দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দিক থেকে সবচেয়ে মাথা ব্যথার কারণ মাওবাদীঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী

498920-jpg_343339_1000x667

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দিক থেকে সবচেয়ে মাথা ব্যথার কারণ মাওবাদী ৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের Left Wing Extremism (LWE) related issues সংক্রান্ত আলোচনা সভায় একথা স্বীকার করতে শোনা গেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং-কে ৷ তিনি জানিয়েছেন, সাতটি রাজ্যের ৩৫ টি জেলায় এখনও ভীষণ ভাবে কার্যকরী মাওবাদীরা ৷ প্রায় ১০টি রাজ্যের ১০৬ টি জেলায় তাদের কাজকর্মের প্রমাণ রেখেছে মাওবাদীরা ৷

মাথা ব্যথার কারণ হলেও শেষ তিন বছরে দেশে মাওবাদী সমস্যা ৫৩ শতাংশ কমেছে বলে দাবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ৷ মাওবাদী এলাকা গুলিতে কেমন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তাও জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ৷ জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি, রিজার্ভ ব্যাটেলিয়ন জওয়ানদেরও কাজে লাগান হয় এই অঞ্চলে ৷ এছাড়া ড্রোন, হেলিকপ্টার দিয়েও চলে নজরদারি ৷ এই অঞ্চল গুলিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি চলে বলে জানিয়েছেন রাজনাথ সিং৷

মাও অঞ্চলে মাওবাদী গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের জন্য আলোচনায় ‘সম্বোধন’ বলে একটি নয়া পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে৷ এই পরিকল্পনায় রয়েছে Smart Policing and Leadership; Aggressive Strategy, Motivation and Training, Actionable Intelligence; Dashboard for Development and Key Performance Indicators, Harnessing Technology for Development and Security, Action Plan for each Theatre and No access to Financing ৷ এছাড়া বাস্তারিয়া ব্যাটেলিয়ানে ৭৪৩ জন উপজাতি জওয়ান নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ৷ এদেরকে কাজে লাগান হবে মাও এলাকা বলে পরিচিত, ছত্তিশগড়ের বিজাপুর, দান্তেওয়াড়া, নারায়নপুর ও সুকমায়৷

সূত্রঃ https://www.kolkata24x7.com/maoist-problem-continues-to-be-a-matter-of-concern.html

 

Advertisements

রুশ বিপ্লব ও নজরুল

শিল্পীর চোখে ‘রুশ বিপ্লবের সংবাদ প্রকাশ করছেন নজরুল’। ছবিটি চুরুলিয়ায় নজরুল জাদুঘরে সংরক্ষিত

১৯১৭ সাল। নভেম্বর মাস। রাশিয়ায় বিপ্লবের মধ্য দিয়ে পতন ঘটে রাজতন্ত্রের। প্রতিষ্ঠিত হয় কৃষক-শ্রমিকের রাষ্ট্র। জনগণের হাতে আসে ক্ষমতা। সেই হিসাবে এ বছরের অক্টোবর মাসে পূর্ণ হচ্ছে রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই বিপ্লবের সফলতা সে সময় বিশ্বের সব স্বাধীনতাকামী জনগণের ওপর অভাবনীয় প্রভাব বিস্তার করেছিল। এমনকি আলোচ্য বিপ্লব তৎকালীন পরাধীন ভারতবাসীর কাছেও দেখা দিয়েছিল আশার আলো হিসেবে। রুশ বিপ্লব প্রভাবিত করেছিল কাজী নজরুল ইসলামকেও। কবির পরবর্তী জীবন-পরিক্রমা ও সাহিত্যকর্মের দিকে নজর দিলে বিষয়টি বুঝতে কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
তবে প্রশ্ন হলো, ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় যখন উড়ল সমাজতন্ত্রের লাল পতাকা, নজরুল সেটিকে কীভাবে গ্রহণ করেছিলেন? বইপত্র ও নজরুলের ঘনিষ্ঠজনদের স্মৃতিকথা মিলিয়ে দেখলে প্রশ্নটির একটা সুরাহা মিলতে পারে।
১৯১৭ সালের শেষার্ধে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে করাচি চলে যান কাজী নজরুল ইসলাম। সে সময় তিনি ছিলেন আঠারো-উনিশ বছরের এক টগবগে তরুণ। কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠার আগ অব্দি, অর্থাৎ ১৯২০-২১ সাল পর্যন্ত নজরুলের জীবনের অনেক বিষয় সম্পর্কেই বস্তুনিষ্ঠ তথা খুব নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না—একেকজন একেক রকম বলেন। ফলে বিভ্রান্তির অবকাশ থেকেই যায়। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে এটা জানা যায় যে সৈনিকজীবনে পল্টনে অবস্থানকালেই রুশ বিপ্লবের সংবাদ পেয়েছিলেন তিনি।
বস্তুত, বিপ্লবের সংবাদে আপ্লুতই হয়ে উঠেছিলেন সেদিনের তরুণ নজরুল। তিনি কতটা আপ্লুত হয়েছিলেন, সেটি কবির পল্টনজীবনের সহযোদ্ধা জমাদার শম্ভু রায়ের বর্ণনায় উজ্জ্বল হয়ে আছে, ‘এদিন সন্ধ্যায় ১৯১৭ সালের শেষের দিকেই হবে, এখন ঠিক স্মরণে আনতে পারছি না, হয়তো সেটা শীতের শেষের দিকে। নজরুল তাঁর বন্ধুদের মধ্যে যাঁদের বিশ্বাস করতেন, তাঁদের এক সন্ধ্যায় খাবার নিমন্ত্রণ করে।…ঐ দিন যখন সন্ধ্যার পর তাঁর ঘরে আমি ও নজরুলের অন্যতম বন্ধু তাঁর অর্গান মাস্টার হাবিলদার নিত্যানন্দ দে প্রবেশ করলাম, তখন দেখলাম, অন্যান্য দিনের চেয়ে নজরুলের চোখে-মুখে একটা অন্যরকম জ্যোতি খেলে বেড়াচ্ছিল…তিনি [নিত্যানন্দ] অর্গানে একটা মার্চিং গৎ বাজানোর পর নজরুল সেই দিন যে গান গাইলেন ও প্রবন্ধ পড়লেন, তা থেকেই আমরা জানতে পারলাম যে রাশিয়ার জনগণ জারের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। গানবাজনা-প্রবন্ধ পাঠের পর রুশ বিপ্লব সম্বন্ধে আলোচনা হয় এবং লালফৌজের দেশপ্রেম নিয়ে নজরুল খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন।’
রুশ বিপ্লবের বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক শক্তির বহুমুখী আক্রমণ প্রতিহতের জন্য জনগণ ও কৃষক-শ্রমিকদের নিয়ে রাশিয়া গঠন করেছিল একটি সৈন্যদল, যাকে বলা হতো ‘লালফৌজ’। বিভিন্ন দেশের মুক্তিকামী মেহনতি মানুষ এবং বুদ্ধিজীবীরাও যোগ দিয়েছিলেন এই লালফৌজে। ভারতের প্রগতিবাদী রাজনীতিবীদ এম এন রায়ের লেখা ও রাশিয়ায় সংরক্ষিত নথিপত্র থেকে জানা যায়, এ সময় ভারত থেকেও অনেকে যোগ দিয়েছিলেন ওই লালফৌজে। কেবল তা-ই নয়, রাশিয়ায় বিপ্লব দমনের জন্য নিয়োগকৃত ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ভারতীয় সেনাদল থেকে পালিয়েও অনেক ভারতীয় সৈনিক তখন যোগ দিয়েছিলেন এই বাহিনীতে। নজরুল এসব তথ্য জানতেন। তাঁর পল্টন থেকেও কয়েকজন সৈন্য পালিয়ে লালফৌজে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা যায়। তবে পলাতকদের অনেকেই তাঁদের অভীষ্ঠ লালফৌজ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি, পেশোয়ারের বিভিন্ন জায়গায় ধরা পরেছিলেন তাঁরা। এ রকম এক সৈনিককে পল্টনে ফেরত নেওয়ার জন্য একবার পেশোয়ারে গিয়েছিলেন নজরুল। এ নিয়ে সৈনিক-পরবর্তী জীবনে কবির অন্যতম সুহৃদ ও ভারতের কমিউনিস্ট নেতা মুজাফ্ফর আহ্মদ লিখেছেন, ‘নজরুলের মুখে শুনেছি যে কোনো পলাতক সৈনিককে ধরার জন্যে তাকে (হয়তো সঙ্গে অন্য সৈনিকও ছিল) একবার বেলুচিস্তানের গুলিস্তান, বুস্তান ও চমন প্রভৃতি ইলাকায় যেতে হয়েছিল।’
সেনাবাহিনীর কড়া বাধানিষেধ তথা সেন্সরশিপের ভেতরেও পল্টনে থাকাকালে নজরুল কীভাবে রুশ বিপ্লব ও লালফৌজের সংবাদ সংগ্রহ করতেন, তা বিস্ময়কর। শম্ভু রায়ও এ বিষয়ে কোনো আলোকপাত করতে পারেননি। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আমাদের ব্যারাকের কর্তৃপক্ষের শ্যেন দৃষ্টি ছিল, যাতে আমরা বাইরে থেকে কোন রকম রাজনৈতিক খবর না পাই। সে জন্য পত্রপত্রিকা যা আসত তা পরীক্ষা করে আমাদের দেওয়া হত। তা সত্ত্বেও “বজ্রআটুনী ফসকা গেরো”র মত হওয়ার দরুন ওসব খবরাখবর কী করে জোগাড় করত সেই [নজরুল] জানে।’
রাশিয়ার বিপ্লব ও লালফৌজের লড়াই নজরুলকে এতটাই নাড়া দিয়েছিল যে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পল্টনের সহযোদ্ধাদের সঙ্গে এই সংবাদগুলো নিয়ে আলোচনা করতেন তিনি। শম্ভু রায় আরও লিখেছেন, ‘নজরুলের আড্ডা থেকেই বাছাই করা কয়েকজনকে সে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সংবাদ দিত, যেমন আইরিশ বিদ্রোহ ও রুশদের কথা। আমরা কয়েক বন্ধু এসব বিষয় যেমন সাবধানতার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতাম নজরুল তার ভাবকে তেমন করে চেপে রাখতে পারত না। অবশ্য তার একটা পথ ছিল, গান ও কবিতার সাহায্য, সে গান গেয়ে ও কবিতা পড়ে তার ভাবকে ব্যক্ত করত। সৈন্যদের মধ্যে এসব নিয়ে কেউ বিশেষ মাথা ঘামাত না।’
জীবনের প্রথমার্ধ থেকই নজরুল ছিলেন স্বাধীনচেতা। রুশ বিপ্লবের আগে থেকেই তাঁর বিশ্বাস ছিল বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত হবে দেশের স্বাধীনতা। কবির স্কুলজীবনের বন্ধু সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন, ‘নজরুল যুদ্ধবিদ্যা শিখে এসে ভারতবর্ষে এক বিরাট সৈন্যবাহিনী গঠন করবে, তারপর দেশ থেকে ইংরেজ তাড়াবে-তার এই গোপন মতলবের কথা আমাকে সে বলেছিল একদিন।’
শিয়ারশোল স্কুলে নজরুলের শিক্ষক ছিলেন নিবারণচন্দ্র ঘটক। বিপ্লবী দল ‘যুগান্তর’-এর সদস্য ছিলেন তিনি; এবং দলের হয়ে বিপ্লবের জন্য কর্মী সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে কর্মীদের দীক্ষাও দিতেন। এই নিবারণ ঘটকের একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন নজরুল। কিন্তু ১৯১৭ সালের জানুয়ারি মাসে বিপ্লবী দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন নিবারণ, বিচারে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় তাঁর। নিবারণ ঘটক আটক হওয়ার পর দলের অন্য কর্মীদের সনাক্ত করার জন্য গোপনে তদন্ত চালায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। তখন নিবারণের ঘনিষ্ঠ ছাত্র হিসেবে নজরুল ছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষের সন্দেহের তালিকায়। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবু প্রাথমিকভাবে তাঁকে সন্দেহ করা হয় এবং তাঁর ছাত্রবৃত্তি কয়েক মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়। যুগান্তর কর্মী ও নজরুলের জীবনীকার প্রাণতোষ চট্টোপাধ্যায়ের ভাষ্যে, ‘আমি দুজনেরই [নিবারণ ও নজরুল] কাছের মানুষ হিসাবে এটা বুঝেছিলাম যে নজরুল যুগান্তর দলের কর্মী ছিলেন কিন্তু কাজ করবার মুখেই নিবারণ ঘটক হয়ে গেলেন গিরিফতার।’ পরে নজরুল নিজেও মুজফ্ফর আহমদের কাছে স্বীকার করেছিলেন, নিবারণ ঘটকের মতবাদে একসময় দারুণভাবে আকৃষ্ট হয়েছিলেন তিনি।

এক্ষণে নিশ্চয় এটুকু অনুমান করা দুঃসাধ্য হবে না যে সেই ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে সেই সময় করাচিতে সেনাবাহিনীর ভেতরে ও বাইরে বিপ্লবীদের একটা দল তৎপর ছিল, যাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল নজরুলের; এবং সেনাবাহিনীর এই বিপ্লবী গোষ্ঠীর মাধ্যমেই নিয়মিতভাবে বিপ্লবের সংবাদ সংগ্রহ করতেন নজরুল। অধিকন্তু তৎকালের অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও সেনা সেন্সরশিপের কারণে বাংলাদেশ থেকে সংবাদ ও বইপত্র সরাসরি নজরুল পর্যন্ত পৌঁছা ছিল প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। বাঙালি পল্টনের সৈনিক ও স্বদেশি আন্দোলনের বিভিন্ন বিপ্লবীর লেখা থেকে জানা যায়, প্রথম মহাযুদ্ধকালে বাঙালি পল্টনসহ বেশ কিছু ভারতীয় সেনা ইউনিটে পরিকল্পিতভাবে অনুপ্রেবেশ ঘটেছিল বিপ্লবীদের। হতে পারে নজরুল নিজেও এ ধরনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভালো ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও লেখাপড়ায় ইস্তফা দিয়ে যোগ দিয়েছিলেন পল্টনে। তবে এটি কেবলই অনুমানমাত্র, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা কষ্টসাধ্যই বটে।
কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্মের দিকে তাকালেও রুশ বিপ্লবের প্রভাব লক্ষ করা যায় বেশ ভালোভাবে। এখানে স্বল্প পরিসরে তাঁর একেবারে প্রথম দিকের দুটি রচনার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এর মধ্যে প্রথমটি গল্প, দ্বিতীয়টি কবিতা—‘ব্যথার দান’ কবির প্রথম দিকে লেখা গল্প। রুশ বিপ্লবের মাত্র দুই বছর পর ১৯১৯ সালে পল্টনে বসে তিনি লেখেন গল্পটি। এর প্রধান দুই চরিত্র—দারা ও সয়ফুল মুলক—এদের ভারত থেকে লালফৌজে যোগ দেওয়া সৈনিক হিসেবে দেখিয়েছিলেন তিনি। যেমন, গল্পে সয়ফুল মুলকের গলায় শোনা যায়, ‘ঘুরতে ঘুরতে শেষে এই লালফৌজে যোগ দিলুম। এ পরদেশীকে তাদের দলে আসতে দেখে তারা খুব উৎফুল্ল হয়েছে। মনে করছে, এদের এই মহান নিঃস্বার্থ ইচ্ছা বিশ্বের অন্তরে অন্তরে শক্তি সঞ্চয় করছে। আমায় আদর ক’রে এদের দলে নিয়ে এরা বুঝিয়ে দিলে যে কত মহাপ্রাণতা আর পবিত্র নিঃস্বার্থপরতা প্রণোদিত হয়ে তারা উৎপীড়িত বিশ্ববাসীর পক্ষ নিয়ে অত্যাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, এবং আমিও সেই মহান ব্যক্তি সঙ্ঘের একজন।’ উল্লেখ্য, ‘ব্যথার দান’ গল্পে ‘লালফৌজ’ শব্দটি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় প্রকাশকালে তা পাল্টে দেওয়া হয়েছিল।
১৯২০ সালে পল্টন থেকে ফিরে এলেন নজরুল। ১৯২২ সালে রুশ বিপ্লবকে ভারতে আহ্বান করে লিখলেন বিখ্যাত ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা। আর এই কবিতায় রুশ বিপ্লবকে তুলনা করা হলো ‘প্রলয়’ শব্দের সঙ্গে। এই কবিতার ‘আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল, /সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল।’—এই দুই পঙ্তিতে উন্মোচিত হয়েছে রুশ িবপ্লবের স্বরূপ।
আজীবন রুশ বিপ্লবের আদর্শকে নিজের সৃষ্টি ও কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত করেছেন নজরুল ইসলাম। তাঁর বিভিন্ন রচনা, পত্রিকা সম্পাদনা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে রুশ বিপ্লবের প্রভাব লক্ষ করা গেছে বিচিত্র মাত্রায়। সবশেষে দুটি তথ্য দিয়ে এ লেখার ইতি টানব: ভারতে রুশ বিপ্লবের প্রকাশ্য ধারক ও বাহক কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন নজরুল। অন্যদিকে রাশিয়ার জনগণও বাংলাদেশের এই কবিকে ‘বিপ্লবী-প্রলেতারীয়-রোমান্টিক’ কবি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

সূত্রঃ http://www.prothom-alo.com/art-and-literature/article/1301111/%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%B6-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%AC-%E0%A6%93-%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%B2


২২ জুলাই ডহুরী কৃষক অভ্যূথানের শিক্ষা

download

২২ জুলাই ডহুরী দিবস। ডহুরীতে এই দিন আত্ম বলিদান করেছিলেন গোবিন্দ দত্ত। পুলিশের গুলিতে তার নির্মম মৃত্যু হয়েছিল। ১৯৮৮ সালের ২২ জুলাই এর এই বীরত্বপূর্ণ কৃষক আন্দোলনকে প্রজন্মে প্রজন্মে অনুপ্রাণিত করতে কৃষক সংগ্রাম সমিতি কেন্দ্রিয় উদ্যোগে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে আসছে। এই ধারাবাহিক পালনের ফলে সংগ্রামী মর্যাদায় দিবসটি জনমনে স্থায়ী হয়েছে। ডহুরী দিবসের এই সংগ্রাম ও শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে দুই বছর পরেই ১৯৯০ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক বিল ডাকাতিয়ায় জোয়ার-ভাটার আন্দোলনে কৃষক সংগ্রাম সমিতির নেতৃত্বে বীর কৃষক-জনতা প্রশাসনের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে দাবী আদায়ে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

যশোর জেলার কেশবপুর থানার পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত ডহুরী বিল খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানার গাঁ ঘেঁষা এবং এই দুই জেলার মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে শ্রী নদী।ওয়াপদা বাধের ফলে এই বিলের অভ্যন্তরে ভূমি নিচু রয়ে গেছে এবং নদীর বুক উঁচু হয়ে ভরাট হয়েছে। ফলে দক্ষিণ অঞ্চলের মত ডহুরীও বর্ষাকালে জলাবদ্ধ হয়ে থাকে। কিন্তু কৃষক সাধারণ শুকনা মৌসুমে একটা ফসল করতে পারত। সেখানে বাধ সাধলো অত্যাচারী ঘের মালিকেরা তাদের মধ্য অন্যতম ডুমুরিয়া এলাকার আতিয়ার খাঁ ডহুরীর বিলে নোনা পানি তুলে সাধারণ কৃষকের জমি এক প্রকার জোরপূর্বক ঘের ব্যবসা করে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। ঘেরের মধ্যে থৈ থৈ পানি-ধান নেই, মাছ আছে, কিন্তু তাতে কৃষকের অধিকার নেই। এক পর্যায়ে অত্যাচারিত কৃষকের আন্দোলন দানা বাঁধে। এমনি এমনি কোন কিছু দানা বাঁধে না, তার জন্য অনুঘটক লাগে। কৃষক সংগ্রাম সমিতি কৃষক জনগণের প্রাণের সংগঠন তারাই এই আন্দোলনের প্রথম থেকে নেতৃত্বের ভূমিকা গ্রহণ করে। সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন কৃষক নেতা সাইফুল্লাহ লস্কর ও কালীপদ দাস। প্রশাসনের কাছে বহু দেন-দরবার করে কোনভাবেই কৃষকের সমস্যার কোন সমাধান তো হলোই না। উল্টো প্রশাসনের সহায়তায় ঘের মালিক আতিয়ার খাঁ বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

২২ জুলাই ১৯৮৮ কৃষক-জনতা সমবেত হতে থাকে নারায়নপুর মাঠে। পাশ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা আসে বিশাল এই সংগ্রাম স্থালে। খুলনা ডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা যোগ দেয় ঐতিহাসিক এই মহেন্দ্রক্ষণে। ডাংকা ওয়ালারা আসে যুদ্ধের বাজনা নিয়ে। ওয়াপদার ওপর দিয়ে মিছিল এগিয়ে চলে আতিয়ার খাঁর ভেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে দেবার জন্য। যেখানে আতিয়ার খাঁ মোতায়েন রেখেছে এক দল মাস্তান বাহিনী এবং তাদের সাথে ছয় জন অস্ত্রধারী পুলিশের বন্দুক তাক করা একটি স্কোয়াড। এই পুলিশের দল ডুমুরিয়া থানা থেকে রাজঁনৈতিক চাপে এবং আতিয়ার খাঁর উৎকোচে অন্যায় অবৈধভাবে এই অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছিল।

নিরস্ত্র জনতার মিছিলে বাঁধ কাটার জন্য খোন্তা, কোদাল, লাল পতাকা আর ডাংকার বাড়ি। আকাশ বাতাস কাপিয়ে যখন মিছিল এগিয়ে যায়- শত্রুর বেরিকেড অভিমুখে তখনি গুলির শব্দ। পুলিশের গুলিতে মিছিল অভ্যুাত্থানে রুপ নেয় । সবাই যেন মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে। শ্রী নদীর পূর্বপাশে খুলনা জেলার অনেক নেতা-কর্মী দেরীতে এসে দাঁড়িয়েছিল আগে থেকে। এবার তারাও নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কেটে এসে যোগ দিল লড়াইয়ে। গুলির শব্দে অনেকে ওয়াপদার রাস্তার ঢালুতে নেমে সামনের দিকে অগ্রসার হচ্ছিল। এরই মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ল মারা গেছে- কেউ একজন মারা গেছে। ওমনি মিছিল তীরের গতিতে ঝাপিয়ে পড়ল শত্রুর আস্তানায়। পূর্ব পারের কর্মীরা যেমন নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল মিছিলে সামিল হতে, তেমনি পুলিশ ও মাস্তানরা ঝুঁপঝাঁপ করে নদীতে লাফিয়ে পড়ল পালিয়ে প্রাণ বাঁচাবার জন্য।

ডহুরী বাঁধ উচ্ছেদ করা হলো। ডহুরী কৃষক অভ্যূত্থান জয়যুক্ত হলো। লডাইয়ে পুলিশের গুলিতে মারা গেল ২২ দিন আগে যোগদান করা এক মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষক কৃষকের সন্তান তাজা তরুণ প্রাণ গোবিন্দ দত্ত। মারাত্মক আহত হলেন গোবিন্দ সরকার, সারোয়ার মাস্টার সহ আরো অনেকে। অন্যদিকে একজন পুলিশ পালাতে না পেরে পদদলিত হয়ে মরে পড়ে রইল খোলা আকাশের নিচে।

শিক্ষাঃ

১। জোয়ার-ভাটা চালু রেখে নদীর নাব্যতা রক্ষা করে জলাবদ্ধতার সমাধান করা। নদীর হাত পা বেঁধে অর্থাৎ ওয়াপদার বাঁধ দিয়ে নদীকে ভূমি প্রকৃতি থেকে আলাদা করে জলবদ্ধতার ও বন্যার বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।

২। শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণের আন্দোলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জয়লাভ করা যায়।

৩। ভূক্তভোগী সম্প্রদায়ের বা শ্রেনীর নিজস্ব সংগঠনের নেতৃত্বে আন্দোলন পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও পরিণতিতে নিয়ে বিজয় অর্জন নিশ্চিত হয়।

৪। ভূক্তভোগী এলাকার মানুষই শুধু নয়, সাংগঠনিক নেতৃত্বে পাশ্ববর্তী এলাকা থেকেও কর্মী ও জনগণের সমর্থন আদায় করে আন্দোলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিজয় সংহত হয়।

৫। ছোট বড় আন্দোলনে আর্থিক পরিকল্পনা জরুরি। ডহুরী আন্দোলনের পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। যা মোকাবেলা করার জন্য আর্থিক সমস্যায় পড়তে হয়।

৬। যে কোন আন্দোলনের আগে ও পরে প্রচারমূলক দিকট তরান্বিত করা, কারণ শত্রুর পক্ষে সাম্রাজ্যবাদী তথ্য দুনিয়া সব সময় জনগণের সাফল্যের অপপ্রচার করে।

পৃথিবীর দেশে-দেশে শ্রমিক কৃষক জনগণের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে এমন একটি অভ্যূথান আমাদের অনুপ্রাণীত ও শিক্ষিত করে তুলতে পারে। অধিকার বঞ্চিত মানুষের চিহ্নিত শত্রুকে শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বে অন্যান্য সকল শ্রেনীর অংশগ্রহণ ও সমর্থনে ব্যাপক আন্দোলনের মাধ্যমে পরাস্থ করে বিজয় অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশের ব্যাপক জনগণের সমস্যা সংকটের জন্য দায়ী সাম্রাজ্যবাদ ও এদেশের সমান্ত, আমলা মুৎসুদ্দী শ্রেনীর বিরুদ্ধে শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বে কৃষক, মধ্যবৃত্ত ও অন্যান্য অধিকার বঞ্চিত সকল পেশাজীবী ব্যাপক জনগণের অংশগ্রহণে আন্দোলন-সংগ্রামের পরিণতিতে অধিকার আদায় করতে হবে। ডহুরী যেন আমাদের এই শিক্ষাই গ্রহণ করতে বার বার আহ্বান জানাচ্ছে।

 

সূত্র: সাপ্তাহিক সেবা, বর্ষ-৩৭।।সংখ্যা-০৩, রোববার।। ১৩ আগস্ট ২০১৭।।


সিপিআই(মাওবাদী)’র উদ্যোগে নকশালবাড়ীর ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের ভিডিও

গত ২৫ ও ২৬শে মে, ২০১৭ দণ্ডকারণ্যের দক্ষিণ বস্তারে হাজার হাজার জনগণের উপস্থিতিতে সিপিআই(মাওবাদী)’র উদ্যোগে নকশালবাড়ীর ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের ভিডিও –


রোজাভায় আইএসের সাথে যুদ্ধে তুরস্কের গুরুত্বপুর্ণ মাওবাদী কমান্ডার শহীদ হয়েছেন

nubar_ozanyan_0

তুরস্কের মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি TKP / ML-TIKKO (তুরস্কের কমিউনিস্ট পার্টি / মার্কসবাদী-লেনিনবাদী – শ্রমিক ও তুরস্কের চাষীদের মুক্তি সেনা) মধ্যপ্রাচ্য পার্টি কমিটি ঘোষণা করেছে যে, গত ১৪ই আগস্ট রোজভায় আইএসআইএসের সাথে এক যুদ্ধে পার্টি কমান্ডার নূর ওজানিয়ান শহীদ হয়েছেন। তার তিনজন কমরেড- একজন ইরানী, একজন কানাডীয় এবং একজন সারদিনিয়ার এতে আহত হন।

দলের ইতিহাসে পার্টি’র বিপ্লব ও স্বাধীনতার কাজ পরিপূর্ণ করার জন্য তিনি বিভিন্ন সময়ে অনেক যোদ্ধা ও কমান্ডারকে প্রশিক্ষিত ও নির্দেশনা দিয়েছিলেন; ১৯৮৮-৯০ সালে প্যালেস্টাইনে, ১-১-৯২ সালে কারাবাকে, হায়াতান (আর্মেনিয়া), ২০১৪ সালে দক্ষিণ কুর্দিস্তানে এবং জুলাই ২০১৫ সালে রোজাভাতে উল্লেখযোগ্য।

তিনি অনেক কুর্দি, তুর্কি, আর্মেনিয়ান, আরব, প্যালেস্টাইনী, গ্রীক, কানাডিয়ান, সার্ডিনিয়ান, বেলজিয়ান এবং ফরাসি আন্তর্জাতিকবাদী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। যুদ্ধবিষয়ক জ্ঞানের সাথে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে যোদ্ধাদের এবং বিপ্লবী সংগঠনগুলোর মধ্যে তুরস্কের যে সংগঠনগুলি রোজাভায় যুদ্ধ করছে তাদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি যুদ্ধের প্রথম দিকে আন্তরিক গুরুত্ত্বপুর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেন। এই কারণে, তিনি রোজাভায় প্রতিটি স্বাধীনতা যুদ্ধের লড়াইয়ে একজন নির্ভরযোগ্য কমরেড হয়ে ওঠেন।

তিনি রোজাভা-সিলুক প্রতিরোধে আইএসআইএস-এর গ্যাং এর উপর কঠোর আঘাত হেনে আন্তর্জাতিক বাহিনী ব্যাটেলিয়ানের সকল যোদ্ধাদের হৃদয় ও সহানুভূতি লাভ করেন। এসময় তিনি প্রধান বিপ্লবী দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সাম্রাজ্যবাদ, ফ্যাসিবাদ এবং সব ধরণের প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে বিপ্লবী যুদ্ধের অনেক দেশ ও অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিপূর্ণ করেন। প্যারিসে তাঁর বিপ্লবী কার্যকলাপের সময়, তিনি বিপ্লবী শিল্পের সবচেয়ে নির্ভীক ও নির্ভরযোগ্য রক্ষাকর্তাদের একজন হিসেবে কাজ করেন।

পার্টি কমিটি উল্লেখ করেছে যে, ওজনিয়ান দুর্নীতিবিরোধী সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য ডারসাম পর্বতমালার নেতৃত্বে ছিলেন এবং শেষের দিকে তিনি ডেরেমিমে তাঁর কমরেডদের সাথে দেখা করার জন্য চেষ্টা করেছিলেন। তিনি শহীদ হওয়ার আগেই রোজাভাতে ফিরে আসেন। স্বদেশে গেরিলা সংগ্রামে উদ্ভূত বিপ্লবী শক্তির উত্থান এবং স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং কুর্দি, আরব, তুর্কমেন, সিরিয়াক এবং আর্মেনিয়ান জনগণের ঐক্যকে শক্তিশালী করার জন্য তিনি রোজাভায় তার কাজ ও দায়িত্ব পালন করেন।

জীবনকালে তিনি সংগ্রামের আদর্শ ও মানসিকতা এবং কমিউনিস্ট নেতা কমরেড কায়পাক্কায়ার বিপ্লব ও শৃঙ্খলার উপর বিশ্বস্ত ছিলেন ও জনগণের বিপ্লবী যুদ্ধের রণনীতি কার্যকর করার জন্য তিনি দিন ও রাত কাজ করেন।

সূত্রঃ http://www.kaypakkayahaber.com/haber/tkpml-tikko-commander-rojava-falls-martyr


স্বাধীনতা দিবসে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে আত্মপ্রকাশ মাওবাদীদের

85320-mb

ফের বাংলায় আত্মপ্রকাশ করল মাওবাদীরা। সেই সঙ্গে ম্লান হয়ে গেল মুখ্যমন্ত্রীর দাবি করা ‘জঙ্গলমহল হাসছে’।

জানা গিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার সকালে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় এলাকায় একটি সরকারি স্কুলে কালো পতাকা উত্তোলন করে মাওবাদীরা। শুধু তাই নয়, মাওবাদী মতাদর্শের পক্ষে নানাবিধ পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে অযোধ্যা পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। একইসঙ্গে উঠেছে সরকার বিরোধী স্লোগান।

চার বছর চুপ থাকার পর জঙ্গলমহলে চোখে পড়ল মাওবাদী কার্যকলাপ। এর আগে ২০১৩ সালে শেষবারের মতো মাওবাদী কার্যকলাপ দেখা গিয়েছিল রাজ্যের জঙ্গলমহল এলাকায়। তারপর আর মাওবাদীদের সক্রিয়তা দেখা যায়নি। এই ঘটনাকে রাজ্য সরকারের সাফল্য বলেই দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সাফল্যে যে ভাটা পড়তে চলেছে এদিনের ঘটনা তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

সূত্রঃ https://www.kolkata24x7.com/maoist-come-out-in-bengal-after-four-years.html


মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী যুদ্ধের জন্য উ. কোরিয়ার সেনাবাহিনীতে নাম লেখাল ৩৫ লাখ জনগণ

4bn0c2d83b0698u8zk_800C450

পিয়ংইয়ং বলেছে, সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবেলা করতে অন্তত ৩৫ লাখ মানুষ দেশটির সেনাবাহিনীতে নাম লিখিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্র রোডং সিনমুনে এ খবর দিয়েছে।

আমেরিকার বিরুদ্ধে হাজার হাজারবার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য উত্তর কোরিয়ার সব মানুষ জেগে উঠছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়। এতে আরো বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আমেরিকার সঙ্গে উত্তেজনা নতুন করে তুঙ্গে ওঠার পরপরই উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীতে ৩৫ লাখ মানুষ নাম লিখিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীতে যারা নাম লিখিয়েছে তাদের মধ্যে সাবেক সেনাসদস্য এবং ছাত্ররা রয়েছেন।

এদিকে, গত বুধবার পিয়ংইয়ংয়েরে কিম ইল-সুং চত্বরে লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এ বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়।