ছত্তিসগড়ে আটক ৭ মাওবাদী, প্রতিবাদে বাস পুড়িয়ে দিল সহকর্মী কমরেডরা

৭ মাওবাদী সহকর্মীকে আটক করার প্রতিবাদে ছত্তিশগড়ে যাত্রীবাসে আগুন ধরিয়ে দিল মাওবাদীরা। যদিও, যাত্রীরা নিরাপদে আছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজ্যের নারায়ণপুর জেলায়।

জেলা পুলিশ সুপার সন্তোষ সিংহ জানান, সোমবার রাতে নারায়ণপুর থেকে একটি যাত্রীবোঝাই বাস ওরচা যাচ্ছিল। মাঝে ঝোরিগাঁও গ্রামের কাছে বাসটিকে দাঁড় করায় মাওবাদীরা। যাত্রীদের নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা।

খবর পেয়েই সেখানে পৌঁছয় নিরাপত্তাবাহিনী। গোটা এলাকা জুড়ে শুরু হয় চিরুনি-তল্লাশি। তবে, এখনও পর্যন্ত কাউকে ধরা যায়নি। বাসটি ভস্মীভূত হলেও, যাত্রীরা সকলেই নিরাপদে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও, ঠিক কতজন যাত্রী ওই বাসে ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই ঘটনার ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ রবিবার ভোরে ৩ মহিলা সহ ৭ মাওবাদী ক্যাডারকে নারায়ণপুরের কাছে একটি গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সন্তোষ জানান, শনিবার রাতে ধানোরা ও ওরচা গ্রামে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালায় নিরাপত্তাবাহিনী। রবিবার ভোররাতে টেকানার গ্রামের কাছে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের গুলির সংঘর্ষ বাঁধে। এরপরই ৭ জনকে আটক করা হয়।

সূত্রঃ http://abpananda.abplive.in/india-news/naxals-torch-bus-in-chhattisgarh-7-rebels-held-after-face-off-with-cops-344321

Advertisements

প্রয়াত হলেন নকশালবাড়ি আন্দোলনের নেতা খোকন মজুমদার

xIMG_0017.jpg.pagespeed.ic.zRs77E9ly9

প্রয়াত হলেন নকশালবাড়ি কৃষক অভ‍্যুত্থানের অগ্রণী যোদ্ধা ও নকশালবাড়ি রাজনীতির অন্যতম প্রধান প্রবক্তা খোকন মজুমদার ওরফে আবদুল হামিদ। গতকাল সোমবার, ২৯ মে ২০১৭, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয় রাত ৭.৫০ নাগাদ। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিপ্লবের জন্য শোষিত মানুষের মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন খোকন মজুমদার। মরণে উৎসর্গ করলেন দেহ, মানুষের স্বার্থে।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত শুক্রবার রাতে ভর্তি হয়েছিলেন নব্বই বছর বয়সী এই CPI-ML নেতা। মেলেনি বেড, তাই হাসপাতালের মেঝেতেই চিকিৎসা শুরু হয়েছিলো নকশাল নেতা খোকন মজুমদারের। হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন খারাপ থাকায় তাঁকে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সিটি স্ক্যানও করানো হয়েছিলো। ১৯৬৮ সালে চারু মজুমদারের নির্দেশে নকশালপন্থীদের যে দল চীনে গিয়ে মাও-সে-তুং-এর সঙ্গে দেখা করেন সেই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন খোকন মজুমদার। সঙ্গে ছিলেন কানু সান্যাল, দীপক বিশ্বাস এবং খুদন মল্লিক। খোকন মজুমদার আমৃত্যু দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।


বিশেষ গোয়েন্দা রিপোর্টঃ ৩৫টি জেলায় মাওবাদীদের ২ লাখ গেরিলা ও ১০,০০০ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে

498918-jpg_343332_1000x667

তেলেঙ্গানা রাজ্য পুলিশের মাওবাদী দমন বিভাগের বিশেষ গোয়েন্দা শাখা এক রিপোর্টে জানাচ্ছে, মাওবাদীদের এখনও ৩৫ জেলায় ছড়িয়ে থাকা ২ লাখ ক্যাডারের একটি বিশাল গণভিত্তি রয়েছে এবং ১০,০০০টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, এর মধ্যে ৪,০০০টি কোম্পানী নির্মিত এবং অবশিষ্টগুলো দেশীয় তৈরী।

এই প্রতিবেদনে, পুলিশ অভিযোগ করে যে, মাওবাদীরা এখনও প্রতি বছর ১২০ – ১৫০ কোটি রুপী উত্তোলন করে, যা মূলত বিভিন্ন উৎস থেকে যেমনঃ ঠিকাদার / শিল্পপ্রতিষ্ঠান / ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়।

সিআরপিএফের প্রাক্তন প্রধান কোড দুর্গা প্রসাদ বলেন, “মাওবাদীরা হুমকি ও ভয় দেখিয়ে বেঁচে থাকে এবং তারা জনগণের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে,” তিনি বলেন, ২৪ সদস্যের মাওবাদী কেন্দ্রীয় কমিটির অর্ধেকই সংঘর্ষে নিহত হয়, আত্মসমর্পিত হয় বা গ্রেফতার করা হয়। মাওবাদীদের পলিটব্যুরোর শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “ক্যাডাররা হ্রাস পেয়েছে  এবং তারা নিয়োগের জন্য কঠিন পথের খোঁজ করছে”।

ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার নিরপেক্ষ ভূখন্ডে ২৫শে এপ্রিল সিআরপিএফ বাহিনীর বিরুদ্ধে মাওবাদীদের অভিযানের সমর্থনে কাজ করার জন্য বিপুল সংখ্যক মাওবাদী মিলিশিয়া সদস্যের উপস্থিতি ছিল। সিআরপিএফের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সুদীপ লক্ষিতকিয়া বলেন, “আদিবাসী এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীকে বড় ধরণের বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। মাওবাদীরা এবং তাদের সমর্থনকারী মিলিশিয়ারা সংখ্যায় বড়। সাম্প্রতিক হামলার সময় মাওবাদীদের শ্রেষ্ঠত্বের অনুপাত ছিল ১:৫।”

মাওবাদীরা এখন দক্ষিণ ছত্তিশগড় সীমান্তবর্তী অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা রাজ্য সীমান্তের দিকে মনোনিবেশ করছে। “মাওবাদীদের সশস্ত্র দল পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি’র দুটি সামরিক ব্যাটেলিয়ন ঐ প্রান্তিক অঞ্চলে কাজ করছে”।

দিল্লি স্কুল অফ ইকনমিক্স বিভাগের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক নন্দিনী সুন্দর, যিনি এলাকায় আদিবাসীদের নিয়ে ব্যাপক কাজ করেছেন, তিনি বলেন, “অনেক মানুষ মারা গেছে তা বুঝাতে কত মৃত্যুর প্রয়োজন হবে?”

তিনি বলেন, “একমাত্র স্থায়ী সমাধান সংলাপ এবং আদিবাসীদের তাদের জমি ও বনভূমি নিয়ে সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা। নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করার চেষ্টা করছে যে, তারা মাওবাদীদের উপস্থিতি কমিয়ে আনতে পেরেছ এবং এবার তারা শেষ করেই ছাড়বে। তবে, যতক্ষণ না অন্তর্নিহিত বিষয়গুলি সমাধান করা হচ্ছে, ততক্ষণ শুধুমাত্র আরো CRPF বাহিনী পাঠিয়ে কোন কাজ হবে না।”

সূত্রঃ  http://www.deccanchronicle.com/nation/current-affairs/300517/maoists-have-a-mass-base-of-2-lakh-men-and-10000-guns.html


নেপালঃ নির্বাচন বয়কট কার্যক্রমের জন্যে ‘চাঁদ’ নেতৃত্বাধীন সিপিএন(মাওবাদী)-র ২ ক্যাডার গ্রেফতার

Netra-Bikram-Chand-800x445

গত ২৮শে মে নেপালের ইল্লাম জেলার দিউমাই পৌরসভার ডেনাবরীতে নির্বাচন বয়কটের কার্যক্রমের জন্য ‘নেত্র বিক্রম চাঁদ’ নেতৃত্বাধীন মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির ২ ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন জেরেদার বারাল ও দিলীপ বারাল, উভয়েই দিউমাই পৌরসভার। এর এক সপ্তাহ আগে ৩ জন সিপিএন ক্যাডারকে এই জেলা থেকেই একই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সুত্রঃ http://www.myrepublica.com/news/20836/


আইএস জঙ্গি দমনে মাওবাদীদের সমর্থন চাইলেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ‘দুতার্তে’

npa-11

ফিলিপিন্সের মারাবিতে ইসলামপন্থী আইএসআইএস জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চলমান সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ১শ’ জন ছাড়িয়ে গেছে। এরমধ্যে কেবল রোববারই নিহত হয় অন্তত ১৯ জন। জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে মারাবি শহর পুনরুদ্ধারে গেল সপ্তাহে শুরু হওয়া এ অভিযানে এরইমধ্যে পালিয়ে গেছে হাজার হাজার মানুষ। জঙ্গিদের নির্মূলে সরকারকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসার জন্য মরো মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী ও মাওবাদীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে।

লানাও দেল সুর প্রদেশের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে রোববার ত্রাণ বিতরণ করে ফিলিপিন্স কর্তৃপক্ষ। মারাবি শহরে জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চলমান সংঘর্ষ থেকে বাঁচতে যারা পালিয়ে এসেছে সেই সব শরণার্থী এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। গেল সপ্তাহে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে মিনদানাও দ্বীপের হাজার হাজার মানুষ। এছাড়াও, জঙ্গিদের হাতে আটকা পড়ে আছে ২ হাজার বেসামরিক নাগরিক। বন্দী করে রাখা হয়েছে, এক খ্রিষ্টান যাজককে।

পালিয়ে আসা এক নারী বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে মৃত্যুভয় আমাদের তাড়া করে ফিরছে। বন্দুকের নলের সামনে থেকে কোনো রকমে জীবন বাঁচিয়ে পালিয়ে এসেছি। আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।’

আরেক নারী বলেন, ‘পালিয়ে আসার পর আমরা অসুস্থ হয়ে পড়েছি। সরকার আমাদের ওষুধ সরবরাহ করছে। আশা করি, খুব শিগগিরই এই অবস্থার পরিবর্তন হবে।’

ফিলিপিন্সের মারাবি শহরে জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর গেল ছয়দিনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ১শ’ জন ছাড়িয়ে গেছে। জানা গেছে, নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ। এরইমধ্যে কেবল রোববারই সহিংসতায় মারা যায় অন্তত ১৯ বেসামরিক।
পুলিশ জানায়, রোববার সকালে আটজনের মরদেহ শহরের বাইরে থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এদের সবাই পেশায় কাঠমিস্ত্রি। পুলিশের ধারণা, কোরআন পড়তে না পারায় জঙ্গিরা তাদের হত্যা করে।

এদিকে, বিচ্ছিন্নতাবাদ পরিত্যাগ করে দক্ষিণাঞ্চলে চলমান জঙ্গিবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য মুসলিম মরো গেরিলা ও মাওবাদীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। জোলো দ্বীপের একটি সামরিক ঘাঁটিতে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি মাওবাদীদের শান্তি আলোচনার মাধ্যমে কট্টরপন্থী দমনের লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। জঙ্গি দমনে মাওবাদীদের সমন্বয়ে একটি আলাদা বাহিনী গঠনেরও প্রস্তাব করেন দুতার্তে।

তিনি বলেন, ‘মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট এবং মোরো ন্যাশনাল ফ্রন্টের সদস্যের প্রতিও আমার আহ্বান আপনারা আমাদের সামরিক বাহিনীতে অংশ নিন। আমরা আপনাদের সেনা সদস্য হিসেবে সাদরে গ্রহণ করবো। সেনা সদস্যদের মতোই আপনাদের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। আমি জানি, তাদের আলাদা যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। কারণ অস্ত্র চালোনাসহ সব ধরনের সামরিক কাজে পারদর্শী তারা।’

ফিলিপিন্সে আইএস সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের উত্থানের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় আইএসের হুমকি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিপিন্সে সহিংসতা, ইন্দোনেশিয়ায় বোমা হামলা এবং মালয়েশিয়ায় আইএস সন্দেহে ছয় জনকে আটকের ঘটনায় বোঝা যায়, এশীয় অঞ্চলে পাকাপোক্তভাবেই ঘাঁটি গাড়ার চেষ্টা করছে আইএস।

সূত্রঃ  somoynews