পাথর শিল্পাঞ্চলে মাওবাদী হামলাঃ অনাহারী শ্রমিকদের জন্যে কারখানা খুলে দেয়ার দাবী

image (1)

বন্ধ থাকা শিল্পাঞ্চল খুলে দিয়ে অনাহারী শ্রমিকদের বাঁচাতে মাওবাদীরা হামলা চালিয়েছে রামপুরহাটের মাসড়া পাথর শিল্পাঞ্চলের চাঁদনী মোড়ে। পুড়িয়ে দিয়েছে তিনটি ডাম্পার ও একটি জেসিবি মেশিন। এই ঘটনায় পাথর ব্যবসায়ীরা এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন পুলিশকে।

রাস্তাঘাটে পুলিশের মাত্রাতিরিক্ত তোলাবাজির জেরে গত চার মাস শালবাদরা ও মাসড়া পাথর শিল্পাঞ্চলে ব্যবসা বন্ধ রয়েছে।  ফলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। রুটিরুজির টানে অনেকে ভিন রাজ্যের পাড়ি দিচ্ছে। সব জেনেও প্রশাসন নির্বিকার। ফলে এলাকার পাথরভাঙা মেশিনে পাহারা দিচ্ছেন নৈশ্য প্রহরী। দিন কুড়ি আগে বিভিন্ন এলাকায় মাওবাদীদের নাম করে শিল্পাঞ্চল কাজ চালু করার দাবিতে পোস্টার দেওয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সেই অফিসেই হামলা চালায় ৩০-৩৫ জনের মাওবাদী দল। মাওবাদী জিন্দাবাদ স্লোগান দিতে দিতে তারা একটি ক্রাসারের তিনটি গাড়ি এবং অন্য একটি ক্রাসারে জেসিবিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।  নৈশ্য প্রহরীদের মোবাইল কেড়ে নিয়ে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে চলে যায়। ঐ কারখানার নাইটগার্ড পুলিশের কাছে দাবি করেছে ওই লোকেরা মাওবাদীদের নাম করে স্লোগান দিচ্ছিল। মাওবাদীরা বলে যায়, ‘‘এত দিন ক্রাশার বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা অনাহারে রয়েছে। এ বারে না খুললে আরও সমস্যা হয়ে যাবে।’’ একটি ক্রাশারের দু’টি ডাম্পার এবং অন্য ক্রাশারের একটি ভারী যন্ত্রে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা। প্রায় ঘণ্টা খানেক তারা সেখানে ছিল বলে নাইট গার্ডদের দাবি। কোন দিক দিয়ে পালিয়ে যায়, সেটা আর বুঝতে পারেননি তাঁরা। তাদের হাতে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে জানা গিয়েছে।

শালবাদরা পাথর শিল্পাঞ্চল ঝাড়খণ্ডের সীমানায়। শিল্পাঞ্চলের পরেই শুরু হচ্ছে জঙ্গল। চলে গিয়েছে গিরিডি পর্যন্ত। জঙ্গলের রাস্তায় ঝাড়খণ্ডের শিকারিপাড়া থানা শিল্পাঞ্চল থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে। ওই থানা এলাকায় মাওবাদীরা অনেক দিন ধরেই সক্রিয় বলে জানা যায়। বেশ কয়েক বছর আগে শালবাদরার একটি ক্রাশারে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ মাওবাদী যোগের প্রমাণ পেয়েছিল। ঝাড়খণ্ডের দুমকা এলাকার এক জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল।

হামলা হওয়া ক্রাশারের একটির মালিক আফতাব হোসেন বলেন, ‘‘সকালে নাইট গার্ডের থেকে খবর পেয়ে এলাকায় এসে দেখি পাথর বোঝাই করার যন্ত্রের ইঞ্জিন আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য কারখানার দু’টি ডাম্পার পুড়েছে। ছ’মাস ধরে ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। তার উপরে এত বড় ক্ষতি হল।’’ এই ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে অচলাবস্থা কাটাতে পুলিশ, প্রশাসনের পদক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

সূত্রঃ biswabanglasangbad.com