সিপিআই(মাওবাদী) প্রবীণ ও চাপে ভারাক্রান্ত নেতাদের স্বেচ্ছা অবসরের আহবান করেছে

download

নাম্বালা কেশভা রাও ওরফে বাসবরাজ

পার্টি সূত্রে বলা হচ্ছে, নাম্বালা কেশভা রাও ওরফে বাসবরাজ সম্ভবত মুপল্লা লক্ষ্মণ রাও ওরফে গণপতির বর্তমান পদে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে স্থানান্তরিত হতে পারেন।

পার্টিতে যারা শারীরিক এবং মানসিকভাবে অযোগ্য তাদের জন্যে সিপিআই (মাওবাদী) একটি স্বেচ্ছাসেবী অবসর স্কিম ঘোষণা করেছে। চূড়ান্ত লক্ষ্য হল, পার্টিকে সাংগঠনিক ভাবে ঢেলে সাজানো এবং সামরিক গতিতে নতুনত্ব আনা।

ধারণা করা হচ্ছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির ৬৭ বছর বয়সী সাধারণ সম্পাদক গণপতি (মুপল্লা লক্ষ্মণ রাও) পদত্যাগ করে পার্টির মধ্যে একটি উদাহরণ স্থাপন করতে চলেছেন। ২০০৪ সাল থেকেই তিনি সিপিআই (মাওবাদী)’র প্রধান হিসেবে আছেন।

এই বছরের আগেই প্রচার করা তিন পৃষ্ঠার বিজ্ঞপ্তি এবং এর পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যে দিয়ে  দলটি বলেছিল, “শারীরিক ও মানসিক সীমাবদ্ধতা সম্পন্ন কমরেডরা তাদের সীমাবদ্ধতাগুলি সনাক্ত করতে এবং স্বেচ্ছায় তাদের কমিটি থেকে বেরিয়ে আসতে তাদের বিপ্লবী চেতনা প্রদর্শন করতে হবে এবং নতুনদের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য এগিয়ে আনতে হবে যাতে করে তারা যে ন্যায় বিচার করতে পারেন তার উদাহরণ স্বরূপ কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য নেতৃত্ব তাদের (নিজস্ব) অনুশীলনের মাধ্যমে পার্টির মাঝে এই ধরনের একটি আদর্শ স্থাপন করতে হবে। “

যদিও মাওবাদীরা কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দেয়নি, তবুও পার্টিতে গণপথের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে এবং নাম্বালা কেশভা রাও ওরফে বাসরজ, এম ভেনুগোপাল রাও ওরফে সোনা এবং কথাকাম সুবেদার ওরফে আনন্দের নাম তাদের উত্তরাধিকারী হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাসবরাজ (প্রায় ৬২ বছর বয়সী) কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের প্রধান; মাওবাদী নেতা কিষানজির ছোট ভাই সোনু (৬০), মাওবাদী সদর দপ্তরের দায়িত্বে আছেন এবং আনন্দ(৬০), কেন্দ্রীয় আঞ্চলিক ব্যুরোর প্রধান। তাদের সবাই পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য, শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ইউনিটের সদস্য।

সূত্র জানায়, ১৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির বেশিরভাগ সদস্যই বাসবরাজকে গণপতির উত্তরাধিকারী হিসেবে সমর্থন করেছেন।

“সকল মাওবাদী নেতাদের মধ্যে সোনু সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে থাকা সত্ত্বেও, মাওবাদী অঞ্চল জুড়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে বাসবরাজকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে,” বলে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন।

১৯৭০ এর দশকের শুরুতে নকশাল আন্দোলনের সাথে যোগ দেন গণপতি, যিনি একজন প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক। তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং ১৯৭৭ সালে পুনরায় গ্রেফতার হন। ১৯৭৯ সালে জনযুদ্ধকালে তিনি গোপনে চলে যান এবং সিপিআই (এমএল) (পিডব্লিউ) -এর করিমনগর জেলা কমিটির সম্পাদক নির্বাচিত হন।

পূর্বাঞ্চলীয় আঞ্চলিক ব্যুরোতে পার্টির সিনিয়র নেতা, প্রশস্ত বসু ওরফে কিষাণ দা, যিনি একাধিক রোগে ভুগছেন, তার নেতৃত্বেও পরিবর্তন প্রত্যাশিত।  ১৯৬০ সালের মাঝামাঝি সময়ে মাওবাদী রাজনীতিতে যোগদানের নকশাল আন্দোলনের প্রথম ব্যাচটি এবং ১৯৭০ সাল থেকে বিহারে, ঝাড়খন্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহার ও উড়িষ্যা অঞ্চলের পার্টির সংগঠনটি বসুই দেখেন।

পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, উড়িষ্যা, মহারাষ্ট্রে এবং ছত্তিশগড়ের এমনকি তাদের মুল্যবান এলাকায় মাওবাদীরা দেশের অনেক অঞ্চলে দুর্বল হয়ে পড়লে, দুর্বল ও বৃদ্ধ নেতাদের অব্যাহতির এই সিদ্ধান্ত আসে।

সূত্রঃ http://www.hindustantimes.com/kolkata/cpi-maoist-offers-vrs-to-aged-and-stressed-leaders/story-Ij18daRix27wrICtag884J.html

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.