তুরস্কে ধর্ষক ধর্ষিতাকে বিয়ে করলে অপরাধ মাফ হয়ে যাবে

b9f252c5-3554-45e3-8da7-b56786b85049

গত নভেম্বর মাস থেকে তুরস্কে ধর্ষক ধর্ষিতাকে বিয়ে করলে ধর্ষকের অপরাধ মাফ হয়ে যাবে বলে আইন পাশ করার চেষ্টা চালাচ্ছে তুরস্ক সরকার।

তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশ। এই আইন পাশ হলে তুরস্কের সমাজে ধর্ষণের প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তুরস্কে ধর্ষণের হার আমাদের দেশের তুলনায় অনেক বেশি। তাদের জেলখানাতেই ৩ হাজার ধর্ষক আসামি রয়েছে। এরা প্রত্যেকেই দাগি আসামি। এর বাইরে যে কত ধর্ষক রয়েছে তার হিসেব নেই।

এই আইন নিজেই পুরুষতান্ত্রিক নারী বিরোধী একটি আইন। একজন ধর্ষক ধর্ষিতার নিকট, সমাজে, রাষ্ট্রে অপরাধী, নিপীড়ক। এই অপরাধীর সাথে একটি মেয়েকে বিয়ে দিতে চাওয়াটাই তুরস্ক রাষ্ট্র এবং সরকারের অপরাধ, অন্যায়।

তুরস্ক ইসলামি একটি দেশ। সেখানে বহু বিবাহের প্রচলন রয়েছে। তাদের ধর্মীয় মতানুসারে একজন পুরুষ ডজন খানেক বিয়ে করতে পারে এবং একইসাথে ৪ জন স্ত্রী রাখার বিধান রয়েছে। ধর্ষকেরা আইনের মাধ্যমে উল্লিখিত ধর্ষণের বৈধতা পেয়ে যাবে। সমাজে ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়ে যাবে। কারণ ধর্ষণের পর ধর্ষিতাকে বিয়ে করলেই অপরাধ মাফ হয়ে যাবে।

তুরস্কের সরকার ও রাষ্ট্র যে নারী বিরোধী এবং পুরুষতান্ত্রিক তার আরো একটি প্রমাণ মেলে এই আইন পাশ করার যে পায়তারা করছে তার মাধ্যমেও।

আমাদের দেশে হাসিনা সরকার মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ করে তার আগেও বিয়ে হতে পারে- এভাবে আইন পাশ করতে যাচ্ছে। হাসিনা তার এক ভাষণে এই আইনের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে বলেই ফেলেছে ১৮ বছরের আগে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ করলে তার মঙ্গলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে। হাসিনা যা বুঝাতে চেয়েছে তাহলো ১৮ বছর বয়সের আগে ধর্ষিত হলে ধর্ষকের সাথে বিয়ে দেয়া যাবে ইত্যাদি।

হাসিনা সরকার কার্যত তুরস্কের মতো আবস্থান নিয়েছে। এর মূল কারণ তুরস্ক এবং বাংলাদেশের শাসক শ্রেণির দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম, নারীর বিরুদ্ধে- পুরুষতান্ত্রিক।

বিয়ের বয়স ১৮-এর নিচে করার বিরুদ্ধে আমাদের দেশের প্রগতিশীল নারী ও সংগঠন প্রতিবাদ করছেন। তুরস্কের প্রতিক্রিয়াশীল আইন পাশের বিরুদ্ধেও তুরস্কের প্রগতিশীল নারীসহ সকল স্তরের জনগণকে আন্দোলন করতে হবে। এবং এই আন্দোলনকে নারীমুক্তির শত্রু সাম্রাজ্যবাদ-আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ এবং সামন্ততন্ত্রের বিরুদ্ধে কেন্দ্রিভূত করতে হবে। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে তুরস্কের মাওবাদী কমিউনিস্ট বিপ্লবীরা। যার চূড়ান্ত লক্ষ্য সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা। শুধুমাত্র এই সমাজ ব্যবস্থাই পারে তুরস্কের ধর্ষিত, নিপীড়িত, অবহেলিত নারীদেরকে মধ্যযুগীয় ধর্মান্ধতা থেকে সার্বিক মুক্তি দিতে।

ডিসেম্বর/’১৬

সূত্রঃ নারী মুক্তি, মার্চ ২০১৭ সংখ্যা

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s