মাওবাদীদের শহীদ সপ্তাহে প্রায় ১০০০ জন গ্রামবাসী অংশ নিয়েছে, শহীদদের হত্যার বদলা নেয়ার শপথ

weak_6156

৩১শে অক্টোবর ২০১৬ সালে রামগুদায় মাওবাদীদের গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে সিপিআই(মাওবাদী) বলেছে যে, এর জন্যে সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে। মাওবাদীরা, তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার এবং শহীদ কমরেডদের মতাদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

অন্ধ্রপ্রদেশ-উড়িষ্যা সীমান্তে গতকাল শুক্রবার থেকে সিপিআই(মাওবাদী) ‘শহীদ সপ্তাহ’ উদযাপন শুরু করেছে, চলবে ৩রা আগস্ট পর্যন্ত। সরকারী নিরাপত্তা কর্মীদের কঠোর অভিযান জোরদার সত্ত্বেও, সভাটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পূর্বাঞ্চলের মাওবাদীদের পরিচালিত এই কর্মসূচিতে প্রায় ৭০০ থেকে ১০০০ জন গ্রামবাসী অংশগ্রহণ নেয়। মাওবাদীরা এ সময় লাল কাপড় দিয়ে একটি তোরণকে সজ্জিত করে এবং স্লোগান দেয়। অক্টোবরে নিহত মাওবাদী কমরেডদের, কমরেড চারু মজুমদার ও কানহাই চ্যাটার্জী’র স্মরণে লাল সালাম দেওয়া হয়। “বনের সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদ আদিবাসীদের,” এই স্লোগানটি বার বার দেয়া হয়। একই সাথে রায়গাদা, গোররালমেটটা, ক্যাপ্টোটি এবং কোরাপুটের শহীদ মাওবাদীদের উদ্দেশ্যেও লাল সালাম দেওয়া হয়ে।

মাওবাদী স্কোয়াডের নেতা দাবি করেন যে, একটি বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে আদিবাসী আন্দোলনকে রাজ্য সরকার চাপ দিচ্ছে। গ্রামের তরুণদের মিলিশিয়া সদস্য এবং সিপিআই(মাওবাদী)’র সহানুভূতিশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। একজন মাওবাদী নেতা অভিযোগ করেন যে, পুলিশ অবৈধভাবে গ্রামের তরুণদের আটক করছে। পুলিশের চর হয়ে কাজ করার জন্যে এসব যুবকদের চাপ দেয়া হচ্ছে।

মাওবাদী নেতা অভিযোগ করেন কোরুনপুরা, জি কে ভীডি মণ্ডল, মানদপল্লী, ভেলামজুবী এবং অন্যান্য ভেতরের দিকের গ্রামের আদিবাসীদের চিন্তাপল্লী, আন্নাভারাম ও জি কে ভীডি এর কারাগারে আটকে রেখেছে পুলিশ। “পুলিশ যুবকদের আটক করেছে এবং তাদের পরিবারকে জানানো হচ্ছে না,” বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, কিছু আদিবাসী নেতা এই এলাকায় খনির মাফিয়াদের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিশাখা গ্রামীণ এসপি ও মালকানগিরি’র এসপি নির্দোষ আদিবাসীদের আটক করছে।

সূত্রঃ http://timesofindia.indiatimes.com/city/visakhapatnam/nearly-1000-take-part-in-maoists-martyrs-week-red-ultras-vow-to-avenge-ramaguda-encounter/articleshow/59814095.cms

Advertisements

শাসক শোষক গোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক শক্তিকে ব্যবহার করার নতুন অপকৌশল

lqreb_227301

গৌর হরি দাস ॥ পুঁজিবাদী সমাজের মতাদর্শগত ভিত্তি জাতীয়তাবাদ। যে জাতীয়তাবাদের উদ্ভব হয় সামন্তবাদের গর্ভেই। সমাজ বিকাশের অগ্রগতির ধারায় সামন্তবাদকে উচ্ছেদ করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পুঁজিবাদ। প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় রাষ্ট্র; এই জাতীয় রাষ্ট্রে বুর্জোয়া শ্রেণি হয়ে ওঠে সকল ক্ষমতার একচ্ছত্র মালিক। জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে জাতীয়তাবাদের আসল চেহারা মূর্ত হয়ে ওঠে। যে সাম্য, মৈত্রী স্বাধীনতার স্লোগান দিয়ে শ্রমিক কৃষক জনগণের ভবিষ্যত নিশ্চিত করার কথা বলে বুর্জোয়া শ্রেণি রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের উদ্দেশ্যে ইতিপূর্বের দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। বুর্জোয়া শ্রেণি রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে সম-অধিকারের পরিবর্তে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয় নির্মম নিষ্ঠুর নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা, মজুরি দাসত্ব। সেই সাথে মজুরি দাসত্বের জগদ্দল পাথরের নিচে চাপা পড়ে শ্রমজীবী মানুষের সকল অধিকার। গণতান্ত্রিক বিপ্লবের ভিতর দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন বুর্জোয়া শ্রেণি সামন্ততন্ত্রের পরিপূর্ণ উচ্ছেদ করে এবং সামন্ত মতাদর্শের মূল ভিত্তি ধর্মকে রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে নির্বাসনে পাঠায়। রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে পৃথক করা হয়। ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের বিষয়ে পরিণত হয়। রাষ্ট্র হয় প্রকৃত পক্ষেই সেক্যুলার। ধর্ম নিরপেক্ষতা বলতে আমাদের দেশের শাসক শোষক গোষ্ঠীর মতো ধর্মনিরপেক্ষ নয়। আমাদের দেশের শাসক শোষক গোষ্ঠী ধর্মের প্রতি তার অবিচল আস্থার মনোভাবের প্রকাশ ঘটাতে প্রচার করে থাকে, ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়।

বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল ধারার রাজনীতি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ উগ্র জাতীয়তাবাদী যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে থাকে। তাদের এই ধর্মনিরপেক্ষতার মধ্যেই বিদ্যমান রয়েছে সাম্প্রদায়িকতা। এ বাদে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক ধারায় আর এক ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে যারা সরাসরি ধর্ম রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে থাকে। বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলো মূলত এই দুই ধারার বিভক্ত হয়ে রাজনীতি করে চলেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ধর্মীয় মতাদর্শকে লালন পালন করা হচ্ছে কার্যত সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিকে। বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল ধারার রাজনৈতিক দলগুলো কখনও উগ্র জাতীয়তাবাদ আবার কখনও সাম্প্রদায়িকতার তথা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি স্লোগান দিয়ে সামনে আসে। এই পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিয়েই তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করে রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভ করে থাকে। আধা সামন্তবাদী, নয়া ঔপনিবেশিক দেশ হওয়ায় এদেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের প্রকৃত ক্ষমতা থাকে সাম্রাজ্যবাদী প্রভুর হাতে। তাই ক্ষমতা দখল করতে করতে হলে প্রভু সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে তুষ্ট করতে হয়। সাম্রাজ্যবাদী প্রভু যে রাজনৈতিক দল লগ্নি পুঁজির স্বার্থ রক্ষায় সব থেকে বেশি উপযোগী বলে বিবেচিত হয় তাকেই ক্ষমতায় বসায়। জনগণকে নির্বাচন দেখিয়ে বা অন্য কোনভাবে ক্ষমতায় আনে সাম্রাজ্যবাদ। যখন এই প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্র ব্যবস্থা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে বা জনগণ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে তখনই সাম্রাজ্যবাদী প্রভুর ইঙ্গিতে রাষ্ট্র দখল করে সেনাবাহিনী। সামরিক সরকার জনগণে সামনে নতুন করে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসে। যে প্রতিশ্রুতি দিক না কেন তার ভিত্তি হলো ধর্মকে রক্ষা করা তথা সাম্প্রদায়িকতা অথবা উগ্র জাতীয়তাবাদ।

বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল সকল রাজনৈতিক শক্তিই ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে চলেছে। তবে প্রতিক্রিয়াশীলদের এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। সকল প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অসম্প্রদায়িক শক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার এবং প্রতিপক্ষকে সাম্প্রদায়িক শক্তি হিসাবে পরিচিত করার অপপ্রয়াস চালিয়ে থাকে। রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার হাতিয়ার ব্যবহারের দৃষ্টান্ত আজ থেকে শুরু হয়নি। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ভারতেই ব্রিটিশ রাজশক্তির সহযোগিতায় এ দেশের রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার শুরু হয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির নীতি ছিল ‘বিভক্ত কর এবং শোষণ কর’। এই নীতির ভিত্তিতে ভারতের প্রধান দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়কে পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড় করানো হয়। ভারতে মুৎসুদ্দি পুঁজিপতি শ্রেণির উদ্ভবের সাথে সাথে গড়ে ওঠে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ। সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে রাজনৈতিক দল। এই সময়ে মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের সামন্ত-মুৎসুদ্দি শ্রেণির নেতৃত্বে গড়ে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির প্রত্যক্ষ পৃষ্টপোষকতায় গড়ে উঠে এই দুই রাজনৈতিক দল। তারা সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে নির্বাচনের আয়োজন করে সমাজের সর্বস্তরে অতি সহজেই সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প ছড়িয়ে দেয়। পরবর্তিকালে ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি নয়া ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র সৃষ্টি তার শাসনভার তুলে দেয় তাদেরই সৃষ্ট সামন্ত-মুৎসুদ্দি শ্রেণির দুই রাজনৈতিক শক্তি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের হাতে। সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশ বিভক্ত হয়। শত শত বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসকারী দুই সম্প্রদায়ের কোটি কোটি মানুষ আশ্রয় ও নিরাপত্তার সন্ধানে উদ্বাস্তু হয়ে ছুটতে থাকে।

সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে দেশ বিভক্তি যে স্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি হয়, যে রক্তক্ষরণ তার দাগ এখনও মুছে যায়নি। এখনও সেই আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে উদগিরণ ঘটে তার বিষবাস্প, ছাই দিয়ে এখনও সমাজকে আচ্ছন্ন করে চলেছে। ১৯৭১ সালে উগ্র জাতীয়তাদের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র বিভক্ত হয়ে নয়া ঔপনিবেশিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠিত হলেও সাম্প্রদায়িকতার সমস্যা সমাধান এখও হয়নি। তাই এখনও শাসক শোষক গোষ্ঠীর একাংশ এখনও অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্লোগান দিয়ে নতুন রূপে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। সাম্প্রদায়িকতার মূল ভিত্তি অবক্ষয়ি সামন্ত মতাদর্শ। সামন্ত সমাজের মতাদর্শগত ভিত্তি ধর্ম। সমাজের উৎপাদন শক্তি ও উৎপাদন সম্পর্কের মধ্যে এখনও অবক্ষয়ি সামন্ততন্ত্রের অবশেষ টিকে রয়েছে। সমাজের অর্থনৈতিক ভিত্তিতে সামন্ত অবশেষসমূহ টিকে থাকায় এর প্রভাব পড়েছে সংস্কৃতিতে। তাই ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার প্রভাব আমাদের সাংস্কৃতি এত প্রবল। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে গেলে সমাজের অর্থনৈতিক ভিত্তি থেকে সামন্ততন্ত্রকে নির্মূল করতে হবে। সেই কাজ না করে বা সামন্ত অবশেষসমূহকে টিকিয়ে রেখে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্লোগানের রাজনীতিতে রয়েছে সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার। বরং এটা গাছের গোড়ায় সার, পানি দিয়ে গাছের আগা ছেঁটে দেওয়ার রাজনীতি। এ রাজনীতি দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার বাড় বৃদ্ধি ঘটবে ছাড়া সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল হবে না। সামন্ত সমাজে রাজার ছেলে রাজা হয়। সামন্ত সমাজের উত্তরাধিকার এই নিয়ম আমাদের বড় দুই প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলের মধ্যেই প্রচলিত রয়েছে এবং তার চর্চা চলছে। তাই সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া বিএনপি নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী। অনুরূপভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকারী তারেক জিয়া আগামী দিনে বিএনপির পরবর্তি নেতা। একইভাবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। পরবর্তিতে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অনেকে দলের নেতা হিসাবে ভাবছেন।

বাংলাদেশে সামন্ততন্ত্রের অবসান ঘটেনি। তারই প্রভাব পড়ছে দেশের রাজনীতিতে। দেশে স্বৈরতন্ত্রের শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার প্রভাবও বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে হেফাজতে ইসলাম নেতৃবৃন্দের বৈঠক, কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রির সমমান ঘোষণা ও হাইকোর্টের ভাস্কর্য অপসারণে হেফাজতে ইসলাম নেতৃবৃন্দের সাথে সহমত পোষণ করা, বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

সামন্ত-মুৎসুদ্দি শ্রেণির পক্ষে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে এড়িয়ে, কিংবা সম্প্রদায়িকতা মুক্ত হয়ে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। সামন্ত-মুৎসুদ্দি শ্রেণি তার প্রয়োজনে কখনও সাম্প্রদায়িকতা গোপনে ব্যবহার করে; আবার কখনও বা প্রকাশ্যে ব্যবহার করে। তাই শাসক শোষক গোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িকতার প্রকাশ্য ব্যবহার মধ্যে দিয়ে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসলেও বিষ্মমের কিছু থাকবে না।

সূত্রঃ সাপ্তাহিক সেবা, বর্ষ-৩৭।।সংখ্যা-০২, রোববার।। ২৫ জুন ২০১৭


ছত্তীসগঢ়ে মাওবাদী অধ্যুষিত বস্তারে নিজেদের ক্ষমতা বাড়াচ্ছে সিআরপিএফ

crpf-696x436

মাওবাদী উপদ্রুত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত বস্তার। সাম্প্রতিক কালে বেশ কয়েক বার মাওবাদীদের হাতে পরাস্ত হতে হয়েছে সিআরপিএফকে। সেই সব হামলা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার ওই অঞ্চলে নিজেদের শক্তি আরও বাড়াচ্ছে তারা।

বস্তারে আরও দুই ব্যাটিলিয়ন জওয়ান মোতায়েন করা হবে বলে জানান সিআরপিএফের ডিরেক্টর জেনারেল আর আর ভাটনগর। তাঁর কথায়, “এক ব্যাটিলিয়ন জওয়ান বস্তারে পৌঁছেছে। আরও এক ব্যাটিলিয়নকে পাঠানো হচ্ছে।” উল্লেখ্য, একটি ব্যাটিলিয়নে এক হাজার জওয়ান থাকে।”

বস্তারের সুকমা এবং বিজাপুর জেলায় এই জওয়ানদের মোতায়েন করা হবে। সিআরপিএফ সূত্রে জানানো হয়েছে, এই দুই জেলা নিয়ে বিস্তার করা অবুঝমাড় জঙ্গলে তাদের নতুন ক্যাম্প বসানো হবে, যাতে মাওবাদীদের সঙ্গে পালটা লড়াই করা যায়। প্রসঙ্গত অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং ছত্তীসগঢ়ের সীমানায় অবস্থিত এই জঙ্গল এলাকাটি মাওবাদীদের সব থেকে শক্তিশালী ঘাঁটি বলে পরিচিত।

মাওবাদী দমনে সিআরপিএফের অস্ত্রেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সাধারণত সিআরপিএফ জওয়ানদের কাছে ইনসাস বন্দুক থাকে, কিন্তু এ বার থেকে তাদের ‘একে’ সিরিজের বন্দুক দেওয়া হবে। শীঘ্রই জওয়ানদের হাতে এক-৪৭ এবং একে-৫৬ বন্দুক পৌঁছে যাবে। ভাটনগরের কথায়, “দেশে একমাত্র দক্ষিণ বস্তারেই এখন মাওবাদীর প্রভাব সব থেকে বেশি। সেটাই কমানোর পরিকল্পনা করছি।”

এর পাশপাশি জওয়ানদের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও ভাবাচ্ছে সিআরপিএফকে। এর জন্য আরও কিছু পদক্ষেপ করা হচ্ছে সিআরপিএফের তরফ থেকে। ভাটনগরের কথায়, “জওয়ানদের নিরাপত্তা এখন আমাদের প্রধান চিন্তার বিষয়। পুলিশের সঙ্গে এখন আমাদের সমন্বয় আগে থেকে অনেক ভালো হয়েছে।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক কালে সিআরপিএফের ওপর সব থেকে ভয়ংকর মাওবাদী হামলাগুলি ঘটেছে এই বস্তার অঞ্চলেই। এ বছরের মার্চ এবং এপ্রিলে সিআরপিএফের ওপর দু’টি পৃথক মাওবাদী হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন যথাক্রমে ১২ এবং ২৫ জন জওয়ান। ২০১০-এ এই অঞ্চলেই মাওবাদী হামলায় নিহত হয়েছিলেন ৭৫ জন জওয়ান।

সূত্রঃ http://khaboronline.com/news/national/crpf-is-increasing-their-strenght-and-firepower-in-maoist-hit-areas/


ভারতঃ নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে নকশালরা

498914-jpg_343333_1000x667

ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের লাগোয়া সীমান্তে নকশালরা তাদের “আন্দোলন” বাড়ানোর এবং তাদের কর্মকান্ড তীব্র করার চেষ্টা করছে, এমন একটি সরকারি ব্যক্তির দলিল থেকে গত সোমবার এ তথ্য জানা যায় ।

নকশাল কমিটিগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ – ছত্তিশগড়ের দক্ষিণ সীমান্ত বরাবর দণ্ডকারণ্য বিশেষ অঞ্চল কমিটি (DKSZC), এই আন্দোলনের পেছনে কাজ করছে।

“নতুন এলাকাগুলিতে নিজেদের আন্দোলন সম্প্রসারণ ও দণ্ডকারণ্য অঞ্চলের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর মনোযোগ আকর্ষণের লক্ষ্যে সিপিআই(মাওবাদী) ছত্তিশগড় -মধ্যপ্রদেশ – মহারাষ্ট্র তিন জংশনে-তাদের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করেছে।

“তারা এই এলাকাটিকে একটি নতুন এলাকা হিসেবে উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে, যার জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে,” তিনি বলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক উপস্থাপিত এই দলিল বলছে, “DKSZC, ঐ এলাকায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাজে অংশগ্রহণের জন্য পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি (পিএলজিএ)’র প্রায় ৬০ জন ক্যাডারকে পাঠানো হয়েছে,” ।

একইভাবে পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা-ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তীসগঢ়-ঝাড়খণ্ডের মতো অন্যান্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় সীমানাতেও সিপিআই (মাওবাদী) কার্যক্রমকে “একত্রীকরণ ও সম্প্রসারণ” হিসাবে দেখা হচ্ছে।

 


আদিবাসীদের কমিউনিস্ট স্কুল উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তের

2-communist-party-philippines-ndf-filipino-children

বোমা মেরে লুমাড নামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্কুল উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন ফিলিপাইনের বহুল বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে। শিক্ষকরা স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহী হওয়ার শিক্ষা দেন; এমন অভিযোগ তুলে স্কুলে বোমা হামলার হুমকি দেন তিনি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দুয়ার্তের এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি মাসেই আইএস-এর পর মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের নিশানা করবেন বলে জানিয়েছিলেন ফিলিপাইনের এই বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট।

সোমবার টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশজুড়ে সেতু আর স্কুল ধ্বংসের নিন্দা জানান দুয়ার্তে। তবে লুমাডদের স্কুল সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, স্কুলগুলো সরকার নয়, পরিচালিত হয় কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের কথায়। দুয়ার্তে ওই বক্তৃতায় বলেন, ‘লুমাড জনগোষ্ঠীকে বলছি, এইসব ছাড়ুন। আপনাদের অবকাঠামোসহ সবকিছু আমি বোমা মেরে উড়িয়ে দেব’।

উল্লেখ্য অস্ত্রভক্তির জন্য দুয়ার্তের পরিচিতি রয়েছে। গত বছর নভেম্বরে নিজ হাতে গুলি করে হত্যার কথাও স্বীকার করেন দুয়ার্তে। তখন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-কে তিনি জানান, দাভাও শহরের মেয়র থাকাকালে তিনি তিন সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। ওই শহরে দুয়ার্তে ২০ বছর ধরে নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। চলতি মাসে দুয়ার্তে মারাউই সিটির একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সেনাদের উদ্দেশে বলেন, আইএসের সঙ্গে জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ের পর তারা কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের দমনে যুদ্ধে নামবেন।

সূত্রঃ banglatribune


ফিলিপাইনে আইএসের পর প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তের টার্গেট মাওবাদী কমিউনিস্টরা

npa-4

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে জানিয়েছেন, ‘আইএস বোকাদের দমনের পর এবার তার লক্ষ্য কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের উৎখাত করা।’ কয়েকটি হামলার পর কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বাতিল করে এ লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন বন্দুকভক্ত প্রেসিডেন্ট বলে পরিচিত দুয়ার্তে।

বৃহস্পতিবার দুয়ার্তে মারাউই সিটির একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সেনাদের উদ্দেশে বলেন, আইএসের সঙ্গে জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ের পর তারা কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের দমনে যুদ্ধে নামবেন।

দুয়ার্তে বলেন,  এখানে ওই বোকাদের (আইএস) দমনের পর আমরা নিউ পিপল’স আর্মির বিরুদ্ধে নতুন অভিযান শুরু করব।

নিউ পিপল’স আর্মি হচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টি অব দ্য ফিলিপাইনের সশস্ত্র বাহিনী।

দুয়ার্তে আরও বলেন, তাদের আমি আর আলোচনা করতে চাই না। তারা আমাদের অনেক সেনাদের হত্যা করেছে, অনেক পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে। ভাবতে পারেন বাজারে যাওয়ার সময় দুই সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। এটা আমাকে ক্ষুব্ধ করেছে।

চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে নেদারল্যান্ডসে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের মধ্যস্ততাকারীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসার কথা ছিল। কিন্তু দুয়ার্তের নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলার পর আলোচনাটি বাতিল করা হয়েছে।

শুক্রবার দুয়ার্তের মুখপাত্র আর্নেস্টো আবেলা সাংবাদিকদের বলেন, মেনে নেওয়ার মতো শর্তে উভয় পক্ষ রাজি না হওয়া পর্যন্ত সবকিছু স্থগিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দশক ধরেই ফিলিপাইনে কমিউনিস্ট ও মুসলিম বিদ্রোহীরা সশস্ত্র সংগ্রাম করে আসছে। দেশের বিভিন্ন অংশে সরকারি সেনাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে তারা।

সূত্র: আল জাজিরা।


বোকো হারামের চেয়েও ভয়ঙ্কর মাওবাদীরা: যুক্তরাষ্ট্র

498918-jpg_343332_1000x667

নাইজেরিয়ার সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বোকো হারামের থেকেও ভয়ঙ্কর মাওবাদীরা, এক মার্কিন প্রতিবেদনে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, জঙ্গিহামলার মোকাবিলায় ইরাক এবং আফগানিস্তানের পর তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে সবচেয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে আইএস এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তালিবান। তবে বোকো হারামের মতো বিপজ্জনক-ভয়ঙ্কর সংগঠনকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে মাওবাদীরা। তাদেরকেই সন্ত্রাসবাদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রাখা হয়েছে।

তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসের মাত্রা গত বছর ৯৩শতাংশ বেড়ে গেছে। যদিও, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে সন্ত্রাস আরও ৫৪.৮১শতাংশ বেড়েছে। আগে ভারতের স্থানে ছিল পাকিস্তান। এনসিটিআরটি-এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদী হামলায় মৃত এবং আহতদের সংখ্যা এখন পাকিস্তানের থেকেও বেশি ভারতের। ……………..

সূত্র: কলকাতা টোয়েন্টিফোর

http://www.bd-pratidin.com/international-news/2017/07/23/250148