মেক্সিকোর উদারতাবাদী সশস্ত্র মার্কসবাদী দল ‘জাপাতিস্তা আর্মি অব ন্যাশনাল লিবারেশন – EZLN’

 67925f086579ad1ff72c0c9204b1111b_xl

ম্যাক্সিকোর কাছে একটি ছোট রাজ্য চাইপাস। নিজেদের ৩২তম প্রদেশ বানাতে মেক্সিকো চাইপাসের ওপর চালায় দখলদারি ও ঔপনিবেশিকতার জাল। এই দখলদারির প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠে চাইপাসের অগ্রগামী জনগণ। এই লক্ষ্যেই যাত্রা শুরু হয় জ্যাপাটিস্টা আর্মি অব ন্যাশনাল লিবারেশন নামের এই গেরিলা দলটির। সংক্ষেপে অবশ্য ইজেডএলএন নামে পরিচিত। ১৯৯৪ সালে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে দলটি। মেক্সিকো সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও যুদ্ধের মাধ্যমেই পথচলা শুরু ইজেডএলএনের।

সেই সময় তুরস্ক বা সিরিয়ার সীমান্ত থেকে হাজারো মাইল দূরে মেক্সিকোতে ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি ন্যাফটা নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুসার মেক্সিকোর বাজার চাষিদের জমি উৎপাদিত দেশীয় শস্য সমস্ত কিছু আমেরিকা এবং বাকি স্বাক্ষরকারী দেশের কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। চুক্তি সাক্ষরিত হওয়ার দিনেই এক অজানা সংগঠন জ্যাপাটিসটা ন্যাশানাল আর্মির ইজেডএলএন হাজারো সশস্ত্র মায়া আদিবাসী গেরিলা মেক্সিকোর প্রধান শহর জেলা শহর আঞ্চলিক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে। নতুন ধরনের মুক্তির লড়াই মায়া আদিবাসী সমাজের স্বয়ংশাসন প্রতিষ্ঠা করার এই যুদ্ধ বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার মিশ্রণে এক নতুন ধরনের বামপন্থী চিন্তার ফসল। দ্রুত দক্ষিণ মেক্সিকোর জঙ্গলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিজেদের স্বয়ংশাসন প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন সক্ষম হয়।

শুরুতে মেক্সিকো সরকারের মিলিটারি, প্যারামিলিটারি ও বহুজাতিক কম্পানির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল তারা। অনেকটা আত্মরক্ষাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। উদারতাবাদী মার্ক্সিজম ও উদার সোশ্যালিজমের আদর্শে যাত্রা শুরু করে দলটি। আত্মপ্রকাশের বছরই ইজেডএলএন প্রথম যুদ্ধের ঘোষণা দেয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তারা প্রবৃত্ত রয়েছে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। মাঝেমধ্যে হয়তো যুদ্ধপন্থায় কিছুটা পরিবর্তন করে, তবে মূল উদ্দেশ্য অটুট। কোনো একক নেতৃত্ব নেই দলটিতে। প্রশিক্ষক ও কর্মপরিকল্পনার জন্য কয়েকজন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাব কমান্ড্যাট মার্কোস, কমান্ড্যাট হুগো, সাব কমান্ড্যাট পেড্রো, সাব কমান্ড্যাট এলিসা ও সাব কমান্ড্যাট মোয়েসেস উল্লেখযোগ্য। প্রায় তিন হাজার সক্রিয় সদস্য ও নিজস্ব মিলিশিয়া বাহিনীর সঙ্গে রয়েছে চাইপাসের অগুনতি জনসাধারণ। ইজেডএলএন জনগণের মুক্তির জন্য যুদ্ধ করে বিধায় নিজেদের রক্ষাকবচ হিসেবে জনগণই কাজ করে। অর্থ, খাদ্যসহ সব কিছু দিয়েই সাহায্য করে। ইজেডএলএনের সমর্থন ও অবস্থান অনেক শক্তিশালী। তাই দলটিকে মোকাবিলায় মেক্সিকো সরকারকে খেতে হচ্ছে অনেক নাকানিচুবানি। নিজের পুরো শক্তি দিয়েও খুব সহজে চাইপাসে আধিপত্য বিস্তারে পুরোপুরি সক্ষম হতে পারেনি মেক্সিকো। তাই মেক্সিকো সরকার দলটিকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ইজেডএলএন নিজেদের সফলতা বয়ে আনতে সর্বদা নতুন কর্মপন্থা ও গেরিলা আক্রমণ পছন্দ করে, যাতে শত্রু খুব সহজে তাদের জব্দ করতে না পারে।

images

 



Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.