সম্প্রতি কলকাতায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের গুজব সম্পর্কে USDF-র বিবৃতি

গত ১.৪.২০০১৭ তারিখ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীদের সাথে হিন্দুত্ব-ফ্যাসিবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিন্দুত্ববাদীদের তরফ থেকে মিথ্যে গুজব প্রচার করা হয় যে বামপন্থী ছাত্ররা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু প্রতিনিধিদের শারীরিক আক্রমণ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। আমরা জানাতে চাই যে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আক্রান্ত এমন একজন বাংলাদেশী কেও কি দেখাতে পারবে আরএসএস? আমাদের বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ নেই, বরং আমরা তাদের অবস্থা সম্পর্কে উদ্বিগ্ন। যেমন আমরা উদ্বিগ্ন ভারতের সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান, মুসলমান, বৌদ্ধ, শিখদের নিয়ে বা মায়ানমারের রোহিঙ্গা বা শ্রীলংকার তামিলদের নিয়ে। গত এক তারিখ বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বিষয়ে সেমিনারে বক্তব্য রাখতে আসেন পশ্চিমবঙ্গের আরএসএস-এর কয়েকজন কুখ্যাত দাঙ্গাবাজ নেতা। সেই সেমিনার এর বাইরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউএসডিএফ কর্মী কমরেড দেবপ্রিয় ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নিধনকারী আরএসএস নেতাদের বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের দুর্দশা নিয়ে কুমিরের কান্না কাঁদার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পোষ্টার লাগায়। আরএসএস এর কর্মীরা সেই পোষ্টার ছিড়ে দেয়। দেবপ্রিয় এর প্রতিবাদ করলে কম বেশী ৩০ জনের একটি দল দেবপ্রিয়কে মাটিতে ফেলে লাথি মারতে শুরু করে। দেবপ্রিয় কে বাঁচাতে অন্যান্য ছাত্র ছাত্রীরা ছুটে আসলে সেই সময় একজন আইসা কর্মী ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার শিকার হতে হয়। দেবপ্রিয় সহ গুরুতর আহত হয় আরো কয়েকজন। এর পর ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীদের দেখে পালাতে বাধ্য হয় আরএসএস বাহিনী। কখনই বাংলাদেশের কোনো সংখ্যা লঘু প্রতিনিধির উপর আক্রমণ করা’ হয়নি। দক্ষিণ এশিয়া সহ পৃথিবীর বিভিন্নদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত। কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট ধর্মের সাম্প্রদায়িকতা প্রধান বিপদ হয়ে দাঁড়ায়। আর তার বিরুদ্ধেই রাখতে হয় প্রতিবাদের বর্শা মুখ। যেমন মায়ানমারে রোহিঙ্গা নিধন যজ্ঞের জন্য ভারতে বৌদ্ধ সাম্প্রদায়িকতা বা গুজরাত গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের মাটিতে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতাকে প্রধান শত্রু ঠাউরে গলা ফাটাবার কোনো মানে হয়না। মায়ানমারের ক্ষেত্রে বৌদ্ধ, ভারতের ক্ষেত্রে হিন্দু আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মুসলমান সাম্প্রদায়িকতাই প্রধান সমস্যা। তাই বিভিন্ন দেশের বামপন্থী প্রগতিশীল মানুষদের দেখা যায় যে তারা নিজের দেশের সংখ্যালঘু মানুষের পক্ষে আর সংখ্যা গুরুর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। অন্য দিকে সেই সব দেশের সাম্প্রদায়িকরা বামপন্থী প্রগতিশীল মানুষদের ঐ দেশের সংখ্যালঘুর প্রতি পক্ষপাত দুষ্ট বলে অভিযোগ করে। বাস্তবিকই অসম সমাজে নিরপেক্ষতা এক প্রকার ভন্ডামি ছাড়া কিছুই নয়।ভারতে এবং বাংলাদেশের হিন্দু ও মুসলমান সাম্প্রদায়িকরা প্রতিবেশী দেশের সংখ্যালঘু নিপীড়ন কে অজুহাত করে নিজের দেশের সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বাতাবরন তৈরি করে জনগণ মুলত শ্রমজীবী জনগণের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে। আদতে দুই দেশের দুই ধর্মের সাম্প্রদায়িক শক্তি একে অন্যকে “বৈধতা” প্রতিষ্ঠাতে সাহায্য করে। এবং আমরা জানি এরা সাম্রাজ্যবাদীদের চামচা ছাড়া কিছুই নয়। তাই সংখ্যালঘু সমস্যার সমাধান করতে হলে এই সব ধর্ম ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদদের বিচ্ছিন্ন করা একান্ত জরুরি কর্তব্য।

সৌম্য মণ্ডল,
সাধারণ সম্পাদক,
ইউনাইটেড স্টুডেন্টস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট
পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য কমিটি

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s