হিদমাঃ ছত্তিসগড়ের ‘রবিনহুড’

image (1)

হিদমাই এখন ছত্তীসগঢ়ের জঙ্গলে পুলিশের কাছে ত্রাস, আদিবাসীদের কাছে ‘রবিনহুড’। যার হাতে সব সময় থাকে ‘একে-৪৭’ রাইফেল। শোনা যায়, ঘুমোনোর সময় হিদমার একটা হাতে ধরা থাকে কালাশনিকভ।

পুলিশ আর নিরাপত্তা বাহিনী মাওবাদী হিদমাকে তন্নতন্ন খুঁজছে গত ৫/৬ বছর ধরে। কিন্তু হিদমা এখনও পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গিয়েছেন।

হিদমার ‘একশো একটা’ ছবি রয়েছে ছত্তীসগঢ়ের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে। কিন্তু তার মধ্যে কোনটা হিদমার আদত ছবি, এখনও তা জানা সম্ভব হয়নি। সুকমার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের জেরা করে পুলিশ কানাঘুষো যেটুকু শুনেছে, তাতে মাওবাদী হিদমা বেশ বেঁটেখাটো, অনেকটা মাও জে দঙের মতোই। তবে চেহারায় বেশ খানিকটা রোগাই। তাঁর জন্ম সম্ভবত সুকমার জাগরগুন্ডা এলাকায়। বয়সটা ৫১-র আশপাশে।

গোটা বস্তার জেলায় মাওবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এই হিদমাই। সুকমা, বস্তারে আরও একটি নামে হিদমাকে চেনে লোকজন। ‘দেবা’। তবে কবে তাঁর হাতে বন্দুক উঠল আর কবে তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা শুরু করলেন, এখনও পর্যন্ত তার কিছুই ছত্তীসগঢ়ের পুলিশের জানা নেই। এও জানা যায়নি, স্ত্রী ছাড়া হিদমার পরিবারে আর কে কে আছেন, তাঁরা কোথায় থাকেন।

ছত্তীসগঢ়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা হলেই হিদমার নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়।

এই হিদমার নাম প্রথম জোরালো ভাবে ছত্তীসগঢ় পুলিশের কানে আসে আজ থেকে ৫ বছর আগে, ২০১৩-য়। ওই সময় মাওবাদীদের আক্রমণে ঝিরাম উপত্যকায় নিহত হয় ২৭ জন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তদানীন্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্ল, প্রদেশ কংগ্রেসের তদানীন্তন সভাপতি নন্দকুমার পটেল, তাঁর ছেলে দীনেশ, প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা মহেন্দ্র কর্মা ও ছত্তীসগঢ়ের তদানীন্তন বিধায়ক উদয় মুদালিয়র। গত বছরের এপ্রিলে বারকাপালে মাওবাদীদের সঙ্গে গুলিযুদ্ধে সিআরপিএফের ২৪ জন জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনাতেও হিদমা জড়িত ছিলেন বলে ছত্তীসগঢ় পুলিশের একাংশের ধারণা।

পুলিশ শুধু এইটুকুই জানতে পেরেছে, সুকমার জাগরগুন্ডা এলাকায় জন্ম হিদমার। একটি আদিবাসী পরিবারে। হিদমা এখন মাওবাদী সংগঠন পিপলস লিবারেশন-এর ‘গেরিলা সেনাবাহিনী’র এক নম্বর ব্যাটেলিয়নের প্রধান নেতৃত্ব। আর মাওবাদীদের ‘সাউথ সাব-জোনাল কমান্ডে’র প্রধান। সংগঠনের ক্যাডারদের কাছে হিদমা এখন কার্যত ‘হিরো’।

হিদমাকে সব সময় ঘিরে রাখে তাঁর খুব বিশ্বস্ত লোকজনের চার-চারটি ‘বলয়’। সুকমা, বস্তারের যেখানেই যান হিদমা, তাঁর সঙ্গে যায় ওই চারটি ‘বলয়’। পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হলে বাইরের ‘বলয়’-এর অনেকের মৃত্যু হয়। কিন্তু হিদমা’র বলয়টি অক্ষত থাকে। নেতৃত্বকে রক্ষা করতে এটাই গেরিলা যুদ্ধের রণকৌশল।

সূত্রঃ https://www.anandabazar.com/national/who-is-hidma-why-he-is-most-wanted-dgtl-1.865247

Advertisements

‘জেএনইউ’ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সম্মিলিত বাম মোর্চা’র বিপুল জয়

WhatsApp_Image_2018-09-16_at_14.11.04

টানটান লড়াইয়ের অবসান। দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। চারটি শীর্ষ আসনই তাঁদের দখলে গিয়েছে। ফলাফলে কার্যত একচ্ছত্র প্রভাব দেখিয়েছে চার বাম সংগঠন এসএফআই, আইসা, ডিএসএফ ও এআইএসএফ৷

জেএনইউতে বাম ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে বিজেপির ছাত্র সংগঠন বার বার প্রশ্ন তুলেছে, বার বার বলতে চেযেছে ক্ষমতাসীন বাম ছাত্র সংগঠন এ দেশের জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় বিশ্বাস রাখে না। জেএনইউর ছাত্র নেতাদের পুলিশ দিয়ে হেনস্তার অভিযোগও একাধিক বার উঠেছে। সেদিক থেকে এবার জেএনইউর ছাত্র সংসদের নির্বাচন ঘিরে টান টান উত্তেজনা ছিল সম্মিলিত বাম মোর্চা ও বিজেপির ছাত্র সংগঠন এভিবিপির মধ্যে।তবে শনিবার বিকেলের পরেই পরিষ্কার হয়ে যায় এবারও জেএনইউতে বাম ছাত্র সংগঠনের প্রাধান্যই বজায় থাকবে,এবং শেষ পর্যন্ত সভাপতি,সহ সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক ও সহকারী সম্পাদক সব কটি পদেই বাম প্রার্থীরা জয়ী হয়। এসএফআই,এআইএসএফ,আইসা ও ডিএসএফ যৌথভাবে প্রার্থী দেয়।বামেরা জয়ী হওয়ায় জেএনইউতে রবিবার সকাল থেকেই চলছে লাল আবিরেরে হোলি। তবে উত্সব মত্ততায় না ভেসে দেশের কঠিন সময়ে ছাত্রদের চেতনায় শান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা।খোদ দিল্লির বুকে বিজেপি ছাত্র সংগঠনের এই পরাজয় গেরুয়া বাহিনীর বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।

সূত্রঃ satdin.in


‘সাম্রাজ্যবাদী’ চীন দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষের শত্রুঃ সিপিআই(মাওবাদী)

Communist_Party_of_Bhutan_Flag.svg

‘সাম্রাজ্যবাদী’ চীনকে দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষের শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে ৭৬ পৃষ্ঠার দলিল প্রকাশ করেছে সিপিআই(মাওবাদী)।

দলিলে চিনকে ‘একটি নয়া সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি’ আখ্যা দিয়েছে সিপিআই(মাওবাদী)। ওই ৭৬ পৃষ্ঠার দলিলের শিরোনামে লেখা হয়েছে, চিন ‘বিশ্বের পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থারই অংশ’। ভারতের বুর্জোয়া ও এর দ্বারা প্রভাবিত রাজনৈতিক শিবিরের একটি বড় অংশ অবশ্য মনে করে, বিশ্বের বাণিজ্যে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে চিন মাও জে দঙের পথ ছেড়ে ঠিকই করেছে। এর ফলেই মার্কিন শক্তির চোখে চোখ রেখে কথা বলার মতো অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করতে পেরেছে তারা। তবু বামপন্থী আদর্শগত দৃষ্টিকোণ থেকে মাওবাদীদের চিন সম্পর্কিত মূল্যায়ন তাৎপর্যপূর্ণ বৈকি!

মাওবাদী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বিশ্লেষণের ফসল ওই দলিল তৈরি হয়েছে গত বছর, অর্থাৎ ২০১৭ সালে। ঘটনাচক্রে, যে বছর নকশালবাড়ি আন্দোলনের সুবর্ণ জয়ন্তী হয়েছে। তবে এত দিন তেলুগু ছাড়া অন্য কোনও ভাষায় তা প্রকাশ করা হয়নি। অতি সম্প্রতি নিজেদের এই বিশ্লেষণ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছে সিপিআই (মাওবাদী)।

দলিলের মুখবন্ধে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটি জানিয়েছে, ‘সাম্রাজ্যবাদী’ চিন দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষের শত্রু। বলা হয়েছে, বিশ্ব জুড়ে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের লক্ষ্যে যারা লড়ছে, সেই মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী এবং মাওবাদী দলগুলির যুদ্ধের নিশানা হবে এই চিন। মাওবাদীদের মতে, ‘সাম্রাজ্যবাদী’ চিন  পিছিয়ে পড়া এবং অন্যান্য দেশে যুদ্ধাস্ত্র ও পুঁজি রফতানি এবং অসম বাণিজ্য চাপিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সেই দেশগুলির প্রাকৃতিক সম্পদকে গ্রাস করছে। ওই সব দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও নাক গলাচ্ছে তারা। এমনকি, ওই সব দেশে সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত সুযোগেরও অপেক্ষা করছে। বস্তুত, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে চিন।

বস্তুত, চিনকে আর সমাজতান্ত্রিক বলা যায় কি না, তা নিয়ে সিপিএম-সহ ভারতের সব কমিউনিস্ট দলগুলির মধ্যেই বিতর্ক আছে। তবে সিপিএমের ঘোষিত মতে এখনও চিন সমাজতান্ত্রিকই। চিনা কমিউনিস্ট পার্টি অবশ্য তাদের দেশকে ‘চৈনিক বৈশিষ্ট্য সমেত সমাজতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়েছে। কিন্তু মাওবাদী তাত্ত্বিকেরা ওই অভিধা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেছেন তাঁদের দলিলে।