বাংলাদেশঃ মাওবাদপন্থীদের উদ্যোগে ‘সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ’ উদযাপিত

rrrrr

বাংলাদেশে শ্রমিকশ্রেণী ও শোষিত-নিপীড়িত জনগণের মুক্তির সংগ্রামকে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শিক্ষায় সজ্জিত করে সমাজতন্ত্রের সংগ্রামকে বেগবান করার লক্ষ্যে গতকাল ১০ই নভেম্বর, শুক্রবার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে  মাওবাদপন্থীদের উদ্যোগে ‘মহান সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ’ উদযাপিত হয়েছে।

ci

অনুষ্ঠানের ১ম পর্বেঃ সকাল ১০.৩০মিনিটে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘মহান সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ’ উদযাপন কমিটির উদ্যোগে গণজমায়েত ও পথসংগীত শেষে লাল পতাকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাব-হাইকোর্ট-দোয়েল চত্ত্বর-টিএসসি-শাহবাগ হয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে এসে শেষ হয়। এসময় ‘মহান সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ’ উপর বানানো টি শার্ট পরিহিত ছিল কর্মীরা ।

২য় পর্বেঃ দুপুর ১টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের হল রুমে শুরু হয় ‘অক্টোবর বিপ্লব’ শীর্ষক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, উদযাপন কমিটির আয়োজনে দুপুরের খাবার শেষে বেলা ৩.৩০মিনিটে শুরু হয় আলোচনা সভা। লেখক হাসান ফকরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন – লেখক বদরুদ্দিন উমর, সৈয়দ আবুল কালাম, সাংবাদিক বাদল শাহ আলম, রাজনৈতিক নেতৃত্ব জাফর হোসেন, মাসুদ খান, শাহজাহান সরকার, বিডি রহমতুল্লাহ, মঞ্জুরুল হক, বিপ্লব ভট্টাচার্য, হাসিবুর রহমান প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন – ‘মুক্তিকামী মানুষের মাঝে আজ সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদের সঠিক দিশা নিয়ে যেতে হবে। সেজন্য উর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে বলশেভিক সংগ্রামী শিক্ষা, শ্রেণীসংগ্রাম, শ্রমিকশ্রেণীর একনায়কত্ব, বলপ্রয়োগে শোষিতের ক্ষমতা দখল, একশ বছরে সমাজতন্ত্রের সংগ্রামে লেনিন-স্ট্যালিন-মাও সেতুঙ মার্কসবাদী শিক্ষকদের পথ এবং বাতিল করতে হবে শ্রেণীসংগ্রাম বিরোধী, শ্রমিকশ্রেণীর একনায়কত্ব বিরোধী, মার্কসবাদ ও সমাজতন্ত্র বিরোধী পথকে। এটাই অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শিক্ষা। কমরেড লেনিনের মৃত্যুর পর কমরেড স্ট্যালিন সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টিকে শ্রেণীসংগ্রামের মাঠে নেতৃত্ব দেন। সোভিয়েত ইউনিয়নে মানুষকে চুড়ান্তভাবে মুক্ত করতে সমাজতন্ত্রের নির্মাণ এগিয়ে নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্যাসীবাদকে পরাজিত করে শ্রমিকশ্রেণীর বিজয় নিশ্চিত করেন। কিন্তু, কমরেড স্ট্যালিনের মৃত্যুর পর ক্রুশ্চেভ চক্র সমাজতন্ত্রের নামেই শান্তিপূর্ণ সহবস্থান ও শ্রেণী সমন্বয়বাদসহ শ্রেণীসংগ্রাম বিরোধী ও মার্কসবাদ বিরোধী তত্ত্ব ও পথ অবলম্বন করে রাশিয়ায় শ্রমিকশ্রেণীর একনায়কত্ব ও সমাজতন্ত্রকে নস্যাত করে। অক্টোবর বিপ্লবে ক্ষমতা হারানো শোষক পুঁজিপতিশ্রেণীকে ক্ষমতা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৯১ সালে এই পুঁজিপতিরা খোলাখুলিভাবে রাশিয়ায় পুঁজিবাদ ঘোষণা করে।

আবার, রুশ বিপ্লবের দিশা ও প্রেরণায় ঘটেছিল চীন বিপ্লব। কিন্তু, ১৯৭৬ সালে কমরেড মাও সেতুঙ এর মৃত্যুর পর চীনেও তেঙ চক্রের নেতৃত্বে নতুন বুর্জোয়ারা ক্ষমতা দখল করে। শ্রমিকশ্রেণীর একনায়কত্ব ও শোষণ-বৈষম্য অবসানের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে হটিয়ে ভুয়া সমাজতন্ত্র বা পুঁজিবাদ কায়েম করে। এভাবে, শোষকদের ক্ষমতা আপাতত ফিরে এলেও শোষিতের মুক্তির লক্ষ্যে পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থাকে হটিয়ে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলছেই। গত একশ বছর ধরে শ্রমিকশ্রেণী ও শোষিত জনগণ সমাজতন্ত্রের সংগ্রামে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা ও শিক্ষায় সমৃদ্ধ হয়েছে।

একদিকে পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ আজ আবারও গোটা বিশ্বকে গ্রাস করেছে। নতুনভাবে ভাগবাটোয়ারার লড়াইয়ে পারমাণবিক তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মুখোমুখি করেছে। দেশে দেশে কায়েম করছে ফ্যাসীবাদ। জনগণকে বিভক্ত করে শোষণ-শাসনের জন্য উস্কে দিচ্ছে উগ্র জাতীয়তাবাদ, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতাসহ বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াশীল ভাবধারা। চালিয়ে যাচ্ছে নজিরবিহীন শোষণ-লুন্ঠন-নিপীড়নের বিভীষিকা। প্রকৃতি-পরিবেশের বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে চরম ধ্বংসাত্মক তৎপরতা। শোষণ-লুন্ঠণের নৈরাজ্যে মানব সমাজের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলছে। বাংলাদেশেও সাম্রাজ্যবাদ ও আগ্রাসী ভারতের অনুগত শাসকশ্রেণীর কয়েক দশকের শাসন-শোষণে জর্জরিত জনগণ। আওয়ামী সরকার কায়েম করেছে এক নজিরবিহীন ফ্যাসীবাদ।

অপরদিকে, অব্যাহত আছে জনগণের শোষণমুক্তির লড়াই। মুক্তিকামী জনগণ খুঁজছে মুক্তির দিশা, সঠিক পথ। এমন সময় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপন মুক্তিকামী মানুষের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কেননা, সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব শোষিতের ক্ষমতা কায়েম করেছিল, দেখিয়েছিল মানব মুক্তির প্রকৃত পথ। আর সমাজতান্ত্রিক সমাজকে নস্যাৎ করে শোষকরা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে শোষণের পুরনো ব্যবস্থা। ব্যাহত করেছে শোষিতের মুক্তির পথ।

কাজেই, মুক্তিকামী মানুষের মাঝে আজ সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদের সঠিক দিশা নিয়ে যেতে হবে। সেজন্য উর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে বলশেভিক সংগ্রামী শিক্ষা, শ্রেণীসংগ্রাম, শ্রমিক শ্রেণীর একনায়কত্ব, বলপ্রয়োগে শোষিতের ক্ষমতাদখল, একশ বছরে সমাজতন্ত্রের সংগ্রামে লেনিন-স্ট্যালিন-মাও সেতুঙ মার্কসবাদী শিক্ষকদের পথ। বাতিল করতে হবে শ্রেণী সংগ্রাম বিরোধী, শ্রমিকশ্রেণীর একনায়কত্ব বিরোধী, মার্কসবাদ ও সমাজতন্ত্র বিরোধী পথকে। এটাই সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শিক্ষা’।

r