গৌরী লঙ্কেশ খুনে যোগ নেই মাওবাদীরঃ জানাল বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)

gauri1-14-1505371436

প্রবীণ সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশের খুনের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত কোনও মাওবাদী যোগ পাওয়া যায়নি বলে জানাল বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)।

৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মোটরবাইক আরোহী আততায়ীদের গুলিতে মারা যান গৌরী। পর দিনই খুনের তদন্ত করতে ২১ সদস্যের সিট গড়ে কর্নাটক সরকার। গৌরীর ভাই ইন্দ্রজিৎ শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, তাঁর দিদির খুনের পিছনে থাকতে পারে মাওবাদীদের হাত। কারণ কর্নাটক সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মাওবাদীদের মূলস্রোতে ফেরানোর গৌরীর চেষ্টাকে ভাল ভাবে নেয়নি মাওবাদীদের একাংশ। তার ফলেই এই হামলা হতে পারে বলে দাবি করেছিলেন ইন্দ্রজিৎ।

কিন্তু সিট সূত্রের খবর, তদন্তে নেমে এমন কোনও সূত্রই পাওয়া যায়নি। শুধু তা-ই নয়, কর্নাটকের যে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছিল, সেই দক্ষিণ কন্নড়, চিকমগালুরু এবং উদুপি থেকে পুলিশ দলকে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। বেঙ্গালুরু পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘দিন দুয়েকের মধ্যে ওই এলাকা থেকে সব দলই ফিরে আসবে। গৌরী লঙ্কেশ ও মাওবাদী যোগ নিয়ে যত জনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব, সব বলা হয়েছে। এটা ঠিক, মাওবাদীদের কয়েক জনকে মূলস্রোতে ফেরানো নিয়ে একাংশের মধ্যে গৌরীকে নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। কিন্তু তাঁকে হত্যা করার মতো মনোভাব দেখা যায়নি।’’

গৌরী খুনের আততায়ীরা এখনও অধরা। তবে তদন্তে ক্রমশ হত্যা রহস্য আরও জটিল হচ্ছে। পুলিশের এক সূত্রের দাবি, জেরার মুখে এক সঙ্গীতশিল্পী তাদের জানিয়েছেন, এক ধর্মগুরু তাঁর সমর্থকদের গৌরীকে খুনের জন্য ওস্কাতেন। তবে কে তিনি, এখনই তা প্রকাশ করেনি পুলিশ।

এদিকে, কন্নড় সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশের হত্য়াকাণ্ড নিয়ে এবার মুখ খুলল কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মাওবাদী)। তারা জানিয়েছে, বহুদিন ধরেই সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোন শক্তি রয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। অনেকেই এই বিষয়ে আঙুল তুলেছেন দেশের মাওবাদী সংগঠনগুলির দিকে। তবে মাওবাদীরা গোটা বিষয়টিকে নস্যাৎ করে দিয়ে ‘হিন্দু ফ্যাসিবাদীদের’ কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশের হত্যাকাণ্ডে মাওবাদীদের তরফে সরাসরি সঙ্ঘ পরিবারের দিকে আঙুল তুলেছে। তারা জানিয়েছে, গোটা দল, বামপন্থী তথা গণতান্ত্রিক চিন্তাভাবনা রাখা সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশের মৃত্যুতে নিন্দা প্রকাশ করছে। মাওবাদীরা নিজেদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘হিন্দু ফ্যাসিবাদী সংগঠন তথা বিজেপি দ্বারা পরিবৃত সংঘপরিবারই এর নেপথ্যে রয়েছে।’ দলের তরফে জানানো হয়েছে, বামপন্থী মানসিকতা রাখা সকল মানুষের উচিত এই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নামা। মাওবাদী সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, ” যবে থেকে ‘গুজরাত ফাইলস’ নামে বইটির অনুবাদ করেছেন লঙ্কেশ তবে থেকেই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের চক্ষুশূল হয়ে গিয়েছেন তিনি। ” এছাড়াও নিজেদের বক্তব্যে , বিজেপি নেতা ডি এন যুবরাজের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গৌরি লঙ্কেশের মৃত্যুর ঘটনার ব্যাখ্যা করেছে তারা। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও এদিন একহাত নেওয়া হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।

Advertisements