চারু মজুমদারের সংগৃহীত রচনা সংকলন: তিনটি ঐতিহাসিক নির্দেশ ও খড়িবাড়ীর কৃষকদের এ্যাকশন সম্পর্কে

500x350_0718bd934ac49f1e112b30cd4cfd4285_charu_majumder

() তিনটি ঐতিহাসিক নির্দেশ

১। একমাত্র গেরিলা সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমাদের অগ্রগতি ঘটতে পারে, অন্য কোন উপায়ে নয়।

২। যাঁরা জেল থেকে খালাস হয়ে এসেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কোন মামলা না থাকলেও তাদের গোপনেই থাকতে হবে কারণ আমাদের পার্টি হোল গোপন পার্টি এবং সর্বোপরি আমরা গৃহযুদ্ধের মধ্যে বাস করছি।

৩। যাঁরা জেল থেকে বেরিয়ে এসেছেন এবং এযাবৎকাল যাঁরা এলাকায় সংগ্রাম পরিচালনা করছিলেন তাঁদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেবে এবং এই দ্বন্দ্বে আমরা সব সময়েই নতুনকে সমর্থন করবো কারণ নুতনরা হলেন উদীয়মান শক্তি।

[নকশালবাড়ী এলাকায় একটি আলোচনা সভায়-১৯৬৮]

() খড়িবাড়ী কৃষকদের এ্যাকশন সম্পর্কে

এই এ্যাকশনের মধ্য দিয়ে কৃষকের শ্রেণীগত ঘৃণা প্রকাশ পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনই একে আমরা সঠিক গেরিলা এ্যাকশন বলতে পারি না, কারণ নিজস্ব উদ্যোগ নিয়ে হঠাৎ আক্রমণ করে সরে যাওয়াই হচ্ছে সঠিক গেরিলা পদ্ধতি। এই আক্রমণে এই নীতি অনুসরণ করা হয়নি।

[১৯৬৮ সালে খড়িবাড়ীর কৃষকরা প্রকাশ্য দিবালোকে “চেয়ারম্যান মাও জিন্দাবাদ” বলে ধানক্ষেতেই জোতদারকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।]

Advertisements

নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪ মাওবাদী নারী নিহত

Odisha-News-Insight

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম odishatv খবরে বলা হয়েছে, রবিবার রাতে উড়িষ্যার কোরাতপুর জেলার ডকরি ঘাট এলাকার কাছে নারায়ণপাটনাতে নিরাপত্তা বাহিনীর জেলা ভলান্টেরি ফোর্স ও স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের সাথে মাওবাদীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে ৪ মাওবাদী নারী ক্যাডার নিহত হয়েছে। তাদের এখনও শনাক্ত করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে নিহতরা সকলেই অন্ধ্র-উড়িষ্যা জোনাল কমিটির সদস্য।  পুলিশ এমনটাই দাবী করছে।

উল্লেখ্য যে, নারায়ণপাটনায় ২০০৯-১০ সাল থেকে মাওবাদীরা কার্যক্রম জোরালো করার চেষ্টায় রয়েছে। ওই সময় থেকে মাওবাদীদের ফ্রন্ট সংগঠন চাষী মুলিয়া আদিবাসী সংঘ এখানে উড়িষ্যার লালগড় গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। 


সিপিআই(মাওবাদী)-র পলিটব্যুরো এবং ‘সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন’-এর সদস্য ‘অরবিন্দজি’ মারা গেছেন!

maoist-leader-arvindji-photo-state-undisclosed-location_02a5ad00-2d20-11e8-8732-87a46da2a8cc

ভারতীয় গণমাধ্যম the hindu জানাচ্ছে, মাওবাদী নেতা অরবিন্দ সিংহ ওরফে অরবিন্দজি হার্ট এট্যাকে মারা গেছেন। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র ঝাড়খণ্ড-বিহার-বাংলা আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক ছিলেন তিনি।

যদিও মাওবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন বিবৃতি দেয়া হয় নি।

মাওবাদী পলিটব্যুরো এবং সংগঠনের ‘সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন’-এর সদস্য, ৮০ বছর বয়সি অরবিন্দজি অসুস্থ ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন, ফলে ঘোড়ায় চড়ে চলাফেরা করতেন। গত বুধবার ঝাড়খণ্ডের বুঢ়া পাহাড়ে তিনি মারা গিয়েছেন বলে জানতে পেরেছে ঝাড়খণ্ডের গোয়েন্দারা। স্ত্রী পার্বতীদেবী ঘটনার পরই এলাকা ছেড়েছেন। তাঁকে আটক করতে ঝাড়খণ্ড সরকার এক কোটি টাকা, বিহার সরকার পাঁচ লক্ষ টাকা ও ছত্তীসগঢ় সরকার ৪০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। মাওবাদী নেতার দেহ জহানাবাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।

কিষেণজি ওরফে কোটেশ্বর রাওয়ের মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদীদের সামরিক সংগঠনের দায়িত্ব ছিল অরবিন্দজির উপরে। কিন্তু বয়সের ভারে ও অসুস্থতায় সংগঠন নতুন করে তৈরি করতে পারেননি তিনি। পটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর হয়েই নকশাল আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছিলেন অরবিন্দজি। বিহার-ঝাড়খণ্ড-নর্থ ছত্তীসগঢ়ের ‘অপারেশনাল এরিয়া কমিটি’র সম্পাদক থাকার সময়ে বেশ কয়েকটি বড় অভিযানের নেতৃত্ব  দিয়েছেন তিনি।

২০১৩ সালে লাতেহার জেলায় ১২ জন সিআরপিএফ এবং ঝাড়খণ্ড পুলিশের চার জওয়ানকে হত্যার ছক অরবিন্দজির মস্তিষ্কপ্রসূত। সিআরপিএফ জওয়ান বাবুলাল পটেলের পেটের ভিতরে টাইম বোমা রেখে দেওয়াও তাঁরই পরিকল্পনা ছিল।

 


জনগণের সমর্থন জোরদার করার জন্য মাওবাদীদের ৩ হাজার ‘প্রজা মেলি'(গ্রামবাসী সমাবেশ)

instantánea1-800x445

Odishatv জানাচ্ছে, সরকার যেখানে কমিউনিস্ট মাওবাদীদের  নিশ্চিহ্ন করার মিশনে নেমেছে, সেখানে খুবই সাম্প্রতিক কোন এক সময়ে মাওবাদীরা তাদের পক্ষে জনগণের সমর্থন জোরদার করার জন্য একটি বিশাল ‘প্রজা মেলি’ (গ্রামবাসী সমাবেশ) এর আয়োজন করেছিল।

সূত্র জানায়, ঊর্ধ্বতন মাওবাদী কমান্ডার ওরা নাগেশ্বর রাও এর আহবানে ওড়িশা-অন্ধ্রপ্রদেশ সীমান্ত বরাবর মালকানগিরি জেলার কাটা এলাকার চরেবুরু বন এলাকার প্রায় ৩ হাজার আদিবাসী পুরুষ ও নারী সমবেত হয়।

জনগণের এই সমাবেশে, নাগেশ্বর ও তার ব্রিগেড – পুলিশ ও তার মাওবাদী বিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে যোগদানের জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন এবং পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও পরিবহন বিষয়ে আলোচনা করেন। এসময় ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র ও অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত নারী ও যুবক সহ হাজার হাজার আদিবাসীকে ‘প্রজা মেলি’ এ যোগ দিতে দেখা যায়।

এদিকে সরকার বলছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মাওবাদী সহিংসতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে, অথচ সাম্প্রতিক সময়ে মাওবাদীদের বেশ কিছু ঘটনায় সরকারের এ জাতীয় বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

 


শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি ভাঙার পরিপ্রেক্ষিতে RADICAL এর বক্তব্য

12247036_742767462524008_4543130701378490812_n

শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি ভাঙার পর পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি আমাদের ‘লেনিনের বাচ্চা’ বলে চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত আমরা দিলীপ ঘোষকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের সঠিক সম্ভাষণে ভূষিত করার জন্য। হ্যাঁ, আমরা লেনিনের সন্তান বলেই নিজেদের মনে করি। গোটা দুনিয়ার মেহনতী মানুষকে যিনি মুক্তির রাস্তা দেখিয়েছিলেন, অত্যাচারের প্রতিটি ঘটনায় রুখে দাঁড়ানোর হিম্মত যুগিয়েছিলেন বিশ্বের তামাম নিপীড়িত জনগণকে, সেই লেনিনের সন্তান হওয়া আমাদের প্রত্যেকের কাছে গর্বের বিষয়। আমরা শ্রদ্ধা করি আম্বেদকর, পেরিয়ারের মতো মানুষদের, এই নৃশংস বর্ণব্যবস্থার শেকল ছিঁড়ে আত্মমর্যাদার লড়াইয়ে যাঁরা উদ্বুদ্ধ করেছিলেন দেশের পীড়িত-শোষিত দলিত সমাজকে। এটা স্পষ্ট হয়ে নেওয়া ভালো যে বিজেপি আজ লেনিন, আম্বেদকর, পেরিয়ারের মূর্তি ভাঙছে শুধুমাত্র কয়েকটি রাজ্যে ওদের নির্বাচনী জয়ের উদযাপনের জন্য নয়, মানুষের মন থেকে এদের গৌরবময় স্মৃতি মুছে ফেলার জন্য; পুঁজির জোয়াল স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ আর বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এদের সারা জীবনের সংগ্রামকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য। এমনকি তালিকা থেকে বাদ যান নি সুভাষচন্দ্র বা মাইকেল মধুসূদন দত্তও। পৃথিবীর দেশে দেশে ফ্যাসিবাদ এ কাজ করে এসেছে। আর বারবার কবরও খুঁড়েছে নিজেদের। দিলীপ ঘোষ আমাদের ‘কুকুরের মতো তাড়া করে মারার’ কথা ঘোষণা করেছেন। দিলীপবাবু জেনে রাখবেন গোটা দেশজুড়ে আপনাদের অত্যাচার যত বাড়বে আপনারা এমনই নতুন নতুন বাঘের বাচ্চার মুখোমুখি হবেন। গামছা পরেও সেদিন ইতিহাসের পাতা থেকে পালাবার পথ খুঁজে পাওয়া যাবে না।

মাননীয় নরেন্দ্র মোদী, আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু গৌরী লঙ্কেশের মত প্রতিবাদী সাংবাদিককে যেদিন গুলি করে হত্যা করা হয় সেদিন আপনাকে মুখ খুলতে দেখা যায় নি। আখলাক, জুনেইদ এর ঘটনার পর, উনায় দলিত নিধনের পর, নৃশংসভাবে আফরাজুলকে হত্যা করার পর, ভীমা কোরেগাঁও এর ঘটনার পর আপনাকে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। দেশের মানুষের সারা জীবনের গচ্ছিত সম্পদ চুরি করে নীরব মোদিরা পালিয়ে গেলেও আপনাকে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। লেনিন থেকে বাবাসাহেব আম্বেদকর, পেরিয়ারের মূর্তি ভেঙে যখন রণহুঙ্কারে তান্ডবনৃত্য করছে আপনার সংগঠনের কর্মীবাহিনী তখনও আপনাকে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। মুখ খুললেন কখন যখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে হাতুড়ির ঘা পড়ল। হে হিন্দুত্বের কাণ্ডারী, অত্যাচার সহ্য করতে করতে মানুষের ধৈর্য একদিন সহনশীলতার সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে যায়। পৃথিবীর কোনো শাসকই মানুষের সেই অনন্ত ঘৃণার আগুন থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে নি।

আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলছি, আমরা মূর্তি ভাঙার বিরুদ্ধে। কারণ আমরা জানি মূর্তি ভেঙে শুধুমাত্র কোনো মতাদর্শকে নিশ্চিহ্ন করা যায়নি, যায়ও না। এমনকি সত্তর দশকে যে নকশালপন্থীরা রামমোহন, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিলেন আমরা সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখার পক্ষপাতী তাকেও। কিন্তু এখানে দুটো কথা বলার। প্রথমত বিদ্যাসাগর, রামমোহনের মতো মানুষ যারা নিজেদের গোটা জীবন সমাজের কল্যাণের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন তাঁদের সাথে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো হিন্দু মহাসভার নেতা, গোটা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যে মহাসভার কোনো ভূমিকা নেই, ব্রিটিশ রাজশক্তি আর ক্ষমতার বৃত্তের কাছাকাছি থেকেছেন বরাবর যে শ্যামাপ্রসাদ, তীব্রভাবে বিরোধিতা করেছেন ভারত ছাড়ো আন্দোলনের; রামমোহন, বিদ্যাসাগরের সাথে তার কোনো তুলনাই করা চলে না। আমরা জানি না কোন সম্প্রদায়ের ভোটব্যাঙ্ককে তুষ্ট করার জন্য পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকার দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের মতো মহান মানুষের সমাধিস্থলে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি স্থাপন করেছিলো। আর দ্বিতীয়ত ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে মানবতা, বিবেক আর মননশীলতার সমস্ত ক্ষেত্র যখন আক্রান্ত হয়েছিলো একদিন, রোমা রোল্যাঁর মতো বিশ্ববরেণ্য মানুষও সেদিন বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, “when order is injustice, disorder is the beginning of justice.” শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি ভাঙার পর মোদী-অমিত শাহ-রাজনাথ সিং চক্রের সরব হওয়ার মধ্যে দিয়েই পরিষ্কার যে শ্রমিকের হাতুড়ি ভুল জায়গায় আঘাত করেনি।

ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলি মতাদর্শগতভাবে বামপন্থাকে তার প্রধান শত্রু বলে মনে করে। কারণ তারা জানে দেশের নিপীড়িত জনগণের আশা-আকাঙ্খাকে প্রতিফলিত করার বাস্তব ক্ষমতা আর কারও নেই। বামপন্থার বিপদ যদিও শুধু বাইরে থেকে নয়, এসেছে তার ভিতর থেকেই। সংসদীয় বাম রাজনীতির ভোটবাজি আর ভাঁওতাবাজী আর ‘সেকুলার প্রগতিশীল বাম’দের মিনমিনে প্রতিবাদ দেখতে দেখতে মানুষ ক্লান্ত। অসহায় মানুষের অনিশ্চয়তাকে আজ গ্রাস করছে ফ্যাসিবাদ। শুধুমাত্র ভোটের মধ্যে দিয়ে এই ফ্যাসিস্ট শক্তিকে হারানোর স্বপ্ন যারা দেখছে, মূর্খের স্বর্গে বাস করছে তারা। আজ সত্যিই প্রয়োজন রয়েছে বামপন্থাকে নতুনভাবে সাজানোর, দেশের জল-জঙ্গল-জমির আর অধিকার রক্ষার প্রতিটি আন্দোলনের সাথে এই মতাদর্শকে যুক্ত করার। নির্বাচনী রাজনীতির মোহ থেকে না বেরোলে কখনো সম্ভব নয় এই মরণপণ লড়াই। কৃষকের কাস্তে আর শ্রমিকের হাতুড়ির মর্যাদা রক্ষার দায় তাই আমাদের সবার, প্রত্যেকের।

আমরা আমাদের পোস্টারে লিখেছিলাম ‘ভেঙেছি বলেই সাহস রাখি গড়ার/ ভেঙেছি বলেই সাজিয়ে দিতে পারি/ স্বপ্নের পর স্বপ্ন সাজিয়ে তাই আমরা এখনও স্বপ্নের কান্ডারী’। আমরা তো শুধুমাত্র একটা সামান্য মূর্তি ভেঙেছি। মা-মাটি-মানুষের সরকার যদিও তার জন্যই আমাদের দুদিনের পুলিশি হেফাজত ও চারদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু জাতিতে-জাতিতে, ধর্মে-ধর্মে বিরোধ আর বিভাজন ঘটিয়ে গোটা সমাজকে ভেঙে দিতে চাইছে যারা, প্রতিদিন বিক্রি করে দিচ্ছে যারা দেশের মূল্যবান সম্পদ কি শাস্তি তাদের জন্য বরাদ্দ হওয়া উচিত? আগামী সময় আর আমাদের দেশের মানুষ নিশ্চিতভাবেই এর বিচার করবেন।


বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামী যোদ্ধা মাতঙ্গিনী হাজরা

haj

মাতঙ্গিনী হাজরা ভারত বর্ষে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে প্রাণ দিয়েছেন।

১৭৫৭ সালে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ ভারতবর্ষ দখল করে শোষণ-লুন্ঠন, অত্যাচার নিপীড়ন চালিয়েছে। সেই ভারতবর্ষে  ১৮৭০ সালের ১৯ অক্টোবর মাতঙ্গিনী হাজেরা কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

ভারতের পশ্চাদপদ সমাজ ব্যবস্থায় মাতঙ্গিনীর বাবা তাকে অল্প বয়সেই বিয়ে দেন। তিনি ১৮ বছর বয়সেই বিধবা হন। হিন্দু ধর্মের রীতি অনুযায়ী সারা জীবন তিনি বিধবা হিসেবেই কাটিয়ে দেন।

কিন্তু মাতঙ্গিনী তার জীবনকে স্বার্থক করে তোলেন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়ে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে।

তিনি ৩ বার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। প্রথমবার লবণ তৈরি আইন অমান্য করে গ্রেফতার হন। দ্বিতীয়বার কালো পতাকা পুলিশকে দেখানোর জন্য এবং তৃতীয়বার চৌকিদারী ট্যাক্স বন্ধ করার আন্দোলনের কারণে।

১৯৪০ সালে বৃটিশ আইন অমান্য করে যে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয় সেই বিদ্রোহে তিনি নেতৃত্বের সারিতে ছিলেন।  বিদ্রোহীরা ভারতের মেদিনীপুরে টেলিগ্রাফের তার উপড়ে ফেলেন, বৃটিশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বোমা-হামলা করেন এবং বৃটিশ পতাকা পুড়িয়ে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

১৯৪২ সালের আগস্ট মাসে সশস্ত্র বিদ্রোহের সময় পুলিশের গুলিতে ১৮০ জন বিদ্রোহী শহীদ হন। ১৬৩০ জন আহত হন এবং গ্রেফতার হন ৬০ হাজার। ১৯৪২-এর সেপ্টেম্বরে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে ৫০ হাজার নারী-পুরুষের এক বাহিনী তমলুক থানার লালবাড়ী দখল করতে যান। সেখানে তিনি সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। এই আন্দোলনে বহু নেতা-কর্মী আহত-নিহত হন। মাতঙ্গিনীও ৩টি গুলি খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তিনি ৭৩ বছর বয়সে শহীদের মৃত্যু বরণ করেন।

মাতঙ্গিনী হাজরা কোনো বিপ্লবী দিশায় দিক্ষিত ছিলেন না। বা সমাজের সার্বিক মুক্তিকামী কোনো সংগঠনের কর্মীও ছিলেন না। তিনি ছিলেন মূলত বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী একজন নির্ভীক সৈনিক। মাতঙ্গিনী ভারতের তৎকালীন কংগ্রেস নেতা গান্ধীর অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও অহিংস নীতির বদলে যেখানেই সহিংস আন্দোলন শুরু হয়েছে- সেখানেই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এবং জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করেছেন; শেষ পর্যন্ত জীবন বির্সজন দিয়েছেন। এটাই তার অগ্রসরতা।

আমাদের দেশের ও ভারতের নিপীড়িত নারীদের সংগ্রামে মাতঙ্গিনীর জীবন উৎসর্গ প্রেরণা যোগাবে নিঃসন্দেহে। একই সাথে এই শিক্ষা নিতে হবে মাতঙ্গিনী সহ হাজার-হাজার নারী পুরুষের রক্তের বিনিময়ে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ উচ্ছেদ হলেও ভারতবর্ষের শ্রমিক, কৃষক এবং নিপীড়িত নারীরা সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদ-পুরুষতন্ত্রের শোষণ-নিপীড়ন থেকে মুক্তি পায়নি। এখনো নির্ভয়াদের ধর্ষণের শিকার হয়ে জীবন দিতে হচ্ছে। নারী ধর্ষণকারী শহর হিসেবে নয়াদিল্লি ২য় স্থানে। এখনো ভারতীয় নারী সমাজ বৃটিশ দখলদারিত্বের যুগ থেকে একটুও আগায়নি। আগানো সম্ভবও নয়। ভারতে এখনো পালা বদল করে ক্ষমতা চালাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদেরই দালাল শাসকশ্রেণি। এই দালাল শাসকশ্রেণি উচ্ছেদ ব্যতীত নারীদের মুক্তি অসম্ভব। সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে ভারতের বিপ্লবী নারী সংগঠন। তার অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিপীড়িত নারীগণ।

সূত্রঃ বিপ্লবী নারী মুক্তি, নারী দিবস সংখ্যা ‘১৮


ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের প্রতিশোধ হামলায় নিহত ৯ CRPF জওয়ান, জখম ৪

_7f15310e-26a8-11e8-9f95-06a811d7e716

Hindustantimes জানাচ্ছে, ছত্তিশগড়ের সুকমায় মাওবাদী হামলায় নিহত হয়েছে ৯ জন CRPF জওয়ান, জখম ৪। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায়। হতাহতরা মাওবাদী দমনে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কোবরা ফোর্সের সদস্য ছিলেন।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এ দিন সুকমায় তল্লাশিতে যাওয়ার সময় সিআরপিএফের মাইনরোধী গাড়িতে (এমপিভি) বিস্ফোরণ ঘটায় মাওবাদীরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৯ জনের। অনেক জওয়ান আহতও হয়েছেন, তবে সেই সংখ্যাটা এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। আপাতত ৪জনের জখমের সংবাদ পাওয়া গেছে।

এনডিটিভি জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিতে কোবরা ফোর্সের ১১ সদস্য একটি অ্যান্টি-ল্যান্ডমাইন সাঁজোয়া যানে কিস্তারাম থেকে সুকমার পালোডায় রওয়ানা হয়। সেখানে আগে থেকেই নকশাল বিরোধী অভিযান চলছিল। তখনই তাদের ওপরে হামলা চালানো হয়। সিআরপিএফের এক আধিকারিকের মতে, প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক দিয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

সপ্তাহ দুয়েক আগেই সিআরপিএফের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছিল ১০জন মাওবাদী। এঁদের মধ্যে ৬ জন মহিলাও ছিল। সেই হামলার বদলা নেওয়ার জন্য এই হামলা চালানো হল কি না সেই ব্যাপারে জল্পনা তৈরি হয়েছে।