তুরস্কের দারসিম অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর অভিযানে ২ মাওবাদী গেরিলা শহীদ হয়েছেন

nergis-01-800x445

শহীদ কমরেড গুল কায়া(নারগিস)

তুরস্কে বসন্ত আসার সাথে সাথে গেরিলা এলাকাগুলোতে ফ্যাসিস্ট সরকারের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সম্প্রতি তুর্কি প্রজাতন্ত্রের দারসিমের আলিবোগাযি’তে সকালের দিকে প্রতিক্রিয়াশীল সরকারি বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত অপারেশনে ২জন গেরিলা অমর হয়েছেন, শহীদ এই ২জন গেরিলা TKP / ML-TİKKO (তুরস্কের কমিউনিষ্ট পার্টি / মার্কসবাদী-লেনিনবাদী ও তুরস্কের কৃষক শ্রমিক মুক্তি সেনা) এর গেরিলা যোদ্ধা ছিলেন।

শহীদ ২জন গেরিলার একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তার নাম গুল কায়া(নারগিস)।

সূত্রঃ http://www.yenidemokrasi.net/dersimde-2-tikko-gerillasi-olumsuzlesti.html

Advertisements

চেংটু’র ডা‌য়েরী থেকে ‘২’

_baca6a3c-48fb-11e8-8699-4e17514b3033

ভারত রাষ্ট্রের আধাসামরিক বাহিনী ও স্পেশাল কমান্ডো সি -60 এর হাতে ২২-২৩শে এপ্রিল গড়চিরোলিতে ৩৯ জন নকশালপন্থীর হত্যার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ছবি

ভারত রাষ্ট্রের আধাসামরিক বাহিনী ও স্পেশাল কমান্ডো সি -60 এর হাতে ২২-২৩শে এপ্রিল গড়চিরোলিতে ৩৯ জন নকশালপন্থীর হত্যা নিঃসন্দেহ কমিউনিস্ট বিরোধী অভিযানের বড় সাফল্য। এর আগে ২০১৬ সালে ওড়িশার মালকানগিড়িতে ৩০ জন নকশালপন্থী গেরিলার হত্যাও বড় সাফল্য ছিলো কমিউনিস্ট বিরোধী অভিযানের জন্য। আর প্রত্যেকবার বড় সাফল্যের পরে ভারত রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানরা বা সরকারের তরফ থেকে দাবি করা হয় যে, এই সাফল্য নকশালপন্থীদের ওপর শেষ মারণ আঘাত, এই আঘাত নকশালপন্থীদের কোমর ভেঙে দিয়েছে। ভারত রাষ্ট্র এই ধরনের সাফল্য পেয়ে আসছে এবং তারপর এই একই ধরনের দাবি করে আসছে তার জন্মলগ্ন থেকে। ১৯৪৭ সালের ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর তেভাগা ও তেলেঙ্গানা আন্দোলন দমনে ব্রিটিশ প্রশাসনের অসমাপ্ত কাজ চালিয়ে গিয়েছিলো ভারতের পুলিশ-আধা সামরিক বাহিনী। তেলেঙ্গানায় কমিউনিস্ট পার্টি পরিচালিত দলম ( যা আজকের পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি’র পূর্বসূরি) এর সদস্যদের নির্বিচারে হত্যা করে বড় সাফল্য এসেছিলো নেহেরু সরকারের। বড় সাফল্য এসেছিলো কলকাতার উপকন্ঠে কাশিপুর – বরানগরে গুন্ডাদের সাথে নিয়ে আধাসামরিক বাহিনীর অভিযানে ১০০ জনের বেশী নকশালপন্থী যুবককে খুনের মধ্যে দিয়ে। এই রকম সাফল্য এসেছিলো এবং নকশালপন্থীরা দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছিলো চারু মজুমদার, সরোজ দত্ত বা কিষেণজি কে হত্যা করার পর। কিন্তু তারপর দেখা গেছে যে তেভাগা, তেলেঙ্গানার লড়াকু কমিউনিস্টরা অন্ধ্রে বা বাংলায় গড়ে তুলেছে নকশালপন্থী আন্দোলন। চারু মজুমদারের মৃত্যুর পর নকশালবাড়ি জ্বলে উঠেছিলো বিহারের ভোজপুরে। ধীরে ধীরে ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, কেরালা, তামিলনাড়ু, ঝাড়খণ্ড, সহ সারা ভারতের ১৯টা রাজ্যে। মালকানগিড়িতে ৩০ জন মাওবাদীকে হত্যার সাফল্যের পর বছর না ঘুরতেই সেখানে মাওবাদীরা স্থাপন করলো গণ-ফৌজের স্থায়ী গেরিলা ব্যারাক।

সিপিআই (এম) এর বিপ্লবকামী অংশ ১৯৬৭ সালে বেড়িয়ে গিয়ে মূলত দুটো দলে যথাক্রমে সিপিআই-এমএল ও এমসিসি তে বিভক্ত হয়ে গিয়ে আন্দোলন পরিচালনা করতে থাকে। রাষ্ট্রীয় দমনের সাফল্যে সিপিআই-এমএল বহু ভাগে ভেঙে গেলেও সিপিআই-এমএল এর গ্রুপ গুলোর মধ্যকার আপসহীন গ্রুপগুলো ২০০৪ সালে এমসিসিআই এর সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গড়ে তোলে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি( মাওবাদী)। সম্প্রতি ঝাড়খন্ডে, ছত্তিসগড় বা গড়চিরোলিতে নকশাল দমনে কামান, হেলিকপ্টার ব্যবহার, ইসরোর স্যাটেলাইট বা স্পেশাল কামান্ডোর ব্যবহার এটাই প্রমাণিত করেছে যে ভারত রাষ্ট্রের এত সাফল্যের পড়েও কমিউনিস্টরা শ্রেণী যুদ্ধকে অ্যাডভান্স লেভেলে নিয়ে যেতে পেরেছে। যখন কিনা অন্যান্য বামপন্থীরা ৭০ বছর ধরে বিতর্ক চালাচ্ছেন যে আদৌ ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করা বা বিপ্লব সম্ভব কিনা! যুদ্ধে হার জিত হয়। মৃত্যুও স্বাভাবিক। সংবাদ সংস্থা ANI এর ফুটেজ অন্যান্য বুর্জোয়া মিডিয়াও প্রচার করছে যে ৩৯ জন মাওবাদীর মৃত্যুর পর আধাসামরিক বা কামান্ডো বাহিনী মনের আনন্দে চটুল গানে কি ভাবে নাচছে। পুঁজিপতিদের মনের উচ্ছাস এই খবর গুলোতে প্রতিফলিত হচ্ছে। এটাই স্বাভাবিক। আর এটাই মৃত মাওবাদীদের সাফল্য। একজন কমিউনিস্টের কাছে সাফল্য এটাই যে সে শোষক শ্রেণীর কাছে কতটা ঘৃণার পাত্র হয়ে উঠেছে। অন্য দিকে মাওবাদীদের এবং তাদের প্রভাবিত এলাকায় মনোবল নিঃসন্দেহে সাময়িক ভাবে ভেঙেছে। যেমন ভাবে নকশালদের আক্রমণে যত বেশী আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানের মৃত্যু হয় তত মনোবল ভাঙে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর এবং মহাজন, জমিদার, খনি মাফিয়াদের। এবং উল্লাসিত হয় অপরপক্ষ। ভারত রাষ্ট্র যেমন মাওবাদীদের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তার পক্ষে সবচেয়ে বড় বিপদ মনে করে তেমন মাওবাদীরাও মনে করে যে এই ভারত রাষ্ট্র আদতে বিদেশী পুঁজিপতি দেশীয় সামন্ত সহ বিভিন্ন শোষক শ্রেণীর প্রতিনিধি। এবং বড় পুঁজিপতি, সামন্ত শোষক, মাফিয়ারাই দেশের জনগণের প্রধান শত্রু। ঐক্যবদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টিতে আবার ২০১২ সালে যুক্ত হয়েছে আরেকটি সিপিআই-এম এল এর লড়াকু গ্রুপ সিপিআই-এমএল নকশালবাড়ি। ভারত সরকারের চরম দমন পীড়নের পড়েও সিপিআই-মাওবাদী ঐক্য কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে সেই সব মানুষ এবং সংগঠনদের যারা সত্যি সত্যি মনে করে সমাজ বিকাশের নিয়ম মেনে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে লেনিন বা মাও এর মত রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা যায় এবং সাম্যবাদ সম্ভব। তাই এটা স্পষ্ট যে সামরিক ভাবে কমিউনিস্ট আন্দোলন দমন করা যাবেনা। কারণ সামাজিক অসাম্যই তৈরি করে সাম্যের আকাঙ্খা। আর সাম্যের আকাঙ্খা তৈরি করে সাম্যবাদী যুদ্ধের। প্রত্যেক দমননীতি সাময়িক ভাবে কমিউনিস্টদের পিছু হটতে বাধ্য করলেও আদতে তা কমিউনিস্টদেরই শক্তিশালী করে। তাই সামরিক সমাধান সম্ভব নয়। রাজনৈতিক সমাধানই পারে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের অবসান ঘটাতে।

 


৩৯জন ‘মাওবাদীর’ হত্যার তদন্ত হোক! তা না হলে ‘মৃত্যু উপত্যকা’ হবে আমাদের দেশ

india-maoist-rebels-killed_f4f85a92-4771-11e8-b98f-44ca1ff8ed36 (1)

এক আধজন নয় ৩৯জন মানুষ, দু দফায় যাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে। একাধিক সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলিতে সি-৬০ কম্যান্ডো বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩৯ জন মাওবাদী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে মাওবাদীদের সঙ্গে বিশেষ কম্যান্ডো বাহিনীর সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন মাওবাদীরা। তবে নানা স্তরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সংঘর্ষ হলে সেনাবাহিনীর কেউ সামান্য জখমও কেন হোল না? অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি লড়াই হোল অথচ বেঘোরে শুধুমাত্র ৩৯জন মাওবাদী মারা গেল, এ যুক্তি খুব শক্ত যুক্তি নয়। এ যুক্তিতে ভরসা না করার আর একাটা বড় কারণ, এর আগেও ভারত রাষ্ট্রের পুলিস ও আধা সেনারা একাধিকবার ভুয়ো সংঘর্ষে(ফেক এনকাউন্টারে)মানুষ মেরেছেন। দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় তা নিয়ে তাদের উদ্বেগও প্রকাশ করেছিল। আমরা নতুন করে এদেশের মানুষকে মনে করিয়ে দিতে চাইবো, মাওবাদী নেতা আজাদকেও ভুযো সংঘর্ষে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছিল, সেই সময় এ বিষয়ে চলা একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট তাদের পর্যবেক্ষণে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিল, সশস্ত্র রাষ্ট্রবিরোধী আন্দোলোন করছেন যাঁরা তাঁরাও প্রজাতন্ত্রের সন্তান, বিনা বিচারে কোন সন্তানের রক্তেই প্রজাতন্ত্র হাত রাঙাতে পারে না। তাই ওরা মাওবাদী, ওরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তাই ওদের গুলি করে হত্যা করায় কোন অন্যায় নেই বলে যারা মত দিচ্ছেন, তাঁরা ভারতের সংবিধান বিরোধী, প্রজাতন্ত্রের নীতি বিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন, তাতে কোন সন্দেহ নেই। ৩৯জন মানুষ যাঁদের কাছে নিছক কোন সংখ্যা নয়, যাঁরা গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারে বিশ্বাস রাখেন, তাঁরা প্রশ্ন তুলুন তবে কি প্রজাতন্ত্রও তার সন্তানের রক্তে হাত রাঙাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল? নিজের তৈরি প্রতিশ্রুতি প্রজাতন্ত্র নিজেই ভুলে যেতে চাইছে, নিজের সাংবিধানিক রীতি নীতিকে নিজেই লঙ্ঘন করতে উদগ্রীব হয়ে যদি না হয় তা হলে এই ৩৯জন মানুষের হত্যার তদন্ত হোক। সংঘর্ষ হয়েছিল কিনা, হলেও এতগুলো মানুষের হত্যা এড়ান যেত কি না তা নিয়ে তদন্তের দরকার আছে, সেনা বা প্রশাসনের যুক্তিতে যে অনেক ফাঁক তা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট থেকেই পরিষ্কার, প্রাথমিক ভাবে রাষ্ট্রীয় মদতে ৩৯জনকে খুন করা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। ৩৯জনই সরাসরি মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত কিনা তা নিয়েও সংশয় আছে, তারও তদন্ত দরকার। প্রজাতন্ত্র বা রাষ্ট্রের স্বার্থেই এই হত্যার কারণ সামনে আসা দরকার। অনেকেই প্রশ্ন করবেন মাওবাদীরা যখন নির্বিচারে পুলিস মারে তখনতো তার প্রতিবাদ করেন না মানবাধিকার কর্মী বা মাও সমর্থকরা ? আসলে আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের রুখতে তারা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় বলে দাবি করে মাওবাদীরা। তাদের এই যুক্তি অনেকেই সঠিক বলে মনে করেন না। রাষ্ট্র তো নয়ই। তবে রাষ্ট্রের হাতে রয়েছে আইন আদালত, জেলখানা, সেনাবাহিনী, সর্বপরি সংবিধান। তাই রাষ্ট্রের সাজে না ভুয়ো সংঘর্ষে নাগরিকদের হত্যা করা।  এই নির্বিচার হত্যাকে যদি প্রজাতন্ত্র মেনে নেয় তাহলে পরিষ্কার হয়ে যাবে, প্রজাতন্ত্রের মুখোশের আড়ালে এই ব্যবস্থাপনা আসলে সশস্ত্র খুনিদেরই একটি আলাদা সংগঠন। তাই প্রজাতন্ত্রকেই তার নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে মান্যতা দিতে এগিয়ে আসতে হবে, ৩৭জন মানুষকে হত্যার কৈফিয়ত প্রজাতন্ত্রকে দিতেই হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে সম্মান জানাতে হবে। এই হত্যাকান্ডের পরও শহুরে নাগরিক সমাজের  নির্লিপ্ততায় লজ্জা হচ্ছে আমাদের। তবে কি এই মৃত্যু উপত্যকাই আমাদের দেশ হয়ে উঠল!

উল্লেখ্য যে, মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলিতে দুটি পৃথক ঘটনায় কাসানসুর এলাকায় পুলিসের গুলিতে নিহত  মাওবাদীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৯। ndtv এর রিপোর্ট অনুযায়ী রবিবারের ‘সংঘর্ষে’র পর বুধবার আরো দুটি দেহ ভাসতে দেখা যায় নদীতে।  এর আগে দ্য হিন্দ্যুর রিপোর্ট অনুযায়ী সোমবার আরো ১৫জন মাওবাদীর দেহ ভাসতে দেখা যায় ইন্দ্রাবতী নদীতে। পুলিস দাবি করেছিল রবিবার তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে অন্তত ১৬জন মাওবাদী। রবিবারই ১৬জন মাওবাদীর দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিস। অন্যএকটি ঘটনায় সোমবার( ২৩ এপ্রিল) গড়চিরোলির জিমালগাট্টায় নিরাপত্তারক্ষীর গুলিতে নিহত হন ৪ মহিলা সহ ৬জন মাওবাদী। পুলিসের দাবি এটিও সংঘর্ষই ছিল।

  রবিবার সকাল ৯ টা নাগাদ হওয়া ‘সংঘর্ষে’ নিহতের মধ্যে রয়েছেন মাওবাদীদের ২জন ডিভিশনাল কমিটিরও সদস্যও। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী নাগপুর থেকে ৩৫০ কিমি দূর ছত্তিশগড় মহরাষ্ট্র সীমানার এক গ্রামে C 60 ও CRPF এর যৌথ বাহিনী এই অভিযান চালায়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অুনযায়ী মাওবাদীরা তখন সকালের জলখাবার খাচ্ছিলেন। সেই সময় চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলে পুলিস ও আধা সামরিক বাহিনীর লোকজন। যদিও পুলিসের দাবি আত্মসমপর্ণ করতে বলার পরও মাওবাদীরা গুলি চালায় পাল্টা গুলিতেই নাকি নিহত হয়েছেন ১৬জন মাওবাদী। মাওবাদী ও আধাসামরিক বাহিনীর সংঘর্ষ এদেশে নতুন নয়। কিন্তু এত বড়  ‘সংঘর্ষে’ পুলিস বা আধাসামরিক বাহিনীর একজনের আহত হওয়ার রিপোর্ট না থাকায় প্রশ্ন উঠছে ঘটনাটি ভুয়ো সংঘর্ষের নয় তো?  মাও নেতা আজাদের নিহত হওয়ার জেরে হওয়া মামলায় ২০১১ সালে  সুপ্রিম কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল দেশের সন্তানদের(মাওবাদীরাও ) হত্যা করার অধিকার প্রজাতন্ত্রের নেই। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই পর্যবেক্ষণের কি কোন অর্থ আছে সরকারের কাছে?

সূত্রঃ satdin.in