আইএস জঙ্গি দমনে মাওবাদীদের সমর্থন চাইলেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ‘দুতার্তে’

npa-11

ফিলিপিন্সের মারাবিতে ইসলামপন্থী আইএসআইএস জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চলমান সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ১শ’ জন ছাড়িয়ে গেছে। এরমধ্যে কেবল রোববারই নিহত হয় অন্তত ১৯ জন। জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে মারাবি শহর পুনরুদ্ধারে গেল সপ্তাহে শুরু হওয়া এ অভিযানে এরইমধ্যে পালিয়ে গেছে হাজার হাজার মানুষ। জঙ্গিদের নির্মূলে সরকারকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসার জন্য মরো মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী ও মাওবাদীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে।

লানাও দেল সুর প্রদেশের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে রোববার ত্রাণ বিতরণ করে ফিলিপিন্স কর্তৃপক্ষ। মারাবি শহরে জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চলমান সংঘর্ষ থেকে বাঁচতে যারা পালিয়ে এসেছে সেই সব শরণার্থী এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। গেল সপ্তাহে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে মিনদানাও দ্বীপের হাজার হাজার মানুষ। এছাড়াও, জঙ্গিদের হাতে আটকা পড়ে আছে ২ হাজার বেসামরিক নাগরিক। বন্দী করে রাখা হয়েছে, এক খ্রিষ্টান যাজককে।

পালিয়ে আসা এক নারী বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে মৃত্যুভয় আমাদের তাড়া করে ফিরছে। বন্দুকের নলের সামনে থেকে কোনো রকমে জীবন বাঁচিয়ে পালিয়ে এসেছি। আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।’

আরেক নারী বলেন, ‘পালিয়ে আসার পর আমরা অসুস্থ হয়ে পড়েছি। সরকার আমাদের ওষুধ সরবরাহ করছে। আশা করি, খুব শিগগিরই এই অবস্থার পরিবর্তন হবে।’

ফিলিপিন্সের মারাবি শহরে জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর গেল ছয়দিনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ১শ’ জন ছাড়িয়ে গেছে। জানা গেছে, নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ। এরইমধ্যে কেবল রোববারই সহিংসতায় মারা যায় অন্তত ১৯ বেসামরিক।
পুলিশ জানায়, রোববার সকালে আটজনের মরদেহ শহরের বাইরে থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এদের সবাই পেশায় কাঠমিস্ত্রি। পুলিশের ধারণা, কোরআন পড়তে না পারায় জঙ্গিরা তাদের হত্যা করে।

এদিকে, বিচ্ছিন্নতাবাদ পরিত্যাগ করে দক্ষিণাঞ্চলে চলমান জঙ্গিবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য মুসলিম মরো গেরিলা ও মাওবাদীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। জোলো দ্বীপের একটি সামরিক ঘাঁটিতে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি মাওবাদীদের শান্তি আলোচনার মাধ্যমে কট্টরপন্থী দমনের লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। জঙ্গি দমনে মাওবাদীদের সমন্বয়ে একটি আলাদা বাহিনী গঠনেরও প্রস্তাব করেন দুতার্তে।

তিনি বলেন, ‘মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট এবং মোরো ন্যাশনাল ফ্রন্টের সদস্যের প্রতিও আমার আহ্বান আপনারা আমাদের সামরিক বাহিনীতে অংশ নিন। আমরা আপনাদের সেনা সদস্য হিসেবে সাদরে গ্রহণ করবো। সেনা সদস্যদের মতোই আপনাদের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। আমি জানি, তাদের আলাদা যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। কারণ অস্ত্র চালোনাসহ সব ধরনের সামরিক কাজে পারদর্শী তারা।’

ফিলিপিন্সে আইএস সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের উত্থানের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় আইএসের হুমকি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিপিন্সে সহিংসতা, ইন্দোনেশিয়ায় বোমা হামলা এবং মালয়েশিয়ায় আইএস সন্দেহে ছয় জনকে আটকের ঘটনায় বোঝা যায়, এশীয় অঞ্চলে পাকাপোক্তভাবেই ঘাঁটি গাড়ার চেষ্টা করছে আইএস।

সূত্রঃ  somoynews

Advertisements

৫ কমরেডকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়ার প্রতিবাদে মাওবাদীদের তীব্র সশস্ত্র অ্যাকশন চলছে

dhanbad

মুঙ্গের আদালতে ৫ কমরেডকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়ার প্রতিবাদে রেল লাইন উড়িয়ে দিল মাওবাদীরা। ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ স্টেশনের কাছে এই ঘটনা ঘটেছে। শিয়ালদহ রাজধানী এক্সপ্রেস পেরিয়ে যাওয়ার পরেই এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জেরে ধানবাদ শাখার ট্রেন চলাচল স্তব্ধ।

আজ সোমবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। ধানবাদ শাখার করমাবাদ রেললাইনে হয় এই বিস্ফোরণ। এদিনই ঝাড়খণ্ড বনধের ডাক দিয়েছে মাওবাদীরা। তার আগে রবিবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ কর্মাবাদ হল্ট স্টেশনের কাছে ডাউন লাইন উড়িয়ে দেয় তারা। এর জেরে রাঁচি-পটনা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই জমুইয়ে লক্ষ্মীপুরের কাছে আনন্দপুর গ্রামে উড়িয়ে দেওয়া হয় একটি মোবাইল টাওয়ার। এরপর গিরিডির মধুবন থানার ধাবাটাঁড়ের কাছে ডুমরি-গিরিডি রোডে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয় মাওবাদীরা। ভোরে বিরনি থানার গারাগুরুতে রাস্তা তৈরির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রেও আগুন ধরিয়ে তারা। পরপর হামলার পরে ঝাড়খণ্ড জুড়ে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কর্মাবাদে রেল লাইনে মাওবাদী হানার জেরে গতকাল রাত থেকে দিল্লি-হাওড়া রেল চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কোডারমা স্টেশনে দাঁড়িয়ে ডাউন যোধপুর এক্সপ্রেস। হাজারিবাগ স্টেশনে দাঁড়িয়ে ডাউন কালকা মেল। রফিগঞ্জ স্টেশনে দাঁড়িয়ে ডাউন আনন্দবিহার বাই উইকলি। গুজহান্ডি স্টেশনে দাঁড়িয়ে ডাউন শিপ্রা এক্সপ্রেস। গয়া থেকে ছাড়ল রাজধানী এক্সপ্রেস। অনুগ্রহ নারাণপুর রোড থেকে ছাড়ল মুম্বই মেল।

সূত্রঃ https://www.kolkata24x7.com/maoists-blew-up-railway-tracks-at-under-dhanbad.html


কর্পোরেট হাউসের স্বার্থ রক্ষা করায় অক্ষয় ও সাইনা’কে মাওবাদীদের সতর্ক বার্তা

akshay-saina

অক্ষয় কুমার ও সাইনা নেহওয়াল দুজনেই ১৬ই মার্চ মাওবাদী হামলায় নিহত ১২ জন সিআরপিএফ জওয়ানদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করায় এর নিন্দা জানিয়ে তাদের সতর্ক করে দিয়েছে মাওবাদীরা। বলিউড তারকা অক্ষয় ১২ জওয়ানের প্রত্যেকের পরিবারকে ৯ লাখ টাকা করে ও লন্ডন অলিম্পিকে ব্যাডমিন্টনে ব্রোঞ্জ জয়ী সাইনা সাহায্য করেন পরিবার পিছু ৫০,০০০ টাকা করে।

সিপিআই(মাওবাদী) দক্ষিণ বস্তার সাব জোনাল ব্যুরো কর্তৃক হিন্দি ও আদিবাসী গোন্দ ভাষায় লেখা মাওবাদীদের প্যামফ্লেটে অক্ষয় ও সাইনার নাম করে সাবধান করা হয়েছে। বলা হয়েছে, “আমরা বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, চলচ্চিত্র অভিনেতা, ক্রীড়াবিদ এবং সেলিব্রিটিদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, তারা যেন বিপ্লব এবং দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, পুলিশের অত্যাচার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দাঁড়ান । সেলেব্রিটিদের সেই সব গরীব মানুষদের কথা আগে ভাবা উচিত যাঁরা দিনের পর দিন সশস্ত্র সেনাবাহিনীর হাতে নিপীড়িত এবং নির্যাতিত হয়েছেন। ভাবা উচিত সেই সব তফশীলি আদিবাসীদের কথা যাঁদের মানবিক অধিকার থেকে চিরবঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী কর্পোরেট হাউসের স্বার্থ দেখার কাজ করে, তাদের যেন কোনওভাবেই সাহায্য না করা হয়। তার থেকে বরং শোষক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মাওবাদীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে মাওবাদীরা। জওয়ানদের পাশে দাঁড়ানো কখনওই উচিত হয়নি তাঁদের। জওয়ানরা কোনওভাবেই দেশের জন্যে প্রাণ দেননি। তাঁরা বড় বড় ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক নেতাদের স্বার্থ রক্ষার জন্যে কাজ করতেন। স্থানীয় গরিব মানুষদের উপর অত্যাচারের জন্যে তাঁদের উচিত শিক্ষা দিয়েছে পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি”।

প্যামফ্লেটে গো রক্ষা কর্মীদের ভূমিকার সমালোচনা করে অভিযোগ করে মাওবাদীরা বলেন যে, এসব গো রক্ষা কর্মীরা দরিদ্র দালিতদের এবং মুসলমানদেরকে গরু রক্ষা করার নামে হত্যা করছে।

ছত্তিসগড়ের বাস্তার জেলার দক্ষিণে দান্তেওয়াড়ার বয়লাডিলা এলাকায় পাওয়া গিয়েছে ওই প্যামফ্লেট। সংগঠনের অর্ধশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সপ্তাহভর উৎসব করছে মাওবাদীরা। সেই উপলক্ষ্যে এই প্যামফ্লেট ছাপিয়ে তারা বিলি করছে।

সূত্রঃ http://www.hindustantimes.com/other-sports/saina-nehwal-akshay-kumar-threatened-by-maoists-for-helping-slain-crpf-jawans-kin/story-6Oe4XIcPSv18D6hoKbhR0K.html


৫ কমরেডকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়ায় ‘বিচারক’কে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিল মাওবাদীরা

munger_6_1495698494

২০১৪ সালের ২৫শে মে বিহারে লোক সভা নির্বাচনের সময় বোমা বিস্ফোরণে ২ সিআরপিএফ জওয়ান নিহতের ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার ৫ মাওবাদী সহকর্মী – বিপিন মণ্ডল, অধিকলাল পণ্ডিত, রাতু কোডা, ওয়ানো কোডা এবং মনু কোডা’কে অভিযুক্ত করে নিম্নআদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়ায় ঐ মামলার বিচারককে পাল্টা মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে মাওবাদীরা।

জনগণকে নিয়ে গঠিত মাওবাদীদের  ‘জন আদালত’ এ বিচার করে অতিরিক্ত জেলা জজ-১, মুঙ্গার, জ্যোতি স্বরূপ শ্রীবাস্তবকে এই মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।

এই প্রথম মাওবাদীরা কোন বিচারককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিল। অতীতে তারা রাজনীতিবিদ ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়েছিল।

সিপিআই(মাওবাদী) বিহার-ঝাড়খন্ড সীমান্ত আঞ্চলিক কমিটি কর্তৃক লালজিত কোডা স্বাক্ষরিত, উত্তর বিহারে প্রচারিত এক চিঠিতে- এই পাঁচ “নির্দোষ কৃষক”কে শাস্তি দেওয়ার নিন্দা করে এবং এই আদেশের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের জন্য আহ্বান জানানো হয়। এই ঘটনায় আজ ও কাল- ২৮ ও ২৯শে মে ৫ জেলায়(বাঙ্কা, ভাগলপুর, লাক্ষিসারই, জামুই ও মুঙ্গের) বনধ ডেকেছে মাওবাদীরা।


সূত্রঃ
http://www.hindustantimes.com/india-news/maoists-threaten-to-kill-judge-who-awarded-death-penalty-to-five-maoists-in-bihar/story-zxNB11oaCTikOp4XwzLRKI.html


ফিলিপাইনঃ মাওবাদীদের সাথে শান্তি আলোচনা স্থগিত করল সরকার

npainternationale12-22-2016-02-800x445

মাওবাদীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থগিত করেছে ফিলিপাইন সরকার। শনিবার নেদারল্যান্ডসে মাওবাদীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা বাতিলের ঘোষণা দেন সরকার পক্ষের আলোচকরা। সম্প্রতি মাওবাদীদের সশস্ত্র শাখা ‘নিউ পিপলস আর্মি’ (এনপিএ)-র পক্ষ থেকে দেশজুড়ে হামলা জোরদারের প্রেক্ষিতে আলোচনা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও আরেকটি শান্তি আলোচনা ভেস্তে যায়। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। প্রায় ৫০ বছর ধরে ফিলিপাইনের ভূখণ্ডে নয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে আসছে এনপিএ। সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের দীর্ঘ লড়াইয়ে উভয় পক্ষের ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দীর্ঘ এ সংঘাত থামাতে নরওয়ের মধ্যস্থতায় আলোচনায় সম্মত হয় উভয় পক্ষ। তবে মাওবাদীদের তৎপরতা জোরদারের মুখে সে আলোচনাও ভেস্তে গেলো। নেদারল্যান্ডসের আলোচনায় এনপিএ-র রাজনৈতিক শাখা ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের সঙ্গে ফিলিপাইন সরকারের আলোচনায় বসার কথা ছিল। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা জেসাস দুরেজা বলেন, সরকার আলোচনা স্থগিত করেছে। কারণ মাওবাদীরা প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে-র শান্তি আলোচনায় সায় দেয়নি।


রোজাভা থেকে তুরস্কের মাওবাদী TKP/ML-র গেরিলা যোদ্ধার চিঠি (ইংরেজি থেকে অনুবাদ)

10380994_173384719717563_1837776385379154892_n

রোজাভার চিঠিঃ “আমরা যুদ্ধ করার মধ্য দিয়েই যুদ্ধ শিখি”

চিঠিটা লিখেছেন তুরস্কের একজন TKP/ML গেরিলা যোদ্ধা (ইংরেজি থেকে অনুবাদ)

বিপ্লব একটা পথ; জনগণ যখন এ পথে পা বাড়ায় তারা একটা অচেনা পৃথিবীর দরজাই খোলে। আমরা এ পথে এসেছি আগুন ও মাটিকে ভালবেসে। আমরা এ পথে হাটা শুরু করেছি ব্যক্তিগত সম্পদের সাথে সব ধরনের যোগসুত্র ছিন্ন করে, একজন নবজাতকের মত জীবনে পদার্পণ করতে পেরে যে খুব খুশি ও আশাবাদী। আমরা এ পথে হাটা শুরু করেছি মধ্যরাত্রে, চাঁদের আলো আমাদের পথ দেখিয়েছে। যে বন্ধুরা আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে তারা সতর্কবাণী দিয়েছে, আমরা হাটতে শুরু করেছি। উচু উচু পর্বত, প্রমত্ত নদী ও গম ক্ষেতের বিষাক্ত গন্ধ পেরিয়ে আমরা অবশেষে রোজাভায় এসে পৌঁছেছি। আমাদের ভ্রমন ছিল মোট চৌদ্দ ঘন্টা, কোন রুটি, কোন পানি ও সিগারেট ছাড়া। এমন সব মানুষের সাথে যাত্রা যাদেরকে আমরা আগে কখনো দেখিনি….রাতের অন্ধকারের কারনে, এসব বন্ধুদের মুখ পর্যন্ত দেখতে পাইনি। এটা অবাক করার মত, হতে পারে তাদের কারো কারো সাথে পাশাপাশি যুদ্ধ করছি একই অবস্থানে দাঁড়িয়ে। হতে পারে অন্যের বাহুতেই শেষ নিশ্বাসটি নিয়েছি কিন্তু জানা হয়নি তার প্রিয় বই কিংবা প্রিয় মুভি কি।

আমরা এখন রোজাভায়। এখানে কেবল অস্ত্রধারীরাই মিলিত হয় আর চুমু খায়। একটা উষ্ণ অভ্যর্থনার পর আমরা চা পান করলাম,চিজ দিয়ে রুটি খেলাম। সবার উৎসুক দৃষ্টি। প্রত্যেকের চোখ অন্যের চোখের উপর, অন্যের দিকে তাকিয়ে এমনতর কমরেডসুলভ হাসির মধ্যে যেন তলিয়ে গেছে সমস্ত ক্লান্তি।

তিন/চার দিন অপেক্ষার পর সংগঠন আমাদেরকে ফ্রন্টে নিয়ে গেল, যেখানে আমরা যুদ্ধ করব। উভয় পাশে দুটো পর্বত দাঁড়িয়ে : একটা ধুলো দিয়ে তৈরি অন্যটা ধোয়ায়। এক পাশে আব্দুল আজিজ পর্বত অন্য পাশে সেনগাল পর্বত। আর বাকী যা তা হল বিশাল শুন্যতা, এক উষর প্রান্তর সমতল ও অনুর্বর, গাছের চিহ্নমাত্র নেই। তাপমাত্রা যে কারো চোখকে বিষন্ন করে দিতে পারে। প্রত্যেক দিনই ধুলিঝড় দৃষ্টিসীমা শুন্যের কাছাকাছি নিয়ে আসে। আমরা যেখানে আছি সেখানে কমরেডরা এসেছে কুর্দিস্তানের চার কোনা থেকে- টার্কি, ইরান,ইরাক ও সিরিয়া থেকে। সবাই তরুন যোদ্ধা জীবনী শক্তিতে ভরপুর। এটা আমাকে আহমেদ আরিফের কবিতা মনে করিয়ে দেয় : ‘যদি তুমি আমার ভাই বোনদের জান, তারা কতোটা ভাল তবে আমিও তোমাকে জানাব ‘।

ব্যাটেলিয়নে যৌথজীবন পদ্ধতি। যা কিছু করা হবে তার পরিকল্পনা যৌথভাবেই হয়। এখানে আমাদের বন্ধুত্বটাই আসল। অনেক বন্ধুরা TKP-ML/TiKKO সম্পর্কে জানেনা। এটা তাদের জন্য উৎসুকের ব্যাপার যে YPG/YPJ ছাড়াও তাদের জন্য আরেকটি সংগঠন রয়েছে। যখন আমরা বলি, আমাদের রোজাভায় আসার কারন আমাদের পার্টি, আমাদের বন্ধুত্ব দৃঢ হয় এবং একে অপরের প্রতি আত্মবিশ্বাস প্রসারিত হয়।আমাদের ব্যাটেলিয়নে আমাদের একটা স্লোগান আছে,” চা, সিগারেট এবং যুদ্ধ “।এই তিনটা জিনিস যেন এখানে দৃঢভাবে গেঁথে আছে।

আমরা সম্মুখ সমরে। ISIL গ্যাংদের থেকে আমাদের অবস্থান মাত্র সাতশত মিটার দুরে। প্রতিদিনই কোন না কোন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়। মর্টার, মিসাইল, বুলেট আমাদের কালোরাতকে আলোকিত করে। রাতে আমরা এম্বুশের জন্য অপেক্ষা করি, আমাদের ক্ষেত্র তৈরি করি । কোন কোন দিন আট থেকে দশ ঘন্টা সারভেইলেন্স ডিউটি থাকে। আমাদের মনোবল দৃঢ় কারন আমরা যুদ্ধের মধ্যেই তাকে কেন্দ্রীভূত করতে পেরেছি। এখানে শহর ও যুদ্ধক্ষেত্র সম্পর্কে অনেককিছু শিখেছি, আমাদের নেতা কমরেড ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া ঠিক যেমনটি আমাদের শিখিয়েছিলেন :” আমরা যুদ্ধ করার মধ্য দিয়েই যুদ্ধ শিখি”। স্বাধীনতা মানে হল নিজের আবশ্যক বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং পার্টির নির্দেশনা মতো আমরা সর্বহারা শ্রেণীর ডাকে সাড়া দিতে প্রস্তুত। আত্মবিশ্বাসের সাথে ছোট ছোট পদক্ষেপে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব, আমরা এটাও অবশ্যই বিনয়ের সাথে স্মরন করব- আমাদের ক্ষমতা ও আদর্শের ব্যাপ্তি।

কমরেড সেফাগুল কেশকিন আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন : “প্রত্যেকে অবশ্যই তাদের দায়িত্ব পালন করবে”। আমরা আমাদের নির্দেশনা পেয়েছি, আমরা আমাদের কাজের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। সে সব কাজ আজ রোজাভায়, আগামীকাল দারসিমে তারপর কৃষ্ণসাগরে- আমরা আমাদের কাজ করে যাব। আর সবসময় এই কথাটিই স্মরন করব, পুনরাবৃত্ত করব: যেখানে নিপীড়ন আছে, সেখানে প্রতিরোধ আছে এবং কমরেড ইব্রাহিম সেখানেই আছেন।

রোজাভা থেকে একজন TKP/ML গেরিলা যোদ্ধা।

অনুবাদঃ সাইফুদ্দিন সোহেল

সূত্রঃ http://www.signalfire.org/2016/03/16/hi-comrades-a-letter-from-a-tkpml-tikko-fighter-in-rojava/


ভূমি আইনে পরিবর্তন আনার প্রতিবাদে ঝাড়খণ্ডের রেলস্টেশনে মাওবাদীদের আগুন

naxals-3

ঝাড়খণ্ড রাজ্যে ২টি ভূমি আইনে পরিবর্তন আনার প্রতিবাদে বোকারো জেলার ডুমরি বিহার স্টেশনে বৃহস্পতিবার রাতে হামলা চালায় মাওবাদীরা ৷

এসময় স্টেশন চত্বরের বেশ কিছু স্থানে মাওবাদীরা পোস্টার লাগিয়ে দেয় ৷ পোস্টারে মাওবাদীরা-  দুইটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির সংশোধনীর বিরোধিতা করেছে, আর তা হল- ছোট নাগপুর টেন্যান্সি অ্যাক্ট এবং সাঁওতাল পরগণা টেন্যান্সি অ্যাক্ট, যেগুলি অকৃষি উদ্দেশ্যে কৃষি জমির ব্যবহারকে সহজ করে দেয়।

রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ এই হামলা হয় বলে জানা গিয়েছে।  রেলওয়ে স্টেশনের সিগন্যাল এবং একটি মালগাড়ির ইঞ্জিনে আগুন লাগিয়ে দেয় তারা ৷

সূত্রের খবর, মাওবাদীরা সংখ্যায় ছিল প্রায় ৫০ থেকে ৬০জন ৷ এর মধ্যে মহিলারাও সামিল ছিল ৷ এই ডুমরি-বিহার স্টেশনটি বরকাকান-গোমিয়া রুটে রয়েছে ৷ এই স্টেশনে মাওবাদীরা হামলা চালায় ৷

শুধু তাই নয়, মালগাড়ির চালকের কাছে থেকে ওয়াকিটকি কেড়ে নেয় তারা। এই হামলার পরে এলাকাজুড়ে তল্লাশি অভিযানে নেমেছে পুলিশ ৷ বন্ধ করে দেওয়া হয় রেল-পরিষেবাও ৷ হামলার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে সিআরপিএফ উপস্থিত হয় বলে জানা যায় ৷

সূত্রঃ http://english.manoramaonline.com/news/nation/2017/05/26/maoists-torch-jharkhand-railway-station.html