মাওবাদী গেরিলাদের সাথে সম্পর্কের অভিযোগে বিশিষ্ট আইনজীবী গ্রেফতার

download (1)

গত বুধবার, মাওবাদীদের গেরিলাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য গাজাপতি জেলার (ওড়িশা) পারালকহমুণ্ডির একজন বিশিষ্ট আইনজীবি গ্রেফতার হন। অভিযুক্ত আইনজীবী উপেন্দ্র নায়েক, এসময় মোহনা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মাওবাদীদের সাথে সংশ্লিষ্ট কমপক্ষে ১১ টি মামলা,  তার বিরুদ্ধে চলছে। “একজন ম্যাজিস্ট্রেট তাকে কয়েক বছর ধরে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারের পরোয়ানা জারি করেছে, কিন্তু তাকে গ্রেফতার করা হয়নি”। বুধবার আদালতে বেশ কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। পারলকামণ্ডির বার অ্যাসোসিয়েশন গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছে এবং একদিনের ধর্মঘটের আহবান করেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে যে, ২০০৯ – ২০১০ সালের মধ্যে এলাকায় সক্রিয় মাওবাদীদের সাথে তার যোগাযোগ ছিল, তখন তিনি গেরিলাদের উল্লেখযোগ্য সহায়তা প্রদান করতেন।

Advertisements

আফগানিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি(মাওবাদী)‘র প্রবীণতম সমর্থকের মৃত্যু

baba

বাশি বোস্তান

আফগানিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি(মাওবাদী)-CPA’র প্রথম প্রজন্মের ও প্রবীণতম সমর্থক ‘বাশি বোস্তান’ মারা গেছেন।

তিনি আকরাম ইয়ারির নেতৃত্বে শ্রমিকদের কমিটিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁর বিপ্লবী কার্যক্রম শুরু করেন। পরের বছর, তিনি আফগানিস্তানের জনগণের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠনে যোগদান করেন। এরপরের বছরগুলিতে তিনি আফগানিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি এবং আফগানিস্তানের কমিউনিস্ট (মাওবাদী) পার্টির গুরুত্বপুর্ণ সমর্থক হন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাশি বোস্তান অসুস্থ ছিলেন। বার্ধক্য জনিত অসুস্থতার সাথে দীর্ঘ যুদ্ধের পর গত ২২শে ডিসেম্বর ২০১৭ তিনি মারা যান।

আমরা তার সহকর্মীদের, তার পরিবারের সকল সদস্য এবং আত্মীয়স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

তাঁর স্মৃতি আমাদের সাথে থাকবে।

কেন্দ্রীয় কমিটি

আফগানিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)

ডিসেম্বর ২৬, ২০১৭

 

সূত্রঃ http://www.sholajawid.org/update/index_english.html


চারু মজুমদারের সংগৃহীত রচনা সংকলন: বিপ্লবী পার্টি গড়ার কাজে হাত দিন

500x350_0718bd934ac49f1e112b30cd4cfd4285_charu_majumder

চেয়ারম্যান আমাদের শিখিয়েছেন বিপ্লব করতে হলে অবশ্যই একটি বিপ্লবী পার্টি প্রয়োজন। একটি বিপ্লবী পার্টি- যে পার্টি মার্কসবাদ-লেনিনবাদের বিপ্লবী তত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বিপ্লবী কর্মধারায় (style of work) অভ্যস্ত। এই রকম একটি পার্টি ছাড়া শ্রমিকশ্রেণী ও ব্যাপক জনতাকে সাম্রাজ্যবাদও তার অনুচরদের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়।

আজকের যুগে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের সর্বোচ্চ রূপ চেয়ারম্যান মাও’ এর চিন্তাধারা। চেয়ারম্যান মাও মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে সফল প্রয়োগ করেছেন। শুধু তাই নয়, মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে সফল প্রয়োগ করেছেন। শুধু তাই নয়, মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং তাকে নতুন পর্যায়ে উন্নীত করেছেন। মাও সেতুঙ-এর চিন্তাধারাকে বলা যায় সাম্রাজ্যবাদের অবলুপ্তির যুগের এবং সমাজতন্ত্রের বিশ্বব্যাপী বিজয়ের যুগের মার্কসবাদ-লেনিনবাদ।

চেয়ারম্যান আমাদের শিখিয়েছেন যে একটা আধা-সামন্ততান্ত্রিক, আধা-ঔপনিবেশিক দেশে জনতার ব্যাপক অংশ হচ্ছে কৃষক এবং এই কৃষকের উপর তিন পাহাড়ের শোষণ ও শাসন-যেমন সাম্রাজ্যবাদ, সামন্ততন্ত্র এবং আমলাতান্ত্রিক পুঁজি-চলে এবং তাই এই কৃষকশ্রেণী বিপ্লবের জন্য অত্যন্ত আগ্রহী। তাই শ্রমিকশ্রেণীকে জনযুদ্ধের মারফৎ জয় হাসিল করতে হলে এই কৃষকশ্রেণীর উপর নির্ভর করতে হবে।

চেয়ারম্যান আমাদের শিখিয়েছেন যে এই কৃষকশ্রেণীই হচ্ছে বিপ্লবের প্রধান শক্তি এবং কৃষকশ্রেণীকে জাগ্রত এবং সশস্ত্র করার উপরই বিপ্লবের সাফল্য নির্বর করে। শ্রমিকশ্রেণীর বিপ্লবী পার্টির দায়ীত্ব কৃষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থেকে গ্রামাঞ্চলে সশস্ত্র সংগ্রামের এলাকা গড়ে তোলা। এই কৃষক সমস্যার গুরুত্ব না বোঝার ফলেই পার্টির মধ্যে বামপন্থী ও দক্ষিণপন্থী বিচ্যুতি দেখা দেয়। এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লব মূলত: কৃষিবিপ্লব। তাই শ্রমিকশ্রেণীর দায়ীত্ব হচ্ছে এই কৃষিবিপ্লবের নেতৃত্ব দেওয়া।

মার্কসবাদী-লেনিনবাদী কর্মধারা বলতে আমাদের চেয়ারম্যান শিখিয়েছেন, এই কর্মধারা হবে এমন যাতে বিপ্লবী তত্ব ও কর্মের মিল থাকে, জনতার সাথে গভীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আত্ম-সমালোচনায় অভ্যস্ত হতে হয়। এই কর্মধারা রপ্ত করতে হলে আমাদের পার্টি মূলত: গড়ে তুলতে হবে কৃষকদের মধ্যে। এবং শ্রমিকশ্রেণীর মধ্যে পার্টি গড়ে তুলতে হবে কৃষিবিপ্লবের রাজনীতিতে শ্রমিকশ্রেণীর কার্যক্রমের ভিত্তিতে।

এর আগেও আমরা পার্টিতে শ্রমিক ও কৃষককে পার্টি সভ্য করেছি। এমন বহু জেলা-কমিটি ছিল যেখানে শ্রমিক এবং কৃষক পার্টিসভ্য মধ্যবিত্ত পার্টিসভ্যের তুলনায় অনেক বেশী সংখ্যক ছিল। কিন্তু তবু আমাদের পার্টি বিপ্লবী পার্টি হল না কে? কারণ শ্রমিক পার্টি সভ্যদের সামনে কোন বিপ্লবী রাজনীতি ছিল না; কাজ ছিল না; তাদের মূলত: ট্রেড-ইউনিয়ন আন্দোলনেরই পরিপূরক শক্তি হিসাবে কাজ করানো হোত। ফলে তাদের স্বাধীন বিকাশের পথ রুদ্ধ হোত এবং তারা ট্রেড-ইউনিয়নে পার্টির মধ্যবিত্ত নেতার নির্দেশে পরিচালিত হোত। কৃষকদের মধ্যে যে পার্টি সভ্য ছিল সেখানেও শ্রেণী বিশ্লেষণ করা হোত না, বিপ্লবী রাজনীতির অভাবে কৃষকদের সুমহান দায়ীত্ব সম্পর্কে সজাগ করে তোলা হোত না, সংস্কারবাদী কৃষকসভা, যার নেতা প্রধানত: ধনীকৃষক ও মধ্যকৃষক এবং যাকে আইনানুগ আন্দোলনের পথে পরিচালনা করা হোত, ফলে পার্টিসভ্যদের বেশীর ভাগই হোত ধনী এবং মধ্যকৃষক, এবং আইননানুগ আন্দোলনের দরুণ সেখানেও মধ্যবিত্ত পার্টি নেতার নির্দেশ পালনই তাদের প্রধান কাজ হোত। ফলে শ্রমিক এবং কৃষক পার্টি নেতার নির্দেশ পালনই তাদের প্রধান কাজ হোত। ফলে শ্রমিক এবং কৃষক পার্টিসভ্য থাকা সত্বেও পার্টি মূলত: মধ্যবিত্তশ্রেণীর পার্টিতে পয্যবসিত হয়েছিল। তারই ফলে পার্টি একটি খাঁটি সংশোধনবাদী পার্টিতে রূপান্তরিত হয়েছে। একটি সংশোধনবাদী পার্টির মতই আমাদের পার্টি ও একটি নির্বাচন থেকে আর একটি নির্বাচন পর্য্যন্ত যেসব আন্দোলন পরিচালনা করত তার লক্ষ্য থাকত পরবর্তী নির্বাচনে পর্য্যন্ত যেসব আন্দোলন পরিচালনা করত তার লক্ষ্য থাকত পরবর্তী নির্বাচনে বেশী আসন দখল। পার্টির প্রধান কেন্দ্রগুলি ছিল সমস্ত শহরে এবং শহরে আন্দোলন সৃষ্টি করাই পার্টির প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমন কি গ্রামের কৃষককেও শহরে আনা হোত শহরের আন্দোলনকে জোরদার করার জন্য। ১৯৫৯ সালের শোচনীয় অভিজ্ঞতা এই শহরকেন্দ্রিক আন্দোলনেরই কুফল। এবং সমস্ত গণ-আন্দোলনের লক্ষ্য হোত এসেমব্লি [assembly] ঘেরাও করা। পার্টিতে কোন কিছুই গোপন থাকত না, গোপনীয়তা রক্ষার প্রচেষ্টা ক্রমশ:ই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মতবিরোধও বুর্জোয়া কাগজে প্রকাশ পেত; পার্টিসভ্যদের সজাগ দৃষ্টি (vigilance) ভোঁতা করে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সমস্ত আন্দোলনকে আইনানুগ রাখার জন্য পার্টির নেতৃবৃন্দ সদাসর্বদা প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে। তারা শুধু তেলেঙ্গানার সশস্ত্র বিদ্রোহের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল তাই নয়, যেখানেই কৃষক আন্দোলন পুলিশী দমননীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল সেখানেই পার্টি নেতৃত্ব এগিয়ে গিয়ে সংগ্রামের তুলে নিয়েছে- যেমন পাঞ্চাবের বেটারমেণ্ট লেভির আন্দোলন। পার্টি নেতারা পাঞ্চাবের পার্টি নেতাদের সাথে আলোচনা না করেই আন্দোলন তুলে নেন, বিহার, উত্তর প্রদেশের কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে অস্বীকার করেন; ১৯৫৯ সালের বেনামী জমির আন্দোলনের ক্ষেত্রেও দার্জিলিং জেলায় পার্টি নেতৃত্বকে উগ্রপন্থী আখ্যা দেওয়া হয়। এবং এ সমস্তই ঘটে একটি কারণে- কৃষকরা পুলিশী দমননীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চেয়েছিল বলে। প্রকাশ্য ও আইনানুগ আন্দোলনের মধ্যে প্রত্যেকটি সংগ্রামকে পার্টি নেতৃত্ব আটকে রেখেছিল। এবং পার্টি নেতাদের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল পার্টির পত্রিকা পরিচালনা। যে দেশের অধিকাংশ লোক অশিক্ষিত সে দেশে পার্টি পত্রিকা একমাত্র মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবিদেরই কাজে লাগে। এই পত্রিকা মারফৎ শ্রমিক কৃষকদের রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা কোনমতেই সম্ভবপর নয়। তাই সপ্তম কংগ্রেস একটি বিপ্লবী পার্টির জন্ম দিল না, জন্ম দিল একটি সংশোধনবাদী পার্টির।

আজ যখন আমরা বিপ্লবী পার্টি গড়ার কাজে হাত দিচ্ছি তখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রত্যেকটি দেশে জনতার বিপ্লবী সংগ্রাম চেয়ারম্যানের চিন্তাধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এক নতুন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে ভিয়েতনামী জনতার সংগ্রাম নিপীড়িত মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এমন কি আমাদের দেশেও নকশালবাড়ী, উত্তর-প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেপ ইত্যদি বিভিন্ন এলাকার কৃষকের বিপুল বাঁধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ভারতবর্ষেও চেয়ারম্যান নির্দেশিত মুক্ত অঞ্চল গড়ার কাজে কৃষকশ্রেণী হাত লাগিয়েছে। এই যুগে বিপ্লবী পার্টি গড়ার পক্ষে চেয়ারম্যানের চিন্তাধারার প্রচার এবং প্রসার করাই একমাত্র কাজ নয়, আজকের বিপ্লবী পার্টিকে চেয়ারম্যানের কর্মধারা আয়ত্ব করতে হবে। তবেই তাকে আমরা বিপ্লবী পার্টি বলতে পারবো।

আজকের ভারতবর্ষে বিপ্লবী তত্ব ও প্রয়োগের সমন্বয় ঘটাতে হবে, পার্টিকে এখনই গ্রামাঞ্চল কৃষকের সশস্ত্র সংগ্রামের এলাকা গড়ে তুলতে হবে। তাই তত্ব ও প্রয়োগের সমন্বয় সাধন করতে হলে কৃষকশ্রেণীর শ্রেণীবিশ্লেষণ করতে শিখতে হবে এবং দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষক, যারা কৃষিবিপ্লবের প্রধান শক্তি, তাদেরই মধ্যে পার্টিকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জনতার সাথে গভীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করতে হলে এই ভূমিহীন এবং দরিদ্র কৃষকের পার্টি ইউনিটগুলিকে চেয়ারম্যানের চিন্তাধারায় রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচার ও প্রসার মারফৎ ব্যাপক কৃষক জনসাধারণের শ্রেণীসংগ্রাম সংগঠিত করতে হবে।

এই শ্রেণী সংগ্রাম সৃষ্টি করতে পারলেই দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকের এই পার্টি ইউনিটগুলি গেরিলা ইউনিটে রূপান্তরিত হবে। এইসব গেরিলা ইউনিটকে রাজনীতি প্রচার ও প্রসার ও এবং সশস্ত্র সংগ্রামের মারফৎ পার্টির গণভিত্তিকে আরও ব্যাপক ও দৃঢ় করতে হবে। এইভাবেই দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামের মারফৎ জনতার স্থীয় সশস্ত্র বাহিনী গড়ে উঠবে এবং সংগ্রাম জনযুদ্ধের রূপ নেবে। এই দুরূহ কাজ করা যায় একমাত্র সমালোচনা ও আত্মসমালোচনার হাতিয়ারকে সঠিকভাবে প্রয়োগ মারফৎ। বিপ্লবের স্বার্থে আমরা একত্রিত হয়েছি। কাজেই সমালোচনা আমাদের ভয় করলে চলবে না এবং আত্মসমালোচনায় পরাংমুখ হলে আমরা আমাদের ভয় করলে চলবে না এবং আত্মসমালোচনায় পরাংমুখ হলে আমরা আমাদের গুণগত পরিবর্তন সাধন করতে পারবো না, বিপ্লবী কমিউনিস্ট হিসাবে আমাদের যে দায়িত্ব সে দায়িত্ব পালন করতেও অসমর্থ হবো। এই কর্মধারায় অভ্যস্ত হলে যে নতুন বিপ্লবী পার্টি জন্ম নেবে সেই পার্টি বিপ্লবী বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের উপর নিশ্চয়ই নির্ভরশীল থাকবে না। শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যে অবিরাম কৃষি বিপ্লবের রাজনীতি-চেয়ারম্যানের চিন্তাধারার প্রচার চালিয়ে যেতে হবে। তার ফলে শ্রমিক শ্রেণীর যে অগ্রণী অংশ চেয়ারম্যানের চিন্তাধারা ও তাঁর কর্মধারায় অভ্যস্ত হবে তাকে সক্রিয়ভাবে কৃষি বিপ্লব সংগঠিত করবার জন্যে গ্রামাঞ্চলে পাঠাতে হবে এবং এভাবেই কৃষিবিপ্লবের উপর শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্ব কার্যকরী রূপ নেবে। তাই চেয়ারম্যান বলেছেন, বিপ্লবী পার্টি হবে শ্রমিকশ্রেণীর অগ্রণী এবং উদ্যোগী অংশকে নিয়ে।

এই বিপ্লবী পার্টি যেমন নির্বাচনী পার্টি হবে না, তেমনি শহরকে কেন্দ্র করেও গড়ে উঠবে না। বিপ্লবী পার্টি কখনই প্রকাশ্য পার্টি হতে পারে না এবং কাগজ বের করাটাই তার প্রধান কাজ হতে পারে না এবং বিপ্লবী বুদ্ধিজীবীদের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে পারে না। বিপ্লবী পার্টিকে হতে হবে শ্রমিক এবং দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকদের উপর নির্ভরশীল; গ্রামকে কেন্দ্র করে কৃষক সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে, গোপন সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে প্রতিবিপ্লবী আক্রমণের সামনে পার্টি অসহায় হয়ে পড়বে। বিপ্লবী পার্টি আমরা তাকেই বলবো যে পার্টি গ্রামাঞ্চলে কৃষকের বিপ্লবী সংগ্রাম সংগঠিত করতে পারবে। এই রকম একটা পার্টি গড়ার জন্য আজ সমস্ত বিপ্লবীদের সক্রিয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এই বিপ্লবী পার্টি গড়ার কাজে বিপ্লবী বুদ্ধিজীবিরা নিশ্চয়ই সাহায্য করতে পারেন, কারণ তাঁদের পড়াশুনা আছে এবং বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতাও তাঁরা শ্রমিক ও কৃষকদের জানাতে পারেন। চেয়ারম্যানের চিন্তাধারা তাঁরা যতখানি বুঝেছেন ততখানি তাঁরা কৃষক ও শ্রমিকদের দিয়ে সাহায্য করতে পারেন। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিপ্লবী বুদ্ধিজীবীরা শ্রমিক এবং কৃষক পার্টি-ইউনিটগুলির স্বাধীন বিকাশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ান এবং তাদের উদ্যোগ বাড়াতে চেষ্টা করেন না। তাই বিপ্লবী বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়কে মনে রাখতে হবে চেয়ারম্যানের এই শিক্ষা- “জনগণই প্রকৃত বীর, -আমরা নিজেরা প্রায়ই ছেলে মানুষ ও অজ্ঞ, এবং একথা না বুঝলে একেবারে প্রাথমিক জ্ঞানটুকু পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব নয়।”

কমরেডস, চেকোশ্লোভাকিয়ার ঘটনা সোভিয়েত সংশোধনবাদের ফ্যাসিবাদী রূপ নগ্নভাবে তুলে ধরেছে। বিশ্বাসঘাতক ডাঙ্গেচক্র ও নয়া-সংশোধনবাদীচক্র যে সেই সোভিয়েতেরই হাতের পুতুল এটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে চেকোশ্লোভাকিয়ার ঘটনায়। তার ফলে সংশোধনবাদী প্রচার ভোঁতা হয়ে পড়তে বাধ্য। ভারতবর্ষ আজ সোভিয়েত-মার্কিন নয়া-উপনিবেশে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় প্রতিক্রিয়াশীলদের সাহায্যে ভারতবর্ষকে তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবিপ্লবী কেন্দ্র করেছে। এই অবস্থায় সোভিয়েত সংশোধনবাদের মুখোশ যত তাড়াতাড়ি খুলবে ততই সারা ভারতবর্ষে বিপ্লবী শ্রেণীসংগ্রাম ও প্রতিরোধের জোয়ার আসবে এবং দেশের ভেতরে কৃষক বিদ্রোহ দানা বেঁধে উঠবে। এই সময় কত দ্রুত আমরা আমাদের শ্রেণীগুলির মধ্যে পার্টি সংগঠন গড়ে তুলতে পারছি তারই উপর বিপ্লবের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তারই উপর নির্ভর করছে এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব আমরা দিতে পারি কি না। হয়তো আগামী ফসল দখলের আন্দোলনে এই বিপ্লবী জোয়ারের প্রকাশ হতে পারে। সুতরাং বিপ্লবী বুদ্ধিজীবীরা শ্রমিক ও কৃষকশ্রেণীর মধ্যে চেয়ারম্যানের চিন্তাধারা প্রচার ও প্রসারের মারফতে বিপ্লবী পার্টি গড়ার কাজে এগিয়ে আসবেন।

শারদীয়া দেশব্রতী, ১৯৬৮


চারু মজুমদারের সংগৃহীত রচনা সংকলন: কমরেডদের প্রতি

500x350_0718bd934ac49f1e112b30cd4cfd4285_charu_majumder

ব্যাপক কৃষক সাধারণ থেকে বিচ্ছিন্নতা বিপ্লবীদের পক্ষে একটা মারাত্মক রাজনৈতিক দুর্বলতা; সংগ্রামের প্রতিটি স্তরে এই বিপদ থাকে, তাই গেরিলা যুদ্ধের কৌশল বলতে গিয়ে চেয়ারম্যান বলেছেন, “জনগণকে জাগিয়ে তোলার জন্য তোমাদের শক্তিকে তোমরা ভাগ করে দাও, শত্রুর সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য তোমাদের শক্তিকে একত্র জড়ো করো (Divide your forces to arouse the masses, concentrate your forces to deal with the enemy)- এটাই হোল প্রথম সূত্র। এই জনগণকে জাগিয়ে তোলা (arousing the masses) কোনদিন সম্পূর্ণ হয় না। দ্বিতীয় যে শিক্ষা তা হোল, গেরিলা যুদ্ধ মূলত: শ্রেণী সংগ্রামের উন্নত স্তর এবং শ্রেণী সংগ্রাম অর্থনীতিক ও রাজনীতিক দুটি সংগ্রামের যোগফল। চেয়ারম্যানের চিন্তাধারা যতই নির্দ্দিষ্টভাবে বুঝবার চেষ্টা করছি ততই নতুন নতুন শিক্ষা হচ্ছে। এ রকম শিক্ষা প্রত্যেক অঞ্চলেই হবে এবং তবেই আমাদের উপলব্ধি বাড়বে। আমরা আরও ভাল মার্কসবাদী হবো। সমস্ত কমরেডই যে এ কথা সঠিক বুঝেছেন এখনই সে কথা বলা যায় না, তবে সব কমরেডই এই পথে চিন্তা মুরু করেছেন এবং চেষ্টাও কিছু কিছু শুরু হয়েছে। জনগণের কাছ থেকে শেখা (Learn from the masses)- এটা খুবই কঠিন কাজ। মনগড়া ধারণা নিয়ে চলাও (Subjectivism) সংশোধনবাদের দান। সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম আমরা শুরু করেছি মাত্র, এখনও অনেক পথ বাকী।

কৃষক এলাকায় যে সব কমরেড কাজ করছেন তারা যেমন রাজনীতি প্রচার করবেন তেমনই অর্থনৈতিক দাবীর উপর একটা সাধারণ আওয়াজ রাখার প্রয়োজনীয়তাকে কোন সময়েই ছোট করে দেখলে চলবে না। কারণ ব্যাপক কৃষক সাধারণকে আন্দোলনের পথে না আনলে রাজনীতি প্রচার বোঝার অবস্থায়, পশ্চাদপদ কৃষককে টেনে আনা যাবে না এবং শ্রেণীশত্রুর বিরুদ্ধে ঘৃণাকে জাগিয়ে রাখা যাবে না। “আগামী ফসলের উপর দখল রাখতে হবে”- এখন থেকেই এই আওয়াজকে প্রচার করতে হবে। সারা বছরের অনাহারের জন্য জোতদার শ্রেণীর বিরুদ্ধে ঘৃণাকে জাগিয়ে তুলতে হবে। সামনের ফসল কৃষকের- এই আওয়াজ ব্যাপক কৃষককে আন্দোলনের আওতায় আনবে এবং আমাদের সচেতন রাজনৈতিক প্রচার এই কৃষক আন্দোলনের চরিত্রকে বদলে দেবে।

দেশব্রতী, ১লা আগষ্ট, ১৯৬৮


ছত্তিসগড়ে মাওবাদী হামলায় ২ পুলিশ সদস্যসহ নিহত ৩, গুরুতর জখম ৬ পুলিশ

six-suspectsmaoistupats

ndtv জানাচ্ছে, দক্ষিণ ছত্তিসগঢ়ের বস্তার অঞ্চলের সুকমা জেলায় ফের মাওবাদী হামলা হয়েছে। আজ রবিবার চিন্তাগুফার কাছে ভিজি অঞ্চলে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের যৌথ বাহিনী মাওবাদী দমনাভিযানে গেলে, আচমকাই মাওবাদীরা হামলা করে বসে ৷ ভেজ্জি থানার অন্তর্গত এলারমাদগু গ্রামের ওই এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে উভয় পক্ষের গুলির লড়াই ৷ এই সংঘর্ষেই পুলিশের দুই সদস্য নিহত হয় ৷গুরুতর জখম হয় ৬ পুলিশ।

সুকুমা জেলার এই এলাকাটি মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দুর্ধর্ষ মাওবাদী কমান্ডার হিদমা এই অঞ্চলটিতে ব্যাটেলিয়ন সহ চলাফেরা করে থাকেন।

অ্যান্টি নকশাল অপারেশনের স্পেশাল ডিজি ডিএম অবস্তি আগে সংবাদমাধ্যমকে জানায়, ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ডসের ৪ জওয়ান ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ২জন জওয়ান জখম হয়েছে ৷মারা গেছে একজন STF ও একজন DRGজওয়ান। এরপরেই এলারমাদগু এলাকা থেকে নতুন করে সংঘর্ষের খবর আসে ৷ সংঘর্ষ হয় এররাবোর গ্রামেও৷

অন্য ঘটনায়, ভেজ্জি ও এলারমাদগু এলাকার মাঝামাঝিতে মাওবাদীদের গুলিতে রাস্তা নির্মাণকারী সংস্থার ম্যানেজার নিহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এসময় মাওবাদীরা রাস্তা নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

 


মাওবাদী কমিউনিস্টদের হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করলেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দুতের্তে

18010141_10154609668578576_5527140361601419786_n

‘আল জাজিরা’ জানাচ্ছে, মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের হত্যার জন্য ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের পুরস্কার ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার গ্রুপ, বিদ্রোহী ও আদিবাসী সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ দুতের্তের এই ঘোষণা সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধাপরাধে প্ররোচিত করবে।

গত সপ্তাহে দুতের্তে মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। ফিলিপিনো প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, আধা-সামরিক বাহিনীর যোদ্ধা বানাতে তিনি আদিবাসী জনগণকে প্রশিক্ষণ এবং মিনদানাওর দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপে তাদের সম্প্রদায়ের প্রত্যেক কমিউনিস্ট বিদ্রোহীকে হত্যার জন্য ২০ হাজার পেসো (৩৮৪ মার্কিন ডলার) করে দিবেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা অর্থ চাও? আমি তোমাদের অর্থ দিব। প্রত্যেকের জন্য ২০ হাজার পেসো দিব।’

তবে দুতের্তের ওই ঘোষণার পর এরই মধ্যে দক্ষিণ ফিলিপাইনের সবচেয়ে বড় আদিবাসী সংগঠন জানিয়েছে, অর্থের জন্য হত্যা করা তাদের সংস্কৃতির অংশ নয়। দুতের্তে এর আগেও একইরকম বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি নারী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের ‘অকার্যকর’ করতে সেনাবাহিনীকে তাদের যৌনাঙ্গে গুলি করার কথা বলেছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার দেওয়া বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কার্লোস এইচ কন্ডে বলেন, ওই পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে দুতের্তে তার ‘সেনাবাহিনীকে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করতে উত্সাহিত করছেন’। তিনি আরো বলেন, দুতের্তের ‘হিংসাত্মক বক্তব্য’ সশস্ত্র সংঘাতের রীতি-নীতি লঙ্ঘনে উত্সাহ দেয়। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের র‍্যাচেল চোহয়া-হাওয়ার্ডও দুতের্তের নতুন পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করে একে ‘একই সঙ্গে আতঙ্কজনক ও নিষ্ঠুর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির নির্বাসিত নেতা হোসে মারিয়া সিসন বলেন, দুতের্তে তার শাসনের মধ্য দিয়ে একটি অপরাধী চক্রের সর্দারের মতো কাজ করছেন। আল জাজিরাকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দুতের্তের ওই সমাধানের ফলে নির্বিচারে হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে।


প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সিনিয়র মাওবাদী দম্পতি গ্রেফতার

DVmxdxYWAAALqoK

The hindu জানাচ্ছে, গত শুক্রবার মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সিনিয়র মাওবাদী দম্পতি রামান্না(৬৫) ও পদ্মা’কে(৫৫)। গাড়চিরোলি ও চন্দ্রপুর পুলিশের জয়েন্ট অপারেশনে বল্লারসাহ থেকে গ্রেফতার করা হল এই ২ সিনিয়র মাওবাদীকে। পুলিশ কর্তৃক রামান্নার মাথার দাম ২৫ লক্ষ টাকা, পদ্মার মাথার দাম ৬ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, রামান্নার আসল নাম শ্রীনিবাস মাদারু। তেলেগু ভাষায় দক্ষ রামান্না একজন অভিজ্ঞ অস্ত্র নির্মাতা ও অস্ত্র-গোলাবারুদ প্রশিক্ষক। তিনি সিপিআই(মাওবাদী) দণ্ডকারণ্যে স্পেশাল জোনাল কমিটি’র সদস্য ও ছত্তিসগড়ে পার্টির প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান এবং ঐ স্তর থেকে গ্রেফতার হওয়া প্রথম মাওবাদী নেতা।  ১৯৭৬-৭৭ সাল থেকে তিনি পার্টির সাথে যুক্ত। ১৯৯৫ সালে পার্টি তাকে প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব দেয়।

তবে মাও দম্পতির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আরও তদন্তও চালাচ্ছে পুলিশ।