প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সিনিয়র মাওবাদী দম্পতি গ্রেফতার

DVmxdxYWAAALqoK

The hindu জানাচ্ছে, গত শুক্রবার মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সিনিয়র মাওবাদী দম্পতি রামান্না(৬৫) ও পদ্মা’কে(৫৫)। গাড়চিরোলি ও চন্দ্রপুর পুলিশের জয়েন্ট অপারেশনে বল্লারসাহ থেকে গ্রেফতার করা হল এই ২ সিনিয়র মাওবাদীকে। পুলিশ কর্তৃক রামান্নার মাথার দাম ২৫ লক্ষ টাকা, পদ্মার মাথার দাম ৬ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, রামান্নার আসল নাম শ্রীনিবাস মাদারু। তেলেগু ভাষায় দক্ষ রামান্না একজন অভিজ্ঞ অস্ত্র নির্মাতা ও অস্ত্র-গোলাবারুদ প্রশিক্ষক। তিনি সিপিআই(মাওবাদী) দণ্ডকারণ্যে স্পেশাল জোনাল কমিটি’র সদস্য ও ছত্তিসগড়ে পার্টির প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান এবং ঐ স্তর থেকে গ্রেফতার হওয়া প্রথম মাওবাদী নেতা।  ১৯৭৬-৭৭ সাল থেকে তিনি পার্টির সাথে যুক্ত। ১৯৯৫ সালে পার্টি তাকে প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব দেয়।

তবে মাও দম্পতির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আরও তদন্তও চালাচ্ছে পুলিশ।

Advertisements

চারু মজুমদারের সংগৃহীত রচনা সংকলন: নকশালবাড়ীর এক বছর

500x350_0718bd934ac49f1e112b30cd4cfd4285_charu_majumder

নকশালবাড়ীর এক বছর

নকশালবাড়ী কৃষক সংগ্রামের এক বছর পূর্ণ হোল। অন্য কৃষক সংগ্রাম থেকে এই সংগ্রামের পার্থক্য কোথায়? নানা অবিচার-অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষক চিরকালই সংগ্রাম করে এসেছেন। এই প্রথম সেই কৃষক শুধু ভার ছোট দাদীর জন্য আন্দোলন করলেন না, তিনি আন্দোলন করলেন রাষ্ট্র ক্ষমতার জন্য। নকশালবাড়ীর কৃষক আন্দোলন থেকে যদি অভিজ্ঞতা নিতে হয় তবে সে অভিজ্ঞতা হচ্ছে এই যে, জমি বা ফসল ইত্যাদির জন্য জঙ্গী সংগ্রাম নয়, জঙ্গী-সংগ্রাম করতে হবে রাষ্ট্র ক্ষমতার জন্য। নকশালবাড়ীর নতুনত্ব এখানেই। এলাকার এলাকায় কৃষককে তৈরী হতে হবে নিজ নিজ এলাকায় সেই রাষ্ট্রযন্ত্রকে অচল করে দেওয়ার জন্য। ভারতবর্ষের কৃষক আন্দোলনে সর্বপ্রথম নকশালবাড়ীতেই এই পথ গৃহীত হোল। অর্থাৎ বিপ্লবী বর্ষ শুরু হোল। তাই নকশালবাড়ীর এই আন্দোলনকে প্রত্যেক দেশের সংগ্রামীরা অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

ভারতবর্ষ সাম্রাজ্যবাদের ও সংশোধনবাদের ঘাটি হচ্ছে; সে আজ মুক্তিকানী জনতার বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়ার ঘাঁটি হিসাবে কাজ করছে। তাই নকশালবাড়ীর সংগ্রাম শুধু জাতীয় সংগ্রাম নয়, একটা আন্তর্জাতিক সংগ্রাম। এ সংগ্রাম কঠিন-সহজ এ পথ নয়। বিপ্লবের পথ কঠিন–সহজ সে পথ নয়। বাধা আছে, বিপত্তি আছে, এমন কি পশ্চাদপশরণও আছে। তবুও এই নতুন আন্তর্জাতিকতায় উদ্বুদ্ধ কৃষক মাথা হেট করেন নি, সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত এক বছরের আমাদের অভিজ্ঞতা, এই ছোট এলাকায় সংগ্রামের বগী সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যেক রাজনৈতিক পার্টির বিরোধীতা সত্বেও মানুষ এই সংগ্রামের কথাই ভাবছে এবং সেই সংগ্রামের পথেই এগোচ্ছে। আজ নকশালবাড়ীর বীর নেতারা জীবিত, আজও তাঁদের ধ্বংস করতে প্রতিক্রিয়াশীল সরকার পারে নি। তাই তো চেয়ারম্যান বলেছেন, সমস্ত প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি দেখতে যত ভয়ংকরই হোক না কেন, আসলে কাগুজে বাঘ।

চেয়ারম্যান বলেছেন, সেদিন আর দূরে নেই যেদিন মানুষের উপর মানুষের শোষণ বন্ধ হবে, সমস্ত মানুষ মুক্ত হবে।

আমরা সেই উজ্জ্বল সূর্যোলোকের জন্য অপেক্ষা করছি।

২৩ শে মে, ১৯৬৮


মাওবাদী কমিউনিস্ট নারীদের যৌনাঙ্গে গুলি করা উচিতঃ ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দুতার্তে

AFP_Z90A7-5344

ফিলিপাইনে প্রেসিডেন্ট দুতার্তে

aljazeera.com জানাচ্ছে, ফিলিপাইন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেয়া মাওবাদী কমিউনিস্ট নারী বিদ্রোহীদের যৌনাঙ্গে গুলি করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশটির মানবাধিকার সংস্থা ও নারী সংগঠনগুলো।

ফিলিপাইনের হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সোমবার আল জাজিরাকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছে, নারীদের নিয়ে দুতার্তের ধারাবাহিক মন্তব্যের মধ্যে সাম্প্রতিক এই মন্তব্যটি চরম নারী বিদ্বেষমূলক, মর্যাদাহানিকর এবং অপমানজনক।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ফিলিপাইন প্রতিনিধি কার্লোস কন্দে বলেন, ‘দুতার্তের এই বক্তব্য সশস্ত্র সংঘাতের সময় রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে যৌন সহিংসতা সংগঠিত করতে উৎসাহিত করবে। আর এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন।’   

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট এই বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফিলিপাইনের সেনাদের মাওবাদী কমিউনিস্ট নারী বিদ্রোহীদের গুলি করে মারা উচিত নয়।

দুতার্তে বলেন, ‘আমরা শুধু তোমাদের গোপনাঙ্গে গুলি করব। যাতে করে তোমাদের আর কোনো গোপন অঙ্গ না থাকে। তখন তোমরা এমনিতেই অকেজো হয়ে যাবে।’

কমিউনিস্ট আন্দোলনে যোগ দিতে যেসব নারী যোদ্ধারা পরিবার ও সন্তানদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তাদের ভর্তসনা করেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট।

গাব্রিয়েলা উইমেনস পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইমি ডি জেসাস বলেছেন, দুতার্তের এটি ‘নোংরা মন্তব্য’। তার এই বক্তব্য দেশের ‘দমনমূলক সংস্কৃতির’ পরিচয় বহন করে।

তিনি প্রেসিডেন্ট দুতার্তেকে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বিপজ্জনক পুরুষ ফ্যাসিবাদী বলে উল্লেখ করেন।