১৮ই অক্টোবর- মাওবাদী নেতা ‘নিজামউদ্দিন মতিন’ এর স্মরণ সভা

 

১৮ অক্টোবর- মাওবাদী নেতা  ‘নিজামউদ্দিন মতিন‘ এর স্মরণ সভা

সুহৃদ,

মাওবাদী নেতা কমরেড নিজামউদ্দিন মতিন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত ১১ আগস্ট ২০১৯ দুপুর ১২টায় মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৬৯ সালেই কমরেড সিরাজ সিকদার প্রতিষ্ঠিত বিপ্লবী পার্টি গঠনের প্রস্তুতি সংগঠন ‘পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলন’-এ কমরেড মতিন যোগ দেন এবং আমৃত্যু জনগণের মুক্তি সংগ্রামে নিবেদিত ছিলেন।
কমরেড নিজামউদ্দিন মতিনের ত্যাগী জীবন, অধ্যাবসায় এবং এদেশের বিপ্লবী সংগ্রামে তাঁর অবদানকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার লক্ষ্যে আমরা স্মরণসভার আয়োজন করেছি। আগামী ১৮ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রমেশ চন্দ্র মজুমদার (আর সি মজুমদার) মিলনায়তনে স্মরণসভাটি অনুষ্ঠিত হবে। এ অনুষ্ঠানে দেশের বিপ্লবী আন্দোলনের নেতা ও বুদ্ধিজীবীবৃন্দ আলোচনা করবেন।
বিপ্লবী নিজামউদ্দিন মতিন এর স্মরণ অনুষ্ঠানে আপনাকে/আপনাদেরকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
সংগ্রামী শুভেচ্ছাসহ,

হাসান ফকরী,
আহ্বায়ক,
মাওবাদী নেতা কমরেড নিজামউদ্দিন মতিন স্মরণ কমিটি

সূত্রঃ https://www.facebook.com/events/2486969678244177/?active_tab=about


আবরার হত্যার প্রতিবাদে Democratic Students’ Association (DSA) এর বিবৃতি

আবরার হত্যার প্রতিবাদে Democratic Students’ Association (DSA) এর বিবৃতি

বাংলাদেশে, ছাত্র আবরার ফাহাদের নৃশংস হত্যা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় ফ্যাসিবাদী আক্রমণের তীব্র নিন্দা করছি। ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ও আধিপত্যবাদের পোষা দালাল বাংলাদেশেরএর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাঙ্গাত্মক সমালোচনা করায় হত্যা করা হল প্রতিবাদী ছাত্র আবরার ফাহাদকে। আবরার ফাহাদ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি- এর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। ভারত-বাংলাদেশ এর মধ্যে স্বাক্ষরিত অসম চুক্তিগুলিকে নিয়ে সে একটি বিদ্রূপমূলক পোস্ট করেছিল। গত ৬/১০/২০১৯ তারিখ রাতে তাকে ভারতের দালাল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ‘ছাত্রলীগ’ এর গুণ্ডারা নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আবরারের এই হত্যাকাণ্ড বাক-স্বাধীনতার তথা মুক্তচিন্তার অধিকারের ওপর একটি চরম আঘাত।সে আমাদের দেশেই হোক কিংবা বাংলাদেশে। সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ এর দালাল এই আধা-উপনিবেশগুলির শাসকশ্রেণি তাদের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে ফ্যাসবাদী কায়দায় জনবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকে। তাই শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী দেশপ্রেমিক হিসেবে কথা বললেই গ্রেপ্তার অথবা খুন করা হয়। ভারত রাষ্ট্রের মতোই বাংলাদেশ সরকারও যে একটি সামন্ততান্ত্রিক-ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র, ব্যক্তি-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক আবরারের হত্যায় তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে এসেছে। ভারতের মতো বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় মদতে শিক্ষাঙ্গনগুলিতে ফ্যাসিবাদী ছাত্র সংগঠনের অগণতান্ত্রিক সন্ত্রাসী কাজকর্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক সংকটে জর্জরিত গণতন্ত্রের মুখোশধারী প্রভুরা সামান্যতম যুক্তিগত প্রতিবাদও আজ শুনতে চাইছে না। রাষ্ট্রীয় ভীতিপ্রদর্শন, বলপ্রয়োগ ও হত্যার রাস্তাতেই তারা বিরুদ্ধ-স্বরকে খতম করতে চাইছে। আবরারের এই নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীরা। আবরার হত্যার বিচার ও জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা। BUET এর শিক্ষার্থীরা ৭ তারিখ সারাদিন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছেন। আমরা মনে করি যে কোন দেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গনগুলি সার্বিক জ্ঞানচর্চা ও মতপ্রকাশ ও আদানপ্রদানের উন্মুক্ত ক্ষেত্র। সে জন্যই বিশ্ব-বিদ্যালয় বলা হয়। কিন্তু আজ ফ্যাসিস্ত শক্তির দাপাদাপি থেকে কোন বিশ্ব-বিদ্যালয়ই আজ মুক্ত নয়। জোর করে মিছিলে হাঁটতে বাধ্য করা, ভীতি-প্রদর্শন ,ভিন্নমত দমন ও ছাত্রদের ওপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এর মাধ্যমে ফ্যাসিস্তরা সংগ্রামী গণতান্ত্রিক স্বরকে দমিয়ে দিতে চায়। কিন্তু এটাও সত্য ছাত্রদের সচেতন প্রতিবাদী অংশগ্রহণ ছাড়া কোন সমাজ সুস্থভাবে বিকশিত হতে পারে না। তাই ফ্যাসিবাদী ছাত্র-সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে দিকে দিকে ব্যাপক ছাত্রদের-প্রতিরোধ গড়ে তোলাই আজকের ছাত্রসমাজের আশু কাজ। লড়াইয়ের মাধ্যমেই শিক্ষাঙ্গনে গতিশীল মানবিক জ্ঞানচর্চার পরিবেশ আমাদের গড়ে তুলতে হবে। শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যার বিরুদ্ধে আমরা বাংলাদেশের ছাত্র-সমাজের সাথে সহমর্মিতা জানাচ্ছি ও এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানাচ্ছি।

সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারনবাদ নিপাত যাক।

ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক।

ছাত্র ঐক্য জিন্দাবাদ।

Democratic Students’ Association (DSA)

পশ্চিমবঙ্গ, ভারত