মেক্সিকোর বামপন্থী গেরিলা দলঃ পপুলার রেভ্যুলিউশনারি আর্মি (ইপিআর)

src.adapt.960.high.Mexico_rebel_120313.1386104206067

এই গেরিলা সংগঠন দক্ষিণ আমেরিকায় ইজেরসিটো পপুলার রেভ্যুলুশনারিও (ইপিআর) নামে সমাধিক পরিচিত। বিপ্লবী সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৬ সালের ২৮ জুন আগুয়াস ব্লাঙ্কাস গণহত্যার বর্ষপূর্তিতে ইপিআর প্রথমবার তাদের অস্তিত্বের ঘোষণা দেয়। প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালের ২৮ জুন মেক্সিকোর অবহেলিত কৃষকরা সুপেয় পানি, স্কুল, স্বাস্হ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং রাস্তা নির্মাণের দাবিতে মিছিল বের করে। মিছিলে সশস্ত্র পুলিশের অতর্কিত হামলায় ২১ জনের মতো কৃষক নিহত হয়, আহত হয় প্রায় ২৭ জন। ইতিহাসে এই হত্যাকাণ্ড আগুয়াস ব্লাঙ্কস গণহত্যা নামে পরিচিত।

আত্মপ্রকাশের দিন থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম জারি রাখে ইপিআর। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ১৯৯৬ সালের ২৮ জুন পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধ। যুদ্ধে বেশ কয়েকজন পুলিস সদস্য ও একজন বেসামরিক লোক গুরুতর আহত হয়। পরের মাসে ১৭ জুলাই সেনাচৌকিতে হামলা চালায় তারা। এ হামলায় একজন সেনাসদস্য ও একজন বেসামরিক লোক মারা যায়। ৭ আগস্ট আবার সেনাচৌকিতে হামলা চালায়। এবারের হামলাতেও একজন সেনাসদস্য মারা যায় এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়।

তবে ১৯৯৬ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সরকারি হিসাব মতে, তিন বা চারজন মারা গেলেও গেরিলারা দাবি করে, এ সময়ের মধ্য ৫৯ জনের মতো সেনা ও পুলিশ সদস্য মারা যায় এবং কয়েকজন বেসামরিক লোক হতাহত হয়। তবে ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ইপিআর সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আঘাত হানে। এ হামলায় প্রায় ৪১ জন সেনাসদস্য এবং বেশ কয়েকজন গেরিলা মারা যায় এবং আহত হয় প্রায় ৪৮ জন।

এরপর ১৯৯৭ সালের মে মাসে আর একটি হামলা হয়। এ হামলায় পাঁচজন সেনাসদস্য এবং চারজন গেরিলা মারা যায়। তবে এসব হামলায় যে পরিমাণ সেনা ও পুলিশসদস্য মারা যায়, সে পরিমাণ গেরিলা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর অন্যতম কারণ ইপিআরের আক্রমণগুলো ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও অতর্কিত।

১৯৯৭ সালের পর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ইপিআরের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। কোন এক অজানা কারণে এ সময়ের মধ্যে ইপিআর তাদের কর্মকাণ্ড গুটিয়ে রাখে। এরপর ২০০৭ সালের জুলাই মাসে ইপিআর আবার দৃ্শ্যপটে ফিরে আসে। এ বছরের শুরু থেকে ইপিআর দাবি করে আসছিল, তাদের দুজন সদস্যকে সরকার আটকে রেখেছে।

কিন্ত সরকার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। ফলে ইপিআর মেক্সিকোর রাষ্ট্রয়াত্ত তেল-গ্যাস কোম্পানি প্রিমেক্সের পাইপলাইনসহ বেশ কিছু স্থাপনায় হামলা করে। এই হামলা মেক্সিকোর অর্থনীতিকে বেশ বড় রকমের ধাক্কা দেয়। একই বছর ১৭ সেপ্টেম্বরে সরকার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই হামলায় প্রিমেক্সের ছয়টি পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে অপরিশোধিত তেল আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ রকমের দূষণের সৃষ্টি করে। দূষণের মাত্রা এত তীব্র আকার ধারণ যে, ওই এলাকা থেকে প্রায় ২০ বিশ হাজার স্থানীয় অধিবাসীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরিবেশগত বিপর্যয়ের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণে আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল।

প্রিমেক্সের কয়েক মিলিয়ন ডলারের ক্ষতির পাশাপাশি তেল ও গ্যাসের অভাবে মেক্সিকোর ৬০ শতাংশের মতো স্টিল প্লান্ট বন্ধ হয়ে যায়। সরকারি হিসাবে এ ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০০৭ সালে পাইপলাইন বিস্ফোরণের পর ইপিআর দমনে মেক্সিকোর সরকার বিশেষ বাহিনীর ৫ হাজারের মতো সদস্য  মোতায়েন করে । এ বাহিনী মোতায়েনের পর ইপিআরের প্রথম সারির অনেক নেতা নিখোঁজ হয়। ধারণা করা হয়, ইপিআরের নিখোঁজ নেতারা সরকারি বাহিনীর হাতে গুপ্ত হত্যার শিকার হয়েছে। এত কিছুর পরেও থেমে থাকেনি ইপিআরের কার্যক্রম। এখনো তারা মেক্সিকোতে সক্রিয়।

guerrillas-at-ayotzinapa-legacy-of-armed-movements-present-at-protests-body-image-1418088562

 

সূত্রঃ ইন্টারনেট

Advertisements

মহারাষ্ট্র: মাওবাদী হামলায় C 60 কমান্ডো বাহিনীর নিহত ১, আহত ১৫ পুলিশ কর্মী

PLGA 3 - copia

মহারাষ্ট্রের গাড়চিরৌলিতে C 60 কমান্ডো বাহিনীর এক গাড়িতে মাওবাদী হামলার ঘটনায় নিহত হল ১ পুলিশ কর্মীর, আহত হয়েছেন ১৫ জন। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মাওবাদীরা ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এই হামলা চালায়, বলে খবর। জানা গিয়েছে, কমান্ডো বাহিনীর রুটিন টহলদারির সময় এই ঘটনা ঘটে, গাড়িটিতে কর্তব্যরত কয়েকজন পুলিশ ছিলেন বলে জানা গিয়েছ। এদিকে, গুরুতর আহত ৩ জওয়ানকে তড়িঘড়ি নাগপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় এলাকায় রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাওবাদীদের পাকড়াও করতে চলছে চিরুনি তল্লাশি। এর ঠিক একদিন আগে, ওই এলাকায় মাওবাদী ও পুলিশের মধ্যে বেশ কয়েক ঘণ্টা গুলির লড়াই চলে বলে খবর। প্রসঙ্গত গত ২৪ এপ্রিল ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের হামলায় ২৬ জন জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনার পর ফের এরকম মাওবাদী হামলায় চিন্তায় ভাঁজ পড়েছে প্রশাসনের কপালে।

অপরদিকে, ছত্তীসগঢ়ে পুলিশের চর সন্দেহে কোন্ডাগাঁওতে একজনকে খতম করেছে মাওবাদীরা।

সূত্রঃ  

http://bengali.oneindia.com/news/india/maoists-attack-armoured-vehicle-police-personnel-maharashtra-injured-017143.html

http://www.hindustantimes.com/india-news/maoists-attack-security-forces-armoured-vehicle-in-maharashtra-several-injured/story-cKGvz0mX3XetdSaPofgLDP.html