সিপিআই(মাওবাদী)’র গণসংগঠন অভিযোগে ‘মজদুর সংগঠন সমিতি’কে নিষিদ্ধ ঘোষনা

maxresdefault

গত ২২শে ডিসেম্বর ‘মজদুর সংগঠন সমিতি’ (MSS) কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঝাড়খণ্ড সরকার। সরকারের দাবী সংগঠনটি সিপিআই(মাওবাদী)’র গণসংগঠন। একই সাথে গিরিধি, ধানবাদ ও বোকারো জেলায় গণসংগঠনটির ইউনিট কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। সরকারের অভিযোগ ‘সংগঠনটি ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি, লেভি সংগ্রহ এবং জনগণকে সংগঠিত করা – এ সকল অবৈধ কার্যক্রম জড়িত’।

এদিকে, এই গণসংগঠনটি সম্পর্কে ফেসবুকের বিভিন্ন পোষ্ট থেকে জানা যাচ্ছে- ঝাড়খন্ড- খনিজ সম্পদে পরিপূরণ এক বিস্তির্ণ রাজ্য। আর তার সঙ্গে সঙ্গে গড়ে উঠেছে ছোটবড়ো মাপের বহু কারখানা। সেই ঔপনিবেশিক ভারতে প্রথম গড় ওঠা দালাল পুঁজিপতিদের মুক্তাঞ্চল হলো ঝাড়খন্ড। ইস্পাত থেকে বক্সাইট, ইউরেনিয়াম থেকে কয়লা একই ভুখন্ডের মাটির নিচে জমা হয়ে আছে। এই সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদ লুন্ঠনের ইতিহাসও তার সঙ্গেই শুরু হচ্ছে। আর শুরু হচ্ছে বিস্তৃত জঙ্গল থেকে আদিবাসি মূলবাসি মানুষদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়া। এক একটি ইস্পাত কম্পানিকে ধরে ভারতে সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির শোষন আরও মজবুত হয়েছে। ‘মজদুর সংগঠন সমিতি’ ঝাড়খন্ডের শ্রমজীবি মানুষ বিশেষ করে রাঁচী, বোকারো, গিরিডি, দুমকা সহ একাধিক শহরের শিল্পীয় সর্বহারাদের সংগঠিত করে, এবং শুধু তাদের অধিকার আন্দোলনেই সীমাবদ্ধ না রেখে ভারতে চলমান কৃষি বিপ্লবের নেতৃত্বে উন্নিত করে। শ্রমিকরা কৃষি বিপ্লবের প্রকৃত নেতা এই চেতনা গড়ে ওঠে ঝাড়খন্ডের হাজার হাজার শ্রমিকের। সামন্তবাদ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে MSS তার যথার্থ কর্তব্য পালন করে যাচ্ছিলো। 
গত একমাস ধরে তারা ঝাড়খন্ডের বিভিন্ন শহরে পালন করেছে নভেম্বর বিপ্লবের শতবর্ষ। প্রায় ৩০০০০ হাজার শ্রমিক গিরিডি শহর কয়েক ঘন্টার জন্য করে ফেলেছিলো বন্ধ।

ঝাড়খণ্ড সরকার এবং সামগ্রিক ভাবে এই ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র আবার তার নিজের বানানো সাংবিধানিক নিয়মকে লঙ্ঘন করে MSS কে নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে। মাওবাদীদের গণসংগঠনের তকমা দিয়ে এর আগে ১৬ টি বিভিন্ন সংগঠনকে ঝাড়খন্ড সরকার নিষিদ্ধ করেছে। এবার MSS। দেশ ব্যাপী একের পর এক জনবিরোধী নীতি গুলো যখন লাগু করছে হিন্দুত্ব ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র, তারই অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ।

সূত্রঃ  http://www.uniindia.com/jharkhand-govt-bans-mazdoor-sangathan-samiti-frontal-organisation-of-cpi-maoists/states/news/1084873.html#.Wj5eRj4kydI.facebook

Advertisements

ফিলিস্তিনি কিশোরী আহেদ তামিমি’র প্রতি সংহতি

ob_6d3cfc_free-ahed

এক ইসরাইলি সেনার গালে ঘুষি মেরে বীরের মর্যাদায় ভূষিত হয়েছেন ১৬ বছরের ফিলিস্তিনি কিশোরী আহেদ তামিমি। কোকড়ানো ও সোনালি চুলের এই কিশোরী তাদের বাড়ির প্রবেশ পাথের কাছে দাঁড়ানো দুই ইসরাইলি সেনার দিকে হেঁটে এগিয়ে যান। সেনাদের কাছাকাছি গিয়ে নিজেদের বাড়ির আঙিনা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বলেন তিনি। কিন্তু ওই দুই সেনা তার কথায় কোনো কর্ণপাত না করে দাঁড়িয়ে থাকে। তিনি ওই দুই সেনাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু সেনারা কোনো তোয়াক্কা না করায় এক সেনার গালে সজোরে থাপ্পড় বসিয়ে দেন তিনি। ইসরাইলি দুই সেনাকে ফিলিস্তিনি কিশোরীর রুখে দাঁড়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই ফিলিস্তিনের নবী সালেহ গ্রামের ১৬ বছর বয়সী এই কিশোরী নতুন প্রজন্মের এক বীরপ্রতীক হিসেবে ফিলিস্তিনের কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান।
এনবিসি নিউজ জানায়, গত শুক্রবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করার প্রতিবাদে পশ্চিম তীরে বিক্ষোভ করছিল ফিলিস্তিনিরা। এ সময় ফিলিস্তিনের বিখ্যাত কিশোরী অ্যাক্টিভিস্ট আহেদ তামিমির পরিবারের এক সদস্যকে মাথায় গুলি করে ইসরাইলি সেনারা। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে কিশোরী আহেদ তামিমি। এই দৃশ্য কেউ একজন মোবাইল ফোনের ক্যামেরা ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। এই ভিডিওকে ঘিরে ফিলিস্তিনি কিশোরীর বিরুদ্ধে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে উসকানি দেয় ইহুদিবাদী সংবাদ মাধ্যমগুলো।
থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলি সেনারা মাসহ ওই কিশোরী আহেদ এবং তার ২১ বছর বয়সী চাচাতো বোন নুর নাজি আল তামিমিকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার ভোরে ওই ফিলিস্তিনি কিশোরীর বাড়িতে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। আহেদের ব্যক্তিগত ল্যাপটপ, মোবাইল এবং বেশ কিছু ইলেক্ট্রনিক জিনিস জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় তামিমির পরিবারের লোকজনকে সেনারা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় ফিলিস্তিনিরা সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ও নিন্দা জানান। তাদের কথা, দখলদার ইসরাইলি সেনাদের প্রতিরোধ করার অধিকার রয়েছে ফিলিস্তিনিদের। এদিকে দুই সেনার ওপর হামলার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের সাজাও ঘোষণা করা হয়েছে। ইসরাইলের শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেন্নেত মঙ্গলবার আর্মি রেডিওতে এক ঘোষণায় বলেন, ‘অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে জড়িত দুই ফিলিস্তিনি কিশোরীকে জেলেই পচে মরতে হবে।’


চীনে মাওবাদী বুদ্ধিজীবী’র মুক্তির আহবান জানিয়ে ‘খোলা চিঠি’তে স্কলারদের স্বাক্ষর

c312328c-e7e5-11e7-8ff5-d91dc767c75e_1320x770_213520

চীনের মাওবাদী বুদ্ধিজীবীঝ্যাং ইউনফান

গত ১৫ই নভেম্বরে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ বছর বয়সী স্নাতক দর্শনশাস্ত্রের ছাত্র ‘ঝ্যাং ইউনফান’কে পাঠচক্র চলাকালীন সময়ে গ্রেফতার করে অজ্ঞাতস্থানে রেখে ৬ মাসের আটকাদেশ দেয় চীন সরকার। চীনা এই মাওবাদী বুদ্ধিজীবী’র মুক্তির আহ্বান জানিয়ে ১০০ জনেরও বেশি ব্যক্তি সম্প্রতি একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। এই চিঠিটি ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ কর্তৃক যাচাই করা হয়।

“কিছু নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনার” উপর তার মতামত প্রকাশ করার পর, ঐ মতামত নিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে জনগণকে একত্রিত” করার জন্যে তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

মাওবাদী ওয়েবসাইটগুলিতে প্রচারিত এই চিঠির স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে একজন ছিলেন পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক কান লিকুন, যিনি মাও পরবর্তি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একজন সমালোচক হিসেবে পরিচিত।

অন্যান্য স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক ও মাওবাদী বুদ্ধিজীবী কং কিংডং এবং মাওবাদী সমর্থকদের জনপ্রিয় বুকস্টোর ‘ওয়ায়ানউ’ এর প্রতিষ্ঠাতা ফন জিংগং।

ইন্টারনেট থেকে পাওয়া কিছু সূত্র অনুযায়ী, ঝ্যাং ২০১৪ সালে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটি গ্রুপকে নেতৃত্ব দিয়ে মাওয়ের জন্মস্থান ভ্রমণে গিয়েছিলেন  এবং বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের বিতর্কিত প্রতিষ্ঠাতা পিতাকে শ্রদ্ধা জানান। তবে তার গ্রেফতারের সূত্রপাত কি তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঝ্যাং এর এক বন্ধু জানান, ঝ্যাং চীনের অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করতেন ও একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পিছিয়ে থাকা ও বঞ্চিত এলাকার শিশুদের শিক্ষা দিতেন।   

বন্ধুটি বলেন, ” শুধুমাত্র তার রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে, পাঠচক্র চলাকালীন সময়ে তার মত একজন ভালো নাগরিক এবং পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতককে গ্রেফতার করা হয়, এটা আমাকে দুঃখ দেয়”।

বন্ধুটি মনে করেন যে, এখনো অনেক সামাজিক সমস্যা রয়েছে এবং নিচের দিকের মানুষগুলোই সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে”।

মাওবাদীরা, চীনের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে, তারা মনে করে মাও সে তুঙয়ের পরিকল্পিত অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি’র সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। তারা ক্রমবর্ধমান সম্পদশক্তি ও দুর্নীতির জন্য দেশের বাজার সংস্কারকেও দোষারোপ করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চীনে এ জাতীয় মাওবাদী আন্দোলনের বেশ উত্থান ঘটেছে এবং এর ফলে কর্তৃপক্ষ এই ধরণের সমাবেশগুলির উপর কড়া নজরদারী রেখেছে।

সূত্রঃ http://www.scmp.com/news/china/policies-politics/article/2125541/chinese-scholars-sign-open-letter-calling-release