অক্টোবর বিপ্লব ও সোভিয়েত চলচ্চিত্রঃ জহির রায়হান

রুশ বিপ্লবের পঞ্চাশতম বার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত ‘তরঙ্গ’ পত্রিকায় জহির রায়হান-এর লেখা ‘অক্টোবর বিপ্লব ও সোভিয়েত চলচ্চিত্র’ লেখাটি প্রকাশিত হয়। এ বছর রুশ বিপ্লবের শততম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘লাল সংবাদ’ এ লেখাটি পুনঃপ্রকাশিত হল:

আধুনিক সভ্যতার সবচেয়ে স্মরণীয় অবদান হচ্ছে দুটো।

একটি সিনেমার জন্ম।

অপরটি সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্ম।

দুটোই বিপ্লব।

একটা চারুকলার ক্ষেত্রে।

অন্যটা সমাজ ব্যবস্থা ক্ষেত্রে।

সিনেমা মানুষের স্বষ্টি ক্ষমতাকে প্রকাশের এবং বিকাশের এক নতুন মাধ্যমের সন্ধান দিয়েছে, যার শক্তি অপরিসীম।

সিনেমা হলো কবিতা।

সিনেমা হলো উপন্যাস।

সিনেমা হলো সংগীত।

সিনেমা হলো পেইন্টিং।

সিনেমা হলো নাটক।

সিনেমা হলো বিজ্ঞান।

সিনেমা হচ্ছে সবকিছুর সমষ্টি। এ এক যৌথকলা। অথচ কোন একটির একক অস্তিত্ব এখানে নেই। সবকিছুকে ভেঙেচুরে, সবকিছুর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক বৈজ্ঞানিক শিল্পকর্ম। অক্টোবর বিপ্লব এবং সোভিয়েত রাশিয়ার জন্ম মানুষের ইতিহাসে এক নতুন সমাজ ব্যবস্থা প্রবর্তন ঘটিয়েছে।

মানুষ, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও বৈষম্যের শেকল থেকে মুক্তি পেয়েছে। শোষণের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেয়েছে। মানুষ তার সত্যিকার মর্যাদা পেয়েছে এবং নিজের শক্তি সম্পর্কে সচেতন হয়েছে। ব্যক্তি ও সমষ্টির যৌথ প্রচেষ্টায় মানুষ এক বৈজ্ঞানিক সমাজ ব্যবস্থা গোড়াপত্তন করেছে এবং শ্রেণিহীন সমাজ গড়ে তোলার পথে এগিয়ে চলেছে।

অক্টোবর বিপ্লবের সঙ্গে সিনেমার জন্মের কোনো সম্পর্ক নেই। দুটোই পৃথক ঘটনা।

কিন্তু অক্টোবর বিপ্লব যদি না হতো, সোভিয়েত রাশিয়ার জন্ম যদি না হতো তাহলে সিনেমা চারুকলা (Fine art) হিসাবে আদৌ স্বীকৃতি পেতো কিনা সন্দেহ। শুধু তাই নয়, এই নতুন কলামাধ্যমটির মধ্যে যে এতবড় স্বষ্টিশক্তি লুকিয়ে আছে তাও হয়তো আমরা আবিষ্কার করতে পারতাম না।

কথাটার তাৎপর্য উপলব্ধি করতে হলে বুর্জোয়া সিনেমার স্বরূপটা একবার দেখা দরকার।

বুর্জোয়া সিনেমার এক এবং একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে মুনাফা। সিনামার আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে বুর্জোয়া শ্রেণি মানব সভ্যতার এই নতুন আবিষ্কারটিকে অর্থ উপার্জনের এক মোক্ষম হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে লাগলো। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জার্মানী ও ফ্রান্সের বুর্জোয়া শ্রেণি সিনেমার জন্ম মুহূর্তে তার স্বজনশীল সম্ভাবনার টুটি টিপে দিলো। সস্তা চিত্তবিনোদনকারী হাল্কা যৌন আবেদনময়, উগ্র অপরাধমূলক বিষয়বস্তুগুলোই প্রাধান্য পেলো বুর্জোয়া সিনেমার অঙ্গনে।

এ প্রসঙ্গে ম্যাক্সিম গোর্কীর একটা উক্তি মনে পড়লো।

লুমিয়ার ব্রাদার্স (ফরাসি) প্রযোজিত একটা ছবি দেখতে যান তিনি। সিনেমার সঙ্গে সেই তার প্রথম পরিচয়। সেটা ১৮৯৬ সাল। সিনেমা দেখে পরদিন গোর্কী একটা স্থানীয় সংবাদপত্রে লিখলেন–

Last night I was in the Kingdom of Shadows……………..I was at Aumont’s and swa Lumier’s Cinematograph_moving photography. The extraordinary impression it creates is so unique and complex that I doubt my ability to describe it with all its nuances………………I am convinced that these pictures will soon he replaced by others of a genre more suited to the general tone of the ‘Concert Parisian’. For example, they will show a Picture titled ‘As She undresses’ or ‘Madame at her Bath’ or ‘A woman in Stockings”.

বুর্জোয়া সমাজ ব্যবস্থায় আর্টের সহজ ও স্বাভাবিক বিকাশ সম্ভব নয়। ফিল্ম আর্টের পক্ষে এ উক্তি সবচেয়ে বেশি করে প্রযোজ্য। কারণ চলচ্চিত্র হচ্ছে একদিকে আর্ট অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রি, দুটোই। ছবি বানাতে হলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। যে সমস্ত পুঁজিপতি এতে টাকা খাটান তাঁরা প্রচুর মুনাফা পাবার আশায় টাকা খাটান। দর্জির দোকানে মানুষ যেমন অর্ডার দিয়ে তাদের জামা কাপড় তৈরি করে তেমনি পুঁজিপতিরা অর্ডার দিয়ে তাদের মর্জিমাফিক এবং তাদের শ্রেণি-স্বার্থ রক্ষাকারী ছবি তৈরি করেন। এ ধরনের সমাজ ব্যবস্থায় আর্ট-ছবি কি করে তৈরি হবে?

‘Art is the privilege of the free……………..art is a mode of freedom, and a class society conceives freedom to be absolutely whatever relative freedom the class has attained to’_ Christopher Caudwell.তবু অনেকে হয়তো বলবেন, অক্টোবর বিপ্লবের অনেক আগে, আমেরিকার বুর্জোয়া সমাজ ব্যবস্থার ভেতরে থেকে ডি ডব্লু গ্রিফীথ কি করে দু-দুটো আর্ট-ফিল্ম (Birth of Nation Ges Intolearance) তৈরি করলেন?

ও দুটো ছবি সত্যিকার আর্ট ফিল্মের মর্যাদা পাবার যোগ্য নয় বলেই আমার ধারণা।

এ সম্পর্কে John Howard Lawson Zvi Film, The Creative Process বইতে কি বলছেন শুনুন।

He [Griffith] felt that the fate of humanity is a factor in history……………He could not believe that humanity would ever control its own destiû. His philosophic views were colored by the vulgari“ation of Darwin’s theories current at the time…………..critics have praised the film’s technical brilliance and have deplored its reactionary treatment of the Negro struggle for freedom. Its advance technique and backward social content are often considered as fixed opposites’ এরজন্যে গ্রিফীথকে দায়ী করা অর্থহীন। বুর্জোয়া সমাজ ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত স্ববিরোধীতাই এর জন্যে দায়ী।

`In bourgeois art man is conscious of the necessity of outer reality but not of his own, because he is unconscious of the society that makes him what he is. He is only half a man’

_Christopher Caudwell ধনতন্ত্রের দেশ আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচালক ডি ডব্লু গ্রিফীথের অর্ধেক সত্য, অর্ধেক জীবন, অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক আর্ট তাই পরবর্তীকালে সমাজতন্ত্রের সন্তান, সোভিয়েত পরিচালক সার্জ্জি আইজেনস্টাইন, পুদোভকীন আর ডোভজেঙ্কোর হাতে এসে সম্পূর্ণ সত্য, সম্পূর্ণ জীবন, সম্পূর্ণ মানুষ ও সম্পূর্ণ আর্টের মর্যাদা পেয়েছে।

সোভিয়েত রাশিয়ার জন্ম ও তার ইতিহাস এবং সোভিয়েত সিনেমার জন্ম ও তার ইতিহাস এক ও অভিন্ন।

অক্টোবর বিপ্লবের প্রচণ্ড ঢেউ রাশিয়ার জনসাধারণের মধ্যে এক নতুন চেতনাবোধের জন্ম দিয়েছিলো। পুরাতনকে ভেঙেচুরে নতুনভাবে নতুন দর্শন ও নবলদ্ধ জীবন-বোধের আলোকে নতুন করে দেখার অদম্য বাসনা তখন সমার মনে। সাহিত্য, কবিতা, পেইন্টিং, সংগীত, নাটক এর একটা ট্র্যাডিশন আছে। অতীত আছে। এর কতটুকু গ্রহণ ও কতটুকু বর্জন করা প্রয়োজন এ নিয়ে তখনো দ্বিধা ও দ্বন্দ্বের অবকাশ রয়েছে। এদিক থেকে চলচ্চিত্র তখনো রাশিয়ানদের কাছে একটা সম্পূর্ণ নতুন মাধ্যম। যার কোন ট্র্যাডিশন কিম্বা দ্বন্দ্বমূলক অতীত নেই এবং যার শক্তি সমাজতন্ত্রের শক্তির মতই অফুরন্ত ও অপরিসীম। তাই সমাজ সচেতন এই নতুন মানুষগুলো সিনেমার প্রতি আকৃষ্ট হলো সবচেয়ে বেশি। এবং সোভিয়েত সিনেমার জন্ম হলো।

`Soviet Cinematography is the offspring of the October Revolution. It was born of the struggle and has drawn its content, beauty and purpose from the latter’s great historical significance. It took Lenin’s behest_Art belongs to the people_as a banner, as a guide to action’_Alexander Doveyhenko.

`The all powerful form of the October Revolution uprooted all of us from the most diverse activities and occupations, swept us away with its mighty stream and combining into one whole everything we had brought with us from various field of knowledge and activity, set us working at a great and collective endeavour_our Cinematography’.আইজেনস্টান ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার, পুদোভকীন ছিলেন কেমিস্ট, ভোডজেঙ্কো ছিলেন স্কুলশিক্ষক, জীগান ছিলেন অভিনেতা, কুলেশভ, কোজিনস্তভ, ইয়াকুতভীচ এঁরা ছিলেন পেইন্টার, আলোকজান্ডারভ ছিলেন একজন সিনেমা অপারেটর আর ভার্তব তখন ডকুমেন্টারি ছবি বানাতেন আর মায়াকোভস্কি ছিলেন একজন খ্যাতনামা কবি। সোভিয়েত সিনেমার জন্ম মুহূর্তে এরাই ছিলেন তার পুরোধা।

সোভিয়েত সিনেমার প্রথম ফসল হচ্ছে সাজ্জি আইজেনস্টাইনের STRIKE (১৯২৪) আদিক, প্রতীকের ব্যবহার এবং উপস্থাপনায় ছবিটি অভিনব। গ্রিফীথের Intolerance ছবিতেও ধর্মঘটের একটা দৃশ্য আছে। সে দৃশ্যটিকে তিনি দুজন প্রত্যক্ষদর্শীর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখিয়েছিলেন। কিন্তু আইজেনস্টইনের STRIKE এ ছবির প্রতিটি চরিত্র এমনকি ছবির দর্শকরাও সংঘাতের সঙ্গে একাত্ম্য হয়ে যান। তবে ছবিটা মাঝে মাঝে একটু থিয়েটার ঘেঁষা হয়ে পড়েছে। আইজেনস্টাইন নিজেই বলেছেন– `Our first film, Strike, floundered about in the flotsam of rank theatricality’.

আইজেনস্টাইনের পরবর্তী ছবি Battleship Potemkin চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় সৃষ্টি। সাহিত্যে যেমন টলস্টয়ের War and peace, কাব্যে যেমন মিল্টনের Paradise lost and paradise Regained, পেইন্টিংয়ে যেমন দা ভিঞ্চির Last Supper তেমনি চলচ্চিত্রে আইজেনষ্টাইনের Battleship Potemkin একটি ক্ল্যাসিক। একটি মহাকাব্য। অন্য মহাকাব্যগুলোর চেয়ে Battleship Potemkin আরো মহৎ, আরো শক্তিশালী। কারণ, অন্য মহাকাব্যগুলোতে নায়ক নিয়তির দাস। নিয়তি তাকে যেখানে নিয়ে যাচ্ছে সেখানেই যাচ্ছে সে। অসহায় শিশুর মত ঘুরে বেড়াচ্ছে নায়ক। কিন্তু এখানে নায়ক নিয়তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছে। নিয়তিকে নিজের হাতের মুঠোয় তুলে নিতে চাইছে। এখানে নায়ক হলো জীবন, নায়ক হলো মানুষ। এক নয় অনেক। অসংখ্য মানুষ। নায়ক হলো ইতিহাস।

মাত্র একটি ঘটনা, একটি সংঘাতের মাধ্যমে (সিনেমার ভাষায় যাকে বলা হয় Sequecne) একটি বিরাট ও ব্যাপক বিপ্লবী আন্দোলনকে (১৯০৫ সালের বিপ্লব) তার সমস্ত শক্তি, চেতনা, তাৎপর্য ও বিপর্যয়সহ জীবন্ত ভাষায় ব্যক্ত করা হয়েছে। অক্টোবর বিপ্লব যেমন সারা দুনিয়ার মেহনতি মানুষের মনে নতুন আশার জন্ম দিয়েছিলো তেমনি Battleship Potemkin পুঁজিবাদী দেশের সৎ ও সচেতন সিনেমা শিল্পীদের এক নতুন দিগন্তের সন্ধান দিয়েছিলো।

মাত্র একটি ঘটনা, একটি সংঘাতের মাধ্যমে (সিনেমার ভাষায় যাকে বলা হয় Sequecne) একটি বিরাট ও ব্যাপক বিপ্লবী আন্দোলনকে (১৯০৫ সালের বিপ্লব) তার সমস্ত শক্তি, চেতনা, তাৎপর্য ও বিপর্যয়সহ জীবন্ত ভাষায় ব্যক্ত করা হয়েছে। অক্টোবর বিপ্লব যেমন সারা দুনিয়ার মেহনতি মানুষের মনে নতুন আশার জন্ম দিয়েছিলো তেমনি Battleship Potemkin পুঁজিবাদী দেশের সৎ ও সচেতন সিনেমা শিল্পীদের এক নতুন দিগন্তের সন্ধান দিয়েছিলো। ১৯৫৮ সালে Brussels এ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে Battleship Potemkin কে The best film of all times and Peoples” এবং আইজেনষ্টাইনকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সোভিয়েত সিনামের ইতিহাসকে তিন অধ্যায়ে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথম অধ্যায় হলো ১৯১৭ থেকে ১৯৩০। দ্বিতীয় অধ্যায় হলো ১৯৩০ থেকে ১৯৪১। তৃতীয় অধ্যায় হলো ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৭। প্রথম অধ্যায়ে যে ক’জন কৃতী পরিচালককে আমরা পাই তারা হচ্ছেন, সার্জি আইজেনষ্টাইন (Battleship Potemkin, October, Strike) ভি পুদোভকীন (Mother, The end of St petersburgh, Descendants of Chingis khan) আলেকজান্ডার ডোভজেঙ্কো (Arsenal, Earth) জীগা ভার্তব (Enthusiasm)। একই মতবাদের অনুসারী হলেও এঁদের প্রত্যেকের কাজের পদ্ধতি ছিলো ভিন্ন। প্রত্যেকেই নিজস্ব এক একটা ধারার সৃষ্টি করে গেছেন। এদের প্রত্যেকটি ধারার প্রভাব আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রে এখনো সুস্পষ্টভাবে দেখতে পাই। আইজেনষ্টাইন ছিলেন আঙ্গিক প্রধান। পুদোভকীন বিষয়বস্তু ও আঙ্গিক দুটোর প্রতিই সমান জোর দিয়েছেন। ডোভজেঙ্কো হলেন গীতিধর্মী। আর ভার্তব চূড়ান্ত বাস্তবতায় বিশ্বাসী। এদের প্রত্যেকেই মহৎ চিত্র সৃষ্টি করে গেছেন। জীগা ভার্তবের Enthusiasm সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বিখ্যাত চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন বলেছেন– `Never had I known that these mechanical sounds could be arranged to seem so beautiful. I regard it as one of the most exhilarating symphonies I have heard.’ দ্বিতীয় অধ্যায় হলো সমাজতান্ত্রিক গঠনের অধ্যায়। সারাদেশ তখন গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত। দেশের তরুণরা তখন রাশিয়ার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে, নতুন নতুন কল কারখানা, বাঁধ ও শহর তৈরির কাজে। তাই, প্রথম অধ্যায়ের ছবিগুলোতে যেমন বিপ্লব ও প্রতিবিপ্লবীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের বিষয়বস্তু সবচেয়ে বেশি তেমনি, দ্বিতীয় অধ্যায়ের ছবিগুলোতে এই গঠনমূলক কাজের বিষয়বস্তুগুলো প্রাধান্য পেলো। এ অধ্যায়ের ছবিগুলোর আরেকটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে চূড়ান্ত বাস্তবতা। `Counter Plan` `The Road to life`, `Golden Hills’, `Alone’ সেলুলয়েডে ধরে রাখা কয়েকটি বাস্তব জীবন দলিল। সার্জ্জি জেরাসীমভের “We are from Kronsdat”, ভ্যাসিলি ব্রাদার্স এর “Chapayev”, মার্ক ডনস্কয়ের “Gorï trilogy”, ভ্লাদিমির প্যাট্রভের “The storm”, মিখাইল বুমের “The dream”, ইয়ুদি রাজিমেন ও আইওনিফ হাইফিটের “Baltic Deputy”, ছবিগুলোতে বিষয়বস্তু ও আঙ্গিকের সমতা রক্ষা করা হয়েছে অতি সুন্দরভাবে। এতে বাস্তবতার আবেদন আরো বেড়েছে। মাঝে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় সোভিয়েত সিনেমা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সোভিয়েত শিল্পী ও কলাকুশলীরা তখন স্টুডিওর চত্বর ছেড়ে মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্যে সীমান্তে ছুটে যান। ক্যামেরা ছেড়ে রাইফেল তুলে নেন হাতে। তৃতীয় অধ্যায়ের প্রথম দিকের বছরগুলো হচ্ছে যুদ্ধোত্তর পূনর্গঠনের দিন। ফ্যাসিস্ট বর্বরতার ফলে সোভিয়েত সমজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে সমৃদ্ধিশালী অঞ্চল তখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের বীভৎসতা প্রতিটি নাগরিকের মনে যুদ্ধের প্রতি ঘৃণার জন্ম দিয়েছে এবং সঙ্গে সঙ্গে সমাজতন্ত্রের শক্তির প্রতি তাদের প্রত্যয় ও বিশ্বাসকে আরো সুদৃঢ় করেছে। এই পারিপার্শ্বিক ও মানসিক অবস্থার মধ্যে সোভিয়েত সিনেমা নতুনভাবে যাত্রা শুরু করলো। আর যুদ্ধ নয়। আর ধ্বংস নয়। “Maû artists are today turing to the subject of the last war. That is quite understandable. We cannot forget toe war, just as we can’t stop thinking that the next one will be far more terrible……” Mikhail Romm Soviet film Director. “A war brings people together in irreconcilable conflicts, compels them to consider anwe the meaning of their life, of their relations with others. Their conceptions of the world is shattered rudely……my films are all connected with war to on degree or another.” Igor Talankin Soviet Film Director. যুদ্ধের ধ্বংসলীলা, ফ্যাসিজমের বর্বরতা, সমাজতান্ত্রিক মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্যে শত শত তরুণের জীবন বিসর্জ্জন, যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবনে বিপর্যয় এবং সেই বিপর্যয়কে প্রতিরোধ করে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলা–উপরোক্ত বিষয়বস্তু নিয়ে একের পর এক ছবি তৈরি হতে লাগলো। “The cranes are fliing”, “The house I live in”, A ManÕs Destiû”, “Ballad of a soldier”, “Ivan’s Childhood”, “Story of the flaming years”, “Ordinary Fascism.” প্রত্যেকটি ছবি বিষয়বস্তুর উপস্থাপনায়, সম্পাদনার ব্যঞ্জনায়, ক্যামেরার গীতিধর্মী গতিময়তায়, শিল্পীর নিপুন অভিব্যক্তিতে এবং সিনেমার সর্বাধুনিক কুশলতার প্রয়োগে এক অপূর্ব রসের সৃষ্টি করেছে। যে রস দর্শকের অন্তরের অন্তঃস্থলে এক দীর্ঘস্থায়ী আবেদনের সৃষ্টি করে। যখন দর্শক স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে- “Those remarkable works of the cinema art ÒBallad of a soldierÓ, and ÒThe cranes are flyingÓ— strengthens still more my deep faith on Socialism, in its genuinely inexhaustible possibilities for creativity.” -Dean Reed, Famous American Actor and Singer ‘An amaying film called Òordinary Fascism’ is on at the Urainai Cinema in Viena. A must for every democrat, it is a film that enables us to understand why bombs explode- whether in the centre of viena or in North Vietnam.’ -‘Volksstimme’, Austria, September, ৩, ১৯৬৬ শুধু যে যুদ্ধের বিষয়বস্তু নিয়ে ছবি তৈরি হচ্ছে না নয়। সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক “(“The two”, ‘The journalist’, ‘I am twenty’, ‘A long and happy life’, ‘Clear skies’, ‘The Communists’) খ্যাতনামা দেশি বিদেশি লেখকের চিরন্তন সাহিত্য কীর্তি। (‘Hamlet’, ‘War and Peace’, ‘The lady with the dog’, ‘Anna Krennina’) প্রভৃতি বিষয় নিয়েও সার্থক ছবি তৈরি হচ্ছে। সোভিয়েত চিত্র পরিচালক গ্রিগরী কোজিনৎস্তব তাঁর Hamlet ছবিতে শেক্সপিয়ারকে নবজন্ম দিয়েছেন। এখানে হ্যামলেট নিপীড়িত মানবাত্মার প্রতীক। এখানে হ্যামলেট চিরন্তন সত্যের প্রতীক। সার্জ্জি বন্দুরাকের War and Peace সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ফরাসি পত্রিকা Le Figaro লিখেছে- ‘Go to see `War and Peace’; it is, of course, one of the most splendid works of art, one of the most thrilling and memorable films ever made.’ (Le Figaro, Nov, 26-27, 1966, Louis Chamvet) সোভিয়েত সিনেমা সম্পর্কে কিছু দর্শক ও সমালোচকের কাছ থেকে অনুযোগ শোনা যায় যে- সোভিয়েত ছায়াছবিগুলো নাকি প্রচারধর্মী হয় এবং এতে বড় বেশি বক্তৃতাবাজী থাকে। বাইরে থেকে দেখতে গেলে তা মনে হওয়া স্বাভাবিক। সোভিয়েত সিনেমাকে বুঝতে হলে, সোভিয়েত সিনেমার রস পরিপূর্ণভাবে আস্বাদন করতে হলে সোভিয়েত সমাজ ব্যবস্থা, সমাজতান্ত্রিক সমাজে মানুষের ধ্যানধারণা, ব্যক্তি ও সমষ্টির সম্পর্ক, সেখানকার মানুষের বিভিন্ন মানসিকতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন। উপনেবেশিক, আধাউপনেবেশিক, সামন্ততান্ত্রিক, আধাসামন্ততান্ত্রিক অর্থবা বুর্জোয়া সমাজে বাস করে সমাজতান্ত্রিক সমাজের মানুষের জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সঠিক মূল্যায়ন সম্ভবপর নয়। আমরা ছবি তৈরি করি মুনাফার জন্য। আমরা ছবি দেখি চিত্ত বিনোদনের প্রয়োজনে। সোভিয়েত পরিচালক ছবি বানান জীবনের অন্তরঙ্গ রূপকে সেলুলয়েডে ধরে রাখার অভিপ্রায়ে। সে জীবন James Bond মার্কা “০০৭” নয়। সে জীবন যৌবনা নারীর বিকার নয়- “Darling”, সে জীবন সামাজিক কলুষতায় বিধ্বস্ত নয়- “Apartment”. সে জীবন “সবার উপরে মানুষ সত্য” এই নীতিতে বিশ্বাসী। মানুষের কল্যাণ, মানবজাতির কল্যাণ হচ্ছে এই সদা সচেতন মানুষগুলোর সৃষ্টির লক্ষ্যে- …..‘We tell the world that man is born for happiness and that it is the striving for goodness, justice and creative labour that must triumph in society, not base instincts. We tell the world that man has no right to wrap himself up in a concoon of personal interests and concerns, but must realise his responsibility for everything that happens around him.’ -Lev Kulijanov President of the Union of Film makers of the U.S.S.R. q

 

 

 


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: সোভিয়েত বোমারু বিমানের এক নারী পাইলটের রণাঙ্গনের অভিজ্ঞতা

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত বিমান বাহিনীতে বোমারু বিমানের এক নারী পাইলট ছিলেন ইয়েলেনা মালুচিনা। তিনি এবং তার কমরেডরা তখন ছিলেন বিশ্বের একমাত্র নারী পাইলট যারা যুদ্ধক্ষেত্রে বিমান চালিয়েছেন।

তখন ১৯৪৪ সালের জুলাই মাস। রাশিয়ার রেড আর্মি বেলারুসিয়ার দিকে এগোচ্ছে এবং নাৎসী বাহিনীকে সোভিয়েত এলাকা থেকে হঠিয়ে দিচ্ছে। তারিখটা ছিল চৌঠা জুলাই – পাইলট ইয়েলেনা মালুচিনা এবং তার সহকর্মীরা বসেছিলেন নির্দেশের অপেক্ষায়।

“সকালে আবহাওয়া খুব খারাপ ছিল। আমরা ভাবলাম সেদিন আমাদের বিমান নিয়ে উড়তে হবে না। বিমানের ঠিক নিচেই বসে আছি- আদেশের অপেক্ষায়। হঠাৎ দেখলাম একটা সাদা রকেট- ওটাই আমাদের ওড়ার নির্দেশ।”

তারা বিমান নিয়ে আকাশে উড়লেন এবং চললেন তাদের লক্ষ্যবস্তুর দিকে। তাদের লক্ষ্য ছিল লিথুয়ানিয়ার একটা প্রধান রেল জাংশান। পেছু হঠতে থাকা জার্মানরা সেখানে তাদের সামরিক সরঞ্জাম রাখত। যুদ্ধের প্রায় শেষ দিকে ওটাই ছিল তাদের শেষ রণাঙ্গন আর ওই স্টেশনে প্রচুর সামরিক সরঞ্জাম মজুত রেখেছিল তারা ।

”তাই আমরা প্রায় ১৮০টি বিমানের বহর নিয়ে রওনা দিলাম। আমাদের বিমানক্ষেত্র ছিল মাটির- বোমা ভরা বিমান নিয়ে এতগুলো বিমান সেখান থেকে একসঙ্গে টেক-অফ করা সহজ কাজ ছিল না। তবুও আমরা পর্যায়ক্রমে বিমান নিয়ে আকাশে উড়লাম।”

ইয়েলেনা মালুচিনার কাহিনি লিপিবদ্ধ করেছিলেন লেখিকা লুবা ভিনোগ্রাদোভা ডিফেন্ডিং দ্য মাদারল্যান্ড- নামে তার বইয়ে।

তিনি বলেছেন ইয়েলেনার সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল যখন ইয়েলেনার বয়স ৯২।

”তার যে অত বয়স তা বিশ্বাস করা কঠিন ছিল। শারীরিকভাবে তিনি শক্ত ছিলেন আর মানুষ হিসাবেও খুব আন্তরিক ছিলেন। উষ্ণ ও বন্ধুবৎসল। নানা বিষয়ে গল্প করতে ভালবাসতেন, প্রিয় কবিতা আওড়াতেন- ওই বয়সেও দারুণ স্মরণশক্তি ছিল।” বলেছেন লুবা ভিনোগ্রাদোভা।

ইয়েলেনা বিমান চালানোর দিকে ঝোঁকেন মাত্র ১৫ বছর বয়সে যখন তার শহর লেনিনগ্রাডের একটা বিমান ক্লাবে তিনি যোগ দেন। তিনি যখন মাধ্যমিক স্কুল শেষ করেন তখন তিনি পুরো প্রশিক্ষিত বেসামরিক বিমানের পাইলট।

এটা হয়ত ব্যতিক্রমী নয়, কিন্তু অবশ্যই অসাধারণ।

১৯৩৭ সালে তিনি খোলা বিমানে চিঠি বিলির কাজ নেন- যেটা ছিল তার প্রথম চাকরি। পরে তিনি বিমানচালনার প্রশিক্ষক হন। এর পরের বছর কিংবদন্তী সোভিয়েত নারী বিমানচালক মারিনা রাস্কোভা বিমান নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের পশ্চিম অঞ্চল থেকে দূর প্রাচ্যে মাত্র ২৪ ঘন্টার কিছু বেশি সময়ে পৌঁছে রেকর্ড সৃষ্টি করেন। রাস্কোভার আহ্বানে অনুপ্রাণিত হয়ে কয়েক হাজার তরুণী তখন এই পেশায় যোগ দিয়েছিলেন।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর মারিনা রাস্কোভা বিমানবাহিনীতে তিনটি নারী রেজিমেন্ট গঠন করেন। কয়েক মাসের মধ্যেই তার রেজিমেন্টের নারী বোমারু বিমান পাইলটদের সোভিয়েট বিমান বাহিনীর ভারী বোমাবর্ষণকারী সর্বাধুনিক বিমান চালানোয় দক্ষতা অর্জন করতে হয়।

পিই টু নামে বিশেষ ওই বিমান সময়ের হিসাবে খুবই আধুনিক ছিল। সেসময়ের অন্য বিমানের তুলনায় খুব দ্রুতও ছিল ওই বিমানের গতি। কাজেই অবতরণের সময় খুবই সতর্কতা নিতে হাতো।

বিমানগুলো যখন মিশনে যেত তখন সেগুলো খুব ঝুঁকির মুখে থাকত। অনেক ওজনের বোমা থাকত বিমানগুলোয়- প্রায় এক টনের মত। কাজেই বিমানগুলো খুশিমত চালানো যেত না।

ইয়েলেনা রণাঙ্গনে বিমান হামলা চালানো শুরু করেন ১৯৪৪ সালে। বেসামরিক বিমান চালানোয় তার বেশ অনেক বছরের অভিজ্ঞতা ছিল। সেই অর্থে তিনি ছিলেন একজন অভিজ্ঞ পাইলট।

কিন্তু চৌঠা জুলাই ভাগ্য তার পক্ষে ছিল না। যখন লক্ষ্যের কাছে বিমান নিয়ে তারা পৌঁছেছেন, তখন আবহাওয়া বেশ খারাপ হয়েছে। তাদের সামনের বিমান বোমাহামলার মিশন শেষ করে ফিরে গেছে। তাদের নয়টি বিমান তখনও আকাশে। লক্ষ্যবস্তুর ওপর আকাশে চক্কর দিতে হবে এবং মাটির ওপর ৮০০ মিটার পর্যন্ত নেমে বোমা ফেলতে হবে।

”সাধারণত আমরা এক থেকে দেড় হাজার- কখনও কখনও দুহাজার মিটার উপর থেকে বোমা ফেলতে অভ্যস্ত। কিন্তু এবার সেটা হচ্ছে না। যাহোক্ – বিমানের হ্যাচ খুলে আমরা বোমা তো ফেললাম।”

ঠিক ওই মুহূর্তেই জার্মান বিমানবিধ্বংসী একটা গোলা আঘাত করে ইয়েলেনাকে এবং তিনি গুরুতরভাবে জখম হন।

”প্রথমে মনে হচ্ছিল পুড়ে গেছি। পরে শুধুই দুর্বল বোধ করছিলাম। আসলে ভেতরে আমার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল – আমি বুঝতে পারিনি। গোলাটা প্রথম এসে লেগেছিল প্লেনের প্রপলারে- পরে সেটা আমার শরীরে আঘাত করে- তাই প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলাম।”

 

ইয়েলেনার আঘাত খুবই গুরুতর ছিল। পরে জানা যায় গোলার ১৫টি টুকরো তার অন্ত্রে ঢুকে গিয়েছিল।

হাসপাতালে সব ব্যবস্থাই ছিল পুরুষদের জন্য। যেমনটা ইয়েলেনা দেখেছেন তার কর্মজীবনের প্রায় সবক্ষেত্রে।

লুবা বলছিলেন মেয়েদের জন্য জীবন সবক্ষেত্রে কঠিন ছিল। বিমানক্ষেত্রে কোনো টয়লেট ছিল না, পাছে টয়লেটের প্রয়োজন হয় তাই ইয়েলেনা তরল কিছুই খেতেন না।

”প্রথমদিকে তো মেয়েদের জন্য আলাদা ইউনিফর্মও ছিল না। ১৯৪১এর অক্টোবরে যেসব মেয়ে কাজে যোগ দিয়েছিল, তাদের পুরুষের ইউনিফর্ম দেওয়া হয়েছিল। যারা একটু বেঁটেখাটো তাদের ওই ইউনিফর্ম ঢলঢলে হতো। পরে সেগুলো কেটেছেঁটে মেয়েদের উপযোগী করা হয়েছিল। পুরুষদের অর্ন্তবাসও মেয়েদের পরতে দেওয়া হতো। অবশ্য মেয়েরা হাতের কাছে যেসব কাপড় পেত তাই দিয়ে নিজেদের অর্ন্তবাস বানিয়ে নিত। তাদের খুব প ছন্দের ছিল জার্মান প্যারাসুটের সাদা সিল্কের কাপড়।”

দুমাস সেনা হাসপাতালে কাটানোর পর চিকিৎসকরা পাইলট ইয়েলেনা মালুচিনাকে সেরে ওঠার জন্য আরও একমাস স্বাস্থ্যনিবাসে কাটানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু ইয়েলেনা তাতে রাজি হন নি।

ইয়েলেনার মনে হয়েছিল হাসপাতালে দুমাসই যথেষ্ট। তিনি বেসামরিক বিমানের সাহায্য নিয়ে তার নিজের বিমানক্ষেত্রে নিজের রেজিমেন্টে ফিরে যান।

বিমানের পাইলট হিসাবে তাদের দক্ষতা প্রমাণ করার এটাই ছিল সবচেয়ে বড় সুযোগ। সেটাই ছিল তখন এই নারী পাইলটদের জন্য সবকিছুর উপরে।

১৯৪৫ সালে নারী পাইলটদের নিয়ে একটি সোভিয়েত চলচ্চিত্র খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল।

ইয়েলেনা ২০১৪ সালে ৯৮বছর বয়সে মারা যান।

সূত্রঃ bbc.com


যে নৈতিকতা বিপ্লবীদের মেনে চলা উচিত: হো-চি-মিন

পুরনো সমাজকে পাল্টে দিয়ে নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিপ্লব সমাধা করা একটি মহান কর্তব্য। কিন্তু এ কর্তব্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এজন্য প্রয়োজন হয় জটিল, দীর্ঘকালীন ও নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের। শক্তি-সমর্থ মানুষেরাই কাঁধে বোঝা নিয়ে দীর্ঘ দুরন্তকে পাড়ি দিতে সক্ষম। একজন বিপ্লবীকে অবশ্যই বিপ্লবী নৈতিকতার ওপর আস্থা রাখতে হবে এবং তা থেকেই শক্তি সংগ্রহ করতে হবে। কেবলমাত্র তখনই সে তার গৌরবোজ্জ্বল বিপ্লবী কর্তব্য পূরণে সক্ষম হবে। আমাদের অবশ্যই নিজেদের বদলাতে হবে পুরনো সমাজের মধ্যেই আমরা বেড়ে উঠেছি। উত্তরাধিকার সূত্রে পুরনো সমাজ থেকে আমরা যা পেয়েছি তার ভেতর সবচাইতে বিরূপ ও বিপজ্জনক হলো ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ। বিপ্লবী নৈতিক মূল্যবোধের নিরিখে ব্যক্তিস্বান্ত্র্যবাদ হলো অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি প্রবণতা। এই ‘বাদ’ যদি চলতেই থাকে, এমনকি যদি খুব সামান্য পরিমাণেও চলতে থাকে, তবে তা সামান্যতম খোঁচানি পেলেই বেড়ে উঠতে পারে, বিপ্লবীর নৈতিক গুণাবলিকে দমিয়ে দিতে পারে এবং বিপ্লবের জন্য পরিপূর্ণভাবে আত্ম-নিয়োগের প্রয়াস থেকে বিপ্লবীকে বিরত রাখতে পারে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ নিজেই বেশ অনিষ্টকারী এবং তা কপটতাকেও প্রশ্রয় দিয়ে থাকে। অতীতের জের সমূলে উৎপাটিত করতে হলে এবং প্রকৃত বিপ্লবীর নৈতিক গুণাবলি আত্মস্থ করতে হলে প্রয়োজন অনুশীলনের, নিজেদেরকে শিক্ষিত করে তোলার ও নিজেদেরকে বদলে ফেলার, যা আমাদের অক্লান্তভাবে এগিয়ে চলতে যোগ্য করে তুলবে। কেউ যদি অগ্রসর হতে না চায় তবে সে অনিবার্যভাবেই পিছিয়ে পড়বে। বিপ্লবীর নৈতিক গুণাবলি দিয়ে কেউ যদি নিজেকে মণ্ডিত করে তোলে, তবে সে সন্ত্রস্ত হবে না, ধৈর্য হারাবে না, অথবা অসুবিধা কিংবা পরাজয়ের মুখেও পিছু হটবে না। পার্টি, বিপ্লব ও শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থে, জাতি ও সমগ্র মানবজাতির সাধারণ স্বার্থে সে বিনা দ্বিধায় তার ব্যক্তিগত স্বার্থকে বিলিয়ে দেবে এবং যদি প্রয়োজন পড়ে তবে দ্বিধাহীন চিত্তে ও কোনো প্রকার আক্ষেপ ছাড়াই সে তার প্রাণ বিসর্জন দেবে। একজন বিপ্লবীর নৈতিক গুণাবলির ক্ষেত্রে এটাই হলো সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সর্বশ্রেষ্ঠ প্রকাশ। বিপ্লবীর নৈতিক গুণাবলি যার আছে, সে অবশ্যই হবে খোলা মনের মানুষ এবং সাফল্যের মধ্যে কিংবা অনুকূল পরিস্থিতিতেও বিনয়ী। “অন্য সকলের আগে উদ্বিগ্ন হও, অন্য সকলের পরে আনন্দ করো”- বাহাবা পাওয়ার জন্য উদগ্রীব না হয়ে নিজের নিজের কর্তব্যকে কত ভালোভাবে পূরণ করা যায়, তা নিয়েই ভাবনা-চিন্তা করতে হবে। আত্ম-অহমিকা কিংবা আমলাতান্ত্রিকতা দুটোকেই দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। চাল্চুল্ দেখান বা যেকোনো প্রকার নীতিভ্রষ্টতার অবশ্যই ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। বিপ্লবী নৈতিকতার অথবা নীতিবোধের এগুলি যোগ্য অভিব্যক্তি। বিপ্লবের তিনটি শত্রু একজন বিপ্লবী সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের জন্য, শ্রমিক শ্রেণি ও সকল শ্রমজীবী জনতার জন্য সংগ্রামে এমন কোনো প্রচেষ্টা নেই যা সে করবে না। বিপ্লবী নৈতিকতার অর্থ- পার্টি ও জনগণের প্রতি চূড়ান্ত বিশ্বস্ততা। সমাজতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম হলো একটি সুদীর্ঘকালীন ও কষ্টদায়ক প্রক্রিয়া। আর এজন্যই প্রয়োজন খাঁটি বিপ্লবের। কেননা, বিপ্লবের শত্রু রয়েছে। বিপ্লবের আছে তিন শত্রু। পুঁজিবাদ-সামাজ্যবাদ খুবই বিপজ্জনক ও অনিষ্টকারী শত্রু। এই হলো প্রথম শত্রু। পশ্চাদপদ রীতিনীতি ও পরম্পরাগত প্রথাগুলি হলো দ্বিতীয় শত্রু। কেননা এরা হলো বিপ্লবের পথে লুক্কায়িত বাধা। এদেরকে মোটেই অবহেলা করা চলে না। এদেরকে বেশ অধ্যবসায়ের সাথেই নির্মূল করতে হবে। যদিও এতে সময় লাগবে। তৃতীয় শত্রু হলো ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ, এটি পেটি-বুর্জোয়া ভাবাদর্শ, যা আমাদের সবার ভেতরই এখনও শিকড় গেড়ে আছে। মাথাচাড়া দিয়ে উঠবার জন্য এটি ওঁত পেতে বসে থাকে। প্রথম দুই শত্রুর জন্য এটি হলো পরম মিত্র। সুুতরাং বিপ্লবী নৈতিকতা দাবি করে সকল শত্রুর বিরুদ্ধে দৃঢ় সংগ্রাম, নিরবচ্ছিন্ন সতর্কতা, সংগ্রামের জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি এবং কোনো অবস্থাতেই শত্রুর কাছে মস্তক অবনত না করা। এভাবেই কেবল শত্রুকে পরাজিত করা যায় এবং বিপ্লবী কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকা যায় । কথায় ও কাজে ঐক্য পার্টি সদস্যের বক্তব্য ও কাজের মধ্যে যদি ঐক্য না থাকে, তবে সংগঠন একটি বিশৃঙ্খলায় পরিণত হবে। যেখানে যে যার খুশিমত চলছে, ফিরছে, করছে- ব্যাপারটা যদি এরকম হয়, তাহলে জনতাকে নেতৃত্বদান এবং বিপ্লব সমাধা করা একেবারেই অসম্ভব। জনগণের স্বার্থের দিকে লক্ষ্য রেখেই পার্টি তার নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্তগ্রহণ করে থাকে। সুতরাং বিপ্লবী নৈতিকতা দাবি করে : দ্বিধাহীনভাবে পার্টি নীতি অনুসরণ এবং পার্টি নির্দেশগুলি মেনে চলা অবস্থা যত কঠিনই হোক না কেন, এটা করতেই হবে এবং এভাবেই জনগণের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জনগণের প্রেরণা যোগাবে। ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদকে অবশ্যই দমন করতে হবে এবং দৃঢ়তার সঙ্গে মূলোৎপাটন করতে হবে বিপ্লবীদের। আমাদের পার্টি শ্রমিক শ্রেণি ও শ্রমজীবী জনতার সাধারণ স্বার্থ ফুটিয়ে তোলে। কেননা, কোনো ব্যক্তি বিশেষ কিংবা গোষ্ঠীবিশেষের স্বার্থ দেখা পার্টির কাজ নয়, এটাতো সর্বজনবিদিত। শুধু নিজেদের মুক্তির জন্যই নয়, নিপীড়ন ও শোষণের হাত থেকে গোটা মানবজাতির মুক্তির জন্যই শ্রমিকশ্রেণি লড়াই করছে। এজন্যই সমগ্র জনগণের স্বার্থের সঙ্গে শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থ মিলে যায়। পার্টির নামে কাজ করে একজন সভ্য শ্রমিক শ্রেণি ও সকল শ্রমজীবী জনতার জন্য কাজ করে থাকে। এবং এ কারণেই একজন পার্টি সভ্যের স্বার্থ অবশ্যই হবে গোটা পার্টি ও শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থের অনুকূল, প্রতিকূল নয়। পার্টি ও শ্রমিক শ্রেণির প্রতিটি বিজয় হল প্রতিটি সভ্যেরই বিজয়। একজন লোক যতই গুণাবলি সম্পন্ন হোক না-কেন, পার্টি ও শ্রমিকশ্রেণি থেকে নিজেকে পৃথক করে রেখে, নিজের একক শক্তি দিয়ে সে কিছুই করতে পারবে না। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের ফলাফল সকল অবস্থাতেই পাটি সভ্য নিজের চাইতে পার্টির স্বার্থকে উচ্চ স্থান দেবে- বিপ্লবী নৈতিকতার এটাই দাবি। পার্টির সামগ্রিক স্বার্থের সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত সভ্যের স্বার্থের যদি বিরোধ হয়, তবে পার্টির স্বার্থই বলবৎ থাকবে। ভিয়েতনামের পার্টি আত্মগোপনে ছিল এবং প্রতিরোধের যুদ্ধকালে অনেক কমরেড বীরত্বের সঙ্গে জীবনদান করেন। কিন্তু ওইসব সৈনিক ‘উচ্চপদ’ কিংবা ‘সম্মানের’ দাবি করেনি অথবা পার্টির কাছ থেকে তারা কোনো প্রকার ‘কৃতজ্ঞতা’ প্রত্যাশা করেনি। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদকে জয় করতে পারেনি এমন সভ্য আমাদের পার্টিতে এখনও আছে। তারা দাবি করে যে তাদেরকে কাজের জন্য ‘মূল্য’ দেয়া হোক। তারা পার্টির দেয়া ধন্যবাদের জন্য অপেক্ষা করে। তারা দাবি করে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা, উচ্চপদ ও সম্মান। তাদের দাবি যদি পূরণ না হয় তাহলে তারা এই বলে পার্টিকে গালমন্দ দেয় যে- ‘পার্টি তাদেরকে ঠিক ঠিক উন্নতি লাভের সুযোগ দিলো না.. পার্টি তাদের স্বার্থকে একবারেই উপেক্ষা করলো’। ক্রমে ক্রমে এরা পার্টি থেকে দূরে সরে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পার্টি-নীতি ও পার্টি শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে চলে যায়। তারা অন্যের সমালোচনা করে কিন্তু নিজেরা সমালোচিত হতে চায় না। তারা আত্মসমালোচনায় পরান্মুখ, অথবা কিছুটা করে বাত্-কি-বাত্ হিসেবে। তাদের আশঙ্কা হলো এই যে, আত্মসমালোচনার পরে তারা সম্মান ও কর্তৃত্ব হারিয়ে ফেলবে। তারা জনগণের মতামতের প্রতি কর্ণপাত করে না। তারা বুঝতে চায় না যে, ভুল থেকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভুলের জন্য আমরা আতঙ্কিত বোধ করি না, কিন্তু সবার জন্য আতঙ্কের কারণ হবে এটাই -ভুল করবার পরে সেটা শুধরে নেয়ার জন্য আমরা যদি সিদ্ধান্তগ্রহণ না করি। ব্যক্তি সমষ্টি এবং সমাজ ব্যক্তিস্বান্ত্র্যবাদ মোকাবিলা করাকে ‘ব্যক্তি-স্বার্থকে পদদলিত’ করার সাথে এক করে দেখাটা ভুল হবে। প্রত্যেক ব্যক্তির তার নিজস্ব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আছে, আছে চমৎকার গুণাবলি। আছে তার নিজস্ব ও পারিবারিক জীবন। ব্যক্তিস্বার্থ যদি সমষ্টির স্বার্থে অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায়, তাহলে ব্যক্তিস্বার্থে মন্দ কিছু নেই। সমাজতন্ত্রই প্রতিটি মানুষকে তার ব্যক্তিজীবনের অবস্থাকে উন্নত করে তোলে এবং ব্যক্তিচরিত্র ও ব্যক্তির গুণাবলিকে বিকশিত করে তুলতে সক্ষম। বিপ্লবী নৈতিকতা আকাশ থেকে পড়ে না। দৈনন্দিন কঠোর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিপ্লবী নৈতিকতা বিকশিত হয় ও শক্তি সঞ্চয় করে। হীরক খণ্ডের মত যত সময় ধরে একে ঘষামাজা করা যাবে ততই এটা উজ্জল থেকে উজ্জলতর আলোক দান করবে। এটা সোনার মত। যতই আগুনে পোড় খাবে ততই এটা খাঁটি থেকে অধিকতর খাঁটি হবে। মানবজাতির দাসত্ব মোচনে যথাযোগ্য অবদান রাখতে একজন প্রকৃত বিপ্লবীর নৈতিক গুণাবলি নিজের মধ্যে পরিপুষ্ট করে তোলার কর্মদক্ষতার চাইতে অধিকতর উত্তম আর কিছু নেই।

সূত্রঃ http://weeklyekota.net/?page=details&serial=9359&fbclid=IwAR1T-ME0PWYg2aP9LfTYlK1OZnKXZICTDToZ_6xeWHaLReHi_7WF6VtbFJY


বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ ব্যালাড অব সোলজার/Ballad of a Soldier

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। রেড আর্মির এক সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্রে। এদিকে শত্রুপক্ষ ধেয়ে আসছে তার দিকে। বয়সে নবীন। বুঝতে পারছে না কী করবে। এমন সময় কাছাকাছি এসে পড়ে বিরোধী শিবিরের ট্যাংক। ভয়ে দৌড়ে একটি বাংকারে ঢুকে যায়। সেখান থেকে সাহস করে একটি ট্যাংককে ধ্বংস করে। এরপর সে তাঁবুতে ফিরে এলে বাহিনীপ্রধান তাকে ডেকে পাঠান। ভয় পেয়ে যায়। ভেবেছিল যুদ্ধক্ষেত্রে স্থান পরিবর্তন করার জন্য তাকে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে। কিন্তু দেখা গেল প্রধান তাকে ট্যাংক ধ্বংস করার জন্য সম্মান জানান। উনিশ বছর বয়সী নবীন সেনার মন পড়ে আছে বাড়িতে মায়ের কাছে। সে সম্মানের বদলে বাড়িতে মাকে দেখতে যাওয়ার ছুটির আবেদন জানায়। এরপর ছুটে চলে বাড়ির দিকে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ১৯৫৯সালে তৈরি এই সোভিয়েত ছবির বিষয়বস্তু কিন্তু একেবারেই যুদ্ধ নয়। যুদ্ধের সাথে মিশে আছে তরুণ জুটির ভালোবাসা, বিবাহিত জুটির ভালোবাসা, মা-ছেলের ভালোবাসা। যুদ্ধের ক্যানভাসে অসাধারণ ভালোবাসার সব গল্প বললেন পরিচালক গ্রিগরি চুখরাই। এই চমৎকার ছবিটির নাম ব্যালাড অব সোলজার/ Ballad of a Soldier ছবিতে আলিওশা ও শুরা চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভ্লাদিমির ইভাশভঝানা প্রখোরেঙ্কো।

চলচ্চিত্রটি দেখতে ক্লিক করুন এই লিংকেঃ https://www.youtube.com/watch?v=H2ZFe7XGwt8

কাশ্মীরে নিপীড়ন বন্ধের দাবি মাওবাদীদের

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সরকারি বাহিনীর নিপীড়ন বন্ধের দাবি জানিয়েছে মাওবাদীদের একটি গ্রুপ। বৃহস্পতিবার ভিশাকা এজেন্সি এলাকায় তারা কাশ্মিরের পক্ষে ব্যানার নিয়ে হাজির হয় এবং স্লোগান দেয়। তারা জানায়, আত্মনিয়ন্ত্রণ কাশ্মিরিদের জন্মগত অধিকার। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক নীতির কারণে তারা অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। লাদাখ ও কাশ্মিরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে বিল পাস হয়। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। জারি করা হয়েছে বিধিনিষেধ। কাশ্মিরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রীসহ শত শত মানুষকে আটকের কথা জানা গেলেও মোট আটকের সংখ্যা বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি ভারত সরকার।

বৃহস্পতিবার মাদ্দিারুভু, বনগ্রাম, গোমাঙ্গি ও মাদগুলার অন্যান্য অঞ্চলের মাওবাদীরা ভিশাকা এজেন্সি এলাকায় এসে জড়ো হয়। এর আগে মাওবাদীরা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে, কাশ্মীরিদের ‘স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম’কে সমর্থন জানানোর জন্যে জনগনের প্রতি আহবান জানিয়েছিল। তারা জানায় সরকারের ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মিরকে দ্বিখণ্ডিত করে দেওয়ার নীতিকে সমালোচনা করা উচিত। মাওবাদীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মিরের প্রাকৃতিক সম্পদগুলো ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিতে চায়। তারা জানায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর পক্ষে কোনও যুক্তি না দিয়ে বলছেন পাকিস্তানে সন্ত্রাস রুখতে এই পদক্ষেপ। আগামী পাঁচবছরও এই নাটক চালিয়ে যাবেন তিনি।

ষাটের দশকের শেষ দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ী থেকে মাওবাদী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। তবে নকশালপন্থী আন্দোলন সত্তরের দশকের প্রথমার্ধ্ব থেকেই গতি হারাতে শুরু করেছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের ছত্তিশগড়ের জঙ্গলসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও মাওবাদী আন্দোলন জোরালো হতে শুরু করে।

সূত্রঃ https://timesofindia.indiatimes.com/city/visakhapatnam/maoists-put-up-banners-raising-kashmir-issue/articleshow/71103173.cms


তুরস্কের ইস্তাম্বুলে কমিউনিস্টদের সশস্ত্র হামলা

গত সপ্তাহে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের বাণিজ্যিক জেলা সারিগাজিতে একটি ব্যাংক এবং স্থানীয় ডাক বিভাগের শাখায় বোমা ও আগুন ককটেল নিয়ে কমিউনিস্টরা আক্রমণ করে। কুর্দি জাতি ও তাদের সংগ্রামী আন্দোলনের উপর তুর্কি রাষ্ট্রের চলমান বর্বর হামলার প্রতিবাদে তুরস্কের কমিউনিস্ট পার্টি[TKP/ML (Communist Party of Turkey / Marxist-Leninist)] এবং তার সামরিক শাখা TIKKO (Liberation Army of the Workers and Peasants of Turkey)  এই আক্রমণ করেছে জানিয়ে এর দায় স্বীকার করেছে। এসময় তারা রাস্তায় একটি চিঠি ও ব্যানারও ঝুলিয়ে দেয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, যে কোন জাতিসত্ত্বার উপর ফ্যাসিবাদী হামলা হলে পার্টি চুপ করে বসে থাকবে না।

এই সশস্ত্র আক্রমণটি মূলত বহু বছর ধরে TKP/ML পার্টির মধ্যে চলা দুই লাইনের একটি সংগ্রামের ফসল। এর কয়েক্ মাস আগে TKP/M পার্টি তার ১ম কংগ্রেস সম্পন্ন করেছে। এই ১ম কংগ্রেসের লাইনের সামরিক গনলাইনকে উর্ধ্বে তুলে ধরে এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই প্রথম সশস্ত্র পদক্ষেপটি চালানো হয়েছে বলে পার্টি তার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের অংশ হিসেবে TKP/ML TIKKO এর এই সশস্ত্র পদক্ষেপ তুরস্কের প্রতিক্রিয়াশীল আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং জার্মানির মতো সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির বিরুদ্ধে একটি দৃঢ় ও শক্তিশালী বার্তা বহন করবে।

সূত্রঃ http://www.yenidemokrasi5.net/sarigazide-banka-ve-ptt-subelerine-duzenlenen-eylemleri-tkp-ml-ustlendi.html


বিগত ৮ বছর ধরে মাওবাদী আন্দোলন হোঁচট খাচ্ছেঃ গণপতি

 এই বছরের শুরুর দিকে সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরে আসা ‘গণপতি ওরফে মুপ্পালা লক্ষ্মণ রাও’ মনে করেন, গত আট বছর ধরে “বিপ্লব আন্দোলন” হোঁচট খেয়ে চলছে। পার্টির মুখপত্র পিপলস মার্চকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে গণপতি বলেছেন, “… প্রতিবিপ্লবীদের আক্রমণ এবং আমাদের বিষয়গত ভুল ও দুর্বলতা গত আট বছর ধরে বিপ্লবী আন্দোলনের দুর্বল হওয়ার মূল কারণ।”

সত্তর বছর বয়সী গণপতি তার ‘অসুস্থতা ও বয়সের’ কথা উল্লেখ করে পার্টির পদ থেকে সরে গিয়ে পরবর্তি নতুন নেতৃত্বের জন্যে বাসবরাজকে সামনে নিয়ে আসার পথ করে দেন।।

গণপতি’র মতে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলি ৫.৫ লক্ষ পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করে অপারেশন গ্রিন হান্ট ও সমাধানের মত আক্রমণাত্মক ঘটনাগুলির সময়ও পার্টির আন্দোলন সক্রিয় ছিল ঐ সমস্ত স্থানগুলোতে। এর ফলস্বরূপ, গণযুদ্ধের ভরকেন্দ্র দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আন্দোলনের অঞ্চল সঙ্কুচিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বিস্তৃত সমভূমি, গ্রামীণ ও শহুরে অঞ্চলে শ্রেণী সংগ্রামকে প্রসারিত করতে পারিনি।

“আমাদের বিষয়ভিত্তিক ভুল এবং দুর্বলতাগুলো সামনে আসায় আমরা নেতৃত্বের ক্যাডার এবং বিষয়ভিত্তিক শক্তিগুলি যথেষ্ট পরিমাণে হারিয়েছি। আন্দোলনের নতুন প্রোগ্রাম এবং কৌশলগুলি তৈরি করতে পারেনি। পার্টিতে অসর্বহারা প্রবণতা সংশোধন করার প্রচারণায় কিছু ত্রুটি ছিল এবং যার ফলে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করা যায়নি,” বলে তিনি জানান।

“মোদী চক্র” “জরুরী পরিস্থিতি মতো পরিস্থিতি প্রকাশ করছে” বলে উল্লেখ করে গণপতি বলেন, “আমাদের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কাজ হচ্ছে এই ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে লক্ষ্যবস্তু করা, নিপীড়িত মানুষকে একত্রিত করা, আমাদের শ্রেণিবদ্ধ সংগঠনের মাধ্যমে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবিরাম আন্দোলন এবং প্রচারমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা এবং সেই রাজনীতিকে পরাস্ত করার জন্য অন্যান্য সংস্থাগুলিকে সাথে নিয়ে একটি বিস্তৃত যুক্তফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে জঙ্গি আন্দোলন গড়ে তোলা। ”

সূত্রঃ https://indianexpress.com/article/india/maoist-movement-sliding-for-past-eight-years-ganapathi-5957702/?fbclid=IwAR3HRMorfBHGBE8gBeMAqF6r8FdqrLDJmLBxeiE3DOVBnRTzPFynx0u-zMo