আজীবন মাওবাদী কমিউনিষ্ট বিপ্লবী কমরেড হামিদুজ্জামান বাঘা

োোো

২০১৪ সালের ২৯শে এপ্রিল রাত ৯টায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রাক্তন কৃষিবিদ মুক্তিযোদ্ধা প্রবীণ বিপ্লবী, মাওবাদী নেতা হামিদুজ্জামান বাঘা আকস্মিক হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ইতোপূর্বে ২০০৯ সালে ব্রেন স্ট্রোক থেকে প্যারালাইজড হয়ে নিজ বাড়ীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকাকালীন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর পরই হামিদুজ্জামান বাঘার জীবন রক্ষা ও মুক্তি কমিটি গঠিত হয় এবং তার মুক্তির দাবীতে আন্দোলন গড়ে তোলে। এই কমিটি সভা-সমাবেশ, লিফলেট, ব্যানারসহ বিভিন্ন উপায়ে প্রচারনা চালায়। দেশের বিশিষ্ট বাম রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ- টিপু বিশ্বাস, ফয়জুল হাকিম লালা, সাইফুল হক, মোশরেফা মিশু, জোনায়েদ সাকী সহ অনেকেই কমরেড বাঘার নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে বিবৃতি দিয়েছিলেন। নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা পোষ্টার করেছিল। অন্যদিকে প্যরালাইজড রোগী হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় জামিনের চেষ্টা করা হয়। এমনকি জেল কর্তৃপক্ষ গুরুতর অসুস্থতার কারণে হামিদুজ্জামানকে জেলে আনফিট হিসেবে একাধিকবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলেও সরকার তাকে জামিন বা মুক্তি দেয়নি। সর্বোপরি রাজশাহী জেল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে প্রেরণ করলেও তাকে পিজিতে চিকিৎসা না করেই পুনরায় রাজশাহীতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। অথচ এই দেশে বড় বড় দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতা-আমলারা কোর্টে হাজির না থেকেও আগাম জামিন নিয়ে থাকে। এভাবে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মৃত্যুর পর একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চাটমোহর থানা পুলিশের এস.আই মাইনুদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল লোক দেখানো “গার্ড অব অনার” প্রদান করেছিল। হামিদুজ্জামান বাঘা পাবনা জেলার চাটমোহর থানার লাউতিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বিশিষ্ট স্কুল শিক্ষক মজনু মাষ্টার তার পিতা। তিনি বড় ধনী শ্রেণীর রাজনৈতিক দল বা নেতাদের মত আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য কিছুই করেননি। বিগত ৪০ বছর এই শোষণমূলক সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব তথা শ্রমিক-কৃষক মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাইতো তরুণ বয়সে রাজনীতি বুঝে ওঠার আগেই ছাত্র অবস্থায় জীবন বাজী রেখে ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি আবার পড়াশুনায় ফিরে যান। কিন্তু ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি দেখলেন তাদের স্বপ্নের শ্রমিক-কৃষকসহ সর্বস্তরের নিপীড়িত জনগণের মুক্তি আসেনি। পাকিস্তানি বড় ধনীদের জায়গায় কিছু বাঙালী বড় ধনী শ্রেণী তৈরী হচ্ছে। “অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত” মাওসেতুঙের এই বাণীকে আকড়ে ধরে বাঘা’৭২ সালে জাসদ ছাত্রলীগ এবং পরবর্তীতে ’৭৩ সালে মহান মাওবাদী নেতা কমরেড সিরাজ সিকদারের প্রতিষ্ঠিত পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টিতে যোগদান করেন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে তিনি উপজেলা কৃষি-কর্মকর্তা হিসেবে সরকারী চাকুরীর পাশাপাশি গোপনে পার্টির সংগঠক হিসেবে শ্রমিক-কৃষকসহ বিভিন্ন স্তরের জনগণকে পার্টিতে সংগঠিত করেছেন। অবশেষে ’৮৪ সালে লোভনীয় সরকারী চাকুরী ত্যাগ করে বিপ্লবকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে সার্বক্ষণিকভাবে নিজেকে পার্টি কাজে আত্মনিয়োগ করেন। সেই থেকে গ্রেফতারের পূর্ব পর্যন্ত আনোয়ার কবীরের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি (সিসি)’র নেতৃস্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। যতদূর জানা যায়, এই সুদীর্ঘ সময়ে পার্টির উত্থান-পতনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আশির দশকে এই পার্টির নেতৃত্বে যে সংগ্রাম গড়ে ওঠে সেই সংগ্রামে নরসিংদীর সংগ্রামের অন্যতম নেতৃত্ব ছিলেন তিনি। সেই সংগ্রামে কুখ্যাত সামরিক ফ্যাসিষ্ট এরশাদের পার্টি বিরোধী “অপারেশন দুর্বার” এর দমন অভিযানে হামিদুজ্জামান কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন’৮৯ সালে এবং ’৯৮ সালে জামিনে মুক্তি পান। জেল থেকে মুক্তি পেয়েই বাঘা পার্টি পুনর্গঠন এবং অতীত সংগ্রামের সারসংকলন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। ’৭৩ সাল থেকে অনেকবার তিনি কারাবরণ করেছেন- সরকারী বাহিনীর অমানবিক নির্যাতন সহ্য করেছেন। কিন্তু শত্রু তাকে কখনো পরাজিত করতে পারেনি। অসুস্থ হওয়ার পূর্বে পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের স্টাফ হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন ছাড়াও সামরিক বিভাগের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কমরেড হামিদুজ্জামান বাঘা আমাদের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকবেন।আমরা তার বিপ্লবী কাজ সমাপ্ত করবো এই অঙ্গীকার করছি।

তথ্যসূত্র: চাটমোহর থেকে প্রকাশিত “দৈনিক চলনবিল” হামিদুজ্জামান বাঘার জীবন রক্ষা ও মুক্তি কমিটির প্রকাশিত কাগজপত্র থেকে

Advertisements

‘সংঘর্ষে’ নিহত ১৫ মাওবাদীঃ দাবি CRPF এর

cs-maoist-may8-1_647_042717042426

ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে ৫ দিনে অন্তত ১৫ মাওবাদী নিহত হয়েছেন। যদিও কোন নিহত মাওবাদীর দেহ উদ্ধার হয়নি। মঙ্গলবার দিল্লিতে এমনই দাবি করেছে CRPF । হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী CRPF এর তরফে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন CRPF এর ১ জওয়ান, জখম হয়েছেন ২ জন। ১২ থেকে ১৬ মে এর মধ্যে একাধিক অপারেশনের জেরে এতজন মাওবাদী নিহত হয়েছে বলে দাবি CRPF এর। গত ২৪ এপ্রিল সুকমাতে CRPF এর উপর হামলা চালিয়ে ২৫ জওয়ানকে হত্যা করেছিল মাওবাদীরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে  সুকমার বদলা নিতেই এই হত্যার ছক কষেছিল CRPF । তবে এতবড় অপারেশন হয়ে গেল অথচ মিডিয়াতে কিছুই রিপোর্ট হল না। দিল্লিতে বসে CRPF এর আধিকারিকরা জানালেন তারপর তা জানা গেল! মাওবাদীদের হত্যার নাম করে  নিরীহ গ্রামবাসীদের ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করা হয়েছে কিনা তাই নিয়েও  সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীদের অনেকেই।

সূত্রঃ সাতদিন.ইন