সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনার শিকার মিয়ানমারের শরণার্থীরা

bangladesh-myanmar-unrest-rohingya-refugee_a0e8bf90-92d2-11e7-afc5-62fc49bb3ae4

মিয়ানমারের গণতন্ত্র পন্থী নেত্রী(!) ও ন্যাশনাল লীগ ফর ডোমেক্রাসি নেত্রী অং সান সুকি তার দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় রয়েছে। অং সান সুকি এখন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলে কী হবে, তিনিই মিয়ানমারের অঘোষিত প্রেসিডেন্ট। তার সময়েই মিয়ানমারের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন চলছে। এই নিপীড়ন নির্যাতনে বিচলিত হয়ে পড়েছে মার্কিনের নেতৃত্বে পরিচালিত পাশ্চাত্যের দেশগুলো ও তাদের গণমাধ্যম। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যতটা না উদ্বিগ্ন রোহিঙ্গাদের নিয়ে, তার চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন অং সান সুকিকে নিয়ে। অং সান সুকিকে তারা নেতা বানালো, অথচ তিনিই আজ বিরোধীদের শিবিরে। পুঁজিবাদী চীন অং সান সুকিকে করায়ত্ত করে নিয়েছে। অতদিন যা পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদীরা করতো, এখন সেই কৌশল পুঁজিবাদী চীন আয়ত্ত করে নিয়েছে। সত্যিই কী অং সান সুকি মার্কিনের দালাল থেকে চীনের দালালে পরিণত হলো?

গত ৯ অক্টোবর এক সমন্বিত হামলায় মিয়ানমারের নয় জন বর্ডার গার্ড ও পাঁচ জন সেনাবাহিনী সদস্য নিহত হয় রাখাইন রাজ্যের বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায়। এই হামলাকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের পুলিশ, বিজিপি ও সেনাবাহিনী এক সমন্বিত অভিযানে নামে। সমন্বিত অভিযান নামে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর আভিয়ান শুরু করে। কে বা কারা হামলা চালিয়েছে তা না জেনেই অভিযান শুরু করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। কারণ এই অঞ্চলে মাদকের চোরাচালানি ও মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অবস্থান রয়েছে। এই অভিযানে এ পর্যন্ত মিয়ানমারের ৬৯ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলে সরকারি বাহিনী স্বীকার করে নিয়েছে। তবে বেসরকারিভাবে বলা হচ্ছে অভিযানে শত শত রোহিঙ্গাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলেছে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে এ পর্যন্ত নয় জন রোহিঙ্গা গ্রামবাসী পুড়িয়ে মেরেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

গ্রামের পুরুষদের ধরে নিয়ে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। যে সমস্ত পুরুষদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাদের আর কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে হেলিকপ্টার নিয়ে অভিযানে নামে সেনাবাহিনী। এই অভিযানে হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ করে ৩০ জন রোহিঙ্গা হত্যা করা হয়। মাহিলাদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। তার পর বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দিয়ে আশ্রয়হীন করা হচ্ছে। গৃহপালিত গবাধি পশুকে লুট করে নিয়ে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকেরা। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার পরিবারকে বাড়ি ঘর ছাড়া বাস্তচ্যুত করা হয়েছে। অনেকে বনে জঙ্গলে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন। অনেকে নাফ নদীর তীরবর্তি প্যারাবন ও জঙ্গলে পালিয়ে, অর্ধাহারে অনাহারে থেকে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে। রাখাইন বেসামরিক লোকেরা ধারলো অস্ত্র দিয়ে পালায়নরত লোকেদের ওপর হামলা চালিয়ে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এই অভিযানের সময়ে আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীদের ও গণমাধ্যম সাংবাদিকদের রাখাইন রাজ্যে ঢুকতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে হামলা চালিয়ে হত্যা, ধর্ষণ, বাড়ি ঘর লুটের পর আগুন জ্বালিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মিয়ানমারের পত্র পত্রিকার সূত্রে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় বাংলাদেশ জড়িত রয়েছে। উল্লেখ্য সীমান্ত অতিক্রম করে তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। টেকনাফ সীমান্তের হোয়াইক্যং, উলুবনিয়া, বালুখালি, লম্বাবিল, কাঞ্জরপাড়া, খারাংখালী, ঝিমংখালী, উনচিপ্রাং, জাদিমুড়া, নয়াপাড়া, নাথমুড়াপাড়া, গুদামপাড়া, ফুলের ডেইল, হোয়াব্রাং, নাইখ্যংখালী, আনোয়ার প্রজেক্ট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। অনুপ্রবেশের পর রোহিঙ্গারা বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, অনিবন্ধিত লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প, নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প, সীমান্ত এলাকায় মানুষের বাড়ি ঘরে ও ঝোপঝাড়-জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে নদীপথে সীমান্ত অতিক্রম করার জন্য সীমান্তের নাফ নদীর মিয়ানমারের অংশে অবস্থান করছে। রাতের বেলায় তারা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। মিয়ানমারের স্থল ও জল সীমান্তে টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশ মোতায়েত করেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের ধরে পুশ ব্যাক করা হচ্ছে ও অনুপ্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে। তবুও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ হচ্ছে না।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক ইতিপূর্বে বাতিল করা হয়েছে। গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিউ মিন্ট থান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে নারী, শিশু, বয়স্কসহ সেখানকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। এসব লোক যাতে ভয়-ভীতি ছাড়া আবাসভূমিতে প্রত্যাবর্তন করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে রাখাইন রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে মিয়ানমারকে ব্যবস্থা নিতে বলেছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান চালিয়ে যাওয়ায় সেখানকার পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। রাখাইন রাজ্য থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের জন্য এ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মিয়ানমারের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় ও কনসুলার) কামরুল আহসান মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের হাতে একটি কূটনৈতিক পত্র তুলে দেন। রাখাইন রাজ্যে পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করার ব্যাপারে মিয়ানমারের গণমাধ্যমের প্রবণতার সমালোচনা করা হয়। রাখাইন রাজ্যে বঞ্চনা ও সেনাবাহিনীর চলমান অভিযানের সময়ে মাত্রাতিরিক্ত শক্তিপ্রয়োগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ।

গত ১৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। চীন ছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং অস্থায়ী সদস্যের মধ্যে জাপান, মিশর, নিউজিল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভেনেজুয়েলা ও সেনেগালের প্রতিনিধিরা অংশ নেয়। বৈঠকে সবাই অভিযোগ করেন মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। তাদের অভিযানে নির্মমভাবে লোকজনকে হত্যার পাশাপাশি নারী ও শিশুর প্রতি চরম নিষ্ঠুর আচরণ করা হচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা বন্ধের সমালোচনা করে অবিলম্বে তা চালুর জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার রাখাইন রাজ্যে লোকজনের নিরাপত্তা ও মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে প্রাণের ভয়ে ঐ অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা লোকজনের সহায়তায় বাংলাদেশের সীমান্ত খোলা রাখার অনুরোধ জানান হয়েছে।
মিয়ানমারের সমস্যাটি আজ থেকে শুরু হয়নি। ১৯৮২ সালে মিয়ানমারে নাগরিকত্ব আইন জারি হয়। এই আইনে বলা হয়েছে ১৮৫৩ সালের আগে তার পূর্ব পুরুষ মিয়ানমারের নাগরিক ছিল তা প্রমাণ করতে পারলে তাদেরকে সে দেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এই আইনের আওতায় মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। ফলে রোহিঙ্গারা হয়ে পড়ে মিয়ানমারের নাগরিক অধিকার বিহীন। ফলে এত দিনের বসতবাড়ি, বিষয় সম্পত্তি সহ যাবতীয় স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির অধিকারহারা হয়ে তারা উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। তারা বিবাহ করার অধিকার, শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের, চলাফেরার অধিকারও হারায়। যারা এ যাবৎকাল মিয়ানমারের নাগরিক হিসাবে বসবাস করতো তারা সম্পত্তির অধিকার হারিয়ে হয়ে পড়ে বিষয় সম্পতিহীন। পরিস্থিতির শিকার হয়ে তারা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানির পথকে বেছে নেয়। এরই সুযোগ গ্রহণ করে মিয়ানমারে তৎপর এনজিওগুলো। পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দাতা সংস্থার এনজিওগুলো মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনতার মাঝে উগ্রবাদী তৎপরতাসহ নানা নেতিবাচক প্রবণতার বিস্তার ঘটাতে থাকে। সরকারের ভূমিকা ও এনজিওগুলোর কর্মকান্ডের ভিতর দিয়ে সংখালঘু মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর এলিট শ্রেণি রাষ্ট্র বিরোধী, সরকার বিরোধী ভূমিকা অবতীর্ণ হয়ে পড়ে।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনতার বড় ধরনের বিরোধের প্রকাশ ঘটে ১৯৯১ সালে। এ সময়ে রাখাইনদের সাথে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জাতিগত দাঙ্গা সংঘটিত হয়। এই দাঙ্গায় মদত দানের ভূমিকা পালন করে পশ্চিমা সাহায্যপুষ্ট এনজিওগুলো। দাঙ্গা থেকে বাঁচতে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায় বাংলাদেশে উদ্বাস্তু হয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী কক্সবাজারে তৎকালীন বিডিআর এর চেক পোস্ট দখল করে নেয়। এই সময়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে পশ্চিমাদের ও তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এনজিওদের বাংলাদেশে যুদ্ধ পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। কিন্তু তৎকালীন সরকারের সাথে চীনের গভীর সম্পর্ক ও উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় চীন ভূমিকা নিতে রাজি হওযায় এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়।

মিয়ানমারের সাথে চীনের গভীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক তথা সামগ্রিক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। মিয়ানমারের সরকার মূলত চীনা সমর্থনপুষ্ট সরকার। চীন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিত্তুতে সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করেছে। সিত্তুর সাথে চীনের মূল ভূখন্ডের সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। এই পথে চীনের সাথে রেল যোগাযোগ স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে। তাছাড়া এই পথে সম্প্রতি চীনের তেলের পাইপ লাইন নির্মাণের কাজও চলছে। চীন চাইছে যে কোন জরুরি অবস্থায় বা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মালাক্কা প্রণালী এড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার সাথে তার সমুদ্র পথে বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে। সেই হিসাবেই মিয়ানমারের সিত্তু বন্দরকে গড়ে তুলছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বাধীন জোট চাইছে এ কাজে বাধা সৃষ্টি করতে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে তৎপরতা চালাচ্ছে। তাই তো মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাথে রাখাইন জনগোষ্ঠীর এই বিরোধ। এই বিরোধে রাখাইন সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে মিয়ানমারের সরকার।

অং সান সুকি তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রাসিকে (এনএলডি) এ যাবত মদত দিয়ে এসেছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার সমর্থনপুষ্ট পাশ্চাতের সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো। সেই সাথে পাশ্চাত্যের সমর্থনপুষ্ট এনজিওগুলোও একই ভূমিকা নিয়ে আসছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার মিত্ররা আশা করেছিল অং সান সুকি রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল তাদের পক্ষে ভূমিকা গ্রহণ করবেন। কিন্তু তা না হয়ে প্রতিপক্ষ শক্তির সাথে মিলে চলায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের শেষ আশাও ব্যর্থ হতে চলেছে। এখানে উল্লেখ্য ক্ষমতায় যেতে অং সান সুকি চীনের সাথে আপোস সমঝোতা করেই রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন বলে প্রতিভাত হচ্ছে। তাই তো পাশ্চাত্যের সমর্থনপুষ্ট দালালরা আওয়াজ তুলেছে অং সান সুকির নোবেল প্রাইজ ফিরিয়ে নিতে। তাই তো মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উগ্রপন্থীদের মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটানো।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায় আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বের শিকার হয়ে আজ চরম নির্যাতনের শিকারে পরিণত হয়ে অমানবিক জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে। এর এক দিকে রয়েছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, যারা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে তাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধির হাতিয়ার হিসাবে কাজে লাগিয়ে সে দেশের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত অঞ্চলের পরিস্থিতিকে অশান্ত করে তুলেছে। আর অন্য দিকে রয়েছে মিয়ানমারের রাখাইন সম্প্রদায়, যাদের মদত দিয়ে চলেছে মিয়ানমার সরকার। আর মিয়ানমার সরকারের সাথে জড়িত রয়েছে চীনের ভূমিকা। চীন মিয়ানমারের রাখাইন অধ্যুষিত অঞ্চলে সংঘাত বৃদ্ধি পেয়ে তার জন্য কোন সমস্যা তৈরি হোক, বা তার পরিকল্পিত মেরিটাইম সিল্ক রোডে সমস্যা তৈরি হোক তা সে চায় না। তাই সে মিয়ানমারের সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। মিয়ানমারের রাখাইন ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের দ্বন্দ্বের পেছনে ক্রিয়াশীল রয়েছে বাজার ও প্রভাব বলয় বিস্তারের আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব। আর এই আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বের শিকার হয়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সে দেশের সেনাবাহিনীর আক্রমণের শিকারে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: সাপ্তাহিক সেবা, বর্ষ-৩৬।।সংখ্যা-০৫, রোববার।। ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬।।

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.