কেরলে ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা ৪ মাওবাদীকেঃ অভিযোগ কেরল সিপিআই এর

তামিলনাড়ুর থেকে আসা ‘মনিভাসাকাম ও কার্ত্তিক’ এবং কর্ণাটক থেকে আগত ‘শ্রীমতী ও সুরেশ’ নামে ৪ সন্দেহভাজন নিহত মাওবাদী’র ৩জন

গত সোমবার ও মঙ্গলবার কেরলের প্রক্কালাদ জেলার আদালিতে তামিলনাড়ুর থেকে আসা ‘মনিভাসাকাম ও কার্ত্তিক’ এবং কর্ণাটক থেকে আগত ‘শ্রীমতী ও সুরেশ’ নামে ৪ সন্দেহভাজন মাওবাদীকে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ভুয়ো সংঘর্ষ বলে জানাল কেরলের বাম শরিক সিপিআই। সিপিআই রাজ্য কাউন্সিলের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বলা হয়েছে, স্থানীয় কর্মীদের থেকে পাওয়া তথ্যে এটা মনে করা  হচ্ছে একটি ভুয়ো সংঘর্ষের ঘটনা। ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে সিপিআই। এমনটাই জানাচ্ছে the newindian express ওয়েবসাইট। মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন দাবি করেছেন- আত্মরক্ষার জন্যই পুলিস গুলি চালায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি মানতে নারাজ শরিক সিপিআই। সিপিআই এর তরফে জানান হয়েছে নিহতদের মধ্যে একজন মাওবাদী অসুস্থ ছিলেন । তার পক্ষে একে ৪৭ ধরা সম্ভবই নয়। সিপিআই তরফে পুলিসের শাস্তি দেওয়ার এই পদ্ধতিকে নিন্দা করা হয়েছে।

কেরল পুলিসের থান্ডারবোল্ট বাহিনী গত সোমবার পাল্লকাডের জঙ্গলে ৩ মাওবাদী ও পরদিন আত্তাপাদিতে ১ মাওবাদীকে সংঘর্ষে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছিল। নিহতদের মধ্যে ১জন মহিলা। সোমবার খুব ভোরে পালাক্কাড জেলার আগালির জঙ্গলে এই তথাকথিত সংঘর্ষটি হয় বলে জানাচ্ছে সংবাদ মাধ্যম। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, মাওবাদীদের লুকিয়ে থাকার খোঁজ পেয়ে তল্লাশির সময় এই সংঘর্ষ হয়। অধিকাংশ সংঘর্ষের মত এখানেও শুধু মাওবাদীরাই নিহত হয়েছেন। পুলিসকর্মীদের আহত হওয়ার কোন খবর নেই। কেরল গত কয়েক বছরে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন মাওবাদী নেতা ও কর্মী নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার কর্মীদের তরফে ভুয়ো সংঘর্ষের অভিযোগ করা হয়েছিল আগেই এবার সিপিএমের শরিক সিপিআইও সংঘর্ষকে ভুয়ো বলাই রাজ্য সরকারের অস্বস্তিতে আরো বাড়ল বলে মনে করছে অনেকে।

সূত্রঃ সাতদিন.ইন

http://en.maktoobmedia.com/2019/10/30/4-maoists-were-shot-and-killed-by-kerala-police/

 

 


Fellows remember Comrade Nizamuddin Matin

Comrade Nizamuddin Matin was a legend among the youths during 1980’s and also played a vital role during the Liberation War of 1971

Associates, co-workers and fellows remembered Comrade Nizamuddin Matin, a revolutionist left politician, widely known for his role in left-leaning politics in Bangladesh.

Prominent left politicians and comrades came up with the memories during a remembrance program held for Comrade Nizamuddin Matin at the Rc Majumdar Auditorium, Dhaka University (DU) on Friday.

Comrade Nizamuddin Matin was a legend among the youths during 1980’s and also played a vital role during the Liberation War of 1971, said his fellows and associates.

Comrade Nizamuddin Matin was a life-time revolutionist who tried to form a strong base of left-leaning politics according to Marx-Lenin and Mao’s theories, added the speakers.

Hasan Fakri was in the commemoration chair while Bangladesh Samajtantrik Andolon Convener Hamidul Haque, Jatiya Ganatantrik Ganomoncha President Masud Khan, Nayaganatantrik Gano Morcha President Zafor Hassain, Jatiya Mukti Council General Secretary Faizul Hakim, energy expert Rahamatullah and Khanon Editor Badol Sha Alam spoke at the event.

Comrade Matin was born in 1955 in Barisal and joined politics while he was a student of class nine in 1969. 

He was in prison for ten years after the Liberation War.

He died on August 11, 2019 due to old-age complications.

Source: https://www.dhakatribune.com/bangladesh/dhaka/2019/10/19/fellows-remember-comrade-nazimuddin-matin?fbclid=IwAR1M7lQz3mCqejul_aWhumUq0aRiYz036BUIlkCtTpeUBsQQjJ2uIUw45ds


মহান মাওবাদী নেতা কমরেড নিজামউদ্দিন মতিনের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

 

 

কমরেড নিজামউদ্দিন মতিন ১৯৮০এর দশকে তরুণ-যুবকদের মধ্যে একজন কিংবদন্তি ছিলেন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার  জন্য মহান মাওবাদী নেতা কমরেড নিজামউদ্দিন মতিনকে গতকাল তাঁর সহযোগী, সহকর্মী এবং অনুগামীরা প্রাণভরে স্মরণ করেন।

গতকাল ১৮ই অক্টোবর, বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে ‘মাওবাদী নেতা কমরেড নিজামউদ্দিন মতিন স্মরণ কমিটি’র উদ্যোগে কমিটির আহায়ক কমরেড হাসান ফকরীর সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বিশিষ্ট বাম রাজনীতিবিদ, প্রগতিশীল গণমাধ্যমের প্রকাশক ও কমরেডরা আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন। এদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহায়ক হামিদুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের সভাপতি মাসুদ খান, নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি জাফর হোসেন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নিরুপমা চাকমা, বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনায়ার হোসেন, বিপ্লবী বুদ্ধিজীবী ও জালানী বিশেষজ্ঞ বিডি রহমতুলাহ এবং খনন পত্রিকা’র সম্পাদক বাদল শাহ আলম প্রমুখ। সভায় সঞ্চালনা করেন প্রগতিশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঘাস ফুল নদী’র প্রকাশক মুনির মোর্শেদ।  

বক্তারা কমরেড মতিনের আমৃত্যু বিপ্লবের প্রতি অঙ্গীকার, অধ্যবসায়, ত্যাগ, অবিরাম বিপ্লবী অনুশীলন ও জনগণের মুক্তির লড়াইয়ে তার অবদান নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তাগণ কমরেড নিজামউদ্দিন মতিনের অনুকরণীয় শিক্ষা ও দিশাকে আত্মস্থ করে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ বিনির্মাণের আহবান জানান।

কমরেড নিজামউদ্দিন মতিন ছিলেন একজন জীবনকালীন বিপ্লববাদী, যিনি মার্কস-লেনিন এবং মাওয়ের তত্ত্ব অনুসারে কমিউনিস্ট রাজনীতির একটি শক্ত ভিত্তি গঠনের চেষ্টা করেছিলেন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

কমরেড মতিন ১৯৫৫ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ১৯৬৮ সালে ৯ম শ্রেণির ছাত্র অবস্থায় তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ১০ বছর কারাগারে ছিলেন। বার্ধক্যজনিত জটিলতার কারণে তিনি গত ১১ই আগস্ট ২০১৯ এ মারা যান।

 


এনআরসি-র বিরুদ্ধে মাওবাদীদের সশস্ত্র প্রতিরোধের ডাক

জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) কার্যকর করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র প্রতিরোধ’ গড়ে তোলার ডাক দিল মাওবাদীরা। কিছু দিনের মধ্যেই এনআরসি-র বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনে নামার কথা ঘোষণা করেছে তারা। সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্বাঞ্চলীয় ব্যুরোর তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘এনআরসি-র মাধ্যমে ভারতের জনগণকে আধুনিক যুগের ক্রীতদাসে পরিণত করার চক্রান্তকে পরাস্ত করতে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’। এনআরসি-র বিরুদ্ধে বিজেপি-বিরোধী অন্যান্য দলগুলি যে সব যুক্তি দিচ্ছে, সেগুলি দেওয়ার পাশাপাশি অন্য একটি দিক থেকেও কেন্দ্রের এই নীতিকে নিশানা করছে মাওবাদীরা। তাদের ব্যাখ্যা, কেন্দ্র জানিয়েছে, এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সুতরাং, ওই তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের বাংলাদেশে পাঠানোর সুযোগ নেই। তা  সত্ত্বেও এনআরসি কার্যকর করার উদ্দেশ্য— বিশাল সংখ্যক ভারতবাসীকে রাষ্ট্রহীন করে দিয়ে, সংবিধান স্বীকৃত সমস্ত আইনি অধিকার কেড়ে নিয়ে তাঁদের যৎসামান্য বেতন বা মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য করা। আর যাঁরা নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পাবেন, অর্থনীতির চাহিদা ও জোগানের নিয়ম অনুযায়ী, তাঁদেরও বেতন বা মজুরি কমে যাবে। এই প্রেক্ষিতেই এনআরসি ঠেকাতে ‘সশস্ত্র প্রতিরোধ’-এর ডাক দিয়েছে মাওবাদীরা। 

সূত্রঃ https://www.anandabazar.com/state/cpi-maoist-calls-for-armed-resistance-to-nrc-1.1059215


18th October: Commemoration meeting of Maoist Leader Nizamuddin Motin

 

Dear Comrade

Nizamuddin Motin, a whole time revolutionary and Maoist leader, died at a hospital in Dhaka at 12pm, 11 August 2019 after suffering from prolonged illness. Nizamuddin was born at Alekanda in Barisal in 1955. He joined Purbobanglar Sormik Andolon (East Bengal Workers Movement), led by Siraj Shikder, in 1969. As a Maoist leader, he had been working to free the poor peasants and workers over five decades. A discussion will be held at 4pm, 18 October 2019 at RC Majumder Hall, University of Dhaka upholding the contribution of this whole time revolutionary attended by intellectuals and leaders from several revolutionary organizations. You are cordially requested to join us on the occasion.

With revolutionary greetings

Hasan Fakri

Convener,

Maoist Leader Nizamuddin Motin Commemoration Committee.


ক্যাম্পাস হত্যার মিছিল দীর্ঘতরঃ দায় “উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে” : সুদীপ্ত শাহিন

 

ধারাবাহিকভাবে ঘটছেই দেশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে একের পর এক হত্যাকান্ড । তাই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সমাজের সকল শ্রেণিপেশার মানুষ। সরব হয়ে উঠেছেন বুদ্ধিজীবি , সুশীল সমাজ এবং মিডিয়াও । ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের প্রতি সকলের অভিযোগের অংগুলি নির্দেশ হলেও অনেকেই আবার গোটা ছাত্র রাজনীতিকেই অভিযুক্ত করে তা নিষিদ্ধের দাবি তুলছেন। বিশেষত বুয়েটের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি তোলায় অতি উৎসাহীরা একে রেফারেন্স ধরে সারাদেশেই ছাত্র রাজনীতি বন্ধের আওয়াজ তুলছে। এ প্রেক্ষিতে তাদের যুক্তি হলো- “ছাত্ররাজনীতিতে আদর্শিক অবস্থান এখন আর নেই, ছাত্ররা লেজুরবৃত্তি রাজনীতি করছে” – এরকম আরও বহু বদনাম। এইসব বদনামের পালে হাওয়া দিতে কোন কোন মিডিয়া দ্বারস্থ হচ্ছে ছাত্ররাজনীতির একাল আর সেকালের পার্থক্য নিরুপণে । শাসক গোষ্ঠির বয়োবৃদ্ধরাও “একদা আমরা ছিলাম. . . . .” এরকম মুখরোচক গল্প জমিয়ে প্রচার মিডিয়াতে এই প্রজন্মের প্রতি এক নাক সিঁটকানো ভাব দেখাচ্ছেন। অথচ আমরা জানি ছাত্র রাজনীতিও শ্রেণি নিরপেক্ষ নয়। বিদ্যমান রাষ্ট্রের শ্রেণি চরিত্র দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও ধারণ করে। যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বা প্রশাসনের মধ্যেও স্বৈরতন্ত্রের স্বরুপ মূর্ত হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রের স্বৈরতন্ত্র রুপ যেমন রাষ্ট্রের শ্রমিক- কৃষক- জনগণের জীবনকে দূর্বিষহ করে তোলে, তেমনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বৈরতন্ত্রও এই জনগণের সন্ত্বানদের জীবনকে দূর্বিষহ করে তোলে। একই হল- এ, একই ক্যাম্পাসে শত শত বা হাজার হাজার শিক্ষার্থী একসাথে চলার কারণে সচেতন শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যায়, অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে বা সহজে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই শাসক গোষ্ঠী একদল লাঠিয়াল তৈরি করে রাখে, যাদের দিয়ে স্বৈরাচারি রাষ্ট্র ও সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে তার স্বৈরতন্ত্র সহজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। পাকিস্তান আমল থেকে সামরিক, বেসামরিক নামে বেনামে হাল আমল পর্যন্ত আমাদের দেশে যতগুলি সরকার এসেছে সকলেই নির্লজ্জভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই অপততপরতা অব্যাহত রেখেছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে হল দখল, টেন্ডার বাজি, ভর্তি বাণিজ্য শাসক গোষ্ঠীর এই লাঠিয়ালরাই দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। রাষ্ট্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজনীতি সচেতন ছাত্ররা যাতে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ গড়তে না পারে ছাত্র নামধারী এই লাঠিয়ালদের বিভিন্নরকম পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে। এর বিপরীতে ছাত্র- শ্রমিক- কৃষক- জনগণের পক্ষে সবসময়ই আরেকদল শিক্ষার্থী দাঁড়িয়েছে। দেশের বড় বড় অর্জনগুলি তাদের হাত ধরেই এসেছে। অন্যায়, অনিয়মের বিরুদ্ধে সামর্থ্য অনুযায়ী সবসময়ই দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী আজ পুঁজিবাদী- সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলিতে ঘৃণ্য ফ্যাসিজম আর নয়া- ঔপনিবেশিক দেশগুলিতে স্বৈরতন্ত্রের প্রকট রুপ ধারণ করছে। তাই শাসক- শোষক শ্রেণির কাছে আমাদের মত দেশে বড় আতংক ও প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে ছাত্রসমাজ। তাই এই ছাত্রসমাজ যেনো সংগঠিত হতে না পারে এবং রাজনৈতিক সচেতন হয়ে গড়ে উঠতে না পারে সেই জন্য বিভিন্ন কৌশলে ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শাসক গোষ্ঠীই ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক বুয়েটের রাজনৈতিক অসচেতন ছাত্রদের দাবিকে পুঁজি করে শাসকগোষ্ঠী দেশব্যপী ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পাঁয়তারা করছে। এ সমস্ত তৎপরতার মাধ্যমে ভারতের সাথে জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী বিরোধী চুক্তিকে উন্মোচন ও বিরোধীতা করতে গিয়ে নিহত আবরার হত্যার বিচার দাবির আন্দোলনকেও ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ফাঁপা কথা ও বুলির মাধ্যমে আবরার হত্যার বিচারেরও অনিশ্চয়তা তৈরির চক্রান্ত চলছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে ক্ষমতাসীনদের আরও অনেকের সংশ্লিষ্টতা থাকার বিষয় যখন সামনে আসছে তখন পরিকল্পিতভাবে সামনে আনা হচ্ছে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের টপিক। পিছনের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এরকমভাবেই অতীতের সমস্ত ক্যাম্পাস হত্যার খুনীদের স্বৈররান্ত্রিক সরকারগুলি রক্ষা করে এসেছে।

দেশের ছাত্ররাজনীতির স্নায়ুবিক স্থান ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ের চিত্র দেখলেই স্পষ্ট হয়ে উঠে শাসক-শোষক গোষ্ঠীর চক্রান্ত । অভ্যন্তরীণ কোন্দল , ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদার টাকা ভাগাভাগি এসব ঘৃণিত বিষয়-বস্তু নিয়ে শাসক-শোষক গোষ্ঠীর হাতের ক্রীড়ানক ছাত্রসংগঠনগুলোর মাধ্যমে একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটলেও সচেতনভাবেই এ পর্যন্ত কোন সরকার এসব হত্যাকান্ডের কোনটিরও বিচার করে নি । ঘটনা প্রবাহগুলির দিকে চোখ বুলালে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালের ৪ এপ্রিল আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল রাত ১টা ২৫ মিনিটে সূর্যসেন হলের ৬৪৫ ও ৬৪৮ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে ৭ জনকে টেনে বের করে এনে টিভি রুমের সামনের করিডোরে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে। নিহতেরা হলেন – নাজমূল হক কোহিনর , মোহাম্মদ ইদ্রিস, রেজওয়ানুর রব , বশির উদ্দিন আহমেদ জিন্নাহ, আবুল হোসেন এবং এবাদ খান । এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগের সেক্রেটারী শফিউল আজম এর যাজ্জীবন সাজা হলেও অদৃশ্য শক্তি বলে মুক্তি পেয়ে যায় । ১২ এপ্রিল ১৯৭৮ সালে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী ও তাদের সমর্থক ছাত্রীদের সঙ্গে অপর পক্ষের ছাত্রীদের মতবিরোধের জের ধরে পারস্পরিক সংঘষের্ রেজিষ্ট্রার বিল্ডিংয়ের ১২৭ নম্বর কক্ষে এক ছাত্র মারা যায় । যার নাম প্রকাশ করা হয়নি । এই হত্যারও বিচার হয়নি । ১৩ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৩ সালে শিবিরের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের হলে কলা ভবনের পশ্চিম গেট অতিক্রম করার সময় সংগ্রাম পরিষদের একটি মিছিল হামলা করে । এত জয়নুল নামের এক ছাত্র মারা যান । এ ঘটনাতেও দোষী সাব্যস্ত্ করা হয়নি । ১৯৮৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায় জহুরুল হক হল ও এফ রহমান হলের মধ্যবর্তী রাস্তায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ফেব্রুয়ারি প্রস্তুতি মিছিলের ওপর কাঁটা রাইফেলের গুলিবর্ষণে বাকশালের সংগঠক জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ন সম্পাদক ঢাবিতে সমাজ বিঞ্জান শেষ বর্ষের ছাত্র রাউফুন বসুনিয়া নিহত হন । এ ঘটনার জন্য সরকারি মদদপুষ্ট পেটোয়া বাহিনীকে দায়ী করলেও পরবর্তীতে কোন বিচার হয় নি । ১৯৮৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারীর রাতে ছবি টানানো নিয়ে শহীদ মিনারে ছাত্রদল , আওয়ামীলীগ ও জাসদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে । এতে সোহরাব গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান । সোহরাবের মায়ের দায়ের করা মামলায়ে ছাত্রদলকে অভিযুক্ত করা হলেও বিচার হয় নি। ৩১ মার্চ ১৯৮৬ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রইউনিয়নের মিছিলের ওপর ছাত্রদল, ছাত্রলীগ ও জাসদ ছাত্রলীগ সম্মিলিত সশস্ত্র আক্রমনের ফলে ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী আসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় । এ ঘটনায় কারো বিচার হয়নি । ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ মুহসীন হলের ৪২৬ নম্বর কক্ষে এক বোমার বিস্ফোরণ ঘটে । এতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা বাবলু, মাঈনুদ্দীন ও নূর মোহাম্মদ আহত হয়ে পিজিতে নেয়ার পথে মারা যান । একই বছরের ১৪ জুলাই সূর্যসেন হলের একটি কক্ষের দখল নিয়ে ছাত্রদল, জাসদ ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে । এতে সূর্যসেন হলের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইতিহাস বিভাগের ১ম বর্ষেও ছাত্র আব্দুল হালিম নিহত হন । এ ঘটনার জের ধরে ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন রণক্ষেত্রে পরিণত হয় । এতে আরও ৩ জন নিহত হন । নিহতদের মধ্যে শহিদুল্লাহ হলের ছাত্র আসাদ, রিক্সাচালক আব্দুর রহিম এবং পথচারী কামরুল হাসান । এ ঘটনায় ৮ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন এবং কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয় । কিন্তু সেই রিপোর্ট আজও প্রকাশিত হয়নি । ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৮ সালের রাতে মুহসীন হলের ৩৫৭ নং কক্ষে জাতীয়তাবাদি ছাত্রদলের অন্যতম নেতা বজলুর রহমান শহীদ আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে আততায়ীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান । এ ঘটনায় ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট করতে বলা হলেও সে রিপোর্ট আজও আলোর মূখ দেখেনি। ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকসু নির্বাচনে ফলাফলকে কেন্দ্র করে পরাজিত ছাত্রদলের হামলায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কর্মি কফিল উদ্দিন কনক নামের ছাত্র নিহত হন । এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করলেও ঐ তদন্তের ফল আজও জানা যায় নি । ১৯৯০সালের ২৬ নভেম্বর সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য ও ছাত্রদলের থেকে বহিষ্কৃত নেতা নিরু-অভি গ্রুপের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধে ক্যাম্পাসের চা দোকানদার নিমাই নিহত হন । এ পরিস্থিতি আর যেন উপনীত না হয় এ বিষয়ে আইন -শৃঙ্খলা বাহিনীকে পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়ে ঘটনার সমাপ্তি ঘটে । এর আগে ১৯৯০ সালের ২১ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার মিছিলে ছাত্রলীগের হামলার জের ধরে ২৫ ফেব্রুয়ারি মধুর কেন্টিনে এক সংঘর্ষে জহুরুল হক হলের ছাত্রলীগের ভিপি শহীদুল ইসলাম চুন্নু মাথায় গুলিবিদ্দ হয়ে মারা যান । এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করে ২০ মার্চের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে বলা হলেও তার হদিস মেলেনি আজ পর্যন্ত । ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্মর স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্তরে ছাত্রদল ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধে ক্রসফায়ারে ডা. মিলন প্রাণ হারান । ২০ জুন ১৯৯১ সালে সিট দখল নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের সূত্র ধরে আওয়মী ছাত্রলীগ ও জাসদ ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে জাসদ ছাত্রলীগের নেতা মাহবুবুর গুলিবিদ্ধ হন । দীর্ঘ ৪ মাস ধরে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে বিভিন্ন সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে ২৭ অক্টোবর ১৯৯১ সালে ছাত্রদল –ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে ভাষা ইনষ্টিটিউটের সামনে ছাত্রদল কর্মি মির্জা গালিব গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান । গালিব কে নেয়ার জন্য এগিয়ে গেলে ছাত্রদল কর্মি লিটন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান । এই ২ জনের মৃত্যুর পর ছাত্রদল ছাত্রলীগের উপর ব্যাপকভাবে গুলিবর্ষণ করলে রেজিষ্ট্রারের বাসভবনের সামনে ছাত্রলীগ কর্মি মিজানুর রহমান ও এক টোকাই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় । তখন কারফিউ জারি করে পরিস্থিতি আয়ত্বে আনা হয় । ৯ জানুয়ারি ১৯৯২ সালে টিএসসির সড়কদ্বীপে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা চলাকালে সংগঠনের দুই গ্রুপের কর্মিদের মধ্যে সংঘর্ষে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান বাদল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান । ১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ গণতান্ত্রিক ছাত্রঐক্য ও ছাত্রদলের মধ্যে গোলাগুলির এক পর্যায়ে ছাত্রইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় নেতা মইন হোসেন রাজু টিএসসির সড়কদ্বীপে গুলিতে নিহত হন । মৃত্যুর পর ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয় । ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৯২ সালে সূর্যসেন হল দখল কে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের ২ গ্রুপের সংঘর্ষে আশরাফুল আজম মামুন ও মাহমুদ হোসেন নামে ছাত্রদল নেতা নিহত হন । এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়া কেন্দ্রীয় কমিটি বাতিল ও বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা পর্যন্ত –ই ক্ষান্ত থাকেন । ১লা নভেম্বর ১৯৯৩ সালে চাঁদা আদায় ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে আভ্যন্তলীণ কোন্দলে মারা যান ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা জিন্নাহ । এ প্রেক্ষিতে ৮ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি-ই হয় সর্বশেষ বিচার । ২২ নভেম্বও ১৯৯৩ সালে নিজেদের মধ্যে টেন্ডারের চাদা নিয়ে কোন্দলের শিকার হয়ে মারা য়ান ছাত্রলীগের মন্টু গ্রুপের নেতা অলোক কান্তি । ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডাচের অভ্যন্তরে ছাত্রলীগের মধ্যে পরস্পর বিরোধী ২টি গ্রুপের গোলাগুলিতে নিয়ন্ত্রণ আনতে পুলিশের টিয়ারশেলের আঘাতে মারা যান বুলবুল নামে এক ছাত্র । এ ঘটনায় ৫ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি র মধ্যেই বিচার কার্য আটকে থাকে । ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৯৪ সালের ছাত্রদলের ২টি গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দ্বলে মিঠু নামে এক ছাত্র মারা যায় । ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ সালের ছাত্রলীগের জগন্নাথ হল নেতা জাকিরকে হলের মধ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় । ছাত্রলীগ এজন্য সরকারী কিলিং এজেন্টকে দায়ী করে । আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিরকেট সভা ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতেই বিচার কার্য সমাপ্ত করে । ১৩ মার্চ ৯৭ সালে ছাত্রদলের নেতা কামরজ্জামান নিয়ন্ত্রিত ইলিয়াস গ্র“প ও বরিশাল টিটু গ্রুপের মধ্যে আভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের হিসেবে মুজিব হলের ৩০৫ নং কক্ষে আরিফ কে গুলি করে হত্যা করে । এ ঘটনায়ও একটি তদন্ত কমিটিতেই শেষ । ২৩ এপ্রিল ৯৮ সালে সূর্যসেন হল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে পার্তপ্রতিম গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় । এ ঘটনার জন্যও একটি তদন্ত কমিটি করে । ২৯ মার্চ ২০০১ সালে ৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে খায়রূল আলম লিটন ওরফে কুত্তা লিটন মারা যায় । এ ঘটনার জন্যও ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে । ১৭ আগস্ট ২০০১ সালে গুলিবিদ্ধ হয়ে জিয়াউর রহমান হলের ছাত্রলীগ নেতা ফিরোজ নিহত হন্ । এঘটনায়ও ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি হয় । এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০১০ এফ রহমান হলে ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের সংঘর্ষে প্রাণ হারান মেধাবী ছাত্র আবু বকর । এ ঘটনায় ৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দেয় পুলিশ । তবে তা গ্রহণ না করে সিআইডি কে পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত । গত ২ বছওে আসামী গ্রেফতার তো দূরের কথা কাউকে জিজ্ঞাসা ও করা হয় নি । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও কেন্দী্রয় ছাত্ররাজনীতির আরেকটি গুর“ত্বপূর্ন স্থার বুয়েটে গত ২০ বৎসরে মারা গেছে ১৯ জন। যা তদন্ত কমিটি তেই সীমাবদ্দ থাকে বিচারকার্য । এদের মধ্যে ১২ জন এম এ রশিদ হলের ছাত্র ।এবং ৪জনের অস্বভাবিক মৃত্যু । ৭১ সালের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬২ টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে । ভয়াবহ এসব সংঘর্ষে ঝরে গেছে ২৯ টি তাজা প্রাণ । এছাড়াও আহত হয়েছে দুই হাজারের বেশী । এদের মধ্যে ২৭ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র । সংঘর্ষের পর অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থেকেছে ৬০০ দিন । নিহতদেও মধ্যে ১৫ ছাত্রশিবিরের , ৫ছাত্রলীগের , ৪ জন ছাত্রদলের , ২জন ছাত্রমৈত্রীর এবং ১জন ছাত্র ইউনিয়নের । এছাড়াও অন্যান্য বিশবিদ্যালয়ের ২/১ টি ঘটনা উল্লেখ করলে বোঝা যাবে সমগ্র দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভৎস চিত্র । চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৮৮ সালের ১৫ জানুয়ারি জাতীয় ছাত্রসমাজের হাতে নিহত হন আইনুর হক । ৮৮ সালের ১৮ এপ্রিল ট্রেন থকে নামিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা খুন করে আমিনুলকে । সর্বশেষ ২০১২ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের হামলায় মাসুদ ও মুজাহিদুল নামে ছাত্র শিবিরের দুই কর্মি নিহত হয় । ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯২ সালে ২৫ নভেম্বর হরিণায়নপুরে ছাত্রদল, ছাত্রলীগ ও ছাত্রমৈত্রীর যৌথ হামলায় নিহত হন সাইফুল । ৯৬ সালে ২৬ সেপ্টেম্বও ছাত্রলীগের হামলায় নিহত হয় আমিনুল । ৯৮ সালে ২৯ অক্টোবর ছাত্রলীগের হামলায় নিহত হন মুহসীন ও মামুন । এছাড়াও জাহাঙ্গীর নগর , কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় , শাহজালাল বিশ্ব বিদ্যালয় সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও অসংখ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে । তাতে ঝরে গেছে অসংখ্য তাজা প্রাণ । ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র রাজনীতির কারণেই ভীত হয়ে শাসক শোষক শ্রেণী পরিকল্পিতভাবে এসব হত্যাকান্ডের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ নষ্ট করার সুযোগ নিয়ে বেসরকারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করছে । যেখানে শিক্ষা থেকে সর্বোচ্ছ মুনাফার একটা অবাধ সুযোগ এবং ছাত্ররাজনীতির অনুপস্থিতির সুযোগে নিশ্চিত থাকে লুটপাটের নিরাপত্তাও । কিন্তু সব ক্যাম্পাস হত্যাকান্ডের প্রশ্ন একটাই – কী অদৃশ্য কারণে এসব হত্যাকান্ডের বিচার হলো না । আর সেক্ষেত্রে যুক্তির উত্তর হলো- রাষ্ট্রই এসব হত্যাকান্ডের হোতা এবং হত্যাকারীদের রাষ্ট্র পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে । পুঁজিবাদী – সাম্রাজ্যবাদি অর্থনীতি ব্যবস্থার নিজস্ব সংকটের চক্রাকারে একের পর সংকট ও মন্দায় নিমজ্জিত পুঁজিবাদী সাম্রাজৗবাদী দেশগুলো । সাম্রাজ্যবাদী লগ্নি পুঁজির অভয়ারণ্য বাংলাদেশে অবাধ লুটপাট, সীমাহীন দুর্নীতি, জনস্বার্থ বিরোধী পদক্ষেপ – এ সমস্ত কারণে ছাত্র জনতা দিন দিন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। বিশ্বব্যাংক , আই,এম , এফ র নীতি নির্দেশে এ কাজ করতে যেয়ে শাসক শোষক শ্রেণীর একমাত্র ভয় ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রআন্দোলনকে । আর সে কারণেই শাসক শোষক গোষ্ঠী তার শ্রেণী , সঙ্গী সাথী প্রতিক্রিয়াশীল মিডিয়া, বুদ্ধিজীবি বা সূশীল সমাজদের নিয়ে মাথা বেঁধে মাঠে নেমেছে ছাত্ররাজনীতির বদনাম দিয়ে ছাত্ররাজনীতিকে বন্ধ করার ষড়যন্ত্রে । তাই এ ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত উন্মোচন করার দায়িত্ব এই ছাত্রসমাজ বা ছাত্র আন্দোলনের কর্মিদেরকেই নিতে হবে । শাসক শোষক শ্রেণীর হাতের ক্রীড়ানক ছাত্ররাজনীতির বিপরীতে শক্তিশালী করতে হবে বিপ্লবী বিকল্প ধারার ছাত্ররাজনীতিকে ।

লেখক পরিচিতিঃ সুদীপ্ত শাহিন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ(ময়মনসিংহ জেলা)


মাওবাদী নেতা কমরেড ‘নিজামউদ্দিন মতিন’-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

মাওবাদী নেতা কমরেড ‘নিজামউদ্দিন মতিন’-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

মাওবাদী নেতা কমরেড নিজামউদ্দিন মতিন ১৯৫৫ সালে বরিশালের আলেকান্দায় এক মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি যখন নবম শ্রেণির ছাত্র, তখন বিশ্বব্যাপী বিপ্লবী লড়াই-সংগ্রামের তাত্ত্বিক ভিত্তি মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ও মাও সেতুঙ চিন্তাধারা ও মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন। ১৯৬৯ সালেই তিনি কমরেড সিরাজ সিকদার প্রতিষ্ঠিত বিপ্লবী পার্টি গঠনের প্রস্তুতি সংগঠন ‘পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলন’-এ যোগ দেন এবং বরিশাল শহরে কাজ শুরু করেন। মেধাবী ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও ১৯৭০ সালে তিনি দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় মাত্র ১৫ বছর বয়সে বুর্জোয়া একাডেমিক শিক্ষা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার মোহ ত্যাগ করে পেশাদার বিপ্লবীতে পরিণত হন।
সার্বক্ষণিক সংগঠক হিসেবে কমরেড মতিন চট্টগ্রামে নিয়োজিত হন এবং সেখানে গ্রামাঞ্চলে সংগঠন গড়ে তোলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পাবনায় কাজ করেন।
বিচ্ছিন্নতা ও যুদ্ধরত অবস্থায় কমরেড মতিন পার্টি গঠনের সংবাদ অবহিত হননি। পরে সংযোগ হলে তিনি কমরেড সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বাধীন ‘পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি’তে যোগ দেন।
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২ সালের মাঝামাঝি সময়ে কমরেড মতিন বিক্রমপুরে প্রধান সংগঠকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭৩-৭৪ সালে বিক্রমপুরে পার্টির বিপ্লবী সংগ্রামের উত্থান ঘটে। এরপর শেখ মুজিবের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে কমরেড সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে সারা দেশে বিপ্লবী লড়াইয়ের যে উত্থান সৃষ্টি হয় তাতে কমরেড মতিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। বিশেষ করে ১৯৭৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ সালের ১৬ জুন ও ১৫-১৬ ডিসেম্বর পার্টির আহ্বানে যে হরতাল পালিত হয়, সেখানেও কমরেড মতিন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৭৪ সালে কমরেড মতিন ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল পরিচালনা করেন এবং পার্টির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৭৪ সালে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সংকট নিরসনে সেপ্টেম্বর মাসের বর্ধিত অধিবেশনে কমরেড সিরাজ সিকদার ৬ সদস্যের যে রাজনৈতিক ও সামরিক সাহায্যকারী দুটি গ্রুপ গঠিত করেন তাতে কমরেড মতিন ছিলেন ‘সামরিক সাহায্যকারী’ গ্রুপের ১ নম্বর সদস্য।
১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি শেখ মুজিবের ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র্র কর্তৃক কমরেড সিরাজ সিকদার গ্রেফতার ও নিহত হলে পার্টি গুরুতর বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। পার্টির নেতৃত্বদানের মারাত্মক সংকটকালে সাহায্যকারী গ্রুপদ্বয়ের কোনো সিনিয়র সদস্য দায়িত্ব নিয়ে সভা আহ্বান না করলে কমরেড মতিন উদ্যোগী হয়ে সভা আহ্বান করেন এবং আলোচনার ভিত্তিতে পার্টির অস্থায়ী কেন্দ্র ‘অস্থায়ী সর্বোচ্চ সংস্থা (অসস)’ গঠন করেন। কমরেড মতিনের ওপর প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব অর্পিত হয়। পরে ১৯৭৫ সালের জুন মাসে পার্টির বর্ধিত অধিবেশনে তা সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়। সে সময় তিনি পার্টিকে গুছিয়ে পুনরায় বিপ্লবী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সমর্থনপুষ্ট খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে সামরিকবাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর কমরেড সিরাজ সিকদারের আগাম বিশ্লেষণ অনুযায়ী কমরেড মতিনের নেতৃত্বাধীন ‘অসস’ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে জাতীয় দ্বন্দ্বকে প্রধান দ্বন্দ্ব নির্ধারণ করে বিপ্লবী লড়াই অব্যাহত রাখে।
১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পার্টির দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কমরেড মতিন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন। তাঁর গ্রেফতারের কিছুকাল পরে পার্টি তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। জেলবন্দী অবস্থায় কমরেড মতিন আরেক জেলবন্দী নেতা কমরেড সুলতানকে নিয়ে গঠন করেন ‘পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির বিপ্লবী সত্তা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া’ যা সংক্ষেপে ‘সত্তা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পরে জেলে অন্তরীণ থাকাকালে দুই লাইনের সংগ্রামের প্রক্রিয়ায় তিনি কমরেড আনোয়ার কবীরের নেতৃত্বাধীন পার্টি-কেন্দ্র ‘সর্বোচ্চ বিপ্লবী’ পরিষদ (সবিপ)’র সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ১৯৭৮ সালে ঐক্যবদ্ধ হন।
১৯৮০ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় কমরেড মতিন নিপীড়নমূলক কারা-আইনের বিরুদ্ধে দুর্বার সংগ্রাম গড়ে তোলেন। সব জেলে পার্টির জেলবন্দী নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে সংগঠিত হয় জেল আন্দোলন।
সুদীর্ঘ ১০ বছর কষ্টকর বন্দীজীবনে তিনি মাওবাদ ও বিপ্লবের প্রতি আনুগত্যকে কখনো শিথিল করেননি এবং ১৯৮৬ সালে বন্দীদশা থেকে মুক্তি লাভের পর পুনর্বার বিপ্লবী অনুশীলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
‘অভূতপূর্ব বিপ্লবী অনুশীলন, ত্যাগ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কমরেড মতিন ১৯৮৭ সালে পার্টির দ্বিতীয় ও ১৯৯২ সালে তৃতীয় কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনেরও সদস্য ছিলেন।
তৃতীয় কংগ্রেসের পর দক্ষিণাঞ্চলের দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পিত হয়। তিনি তৃতীয় কংগ্রেসের গৃহীত লাইন অনুযায়ী বিপ্লবী লড়াই সূচনা করেন। পরে ’৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে পার্টি অভ্যন্তরে বিবিধ লাইন প্রশ্নে দুই লাইনের সংগ্রাম সূচিত হয়, যার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে পার্টি তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। কমরেড মতিন ১৯৯৯ সালের মে দিবসে গঠন করেন ‘পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন (এমবিআরএম)’।
নতুন কেন্দ্র গঠন করেই তিনি বিপ্লবী লড়াইয়ের সূচনা করেন এবং বেশকিছু সাড়া জাগায় ও বিকাশ ঘটায়। বিপ্লবী অনুশীলনের একপর্যায়ে তিনি গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় কমরেড নিজামউদ্দিন মতিন গত ১১ আগস্ট ২০১৯ দুপুর ১২টায় মৃত্যুবরণ করেন।
কমরেড নিজামউদ্দিন মতিনের ত্যাগীজীবন, অধ্যাবসায়, অবিরাম বিপ্লবী অনুশীলন ও বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস থেকে নতুন প্রজন্মের বিপ্লবীদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। কমরেড মতিন আজীবন নয়াগণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের জন্য লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে জনগণের সেবা করেছেন। তাই তাঁর মৃত্যু থাই পাহাড়ের চেয়েও ভারী। কমরেড মতিনের মৃত্যুতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হলো। কমরেড মতিনের স্মৃতির প্রতি আমরা জানাই লাল সালাম।

মাওবাদী নেতা কমরেড নিজামউদ্দিন মতিন স্মরণ কমিটি

কর্মসূচি
স্মরণসভা : ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার, বিকেল ৪টা
স্থান : আরসি মজুমদার মিলনায়তন(কলা ভবনের পেছনে), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়