কলকাতাঃ মাওবাদী নেতা অর্ণব দামের মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা? স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি

7

কারা দপ্তরকে মহা ফাঁপরে ফেলেছে আইআইটি -র এক প্রাক্তন পড়ুয়ার চিঠি ৷ অনশন করে জেলের মধ্যে স্বেচ্ছামৃত্যু চেয়ে আলিপুর সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ধৃত আইআইটি খড়গপুরের এক সময়কার পড়ুয়া অর্ণব দাম ওরফে বিক্রম ৷ অভিযোগ , বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় জেলের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে ৷ এ ভাবে মারা যাওয়ার থেকে তিনি স্বেচ্ছামৃত্যুর পথই বেছে নিতে চান ৷

বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে জেলবন্দির অভিযোগ দীর্ঘদিনের ৷ এ নিয়ে একাধিকবার অনশন বিক্ষোভে সামিলও হয়েছেন বন্দিরা ৷ কিন্ত্ত সরাসরি লিখিত ভাবে এমন স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি নজিরবিহীন ৷ সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই সেই চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছেন কারা দপ্তরে ৷ বিক্রমকে বোঝানোরও চেষ্টা করেছেন কারা আধিকারিকরা ৷ কিন্ত্ত তাতে কাজের কাজ কিছু হয়নি ৷ আলিপুর সংশোধনাগারের সুপার স্বরূপকুমার মণ্ডল এ নিয়ে মুখ খুলতে চাননি ৷ তিনি শুধু বলেন, ‘এ নিয়ে যা বলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলবেন ৷ ’ কারা দন্তরের অন্য আধিকারিকরা অবশ্য এ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন৷

বছর পঁয়ত্রিশের অর্ণবের বাড়ি আদতে সোনারপুরে ৷ অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের ছেলে অর্ণব বরাবরই মেধাবী ৷ আইআইটিতে পড়ার সময় মাওবাদী নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার পর তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন ৷ তারপর শিলদা ইএফআর ক্যাম্পে হামলা থেকে একগুচ্ছ খুন, বিস্ফোরণের মামলায় তাঁর নাম জড়ায় ৷ ২০১২ সালে অবশেষে তিনি পুলিশের জালে ধরা পড়েন ৷ মেদিনীপুর, প্রেসিডেন্সি হয়ে বর্তমানে আলিপুর সংশোধনাগারে রয়েছেন তিনি ৷ জেলের মধ্যে থেকেই ইন্দিরা গান্ধী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনার পাশাপাশি কম্পিউটারে প্রশিক্ষণের জন্যও আবেদন করেছেন অর্ণব ৷ প্রেসিডেন্সিতে থাকাকালীন নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাঁকে কম্পিউটার শেখার অনুমতিও দিতে রাজি হয়নি কারা কর্তৃপক্ষ ৷ এর প্রতিবাদেও তিনি অনশন করেন ৷ কিন্ত্ত এ বার তাঁর দাবি ভিন্ন ৷ সংশোধনাগারের এক আধিকারিক জানান, বিভিন্ন মামলার জন্য তাঁকে প্রায়ই বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যেতে হয় ৷ বিচার প্রক্রিয়াও দীর্ঘদিন ধরে চলছে ৷ কারা দপ্তর সূত্রের খবর , তাতেই হতাশ হয়ে সম্ভবত স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি জানিয়েছেন তিনি ৷

এক কারাকর্তা জানান , বিক্রমের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৯টি বিভিন্ন মামলা ঝুলে রয়েছে ৷ তার মধ্যে বেশিরভাগ মামলাতেই তিনি জামিন পেয়ে গিয়েছেন ৷ কিন্ত্ত শিলদা ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় এখনও তিনি জেলে রয়েছেন ৷মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর -এর মুখপাত্র রঞ্জিত শূর শনিবার বলেন, ‘স্বেচ্ছামৃত্যুর বিধান আমাদের দেশে নেই ৷ এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না ৷ তবে উনি যে অভিযোগ করেছেন, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ৷ অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়ার শুধু দীর্ঘসূত্রতা নয়, বিচারের নামে অবিচার হচ্ছে ৷ এটা প্রশাসন বা বিচারবিভাগের দেখা প্রয়োজন ৷ পাশাপাশি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা প্রয়োজন ৷ ’

কারা দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, বিচার প্রক্রিয়া তাঁদের হাতে নেই৷ তাই তাঁরা সরাসরি এ নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করতে পারেন না ৷ তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জায়গায় জানানো হবে ৷ শিলদা ক্যাম্পে হামলার মামলায় দিন কয়েক আগেই মেদিনীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিক্রমকে ৷ সেখানেও আদালতে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার কথা বলেছেন তিনি ৷ তবে তাঁর আইনজীবী অজয় ঘোষ এ নিয়ে কিছু বলতে চাননি ৷ কারা দন্তর সূত্রে জানা গিয়েছে , রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগারে এখন প্রায় ১৫ হাজার বিচারাধীন বন্দি রয়েছেন ৷ তাঁদের মামলা বিভিন্ন পর্যায়ে থমকে রয়েছে ৷ পাঁচ বছর বা তার বেশি মামলা ঝুলে রয়েছে এমন মামলায় বিভিন্ন সংশোধনাগারে তিনশো জনের বেশি বন্দি রয়েছেন ৷ এছাড়াও দু’-তিন -চার বছর মামলা ঝুলে আছে , এমনও বেশ কয়েক হাজার বন্দি আছেন ৷ বিক্রমের স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি তাঁদের প্রত্যেকের তরফ থেকে প্রতিবাদ বলেই মনে করছেন কারা আধিকারিকরা৷

সূত্রঃ eisamay.com

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s