চারু মজুমদারের সংগৃহীত রচনা সংকলন: বিপ্লবী পার্টি গড়ার কাজে হাত দিন

500x350_0718bd934ac49f1e112b30cd4cfd4285_charu_majumder

চেয়ারম্যান আমাদের শিখিয়েছেন বিপ্লব করতে হলে অবশ্যই একটি বিপ্লবী পার্টি প্রয়োজন। একটি বিপ্লবী পার্টি- যে পার্টি মার্কসবাদ-লেনিনবাদের বিপ্লবী তত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বিপ্লবী কর্মধারায় (style of work) অভ্যস্ত। এই রকম একটি পার্টি ছাড়া শ্রমিকশ্রেণী ও ব্যাপক জনতাকে সাম্রাজ্যবাদও তার অনুচরদের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়।

আজকের যুগে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের সর্বোচ্চ রূপ চেয়ারম্যান মাও’ এর চিন্তাধারা। চেয়ারম্যান মাও মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে সফল প্রয়োগ করেছেন। শুধু তাই নয়, মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে সফল প্রয়োগ করেছেন। শুধু তাই নয়, মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং তাকে নতুন পর্যায়ে উন্নীত করেছেন। মাও সেতুঙ-এর চিন্তাধারাকে বলা যায় সাম্রাজ্যবাদের অবলুপ্তির যুগের এবং সমাজতন্ত্রের বিশ্বব্যাপী বিজয়ের যুগের মার্কসবাদ-লেনিনবাদ।

চেয়ারম্যান আমাদের শিখিয়েছেন যে একটা আধা-সামন্ততান্ত্রিক, আধা-ঔপনিবেশিক দেশে জনতার ব্যাপক অংশ হচ্ছে কৃষক এবং এই কৃষকের উপর তিন পাহাড়ের শোষণ ও শাসন-যেমন সাম্রাজ্যবাদ, সামন্ততন্ত্র এবং আমলাতান্ত্রিক পুঁজি-চলে এবং তাই এই কৃষকশ্রেণী বিপ্লবের জন্য অত্যন্ত আগ্রহী। তাই শ্রমিকশ্রেণীকে জনযুদ্ধের মারফৎ জয় হাসিল করতে হলে এই কৃষকশ্রেণীর উপর নির্ভর করতে হবে।

চেয়ারম্যান আমাদের শিখিয়েছেন যে এই কৃষকশ্রেণীই হচ্ছে বিপ্লবের প্রধান শক্তি এবং কৃষকশ্রেণীকে জাগ্রত এবং সশস্ত্র করার উপরই বিপ্লবের সাফল্য নির্বর করে। শ্রমিকশ্রেণীর বিপ্লবী পার্টির দায়ীত্ব কৃষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থেকে গ্রামাঞ্চলে সশস্ত্র সংগ্রামের এলাকা গড়ে তোলা। এই কৃষক সমস্যার গুরুত্ব না বোঝার ফলেই পার্টির মধ্যে বামপন্থী ও দক্ষিণপন্থী বিচ্যুতি দেখা দেয়। এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লব মূলত: কৃষিবিপ্লব। তাই শ্রমিকশ্রেণীর দায়ীত্ব হচ্ছে এই কৃষিবিপ্লবের নেতৃত্ব দেওয়া।

মার্কসবাদী-লেনিনবাদী কর্মধারা বলতে আমাদের চেয়ারম্যান শিখিয়েছেন, এই কর্মধারা হবে এমন যাতে বিপ্লবী তত্ব ও কর্মের মিল থাকে, জনতার সাথে গভীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আত্ম-সমালোচনায় অভ্যস্ত হতে হয়। এই কর্মধারা রপ্ত করতে হলে আমাদের পার্টি মূলত: গড়ে তুলতে হবে কৃষকদের মধ্যে। এবং শ্রমিকশ্রেণীর মধ্যে পার্টি গড়ে তুলতে হবে কৃষিবিপ্লবের রাজনীতিতে শ্রমিকশ্রেণীর কার্যক্রমের ভিত্তিতে।

এর আগেও আমরা পার্টিতে শ্রমিক ও কৃষককে পার্টি সভ্য করেছি। এমন বহু জেলা-কমিটি ছিল যেখানে শ্রমিক এবং কৃষক পার্টিসভ্য মধ্যবিত্ত পার্টিসভ্যের তুলনায় অনেক বেশী সংখ্যক ছিল। কিন্তু তবু আমাদের পার্টি বিপ্লবী পার্টি হল না কে? কারণ শ্রমিক পার্টি সভ্যদের সামনে কোন বিপ্লবী রাজনীতি ছিল না; কাজ ছিল না; তাদের মূলত: ট্রেড-ইউনিয়ন আন্দোলনেরই পরিপূরক শক্তি হিসাবে কাজ করানো হোত। ফলে তাদের স্বাধীন বিকাশের পথ রুদ্ধ হোত এবং তারা ট্রেড-ইউনিয়নে পার্টির মধ্যবিত্ত নেতার নির্দেশে পরিচালিত হোত। কৃষকদের মধ্যে যে পার্টি সভ্য ছিল সেখানেও শ্রেণী বিশ্লেষণ করা হোত না, বিপ্লবী রাজনীতির অভাবে কৃষকদের সুমহান দায়ীত্ব সম্পর্কে সজাগ করে তোলা হোত না, সংস্কারবাদী কৃষকসভা, যার নেতা প্রধানত: ধনীকৃষক ও মধ্যকৃষক এবং যাকে আইনানুগ আন্দোলনের পথে পরিচালনা করা হোত, ফলে পার্টিসভ্যদের বেশীর ভাগই হোত ধনী এবং মধ্যকৃষক, এবং আইননানুগ আন্দোলনের দরুণ সেখানেও মধ্যবিত্ত পার্টি নেতার নির্দেশ পালনই তাদের প্রধান কাজ হোত। ফলে শ্রমিক এবং কৃষক পার্টি নেতার নির্দেশ পালনই তাদের প্রধান কাজ হোত। ফলে শ্রমিক এবং কৃষক পার্টিসভ্য থাকা সত্বেও পার্টি মূলত: মধ্যবিত্তশ্রেণীর পার্টিতে পয্যবসিত হয়েছিল। তারই ফলে পার্টি একটি খাঁটি সংশোধনবাদী পার্টিতে রূপান্তরিত হয়েছে। একটি সংশোধনবাদী পার্টির মতই আমাদের পার্টি ও একটি নির্বাচন থেকে আর একটি নির্বাচন পর্য্যন্ত যেসব আন্দোলন পরিচালনা করত তার লক্ষ্য থাকত পরবর্তী নির্বাচনে পর্য্যন্ত যেসব আন্দোলন পরিচালনা করত তার লক্ষ্য থাকত পরবর্তী নির্বাচনে বেশী আসন দখল। পার্টির প্রধান কেন্দ্রগুলি ছিল সমস্ত শহরে এবং শহরে আন্দোলন সৃষ্টি করাই পার্টির প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমন কি গ্রামের কৃষককেও শহরে আনা হোত শহরের আন্দোলনকে জোরদার করার জন্য। ১৯৫৯ সালের শোচনীয় অভিজ্ঞতা এই শহরকেন্দ্রিক আন্দোলনেরই কুফল। এবং সমস্ত গণ-আন্দোলনের লক্ষ্য হোত এসেমব্লি [assembly] ঘেরাও করা। পার্টিতে কোন কিছুই গোপন থাকত না, গোপনীয়তা রক্ষার প্রচেষ্টা ক্রমশ:ই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মতবিরোধও বুর্জোয়া কাগজে প্রকাশ পেত; পার্টিসভ্যদের সজাগ দৃষ্টি (vigilance) ভোঁতা করে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সমস্ত আন্দোলনকে আইনানুগ রাখার জন্য পার্টির নেতৃবৃন্দ সদাসর্বদা প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে। তারা শুধু তেলেঙ্গানার সশস্ত্র বিদ্রোহের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল তাই নয়, যেখানেই কৃষক আন্দোলন পুলিশী দমননীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল সেখানেই পার্টি নেতৃত্ব এগিয়ে গিয়ে সংগ্রামের তুলে নিয়েছে- যেমন পাঞ্চাবের বেটারমেণ্ট লেভির আন্দোলন। পার্টি নেতারা পাঞ্চাবের পার্টি নেতাদের সাথে আলোচনা না করেই আন্দোলন তুলে নেন, বিহার, উত্তর প্রদেশের কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে অস্বীকার করেন; ১৯৫৯ সালের বেনামী জমির আন্দোলনের ক্ষেত্রেও দার্জিলিং জেলায় পার্টি নেতৃত্বকে উগ্রপন্থী আখ্যা দেওয়া হয়। এবং এ সমস্তই ঘটে একটি কারণে- কৃষকরা পুলিশী দমননীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চেয়েছিল বলে। প্রকাশ্য ও আইনানুগ আন্দোলনের মধ্যে প্রত্যেকটি সংগ্রামকে পার্টি নেতৃত্ব আটকে রেখেছিল। এবং পার্টি নেতাদের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল পার্টির পত্রিকা পরিচালনা। যে দেশের অধিকাংশ লোক অশিক্ষিত সে দেশে পার্টি পত্রিকা একমাত্র মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবিদেরই কাজে লাগে। এই পত্রিকা মারফৎ শ্রমিক কৃষকদের রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা কোনমতেই সম্ভবপর নয়। তাই সপ্তম কংগ্রেস একটি বিপ্লবী পার্টির জন্ম দিল না, জন্ম দিল একটি সংশোধনবাদী পার্টির।

আজ যখন আমরা বিপ্লবী পার্টি গড়ার কাজে হাত দিচ্ছি তখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রত্যেকটি দেশে জনতার বিপ্লবী সংগ্রাম চেয়ারম্যানের চিন্তাধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এক নতুন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে ভিয়েতনামী জনতার সংগ্রাম নিপীড়িত মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এমন কি আমাদের দেশেও নকশালবাড়ী, উত্তর-প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেপ ইত্যদি বিভিন্ন এলাকার কৃষকের বিপুল বাঁধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ভারতবর্ষেও চেয়ারম্যান নির্দেশিত মুক্ত অঞ্চল গড়ার কাজে কৃষকশ্রেণী হাত লাগিয়েছে। এই যুগে বিপ্লবী পার্টি গড়ার পক্ষে চেয়ারম্যানের চিন্তাধারার প্রচার এবং প্রসার করাই একমাত্র কাজ নয়, আজকের বিপ্লবী পার্টিকে চেয়ারম্যানের কর্মধারা আয়ত্ব করতে হবে। তবেই তাকে আমরা বিপ্লবী পার্টি বলতে পারবো।

আজকের ভারতবর্ষে বিপ্লবী তত্ব ও প্রয়োগের সমন্বয় ঘটাতে হবে, পার্টিকে এখনই গ্রামাঞ্চল কৃষকের সশস্ত্র সংগ্রামের এলাকা গড়ে তুলতে হবে। তাই তত্ব ও প্রয়োগের সমন্বয় সাধন করতে হলে কৃষকশ্রেণীর শ্রেণীবিশ্লেষণ করতে শিখতে হবে এবং দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষক, যারা কৃষিবিপ্লবের প্রধান শক্তি, তাদেরই মধ্যে পার্টিকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জনতার সাথে গভীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করতে হলে এই ভূমিহীন এবং দরিদ্র কৃষকের পার্টি ইউনিটগুলিকে চেয়ারম্যানের চিন্তাধারায় রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচার ও প্রসার মারফৎ ব্যাপক কৃষক জনসাধারণের শ্রেণীসংগ্রাম সংগঠিত করতে হবে।

এই শ্রেণী সংগ্রাম সৃষ্টি করতে পারলেই দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকের এই পার্টি ইউনিটগুলি গেরিলা ইউনিটে রূপান্তরিত হবে। এইসব গেরিলা ইউনিটকে রাজনীতি প্রচার ও প্রসার ও এবং সশস্ত্র সংগ্রামের মারফৎ পার্টির গণভিত্তিকে আরও ব্যাপক ও দৃঢ় করতে হবে। এইভাবেই দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামের মারফৎ জনতার স্থীয় সশস্ত্র বাহিনী গড়ে উঠবে এবং সংগ্রাম জনযুদ্ধের রূপ নেবে। এই দুরূহ কাজ করা যায় একমাত্র সমালোচনা ও আত্মসমালোচনার হাতিয়ারকে সঠিকভাবে প্রয়োগ মারফৎ। বিপ্লবের স্বার্থে আমরা একত্রিত হয়েছি। কাজেই সমালোচনা আমাদের ভয় করলে চলবে না এবং আত্মসমালোচনায় পরাংমুখ হলে আমরা আমাদের ভয় করলে চলবে না এবং আত্মসমালোচনায় পরাংমুখ হলে আমরা আমাদের গুণগত পরিবর্তন সাধন করতে পারবো না, বিপ্লবী কমিউনিস্ট হিসাবে আমাদের যে দায়িত্ব সে দায়িত্ব পালন করতেও অসমর্থ হবো। এই কর্মধারায় অভ্যস্ত হলে যে নতুন বিপ্লবী পার্টি জন্ম নেবে সেই পার্টি বিপ্লবী বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের উপর নিশ্চয়ই নির্ভরশীল থাকবে না। শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যে অবিরাম কৃষি বিপ্লবের রাজনীতি-চেয়ারম্যানের চিন্তাধারার প্রচার চালিয়ে যেতে হবে। তার ফলে শ্রমিক শ্রেণীর যে অগ্রণী অংশ চেয়ারম্যানের চিন্তাধারা ও তাঁর কর্মধারায় অভ্যস্ত হবে তাকে সক্রিয়ভাবে কৃষি বিপ্লব সংগঠিত করবার জন্যে গ্রামাঞ্চলে পাঠাতে হবে এবং এভাবেই কৃষিবিপ্লবের উপর শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্ব কার্যকরী রূপ নেবে। তাই চেয়ারম্যান বলেছেন, বিপ্লবী পার্টি হবে শ্রমিকশ্রেণীর অগ্রণী এবং উদ্যোগী অংশকে নিয়ে।

এই বিপ্লবী পার্টি যেমন নির্বাচনী পার্টি হবে না, তেমনি শহরকে কেন্দ্র করেও গড়ে উঠবে না। বিপ্লবী পার্টি কখনই প্রকাশ্য পার্টি হতে পারে না এবং কাগজ বের করাটাই তার প্রধান কাজ হতে পারে না এবং বিপ্লবী বুদ্ধিজীবীদের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে পারে না। বিপ্লবী পার্টিকে হতে হবে শ্রমিক এবং দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকদের উপর নির্ভরশীল; গ্রামকে কেন্দ্র করে কৃষক সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে, গোপন সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে প্রতিবিপ্লবী আক্রমণের সামনে পার্টি অসহায় হয়ে পড়বে। বিপ্লবী পার্টি আমরা তাকেই বলবো যে পার্টি গ্রামাঞ্চলে কৃষকের বিপ্লবী সংগ্রাম সংগঠিত করতে পারবে। এই রকম একটা পার্টি গড়ার জন্য আজ সমস্ত বিপ্লবীদের সক্রিয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এই বিপ্লবী পার্টি গড়ার কাজে বিপ্লবী বুদ্ধিজীবিরা নিশ্চয়ই সাহায্য করতে পারেন, কারণ তাঁদের পড়াশুনা আছে এবং বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতাও তাঁরা শ্রমিক ও কৃষকদের জানাতে পারেন। চেয়ারম্যানের চিন্তাধারা তাঁরা যতখানি বুঝেছেন ততখানি তাঁরা কৃষক ও শ্রমিকদের দিয়ে সাহায্য করতে পারেন। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিপ্লবী বুদ্ধিজীবীরা শ্রমিক এবং কৃষক পার্টি-ইউনিটগুলির স্বাধীন বিকাশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ান এবং তাদের উদ্যোগ বাড়াতে চেষ্টা করেন না। তাই বিপ্লবী বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়কে মনে রাখতে হবে চেয়ারম্যানের এই শিক্ষা- “জনগণই প্রকৃত বীর, -আমরা নিজেরা প্রায়ই ছেলে মানুষ ও অজ্ঞ, এবং একথা না বুঝলে একেবারে প্রাথমিক জ্ঞানটুকু পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব নয়।”

কমরেডস, চেকোশ্লোভাকিয়ার ঘটনা সোভিয়েত সংশোধনবাদের ফ্যাসিবাদী রূপ নগ্নভাবে তুলে ধরেছে। বিশ্বাসঘাতক ডাঙ্গেচক্র ও নয়া-সংশোধনবাদীচক্র যে সেই সোভিয়েতেরই হাতের পুতুল এটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে চেকোশ্লোভাকিয়ার ঘটনায়। তার ফলে সংশোধনবাদী প্রচার ভোঁতা হয়ে পড়তে বাধ্য। ভারতবর্ষ আজ সোভিয়েত-মার্কিন নয়া-উপনিবেশে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় প্রতিক্রিয়াশীলদের সাহায্যে ভারতবর্ষকে তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবিপ্লবী কেন্দ্র করেছে। এই অবস্থায় সোভিয়েত সংশোধনবাদের মুখোশ যত তাড়াতাড়ি খুলবে ততই সারা ভারতবর্ষে বিপ্লবী শ্রেণীসংগ্রাম ও প্রতিরোধের জোয়ার আসবে এবং দেশের ভেতরে কৃষক বিদ্রোহ দানা বেঁধে উঠবে। এই সময় কত দ্রুত আমরা আমাদের শ্রেণীগুলির মধ্যে পার্টি সংগঠন গড়ে তুলতে পারছি তারই উপর বিপ্লবের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তারই উপর নির্ভর করছে এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব আমরা দিতে পারি কি না। হয়তো আগামী ফসল দখলের আন্দোলনে এই বিপ্লবী জোয়ারের প্রকাশ হতে পারে। সুতরাং বিপ্লবী বুদ্ধিজীবীরা শ্রমিক ও কৃষকশ্রেণীর মধ্যে চেয়ারম্যানের চিন্তাধারা প্রচার ও প্রসারের মারফতে বিপ্লবী পার্টি গড়ার কাজে এগিয়ে আসবেন।

শারদীয়া দেশব্রতী, ১৯৬৮



Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.