আত্মজীবনী লিখুন এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী ফোরাম গড়ে তুলুন: প্রবীণ সদস্যদের প্রতি সিপিআই(মাওবাদী)

_6cf996fa-b564-11e7-8276-b04a35b0fb2c

কলকাতায় ২০১৬ সালে পার্টির শীর্ষ নেতা, পশ্চিম বাংলা কমিটি’র সাবেক সম্পাদক হিমাদ্রি সেন রায় ওরফে সোমেন স্বরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে উপস্থিত হন সিপিআই(মাওবাদী)-র সাবেক নেতৃবৃন্দঃ সর্ব বামে পূর্ণেন্দু শেখর মুখার্জি, প্রয়াত নারায়ণ সান্যাল(মাঝে) এবং চান্দি সরকার।     – লাল সংবাদ

গত কয়েক বছরে দেশ জুড়ে পিছিয়ে পড়া পার্টির কার্যক্রমকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য, পার্টি প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শারীরিক ভাবে দুর্বল ও মানসিক চাপে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়া প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সদস্যদের অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিআই(মাওবাদী)।

আত্মজীবনী লিখুন, শহুরে এলাকায় বসবাস করুন, গণ আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করুন এবং দলিত, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের নিয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ফোরাম বেগবান করুন, স্বাধীনভাবে কাজ করুন এবং পার্টির গোপন নেটওয়ার্কগুলির সাথে ন্যূনতম যোগাযোগ রাখুন – এইগুলো হল সিপিআই(মাওবাদী) কর্তৃক পার্টির বিভিন্ন স্তরের কমিটিতে ‘শারীরিক ও মানসিক সীমাবদ্ধতা’য় ভারাক্রান্ত প্রবীণ, অভিজ্ঞ নেতাদের প্রতি কিছু নির্দেশনা।

প্রবীণ নেতাদের প্রতি স্বেচ্ছায় নিজেদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে অন্যান্যদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার আহবান জানিয়েছে পার্টি, তবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি চায়, তারা যেন কোনরূপ প্রত্যাশা না করেই নিঃস্বার্থভাবে’ এই কাজ করে যান।

“পার্টির শৃঙ্খলা বাস্তবায়নের জন্য প্রবীণ ও অভিজ্ঞ কমরেডদের অবশ্যই প্রস্তুত থাকতে হবে, অন্যান্য কমরেডদের সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং আন্দোলনের প্রজন্ম গড়ে তোলা এবং আন্দোলনের জোয়ার ভাটার দিকে নজর রেখে কাজ করা। কিছু আশা না করেই তাদের নিঃস্বার্থভাবে দায়িত্বের অংশ নিতে হবে। এটি তাদের বাকি জীবনের জন্য কাজ”- পার্টির প্রবীণ/অভিজ্ঞ কমরেডদের প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটির তিন পৃষ্ঠার গৃহীত এক বিজ্ঞপ্তির সিদ্ধান্তে তা জানা যায়।

দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, পার্টির সাধারণ সম্পাদক, ৬৭-বছর বয়সী মুপাল্লা লক্ষণ রাও ওরফে গণপতি, একটি উদাহরণ স্থাপন করার জন্য নিজে পদত্যাগ করার প্রস্তাব করেছেন। পার্টির সিনিয়র নেতৃস্থানীয় নেতা, ৭০ বছর বয়সী প্রশস্ত বসু ওরফে কিষাণ দা সম্ভবত পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিজের স্থানটি ছেড়ে দেবেন।

মাওবাদী সূত্রগুলো বলছে, এই সিদ্ধান্তের প্রস্তুতি পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে, যদিও দলটিতে সব স্তরের সিনিয়র ও বয়স্ক নেতাদের স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত বিরল।

“২০১০-১১ সালে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিভিন্ন স্তরে নেতাদের গড় বয়স নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রক্রিয়াটি গৃহীত হয়েছিল। ২০০৮ ও ২০১১ সালের মধ্যে গ্রেফতার ও বন্দুক যুদ্ধে কেন্দ্রীয় নেতাদের মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়”।

সেই তিন বছরে মাওবাদী আন্দোলন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে যখন মাওবাদীরা ১৩জন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যকে হারান। তাদের মধ্যে কমরেড আজাদ, কিষেঞ্জী এবং প্যাটেল সুধাকর রেড্ডিকে মিথ্যা বন্দুক যুদ্ধে হত্যা করা হয়, বাকিরা- প্রমোদ মিশ্র, অখিলেশ যাদব, অমিতাভ বাগচী, কোবদ গান্ধী, বাচ্চা প্রসাদ সিং, মোতালিল সোরেণ, বারাণসী সুব্রামনিয়াম, পূর্ণেন্দু শেখর মুখোপাধ্যায়, বিজয় কুমার আরিয়া ও বানসিধর ওরফে চিন্তনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের শুন্যতা পার্টিতে গুরুতর নেতৃত্বের সঙ্কটের সৃষ্টি করেছিল, কারণ বেশিরভাগ বাকি নেতারা তখন প্রবীণ ছিলেন।

“পার্টি নেতৃত্ব, দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্বের বিকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে, রাজ্যে এবং আঞ্চলিক স্তরে এই পরিকল্পনার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি এলাকায় নেতৃস্থানীয় নেতাদেরকে এগিয়ে আনা হয়েছে”।

বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন- বিবেক চন্দ্রি যাদব (৪০), মোডেম বালকৃষ্ণ, পুল্লুর প্রসাদ রাও, আকিকিরজু হারগোপাল, মিসির বাষরা এবং জিংহ নরসিংহ রেড্ডি(৫০) এবং কাদরি সত্যেনারায়ণ রেডী, আরবীন্দজী, মিসির বাষরা, রঞ্জিত বসু এবং তিপ্পি তিরুপতি (৫০), মালে রাজী রেড্ডি (৬০)।

মাওবাদীরা বলেন, প্রবীণদের মধ্যে শীর্ষ নেতা সুশীল রায়ের উপর প্রথম এই নীতির সফল প্রয়োগ করা হয়েছিল, যিনি ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে ২০১২ সালে সুপ্রীম কোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান। কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, রায়কে দিল্লিতে একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করানো উচিত। পার্টি সিদ্ধান্তও দিয়েছিলেন যে, পার্টিকে দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করা উচিত এবং নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলনের সমালোচনা লিখে তিনি সহায়তা করে যাবেন।

রায়ের মৃত্যুর পর ২০১৪ সালে তার লেখা প্রকাশিত হয় এবং দলের ক্যাডারদের মধ্যে তা প্রচারিত হয়।

সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যেও, প্রবীণ নেতাদের নিজ অভিজ্ঞতার কথা  লেখার কাজ দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি।

“দীর্ঘদিনের এবং স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতা সহ অনুগত কমরেডরা আমাদের দল এবং বিপ্লবী আন্দোলনের সম্পদ। তাদের তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং উৎসর্গীকরণ পার্টিকে সঠিক পথেই থাকতে সাহায্য করবে। তাই শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তাদের সেবা, সম্মান, রক্ষা এবং ব্যবহার করা পার্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ, ” বিজ্ঞপ্তিটিতে বলেন মাওবাদীরা।

গ্রেফতারকৃত শীর্ষ নেতাদের মধ্যে, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পূর্ণেন্দু শেখর মুখার্জী, বানসিধর ওরফে চিন্তান এবং বাকচাপ্রসাদ সিং ওরার বালারাজ গত কয়েক বছরে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

জনৈক মুখোপাধ্যায় ও চিন্তান বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। বলরাজের বয়স এখন ৫০।

তবে কেন্দ্রীয় কমিটির ঐ সার্কুলারের সুপারিশ অনুযায়ী ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূল হলে প্রবীণ কমরেডদের জনসমক্ষে এনে তাদের পুরোদমে কাজে লাগানোর জন্যে’ বলা হয়েছে।

সূত্রঃ http://www.hindustantimes.com/kolkata/write-autobiographies-and-develop-anti-facist-forums-cpi-maoist-tells-aged-comrades/story-anI2PIdiPwneryTd72yNbI.html

Advertisements

পাবলো নেরুদা’র মৃত্যু ‘ক্যান্সারে হয়নি’, পরিকল্পিত খুনঃ ফরেনসিক গবেষক দল

pablo-neruda_650x400_71432837276

কথিত ‘প্রোস্টেট ক্যান্সারে’ আক্রান্ত হয়ে চিলির সান্তিয়াগো’র এই ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় পাবলো নেরুদা’র – লাল সংবাদ

বুর্জোয়া গণমাধ্যম ও দেশগুলোর প্রচার করা- পাবলো নেরুদার ক্যান্সারে মৃত্যু হওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে একদল ফরেনসিক গবেষক দাবি করেছেন, ‘প্রস্টেটের ক্যান্সারে মৃত্যু হয়নি নেরুদার, এটা সম্ভবত পরিকল্পিত খুন।

নোবেলবিজয়ী কবি পাবলো নেরুদার মৃত্যু ঘিরে রহস্য নতুন মোড় নিয়েছে।

চিলির এই কবি প্রস্টেটের ক্যান্সারে মারা গিয়েছিলেন বলে ১৯৭৩ সালে মৃত্যুর পর জানানো হয়েছিল।

তবে একনায়ক আগুস্তো পিনোশের ক্ষমতা দখলের দুই সপ্তাহের মধ্যে কমিউনিস্ট নেরুদার মৃত্যু নিয়ে তখনই সন্দেহ উঠেছিল।

নেরুদার সাবেক গাড়িচালক ম্যানুয়েল আরায়া দাবি করেছিলেন, ক্যান্সার নয়, বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয় এই কবিকে।

Neruda+Death+Press+Con

চিলির রাজধানী শান্তিয়াগোতে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে ফরেসনিক গবেষক দল; যারা বলছেন, পাবলো নেরুদার মৃত্যু ক্যান্সারে হয়নি- ছবি: রয়টার্স

সরকারি ভাষ্য নিয়ে ৪৪ বছর ধরে সন্দেহ আর অবিশ্বাসের মধ্যে শুক্রবার একদল ফরেনসিক গবেষক দাবি করেছেন, প্রস্টেটের ক্যান্সারে মৃত্যু হয়নি নেরুদার।

নেরুদার দেহাবশেষ থেকে নমুনা নিয়ে সম্প্রতি পরীক্ষা করে গবেষক দল এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে। 

তবে ঠিক কী কারণে নেরুদার মৃত্যু হয়েছে, সেই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি গবেষক দল। তবে তাকে পরিকল্পিত খুনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।

গবেষক দলের এক  সংবাদ সম্মেলনে ডা. অর্লিও লুনা বলেন, প্রস্টেটের ক্যান্সার যে নেরুদার মৃত্যুর কারণ নয়, সে বিষয়ে তারা ‘একশ ভাগ নিশ্চিত’। তার মৃত্যু সনদে ‘প্রকৃত কারণ আসেনি’।

এই কবি প্রস্টেটের ক্যান্সারে ভুগছিলেনি ঠিকই, তবে ১৯৭৩ সালে ৬৯ বছর বয়সে তিনি যখন মারা যান, তখন তার ক্ষেত্রে তা জীবনহানির মতো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল না বলে গবেষকরা এখন বলছেন।

স্পেনের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুনা বলেছেন, তারা নেরুদার দেহাবশেষে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া পেয়েছেন, যা গবেষণাগারে তৈরি বলে তাদের মনে হচ্ছে।

মৃত্যু ঘটাতে এই ব্যাকটেরিয়াই নেরুদার দেহে প্রবেশ করানো হয়েছিল কি না, সেই গবেষণা এখন চালাচ্ছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। এই পরীক্ষার ফলাফল আসতে ছয় মাস থেকে এক বছর লাগতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন ডা. লুনা।

চিলির সমাজতন্ত্রমুখী জাতীয়তাবাদী নেতা সালভাদর আয়েন্দের সরকারকে হটিয়ে পিনোশের ক্ষমতা দখলের ১২ দিন পর ১৯৭৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে মৃত্যু ঘটে নেরুদার।

১৯৭১ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী কমিউনিস্ট নেরুদা ছিলেন আয়েন্দের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

তার গাড়িচালক আরায়ার দাবি, নেরুদা যখন ঘুমে ছিলেন, তখন তার দেহে ইনজেকশনের মাধ্যমে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল, তাতেই তার ‍মৃত্যু ঘটে।

২০১৩ সালেও বিসিসিকে এক সাক্ষাৎকারে আরায়া বলেছিলেন, “তাকে হত্যাই করা হয়েছিল। মৃত্যুর আগেও আমি এই কথা থেকে একচুলও নড়ব না।”

পিনোশে ক্ষমতা দখলের পর নেরুদাকে মেক্সিকোতে নির্বাসনে পাঠাতে চেয়েছিলেন। নেরুদা দেশ ছাড়তে রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয় বলে আরায়ার দাবি।

এরপর থেকে নেরুদার মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক চলে আসছিল; ক্ষমতা হারিয়ে ২০০৬ সালে পিনোশে মারা যাওয়ার পর মৃত্যুর তদন্তের দাবি জোরাল হয়ে হয়ে ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে ২০১৩ সালে নেরুদার দেহাবশেষ তুলে পুনরায় পরীক্ষার আদেশ দেয় চিলির আদালত।