দেশবিরোধী বক্তৃতা দেওয়ার অভিযোগে উমর খালিদকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, কিন্তু এখনও পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনও চার্জশিট জমা দিতে পারেনি।

শনিবার দিল্লিতে ভারতের পার্লামেন্টের ঠিক সামনে সংসদ মার্গের ছাত্র বিক্ষোভে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন ছাত্র-নেতা উমর খালিদ।

গত মাসে দিল্লির রামযশ কলেজে তাকে একটি সেমিনারে আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে যে বিতর্কের শুরু, তার জেরে এখনও উত্তপ্ত হয়ে আছে দিল্লির ক্যাম্পাস রাজনীতি। চলছে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ-সমাবেশ।

এমনই এক সভায় উমর খালিদ অভিযোগ এনেছেন, দেশের বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেল ঠিক এক বছর আগের পুরনো চিত্রনাট্য টেনে বের করে আবার ‘দেশদ্রোহ বনাম দেশভক্তির নাটক’ পেশ করে যাচ্ছে, আর তাতে তাকে দেশবিরোধিতার জন্য সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ না-দিয়েই।

রবিবার বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে পাঠানো এক খোলা চিঠিতে এই একই কথা লিখেছেন তিনি। আর বলেছেন তাদের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণেই তাকে রোজ মেরে ফেলার হুমকি পেতে হচ্ছে, এমন কি পরিবারের সদস্যরাও বাদ যাচ্ছেন না।

উমর খালিদের কথায়, “শাসকদের রাষ্ট্রবাদের সংজ্ঞার সঙ্গে আপনার বক্তব্য না-মিললেই আপনার বিরুদ্ধে গুণ্ডামি শুরু হয়ে যাবে। আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি মিডিয়ার একটা অংশও এই অপচেষ্টায় হাত মিলিয়েছে।”

“টিভিতে রোজ যা দেখানো হচ্ছে তাতে আমার মা ভয় পেয়ে যাচ্ছেন আবার কবে আমাকে গ্রেফতার করা হবে। আমার বোনকে পর্যন্ত ধর্ষণের হুমকি পেতে হচ্ছে – আর এর সবই হল আমাদের চুপ করানোর চেষ্টা।”

বস্তুত গত বেশ কয়েকমাস ধরেই ভারতের বিভিন্ন চ্যানেলে উমর খালিদকে তুলে ধরা হয়েছে এমন এক খলনায়ক হিসেবে যে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিষিয়ে তুলেছেন।

তবে এই সব অভিযোগের স্বপক্ষে মিডিয়া কোনও প্রমাণ পেশ করতে পারেনি, এমন কী বছর ঘুরে গেলেও দিল্লি পুলিশ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে উমরের বিরুদ্ধে চার্জশিট আনতে।

কিন্তু তার পরেও কেন উমর খালিদ আক্রমণের নিশানা?

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নির্মলাংশু মুখার্জির মতে কারণ সে কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী বা মাওবাদী বিদ্রোহীদের প্রতি সহানুভূতিশীল – এবং উমর খালিদ মুসলিম।

তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, “জেএনইউ-র অত্যন্ত মেধাবী ও প্রগতিশীল ছাত্র উমর খালিদ, যে কাশ্মীরী আফজাল গুরুর ফাঁসির প্রতিবাদে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল। তখন থেকেই কাশ্মীরের আন্দোলনের সঙ্গে তার নামটা সমার্থক হয়ে গেছে।”

“তা ছাড়া সে গবেষণা করে মাওবাদী অধ্যুষিত বস্তারে রাষ্ট্রের নির্যাতন নিয়ে। কাজেই যেখানে রাষ্ট্রীয় আধিপত্যবাদ, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটা মুখ হয়ে উঠেছে সে। তার উপর তার নামটা মুসলিম, ফলে সঙ্ঘ পরিবারের জন্যও সে পছন্দের নিশানা”, বলছিলেন অধ্যাপক মুখার্জি।

হিন্দুত্ববাদী বিজেপির ছাত্র শাখা এবিভিপি-র নেতা সতীন্দর আওয়ানা বলেন, উমরের মতো দেশদ্রোহীকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকাও যেমন ঠিক হয়নি – তেমনি তার আসাও ঠিক হয়নি।

সতীন্দর আওয়ানার সাফ কথা, “ও না-এলে তো এতসব গণ্ডগোলই হয় না। মতপ্রকাশের অধিকারের কথা বলে দেশের নামে একজন গালিগালাজ করে যাবে, আমরা কি বসে বসে শুনব না কি? এমন লোককে আমরা ক্যাম্পাসে ঢুকতেই দেব না, এটা আমাদের শেষ কথা।”

এবিভিপি-র এ ধরনের বক্তব্যে এখন দেশের গণমাধ্যমের একটা বড় অংশও সুর মেলাচ্ছে, উমর খালিদের চিঠির মূল অভিযোগটা সেখানেই।

তবে দেশের কোনও বড় চ্যানেলের পক্ষ থেকেই এখনও কোনও জবাব পাননি ২৯ বছরের এই যুবক, যিনি নিজেকে শুধু ‘একজন কমিউনিস্ট’ বলে পরিচয় দিতেই ভালবাসেন।

সূত্রঃ

https://scroll.in/article/830786/many-tv-studios-are-again-playing-the-role-of-a-lynch-mob-umar-khalids-open-letter-to-the-media

http://www.bbc.com/bengali/news-39172857

 


তুরস্কে ধর্ষক ধর্ষিতাকে বিয়ে করলে অপরাধ মাফ হয়ে যাবে

b9f252c5-3554-45e3-8da7-b56786b85049

গত নভেম্বর মাস থেকে তুরস্কে ধর্ষক ধর্ষিতাকে বিয়ে করলে ধর্ষকের অপরাধ মাফ হয়ে যাবে বলে আইন পাশ করার চেষ্টা চালাচ্ছে তুরস্ক সরকার।

তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশ। এই আইন পাশ হলে তুরস্কের সমাজে ধর্ষণের প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তুরস্কে ধর্ষণের হার আমাদের দেশের তুলনায় অনেক বেশি। তাদের জেলখানাতেই ৩ হাজার ধর্ষক আসামি রয়েছে। এরা প্রত্যেকেই দাগি আসামি। এর বাইরে যে কত ধর্ষক রয়েছে তার হিসেব নেই।

এই আইন নিজেই পুরুষতান্ত্রিক নারী বিরোধী একটি আইন। একজন ধর্ষক ধর্ষিতার নিকট, সমাজে, রাষ্ট্রে অপরাধী, নিপীড়ক। এই অপরাধীর সাথে একটি মেয়েকে বিয়ে দিতে চাওয়াটাই তুরস্ক রাষ্ট্র এবং সরকারের অপরাধ, অন্যায়।

তুরস্ক ইসলামি একটি দেশ। সেখানে বহু বিবাহের প্রচলন রয়েছে। তাদের ধর্মীয় মতানুসারে একজন পুরুষ ডজন খানেক বিয়ে করতে পারে এবং একইসাথে ৪ জন স্ত্রী রাখার বিধান রয়েছে। ধর্ষকেরা আইনের মাধ্যমে উল্লিখিত ধর্ষণের বৈধতা পেয়ে যাবে। সমাজে ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়ে যাবে। কারণ ধর্ষণের পর ধর্ষিতাকে বিয়ে করলেই অপরাধ মাফ হয়ে যাবে।

তুরস্কের সরকার ও রাষ্ট্র যে নারী বিরোধী এবং পুরুষতান্ত্রিক তার আরো একটি প্রমাণ মেলে এই আইন পাশ করার যে পায়তারা করছে তার মাধ্যমেও।

আমাদের দেশে হাসিনা সরকার মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ করে তার আগেও বিয়ে হতে পারে- এভাবে আইন পাশ করতে যাচ্ছে। হাসিনা তার এক ভাষণে এই আইনের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে বলেই ফেলেছে ১৮ বছরের আগে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ করলে তার মঙ্গলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে। হাসিনা যা বুঝাতে চেয়েছে তাহলো ১৮ বছর বয়সের আগে ধর্ষিত হলে ধর্ষকের সাথে বিয়ে দেয়া যাবে ইত্যাদি।

হাসিনা সরকার কার্যত তুরস্কের মতো আবস্থান নিয়েছে। এর মূল কারণ তুরস্ক এবং বাংলাদেশের শাসক শ্রেণির দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম, নারীর বিরুদ্ধে- পুরুষতান্ত্রিক।

বিয়ের বয়স ১৮-এর নিচে করার বিরুদ্ধে আমাদের দেশের প্রগতিশীল নারী ও সংগঠন প্রতিবাদ করছেন। তুরস্কের প্রতিক্রিয়াশীল আইন পাশের বিরুদ্ধেও তুরস্কের প্রগতিশীল নারীসহ সকল স্তরের জনগণকে আন্দোলন করতে হবে। এবং এই আন্দোলনকে নারীমুক্তির শত্রু সাম্রাজ্যবাদ-আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ এবং সামন্ততন্ত্রের বিরুদ্ধে কেন্দ্রিভূত করতে হবে। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে তুরস্কের মাওবাদী কমিউনিস্ট বিপ্লবীরা। যার চূড়ান্ত লক্ষ্য সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা। শুধুমাত্র এই সমাজ ব্যবস্থাই পারে তুরস্কের ধর্ষিত, নিপীড়িত, অবহেলিত নারীদেরকে মধ্যযুগীয় ধর্মান্ধতা থেকে সার্বিক মুক্তি দিতে।

ডিসেম্বর/’১৬

সূত্রঃ নারী মুক্তি, মার্চ ২০১৭ সংখ্যা


নারী মুক্তি, মার্চ ২০১৭ সংখ্যা প্রকাশিত

%e0%a7%a7

2


পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা) সদস্য গ্রেফতার

04-5509993-17

রাজবাড়ীতে বিদেশি অস্ত্র-গুলিসহ বশির উদ্দিন নামে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা) সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব-৮)। শনিবার (০৪ মার্চ) ভোররাতে জেলা সদরের পাঁচুরিয়া বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। বশির জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের নবগ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আজিজুল হক।
র‌্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্পের দুই নং কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রইছ উদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোররাতে পাঁচুরিয়া বাজার থেকে বশিরকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যগজিন, একটি ওয়ান শুটারগান ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। বশির একজন অবৈধ অস্ত্রধারী এবং পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা) বাপ্পী বাহিনীর অন্যতম সদস্য। তার বিরুদ্ধে রাজবাড়ী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সূত্রঃ https://rajbaribarta.com/5159