মাওবাদী কমিউনিস্টদের হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করলেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দুতের্তে

18010141_10154609668578576_5527140361601419786_n

‘আল জাজিরা’ জানাচ্ছে, মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের হত্যার জন্য ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের পুরস্কার ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার গ্রুপ, বিদ্রোহী ও আদিবাসী সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ দুতের্তের এই ঘোষণা সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধাপরাধে প্ররোচিত করবে।

গত সপ্তাহে দুতের্তে মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। ফিলিপিনো প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, আধা-সামরিক বাহিনীর যোদ্ধা বানাতে তিনি আদিবাসী জনগণকে প্রশিক্ষণ এবং মিনদানাওর দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপে তাদের সম্প্রদায়ের প্রত্যেক কমিউনিস্ট বিদ্রোহীকে হত্যার জন্য ২০ হাজার পেসো (৩৮৪ মার্কিন ডলার) করে দিবেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা অর্থ চাও? আমি তোমাদের অর্থ দিব। প্রত্যেকের জন্য ২০ হাজার পেসো দিব।’

তবে দুতের্তের ওই ঘোষণার পর এরই মধ্যে দক্ষিণ ফিলিপাইনের সবচেয়ে বড় আদিবাসী সংগঠন জানিয়েছে, অর্থের জন্য হত্যা করা তাদের সংস্কৃতির অংশ নয়। দুতের্তে এর আগেও একইরকম বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি নারী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের ‘অকার্যকর’ করতে সেনাবাহিনীকে তাদের যৌনাঙ্গে গুলি করার কথা বলেছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার দেওয়া বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কার্লোস এইচ কন্ডে বলেন, ওই পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে দুতের্তে তার ‘সেনাবাহিনীকে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করতে উত্সাহিত করছেন’। তিনি আরো বলেন, দুতের্তের ‘হিংসাত্মক বক্তব্য’ সশস্ত্র সংঘাতের রীতি-নীতি লঙ্ঘনে উত্সাহ দেয়। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের র‍্যাচেল চোহয়া-হাওয়ার্ডও দুতের্তের নতুন পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করে একে ‘একই সঙ্গে আতঙ্কজনক ও নিষ্ঠুর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির নির্বাসিত নেতা হোসে মারিয়া সিসন বলেন, দুতের্তে তার শাসনের মধ্য দিয়ে একটি অপরাধী চক্রের সর্দারের মতো কাজ করছেন। আল জাজিরাকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দুতের্তের ওই সমাধানের ফলে নির্বিচারে হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে।

Advertisements