বস্তারে আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় জেলের ডেপুটি সুপার ‘সাসপেন্ডেড’

v

বস্তারে আদিবাসীদের উপর পুলিস –আধা সেনাদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় শনিবার সাসপেন্ড করা হল  রায়পুর সেন্ট্রাল জেলের ডেপুটি সুপার বর্ষা ডোঙ্গরেকে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি সরকারি চাকরির শৃঙ্খলাভঙ্গ  করেছেন বলেই তাকে ছত্তিশগড় সরকার সাসপেন্ড করেছে। ফেসবুকে বর্ষা কী এমন লিখেছিলেন যাতে শৃঙ্খলাভঙ্গ হল?

”থানায় আদিবাসী কিশোরীদের নগ্ন করে  স্তনে  ও কবজিতে বিদ্যুতের শক দিতে দেখিছি আমি”। চমকে উঠলেও এই বক্তব্য ছত্তিশগড়ের রায়পুর  সেন্ট্রাল  জেলের ডেপুটি সুপার বর্ষা ডোঙ্গরের। দ্য ওয়ার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী মাওবাদী দমনের নামে সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আদিবাসীদের উত্খাতের বিরুদ্ধে নিজের মতামত পোস্ট করেন বর্ষা। অবশ্য পরে তা সরিয়ে নেন তিনি। দ্য ওয়ারে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী বর্ষা লিখেছেন আদিবাসীদের উপর পুঁজিবাদী ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গ্রাম জ্বালিয়ে, আদিবাসী মহিলাদের ধর্ষণ করে গ্রাম থেকে তাঁদের উচ্ছেদ করে জঙ্গলের দখল নেওয়া হচ্ছে। মাওবাদী সন্দেহে মহিলাদের স্তন টিপে দেখা হচ্ছে তাতে দুধ আছে কিনা।

জঙ্গলের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদকে পুঁজিপতিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য জঙ্গল থেকে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করতে হবে। বর্ষা মনে করেন জঙ্গল আদিবাসীদের জন্মভূমি. তারা তা ছাড়বেন না। আদিবাসীরাও নকশালপন্থার শেষ চায়। কিন্তু যেভাবে  দেশের রক্ষকরাই তাদের মহিলাদের ধর্ষণ করছে, গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। মিথ্যে মামলায় জেলে পুরে দিচ্ছে, তাতে সুবিচারের আশায় কার কাছে যাবেন তাঁরা? প্রশ্ন বর্ষার।

ছত্তিশগড়ে মাওবাদী- নিরাপত্তারক্ষীদের লড়াইয়ে উভয় দিকের  যারা মারা যাচ্ছেন তারা সবাই দেশের সন্তান। এই সব মৃত্যু মন ব্যথিত করে। বর্ষা মনে করেন মন্থনের প্রয়োজন। তাতেই সত্যিটা বেরিয়ে আসবে।

আগাগোড়া একরোখা মনের এই সরকারি আধিকারিক মামলায় রাজ্য সরকারকে পরাস্ত করে রায়পুর সেন্ট্রাল জেলের ডেপুটি সুপার হন।

সূত্রঃ satdin.in

 

Advertisements