চারু মজুমদারের সংগৃহীত রচনা সংকলন: কমরেডদের প্রতি

500x350_0718bd934ac49f1e112b30cd4cfd4285_charu_majumder

ব্যাপক কৃষক সাধারণ থেকে বিচ্ছিন্নতা বিপ্লবীদের পক্ষে একটা মারাত্মক রাজনৈতিক দুর্বলতা; সংগ্রামের প্রতিটি স্তরে এই বিপদ থাকে, তাই গেরিলা যুদ্ধের কৌশল বলতে গিয়ে চেয়ারম্যান বলেছেন, “জনগণকে জাগিয়ে তোলার জন্য তোমাদের শক্তিকে তোমরা ভাগ করে দাও, শত্রুর সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য তোমাদের শক্তিকে একত্র জড়ো করো (Divide your forces to arouse the masses, concentrate your forces to deal with the enemy)- এটাই হোল প্রথম সূত্র। এই জনগণকে জাগিয়ে তোলা (arousing the masses) কোনদিন সম্পূর্ণ হয় না। দ্বিতীয় যে শিক্ষা তা হোল, গেরিলা যুদ্ধ মূলত: শ্রেণী সংগ্রামের উন্নত স্তর এবং শ্রেণী সংগ্রাম অর্থনীতিক ও রাজনীতিক দুটি সংগ্রামের যোগফল। চেয়ারম্যানের চিন্তাধারা যতই নির্দ্দিষ্টভাবে বুঝবার চেষ্টা করছি ততই নতুন নতুন শিক্ষা হচ্ছে। এ রকম শিক্ষা প্রত্যেক অঞ্চলেই হবে এবং তবেই আমাদের উপলব্ধি বাড়বে। আমরা আরও ভাল মার্কসবাদী হবো। সমস্ত কমরেডই যে এ কথা সঠিক বুঝেছেন এখনই সে কথা বলা যায় না, তবে সব কমরেডই এই পথে চিন্তা মুরু করেছেন এবং চেষ্টাও কিছু কিছু শুরু হয়েছে। জনগণের কাছ থেকে শেখা (Learn from the masses)- এটা খুবই কঠিন কাজ। মনগড়া ধারণা নিয়ে চলাও (Subjectivism) সংশোধনবাদের দান। সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম আমরা শুরু করেছি মাত্র, এখনও অনেক পথ বাকী।

কৃষক এলাকায় যে সব কমরেড কাজ করছেন তারা যেমন রাজনীতি প্রচার করবেন তেমনই অর্থনৈতিক দাবীর উপর একটা সাধারণ আওয়াজ রাখার প্রয়োজনীয়তাকে কোন সময়েই ছোট করে দেখলে চলবে না। কারণ ব্যাপক কৃষক সাধারণকে আন্দোলনের পথে না আনলে রাজনীতি প্রচার বোঝার অবস্থায়, পশ্চাদপদ কৃষককে টেনে আনা যাবে না এবং শ্রেণীশত্রুর বিরুদ্ধে ঘৃণাকে জাগিয়ে রাখা যাবে না। “আগামী ফসলের উপর দখল রাখতে হবে”- এখন থেকেই এই আওয়াজকে প্রচার করতে হবে। সারা বছরের অনাহারের জন্য জোতদার শ্রেণীর বিরুদ্ধে ঘৃণাকে জাগিয়ে তুলতে হবে। সামনের ফসল কৃষকের- এই আওয়াজ ব্যাপক কৃষককে আন্দোলনের আওতায় আনবে এবং আমাদের সচেতন রাজনৈতিক প্রচার এই কৃষক আন্দোলনের চরিত্রকে বদলে দেবে।

দেশব্রতী, ১লা আগষ্ট, ১৯৬৮

Advertisements