চারু মজুমদারের রচনা সংকলন: জনৈক কমরেডের গ্রেপ্তার প্রসংগে

500x350_0718bd934ac49f1e112b30cd4cfd4285_charu_majumder

জনৈক কমরেডের গ্রেপ্তার প্রসংগে

(দেশব্রতী’র সম্পাদক মন্ডলীর কাছে লেখা চিঠি)

প্রিয় কমরেড,

‘ষ্টেটসম্যান’-এর রিপোর্টে আমি নিজেই এত ব্যথিত (shocked) হয়েছিলাম যে আপনাদের কথা মনে করতে পারিনি। কোনো কমরেড কি আর একজন কমরেড সম্পর্কে এমন কথা বলতে পারে? দুটো কথা আমি বলেছিলাম দুটো প্রসঙ্গে (content এ) এবং সে দুটো মিলিয়ে এ রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে।

প্রথম কথা আমি বলেছিলাম, “ধরা পড়ায় আমি দুঃখিত।” আর একটা কথা বলেছিলাম, “…………..তো বেঁচে আছে, লড়াইয়ের মধ্যে সে তো মারা যেতেও পারতো। কাজেই সে যখন বেঁচে আছে, তখন আজ হোক কাল হোক সে আবার বিপ্লবী সংগ্রামে যোগ দিতে পারবে এবং এই সরকারের পক্ষে ওকে চিরকাল বন্দী করে রাখা সম্ভব হবে না। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে এবং সংকটের মুখে মুক্তি ওদের দিতেই হবে।” এ দুটো কথাকে কাগজে ওভাবে লিখেছে, সুতরাং কমরেডরা যে সমালোচনা আমার করেছেন তা অত্যন্ত ন্যায়সংগত। কোনো কমিউনিস্টের মুখে এরকম কথা বেরোলে সেটা নিন্দারই যোগ্য। ‘আনন্দবাজার’ ও ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র রিপোর্টারকে আমি বলেছিলাম, “কৃষকের আন্দোলন কোন একজন ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল নয়। ব্যক্তির মূল্য আছে নিশ্চয়ই, কিন্তু সেটা নিয়ামক নয়।” ওরা প্রশ্ন করেন, “আন্দোলন কি পিছিয়ে যাবে?” এর উত্তরে আমি বলেছিলাম, “এই গ্রেপ্তারের ফলে কিছু বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে এবং সেটা একটা প্রক্রিয়া (Process)-র অঙ্গ। তার ফলে কৃষকের সংগ্রাম বড় জোর একমাস কি দুমাস পিছিয়ে যেতে পারে।” এটাকেই ওরা “নভেম্বরে না হয় ডিসেম্বরে হবে” বলে লিখেছে।

লাল সেলাম – চারু মজুমদার

দেশব্রতী, ২৮ শে নভেম্বর, ১৯৬৮

Advertisements

মাওবাদীদের ‘পেন গান’ উদ্ভাবন, ধারণা ভারতীয় পুলিশের

maoist-pen-gun

ভারতের মাওবাদী বিদ্রোহীদের হাতে নয় থেকে ১০ মিটার রেঞ্জের একটি বিশেষ অস্ত্র রয়েছে, যাকে ‘পেন গান’ বলে উল্লেখ করেছে ndtv। বিশেষ এই বন্দুকটি মাওবাদীদের কারিগরি দলই উদ্ভাবন করেছে বলে সন্দেহ দেশটির পুলিশের।

বৃহস্পতিবারের ওই লড়াইয়ে চার নারী বিদ্রোহীসহ আট মাওবাদী বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।  

ওই দিন বন্দুক লড়াইয়ের পর রাজ্যটির বিজাপুর ও দান্তেওয়াদা জেলার সীমান্ত সংলগ্ন টিমিনার ও পুষনার গ্রামে তল্লাশি অভিযান চালায় জেলা রিজার্ভ গার্ড ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের যৌথ বাহিনী। সেখানে তল্লাশিকালে অন্যান্য অস্ত্রের সঙ্গে ওই অদ্ভুত দর্শন যন্ত্রটি খুঁজে পায় তারা।

দান্তেওয়াদা জেলা পুলিশ সুপার কামালোচন কশ্যপ বলেছেন, “একটি পেন গানসহ সাতটি অস্ত্র খুঁজে পেয়েছি আমরা। পেন গানটি নকশালীদের স্থানীয় কারিগরি দল তৈরি করেছে। পেন গানটিতে নাইন এমএম বুলেট ব্যবহার করে তারা, যেটি তৈরিতে ছোট পাইপ ও ট্রিগার হিসেবে পিন ব্যবহার করা হয়েছে।”

পেন গানটির রেঞ্জ নয় থেকে ১০ মিটার।

বন্দুক লড়াই চলার সময় নারী মাওবাদী কমান্ডার জাইনি আহত হওয়ার পর নিজের ইনসাস রাইফেল ফেলে দিয়ে এটি দিয়ে দুটি গুলি করেছে বলে দাবি পুলিশের। জাইনি স্থানীয় ভাইরামগাড এলাকার এরিয়া কমান্ডার।

অস্ত্রটি সম্পর্কে জ্ঞাত এমন কয়েকজন এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, মাওবাদীদের ছোট ছোট দল পেন গান অস্ত্রটি ব্যবহার করে, যেটি কোনো সন্দেহের উদ্রেক না করেই সহজে বহন করা যায়। জরুরি পরিস্থিতিতে মাওবাদী ক্যাডাররা তাদের মূল অস্ত্র হারিয়ে ফেললে এই পেন গান ব্যবহার করে থাকে বলে জানিয়েছেন তারা।

গোপন সংবাদের সূত্র ধরে বিজাপুর ও দান্তেওয়াদা জেলার সীমান্ত এলাকায় অভিযান শুরু করেছিল যৌথ বাহিনী। যৌথ বাহিনীর সঙ্গে দুই ঘন্টা ধরে বন্দুক লড়াইয়ের পর সেখানে অবস্থান নেওয়া চার নারী যোদ্ধাসহ আট মাওবাদী বিদ্রোহীর সবাই নিহত হন।