কমরেড মাও সেতুঙ-এর রচনা থেকে: আমলাতন্ত্রের ২০ ধরণের প্রকাশ বৈশিষ্ট্য

Mao-NYPL

ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০

. প্রশাসন বা সংগঠনের উচ্চতর /উচ্চস্তরের নেতৃবৃন্দ ধারণা রাখেন না বা তারা কম জানেন। তারা জনগণের মতামত বুঝতে চেষ্টা করেন না বা বোঝেন না। তারা অধ্যয়ন অনুসন্ধান করেন না। তারা সুনির্দিষ্ট কৌশল গ্রহণ করেন না। তারা রাজনৈতিক মতাদর্শগত আলোচনার কাজ করেন না। তারা বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত থাকেন, জনগণ থেকে দূরে থাকেন এবং পার্টি নেতৃত্ব থেকেও দূরে সরে থাকেন।

তারা সর্বদা নির্দেশনামা জারি করেন এবং তা নিষ্ফল-ব্যর্থ প্রমাণিত হয়। নিশ্চিতভাবে তারা দেশ ও জনগণকে ভুলপথে নিয়ে যান।

এবং সবশেষে তারা পার্টির ধারাবাহিক অবিচল নীতি পন্থায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। তারা জনগণের নাগাল পেতে ব্যর্থ হন বা জনগণের মন জয় করতে পারেন না।

. তারা নিজেদের নিয়ে উচ্চধারণা পোষন করে আত্মপ্রসাদ লাভ করেন। তারা রাজনীতি নিয়ে লক্ষ্যভেদবিহীন ভাবে আলোচনা করে থাকেন। তারা তাদের দায়িত্ব সম্পাদন করেন না। তারা কায়া ফেলে ছায়ার পেছনে ঘোরেন এবং তারা একচক্ষু বিশিষ্ট।

তারা কাউকে তোয়াক্কা করেন না। তারা জনগণকে বুঝতে চেষ্টা করেন না। তারা ভাবে রণোন্মত্ত এবং যুক্তিবিবেচনাহীন। তারা বাস্তবতার ধার ধারেন না এবং গোঁয়ারের মতো নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন/আরোপ করেন।

এটাই হলো কর্তৃত্বমূলক আমলাতান্ত্রিকতার ধরণ।

. তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যৃন্ত ব্যস্ততার ভাব নিয়ে থাকেন। তারা সারা বছর কাজের মধ্যে থাকার ভান করেন। তারা জনগণের চাহিদা-চিন্তা নিয়ে নিরীক্ষা করেন না। তারা বাস্তব বিষয়াদি নিয়ে গভীরভাবে ভাবেন না বা ভাবেন না। তারা জনগণের উপর আস্থা বা বিশ্বাস রাখেন না।

তারা কী নিয়ে আলোচনা করবেন বা বক্তব্য রাখবেন তা নিয়ে পূর্বপ্রস্তুতি নেন না। কী কাজ করবেন তা নিয়েও পরিকল্পনা করেন না।

এটাই বোধজ্ঞানশুন্য দিকভ্রষ্ট আমলাতন্ত্রের স্বরূপ। অন্যভাবে বললে একে রুটিনইজম বা নিয়মবাদ বলা যেতে পারে।

. তাদের ভাবভঙ্গিতে আমলাতান্ত্রিকতার নানামাত্রিক প্রকাশ ফুটে ওঠে।তারা পথ ঠাহর করতে পারেন না। তারা আত্মরতিতে মগ্ন থাকেন। তারা হাবভাব/হম্বিতম্বি/বিজ্ঞতার ভান করে সবকিছু তুরি মেরে উড়িয়ে দেন। তারা জনগণকে চোখ রাঙিয়ে তাদের বশীভূত করতে চায়। ক্রমাগতভাবে তারা জনগনের প্রতি বিষোদগার করে থাকেন। তাদের কাজের ধরণই হলো রূঢ়।তাদের জনগণকে তাদের সমমর্যৃাদা দিতে চান না। এটি জমিদারী আমলাতান্ত্রিকতার মতো।

. তারা অজ্ঞ বা জ্ঞানশুন্য কিন্তু তারা নিজেদের অজ্ঞতাকে স্বীকার করেন না এবং কোনো বিষয়ে জানার জন্য প্রশ্ন করতে লজ্জ্বাবোধ করেন। তারা মিথ্যা কথা বলেন এবং সবকিছুতে অতিরঞ্জন করে থাকে।

তারা নিজেরা ভুলেভরা কিন্তু তার বা সে ভুলের দায় চাপান জনগণের উপর। কিন্তু তারা সফলতার ভাগ বসাতে আগ বাড়িয়ে থাকেন। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে প্রতারণা করেন। তারা তাদের উচ্চস্তরের নেতৃত্বকে ভুল তথ্য দেয় বা প্রতারণা করে এবং তাদের অধস্তনদের বোকা বানিয়ে রাখে। তারা তাদের ভুলভ্রান্তিকে প্রকাশ করে না এবং ভুল পাশ কাটিয়ে যায়। এটাই শঠতামূলক আমলাতান্ত্রিকতা।

. তারা রাজনীতি বোঝেন না। তারা তাদের কাজও করেন না। তারা কাজের ভার অন্যের উপর চাপিয়ে দেন। তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন না। তারা ওজর দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে দূরে সরে থাকে। তারা বোধশুন্যহীন।তারা নিজেদের উপর নিয়ন্ত্রণ হারায়। এটাই অদায়িত্বশীল আমলাতান্ত্রিকতার লক্ষণ।

. তারা তাদের দায়িত্ব পালনে অমনোযোগী। তারা জীবন নির্বাহসর্বস্ব হয়ে যায়। তারা সবসময় ভুলই করে থাকে। তারা চারদিক রক্ষা করে চলে এবং তারা এত পিচ্ছিল যে তাদের ধরা যায় না। তারা উর্দ্ধতনের কাছে নিজেকে সম্মানীয় পরিগণিত করতে চেষ্টায় থাকে এবং নিচুস্তরের কাছে নিষ্কর্মা/জমিদারে পরিগণিত হতে থাকে। এটা, যারা চাকুরিজীবির মতো কাজ করে এবং জীবিকার খাতিরে কাজ করে, সেই ধরণের আমলাতান্ত্রিকতা।

. তারা রাজনীতিকে পুঙ্খানুপুঙ্খ শিখে না। তারা কাজের কাজি। তাই তাদের আলোচনার ধরণও হয়ে থাকে বিস্বাদ বা স্বাদহীন। তারা নেতৃত্বদানের সময় দিশাহীন। তারা তাদের দায়িত্বে অবহেলা করে থাকে অথচ প্রাপ্য পেতে চায়। তারা লোকদেখানো কাজেই সিদ্ধহস্ত। তারা জমিদারের মতো ঠাটবাট বজায় রাখে। এবং যে সকল কর্মী কঠোর পরিশ্রম করে কিন্তু উর্দ্ধতনের মনমতো কাজ করতে পারে না তখন তারা উচ্চস্তরের গালমন্দ শুনতে পায়। এই ধরণের আমলাতান্ত্রিকতা হলো ফাঁকিবাজির ও মেধাশুন্য আমলাতান্ত্রিকতা।

. তারা নির্বোধ বা জড়বুদ্ধিসম্পন্ন এবং দ্বিধাগ্রস্ত।তাদের নিজস্ব চিন্তা বলে কিছু নেই। তাদের মননে পচন ধরেছে।দিনশেষে তাদের বাগাড়ম্বরই সার।তারা পরিশ্রমী তো নয়ই এবং তারা একইসাথে অস্থিরচিত্তসম্পন্ন ও অজ্ঞ। এটা হলো নির্বোধ-জড়বুদ্ধিসম্পন্ন, অকর্মা আমলাতন্ত্রের ধরণ।

১০. তারা অন্যদের বলে দলিল পড়তে এবং তারা তা পড়ে থাকে। কিন্তু যে পড়তে বলে সে-ই নিজে তা না পড়ে ঘুমায়। তারা বিষয় সম্পর্কে না জেনে সমালোচনায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা ভুলের সমালোচনা করে এবং জনগণকে শাপান্ত করতে থাকে। ভুল থেকে উত্তরণের পথটি তারা খুঁজে পায় না।

তারা সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করেনা, বরং সমস্যাকে একপাশে রেখে দিয়ে বগল বাজায়। তারা তাদের উচ্চস্তরের নেতৃবৃন্দের মনযোগাতে ব্যস্ত থাকে। তারা তাদের অধস্তনদের কাছে নিজেকে বুঝদার জাহির করতে চায়, যখন তারা সামলাতে বা পেরে উঠতে সক্ষম না হয় তখন তাদের হিক্কা উঠতে থাকে অথবা ভাব দেখাতে থাকে।

যারা তাদের সমপর্যৃায়ের তাদের সাথে তারা সবসময় তর্ক চালাতে থাকে/সবসময় তারা অন্য আরেকটি তত্ত্ব এনে হাজির করে খাকে। এবং এটা হলো অলস আমলাতন্ত্রের ধরণ।

১১. সরকারের লটবহর বাড়তে থাকে এবং বেড়ে চলে। কিন্তু সমস্যার শেষ থাকে না। কাজের চেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সংখ্যা বেশি এবং তারা অলস সময় কাটাতে থাকে, তারা ঝগড়া ফ্যাসাদ বাধাতে থাকে, অনর্থৃক বিষয় নিয়ে আলোচনায় মেতে থাকে। জনগণ আরো অধিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকে কিন্তু তারা(আমলা/প্রশাসনিক ব্যক্তি) নিজেদের প্রকৃত দায়িত্ব পালন করে না। এটা সরকারী দপ্তরের আমলাতন্ত্র।

১২. দলিলাদির সংখ্যা অসংখ্য এবং এসকল জরুরী গোপনীয় লালফিতায় মোড়ানো নির্দেশনামা ক্রমবর্দ্ধমান। কিন্তু যে সকল প্রতিবেদন এসেছে তা অপঠিত অমূল্যায়িত থাকতে থাকে। অনেক ছক কষা হতে থাকে,কাজের তালিকা বাড়তে থাকে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। অনেক আলোচনার পরে বা বৈঠকের পরে কোনো সিদ্ধান্তই গৃহীত হয় না। একে অপরে সুহৃদ সদ্ভাব বজায় রাখে কিন্তু শিক্ষালাভ করা হয়ে ওঠেনা। এটাই লাল ফিতার ও আনুষ্ঠানিকতার আমলাতন্ত্র।

১৩. তারা সুখ খোঁজে, আমোদ খোঁজে; কিন্তু কষ্ট করতে ভয় পায়।তারা সবসময় পেছন দরজা দিয়ে বোঝাপড়া সেরে নেয়। নিজে দায়িত্ব পাবার পরে পরিবারের সবাই সুযোগ পেতে থাকে। একজন নিরবান লাভ করলো তো পরিবারের সবাই স্বর্গবাসী হয়ে গেলো। অনুষ্ঠান হলেই তারা ‘গিফট’ পেতে থাকে।

এটা ’চাঙবাড়া’ বা ‘অতিঅতিক্রমী’ আমলাতন্ত্রের লক্ষণ।

১৪. যত উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বসম্পন্ন তিনি হন তত তিনি সহিষ্ণুতা হারাতে থাকেন। তিনি তাকে নির্ভুল প্রমাণিত করতে ততই ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন। তার ঘরদোর ও আসবাবপত্রের বাহার বাড়তে থাকে এবং তার জিনিসপত্রের মান ভাল হতে থাকে।

উচ্চস্তর অধিক ভাগ পেতে থাকেন কিন্তু নিচের স্তরকে তার মূল্য দিতে হয়। বিলাসিতা বাড়তে থাকে, আবর্জনা বাড়তে থাকে। উচ্চ-নীচ-ডানে-বামে সবাই ‘মুই নয় হরি’/ ‘ভাজা মাছটিও উল্টে খেতে জানে না’ হয়ে থাকে।

এটা হলো দায়িত্বকে আকাশে ভিত্তিছাড়া ‍তুলে রাখার মতো আমলাতন্ত্র।

১৫. তারা অহংকারী হয়ে ওঠে। তারা সাধারণ জনতার মতো তাদের আকাংখার পূরণ ঘটায়। কারচুপি, সন্দেহ ঘনীভূত হতে থাকে। যত পায় তত তারা চায়, এবং চাহিদা তাদের বাড়তে থাকে। এটা হলো অহংকারী আমলাতন্ত্রের লক্ষণ।

১৬. তারা নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা ও অর্থের ভাগ নিয়ে বিবাদে লেগে থাকে, তারা খ্যাতি চায়, সুবিধা চায়। তারা ক্ষমতা চায় এবং তারা যদি তা না পায় তবে তারা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে। তাদের মেদ বাড়তে থাকে, তারা রোগা হতে থাকে।

তারা বেতন ভাতাদির ব্যাপারে বেশ সোচ্চার থাকে। তারা তাদের সহযোদ্ধাদের সাথে উঞ্চ সম্পর্ ধরে রাখে, কিন্তু জনগণকে তারা তোয়াক্কা করে না। এটা হলো ক্ষমতা ও অর্থের ভাগ নিয়ে বিবাদে লেগে থাকার আমলাতন্ত্রের ধরণ।

১৭. সংখ্যাভারাক্রান্ত নেতৃত্বমন্ডলী সুসসমন্বিতভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে না। তারা সবাই যে যার মতো করে পথ দেখাতে থাকে এবং তাদের কাজে হ-য-ব-র-ল/হযবরল হতে থাকে। নিজের চিন্তা চাপিয়ে দিতে গিয়ে তারা অন্যের চিন্তার থোরাই কেয়ার করে। উচ্চস্তর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় নিম্নস্তর থেকে এবং বিকেন্দ্রীকরণের কোনো নিশানাই থাকে না, গণতন্ত্র সেখান থেকে সরে চলে যায়।

এটাই একতাবিহীন আমলাতন্ত্রের লক্ষণ।

১৮. তখন আর কোনো সংগঠন বা সাংগঠনিক কাঠামো থাকে না, তারা নিজেদের বন্ধু-স্বজনদের মনোনীত করতে থাকে। এতে উপদলীয়বাদ সৃষ্টি হয়।

তারা সামন্তীয় ধারার সম্পর্ক বজায় রেখে চলে।

তারা ক্ষুদ্র দল সৃষ্টি করে নিজেদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য, এবং তারা একে অপরকে রক্ষা করে চলে।এতে সকল ক্ষেত্রে ব্যক্তিবাদিতা জাহির হতে থাকে। এই ব্যক্তিবাদি সাংগঠনিক কাঠামো জনগণের ক্ষতি করে থাকে। এটাই হলো গোষ্ঠীবাদী আমলাতন্ত্রের ধরণ।

১৯. তাদের বিপ্লবী আকাংখা ক্ষয়ে যেতে থাকে। তাদের এই রাজনৈতিক চরিত্র তাকে পরিবর্তিত করতে থাকে। তারা দেখায় যে তারা অনেক অনেক অভিজ্ঞ/ তারা কেতাদুরস্ত ভাব দেখায়। তারা দায়িত্বপালনকে লাটে ওঠাতে থাকে।

তারা যা ভাবে তা প্রকাশ করে না এবং যা করে তা ভাবে না।

তারা সহজেই কঠিন বিষয়কে এড়িয়ে যায়। তারা অসুস্থ না হলেও ডাক্তার ডাকে। তারা পাহাড়ে, সাগর সৈকতে সময় কাটাতে যায়। তারা ভাসাভাসা ভাবে সবকিছু করে থাকে। তারা নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে সবসময় ভাবতে থাকে। কিন্তু তারা জাতীয় স্বার্থ নিয়ে যারপরনাই চিন্তাই করে না। এটা হলো অধপতিত আমলাতন্ত্রের ধরণ।

২০. তারা খারাপ প্রবণতা পৃষ্ঠপোষকতা করতে থাকে এবং প্রতিক্রিয়াশীলতাকে উস্কে দেয়। তারা মন্দ লোকদের সাথে সংযোগ রাখে এবং খারাপ অবস্থাকে লাই দিতে থাকে। তারা আইন ভাঙতে থাকে। তারা সন্দেহজনক হতে থাকে। তারা পার্টি ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়ানক। তারা গণতন্ত্রকে পিষতে থাকে। তারা লড়াই চালায় এবং প্রতিশোধ নিতে থাকে। তারা খারাপ বা মন্দকে রক্ষা করতে আইন ও বিধি ভাঙতে থাকে।

তারা শত্রু ও মিত্রের মধ্যে পার্থক্য করে না।

এটাই ভ্রান্ত প্রবণতা ও প্রতিক্রিয়াশীল আমলাতন্ত্রের ধরণ।

অনুবাদ– মিঠুন চাকমা


মিন্দানাওয়ে ফিলিপিনের কমিউনিস্ট পার্টি(CPP)’র [মাওবাদী] সদস্যপদ ৪৭ শতাংশ বেড়েছে

formation (1)

দাভাও শহর – এশিয়ার দীর্ঘতম চলমান ফিলিপিন মাওবাদী বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকীতে মিন্দানাও কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টি(CPP)র সদস্যপদ এই বছরে ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।

CPP উত্তর কেন্দ্রীয় মিন্দানাওয়ের মুখপাত্র নরসেন মাংগুবাট এক বিবৃতিতে জানান, “আগের বছরের তুলনায় এই বছর পার্টির শাখা সংখ্যা ৪০% এবং পার্টির সদস্যপদ ৪৭% বৃদ্ধি পেয়েছে”।

মাংগুবাট দাবী করেন, পুরো অঞ্চলে তাদের গেরিলা যুদ্ধাবস্থা ২৮% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমাদের জনগণকে সংগঠিত করা ৩৯% বেড়েছে। নিউ পিপলস আর্মি(NPA)’র বিভিন্ন সক্রিয় অপারেশনের ফলে গ্রামাঞ্চলে আরো পার্টি শাখার বিস্তৃতি ও সদস্যরা এসেছে।

মাংগুবাট বলেন, “এই বছর আর্মি, পুলিশ, আধাসামরিক দল ও বিভিন্ন ডাকাত ও প্রতিক্রিয়াশীল গ্রুপের বিরুদ্ধে ১০৮টি সামরিক অ্যাকশন করা হয়েছে”। তিনি বলেন, NPA যোদ্ধাদের এবং উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন রাইফেল (HPR) যথাক্রমে, ১৪% এবং ১২% হারে বেড়েছে। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের কর্মকর্তা ও যোদ্ধাদের জন্য রাজনৈতিক-সামরিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে যাচ্ছি, আমরা আঞ্চলিক পর্যায়ে নীচের স্তর থেকেই কমান্ড সিস্টেমকে জোরদার করার সংগ্রাম করছি। পৌর কমান্ড সম্মেলন সহ প্রতিটি স্তরেই আমাদের জনমিলিশিয়াদের নিয়মিত ভাবে কমান্ড সম্মেলন করা হয়” ।

মাংগুবাট বলেন,  মজুরী বাড়ানো, কারখানা ফি কমানো, খামার ও কৃষি পণ্যের দাম বৃদ্ধি, সুদের হার কমানো, ধান ক্ষেতে শ্রমিকের palay শেয়ার বৃদ্ধি, রক্ষণাবেক্ষণকারীদের শেয়ারের বৃদ্ধি ও সমবায় চালু এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য যৌথ খামার” -পার্টির এই সকল কৃষি ভিত্তিক সংগ্রামে ১০,০০০ বেশী জনগণ উপকৃত হয়েছে।

এক সেনা কমান্ডারের দাবী করা -“গ্রামাঞ্চলে উন্নয়নের কারণে বিদ্রোহীদের সশস্ত্র সংগ্রাম এখন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে” এই মিথ্যা বক্তব্যের বিপরীতে পার্টির বিকাশের উল্লেখিত তথ্য/পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে মাংগুবাট আসল সত্যটি তুলে ধরেন।

অনুবাদ সূত্রঃ http://davaotoday.com/main/politics/47-more-communists-in-a-mindanao-region/


ফিলিপিনঃ মিন্দানাওয়ে আরো ৬টি গেরিলা ফ্রন্ট গঠন করেছে মাওবাদীরা

npa_southern_mindanao01

দাবাও শহর – ফিলিপিনের জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট(NDFP) জানাচ্ছে, সরকারী সশস্ত্র বাহিনীর ৬০ শতাংশ স্থাপনার সত্ত্বেও মিন্দানাও দ্বীপে বিপ্লবী কার্যক্রমের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।  ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টি(CPP)’র রাজনৈতিক শাখা NDFP গত শনিবার পার্টির ৪৭তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে। CPP এর “দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ” এশিয়ার দীর্ঘতম চলমান বিদ্রোহ হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছে।

NDFP মিন্দানাওয়ের মূখপাত্র কা ওরিস জানান, বিপ্লব দমনের উদ্দেশ্যে সরকার সামরিক বাহিনীর ৬০ শতাংশ, NPA এর এলাকাগুলোতে মোতায়েন করেছে।মিন্দানাওয়ে সশস্ত্র ও নিরস্ত্র জনগণের উপর নৃশংস আক্রমণ ও অভিযান চালানোর জন্যেই এই Oplan Bayanihan (OPB) বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তাই কৌশলী অভিযানের সংখ্যা আরো বৃদ্ধির জন্যেই মিন্দানাওয়ে NPA  এর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ২০১০ সালে একুইনোর শাসনামলে NPA এর যেখানে ৪০টি গেরিলা ফ্রন্ট ছিল, সেখানে বর্তমানে ৫টি অঞ্চলে ৪৬টি গেরিলা ফ্রন্টে NPA তাদের বাহিনী সম্প্রসারিত করেছে। ২০১০ সালে যেখানে ২০০টি শহর ও পৌরসভা ছাড়াও ১৮৫০টি গ্রামে NPA এর কার্যক্রম ছিল, সেখানে বর্তমানে ২০০০টি গ্রামে NPA তাদের কাজ সম্প্রসারণ করেছে। ২০১০ সালে যেখানে NPA  এর গণভিত্তি ১,৩০,০০০ ছিল বর্তমানে তা বেড়ে ২,০০,০০০ তে দাঁড়িয়েছে।  এ ছাড়াও মিন্দানাওয়ে এই বছর একটি ব্যাটেলিয়ন সমতুল্য সেনাবাহিনীকে NPA খতম করেছে।

images

অনুবাদ সূত্রঃ http://davaotoday.com/main/politics/ndf-6-more-guerrilla-fronts-formed-in-mindanao/


তুরস্কঃ অমর মাওবাদী নারী গেরিলা কমরেড Yeliz Erbay ও Sirin Öter লাল সালাম

1919128_1236395943041329_5690230184022804458_n

গত ২২শে ডিসেম্বর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই মাওবাদী কমিউনিস্ট নারী গেরিলা কমরেড Yeliz ErbaySirin Öter কে এক বাড়িতে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের নামে আহত আবস্থায় হত্যা করেছে ফ্যাসিস্ট পুলিশ। সমাজতান্ত্রিক নারী কাউন্সিল (SKM) ও মার্কসবাদী লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্ট (MLCP)-র কেন্দ্রীয় কমিটি এক বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে SKM বলেন, পুলিশের গোলাগুলিতে তারা যখন আহত হয়, তখনি কমরেড “Yeliz Erbay এবং Sirin Öter কে ভুয়া সংঘর্ষের নামে হত্যা করে পুলিশ। কুর্দি সম্প্রদায়ে জন্ম নেয়া এই দুই কমরেড সমাজতান্ত্রিক নারী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তারা দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন মাওবাদী আন্দোলনে যোগ দেন। ফ্যাসিবাদী তুরস্ক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলনে নারীদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের অবদান খুবই উজ্জ্বল। এর মধ্যে কমরেড Yeliz Erbay, MLCP-র ৫ম কংগ্রেসে কমিউনিস্ট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

mlkp_3

অনুবাদ সূত্রঃ

http://jinha.com.tr/en/ALL-NEWS/content/view/39806

http://www.kaypakkayahaber.com/haber/gule-gule-yoldaslar-direnisinizi-ve-kavganizi-buyutecegiz


ভারতঃ মাওবাদী লিঙ্ক সন্দেহে কবির কলা মঞ্চের শিল্পী দম্পতি গ্রেফতারের প্রতিবাদে মিছিল ও সভা

11329883_757973254315444_2137629074106728376_n

গত বৃহস্পতিবার বারামতিতে পুনে ভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন কবির কলা মঞ্চের (KKM)  শিল্পী দম্পতি  শচিন মালি ও শীতল সাথে’র সমর্থনে বিভিন্ন দলিত ও সামাজিক সংগঠন থেকে প্রায় ২০০ কর্মী গ্রেফতারকৃত এই দম্পতির সমর্থনে এক নীরব কুচকাওয়াজ করে । সিপিআই(মাওবাদী)’র সাথে লিঙ্কের অভিযোগ এনে রাষ্ট্র সন্ত্রাস বিরোধী স্কোয়াড (ATS)  তাদের গ্রেফতার করে। এসব কর্মীরা “শাহির শচীন মালি মুক্তাত ক্রুতি সমিতি, বারামতি” এর ব্যানারে সমবেত হয়ে আর্থার রোড কারাগারে আটক শচীনের মুক্তির দাবি জানান।

শীতল জামিনে মুক্ত আছেন এবং সামাজিক ও বিপ্লবী গান ও কবিতা নিয়ে “শাহীরি জলসা”র গানের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমর্থন চাইছেন। হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিজি কোলসে পাতিলের উপস্থিতিতে মোর্চার এই প্রদক্ষিণ ডঃ বাবা সাহেব আম্বেদকর থেকে শুরু হয়ে নতুন প্রশাসনিক ভবনে এসে শেষ হয়। কোলসেএ সময় তার বক্তৃতায় কর্মীদের শচীন মুক্তির দাবিতে “জেলে ভরো” আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বলেন। তিনি বলেন, “শচীন ও শীতলকে মিথ্যাভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, এটা দলিত শিল্পীদের নকশাল হিসেবে তকমা দেয়ার একটি ষড়যন্ত্র”।

অনুবাদ সূত্রঃ http://indianexpress.com/article/cities/mumbai/in-baramati-silent-march-around-artiste-couple-arrested-for-maoist-links/

.


“আমার জন্ম হয় পার্টিতে” : মাওবাদী নারীরা

13TH_WOMAN_NAXAL-2_2655198f

সিপিআই (মাওবাদী) এ যোগদানকারী অন্ধ্র প্রদেশের প্রথম নারী কুরসেঙ্গা মোতিবাই ওরফে রাধাক্কা গত ১২ই ডিসেম্বর ২০১৫ জামিনে মুক্তি পান। তেলেঙ্গানা রাজ্যের আদিলাবাদের আদিবাসী গোন্ডি এই নারী ২৮ বছর আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিলেন। খাম্মাম জেলায় গ্রেফতার হবার সময় তিনি বস্তারের বিভাগীয় কমিটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। মাওবাদীরা নিজেরাই তাদের অভ্যন্তরীণ একটি দলিলে স্বীকার করেছে যে খুব বেশী নারী দলে নেতৃত্বের অবস্থানে যেতে পারেননি; সেদিক থেকে রাধাক্কা ব্যতিক্রম। আরো বড় ব্যতিক্রম ছিলেন অনুরাধা গান্ধী যিনি শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে গঠিত ক্ষমতাধর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

সিপিআই (মাওবাদী) এর অভ্যন্তরীণ একটি দলিল থেকে অংশ বিশেষ নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ

নারী ফ্রন্টে আমাদের কার্যক্রম এখনো সন্তোষজনক নয়। অনেক রাজ্যে নিয়োগের হার ভাল নয়, নারী ক্যাডারদের বাছাই-পদমর্যাদা-পদোন্নতি এখনো নিয়মানুগ পরিকল্পনা মাফিক নয়। নারীদের আন্দোলন গড়ে তোলা, ক্যাডার নিয়োগ দেয়া ও নারীদের থেকে নেতৃত্ব পর্যায়ে পদোন্নতি প্রদানের প্রয়োজনীয়তা এবং বিশাল সম্ভাবনার তুলনায় আমাদের প্রচেষ্টা অপ্রতুল। এই ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে পিতৃতন্ত্র।  

সিপিআই (মাওবাদী) এর পূর্ববর্তী সিপিআই মার্কসবাদী-লেনিনবাদী (গণযুদ্ধ)/Communist Party of India –– Marxist-Leninist (People’s War) এর সময়ে নারী আন্দোলন গড়ে তোলা ও নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নানাবিধ উদ্যোগ চিহ্নিত করেছিল মাওবাদীরা।

সেগুলো হলঃ

কৃষি শ্রমিক ও দরিদ্র খামারি নারীদেরকে ভূমি বন্টনের ক্ষেত্রে সমানাধিকার প্রদান।

স্বচ্ছল পরিবার থেকে উঠে আসা নারীদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ও নিজে রোজগারকৃত সম্পত্তিতে সমানাধিকার।

সমান শ্রমের জন্য সমান মজুরী প্রদান।

নারীদের উপর শারীরিক নির্যাতন দূরীকরণ ও পতিতাবৃত্তির সম্পূর্ণ বিলোপসাধন।

নারীদের উপর অত্যাচার দূরীকরণ ও অপরাধীকে চরম শাস্তি প্রদান।

যৌতুক প্রথার বিলুপ্তি সাধন।

জাঁকজমকপূর্ণ বিবাহ অনুষ্ঠানের বিলুপ্তি ও সাদাসিধে, অসবর্ণ বিবাহ অনুষ্ঠান আয়োজনে উৎসাহ প্রদানের দাবী।

সরকারী চাকুরীতে নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ কোটা বরাদ্দকরণ।

বালিকা ও সহশিক্ষা বিদ্যালয়গুলোতে বিনা বেতনে, বাধ্যতামূলক শিক্ষার জন্য সংগ্রাম করা।

শিক্ষা পদ্ধতিতে মেয়েদের প্রতি বৈষম্যের/বিকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করা।

লিঙ্গ নির্ণয় পরীক্ষা ও কন্যা ভ্রূণ হত্যার বিরুদ্ধে লড়াই করা।

কিশোর ও কিশোরীদের মধ্যকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা।

নারীদের প্রতি অবমাননাকর ধর্মীয় প্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করা।

‘ব্যক্তিগত আইন’ এর বিরুদ্ধে লড়াই করা।

গণমাধ্যম সহ সকল পর্যায়ে নারীদের মর্যাদাহানিকর উপস্থাপনের বিরুদ্ধে লড়াই করা।

একইভাবে, নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের আগমন ঘোষণা করার পর নারী আন্দোলন যে সকল দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রম হাতে নেবে সেগুলোও মাওবাদীরা চিহ্নিত করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

সামাজিক উৎপাদনে নারীদের পূর্ণাঙ্গ অংশীদারিত্ব; যেমন, উৎপাদনে নারী ও পুরুষের মধ্যকার সম্পর্কের রূপান্তর।

গৃহস্থালী কর্মকাণ্ডে যৌথ ভূমিকা পালন।

গৃহস্থালী কাজে নারী ও পুরুষের যৌথ সম্পৃক্ততা।

রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার যৌথ অনুশীলন।

ব্যক্তিগত সম্পদের/সম্পত্তির যৌথ সম্পদে/সম্পত্তিতে রূপান্তর ও পিতৃতন্ত্রের বিলোপ সাধনের সংগ্রাম।

ব্যক্তিগত, পারিবারিক ব্যবসা/কারখানার বিলুপ্তি সাধন করে যৌথ উৎপাদন ও মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা।

ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও বিশ্ব জুড়ে নারী আন্দোলনসমূহকে সমর্থন প্রদান।

images

আন্ডারগ্রাউন্ডে নারীদের যোগদানের পিছনে প্রায়শঃ যে কারণগুলো উল্লেখ করা হয় তা হল, মাওবাদীদের বিভিন্ন স্কোয়াড গ্রামে ঘুরে ঘুরে বক্তব্য রাখে ও সাংস্কৃতিক দলগুলো বিপ্লবী গান শোনায়। এই অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য ও গান সংবেদনশীল বয়সে তাদের মনে দাগ কাটে। ২০০২ সালের বসন্তকালে সারিথা নামের ছটফটে মেয়েটি এই প্রতিবেদককে বলেছিল, “আমার গ্রামে ঘুরতে আসা মাওবাদী স্কোয়াডের উদ্দীপনামূলক ও জ্বালাময়ী গান আমাকে উৎসাহ যুগিয়েছিল”।

নারীদের কেউ কেউ তার পরিবারের সদস্যদের (স্বামী, ভাই, চাচা) দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েও মাওবাদী আন্দোলনে যোগদান করে। যেমন, উত্তর তেলেঙ্গানা বিশেষ জোনাল কমিটির সদস্য অনসূয়া। কোলের ছেলেকে শাশুরির কাছে রেখে এসে স্বামী কোমারাইয়াকে অনুসরণ করে তিনি মাওবাদী আন্দোলনে যোগদান করেন।

নেলাকোন্দা রাজিথার গল্পটা আবার ভিন্ন। তেলেঙ্গানার করিমনগর জেলার আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ছাত্রীনেত্রী রাজিথা উত্তর তেলেঙ্গানা বিশেষ জোনাল কমিটির একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন। আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকাকালীন তিনি সান্ডে রাজামৌলির সান্নিধ্যে আসেন এবং তাকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে রাজামৌলি কেন্দ্রীয় কমিটি ও কেন্দ্রীয় মিলিটারি কমিশনের সদস্য পদ লাভ করেন। ২০০২ সালের জুলাই মাসে একটি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রাজিথা নিহত হন এবং রাজামৌলি নিহত হন ২০০৭ সালের জুন মাসে। ৯০ এর দশক থেকে বর্তমান দশকে মাওবাদীদের ভেতরে নারী ক্যাডারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

Anuradha_Ghandy

মাওবাদীদের মাঝে প্রায় ৪০ শতাংশ নারীদের বড় অংশই এসেছে ভারতের গ্রামীণ ও আদিবাসী এলাকা থেকে এবং তারা যোদ্ধা। কেউ কেউ আছেন শহর থেকে আসা উচ্চশিক্ষিত তাত্ত্বিক নেতা। এই শ্রেণীর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে বলতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক অনুরাধা গান্ধীর নাম। সেরেব্রাল ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুবরণ করার আগে সর্ব ভারতীয় নারী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী অনুরাধা ছিলেন সিপিআই (মাওবাদী) এর কেন্দ্রীয় কমিটির একমাত্র নারী সদস্য। তিনি ছিলেন ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে দিল্লি থেকে গ্রেফতার হওয়া সিপিআই (মাওবাদী) এর পলিটব্যুরো্র সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচারণা ব্যুরোর (Central Propaganda Bureau) প্রধান কোবাদ গান্ধীর স্ত্রী।

মাওবাদী পদে নারীদের যোগদানের পিছনে কোন একটি বিশেষ কারণ নেই। কেউ কেউ আন্ডারগ্রাউন্ডে যোগ দিয়েছেন হতাশা থেকে। গ্রামের উঁচু ও ক্ষমতাশালীদের কাছে নির্যাতিত হওয়াও আরেকটি কারণ। একটি পরিবারের সব বোনদের কিংবা একটি পরিবারের সকল সদস্যের বিপ্লবে যোগদানের উদাহরণও রয়েছে।

এই প্রতিবেদককে একজন নারী ক্যাডার বলেছিলেন, “পার্টিতে আমার জন্ম হয়”। তার বাবা মায়ের পরিচয় হয় আন্ডারগ্রাউন্ডে, এরপর বিয়ে। কয়েক বছর পর তার জন্ম হয়। কল্যাণ অধিদপ্তর পরিচালিত একটি স্কুলে তিনি পড়তেন আর ছুটিতে বাবা মায়ের সাথে দেখা করতে যেতেন। পরবর্তীতে তিনিও পার্টিতে যোগদান করেন ও আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যান। দণ্ডকারণ্যতে নানা ভাবে পিতৃতন্ত্রের অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে মাওবাদীদের সচেতন প্রচেষ্টা নারীদেরকে আন্ডারগ্রাউন্ডে কিংবা গণ সংগঠনে যোগদান করতে সহযোগিতা করেছে।

জোরপূর্বক বিয়ে এবং আত্মীয়দের (খালাতো/মামাতো/চাচাতো/ফুপাতো ভাই বোন) মধ্যে বিয়ে বন্ধ করার ক্ষেত্রে মাওবাদীরা বেশ সফল হয়েছে। বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে নারীরা মাওবাদে যোগদান করে। তারা মনে করে না যে পার্টিতে যোগদান করে তারা কোন ভুল করেছে। মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব, তৎকালীন সামাজিক অবস্থা, ব্যক্তিগত সমস্যা, আত্মীয় পরিবারের প্রভাব ও মতাদর্শগত অনুপ্রেরণা থেকে নারীরা মাওবাদে যোগদান করে। সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এতটা শক্তিশালী আকার ধারণ করে যে একটা পর্যায়ে গিয়ে তারা মাওবাদে যোগদান না করে পারে না।

maoists-chhattisgarh_edfc50c8-6ffa-11e5-9358-ce0f694bc37c

লিখেছেন পি ভি রামানা

১৫ ডিসেম্বর ২০১৫

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.idsa.in/idsacomments/women-in-maoist-ranks_pvramana_151215


‘বক্সাইট খনি খননের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত’

11vzgss03-Triba_13_2616972fজেররিলা ও চিন্তাপল্লীর সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১২১২ হেক্টর জমিতে বক্সাইট খনির প্রস্তাবিত কাজ শুরুর জন্য সরকার জঙ্গলের জমি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে। আর এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রায় ৮,০০০ আদিবাসী যারা সক্রিয়ভাবে সরকারের এই নির্দেশের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি জনগণের ক্ষোভ ও বিরোধীতা বেড়েই চলেছে। বক্সাইট খনি উত্তোলনের বিরোধীতার প্রশ্নে নারী, পুরুষ, তরুণ সকলেই সহমত; তারা কেউই নিজেদের এলাকায় বক্সাইট খনি খননের কাজ করতে দেবেন না। ৫ নভেম্বর সরকারের জারীকৃত GO 97 বাতিলের দাবীতে সকলেই ঐক্যবদ্ধ। বক্সাইট খনির খননকাজের ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন ৭৩টি স্থান থেকে আদিবাসীরা এ সভায় উপস্থিত হন।

জেররিলা পঞ্চায়েতের জনসভায় নারী, পুরুষ, যুবা সকলে তাদের প্রচলিত অস্ত্রশস্ত্র সাথে নিয়ে জমায়েত হয়ে বলেন, “বক্সাইট খনিতে কিছু হলে এর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”

বক্সাইট খনন কাজের ফলশ্রুতিতে খোন্ড, নুকা, দোরা, বাগাতা ও মান্নে আদিবাসী গোষ্ঠীর জনগণ বাস্তুচ্যুত হবে। এই সব আদিবাসী গোষ্ঠীর কিছু কিছু বিলুপ্তপ্রায়। সরকারের কাছে এজেন্সি এলাকায় বক্সাইট খনির কাজ বাতিলের দাবী জানিয়ে অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানার মানবাধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ভি এস কৃষ্ণ বলেন, “আদিবাসীদের অনেকে একাধিকবার বাস্ত্যচ্যুত হয়েছে। এর ফলে তারা পুনরায় তাদের জমি, জল ও জঙ্গল থেকে বাস্তুচ্যুত হবে।”

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.thehindu.com/news/cities/Visakhapatnam/ready-for-armed-struggle-against-bauxite-mining/article7867803.ece