কমরেড মাও এর কাছে কমরেড স্ট্যালিনের টেলিগ্রাম(ইংরেজি থেকে অনুবাদ)

Staline espionne Mao Zedong, histoire du soir

১০ জানুয়ারি ১৯৪৯।

কমরেড মাও জেদং,

৯ জানুয়ারি আমরা নানজিং সরকারের একটা চিঠি পেয়েছি। চিঠিতে নানজিং সরকার ও চিনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌছার ক্ষেত্রে মধ্যস্ততা করার জন্য সোভিয়েত সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে।একই সময়ে, একই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স সরকারের কাছে। তাদের কাছ থেকে নানজিং সরকার এখনো কোন প্রতিউত্তর পায়নি। সবদিক বিবেচনায় এটাই নিশ্চিত , এই প্রস্তাব মার্কিনীদের নির্দেশেই করা হয়েছে। উদ্দেশ্য, নানজিং সরকারকে যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবক রুপে প্রতিষ্ঠা করা, চিনা কমিউনিস্ট পার্টিকে যুদ্ধবাজ হিসেবে পরিচিত করা যদি তারা সরাসরি নানজিদের সাথে শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে। আমরা এভাবেই তাদের প্রস্তাবের জবাব দেয়ার কথা বিবেচনা করছি : সোভিয়েত সরকার চিনে যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে তার অবস্থান চলমান রাখবে। কিন্তু মধ্যস্থতা করার পুর্বে তাকে অবশ্যই অন্যপক্ষ, চিনা কমিউনিস্ট পার্টির মতামত জানতে হবে, তারা সোভিয়েত সরকারের মধ্যস্থতা মেনে নিতে রাজি আছে কিনা। এ লক্ষ্যে সোভিয়েত সরকার চায়, নানজিং সরকার শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে চিনা কমিউনিস্ট পার্টিকে অবগত করুক এবং সোভিয়েত সরকারের মধ্যস্থতা নিয়ে তাদের মতামত নিক। আমরা এভাবেই জবাব দেয়ার চিন্তা করছি এবং আপনাদের প্রতি অনুরোধ এতে আপনাদের মত/ ভিন্নমত যাই হোক, জানাবেন।

একইভাবে আমাদের মনে হয়, আপনাদের সম্ভাব্য জবাব( যদি আপনাদের জিজ্ঞেস করা হয়), মোটামুটি এরকমই হতে পারে:

কমিউনিস্ট পার্টি সবসময় চীনে শান্তির পক্ষে কেননা চীনের এই গৃহযুদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টি শুরু করেনি, শুরু করেছে নানজিং সরকার। যুদ্ধের সামগ্রিক ফলাফলের জন্য তারাই দায়ী । চীনা কমিউনিস্ট পার্টি কুউমিনতাং এর সাথে আলোচনা করতে প্রস্তুত কিন্তু সে সব যুদ্ধাপরাধী ব্যতীত যারা চীনে গৃহযুদ্ধ উসকে দিয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি কুউমিনতাং এর সাথে কোন প্রকার মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই কথা বলতে প্রস্তুত। যেসব বিদেশী তাদের আকাশ শক্তি ও নৌ শক্তি নিয়ে ‘চাইনিজ পিপলস লিবারেশন আর্মির’ বিরুদ্ধে চীনের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে তারা কখনওই যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাককারী হিসেবে নিরপেক্ষ ও নৈবর্ত্তিক হবেনা। আমরা মনে করি, আপনাদের জবাব মোটামুটিভাবে এমনটিই হওয়া উচিৎ।

যদি এতে আপনারা রাজী না হন, আপনাদের মতামত অবশ্যই জানাবেন।

আমরা আপনার মস্কো সফর নিয়ে ভাবছি। আমাদের মনে হয় বর্ত্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে আপনার বিদেশ সফর বাদ দেয়া উচিৎ। এমন পরিস্থিতিতে, আপনার মস্কো সফরকে শত্রুপক্ষ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অযোগ্যতা, মস্কোর উপর আস্থাবান ও নির্ভরশীল হিসেবে প্রচার চালাতে পারে। এটা নিশ্চিতভাবে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্য সুবিধাজনক হবেনা।

আপনার উত্তরের অপেক্ষায়,
ফিল্লিপভ।

 

অনুবাদঃ সাইফুদ্দিন সোহেল

মুল সুত্র:http://www.revolutionarydemocracy.org/rdv3n2/maostal.htm

Advertisements

মাওবাদীরা নতুন এলাকায় কার্যক্রম বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে

India Internal Conflicts

সুকমা থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর নজর ঘোরাতে এখন নতুন এলাকায় শক্তিবৃদ্ধি করতে চাইছে মাওবাদীরা।

ছত্তীসগঢ়ে পরপর দু’টি মাওবাদী হামলার পরে রাজ্যের দাবি মেনে ‘মিশন সুকমা’ হাতে নেওয়ার পক্ষে কেন্দ্রও। খুব দ্রুত ওই এলাকায় বড় মাপের অভিযান চালাতে চলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আর তা আঁচ করেই নতুন এলাকায় নিজেদের ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে ওই রাজ্যের মাওবাদীরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের খবর, সম্প্রতি মাওবাদীদের দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটি ছত্তীসগঢ়-মধ্যপ্রদেশ-মহারাষ্ট্র এই তিন রাজ্যের সংযোগস্থলে গতিবিধি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কর্তা বলেন, ‘‘মাওবাদীরা নতুন নতুন জায়গায় নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে। যাতে সেই এলাকাগুলিতেও নিরাপত্তা বাহিনীর উপরে আঘাত হানা সম্ভব হয়। এর ফলে নিরাপত্তা বাহিনীকে নানান জায়গায় মনোযোগ দিতে হবে। স্বাভাবিক ভাবে বাহিনীর শক্তি ভাগ হয়ে যাবে।’’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক শীর্ষ কর্তার মতে, বস্তার-সুকমা এলাকায় যতটা তীব্রতায় আক্রমণ চালানোর কথা ভাবছে কেন্দ্র, ততটা শক্তি নিয়ে নিরাপত্তাবাহিনী যাতে আক্রমণ না চালাতে পারে, সেটাই চাইছে মাওবাদীরা।’’

নিজেদের পরিকল্পনা রূপায়ণে পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি বা পিএলজিএ-র ৬০ জন ক্যাডারকে সম্প্রতি তিন রাজ্যের সীমানায় পাঠিয়েছে দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটি। যাদের কাজ হল, স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিজেদের পক্ষে নিয়ে এসে ওই এলাকায় মাওবাদীদের শক্তিশালী ঘাঁটি তৈরি করা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, শুধু ওই এলাকায় নয়, পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা-ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগঢ়-ঝাড়খণ্ডের সীমানায় নজরদারির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নতুন করে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার পরিকল্পনা নিয়েছে মাওবাদীরা।

যে ভাবে নতুন করে মাওবাদীরা শক্তি সঞ্চয় ও এলাকা দখলে নেমেছে, তাতে উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। মাওবাদী হামলায় এখনও পর্যন্ত দেশের প্রায় ১২ হাজার মানুষ মারা গিয়েছেন। যাদের মধ্যে প্রায় ২৭০০ জন নিরাপত্তাকর্মী। একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সংগঠিত সশস্ত্র বাহিনীর প্রশ্নে আইএস, বোকো হারাম, লস্করের মতো সংগঠনগুলির তালিকায় পাঁচ নম্বরে মাওবাদীরা। মাওবাদীদের নতুন করে শক্তিবৃদ্ধি রুখতে গত কালের বৈঠকে বিহার, ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদের নিয়ে রণনীতি নেওয়া হয়েছে।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/national/maoist-wants-to-enhance-their-power-in-new-locality-1.610448#

 


ভারতঃ নকশালবাড়ী সংগ্রামের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করুন!