মানুষের মতো মানুষ – বরিস পলেভয়

1

 

বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে নীচে ক্লিক করুন –

মানুষের মতো মানুষ – বরিস পলেভয়


নকশালবাড়ি আন্দোলনে সৃষ্ট সাহিত্য সম্পর্কে

 

নকশালবাড়ির বিপ্লবী কৃষক আন্দোলন সংশোধনবাদী রাজনীতির সাথে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে সারা ভারতে যেমন বিপ্লবী আলোড়ন তুলেছে, তেমনি সর্বহারা শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির জগতকেও লাল আলোয় উদ্ভাসিত করেছে। শিল্প-সাহিত্যেও বিপ্লবী জোয়ার এনেছে। এ আন্দোলন অনেক গল্প, উপন্যাস, নাটক, কবিতা ও গান সৃষ্টি করেছে। তবে নকশালবাড়ির কৃষক আন্দোলনের মতই শিল্প-সাহিত্য সৃষ্টির পথও কন্টকাকীর্ণ ও রক্তাক্ত ছিল। রাষ্ট্রীয় শ্বেত-সন্ত্রাসের খড়গ লেখক-সাহিত্যিকদের উপরও নেমে আসে। হত্যা-গ্রেপ্তার-নির্যাতন, কারাবরণ কিছুই বাদ যায়নি তাদের ক্ষেত্রেও। কারণ জনগণের ক্ষমতার লড়াইয়ে লেখক-সাহিত্যিকদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছিল। শ্রমিক-কৃষক-নিপীড়িত জনগণের বিপ্লবী সংগ্রাম যে বিপ্লবী সাহিত্য নির্মাণ করে নকশালবাড়ির সংগ্রাম তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নকশাল আন্দোলনে সৃষ্ট কবিতগুলোতে উঠে এসেছে সরাসরি কৃষকদের জীবন ও সংগ্রামের কথা, মতবাদ ও রাজনৈতিক আহ্বান। প্রতিক্রিয়াশীল-সংশোধনবাদী ভোটবাজ রাজনীতি বর্জনের ডাক, রক্তাক্ত সংগ্রামের আহ্বান। সামন্তবাদী শোষণের উম্মোচন, রাষ্ট্রীয় শ্বেত-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লাল সন্ত্রাসের ন্যায্যতা। গল্প-উপন্যাস-নাটকে উঠে এসেছে ছাত্র-তরুণ-তরুণী, কৃষক, নারী, আদিবাসীদের দুঃসাহসী হয়ে উঠার কাহিনী। উঠে আসে সাঁওতাল মেয়ের নির্ভীক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর এবং সমাজের রীতি ভাঙ্গার দুঃসাহস। রাষ্ট্রীয় শ্বেত-সন্ত্রাস এবং কৃষক-আদিবাসী জনতাকে বিপ্লবী চেতনায় জাগ্রতকরণ।

নকশালবাড়ি আন্দোলনে ব্যাপক সংখ্যায় ন্যায়নিষ্ঠ ছাত্র-যুবকরা এসেছিল। পার্টির ‘গ্রামে চলো’ ডাকে ঘর ছেড়ে তারা ভূমিহীন ও গরীব কৃষকদের সঙ্ঘবদ্ধ করতে গ্রামে যায় এবং শহরে যায় মজুরের মধ্যে। স্বর্ণমিত্র লিখলেন ‘গ্রামে চলো’ উপন্যাস। ‘গ্রামে চলো’ উপন্যাসে দেখা যায় উচ্চ শিক্ষিত শহুরে ছাত্র-তরুণদের অংশগ্রহণে মধ্যবিত্ত জীবনের মোহ ত্যাগ করে গ্রামের কষ্টকর সংগ্রামে তাদের জীবন-মরণ সংগ্রাম। নকশালবাড়ির সাহিত্য সম্পর্কে ভারতীয় বিপ্লবী সাহিত্যিক-কবি কাঞ্চন কুমার লিখেছেন “নকশালবাড়ির রাজনৈতিক উত্তাপ জোয়ারের মতো অগুণতি নতুন কবিদের সামনে নিয়ে এল। এই নতুন প্রজন্মের অগ্রগামী কবি ছিলেন দ্রোণাচার্য ঘোষ……এই কবি এবং গেরিলা কমান্ডারকে শাসকশ্রেণি জেলে নির্মমভাবে হত্যা করে। আজ বাংলার কোনো কবিতা সংকলন দ্রোণাচার্যের কবিতা ছাড়া অপূর্ণ থেকে যাবে”। নকশালবাড়ির অভ্যুত্থান শুরু হতেই নাট্যকার উৎপল দত্ত নকশালবাড়ি যান; সরেজমিনে কৃষকদের এবং স্বয়ং চারু মজুমদারের সাথে আলাপচারিতার ভিত্তিতে লেখেন ‘তীর’ নাটক। যা বাংলা নাটকে নকশালবাড়ির আন্দোলনের তত্ত্বকে শৈল্পিক রূপ দিয়ে দর্শকদের আলোড়িত করেছিলো।

 ১৯৬৭ সালে নকশালপন্থীদের মুখপত্র ‘দেশব্রতী’র শারদীয় সংখ্যায় অনল রায়ের ‘রক্তের রং’ ছাপা হয়-  নকশালবাড়ি আন্দোলনের উপর এটি মুদ্রিত প্রথম নাটক। নকশালবাড়ির আন্দোলনের জোয়ারে যেখানে যেখানে সংগ্রাম হয়েছিল সেখানে সেখানেই বিপ্লবী সাহিত্য লেখা হয়েছে। বিপ্লবী লেখক সরোজ দত্ত তার লেখা প্রবন্ধগুলোতে সাহিত্য সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বকে তুলে ধরেছেন। নকশালবাড়ীর আন্দোলনে সৃষ্ট শিল্প-সাহিত্যের সমগ্র বিবরণ আমাদের এই ছোট্ট পরিসরে দেওয়া সম্ভব নয়। এমন অসংখ্য শিল্প সাহিত্য সৃষ্টির রূপকার কবি সাহিত্যিকদের সংগ্রাম ও সাহিত্যের তথ্য পাওয়া যাবে বিপ্লবী কবি ও সাহিত্যিক কাঞ্চন কুমারের “নকশালবাড়ী ও সাহিত্য”সহ ভারতীয় বিপ্লবীদের বিভিন্ন প্রকাশনায়।

কবিদের মধ্যে দ্রোনাচার্য ঘোষ, তিমির বরণ সিংহ, অমিয় চট্টোপাধ্যায়, মুরারি মুখোপাধ্যায়, সৃজন সেন, চেরাবন্ডা রাজু, ওয়র ওয়র রাও, সুব্বারও পানিগ্রাহী সহ আরও অনেকে। এদের অনেকেই শহীদের মৃত্যুবরণ করেছেন। সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘জননাট্য মন্ডলী’ নকশালবাড়ি শহীদ কমরেডগণের রক্ত বহন করছে। নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব গড়ে তোলার লক্ষে কাজ করছে। নকশালবাড়ী আন্দোলনে সৃষ্ট উপন্যাস, গণসংগীত ও সিনেমা রয়েছে বেশ কিছু।

আমাদের দেশে বিপ্লবাকাঙ্খী সাহিত্যিকগণ আন্দোলন থেকে দূরে বা বিচ্ছিন্ন থেকে সাহিত্য নির্মাণের চেষ্টা করেন যা বিপ্লবী হয় না, হয় কল্পনাশ্রয়ী সাহিত্য। তারা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ অংশগ্রহণ, দৃঢ় সমর্থন ও নতুন সমাজ নির্মাণে তাদের ভূমিকাকে এড়িয়ে চলেন। এবং বলেন যে, বিপ্লবী আন্দোলন গড়া পার্টির কাজ, সাহিত্যিকদের নয়। এ ধরনের বক্তব্যে তারা নিজেদের দায় সারা করেন। যে জিনিসটা তারা বুঝেন না অথবা বুঝেও সুবিধাবাদী অবস্থান নেন সেটা হল বিপ্লবী সাহিত্য নির্মাণের জন্য প্রয়োজন বিপ্লবী মতাদর্শ ধারণ। বিপ্লবী মতাদর্শ ধারণ না করলে সে সাহিত্য সংস্কৃতিও পুঁজিবাদী মতাদর্শকেই ধারণ করে। মাও বলেছেন রাজনীতি-অর্থনীতির ঘনীভূত প্রকাশ হচ্ছে সংস্কৃতি। বিপ্লবী সাহিত্য সৃষ্টিতে বিপ্লবী সংগ্রামকে ধারন করতেই হবে।

নীচে নকশালবাড়ির সাহিত্যের কিছু তালিকা দেওয়া হলোঃ

উপন্যাসঃ

১। হাজার চুরাশির মা- মহাশ্বেতা দেবী

২। গ্রামে চলো- স্বর্ণমিত্র

৩। অগ্নির উপাখ্যান- শৈবাল মিত্র

৪। কমুনিস – শঙ্কর বসু

৫। শালবনী- গুনময় মান্না

৬। এই ভাবেই এগোয়- জয়ন্ত জোয়ারদার

গল্পঃ

১। অপারেশন, বসাই টুডু, ‘দ্রৌপদী’- মহাশ্বেতা দেবী

২। বাঘ শিকার, প্রসব – স্বর্ণমিত্র

৩। খোচর –  নবারুণ ভট্টাচার্য

৪। অপ্রতিদ্বন্দ্বী –  দীপংকর চক্রবর্তী

৫। মোকাবেলা –  কালী প্রসাদ রায় চৌধুরী

৬। অভ্যুত্থান – সুখেন মুখার্জী

৭। প্রতিরোধ – শঙ্কর সেনগুপ্ত

৮। খোদা হাটির ডাক –  ব্রজেন মজুমদার

৯। সন্তানের নাম ধান – বেনু দাসগুপ্ত

নাটকঃ

১। তীর – উৎপল দত্ত

২। রক্তের রং – অনল রায় ইত্যাদি।

 

বিপ্লব জ্বলে

   – দ্রোণাচার্য ঘোষ

প্রত্যেক ঘরে গর্জে উঠছে আজকে লক্ষ ছেলে

প্রত্যেক গ্রামে ঘাঁটি  গড়া চাই এই কথা ভুলে গেলে

বিষম সর্বনাশ।

   তাই আজ জাগে নতুন সূর্য। নতুন দিনের মাস।

বিপ্লবী দিন বুকে এসে বাজে ছুঁড়ে ফ্যালো ভীরু ঘুম

ক্রীতদাস বেলা কাটানো এখন নয়।

এখন আমরা নির্ভীক নির্ভয়

এখন সময় নেই ওড়ানোর বৃথা কোনো কালো ঘুম।

পৃথিবী সচল, বিপ্লব আগুয়ান

সেই পথে যেতে মজদুর হাতে থাকুক লাল নিশান

    অন্য ভাবনা ভাবার সময় আজকে যে আর নেই

বিপ্লব জ্বলে প্রতি বুকে বুকে মুক্তির বাতাসেই।

 

মুখোশ খুলে ধরেছে

সৃজন সেন

পিকিং মন্ত্রে ধনুর্ধারী

যত সব হঠকারী

দখল করে খড়িবাড়ি

ফাঁসিদাও আর নকশালবাড়ী

লড়াই শুরু করেছে।

তাই না দেখে দাদা-কাকা

ছাড়েন বচন আঁকা-বাঁকা

মাও-ও নাকি সিআইএ-র চর

মিটিং করে বলেছে।

জোতদারেরা মদত পেয়ে

বন্দুক হাতে চলেছে,

সাতকিষাণী দু’জন শিশুর

রক্তে মাটি ভরেছে।

এক তীরেতে ভাঙলো হাড়ি

‘ডাঙ্গে’ ধরা পড়েছে।

পিকিং মন্ত্রে ধনুর্ধারী

যত সব হঠকারী

দখল করে খড়িবাড়ী

ফাঁসিদাও আর নকশালবাড়ী

ঠুনকো যত বিপ্লবীদের

মুখোশ খুলে ধরেছে

সাত কিষাণী দুজন শিশুর

মরণ ধন্য হয়েছে।

১৫.৮.১৯৬৭

সূত্রঃ আন্দোলন পত্রিকা, নক্সালবাড়ী সংখ্যা


র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির ২ সদস্য নিহত

1496230903_01

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির ২ সদস্য নিহত হয়েছেন।

এরা হলেন- উপজেলার বখশীপুর গ্রামের মাইদুল ইসলাম রানা (৪৫) ও বহরমপুরের আলিমুদ্দিন (৫৭)।

রানা পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা ও আলিমুদ্দিন তার সহযোগী ছিলেন বলে র‌্যাব-৬ এর ঝিনাইদহ কোম্পানি কমান্ডার মনির আহমেদ জানান।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে “উপজেলার কুশনা গ্রামের একটি মাঠে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির ১০ থেকে ১২ জন বসে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল বলে আমাদের কাছে খবর ছিল।

“র‌্যাবের একটি টহল দল রাত ১২টার দিকে সেখানে গেলে র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। র‌্যাবও পাল্টা গুলিকবর্ষণ করে। প্রায় ১০ মিনিট বন্দুকযুদ্ধ হয়।”

এরপর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে রানা ও আলিমুদ্দিনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা মনির বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুটি রাইফেল, একটি নাইন এম এম পিস্তল, ১৪টি গুলি, একটি হাঁসুয়া ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

সূত্রঃ bdnews24.com/samagrabangladesh/detail/home/1342546


ছত্তিসগড়ে আটক ৭ মাওবাদী, প্রতিবাদে বাস পুড়িয়ে দিল সহকর্মী কমরেডরা

৭ মাওবাদী সহকর্মীকে আটক করার প্রতিবাদে ছত্তিশগড়ে যাত্রীবাসে আগুন ধরিয়ে দিল মাওবাদীরা। যদিও, যাত্রীরা নিরাপদে আছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজ্যের নারায়ণপুর জেলায়।

জেলা পুলিশ সুপার সন্তোষ সিংহ জানান, সোমবার রাতে নারায়ণপুর থেকে একটি যাত্রীবোঝাই বাস ওরচা যাচ্ছিল। মাঝে ঝোরিগাঁও গ্রামের কাছে বাসটিকে দাঁড় করায় মাওবাদীরা। যাত্রীদের নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা।

খবর পেয়েই সেখানে পৌঁছয় নিরাপত্তাবাহিনী। গোটা এলাকা জুড়ে শুরু হয় চিরুনি-তল্লাশি। তবে, এখনও পর্যন্ত কাউকে ধরা যায়নি। বাসটি ভস্মীভূত হলেও, যাত্রীরা সকলেই নিরাপদে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও, ঠিক কতজন যাত্রী ওই বাসে ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই ঘটনার ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ রবিবার ভোরে ৩ মহিলা সহ ৭ মাওবাদী ক্যাডারকে নারায়ণপুরের কাছে একটি গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সন্তোষ জানান, শনিবার রাতে ধানোরা ও ওরচা গ্রামে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালায় নিরাপত্তাবাহিনী। রবিবার ভোররাতে টেকানার গ্রামের কাছে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের গুলির সংঘর্ষ বাঁধে। এরপরই ৭ জনকে আটক করা হয়।

সূত্রঃ http://abpananda.abplive.in/india-news/naxals-torch-bus-in-chhattisgarh-7-rebels-held-after-face-off-with-cops-344321


প্রয়াত হলেন নকশালবাড়ি আন্দোলনের নেতা খোকন মজুমদার

xIMG_0017.jpg.pagespeed.ic.zRs77E9ly9

প্রয়াত হলেন নকশালবাড়ি কৃষক অভ‍্যুত্থানের অগ্রণী যোদ্ধা ও নকশালবাড়ি রাজনীতির অন্যতম প্রধান প্রবক্তা খোকন মজুমদার ওরফে আবদুল হামিদ। গতকাল সোমবার, ২৯ মে ২০১৭, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয় রাত ৭.৫০ নাগাদ। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিপ্লবের জন্য শোষিত মানুষের মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন খোকন মজুমদার। মরণে উৎসর্গ করলেন দেহ, মানুষের স্বার্থে।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত শুক্রবার রাতে ভর্তি হয়েছিলেন নব্বই বছর বয়সী এই CPI-ML নেতা। মেলেনি বেড, তাই হাসপাতালের মেঝেতেই চিকিৎসা শুরু হয়েছিলো নকশাল নেতা খোকন মজুমদারের। হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন খারাপ থাকায় তাঁকে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সিটি স্ক্যানও করানো হয়েছিলো। ১৯৬৮ সালে চারু মজুমদারের নির্দেশে নকশালপন্থীদের যে দল চীনে গিয়ে মাও-সে-তুং-এর সঙ্গে দেখা করেন সেই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন খোকন মজুমদার। সঙ্গে ছিলেন কানু সান্যাল, দীপক বিশ্বাস এবং খুদন মল্লিক। খোকন মজুমদার আমৃত্যু দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।


বিশেষ গোয়েন্দা রিপোর্টঃ ৩৫টি জেলায় মাওবাদীদের ২ লাখ গেরিলা ও ১০,০০০ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে

498918-jpg_343332_1000x667

তেলেঙ্গানা রাজ্য পুলিশের মাওবাদী দমন বিভাগের বিশেষ গোয়েন্দা শাখা এক রিপোর্টে জানাচ্ছে, মাওবাদীদের এখনও ৩৫ জেলায় ছড়িয়ে থাকা ২ লাখ ক্যাডারের একটি বিশাল গণভিত্তি রয়েছে এবং ১০,০০০টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, এর মধ্যে ৪,০০০টি কোম্পানী নির্মিত এবং অবশিষ্টগুলো দেশীয় তৈরী।

এই প্রতিবেদনে, পুলিশ অভিযোগ করে যে, মাওবাদীরা এখনও প্রতি বছর ১২০ – ১৫০ কোটি রুপী উত্তোলন করে, যা মূলত বিভিন্ন উৎস থেকে যেমনঃ ঠিকাদার / শিল্পপ্রতিষ্ঠান / ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়।

সিআরপিএফের প্রাক্তন প্রধান কোড দুর্গা প্রসাদ বলেন, “মাওবাদীরা হুমকি ও ভয় দেখিয়ে বেঁচে থাকে এবং তারা জনগণের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে,” তিনি বলেন, ২৪ সদস্যের মাওবাদী কেন্দ্রীয় কমিটির অর্ধেকই সংঘর্ষে নিহত হয়, আত্মসমর্পিত হয় বা গ্রেফতার করা হয়। মাওবাদীদের পলিটব্যুরোর শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “ক্যাডাররা হ্রাস পেয়েছে  এবং তারা নিয়োগের জন্য কঠিন পথের খোঁজ করছে”।

ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার নিরপেক্ষ ভূখন্ডে ২৫শে এপ্রিল সিআরপিএফ বাহিনীর বিরুদ্ধে মাওবাদীদের অভিযানের সমর্থনে কাজ করার জন্য বিপুল সংখ্যক মাওবাদী মিলিশিয়া সদস্যের উপস্থিতি ছিল। সিআরপিএফের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সুদীপ লক্ষিতকিয়া বলেন, “আদিবাসী এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীকে বড় ধরণের বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। মাওবাদীরা এবং তাদের সমর্থনকারী মিলিশিয়ারা সংখ্যায় বড়। সাম্প্রতিক হামলার সময় মাওবাদীদের শ্রেষ্ঠত্বের অনুপাত ছিল ১:৫।”

মাওবাদীরা এখন দক্ষিণ ছত্তিশগড় সীমান্তবর্তী অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা রাজ্য সীমান্তের দিকে মনোনিবেশ করছে। “মাওবাদীদের সশস্ত্র দল পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি’র দুটি সামরিক ব্যাটেলিয়ন ঐ প্রান্তিক অঞ্চলে কাজ করছে”।

দিল্লি স্কুল অফ ইকনমিক্স বিভাগের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক নন্দিনী সুন্দর, যিনি এলাকায় আদিবাসীদের নিয়ে ব্যাপক কাজ করেছেন, তিনি বলেন, “অনেক মানুষ মারা গেছে তা বুঝাতে কত মৃত্যুর প্রয়োজন হবে?”

তিনি বলেন, “একমাত্র স্থায়ী সমাধান সংলাপ এবং আদিবাসীদের তাদের জমি ও বনভূমি নিয়ে সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা। নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করার চেষ্টা করছে যে, তারা মাওবাদীদের উপস্থিতি কমিয়ে আনতে পেরেছ এবং এবার তারা শেষ করেই ছাড়বে। তবে, যতক্ষণ না অন্তর্নিহিত বিষয়গুলি সমাধান করা হচ্ছে, ততক্ষণ শুধুমাত্র আরো CRPF বাহিনী পাঠিয়ে কোন কাজ হবে না।”

সূত্রঃ  http://www.deccanchronicle.com/nation/current-affairs/300517/maoists-have-a-mass-base-of-2-lakh-men-and-10000-guns.html


নেপালঃ নির্বাচন বয়কট কার্যক্রমের জন্যে ‘চাঁদ’ নেতৃত্বাধীন সিপিএন(মাওবাদী)-র ২ ক্যাডার গ্রেফতার

Netra-Bikram-Chand-800x445

গত ২৮শে মে নেপালের ইল্লাম জেলার দিউমাই পৌরসভার ডেনাবরীতে নির্বাচন বয়কটের কার্যক্রমের জন্য ‘নেত্র বিক্রম চাঁদ’ নেতৃত্বাধীন মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির ২ ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন জেরেদার বারাল ও দিলীপ বারাল, উভয়েই দিউমাই পৌরসভার। এর এক সপ্তাহ আগে ৩ জন সিপিএন ক্যাডারকে এই জেলা থেকেই একই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সুত্রঃ http://www.myrepublica.com/news/20836/