গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের প্রতি মাওবাদীদের বার্তা

gorkha-protests

পাহাড়ের আন্দোলনকারীদের বিভক্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জোটবদ্ধ হওয়ার ডাকের পাশাপাশি ‘সত্যিকারের শত্রু’কে চিহ্নিত করা এবং সঠিক বন্ধুদের সঙ্গে হাত মেলানোর কথা জানিয়েছে মাওবাদীরা। দলের ইস্টার্ন রিজিওনাল ব্যুরোর শীর্ষনেতা কিসানদা ওরফে প্রশান্ত বসুর বিবৃতিতে মাওবাদীরা তাদের পরবর্তী পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এ কথাই উল্লেখ করেছে। ২০১৭-র জুন মাসে পাহাড় জুড়ে বিমল গুরুংদের গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন শুরুর পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এই আন্দোলনে মাওবাদীদের মদত রয়েছে। যদিও পাহাড়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতারা তা মানতে চাননি। বর্তমানে বিমল গুরুংদের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে আসা জিজেএমের নেতা বিনয় তামাং দাবি করেছিলেন, তাঁদের আন্দোলনে মাওবাদীরা নেই। এটা স্বতঃস্ফূর্ত গণ-আন্দোলন। এ সব বিতর্ক চলতে থাকলেও পাহাড়ের টানা বনধ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের একটি নির্দেশের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের তরফে আগেই দাবি করা হয়েছিল, বাইরে থেকে মাওবাদীরা এসে পাহাড়ে ঘাঁটি তৈরি করেছে। তারা এই আন্দোলনে মদত দিচ্ছে। ঠিক এর পরেই পাহাড়ে চকবাজারের কাছে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। যার প্রেক্ষিতে মোর্চা নেতা বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের রিপোর্ট বলছে, ২০০৮ সালেই মাওবাদীদের ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশন গণপ্রতিরোধ মঞ্চের তিন সদস্য রাজা সরখেল, প্রসূন চট্টোপাধ্যায় এবং গৌর চক্রবর্তী পাহাড়ে গিয়ে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। অন্য দিকে, ২০০৯-এর ফেব্রুয়ারি মাসে লালগড়ের খাসজঙ্গলে সিপিএম কর্মীদের গুলিতে তিন আদিবাসীর হত্যার প্রতিবাদে পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটি যে বিক্ষোভ সভার ডাক দেয়, সেখানে রোশন গিরি, বিনয় তামাংরা হাজির হয়েছিলেন। কিসানদা ঝাড়খণ্ড থেকে পাঠানো তাঁর বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আলাদা রাজ্যের দাবি, নাগরিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং বাংলা ভাষা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বহু বছর আগে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন শুরু হয়। কিন্তু সুবাস ঘিসিংয়ের বিশ্বাসঘাতকতায় এই আন্দোলন তার লক্ষ্য থেকে সরে যায়। তবু পাহাড়ের সাধারণ মানুষের কথা ভেবে আমরা এই আন্দোলনের প্রতি আমাদের সহানুভূতি এবং সমর্থন এখনও জারি রেখেছি। ওখানকার বাসিন্দাদের সব কিছু সহ্য করেই পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মুক্তি না পেলে কোনও আন্দোলন সম্পূর্ণ হয় না। পাহাড়ের আন্দোলনকারীদের প্রতি বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের শোষণ-নিপীড়নে ইতি টানতে সেনাবাহিনীকে নির্মূল করা জরুরি। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে সশস্ত্র সংগ্রামের রাস্তা থেকে সরে আসা যাবে না। এ জন্য প্রথমে গ্রাম, তার পর শহরের দিকে এগোতে হবে। গোর্খল্যান্ড নিয়ে মাওবাদীদের সমর্থন নতুন কোনও বিষয় নয়। কিন্তু দার্জিলিং নিয়ে আচমকা প্রশান্ত বসুর এই বিবৃতি চিন্তায় ফেলেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। কারণ, প্রায় বছরখানেক আগে বিমল শিবির থেকে বেরিয়ে এসে বিনয় তামাং দলের নতুন নেতা হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। এমনকি তিনি জিটিএ-র দায়িত্ব নিয়েছেন। ইউএপিএ-সহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বিমল গুরুং আত্মগোপন করে রয়েছেন। পাহাড়ের এই আপাত ঠান্ডা বাতাবরণেই মাওবাদীদের বিবৃতি নতুন করে ভাবাচ্ছে গোয়েন্দাদের।

সূত্রঃ https://eisamay.indiatimes.com/west-bengal-news/kolkata-news/the-maoists-call-back-the-cold-hills-again/articleshow/65876490.cms

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.