মাওবাদী হিসেবে অভিযুক্ত কারামুক্ত ভারতীয় সাংবাদিকের লড়াই অব্যাহত রাখার প্রত্যয়

দেড় বছর পর মুক্তি পাওয়া সাংবাদিক সন্তোষ যাদব। মার্চ ১২, ২০১৭। [সন্তোষ যাদবের সৌজন্যে]

সাংবাদিক সন্তোষ যাদবের মতে মধ্যভারতের বামপন্থী মাওবাদী গেরিলা অধ্যুষিত অঞ্চলে পুলিশি নিষ্ঠুরতার বিপক্ষে লেখার জন্যই তাঁকে বন্দী ও নির্যাতন করা হয়েছিল।

প্রায় দেড় বছর কারাবাসের পর গত সপ্তায় জগদলপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মাওবাদী অধ্যুষিত ছত্রিশগড়ের ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক সন্তোষ যাদব মুক্তি পান। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁকে মাওবাদী সমর্থক অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

মধ্য ও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ও বনাঞ্চলে ঘাঁটি করে ১৯৬০ সাল থেকে মাওবাদীরা ভারতীয় নিরাপত্তা রক্ষীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে। মাওবাদীরা নকশাল হিসেবেও পরিচিত।

চীন বিপ্লবের নেতা মাও সেতুং এর অনুসারী এই বামপন্থীদের দাবি, তারা বনাঞ্চল থেকে সরকার কর্তৃক উচ্ছেদ হওয়া দরিদ্র এবং ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

২০১৪ সালে হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছত্রিশগড়ের অন্তত অর্ধ ডজন সাংবাদিককে হয় গ্রেপ্তার, না হয় এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। সন্তোষ তাঁদের মধ্যে একজন।

সন্তোষের মতে, ছত্রিশগড় সাংবাদিকদের জন্য একটা উভয় সঙ্কটের স্থান।

“যারা মাওবাদী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে লেখে, যা অনেক ক্ষেত্রেই হয় পুলিশি নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা, তাঁদেরকে পুলিশও প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে,” বেনারেক বলেন সন্তোষ।

সন্তোষের আইনজীবী অরবিন্দ চৌধুরীর মতে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়েছিল।

“পুলিশ বলছে যে তারা সন্তোষকে একটি অভিযানের সময় মাওবাদীদের সাথে দেখেছে। একজন কর্মকর্তা বলেছেন অন্ধকার রাতে ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়ে তিনি সন্তোষকে দেখে চিনতে পারেন। অথচ সেই কর্মকর্তাই কিন্তু তাঁকে অন্যান্যদের মধ্যে দেখে চিহ্নিত করতে পারেননি,” বেনারকে বলেন এই আইনজীবী।

তবে বিষয়টি এখন আদালতের এখতিয়ারে রয়েছে বলে ছত্রিশগড়ের দুজন উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার কেউ সন্তোষ যাদবের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাক্ষাৎকার

মুক্তির পর সন্তোষ যাদব বেনারের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। কথোপকথনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অংশ:

প্রশ্নঃ আপনাকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল?

সন্তোষ যাদব: আমি সংবাদ পেয়েছিলাম যে, পুলিশ কয়েকজন আদিবাসীকে পাশের একটি গ্রাম থেকে ধরে নিয়ে গেছে। তখন আমি তাঁদের পরিবারের সাথে কথা বলার জন্য সেখানে যাই। পরে পরিবার সদস্যদের অনুরোধে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে আমি তাঁদের সাথে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে যাই। সেখানে পুলিশ দাবি করে যে, গ্রেপ্তারকৃতরা মাওবাদী এবং তাঁরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তারা ছিল নিরীহ গ্রামবাসী। আমি পুলিশকে এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করায় পুলিশ আমাকে সন্ত্রাসে মদদ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে।

প্রশ্নঃ আপনি কখন আপনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো জানতে পারেন?

সন্তোষ যাদব: অনেক পরে। আটক করার কয়েকদিন পর আমাকে জানানো হয় যে, মাওবাদীদের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আমাকে আটক করা হয়েছে। আমি নাকি অভিযানের সময় মাওবাদীদের সাথে ছিলাম। সত্য হলো সেদিন আমি ওই এলাকাতেই ছিলাম না।

প্রশ্নঃ গ্রেপ্তারের পর কী ঘটেছিল?

সন্তোষ যাদব: আমাকে জগদলপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রায় প্রতিদিনই অমানবিকভাবে মারধর ও নির্যাতন করা হতো। সেখানে জীবন যাপনের ব্যবস্থা ছিল দুর্বিসহ। অখাদ্য খাবার খেয়ে আমাকে সেখানে থাকতে হতো। যতদিন পারা যায় সহ্য করে আমি প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু জেলখানার নিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা মানে, বাড়তি আরো কিছু নির্যাতন ডেকে আনা ছাড়া আর কিছু না।

প্রশ্নঃ আপনার গ্রেপ্তারে আপনার পরিবারের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

সন্তোষ যাদব: আমার তিন মেয়ে। আট বছরের দিব্য, চার বছরের ইসমেয়া এবং আমার গ্রেপ্তারের সময় ছোটটির বয়স ছিল মাত্র এক মাস। আমার স্ত্রী পুনম মাতৃসেবা ও পরিচর্যার কাজ করে। আমার বাবা একজন পিয়ন। আমার ছোট মেয়েটার নাম রাখার আগেই আমি গ্রেপ্তার হয়ে যাই। আমার স্ত্রী আমি মুক্তি পাবার আগ পর্যন্ত মেয়েটির নাম রাখতে চায়নি। আমরা এখনো তার নাম ঠিক করিনি। আমার পরিবার সব সময় আমার পেছনে একটি বিশাল সমর্থন হিসেবে ছিল, তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচুর কাজ করেছে।

প্রশ্নঃ আপনার পরবর্তী পরিকল্পনা কী?

সন্তোষ যাদব: আমি ছত্রিশগড় থেকেই সংবাদ প্রচার অব্যাহত রাখব। এই ঘটনা আমাকে আমার কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। আমি নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখব। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো যেমন বন্ধ হওয়া দরকার, তেমনি কাউকে না কাউকে তো ভারতের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধে সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ এবং আদিবাসী মানুষদের মুখপাত্র হিসাবে কথা বলতেই হবে।

 

এক নজরে সন্তোষ যাদব

নবভারত এবং দৈনিক ছত্তিশগড়ের পূর্বতন কর্মী। সশস্ত্র সংগঠন, ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদি) নামক নিষিদ্ধ গোষ্ঠির সদস্য হিসাবে অভিযুক্ত। ইউ,এ,পি,এ এবং সি,এস,পি,এস,এ ধারাগুলিতে অভিযুক্ত। দোষী সাব্যস্ত হলে ১০বছরের সাজা।

বাস্তার জেলার দারবা নামক ছোট্ট একটি জনপদে সন্তোষ যাদবের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। স্কুলে পড়ার সময় তার ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে পুলিশ অফিসার হবার। কিন্তু হয়ে গেলেন সাংবাদিক। নিজের এলাকায় মাওবাদি সংগঠন এবং পুলিশি অত্যাচারের খবর বাইরের জগতের কাছে পৌছে দেওয়াই তার মুখ্য কাজ। নবভারত এবং দৈনিক ছত্তিশগড় নামক জাতীয় এবং স্থানীয় সংবাদপত্রের সংবাদ পরিবেশক। কিন্তু রাষ্ট্রের সপক্ষে সংবাদ পরিবেশন করতে না চাওয়ার কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দরবা জঙ্গলের ভেতর মাওবাদি দমনের নামে বদ্রিমাহু গ্রামের ৫জন আদিবাসীকে রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য তাদের মিথ্যা মামলায় ফাসানো হয়েছে। সন্তোষ যাদব বদ্রিমাহু থেকে শুধু এই ঘটনার বিবরণ পাঠিয়েই ক্ষান্ত হননি, আদিবাসীদের জগদলপুরের আইনি সহায়তা কেন্দ্রের সাথেও যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছেন, যাতে তারা আদালতে এই গ্রেফতারির বিরোধিতা করতে পারে।

রাজ্য পুলিশের হাতে আদিবাসীদের এই নিগ্রহ সন্তোষ যাদবের সংবাদের ফলে সকলের দৃষ্টিগোচর হয়। ফলে এর কয়েকদিনের মধ্যেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের কারণ হিসাবে বলা হয়, ২৯শে সেপ্টেম্বর প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র মাওবাদী নাশকতায় তিনি যুক্ত ছিলেন এবং সন্ত্রাস ও অপরাধ মূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে খুন এবং নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠন, ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদি), এর সক্রিয় সদস্য হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ছত্তিশগড় জনসুরক্ষা আইন এবং ইউ এ পি এ ধারায় চার্জ গঠণ করা হয়েছে। এই দুটো আইনই আন্তর্জাতিক মানবিধিকার রক্ষা বিধি ও আরও অনেক আইনের পরিপন্থী। অভিযোগ প্রমাণে ১০ বছর জেল হওয়ার সম্ভাবনা।

তার পত্নী পুনম যাদব অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর ভারতীয় শাখাকে জানান,” ওর কাজের জন্য ওকে নানারকম ভাবে ভয় দেখানো হত। আমি ওকে অনেক সাবধান করেছি, এমনকি এই কাজ ছেড়ে অন্য কোথাও কাজ খুজতেও বলেছি। কিন্তু ও বোলতো, আমি অন্যকে সাহায্য করছি, আমি কাউকে ভয় পাইনা। পুলিশ ওকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।“

সন্তোষ যাদবের আইনজীবী, ঈষা খান্ডেলয়াল, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ভারতীয় শাখাকে জানান যে, সন্তোষ যাদবকে পুলিশ মনগড়া কারণে গ্রেফতার করেছে। সাংবাদিককে লক্ষ্যবস্তু বানানোর কারণ তার পাঠানো সংবাদে আদিবাসীদের ওপর পুলিশি অত্যাচারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়ে পড়ছিল। তিনি এও বলেন, “ ২০১৩ সাল থেকে পুলিশ ওকে উত্তক্ত করছে। একবারতো পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে উলঙ্গ করে অপমানিত করে। ওকে পুলিশি চর বানানোর অনেক চেষ্টা করা হয়েছে।“

“তার একটাই অপরাধ, সে সাংবাদিকতার কাজকে ছাপিয়ে গ্রামবাসীদের আইনি সহায়তা পেতে সাহায্য করেছে। বাস্তারের পুলিশ চায়, সাংবাদিকরা কেবলমাত্র তাদের হয়েই কথা বোলবে। সন্তোষ যাদব দুদিকের কথাই তার লেখায় প্রকাশ করতো।“ ন্যাশনাল ডেলি পত্রিকার সাংবাদিক, রাজকুমার সোনি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ভারতীয় শাখাকে বলেন, “ পুলিশের বোঝা উচিৎ যে, উভয়পক্ষের কথাই বলা সাংবাদিকের কাজ। মাওবাদীদের সাথে কথা বলেছে বলেই একজন সাংবাদিক মাওবাদী হয়ে যায়না।”

তিনি আরও বলেন, “ আপনি কোনো ঘটনার বিষয় পুলিশের কাছে জানতে চাইলে, পুলিশ বলবে, আপনি দেশদ্রোহী তাই আপনাকে কোনো তথ্য দেওয়া যাবেনা। বাস্তারে মাওবাদীদের সাথে আপনি সাংবাদিক হিসাবে কালেভদ্রে একবার কথা বলতে পারবেন ঠিক যেমন মুম্বাইয়ের সাংবাদিকরা সেখানকার শিল্পপতি, রাজনীতিবিদ বা পুলিশ আধিকারিকের সাথে কথা বলেন কোনো ঘটনার বিষয় তাদের মতামত জানার জন্য। এমন কোনো আইন আছে কি যে সাংবাদিকরা মাওবাদীদের বক্তব্য প্রকাশ করতে পারবে না !”

 

Advertisements

অত্যাচার-অবিচারে বস্তার আরও পিছনের দিকে হাঁটছে – লেখিকা নন্দিনী সুন্দরের সাক্ষাৎকার

nandini-kyab-621x414livemint

প্রশ্ন: আপনার বই ‘দ্য বার্নিং ফরেস্ট/ইন্ডিয়া’জ ওয়ার ইন বস্তার’-এ আপনি লিখেছেন, ‘যুদ্ধ আগেই আরম্ভ হয়ে গিয়েছিল, যদিও আমি তা আগে বুঝতে পারিনি।’ এখানে যুদ্ধ বলতে আপনি রাষ্ট্র বনাম মাওবাদীদের যুদ্ধের কথাই বলেছেন?

উত্তর: হ্যাঁ, ছত্তীসগঢ়, বস্তারের পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধ বলতে আপাতদৃষ্টিতে মাওবাদী বনাম রাষ্ট্রই বোঝায়। এই যুদ্ধ, কম্বিং অপারেশন শুরু হয়েছিল সেই আশির দশক থেকে। তবে যুদ্ধটা এখন আর শুধু মাওবাদী ও রাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মাওবাদীদের প্রতি রাষ্ট্রের দমননীতি এখন কেবলমাত্র বস্তারের আদিবাসীদের উপর রাষ্ট্রীয় আক্রমণেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

প্রশ্ন: কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তো ‘স্পেশাল পুলিশ অফিসারস ইন অ্যান্টি নকশাল অপারেশন’ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।

উত্তর: হ্যাঁ, সুপ্রিম কোর্ট ব্যান করেছে। কিন্তু ছত্তীসগঢ় সরকার ক্রমাগত সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্য করে চলেছে। এই আদেশের ফলস্বরূপ তারা ‘স্পেশাল পুলিশ অফিসারস’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘আর্মড অক্সিলারি ফোর্সেস’ রেখেছে। সুপ্রিম কোর্ট যেখানে নিরস্ত্রীকরণের নীতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সেখানে রাজ্য সরকার ক্রমাগত এই আর্মড অক্সিলারি ফোর্সকে আরও বেশি করে বন্দুক ও টাকার যোগান দিয়ে চলেছে।

প্রশ্ন: সালওয়া জুড়ুম আইনত নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে বস্তারের আদিবাসীরা কি একটু স্বস্তিতে নেই?

উত্তর: দেখুন, সালওয়া জুড়ুম শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। ২০০৭-এর মধ্যেই টিমাপুরম, মোরপল্লি, টারমেটলা— এই গ্রামগুলি মিলিয়ে প্রায় ৩০০ ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ধর্ষণ আর খুনের পরিসংখ্যান দেখলে আঁতকে উঠতে হয়। এর পর ২০০৯–এ অপারেশন গ্রিন হান্ট শুরুর পর থেকে আদিবাসীরা আরও চরম দুর্দশার মধ্য দিয়ে জীবন কাটাতে থাকে। কত গ্রাম যে ‘নেই’ হয়ে গিয়েছে তার হিসেব রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যানে পাবেন না। ২০১১-তে সালওয়া জুড়ুম নিষিদ্ধ হয়। সেই বছরই জুলাই মাসে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে একটা অভিযানে বস্তারের প্রায় চারটি গ্রামই একেবারে ‘নেই’ হয়ে যায়।

প্রশ্ন: ২০১১-র পর চিত্রটা কি কিছুটা বদলেছে?

উত্তর: সালওয়া জুড়ুম আইনত বন্ধ হলেও আদিবাসীরা কোন স্বস্তি পায়নি। সালওয়া জুড়ুম-এর রূপ পরিবর্তন হয়েছে। পুলিশ ও কিছু রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানী মিলে মাওবাদী দমনের জন্য কয়েকটা ফোরাম তৈরি করেছে। এগুলো হল অগ্নি, সামাজিক একতা মঞ্চ ইত্যাদি। এরা মাওবাদী দমনের নামে আদিবাসীদের উপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। ধর্ষণ আর ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া তো এখানে প্রতি দিনের ঘটনা। যে আদিবাসী মেয়েটা সকালে মহুয়া কুড়োতে যাচ্ছে, দুপুরে তার রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যাচ্ছে। খাঁকি পোশাক পরা সেই মৃতদেহ দেখিয়ে একদল উল্লাস করে বলছে, গেরিলা স্কোয়াডের কমান্ডার পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে নিহত হয়েছে। আবার পুলিশের সমর্থনে থাকা গ্রামবাসীরাও মাওবাদীদের অত্যাচারের শিকার হচ্ছে।

প্রশ্ন: আপনার বইতে পরিসংখ্যানগত তথ্য ও গ্রামবাসীদের উপর হওয়া অত্যাচারের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে কি আপনার মনে হয় বস্তারের কথা সারা দেশে ও বিশ্বের দরবারে পৌঁছবে? বিচার পাবে অত্যাচারিত গ্রামবাসীরা?

উত্তর: আশা রাখছি। মানুষের কাছে পৌঁছে যাক এই আর্তকাহিনি। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ, কল্যাণকামী রাষ্ট্র এগিয়ে আসুক। নৃতাত্ত্বিক ভাবে অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল ও তার ভূমিপুত্রেরা বিচার পাক। তাদের নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত হোক।

প্রশ্ন: আপনি প্রথম কবে বস্তারে এসেছিলেন?

উত্তর: আমি তখন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে অ্যানথ্রোপলজিতে পিএইচডি করছিলাম। আমার বিষয় ছিল: সাবঅল্টার্ন স্টাডিজ অ্যান্ড কলোনিয়াল রিবেল। ১৯৯০ সালে আমি যখন এই অঞ্চল সম্বন্ধে পড়াশোনা করছিলাম সেই সময়ে আমার ধারণা ছিল, এখানে এই ধরনের কোনও লড়াই শুরু হয়নি। আমার এক সাংবাদিক বন্ধু মহম্মদ ইকবাল ও তাঁর স্ত্রী কলা আমাকে এখানে আসতে অনুরোধ করে। ইকবাল আর কলার গল্পও কিছুটা সেই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আলাদা ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। নাগপুরের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ইকবাল বস্তারের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ও এক আদিবাসী মেয়ের প্রেমে পড়ে এখানেই সারাজীবন থেকে যায়। ইকবাল ও কলার এই পথ চলা মোটেই মসৃণ ছিল না। যাই হোক, আমি ওদের আমন্ত্রণেই প্রথম এখানে আসি ১৯৯০-তে। এরপর এই অঞ্চলের মানুষ, এখানকার জল-জঙ্গল, সব কিছুর সঙ্গেই কেমন একটা একাত্মতা অনুভব করতে থাকি। আর তখন থেকেই এখানে যাওয়া-আসা।

প্রশ্ন: ১৯৯০-এর বস্তার আর এখন এই ২০১৬-এ কি লক্ষণীয় পরিবর্তন হয়েছে? শিল্পের কারণে কিছুটা প্রযুক্তিগত উন্নয়ন তো হয়েছেই। যেমন, সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। এর ফলে আদিবাসী জনজীবনে উন্নয়নের কিছুটা প্রভাব কি পড়েছে বলে আপনার মনে হয়?

উত্তর: আমার মনে হয়, বস্তার আরও পিছনের দিকে হেঁটে গিয়েছে। শুধু রাস্তা তৈরি হলেই তো আর জনজীবনের উন্নয়ন হয়েছে এমনটা বলা যায় না। আগে আদিবাসীদের হাট বসত। মানুষ মনের আনন্দে বেচাকেনা করত। এখন মানুষ সবসময়ে ভয়ে থাকে। তাদের তো দু’দিক থেকেই ভয়। যখন-তখন মাওবাদীরা পুলিশের চর সন্দেহে মেরে দিতে পারে। আর পুলিশি অত্যাচারের কাহিনি তো অবর্ণনীয়। আদিবাসী সুরক্ষার নামে বস্তারের প্রতি ২-৫ কিমির ভিতর বসেছে সিআরপিএফ-বিএসএফ-আইটিবিপি ক্যাম্প। এরা সারা ক্ষণ গ্রামবাসীদের উপর নজরদারি চালায়। মেয়েদের সুরক্ষা আরও অনিশ্চিত হয়েছে। যখন-তখন ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হচ্ছে। এদের অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। মেয়েদের স্কুলের কাছে ক্যাম্প বসলে ভয়ে মেয়েরা স্কুলে যেতে চাইছে না। স্কুল থেকে টেনে এনে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। এতে কি আপনার মনে হয় উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও বস্তারের প্রত্যন্ত গ্রামে, জঙ্গলে আদিবাসীদের কাছে পৌঁছেছে?

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/national/oppression-and-injustice-dragging-bastar-backwards-nandini-sundar-dgtl-1.526764#


চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ১৬ দফা কর্মসূচি

dazibao-1

১৯৬৬ সালের ৮ আগস্ট, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ১৬ দফা কর্মসূচির বিশেষ অংশ তুলে ধরা হলোঃ
-সম্পাদনা বোর্ড

.সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে এক নতুন স্তর

………………..

পার্টির অষ্টম কেন্দ্রীয় কমিটির দশম বর্ধিত অধিবেশনে কমরেড মাও সেতুঙ বলেছিলেন: একটা রাজনৈতিক ক্ষমতাকে উৎপাটিত করতে হলে সর্বদা যা প্রয়োজন তাহলো সর্বপ্রথমে জনমত তৈরি করা, মতাদর্শগত ক্ষেত্রে কাজ করা। বিপ্লবী শ্রেণীর ক্ষেত্রে একথা যেমন সত্য, তেমনি সত্য প্রতিবিপ্লবী শ্রেণীর ক্ষেত্রেও। কমরেড মাও সেতুঙের এই তত্ত্ব প্রয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে।
যদিও বুর্জোয়া শ্রেণীকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, তথাপি সে শোষক শ্রেণীর পুরাতন ভাবধারা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও অভ্যাসকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে জনগণকে কলুষিত করতে, তাদের মনকে জয় করতে এবং ফিরে আসতে চেষ্টা করছে। সর্বহারা শ্রেণীকে অবশ্যই ঠিক বিপরীত কাজটাই করতে হবে। মতাদর্শগত ক্ষেত্রে সর্বহারা শ্রেণীকে বুর্জোয়াদের প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে মোকাবেলা করতে হবে এবং সমগ্র সমাজের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য সর্বহারা শ্রেণীর নতুন ধারণা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও অভ্যাসকে ব্যবহার করতে হবে। ……………….. সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্প এবং উপরিকাঠামোর অন্য সকল অংশকে রূপান্তর করা, যাতে করে ব্যবস্থার সুসংহতকরণ ও বিকাশসাধন সহজতর হয়।

. প্রধান ধারা এবং আঁকাবাঁকা পথ

…………………………

সাংস্কৃতিক বিপ্লব যেহেতু একটি বিপ্লব, সেহেতু অবিসংবাদিতভাবে তাকে প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই প্রতিরোধ প্রধানত আসছে সেই সব ক্ষমতায় আসীন ব্যক্তিদের নিকট থেকে যারা সংগোপনে পার্টিতে ঢুকে পড়েছে এবং পুঁজিবাদী পথে চলেছে। পুরনো সমাজের অভ্যাসগত শক্তি থেকেও এটা আসে। বর্তমানে, এই প্রতিরোধ এখনও বেশ শক্তিশালী ও অনমনীয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব হলো একটি অপ্রতিরোধ্য সাধারণ প্রবণতা। প্রচুর প্রমাণ আছে যে, জনগণ পরিপূর্ণভাবে জাগরিত হয়ে উঠলে এই ধরনের প্রতিরোধ দ্রুত খান খান হয়ে ভেঙে পড়বে।
…………………………………..

. সাহসকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখা এবং জনগণকে দৃঢ়ভাবে জাগিয়ে তোলা

এই মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পরিণতি বা ফলাফল নির্ভর করবে পার্টি নেতৃত্ব সাহসের সঙ্গে জনগণকে উদ্দীপ্ত করতে পারবে কি পারবে না তার উপর।
বর্তমানে, বিভিন্ন স্তরে পার্টি-সংগঠন কর্তৃক সাংস্কৃতিক বিপ্লব আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপারে চার রকম পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিরাজ করে:

(১) একটি অবস্থা হচ্ছে পার্টিসংগঠনের ভারপ্রাপ্ত কমরেডরা আন্দোলনে দাঁড়িয়ে থেকে সাহসের সঙ্গে জনগণকে কর্মকাণ্ডে উদ্দীপ্ত করে তোলে। তারা সাহসকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেয়, তারা নির্ভীক কমিউনিস্ট সংগ্রামী এবং চেয়ারম্যান মাও-এর ভাল ছাত্র। বড় হরফের পোস্টার ও বিরাট বিতর্কের তারা সমর্থক।…………..।
(২) বহু ইউনিটে, ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই বিরাট সংগ্রামে নেতৃত্বের কর্তব্য সম্পর্কে খুবই দুর্বল উপলব্ধি ধারণ করে, তাদের নেতৃত্ব বিবেকসঞ্জাত নয় এবং কার্যকর নয়। এবং এর ফলে তারা নিজেদের অযোগ্য ও দুর্বল অবস্থানে নিয়ে যায়।
(৩) কিছু কিছু ইউনিটে, ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা, যারা অতীতে কোন না কোন ভুলভ্রান্তি করেছে, তারা ভয়ভীতিকে সবার উপরে স্থান দেয়ার ক্ষেত্রে এমনকি বেশি পক্ষপাতি এবং ভয় করে যে জনগণ এই বুঝি তাদের ধরে ফেলবে। প্রকৃতপক্ষে, যদি তারা গুরুত্ব সহকারে তাদের ভুলত্রুটির জন্য আত্মসমালোচনা করে এবং গণসমালোচনা মেনে নেয়, তা হলে পার্টি ও জনগণ তাদের ভুলত্রুটি মার্জনা করবে।
(৪) কিছু কিছু পার্টি ইউনিট এমন সব ব্যক্তিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় যারা সংগোপনে পার্টির মধ্যে ঢুকে পড়েছে এবং পুঁজিবাদী পথ গ্রহণ করে। এরূপ ক্ষমতায় আসীন ব্যক্তিবর্গ, জনগণ তাদের মুখোশ উন্মোচন করবে, এই ভয়ে খুবই শঙ্কিত এবং এই হেতু তারা গণআন্দোলন দমন করার প্রতিটি সম্ভাব্য অজুহাত খোঁজে। আন্দোলনকে টুঁটি চেপে বিনষ্ট করার প্রচেষ্টায় তারা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু সরিয়ে দেয় এবং কালোকে সাদা করার মতো কৌশল তারা গ্রহণ করে।……..
সর্বস্তরের পার্টি কমিটিগুলোর কাছে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির দাবি হলো, তারা যেন সঠিক নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সবরকম অধ্যবসায় চালায়, সবার উপর সাহসকে স্থান দেয়, নির্ভীকভাবে জনগণকে উদ্দীপিত করে, দুর্বলতা ও অযোগ্যতা যেখানে আছে তা পরিবর্তন করে, আগেকার ভুলভ্রান্তি সংশোধন করে নিয়ে মনের ভার লাঘব করে সংগ্রামে ইচ্ছুক যারা সেইসব কমরেডদের উৎসাহ দেয় এবং যারা কর্তৃস্থানীয় ব্যক্তি যারা পুঁজিবাদী পথে চলতে চায় তাদেরকে হটিয়ে দেয় এবং এভাবে সর্বহারা বিপ্লবীর নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব করে তোলে।

. আন্দোলনের মধ্যে জনগণকে নিজেদের শিক্ষিত হতে দিন

জনগণ নিজেরাই নিজেদের মুক্ত করবে এটাই মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের একমাত্র পদ্ধতি, তাদের হয়ে অন্য কোন পদ্ধতির মাধ্যমে কিছু করে দেওয়া- এ জিনিষ একেবারেই চলবে না।
জনগণকে বিশ্বাস কর, তাদের উপর নির্ভর কর, তাদের উদ্যোগকে শ্রদ্ধা কর। ভয় দূর কর। বিশৃঙ্খলাকে ভয় পেওনা। চেয়ারম্যান মাও প্রায়ই আমাদের বলেছেন যে বিপ্লব কখনও অতি বেশি মার্জিত, ভদ্রভব্য হয় না, অত পরিমিত হয় না, অত দয়ালু, বিনয়ী, সংযত এবং ঔদার্যপূর্ণ হয় না। এই মহান বিপ্লবী আন্দোলনে জনগণকে নিজেদেরই শিখতে দাও এবং কোন্টা ঠিক আর কোন্টা ভুল ও কোন্ পথটা সঠিক আর কোন্টা বেঠিক, এই পার্থক্যটা তারা নিজেরা বুঝতে শিখুক।

………………..

. পার্টির শ্রেণী লাইন দৃঢ়ভাবে প্রয়োগ করুন

কে আমাদের শত্রু? কে আমাদের মিত্র? বিপ্লবের সামনে এই প্রশ্নটি প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং একইভাবে এই প্রশ্ন মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সামনেও প্রথম গুরুত্বপূর্ণ।
বামপন্থীদের খুঁজে বার করা এবং বামপন্থী কর্মীদের বিকাশ ঘটানো ও তাদের শক্তিশালী করায় পার্টি নেতৃত্বের যোগ্য হতে হবে; বামপন্থীদের উপর দৃঢ়ভাবে নির্ভর করতে হবে। আন্দোলন চলাকালে সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল দক্ষিণপন্থীদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, মধ্যপন্থীদের নিজেদের দিকে নিয়ে আসা এবং বৃহৎ সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে ঐক্য স্থাপন করার জন্য এটাই হচ্ছে একমাত্র পন্থা। যাতে করে আন্দোলন শেষে আমরা ৯৫ শতাংশেরও বেশি ক্যাডারদের সঙ্গে ও ৯৫ শতাংশেরও বেশি জনগণের সঙ্গে ঐক্য অর্জন করতে পারি।
………………..
. জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্বের সঠিক মীমাংসা করুন

দুই ভিন্ন ধরনের দ্বন্দ্বের মধ্যে সুতীক্ষ্ণ পার্থক্য অবশ্যই টানা হবেঃ জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্ব এবং আমাদের ও শত্রুর মধ্যকার দ্বন্দ্ব। জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্বগুলিকে আমাদের ও শত্রুর মধ্যকার দ্বন্দ্বে পরিণত করা যাবে না; আবার আমাদের ও শত্রুর মধ্যকার দ্বন্দ্বকে জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্ব হিসাবে দেখা সমুচিত হবে না।
জনগণের মধ্যে বিভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক। বিভিন্ন মতের মধ্যে লড়াই এড়ানো যাবে না, এবং এ লড়াই প্রয়োজনীয় ও উপকারী। সাধারণ ও পূর্ণ বিতর্কের প্রক্রিয়ায় জনগণই ঠিক করবে কোন্টা সঠিক, যেটা ভুল তাকে তারা সংশোধন করবে এবং ক্রমশঃ ঐকমত্যে পৌঁছবে।
…………………………………..
. যারা বিপ্লবী জনগণকে “প্রতিবিপ্লবী” বলে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে নজর রাখুন

সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কয়েকটি বিদ্যায়তনে, ইউনিটে ও ওয়ার্ক টিমে, ভারপ্রাপ্ত কিছু ব্যক্তিরা, জনগণের বিরুদ্ধে পাল্টা-আক্রমণ সংগঠিত করেছে, যারা তাদেরকে সমালোচনা করে বড় হরফের পোস্টার সাঁটিয়েছিল। এইসব ব্যক্তিরা এমনকি এরূপ শ্লোগান [ধ্বনি] দেয় যে, কোন ইউনিট অথবা ওয়ার্ক-টিমের নেতাদের বিরোধিতা করার অর্থ কেন্দ্রীয় কমিটির বিরোধিতা করা, পার্টির বিরোধিতা করা তথা সমাজতন্ত্রের বিরোধিতা করা এবং তার অর্থ প্রতিবিপ্লব। এইভাবে এটা অনিবার্য যে, তাদের আঘাত কিছু যথার্থ বিপ্লবী কর্মীদের উপর পড়বে। এটি হচ্ছে উদ্দেশ্যের বিষয়ে একটি ভুল, লাইনের ক্ষেত্রে ভুল, এবং এমন ব্যাপার কখনই চলতে দেওয়া যায় না।
গুরুতর মতাদর্শগত ভুলভ্রান্তিতে ভোগে এরূপ কিছু সংখ্যক লোক, বিশেষ করে কিছু সংখ্যক পার্টি-বিরোধী ও সমাজতন্ত্র-বিরোধী দক্ষিণপন্থী ব্যক্তি গণ-আন্দোলনের কোনরূপ দুর্বলতা ও ভুলভ্রান্তির সুযোগ গ্রহণ করে গুজব ও গালগল্প ছড়ায় এবং জনগণের অন্তর্ভুক্ত কিছু লোককে ইচ্ছাপূর্বক প্রতিবিপ্লবী আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনে নিজেদের নিয়োজিত করে। এধরনের ‘পকেটমারদের’ থেকে সতর্ক হওয়া এবং যথাসময়ে তাদের চালাকী প্রকাশ্যে তুলে ধরে দেখিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
………………………………………..
. ক্যাডার প্রশ্ন

মোটা দাগে ক্যাডারদের নিম্নলিখিত ৪টি বিভাগে সাজানো যায়ঃ
(১) ভাল;
(২) তুলনামূলকভাবে ভাল;
(৩) খুবই গুরুতর ভুল করেছে বটে, কিন্তু
পার্টি-বিরোধী, সমাজতন্ত্র-বিরোধী দক্ষিণপন্থীতে পরিণত হয়নি;
(৪) স্বল্প সংখ্যক পার্টি-বিরোধী, সমাজতন্ত্র-বিরোধী দক্ষিণপন্থী।

সাধারণ অবস্থায় উপরিউক্ত প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের (ভাল ও তুলনামূলকভাবে ভাল) কর্মীরাই বিপুল সংখ্যাধিক্য।
পার্টি-বিরোধী, সমাজতন্ত্র-বিরোধী দক্ষিণপন্থীদের সম্পূর্ণভাবে উন্মোচন করতে হবে, তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় আঘাত হানতে হবে, তাদের উচ্ছেদ করতে হবে ….। একইসাথে, তাদের সুযোগ দিতে হবে যাতে তারা জীবনের খাতায় নতুন পাতা উল্টাতে পারে।

. সাংস্কৃতিক বিপ্লব গ্রুপ, কমিটি এবং কংগ্রেস

মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে বহু নতুন জিনিসের উদ্ভব হতে শুরু করেছে। বহু বিদ্যায়তন ও ইউনিটে সাংস্কৃতিক বিপ্লবী গ্রুপ, কমিটি ও অন্যান্য নানা সাংগঠনিক রূপ জনগণ সৃষ্টি করে নিচ্ছে যা হলো নতুন জিনিস এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন।
এইসব সাংস্কৃতিক বিপ্লবী গ্রুপ, কমিটি, কংগ্রেস- এইগুলি সব সংগঠনের চমৎকার নতুন সব রূপ এবং এইসবের মধ্য দিয়ে জনগণ কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে নিজেদের নিজেরাই শিক্ষিত করে তুলছে। এগুলো জনগণের সঙ্গে পার্টির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংযোগ রক্ষার চমৎকার সেতু হিসেবে কাজ করছে। এগুলো সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ক্ষমতার সংস্থা।
প্রাচীন ধ্যান-ধারণা, সংস্কৃতি, রীতি ও অভ্যাস, যা হাজার হাজার বছর ধরে শোষকশ্রেণীগুলো চালু রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বহারা শ্রেণীর লড়াই স্বাভাবিক প্রয়োজনেই দীর্ঘ, দীর্ঘকাল ধরে চলবে। তাই, সাংস্কৃতিক বিপ্লবী গ্রুপ, কমিটি, কংগ্রেস- এইসব সাময়িক সংগঠন মাত্র নয়, এগুলি হলো স্থায়ী জীবন্ত গণসংগঠন। কলেজ, ইস্কুল, সরকার ও অন্য সংগঠনের জন্যই শুধু নয়, বরং কলকারখানা, খনি, অন্যান্য উদ্যোগ, শহর-নগর ও গ্রামগঞ্জেও এগুলো প্রয়োজনীয়।
……………………………………….
১০. শিক্ষা সংস্কার

মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে একটি খুবই গুরত্বপূর্ণ করণীয় কাজ হলো পুরানো শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পুরানো শিক্ষানীতি ও শিক্ষাদান পদ্ধতির রূপান্তর সাধন করা।
এই মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবীদের আধিপত্যের ব্যবস্থার সম্পূর্ণ পরিবর্তন সাধন করতে হবে।
সমস্ত ধরনের বিদ্যালয়ে কমরেড মাও সেতুঙ কর্তৃক তুলে ধরা পলিসির পুরোপুরি প্রয়োগ করতে হবে, যা সর্বহারা রাজনীতিকে সেবা করার শিক্ষা। এবং উৎপাদনমূলক শ্রমের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ সাধন করবে। যার ফলশ্রুতি হিসেবে শিক্ষাপ্রাপ্ত মানুষের নৈতিক, বুদ্ধি-বৃত্তিগত ও দৈহিক বিকাশ ঘটবে এবং সমাজতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন ও সংস্কৃতিসম্পন্ন শ্রমিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
…………………………..
১১. সংবাদপত্রে নাম ধরে সমালোচনার প্রশ্ন

সাংস্কৃতিক বিপ্লবের গণ-আন্দোলনের পথে বুর্জোয়া ও সামন্তবাদী তত্ত্বের সমালোচনাকে সর্বহারা বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদ মাও সেতুঙের চিন্তাধারার প্রচারের সঙ্গে ভালভাবে সংযুক্ত করতে হবে ।
যেসব বিশেষ বুর্জোয়া প্রতিনিধি পার্টির ভেতরে গোপনে ঢুকে পড়েছে তাদের বিরুদ্ধে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ‘কর্তৃত্বে আসীন’ বিশেষ প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে সমালোচনা সংগঠিত করতে হবে। এবং এই সমালোচনার অন্তর্ভুক্ত হবে দর্শন, ইতিহাস, রাজনৈতিক অর্থনীতি ও শিক্ষা, সাহিত্য ও শিল্পকলা সম্পর্কিত তত্ত্ব ও কাজ, প্রকৃতি-বিজ্ঞানের তত্ত্ব এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল অভিমতের বিরুদ্ধে সমালোচনা।
সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায় নাম ধরে কারও সমালোচনা করার আগে ঐ পর্যায়ের পার্টি-কমিটিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে উচ্চতর পার্টি-কমিটির অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করতে হবে।

১২. বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও কর্মকর্তাদের মধ্যকার সাধারণ সদস্যদের প্রতি পলিসি

বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ এবং সাধারণ কর্মকর্তাদের সম্বন্ধে- যতক্ষণ পর্যন্ত তারা দেশপ্রেমিক, সোৎসাহে কাজ করেন, পার্টি ও সমাজতন্ত্র বিরোধী নন এবং কোন বিদেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বে-আইনী যোগাযোগ রক্ষা করেন না, ততক্ষণ এ আন্দোলনে আমরা তাদের বেলায় ঐক্য-সমালোচনা-ঐক্য- এই নীতি প্রয়োগ অব্যাহত রাখবো। যেসব বৈজ্ঞানিক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অবদান রেখেছেন, তাদের সম্বন্ধে বিশেষ যত্নবান হতে হবে। ক্রমান্বয়ে তাদের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির ও কর্মপদ্ধতির রূপান্তর ঘটানোর কাজে তাদেরকে বিশেষভাবে সাহায্য করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

১৩. শহর ও গ্রামাঞ্চলে সমাজতান্ত্রিক শিক্ষা আন্দোলনের সাথে একীকরণের জন্য ব্যবস্থাবলীর প্রশ্ন
……………………………

গ্রামাঞ্চলে এবং শহরের উদ্যোগগুলিতে, যেখানে পূর্বের ব্যবস্থাদি যথাযথ ও আন্দোলন ভালভাবে চলছে, সেগুলোকে ওলটপালট হতে দেওয়া সমুচিত হবে না, বরং পূর্বের ব্যবস্থাদি অনুযায়ী অব্যাহত রাখাই হবে বিধেয়। যাইহোক, বর্তমান মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে উত্থাপিত প্রশ্নাদি সঠিক সময়ে জনসাধারণের নিকট আলোচনার জন্য তুলে ধরতে হবে, যাতে করে আরও বলিষ্ঠভাবে সর্বহারা মতাদর্শ উৎসাহিত হয় এবং বুর্জোয়া মতাদর্শের মূলোৎপাটন করে ফেলা যায়।
………………..
১৪. বিপ্লবের উপর দৃঢ় দখল রাখুন এবং উৎপাদনকে উদ্দীপ্ত করুন

মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উদ্দেশ্য হলো জনগণের মতাদর্শের বিপ্লবীকরণ করা এবং ফলস্বরূপ সমস্ত কর্মক্ষেত্রেই বৃহত্তর, দ্রুততর, অধিকতর ভাল ও আরো বেশি সাশ্রয়ী ফল অর্জন করা। জনগণকে যদি পূর্ণরূপে জাগরিত করা যায়, এবং সঠিক ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যায়, তবে সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও উৎপাদন উভয়টিকেই চালানো যায় পারস্পরিক বিঘ্ন সৃষ্টি না করে, পাশাপাশি আমাদের সকল কাজে উচ্চ মানকে নিশ্চিত করে।
আমাদের দেশে সামাজিক উৎপাদিকাশক্তির বিকাশের পক্ষে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি। উৎপাদন বিকাশের বিরুদ্ধে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে স্থাপন করার যেকোন ধারণা হলো ভুল।

১৫. সশস্ত্র বাহিনী

সামরিক বাহিনীর মধ্যে সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও সমাজতান্ত্রিক শিক্ষা-আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সামরিক কমিশন ও গণমুক্তি ফৌজের সাধারণ রাজনৈতিক বিভাগের নিদের্শ অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া উচিত।

১৬. মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে মাও সেতুঙের চিন্তাধারা হলো কর্মের পথনির্দেশক

মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে মাও সেতুঙের চিন্তাধারার মহান লাল পতাকা উচ্চে তুলে ধরা প্রয়োজনীয়। সর্বহারা রাজনীতিকে নির্দেশকের ভূমিকায় রেখেই অগ্রসর হতে হবে। শ্রমিকদের মধ্যে, কৃষকদের মধ্যে, সৈনিকদের মধ্যে, পার্টি-কর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে চেয়ারম্যান মাও সেতুঙের রচনাবলীর সৃজনশীল অধ্যয়ন ও প্রয়োগের আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে, এবং কর্মের পথ-নির্দেশক হিসেবে মাও সেতুঙের চিন্তাধারাকে গ্রহণ করতে হবে।
এই জটিল মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে সর্বস্তরের পার্টি-কমিটিগুলোকে চেয়ারম্যান মাও-এর রচনাবলী অবশ্যই পাঠ ও প্রয়োগ করতে হবে আরও সচেতনতার সঙ্গে ও আরও সৃজনশীলভাবে। বিশেষভাবে, তাদেরকে বারবার সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উপর এবং পার্টির নেতৃত্বের পদ্ধতির উপর মাও-এর রচনাবলী অধ্যয়ন করতে হবে। যেমন, ‘নয়া গণতন্ত্র সম্পর্কে’, ‘সাহিত্য ও শিল্প-কলা সম্পর্কে ইয়েনান ফোরামে প্রদত্ত ভাষণ’, ‘জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্বের সঠিক মীমাংসা সম্পর্কে’, ‘প্রচারকার্য সম্পর্কে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তৃতা’, ‘নেতৃত্বের পদ্ধতির উপর কিছু প্রশ্ন’ এবং ‘পার্টি-কমিটির কর্মপদ্ধতি’ প্রভৃতি পাঠ করতে হবে।


‘আন্দোলন’ পত্রিকা – সাংস্কৃতিক বিপ্লব সংখ্যা

a

 

b

 

c

 

d


‘আন্দোলন’ পত্রিকা – জুন ২০১৬ সংখ্যা

1

 

2

 

3

 

4


সামরিক লাইন – পেরুর কমিউনিস্ট পার্টি

13669685_117797555329268_5923231617052330582_n

পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির মৌলিক দলিলসমূহ

সামরিক লাইন

 

সূচনা

মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, প্রধানতঃ মাওবাদকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে ও প্রয়োগ করে সভাপতি গনসালো পার্টির সামরিক লাইন প্রতিষ্ঠা করেন। নভেম্বর, ১৯৭৯-এ প্রথম বর্ধিত জাতীয় সম্মেলনে সাধারণ রাজনৈতিক লাইনের কেন্দ্রিয় বিষয় হিসেবে এতে ঐকমত্য হয় এবং এখন এটা গণযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিকশিত হচ্ছে।

সভাপতি গনসালো মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের সার্বজনীন সত্যকে পেরুভিয়ান বিপ্লবের মূর্ত অনুশীলনের সাথে অব্যাহতভাবে একীভূত করেছেন সংশোধনবাদ ও ডান সুবিধাবাদী লাইনকে মোকাবেলা ও চুর্ণ করে। যুদ্ধ প্রশ্নে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদকে প্রয়োগ করে, সামরিক লাইন সভাপতি গনসালোর দার্শনিক চিন্তাধারাকে প্রকাশ করে, যুদ্ধের নিয়মসমূহ, সাধারনভাবে বিপ্লবী যুদ্ধকে এবং পেরুর বিপ্লবী যুদ্ধের বিশেষ নিয়মসমূহকে সারসংক্ষেপিত করে। সামরিক লাইন হচ্ছে মতাদর্শিক, রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজে পরম গুরুত্বপুর্ণ এবং আমাদের অনুমোদন দেয় সর্বহারা সামরিক লাইন ও বুর্জোয়া সামরিক লাইনের মধ্যে পার্থক্যকরণে।

সামরিক লাইন সেই নিয়মসমূহ নিয়ে গঠিত যা ক্ষমতা দখলে ও এর রক্ষায় গণযুদ্ধকে পরিচালনা করে। এর রয়েছে তিন উপাদানঃ

.  গণযুদ্ধ, যা আমাদের ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ গণযুদ্ধ হিসেবে বিশেষায়িত, প্রধানভাবে গ্রামাঞ্চলে, শহরকে পরিপুরক হিসেবে নিয়ে;

.   বিপ্লবী বাহিনী বিনির্মাণ, এখানে গণ গেরিলা বাহিনী হিসেবে প্রযুক্ত, যার রয়েছে মিলিশিয়াকে অন্তর্ভুক্তকরণের বৈশিষ্ট সশস্ত্র জনগণের সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যেতে এবং;

.   রণনীতি ও রণকৌশলসমূহ যা গঠিত হয় ঘেরাও দমন অভিযানসমূহ ও পাল্টা ঘেরাও দমন অভিযানসমূহের মাধ্যমে। আমাদের ক্ষেত্রে এই উপাদান রাজনৈতিক ও সামরিক পরিকল্পনাসমূহের দ্বারা বিশেষায়িত যার নির্দিষ্ট লক্ষ্যযুক্ত অভিযানসমূহে বিকশিত রাজনৈতিক সামরিক রণনীতি রয়েছে।

১.  গণযুদ্ধ

)  পেরুর গণযুদ্ধ সম্পর্কে

সভপতি গনসালো বিপ্লবী সহিংসতার সার্বজনীন নীতিতে নিজেকে পুননিশ্চিত করে চেয়ারম্যান মাও কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সর্বহারা শ্রেণীর সামরিক তত্ত্ব অনুসরণ করেনঃ গণযুদ্ধের রয়েছে সার্বজনীন প্রযোজ্যতা এবং তা সকল ধরনের দেশে প্রযোজ্য হবে প্রতিটি বিপ্লবের মূর্ত পরিস্থিতি অনুসারে। বিশ্ব গণযুদ্ধ হচ্ছে সংগ্রামের প্রধান ধরন যা সর্বহারা ও বিশ্বের নিপীড়িত জনগণকে পরিচালনা করতে হবে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বযুদ্ধকে বিরোধিতা করতে। গণযুদ্ধ হচ্ছে জনসাধারণের যুদ্ধ এবং জনগণকে সমাবেশিত করে ও তাদের দ্বারা সমর্থনযুক্ত হয়েই কেবল তা সম্পাদন করা যায়। তিনি বলেনঃ “জনগণ আমাদের সবকিছু দেয়, তাদের মুখের গ্রাস রুটির টুকরো থেকে শুরু করে তাদের মূল্যবাণ রক্ত পর্যন্ত যা আমাদের লড়াকু ও যোদ্ধাদের সাথে যৌথভাবে আলোড়িত হয়, যা নয়া ক্ষমতার জন্য গনযুদ্ধের পথকে সমৃদ্ধ করে।” জনগণকে গণ গেরিলা বাহিনীর সশস্ত্র ইউনিটে সংগঠিত করতে হবে। সকল গ্রামীণ ঘাঁটি এলাকায় প্রতিটি পার্টি কমিটির সকল নারী পুরুষকে সামরিকভাবে সংগঠিত করা হয়। শহরেও গণগেরিলা বাহিনী ততপরতা চালায় এবং জনগণের সাথে বহুবিধ নয়া সংগঠণে গণযুদ্ধে ও এর জন্য অধিক থেকে অধিকতর বাঁধা। গণ রক্ষী বিপ্লবী আন্দোলন হচ্ছে শহরাঞ্চলে ফ্রন্টের বাস্তবায়ন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে প্রতিরোধে সমাবেশিত করা, যুদ্ধকে সেবা করা এবং ভবিষ্যত অভুত্থানকে সেবা করা।

তিনি মনে করেন গণযুদ্ধকে পরিচালনা করার লক্ষ্যে আমাদের অতি অবশ্যই চার মৌলিক প্রশ্নকে হিসেবে নিতে হবেঃ

.    সর্বহারা শ্রেনীর মতবাদ মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ যাকে পথনির্দেশক চিন্তাধারা হিসেবে মূর্ত করতে হবে, তাই আমরা মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, গনসালো চিন্তাধারার ওপর নিজেদের স্থাপন করি, মুখ্যতঃ গনসালো চিন্তাধারায়;

.   পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির প্রয়োজনীয়তা যা গণযুদ্ধ পরিচালনা করে;

.  গণযুদ্ধ কৃষক যুদ্ধ হিসেবে বিশেষায়িত যা গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাওয়ের পথ অনুসরণ করে; এবং

.   ঘাঁটি এলাকসমূহ অথবা নয়া ক্ষমতা, ঘাঁটি এলাকাসমূহের বিনির্মাণ-যা হচ্ছে গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাওয়ের পথের সার।

তিনি বিশ্লেষন করেন আমাদের জনগনের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া এবং দেখান যে তারা সর্বদাই সংগ্রাম করেছেন, এটা “পুষ্ট হয়েছে ও অগ্রসর হয়েছে বিপ্লবী সহিংসতার মধ্য দিয়ে। এই সহিংসতার মাধ্যমেই, এর বিচিত্র রূপ ও মাত্রায় আমাদের জনগণ তাদের অর্থনৈতিক অর্জন [Revindicaciones] অধিকার ও স্বাধীনতা জয় করেছে, যেহেতু কোন কিছুই আকাশ থেকে পড়েনা, না তা কেউ কাউকে দেয়। ‘বিশ্বাসঘাতকদের বোলচাল নিপাত যাক’; সবকিছুই বস্তুত বিপ্লবী সহিংসতার মাধ্যমে জয় করা হয়েছে, প্রতিক্রিয়াশিল সহিংসতার বিরুদ্ধে ধৈর্যশীল সংগ্রামে; কীভাবে আট ঘন্টা কর্মদিবস জয় করা হয়েছে, আমাদের ভুমি জয় ও রক্ষা করা হয়েছে, আমাদের অধিকারসমূহ জয় করা হয়েছে এবং উতপীড়কদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। বিপ্লবী সহিংসতা হচ্ছে, তাই আমাদের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার অন্তসার…এটা বোঝা সহজ যে পেরুভিয়ান বিপ্লবের বিকাশ, আমাদের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের, জনগন ও শ্রেণীর মুক্তি কেবলমাত্র জনগণের মহানতম বিপ্লবী যুদ্ধের মাধ্যমে, জনগণকে অস্ত্র হাতে গণযুদ্ধে জাগরিত করে অর্জন করা সম্ভব হবে”।

তিনি এই ঐতিহাসিক শিক্ষা তুলে ধরেন যে এসব রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতাসমূহ দেশের প্রধান রূপান্তরসমূহ মূর্ত করেছে। প্রথমে আসে সামরিক কাজ, তারপর রাজনৈতিক পরিবর্তন। এটা আবারো দেখায় যে যুদ্ধ হচ্ছে অন্য উপায়ে রাজনীতির ধারাবাহিকতা। তিনি আমাদের শিক্ষা দেন যে কীভাবে আমাদের জনসাধারন শোষণের বিরুদ্ধে লড়েছে। ৭ম শতক থেকে যখন পেরুভিয়ান রাষ্ট্র উদ্ভূত হয়েছে, জনগণ নিপীড়ন ও শোষণকে লড়েছে। ইনকা সাম্রাজ্য তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করলো দখলদারিত্বের যুদ্ধের মাধ্যমে যা ইয়াহুয়ারপম্পা [“রক্তক্ষেত্রসমূহ”-অর্থে Quechua-ইং অনুবাদক]র যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ায় আয়াকুচো ও আপুরিমাক অঞ্চলে আধিপত্যকারী চানসাস সাংস্কৃতিক গ্রুপের বিরুদ্ধে। সাম্রাজ্য যুদ্ধের মাধ্যমে আরো সম্প্রসারিত হলো। এটা একটা রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনা।

স্প্যানিশ সাম্রাজ্য কর্তৃক দখলদারিত্ব হচ্ছে আরেক রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনা যা আরোপ করা হয়েছে আদিবাসী জনগণের প্রতিরোধকে চুর্ণ করে এবং বিজিতদের নিজেদের মধ্যেকার লড়াইকে কাজে লাগিয়ে। যাহোক, আমাদের অন্যান্যের মধ্যে মাঙ্কো ইনকার সংগ্রামকে গুরুত্ব দিতে হবে যে স্প্যানিশদের বিরুদ্ধে একটা বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেয়।

ভাইস রয়েলটির আরোপ ছিল আরেকটা রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনা যা ব্যবহৃত হয়েছে দখলদারদের নিজেদের ধ্বংসে। নিজেকে বজায় রাখতে একে বৃহত উত্থানকে মোকাবেলা করতে হয়েছে যেমন আতাহুয়ালপায় খুয়ান সান্তোসের নেতৃত্বে এবং ১৭৮০তে টুপাক আমারুর শক্তিশালি আন্দোলন যা এক লক্ষ মানুষকে জাগিয়ে তুলেছিল কাসকো ও পুনো থেকে বলিভিয়ার ভেতর পর্যন্ত ভাইস রয়েলটির আধিপত্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে এবং আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোয় প্রভাব ফেলে এবং এভাবে আমেরিকা মহাদেশকে কাঁপিয়ে দিয়ে। আন্দোলন পরাজিত হলেও ভাইস রয়েলটিকে তা দুর্বল করে ও খাঁটো করে, এভাবে মুক্তির জন্য শর্ত প্রস্তুত করে। এর শ্রেণী চরিত্রকে দেখতে আমাদের স্মরণ করতে হবে যে টুপাক আমারু ছিল এক ক্যাসিকো (Cacique) [Cacique ছিল কাসকো এলাকায় ভারতীয়দের এক প্রধান যে ভাইসরয় কর্তৃক নিযুক্ত- ইং অনুবাদক]।

মুক্তি ছিল আরেক সামরিক ও রাজনৈতিক ঘটনা এবং এর রয়েছে তিনটি মুহুর্তঃ প্রথম, আঠারো শতকে কৃষক অভ্যুত্থান উদাহারণস্বরূপ টুপাক আমারু; দ্বিতীয়, শহরে অভ্যুত্থান যেমন, তাকনার ফ্রান্সিসকো দ্য জলা এবং গেরিলাগণ, বিশেষত অন্য বহুর মধ্যে কাঙ্গাযো ও ইয়াযোস; তৃতীয়ত, বৃহত সৈন্যবাহিনীসমূহের লড়াই যা ১৮২৪-এ আয়াকুচোর যুদ্ধে সান মার্টিন ও বলিভারের মুক্তিদাত্রী মহাকাব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এটা বোঝাটা গুরুত্বপুর্ণ যে যদিও মুক্তি পরিচালিত হয়েছিল ক্রেওলেস [Criollis] এর নেতৃত্বে, স্প্যানিশ সাম্রাজ্যকে ভাঙার মতো যোগ্যতা এর ছিল; সান মার্টিন ছিলেন এক মহান সামরিক রণনীতিবিশারদ এবং বলিভার নিজেকে একজন রাজনৈতিক ও সামরিক রণনীতি বিশারদ হিসেবে প্রমাণ করেন। তাদের উভয়ে কতিপয় আমেরিকান দেশের মুক্তির জন্য লড়াই করেন কোন ব্যক্তিগত লাভালাভ ছাড়াই, এটা দেখিয়ে যে এক মহান লক্ষ্যকে সেবা করতে আমাদের অবশ্যই প্রথমে সর্বদা সাধারন স্বার্থকে তুলে ধরতে হবে, কখনোই ব্যক্তিগত নয়, এবং তারা তা করেন কমিউনিস্ট হওয়া ছাড়াই।

প্রজাতন্ত্রে ভুস্বামীরা ক্ষমতায় রয়ে গেল কিন্তু রক্তাক্ত বিরাট কৃষক সংগ্রামসমূহের আগুণকে মোকাবেলা করে যার মধ্যে রয়েছে আতুসপারিয়া ও উসচো পেদ্রো অথবা লাকোয়া আতুসপারিয়ার। পেরুর দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন লাকোয্যা। অক্রোস। এখানে আমাদের রয়েছে চিলির সাথে যুদ্ধের অন্ধকার অধ্যায় যেখানে উভয় দেশ পরস্পরকে মোকাবেলা করেছে ইংরেজ ও ফরাসীদের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়ে-যারা গুয়ানো ও নাইট্রেটের আমাদের সম্পদ চাইছিল। এটা এক যুদ্ধ যা আমাদের দেশের প্রারম্ভিক পুঁজিবাদী বিকাশকে থামিয়ে দিয়েছিল এবং আধিপত্যকারী শ্রেণীসমূহের নোংরা ভুমিকাকে উন্মোচন করেছিল। যার একাংশ চিলির কাছে আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু সবাইকে গুরুত্ব দিতে হবে জনগণকে রক্ষায় ও ভৌগলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দখলদারদের বিরুদ্ধে জনসাধারণের বীরত্মব্যাঞ্জক প্রতিরোধকে, একটা প্রতিরোধ যা বিশেষভাবে দেশের পার্বত্য কেন্দ্রিয় ও দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালি ছিল যেখানে গেরিলারা সংগঠিত হয়েছিল। কাসেরেস [আন্দ্রেস এ. কাসেরেস হানাদারদের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালি গেরিলা আন্দোলন সংগঠিত করেছিলেন-ইং অনুবাদক] যিনি ছিলেন এক ভুস্বামী সৈনিক, তিনি এই পরিস্থিতিতে এক গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করেন।

চিলির সাথে যুদ্ধ পরিচালিত হয় ১৮৭৯ থেকে ১৮৮৩ পর্যন্ত, এবং এটা পেরুভিয়ান অর্থনীতিকে ধ্বংসে চালিত করে। এর অল্প কিছু পরে ১৮৯৫তে এটা আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের সূচনায় প্রবেশ করে যা সমকালীন পেরুভিয়ান সমাজের বিকাশের সূচক। উনিশ শতক অতিক্রম করার সাথে সাথে পেরু এক উপনিবেশ থেকে আধাউপনিবেশে এবং সামন্ততান্ত্রিক থেকে আধাসামন্ততান্ত্রিকে পরিণত হয়। ইয়াঙ্কি [মার্কিন-বাং অনুবাদক] সাম্রাজ্যবাদের সাথে বাঁধা আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ বিকশিত হতে শুরু করে, এভাবে ইংরেজদেরটা প্রতিস্থাপন করে। চুড়ান্তত, আধুনিক সর্বহারা শ্রেণী উদ্ভূত হল যা রাজনৈতিক সংগ্রামের ভাষাকে বদলে দিল। এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া থেকে নিম্নলিখিত শিক্ষা পাওয়া গেলঃ

জনগণ সর্বদাই সংগ্রাম করেছেন, তারা শান্তিপুর্ণ নন এবং তারা অস্ত্র হাতে বিপ্লবী সহিংসতাকে প্রয়োগ করেন।

কৃষক সংগ্রামসমূহই সমাজের ভিতকে সর্বাধিক কাঁপিয়েছে এবং এই সংগ্রামসমূহ জয়লাভ করতে পারেনি কারণ কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিত্বে সর্বহারা শ্রেণীর নেতৃত্বের তাদের অভাব ছিল।

রাজনৈতিক ও সামরিক কাজ প্রধান সামাজিক পরিবর্তন নির্ধারণ করে।

সামরিক লাইনের অবস্থান থেকে সমকালীন পেরুর তিনটি মুহুর্ত রয়েছে যা সর্বহারা শ্রেণীর আবির্ভাবের সাথে জড়িত যা তার পার্টি প্রতিষ্ঠা করেছে বিপ্লবী সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতা জয় করতে তার পথকে মূর্ত করে যা পার্টির সামরিক লাইনের প্রক্রিয়ায় সংশ্লেষিত হয়।

প্রথম মুহুর্ত। (১৮৯৫ থেকে ১৯৪৫) পেরুর কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয় এবং সামরিক লাইন প্রশ্নে মারিয়েতেগুই প্রতিষ্ঠা করেন “পথের নির্দেশ ও রূপরেখা”। অধিকতর ভাল মজুরির জন্য, আট ঘন্টা কর্মদিবস ও উপযুক্ত কাজের পরিস্থিতির জন্য শ্রমিকদের বীরত্বব্যাঞ্জক সংগ্রামসমূহ, ভুমির জন্য কৃষকদের আন্দোলনসমূহ, দক্ষিণাঞ্চলীয় সিয়েররায় কৃষি সর্বহারা আন্দোলন এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কারের জন্য আন্দোলন শ্রেণীসংগ্রামের এক জটিল তীক্ষ্ণকরণে চালিত করে যাতে পেরুভিয়ান সর্বহারা পরিপক্ক হয় যাতে অক্টোবর ৭, ১৯২৮-এ মারিয়েতেগুই পেরুর কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ব্যানারের অধীনে।

মারিয়েতেগুই বিপ্লবী সহিংসতার মৌলিক ধারণা তুলে ধরেন ও রূপরেখা দেন। তিনি বলেনঃ “এমন কোন বিপ্লব নেই যা ভদ্র, সৌম্য, শান্ত ও নম্র।” “ক্ষমতা সহিংসতার মাধ্যমে জয় করা হয়…একে কেবলমাত্র একনায়কত্বের মাধ্যমে রক্ষা করা হয়।” তিনি বিপ্লবী যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী চরিত্রের হিসেবে আত্মস্থ করেন; “একটা বিপ্লব অনেক বছরেই কেবল সম্পন্ন করা সম্ভব। প্রায়শই হয় বিপ্লবী বাহিনী নয় প্রতিবিপ্লবী বাহিনীর আধিপত্য দ্বারা এর পাল্টাপাল্টি পর্যায় রয়েছে।” তিনি রাজনীতি ও যুদ্ধের মধ্যেকার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেন; এটা বুঝে যে বিপ্লব এক নতুন ধরণের বাহিনী সষ্টি করে যা তার করণীয়সমেত শোষকদের চেয়ে ভিন্ন; তিনি আরো উপলব্ধি করেন কৃষককুলের চরিত্র এবং এক নেতৃত্বকারী ভুমিকায় শ্রমিক শ্রেনীর নির্ধারক অংশগ্রহন, এবং এই যে বিপ্লব আন্দিস থেকে আসবে, “ল্যাটিফুন্ডিস্টা সামন্তবাদের বিলোপের সাথে সাথে বাড়ন্ত শ্রমিক শ্রেনীকে প্রতিরোধে শহুরে পুঁজিবাদ হীন বল হবে”; বিপ্লব করার জন্য দরকার বন্দুক, একটা কর্মসুচি এবং মতবাদ। তিনি বিপ্লবকে এক সামগ্রিক যুদ্ধ হিসেবে ধারণ করেন যাতে রাজনৈতিক, সামাজিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক উপাদানসমূহের এক সমষ্টি রয়েছে এবং প্রতিটি দল টেনশনে পতিত হয় এবং সাধ্যমতো শক্তি সমাবেশ ঘটায়। তিনি নির্বাচনী পথ সম্পুণভাবে বর্জন করেন।

মারিয়েতেগুই এপ্রিল, ১৯৩০-এ মারা যান। রাভিনেসের নেতৃত্বে ডান পার্টির নেতৃত্ব কব্জা করতে যাচ্ছে এবং মারিয়েতেগুইর পথের ওপর প্রশ্ন তোলা ও অস্বীকৃতি সংঘটিত হলো। তারা মুখে অভ্যুত্থানের কথা বলে কিন্তু নির্বাচনপন্থায় অধঃপতিত হয়। পার্টির তথাকথিত “সাংবিধানিক কংগ্রেস” ১৯৪২-এ “জাতীয় ইউনিয়ন”-এর বিশ্বাসঘাতক রণকৌশল যোগান দেয় উভয়ত আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ও আন্তর্জাতিকভাবে। সমকালীন সংশোধনবাদের এক পুর্বপুরুষ ব্রাউডারীয় ভাবধারায় পার্টি প্রভাবিত হয় যেখানে বিপ্লবী সহিংসতার পরিষ্কার বর্জন রয়েছে এবং “জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট” কে কেন্দ্র করে এক নির্বাচনী রণকৌশল গড়ে তোলা হয়। তাসত্ত্বেও পার্টির লাল লাইন মার্কসবাদী-লেনিনবাদী অবস্থান রক্ষায় সংগ্রাম করলো যদিও তিক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়লো এবং অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে বহিষ্কারের মাধ্যমে সমাধা করা হলো।

দ্বিতীয় মুহুর্ত। (১৯৪৫ থেকে ১৯৮০) পেরুর কমিউনিস্ট পার্টি পুনর্গঠিত হলো এবং সামরিক লাইনের দিক থেকে সভাপতি গনসালো প্রতিষ্ঠা করেন “পথের সংজ্ঞা ও ভিত্তি”। দ্বিতীয় মুহুর্তের রয়েছে দুই অংশঃ প্রথম, ১৯৪৫ থেকে ১৯৬৩-এর পর্যায় যাহচ্ছে “পার্টির বিকাশের নয়া উদ্দীপনা এবং সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা।” দ্বিতীয় অংশ ১৯৬৩ থেকে ১৯৮০ হচ্ছে “সাধারণ রাজনৈতিক লাইনের প্রতিষ্ঠা ও পার্টির পুনর্গঠন”।

দ্বিতীয় মুহর্তের প্রথম অংশে ১৯৫০ দশকের মাঝামাঝির দিকে, অদ্রিয়ার ক্যুদেতার পর পার্টিকে পুনসক্রিয়করণ অসমাপ্ত রয়ে গেল। পরে, পার্টি সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের উদ্বোধনী পদক্ষেপ নেয়। এই প্রক্রিয়া সংঘটিত হয় কিউবান বিপ্লবের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে। একইসাথে, বিশ্বপর্যায়ে মার্কসবাদ ও সংশোধনবাদের মধ্যে সংগ্রাম গড়ে ওঠে। বিপ্লবী পথ আলোচিত হয়, সশস্ত্র সংগ্রাম পুনরায় আলোচিত হয় এবং ১৯৬২ সালে পার্টির চতুর্থ কংগ্রেসে ঐকমত্য হয় যে পেরুতে তথাকথিত “দুই পথ” সম্ভবঃ “শান্তিপুর্ণ পথ ও সহিংস পথ।” “বিপ্লব গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাও অথবা শহর দিয়ে গ্রাম ঘেরাওয়ের পথ অনুসরন করতে পারে।” কিন্তু এসব কথা সত্ত্বেও পার্টি সারবস্তুতে সেই পুরোনো নির্বাচনী রণনীতিতে ঝুলে রইলো তারপর তথাকথিত “জাতীয় মুক্তিফ্রন্ট”-এর রূপ নিয়ে। এটা ছিল ক্রু্েশ্চভের সংশোধনবাদ। এসময় সভাপতি গনসালোর রাজনৈতিক মতাবস্থান উদ্ভূত হতে শুরু করলো লাল লাইনের ভিত্তি স্থাপন করে যা মার্কসবাদ ও সংশোধনবাদের মধ্যে সংগ্রামে চেয়ারম্যান মাওয়ের মতাবস্থানের প্রতি অনুগত ছিল।

দ্বিতীয় মুহুর্তের দ্বিতীয় অংশে, ১৯৬৩ থেকে ১৯৮০তে, আমাদের রয়েছে “সাধারণ রাজনৈতিক লাইনের প্রতিষ্ঠা ও পার্টির পুনর্গঠণ”, সভাপতি গনসালো এই কর্তব্য পরিচালনা করেন পনের বছরেরও বেশি সময় ধরে তীব্র সংগ্রামে পার্টির লাল অংশ গঠণে এবং তিন রাজনৈতিক রণনীতির মধ্য দিয়েঃ

১৯৬৩ থেকে ১৯৬৯ তিনি লাল অংশ (ফ্র্যাকশন) কে “গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাও” অনুসরণের রাজনৈতিক রণনীতির অধীনে পরিচালনা করেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৬ তিনি পার্টিকে “গণযুদ্ধের জন্য পার্টিকে পুনর্গঠণ করুন” এর রাজনৈতিক রণনীতিতে পরিচালনা করেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৯ তে ছিল সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করার জন্য “পুনর্গঠন সম্পন্ন করুন এবং ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করুন”-এর রাজনৈতিক রণনীতি।

“গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাও” অনুসরনকারী প্রথম রণনৈতিক পর্যায়কালে পেরুর কমিউনিস্টরা মার্কসবাদ ও সংশোধনবাদের মধ্যকার সংগ্রাম দ্বারা গভীরভাবে আলোড়িত হলো এবং মার্কসবাদী মতাবস্থানসমূহ সংগঠণে ঢুকতে শুরু করলো। ১৯৬০ দশকে এক বিরাট কৃষক আন্দোলন হয় যা ৩ থেকে ৫ লক্ষ কৃষককে সমাবেশিত করে যা ভুমির জন্য লড়াই করে কিন্তু যাকে সংশোধনবাদী নেতৃত্ব সশস্ত্র সংগ্রামে যেতে দেয়না; শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যে শ্রমিক ধর্মঘটের এক বিরাট আন্দোলন সংঘটিত হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম এক উচ্চতর সংগ্রামে বিকশিত হয়। এসকল ঘটনাই পার্টির ওপর প্রভাব ফেলে এবং সভাপতি গনসালো আয়াকুচোয় লাল অংশকে গড়ে তোলেন এই পরিষ্কার ধারনাসমেত যে পার্টিকে অবশ্যই ক্ষমতা দখল করতে হবে এবং তাকে মার্কসবাদী তত্ত্বের ওপর দাঁড়াতে হবে। এক সম্মুখসারির সংগ্রাম দানা বেঁধে ওঠলো সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে যার (সংশোধনবাদের ) কেন্দ্র ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং এটা চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও প্রধানভাবে চেয়ারম্যান মাওযের মতাবস্থানের প্রতি অনুগত ছিল। তিনি মনে করেন “গ্রামাঞ্চল এক প্রচণ্ড বিপ্লবী আন্দোলনে মত্ত”, “আমাদেরকে গ্রামাঞ্চল ও গরীব কৃষকদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে”, “আমাদের বিপ্লব হবে গ্রাম থেকে শহরের দিকে।” ১৯৬৪ এর জানুয়ারিতে চতুর্থ কংগ্রেসে তিনি পার্টির বিভিন্ন ভিত্তিসমূহের সাথে দেখা করেন সংশোধনবাদ ও তার স্থূল প্রতিনিধি হোর্হে দেল প্রাদো, অ্যাকোস্টা ও খুয়ান বারি‌্যওকে পার্টি থেকে বহিষ্কারের জন্য। সংশোধনবাদকে নিজ সারি থেকে নিপাত ও বহিষ্কারে আমাদের পার্টি হতে যাচ্ছে অন্যতম প্রথম। সভাপতি গনসালো আয়াকুচোর আঞ্চলিক কমিটিতে পার্টিকে সুসংহত করা শুরু করেন; পার্টি কাজের কেন্দ্র করা হয় গ্রামাঞ্চলে, শহরে তিনি শহরতলী ফেডারেশনে গরীব জনগণকে সংগঠিত করেন, এবং বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্ট পুনসংগঠিত করেন। কিন্তু যাহচ্ছে সীমাতিক্রমকারী গুরুত্বপুর্ণ তাহলো নয়া কেন্দ্রিয় নেতৃত্বের বিরোধিতা সত্ত্বেও সভাপতি গনসালো পার্টি ঐকমত্য প্রয়োগ করে “বিশেষ কাজ” পরিচালনা করেন যা ছিল আঞ্চলিক কমিটিসমূহের সামরিক কাজ তিন কার্যকরিতা সহঃ রাজনৈতিক, সামরিক ও লজিস্টিকাল। পরবর্তীতে, সামরিক কাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে যে কেন্দ্রিয় নেতৃত্ব তার মতাবস্থানের বিরুদ্ধে ক্ষুরধার দুই লাইনের সংগ্রামে তিনি সমরবাদ, ভাড়াটেবাদ ও ফুকোবাদ [চে গুয়েভারার ফোকো তত্ত্বের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে-ইংরেজী অনুবাদক] কে লড়েন। এই পরিস্থিতিতে এমআইআর [বিপ্লবী বামদের আন্দোলন-ইং অনুবাদক] গেরিলারা গড়ে ওঠলো, একটা মতাবস্থান যা আমাদের জনগনের সংগ্রামকে একটা পেটি বুর্জোয়া দৃষ্টিকোন থেকে ব্যক্ত করলো যা একটা সমরবাদী লাইন অনুসরণ করে এবং পার্টিকে অগ্রাহ্য করে। যদিও কৃষকদের উত্থানে অন্তর্হিত হয়, এই আন্দোলন সশস্ত্র সংগ্রামের দিকটার সম্ভাব্যতা প্রদর্শন করলো যদি পার্টির নেতৃত্বের অধীনে একটা ন্যায্য ও সঠিক লাইন থাকে। এই কারণে এক সম্ভাব্য ফ্রন্টে এমআইআর ও ইএলএন [জাতীয় মুক্তি বাহিনী-ইং অনুবাদক]-এর লেজুরবৃত্তি করতে পার্টিকে ভেঙে দেওয়ার বিরোধিতা করেন সভাপতি গনসালো। বর্ধিত রাজনৈতিক ব্যুরোর সেপ্টেম্বর ১৯৬৭-এর সভায় তিনি এক রণনৈতিক পরিকল্পনার রূপরেখা দেন যাতে এক ঝাঁক পদক্ষেপ ছিল যাকে কেন্দ্রিয় কমিটিকে গ্রহন করতে হলো তিন হাতিয়ারের বিনির্মাণের জন্য, বাহিনী গঠণের কাজকে প্রধান করণীয় হিসেবে নিয়ে যাতে ১৯৬৫-এর পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে ঐকমত্য হয়েছিল। এটা ঘটে এক উপদলীয় সংগ্রামের মধ্যে যেখানে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্যভাবে “প্যাট্রিয়া রোখা”র অংশ এবং পারদেসের ডান বিলোপবাদ পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। পারদেস বড় বুর্জোয়াদের একটা উপদলের লেজুরবৃত্তির রণকৌশল পুনমঞ্চস্থ করতে চায়, যেখানে “প্যাট্রিয়া রোখা” ডান সুবিধাবাদে তলিয়ে যাওয়ার দিকে ধাবিত হয়।

“গণযুদ্ধের জন্য পার্টিকে পুনর্গঠণ করুন”-এর দ্বিতীয় রাজনৈতিক রণনীতির পর্যায়কালে সভাপতি গনসালো রূপরেখা দেন পার্টির মধ্যকার সংশোধনবাদের, এবং পার্টি ঐক্যের ভিত্তিতে পার্টির পুনর্গঠণ, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও সেতুঙ চিন্তাধারা, মারিয়েতেগুইর চিন্তাধারা এবং সাধারন রাজনৈতিক লাইনের প্রয়োজনীয়তা তলে ধরেন। এই মতাবস্থানসমূহ উপরেল্লিখিত দলগুলোর দ্বারা বিরোধিতা প্রাপ্ত হয়। পারদেস কর্তৃক দুই লাইনের সংগ্রামের ভ্রান্ত পরিচালনা পার্টিকে ভাঙতে যাচ্ছে। সভাপতি গনসালো পার্টিকে পুনর্গঠণের প্রয়োজনীয়তা এবং একে বাস্তবায়নের জন্য সংশোধনবাদকে ঝেটিয়ে বিদেয় করার জন্য এক আভ্যন্তরীন সংগ্রাম চালানোর প্রয়োজন উপলব্ধি করেন যার প্রমাণ রয়েছে বান্দেরা রোখা [পিসিপির অফিশিয়াল পত্রিকা-ইং অনুবাদক] [লাল পতাকা-বাং অনুবাদক] তে তিনি যে সম্পাদকীয়গুলি লিখেছিলেন, ডিসেম্বর ১৯৬৭তে, “আভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে গভীরে বিকশিত করুন”, এবং এপ্রিল ১৯৬৮তে “বিপ্লবী অনুশীলনে আভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে গভীর ও তীব্রতর করুন।” তিনি গণযুদ্ধে বিপ্লবী সহিংসতা উতসারণে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাওয়ের পথের জন্য, এভাবে পার্টি কর্তৃক দাবীকৃত প্রধান কাজ সম্পন্ন করেঃ বিপ্লবী বাহিনী নির্মাণ। তিনি প্রস্তাব করেন যে এই উদ্যোগে অপরিহার্য ভিত্তি হচ্ছে বিপ্লবী কৃষকদের মধ্যে কাজের বিকাশ অর্থাত কৃষক জনগণের মধ্যে ভাল কাজ ছাড়া, অর্থাত মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও সেতুঙ চিন্তাধারা কর্তৃক পরিচালিত ও কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে কাজ ছাড়া না কোন বাহিনী গড়ে ওঠতে পারে না গণযুদ্ধ। পরবর্তীতে তিনি প্রস্তাব করেন যে পার্টিকে শুধু যে মারিয়েতেগুইর চিন্তাধারার অব্যাহত প্রযোজ্যতাকেই পুনগ্রহণ করতে হবে তাই নয়, বরং অবশ্যই একে বিকশিত করতে হবে। তিনি মে ১৯৬৯-এ পার্টির কৃষি কর্মসুচি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭২-এ আয়াকুচোর আঞ্চলিক কমিটির রণনৈতিক পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠিত হয়। দক্ষিণপন্থী বিলোপবাদ পরাজিত হয় এবং পার্টিতে দুটি অংশ (দল) বজায় থাকেঃ লাল দল মৌলিকভাবে আয়াকুচোতে সভাপতি গনসালোর নেতৃত্বে এবং প্রধানভাবে লিমায় কর্মরত “বলশেভিক” দল। দ্বিতীয়টি এক বাম বিলোপবাদী লাইন বিকশিত করে, সংশোধনবাদের এক রূপ যা পার্টিকে জনগন থেকে বি্িচ্ছন্ন করে। তাদের ধারনা ছিল ফ্যাসিবাদকে লড়া যাবেনা, একটা সঠিক লাইনই যথেষ্ট। তাদের একটা সামরিক লাইন ছিল যা ছিল গণযুদ্ধের বিরোধি। এরা ১৯৭৫-এ ধ্বংস হয় এবং এদের নেতারা পালিয়ে যায়।

সশস্ত্র সংগ্রাম সূচনা করতে “পুনর্গঠন সম্পূর্ণ করুন এবং ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করুন”-এর তৃতীয় রাজনৈতিক রণনীতির সময়কালে সমস্যাটি ছিল পার্টির পুনর্গঠণ শেষ করা, একে সম্পূর্ণ বিবেচনা করা, এবং সশস্ত্র সংগ্রাম সূচিত করতে ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করা। এপ্রিল ১৯৭৭-এর ৭ম পুর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এটা সমাধা হয় যা সমগ্র পার্টি “সশস্ত্র সংগ্রামকে সেবা করতে বিনির্মাণ”-এর শ্লোগানের অধীনে কাজ করে, ডান সুবিধাবাদী লাইন (আরওএল)-এর বীজের বিরুদ্ধে সংগ্রাম যা মনে করে ভ্যালেস্কো [১৯৬৮-৭২-এর সামরিক শাসক-ইং অনুবাদক] কৃষি সংস্কার সাধন করেছে, কৃষকদের পেরুর কৃষক ফেডারেশনের সাথে যুক্তভাবে সংগঠিত করতে হবে, গণযুদ্ধকে “জনগণের গভীরতম দাবী”র জন্য পরিচালনা করতে হবে, ভুমি ও ক্ষমতার প্রশ্ন ভুলে গিয়ে। শহরে তারা “শ্রমিকবাদ” গড়ে তোলে, শ্রমিক ইউনিয়নগুলি [Gremialismo] তে শ্রেনীকে কেন্দ্রীভূত করে এবং শ্রেণীর নেতৃত্বকারী ভুমিকা পালনকে অস্বীকার করে। এসব মতাবস্থানকে চুর্ণ করে সভাপতি গনসালো জুন, ১৯৭৭-এ “বিনির্মাণের জাতীয় পরিকল্পনা” পরিচালনা করলেন; ডজন ডজন কেডারদের গ্রামে পাঠানো হলো গণযুদ্ধের রণনৈতিক প্রয়োজনের স্বার্থে এবং আঞ্চলিক কমিটিসমুহ গড়তে ভবিষ্যতে ঘাঁটি এলাকাকে হিসেবে নিয়ে। জুলাই, ১৯৭৮-এর ৮ম পুর্ণাঙ্গ অধিবেশনে “সশস্ত্র সংগ্রামের রূপরেখা” প্রতিষ্ঠিত হলো। সারে, এটা রূপরেখা দিল যে পেরুতে গণযুদ্ধকে হতে হবে গ্রাম ও শহরে এক ঐক্যবদ্ধ সমগ্র যেখানে গ্রামাঞ্চল হবে সশস্ত্র এ্যাকশনসমূহের প্রধান মঞ্চ গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাওয়ের পথ অনুসরণ করে। অধিকন্তু, দেশের ঐতিহাসিক সামাজিক প্রক্রিয়াকে একে অবশ্যই হিসেবে নিতে হবে, বিশেষত সামরিক দিককে, ইতিহাসে সিয়েররার গুরুত্ব এবং আমাদের ইতিহাসে প্রধানত দেশের কেন্দ্রিয় ও দক্ষিণ অংশ, রাজধানীর গুরুত্ব এবং লাতিন আমেরিকা বিশেষত দক্ষিন আমেরিকার প্রেক্ষাপটে পেরুর এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা এব্ং আন্তর্জাতিক ও বিশ্ব বিপ্লবের প্রেক্ষিতে। সমগ্র পার্টিকে সাধারন পুনর্গঠণে নিয়োযিত করা হলো প্রধান ধরণের সংগ্রাম ও সংগঠণ বিকশিত করতে গ্রামাঞ্চলকে কেন্দ্র করে। এভাবে, বিপ্লবের তিন হাতিয়ারের বিনির্মাণের ভিত্তি স্থাপন করা হলো।

সংশ্লেষণে, পুনর্গঠণের সমগ্র প্রক্রিয়া নতুন ধরণের এক পার্টিতে আমাদের চালিত করে যে গণযুদ্ধকে শুরু করতে ও দেশব্যাপী ক্ষমতা দখল না হওয়া পর্যন্ত তাকে নেতৃত্ব করতে প্রস্তুত। এই প্রক্রিয়ায় ঐতিহাসিক বাহিনী (কনটিনজেন্ট) কে গড়ে তোলা হলো যে সর্বহারার মতাদর্শসমেত সভাপতি গনসালোর নেতৃত্বে অধীনে গণযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলে প্রস্তুত হয়েছিল।

তৃতীয় মুহুর্ত। (১৯৮০ থেকে বর্তমান পর্যন্ত) পার্টি গণযুদ্ধকে নেতৃত্ব দিতে শুরু করলো। “পথের প্রয়োগ ও বিকাশ” সহকারে এর সামরিক লাইন গড়ে ওঠলো। এই তৃতীয় মুহুর্তের চার মাইলফলক রয়েছেঃ

.     সংজ্ঞা;

.     প্রস্তুতি;

.     সূচনা; এবং

.     গেরিলা যুদ্ধের বিকাশ

) সংজ্ঞা। সারে পার্টি পেরুতে গণযুদ্ধ সূচনার ঐতিহাসিক ও সীমাতিক্রমকারী ঐকমত্য অর্জন করে, যা জুন, ১৯৭৯-এ ৯ম বর্ধিত প্লেনামে গৃহিত হয়েছিল। এই ঐকমত্য তিনটা তীব্র সংগ্রামের মধ্যে অর্জিত হয়েছিল। প্রথমটা ডান সুবিধাবাদী লাইনের বিরুদ্ধে যা সশস্ত্র সংগ্রাম শুরুর বিরোধিতা করেছিল বিপ্লবী পরিস্থিতিকে অস্বীকার করে এর অনস্তিত্বশীলতা ঘোষণা করে এবং বলে যে “স্থিতিশীলতা”র পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। এই লাইনের বহিষ্কারের পর পার্টি এক নয়া স্তর ও লক্ষ্যে একমত হয়। দ্বিতিয় সংগ্রাম ছিল এক নতুন ডানপন্থী লাইনের বিরুদ্ধে যা মনে করেছিল যে সশস্ত্র সংগ্রাম অসম্ভব এবং তা এক “স্বপ্ন” আর এই ঐকমত্যের কোন প্রয়োজন ছিলনা কারন সেটা ছিল একটা নীতিগত প্রশ্ন। তৃতিয় সংগ্রামটি ছিল বামের মধ্যে ভিন্নতাসমূহের মধ্য [পিসিপির মধ্যে বাম লাইন- ইং অনুবাদক] যাতে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয় কীভাবে গনযুদ্ধ গড়ে তোলা যায়। এটা প্রতিষ্ঠিত হয় যে সর্বহারা মতাবস্থান হচ্ছে সভাপতি গনসালোর এবং তাই তাকেই প্রয়োগ করতে হবে; সমগ্র পার্টি সভাপতি গনসালোর নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

বাহিনী সংগঠন প্রশ্নে সামরিক কেডার, এ্যাকশনের জন্য বিশেষ গ্রুপ গড়ে তোলায় এবং সৈনিকদের দিকে নিশানা করে প্রতিক্রিয়াশিল বাহিনীকে দাবানোর ঐকমত্য হয়। রণনীতি ও রণকৌশলে এ কাঠামোগত ব্যবস্থা পুনবিবৃত হয়।

) প্রস্তুতি। এই মাইলফলক ঘটনায়, পার্টির কর্মসুচি দেওয়া হয় পেরুভিয়ান বিপ্লবের সাধারন রাজনৈতিক লাইন ও পার্টি নীতিমালাসমেত। রাজনৈতিক রণনীতি, বিপ্লবী সহিংসতা, গণযুদ্ধ ও পার্টি, সৈন্যবাহিনী ও যুক্তফ্রন্ট সম্পর্কিত প্রশ্নে সমস্যা সমাধান করা হয়। নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়ঃ “প্রথম কোম্পানীকে কাজে গড়ে তুলুন! সহিংসতা সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনা ও বিকাশকে শোভিত করুক; প্রথম কোম্পানীকে কাজে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে আমরা পার্টি ও আমাদের জনগণের ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করতে নেতৃত্ব দিয়ে সূচনা করি ও আমাদের রক্ত দান করি। পেরু, ডিসেম্বর ৩, ১৯৭৯।”

পার্টি সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি নেয় দুই সমস্যাকে মোকাবেলা করেঃ ১) রাজনৈতিক রণনীতির সমস্যা যা গণযুদ্ধকে সমগ্রত ও স্বল্পমেয়াদে উভয়ত সার ও লক্ষ্য দান করে, সেইসাথে সেই পথ নির্দেশ করে যা গণযুদ্ধের থাকতে হবে, সামরিক পরিকল্পনাসমূহ, তিন হাতিয়ারের বিনির্মাণ এবং নয়া ক্ষমতার সাথে তাদের সম্পর্ক; ২) সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনা। এই নির্ধারক ও জরুরী সমস্যা সভাপতি গনসালোর সর্বাধিক বিশেষ মনোযোগ লাভ করে যিনি প্রতিষ্ঠা করেন “সশস্ত্র সংগ্রাম সূচনা করুন!” শ্লোগানের দ্বারা পরিচালিত “সূচনার পরিকল্পনা” যা ছিল প্রধান রাজনীতির মর্মবস্তু যাকে সামরিকভাবে বিকশিত করতে হয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হচ্ছেঃ

প্রথম, রাজনৈতিক করণীয়সমূহ যাকে সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনার সময়কালে সম্পন্ন করতে হয়েছে, নির্বাচন বর্জন, ভুমির জন্য সশস্ত্র সংগ্রামকে সামরিকভাবে বিকশিত করা এবং নয়া জয় বিশেষত নয়া ক্ষমতার জন্য ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করা,

দ্বিতীয়, সংগ্রামের রূপঃ গেরিলা যুদ্ধ, সাবোটাজ, প্রচার, সশস্ত্র বিক্ষোভ এবং বাছাইকৃত খতম;

তৃতীয়, সাংগঠনিক ও সামরিক রূপঃ আধুনিক অস্ত্রসহ অথবা ব্যতিত সশস্ত্র বাহিনী সংস্থানসমূহ;

চতুর্থত, একটা কালপঞ্জী, সূচনার তারিখ ও পরিকল্পনার সময়কাল, এবং বিশেষ বিশেষ তারিখে সমন্বিত এ্যাকশন।

বিপ্লবী পরিস্থিতিকে অস্বীকার করছিল যে ডান মতাবস্থানসমূহ তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম সহযোগে সূচনা শুরু হলো, এবং তারা আরো বলছিল যে পার্টি প্রস্তুত নয় অথবা জনগণ আমাদের সমর্থন দেবেনা। এই মতসমূহের নেতারা বিচ্ছিন্ন ও ধ্বংস হয়ে যায়।

) সূচনা। মে ১৭, ১৯৮০, পেরুর গণযুদ্ধ শুরু হল। এটা “সীমাতিক্রমী তাতপর্যপুর্ণ এক যুদ্ধ আহ্বানকারী রাজনৈতিক আঘাত যা বিদ্রোহী লাল পতাকা এবং কাস্তে হাতুড়ি উড়িয়ে ঘোষণা করেঃ ‘বিদ্রোহ করা ন্যায়সঙ্গত’ এবং ‘বন্দুকের নল থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতা বেড়িয়ে আসে।’ এটা জনগণকে বিশেষত গরীব কৃষককুলকে টেনে নিয়ে আসে অস্ত্র হাতে উঠে দাঁড়াতে, বহ্নুতসব জ্বালিয়ে দিতে এবং আন্দিসকে কাঁপিয়ে দিতে, আমাদের পার্বত্য ভৌগলিকতার ক্ষেত্রসমূহ ও লুক্কায়িত চিত্রে নয়া ইতিহাস লিখতে, নিপীড়নের শাসনের পঁচা দেওয়ালকে গুড়িয়ে দিতে, পর্বত শিখর জয় করতে, নতুন ভোরের দ্বার খুলে দিতে বন্দুক হাতে স্বর্গমর্ত্য কাঁপিয়ে দিতে। সূচনা ছিল ভদ্র, একেবারে প্রায় আধুনিক অস্ত্র ছাড়া। এটা লড়া হলো, এটা অগ্রসর হলো, ছোট থেকে বড় এটা গড়ে ওঠলো এবং দুর্বল বস্তুগত ও প্রারম্ভিক আগুণ ভয়ংকর অগ্নিশিখায় পরিণত হল, আর শক্তিমত্ত গর্জন বেড়ে ওঠলো বিপ্লব বপন করে আগের চেয়ে অধিক থেকে অধিকতর বেগবর্ধক গণযুদ্ধে বিস্ফোরিত হয়ে।”

তৃতীয় মাইলফলক ১৯৮০র মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাপ্ত ছিল যা কীভাবে সশস্ত্র সংগ্রাম সূচনা করা যায় শান্তির কাল থেকে যুদ্ধের কালে যেতে সেপ্রশ্ন সমাধা করে। এই প্রসঙ্গে, এ্যাকশনের মাধ্যমে পার্টির সামরিকীকরণ ও সূচনার পাণ্ডিত্যপুর্ণ পরিকল্পনা ছিল চাবিকাঠি। সেটা ছিল কীভাবে নতুন জন্ম নেয়ঃ সংগ্রামের প্রধান রূপ সশস্ত্র সংগ্রাম এবং প্রধান ধরণের সংগঠণ বাহিনী ও স্কোয়াড। মাঠে সবচেয়ে বিখ্যাত এ্যাকশনগুলো ছিল আয়রাবাম্বা ও আয়সারকা [আয়াকুচোর এলাকা-ইং অনুবাদক] এর এ্যাকশনসমূহ এবং শহরে সান মার্টিন [লিমার এক জেলা- ইং অনুবাদক]-এর পৌর ভবনে অগ্নিসংযোগ। চুসচির জনগণ কর্তৃক নির্বাচন বয়কট ছিল সেই এ্যাকশন যা গণযুদ্ধ সূচনা করে। এই পরিকল্পনা সম্পন্ন করা হলো ডান সুবিধাবাদীদের পরাজিত করে যারা বলছিল যে পরিকল্পনা “হোজাবাদী” এবং এ্যাকশনসমূহ শহরে কেন্দ্রিভূত। তাদের বক্তব্য বাহ্যিক চেহারাকে বাস্তবের সাথে গুলিয়ে ফেলে এবং সংগ্রামের সারকে বিকৃত করে যেহেতু প্রতিক্রিয়াশীল প্রচার শহরের সাবোটাজকে বৃহত শিরোনাম দেয় আর গ্রামাঞ্চলের এ্যাকশনসমূহকে সংকুচিত করে। গ্রামাঞ্চলকে এ্যাকশনের প্রধান মঞ্চ ও শহরাঞ্চলকে প্রয়োজনীয় পরিপূরক বানানো হচ্ছে পেরুর গণযুদ্ধের একটা বৈশিষ্ট্য।

) গেরিলা যুদ্ধের বিকাশ। এটা সম্পন্ন করা হয় তিনটি সামরিক পরিকল্পনার মাধ্যমে: গেরিলা যুদ্ধ চালনা পরিকল্পনা, ঘাঁটি জয় করা এবং ঘাঁটি বিকশিত করা।

গেরিলাযুদ্ধের চালনা সম্পর্কে। এটা একটা পরিকল্পনা দ্বারা সম্পন্ন করা হয় যা ১৯৮১র মে থেকে ১৯৮২র ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাপ্ত ছিল। এবং এর পাইলট পর্যায় ছিল জানুয়ারি ১৯৮১। “ঘাঁটি এলাকা হিসেবে কার্যকর গেরিলা জোন সূচিত করুন” শ্লোগান পার্টি ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, সভাপতি গনসালোর পথনির্দেশক চিন্তাধারাকে প্রয়োগ করে এক মতাদর্শিক-রাজনৈতিক উলম্ফণ দান করে। সামরিক দিক থেকে তারা সারা দেশে গেরিলাযুদ্ধের সূচনা ঘটায় “অস্ত্র ও যুদ্ধের হাতিয়ার দখল করুন, গ্রামাঞ্চলকে সশস্ত্র এ্যাকশন দ্বারা আলোড়িত করুন এবং ঘাঁটি এলাকার দিকে এগিয়ে চলুন” কামনা করে। এই পরিকল্পনাসমূহ শেষেরটা সমেত আংশিকভাবে সম্পন্ন হয় যেখানে “এগিয়ে চলুন” ছিল পরবর্তী পরিকল্পনার সংযোগ। গ্যামোনেল [আধাসামন্ততান্ত্রিক ভুস্বামী-ইং অনুবাদক] দের দিকে বর্শাফলক তাক করে উতপাদনের সামন্তবাদী সম্পর্ক গুড়িয়ে দিয়ে এবং যৌথ পুলিশী অপারেশনসমূহের বিরুদ্ধে লড়াই করে এটা অগ্রসর হয়। বহু সংখ্যক পুলিশ পোস্টের ওপর আক্রমণ চালালো হয় এবং গ্যামোনেলদের ওপর বাছাইকৃত খতম পরিচালিত হয় এক বিরাট ব্যাপক কৃষক সমাবেশিত করে যারা স্বেচ্ছায় মিলিশিয়ায় যোগ দেয় প্রতিক্রয়াশিলদের জন্য এক ক্ষমতাশুন্যতা সৃষ্টি করে। গণকমিটিসমূহ উদ্ভূত হলো যারা বহুগুণে বৃদ্ধি পেল। তাদের আবির্ভাব ঘাঁটি এলাকাসমূহকে মূর্ত করে।

আমাদেরকে সেই এ্যাকশনসমূহকে গুরুত্ব দিতে হবে যেমন, আয়াকুচো শহর জেল আক্রমণ যেখানে প্রথম কোম্পানী প্রথমবারের মতো কাজ করলো, শহর দখল করলো এবং দশ বন্দীকে মুক্ত করলো; ভিলকাশুয়মান, টোটোস ও সান জোসে সিসের পুলিশ পোস্টের ওপর আক্রমন; পাওয়ার গ্রীড ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর সাবোটাজ আক্রমণ; অন্যান্যের মধ্যে পিংকো, তক্্রামা, আল্লাপাচাকা, হুয়াল্লাপম্পায় আক্রমণ। শহরে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের ওপর সাবোটাজ হয়েছে এবং সেইসাথে ধর্মঘটের প্রতি সশস্ত্র ততপরতার মাধ্যমে সমর্থন জানানো হয়েছে।

এখানে যে ডানপন্থী মতসমূহকে লড়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে ব্যক্তিগত ক্ষমতা, রাজভক্তি এবং এ্যাকশন থেকে পশ্চাদপসারণ। গেরিলাযুদ্ধের চালনা আমাদের সর্বাধিক গুরুত্বপুর্ণ বিজয় দিয়েছেঃ নয়া ক্ষমতা, গোপন গনকমিটিসমূহ যা হচ্ছে ঘাঁটি এলাকাসমূহের মেরুদণ্ড।

গণযুদ্ধের অগ্রসরমাণতার মুখোমুখি হয়ে বেলেন্দের প্রতিক্রিয়াশীল সরকার শুরু থেকেই বাহিনী সদস্য, যোদ্ধা ও জনগণের ওপর নিপীড়ন, অত্যাচার ও জেলজুলুম ও হত্যা সংঘটিত করা শুরু করলো। তারা পরিচালনা করলো স্বতন্ত্র পুলিশ অপারেশন এবং “সিনশিস” নামক প্রতিবিপ্লবী দল সহযোগে পুলিশ বাহিনীর সাথে যৌথভাবে সিভিল গার্ড, তদন্তকারী পুলিশ দল নিয়ে। তারা ডিএল নং ০৪৬ [ডিক্রী আইন-ইং অনুবাদক] ঘোষণা করলো যা হচ্ছে প্রকৃতই একটা সন্ত্রাসবাদী আইন যা বুর্জোয়া অপরাধ আইনের একেবারে প্রাথমিক নীতিসমূহও লঙ্ঘন করে। কিন্তু তাদের সকল পরিকল্পনার ফল হলো সর্বোচ্চ নিশ্চিত ব্যর্থতা, জনগণ তাদের আগ্রাসন প্রত্যাখ্যান ও প্রতিরোধ করলো। নয়া ক্ষমতার আবির্ভাব বেলেন্দে সরকারের নীরবতাকে ভেঙে দিল যা প্রথম থেকেই সমস্যাকে চাপা দিয়েছিল তাদের ভুয়া গণতান্ত্রিক আবরনকে বজায় রাখতে এবং ইয়াংকি সাম্রাজ্যবাদের নিরাপত্তার অধীনে দুই শোষক বড় বুর্জোয়া ও ভুস্বামীদের শ্রেণীপ্রয়োজনকে শক্তিশালি করলো। বেলেন্দে তারপর রাষ্টের মেরুদণ্ড বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী)কে ক্ষমতা দিল পুলিশ বাহিনীর সহযোগিতায় সরকারী শাসন পুনপ্রতিষ্ঠা করতে ডিসেম্বর, ১৯৮২ থেকে আজ (১৯৮৮) পর্যন্ত আয়াকুচো ও আপুরিমাক অঞ্চলে রাজনৈতিক সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীনে জরুরী অবস্থা জারী করলো।

গণযুদ্ধের বিকাশ এবং উলম্ফণপ্রাপ্ত প্রতিবিপ্লবী সাড়ার প্রেক্ষিতে সভাপতি গনসালো ঘাঁটি জয় করার বিরাট পরিকল্পনার রূপরেখা দিলেন জানুয়ারী থেকে মার্চ ১৯৮৩তে বর্ধিত কেন্দ্রিয় কমিটিতে যেখানে চারটি রাজনৈতিক করণীয় মূর্ত করা হয়ঃ পার্টির সাধারণ পুনর্গঠণ, গণ গেরিলা বাহিনীর সৃষ্টি এবং জনগণের বিপ্লবী রক্ষী ফ্রন্ট এবং গ্রামাঞ্চলে গণকমিটি হিসেবে এবং শহরে জনগণের বিপ্লবী রক্ষী আন্দোলন হিসেবে তাদের সংহতকরণ এবং ঘাঁটি জয় করার সামরিক পরিকল্পা। রাজনৈতিকভাবে নয়া রাষ্ট্র ও পুরোনো রাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বন্দ্ব “রক্ষা, বিকাশ ও তৈরী করুন” ঘাঁটি এলাকা শ্লোগানের অধীনে অগ্রসর হচ্ছিল। এক ক্ষুরধার সংঘাত গড়ে ওঠলো যাতে প্রতিক্রিয়াশীলরা পুরোনো ক্ষমতা পুনপ্রতিষ্ঠা করতে সংগ্রাম করে এবং বিপ্লব নয়াক্ষমতা পাল্টা প্রতিষ্ঠা করতে সংগ্রাম করে। একেই আমরা বলি ১৯৮৩ ও ১৯৮৪ সাল জুরে পুনপ্রতিষ্ঠা ও পাল্টাপুনপ্রতিষ্ঠার মধ্যে সংগ্রাম। জোনসমূহের জন্য সামরিক লাইন মূর্ত করা হয় শত্রুর দুর্বল পয়েন্টে ঘেরাও ও আঘাত হানাকে প্রয়োগ করে। দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করা হয় যাতে নয়া ক্ষমতা তার প্রথম অগ্নিপরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে ইস্পাত কঠিণ হয়; পার্টি গড়ে ওঠে এবং গণগেরিলা বাহিনী বিকশিত হয়।

প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী প্রতিবিপ্লবী যুদ্ধ পরিচালনা করলো তাদের ইয়াঙ্কী (মার্কিন) সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের ধারণা অনুসরন করে, যেসব তত্ত্ব তারা প্রতিবিপ্লবী যুদ্ধে তাদের অভিজ্ঞতা থেকে প্রতিষ্ঠা করেছে প্রধানত ভিয়েতনাম ও নির্দিষ্টভাবে লাতিন আমেরিকার সশস্ত্র সংগ্রামের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে, বিশেষত মধ্য আমেরিকা থেকে সংগ্রহ করেছে। ইসরায়েলের “সন্ত্রাসবিরোধি”অভিজ্ঞতার সাথে আর্জেন্টিনায় তার সাথীরা সেইসাথে ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানী আর তাইওয়ান ও স্পেন প্রভৃতিতে তার পরামর্শকরা মিলে এটাই হচ্ছে তার মূল তাত্তি^ক উতস। ১৯৬৫তে গেরিলাবিরোধি তাদের কয়েক মাসের সংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবং লা কনভেনশন[কাসকোর এক প্রদেশ যেখানে ১৯৬৫তে গেরিলা সংগ্রাম ছিল]-এ আরো সীমিত লড়ার অভিজ্ঞতার সাথে এটা যুক্ত হয়। অপারেশনসমূহ সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের নির্দেশনার অধিনে পরিচালিত হয় যা কাজ করে জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের ইচ্ছায় যার শীর্ষে আছে প্রেসিডেন্ট, আজকে এলান গার্সিয়া, যে পুর্ণ দায়িত্ব বহন করে। এই প্রতিবিপ্লবী রণনীতিকে অনেকবার পরাজিত করা হয়েছে। এটা গণযুদ্ধ কর্তৃক পরিপুর্ণভাবে ও সমগ্রভাবে চুর্ণ ও পরাজিত হয়েছে, বারংবার দুনিয়াকে সাম্রাজ্যবাদের ওপর সর্বহারার রণনীতির শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে দিয়ে।

গণহত্যাকারী সরকারের প্রয়োগকৃত নির্দিষ্ট কর্মনীতিগুলির একটা সারসংক্ষেপ হচ্ছেঃ জনগণকে জনগণের বিরুদ্ধে লাগানো; গণহত্যা, গণকবর; সমগ্র গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। সবমিলিয়ে তারা গ্রামাঞ্চলে এক শ্বেত সন্ত্রাস কায়েম করে, বিশেষত আয়াকুচো, হুয়ানকাভেলিকা এবং আপুরিমাকে। তাদের গণহত্যার ফলাফল হচ্ছে আট হাজার সাত শত পেরুভিয়ানের মৃত্যু। এর মধ্যে চার হাজার সাত শত হচ্ছে দরিদ্রতম ও সর্বাধিক নিপীড়িত, প্রধানত কৃষক, এবং শহরতলী ও শহরের বস্তিগুলোতে চার হাজার নিখোঁজ হন। এই গণহত্যা তারা যা ফল চেয়েছিল তা সৃষ্টি করেনি; এটা গণযুদ্ধকে চুর্ণ করেনি। বিপরীতে, “গণযুদ্ধ অধিকতর শক্তিশালি ও বিকশিত হয় শক্তিমত্ত আঘাত হেনে”, যার প্রমান চেয়ারম্যান মাও শিক্ষা দিয়েছেন যে নিপীড়ণ বিপ্লবকে জাগরিত ও পুষ্ট করে।

ঘাঁটি জয় করার পরিকল্পনার মধ্যে “মহান উলম্ফণের পরিকল্পনা” হচ্ছে “দুই প্রজাতন্ত্র, দুই পথ, দুই অক্ষ”-এর রাজনৈতিক রণনীতি এবং “গেরিলা যুদ্ধকে সাধারণীকরণ করুন”-এর সামরিক রণনীতির প্রতি নিবেদিত। “আমাদের রাজনৈতিক ক্ষেত্রের দ্বার উন্মোচন করুন”, “১৯৮৫র সাধারন নির্বাচনের বিরুদ্ধে, তাদের চুর্ণ বিচুর্ণ করুন এবং যেখানে সম্ভব প্রতিহত করুন”, “নয়া আপ্রিস্টা সরকারের ক্ষমতারোহনকে বিরোধিতা করুন”, এবং “ফ্যাসিস্ট ও কর্পোরেটিভিস্ট আপ্রিস্টা প্রতিনিধি সভাকে দাবিয়ে দিন” এসব রাজিৈনতক শ্লোগানের অধীনে চারটি সফল অভিযান পরিচালিত হয়। গণযুদ্ধ বিকশিত হয় আয়াকুচো, হুয়ানকাভেলিকা ও আপুরিমাকে এবং পাসকো, হুয়ানুকো ও সান মার্টিনে সম্প্রসাতি হয় উত্তরপশ্চিমে ইকুয়েডর সীমান্তে কাজমারকা ডিপার্টমেন্ট পর্যন্ত এবং দক্ষিণপুবে বলিভিয়ার সীমান্তে পুনো পর্যন্ত এলাকা নিয়ে, শহরগুলিতে আঘাত হেনে ও কাঁপিয়ে দিয়ে বিশেষত রাজধানীকে। যা হচ্ছে পেরুভিয়ান সমাজের ঐতিহাসিক অক্ষ এবং এর সর্বাধিক দরিদ্রতম অংশ সেই সিয়েররায় মৌলিকভাবে গণযুদ্ধ সংঘটিত হয় একে বিপ্লবী যুদ্ধের মহামঞ্চে রূপান্তরিত করে। এটা জঙ্গলের ধার থেকে উপকুলের উপদ্বীপ পর্যন্ত অগ্রসর হয়। এভাবে গণযুদ্ধ কোন একটা একক অঞ্চলে ধারণ করা হয়নি বরং অসম হলেও কয়েকটি অঞ্চলে সমন্বিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল প্রধান এলাকা নিয়ে যা প্রয়োজনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। সকল ততপরতাই একটা রণনৈতিকভাবে কেন্দ্রিভূত ও রণকৌশলগতভাবে বিকেন্দ্রিভূত পরিকল্পনায় ধারণ করা হয়েছিল।

সর্বাধিক বিখ্যাত এ্যাকশনগুলোর মধ্যে রয়েছে আয়াকুচো ডিপার্টমেন্টে গেরিলাবিরোধি ঘাঁটিতে আঘাত; স্থানীয় মাইক্রো রিজিয়নগুলোতে প্রতিবিপ্লবী শিবির [নিউক্লিয়ামেনতিয়স] ধ্বংস এবং স্থাপনাগুলোকে গুড়িয়ে দেওয়া; হুয়ানকাভেলিকায় বৈদ্যুতিক গ্রীড উড়িয়ে দেওয়া এবং হাইওয়ে সিস্টেম ধ্বংস করা; সিন্তো ও ভিছিঞ্চা কৃষি সমবায়কে ধ্বংস করা গবাদি পশুর পুনবন্টন ও ভুমি দখল সমেত; আপুরিমাকে বিন্দু ভাঙা। কেন্দ্রিয় অঞ্চলে এ্যামবুশ করা হয় যেমন মিচিভিলকায়, সেন্ত্রোমিন[রাষ্ট্রীয় খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন-ইং অনুবাদক]-এর সাবস্টেশনে সাবোটাজ, এসএআইএস [রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সমবায়] টুপাক আমারুর ওপর সাবোটাজ, উত্তরে “ভুমি দখল করো” শ্লোগানের অধীনে ভুমি দখল যা ১ লক্ষ ৬০ হাজার কৃষককে সমাবেশিত করেছিল এবং ৩ লক্ষ ২০ হাজার হেক্টর জমি যার অধিকাংশই চাষযোগ্য এবং ১২ হাজার গবাদিপশু দখল করেছিল; “নরপেরুয়ানো” তেলের পাইপলাইনে সাবোটাজ, এবং ত্রুজিল্ল শহরে আপরার সদরদপ্তরে সাবোটাজ। দক্ষিণে ভুমি দখল দশ হাজারেরও বেশি কৃষককে সমাবেশিত করে; হুয়াল্লাগায় আউকায়াকু পুলিশ পোস্টের ওপর হামলা, বৃহত কোম্পানী তিয়ালারিার ধ্বংস, রিপাবলিকান গার্ডের ওপর এ্যামবুশ; মেট্রোপলিটন লিমায় রুশ সামাজিক সাম্রাজ্যবাদীদের দূতাবাসে সাবোটাজ, আপরা পার্টির ডজনখানেক স্থানীয় অফিসে, ব্যাংক ও কারখানায় সাবোটাজ, এসবই ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬তে সামরিক নিয়ন্ত্রিত জরুরী অবস্থার দিকে চালিত করে।

এলান গার্সিয়া তার পূর্বসূরিদের প্রতিবিপ্লবী কর্মনীতি অব্যাহত রাখে গণহত্যার মাধ্যমে গণযুদ্ধকে চুর্ণ করতে সচেষ্ট হয়, যেমন, গ্রামাঞ্চলে আকোমারকা, লোচ্চাপম্পা, উমারু ও বেয্যাভিস্টার গণহত্যা। প্রজাতন্ত্রের রাজধানীতে যুদ্ধবন্দীদের বিরুদ্ধে দুটি গণহত্যা সংঘটিত করে, প্রথমটি ৪ঠা অক্টোবর, ১৯৮৫তে যেখানে ৩০ জঙ্গী ও লড়াকুকে লুড়িগাঞ্চোর আলোকজ্জ্বল পরিখা [একটা জেলখানার কথা বলা হচ্ছে-ইং অনুবাদক]য় হত্যা করা হয়। তারা ভাঙতে পারেনি যুদ্ধবন্দীদের বীরত্ববঞ্জক প্রতিরোধকে যারা তাদের রক্ত দিয়ে যুদ্ধবন্দীদের দিবস গঠণ করেন জুন ১৯, ১৯৮৬ তে, চরম ঘৃণ্য ও নিন্দার্হ পুর্বপরিকল্পিত অপরাধ সংঘটিত করা হলো গণযুদ্ধকে চুর্ণ করতে এবং যুদ্ধবন্দীদের হত্যা করতে যারা এক লোমহর্ষক প্রতিরোধের মাধ্যমে গণহত্যাকারী আপ্রিস্টা সরকারের সর্বাধিক রাজনৈতিক, সামরিক ও নৈতিক অধঃপতন ডেকে আনলো। গণহত্যার রক্তে চিরকাল স্নানরত অবস্থায় কর্পোরেটিভিস্ট ফ্যাসিবাদ গড়ে তোলার জন্য গার্সিয়া ও আাপ্রিস্টা পার্টি বড় বুর্জোয়াদের আমলাতান্ত্রিক উপদলকে সেবা করার ডিলেমা নিয়ে এল ও সংজ্ঞায়িত করলো। এভাবে এল ফ্রন্টন, লুরিগাঞ্চো ও কাল্লাওয়ের আলোকোজ্জ্বল পরিখায় ২৫০ জন মৃতের স্মৃতিস্তম্ভের উপাখ্যান নিয়ে বীরত্বের দিবস গড়ে ওঠলো।

আমরা বহুবিধ রূপে আবির্ভুত সুবিধাবাদ ও সংশোধনবাদকে উন্মোচন ও নিন্দা করিঃ রুশপন্থী, চীনপন্থী, ভ্রান্ত মারিয়েতেগুইপন্থী, যারা সকলে তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করেছে, প্রতিবিপ্লবের লেজুরবৃত্তি করেছে, গণযুদ্ধকে অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে লড়েছে এবং তাকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে রিগান, পেরুভিয়ান ও দুনিয়ার প্রতিক্রিয়াশীলদের উক্তির পুনরুক্তি করে। তারা কখনোই তাদের দোষারোপকে প্রমাণ করার আশা করেনা এবং সরলভাবে বিশেষন আরোপ করে আর সহিংসতাকে নিন্দা করে তার “উতস যাই হোক না কেন”, জনগণকে সংসদীয়পন্থায় বেঁধে ফেলার লক্ষ্যে তাদের পুরোনো সংসদীয় ভন্ডামী অব্যাহত রাখে, প্রতিটি দিন তাদের পুরোনো শাসনকে আলিঙ্গন করে তাতে নিমজ্জিত হয় প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী ও পুরোনো রাষ্ট্রের আতঙ্কে কাঁপে ও নতজানু হয়। আমরা ব্যারান্সেস লিঙ্গুয়ান ও এই ধারার অন্যদের তোষামোদী মনোভাব ও বিশ্বাসঘাতকতাকে নিন্দা জানাই।

১৯৮৩ থেকে ঘাঁটি জয় করার বিরাট পরিকল্পনার রাজনৈতিক রণনীতি অংশ ১ ও অংশ ২কে রক্ষা করা, বিকশিত করা ও নির্মাণ করার দুই অভিযানের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়, এবং ডিসেম্বর ১৯৮৬ পর্যন্ত চার অভিযানসহযোগে মহান উলম্ফণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। এই পরিকল্পনাসমূহ আমাদেরকে দেখায় গণযুদ্ধের অগ্রগমন এবং তারা যাকিছু বলে তার বিপরীতে আমরা যে জনগণের সাথে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত, কারণ বাস্তব হচ্ছে অনস্বীকার্য। গণযুদ্ধ একটা এলাকা জয় করেছে যা সিয়েররা, অরণ্য ও উপকুল বরাবর সম্প্রসারিত হয়েছে প্রচণ্ডতায় ও শক্তিমত্ততায় এগিয়ে চলে এবং নতুনকে সৃষ্টি করে আর ভবিষ্যতের দ্বার উন্মোচন করে। গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাওয়ের ভিত যে ঘাঁটি এলাকাসমূহ তা ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

ঘাঁটি বিকশিত করার বিরাট পরিকল্পনা। গণযুদ্ধে এর রয়েছে এক বিশেষ ভুমিকা যেহেতু গণযুদ্ধের সারবস্তু হচ্ছে ভিত্তি বিকশিত করা; তাই ঘাঁটি বিকশিত করার বিরাট পরিকল্পনার সাথে নয়া ক্ষমতার বিনির্মাণ ও তার বিকাশের সম্পর্ক রয়েছে, এর সাথে সেই প্রেক্ষিতের সম্পর্ক রয়েছে যা দেশব্যাপী ক্ষমতা জয় করার জন্য উন্মোচিত করা হয়েছে। বিশ্ববিপ্লবকে সেবা করে রাজনৈতিক রণনীতি হচ্ছে ঘাঁটি এলাকা বিকশিত করার জন্য এবং সামরিক রণনীতি হচ্ছে গণযুদ্ধকে বিকশিত করার জন্য, একটা পরিকল্পনা যা সম্পন্ন করা হয় একটা পাইলট পরিকল্পনা দ্বারা।

বিপ্লবের বিজয় এক শক্তিশালি প্রতিবিপ্লব জন্ম দেয় ও তাকে চুর্ণ করে। আমরা নির্ধারক বছরগুলিতে প্রবেশ করছি যাতে আপরা সরকার কোন রণনৈতিক পরিকল্পনা ছাড়া এগোচ্ছে; তারা “নয়া রণনীতি”র কথা বলে কিন্তু এমন কোন কিছুই নেই। যা বজায় আছে তা হচ্ছে আরো বৃহত্তর নিপীড়ণঃ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক আইনের যা আমাদের জন্য ও সেইসাথে তাদের জন্য নতুন পরিস্থিতিতে নতুন নতুন গণহত্যার জন্ম দিতে সশস্ত্র বাহিনীসমূহের ততপরতাসমূহকে সামরিক দিক থেকে শক্তিশালি করে। আমাদের জন্য, চলতি গণহত্যা নতুন পরিস্থিতিতে নিজেকে উপস্থিত করে। আমরা ১৯৮৩ ও ১৯৮৪র গণহত্যার মধ্যে দিয়ে গেছি যা বিরাট গণ প্রত্যাখ্যান ও বিপ্লবের শক্তিশালী হওয়া প্রদর্শন করে। প্রতিক্রিয়া কেবল গণহত্যাই প্রয়োগ করতে পারে, কিন্তু তা গণযুদ্ধকেই শক্তিশালি করবে। প্রাথমিক প্রত্যাহার অথবা আগুপিছু থাকতে পারে কিন্তু আমরা জয়ী হবো মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, গনসালো চিন্তাধারায়, আমাদের পাঁচ বিকাশের রাজনীতিতে, গণযুদ্ধের অপারেজয়তা এবং ইতিহাস রচনা করে যে জনগণ তাদের সমর্থনে নিজেদের টিকিয়ে রেখে, সর্বদাই কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে ।

ঘাঁটি গড়ার নয়া বিরাট পরিকল্পনার যা আমাদেরকে মূর্ত পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা তুলে ধরে, তাতে আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবেঃ

এমআরটিএ এবং সিআরপি [ক্ষণজন্মা গণবিপ্লবী কমান্ডো-ইং অনুবাদক]র মতো সশস্ত্র গ্রুপ উদ্ভূত হয়েছে। তাদেরকে আবার তুলে ধরা হয়েছে আর তাদের কোন সুনির্দিষ্ট মার্কসবাদী ধারণা নেই। তাই, তারা সাম্রাজ্যবাদ, সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের সেবায় এগিয়ে যায় এবং সেই ফ্যাসিস্ট কথোপকথনে যাতে তারা একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে।

আপরা ইতিমধ্যেই ফ্যাসিবাদ ও কর্পোরেটিভিসম বিকশিত করা শুরু করেছে। সে মারাত্মক ও বর্ধিত প্রতিকুলতা মোকাবেলা করছে যেমন, অন্য অধিক গুরুত্বপুর্ণ দ্বন্দ্বসমূহের মধ্যে তার মুতসুদ্দি বুর্জোয়াদের সাথে বর্ধিত ও সাংঘাতিক ঘোঁট পাঁকানো ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

শ্রেণীসংগ্রাম তীক্ষ্ণতর ও তীব্রতর হচ্ছে অধিক থেকে অধিকতর, জনগণ নিজেদের রক্ষা ও প্রতিরোধ শুরু করেছেন; যদি শহরাঞ্চলে সামাজিক বিস্ফোরণ ঘটে তা সাধারণভাবে সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীলদের দ্বারা ব্যবহৃত হতে পারে তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের মারফত।

যে কোন সময় একটা কুদ্যেতা ঘটতে পারে। সেই গার্সিয়া পেরেজই স্বয়ং কুদ্যেতা ঘটাতে পারে তার নিজ রাজনৈতিক ভবিষ্যতকে রক্ষা করতে।

এই প্রেক্ষিতে, প্রতিক্রিয়াশীলরা একটা আলেন্দে ধরণের সরকার নিয়েও খেলতে পারে আপ্রিস্টা বারান্তেস ও এই ধরণের কাউকে ব্যবহার করে; এই সম্ভাবনার মধ্যে ঐক্যবদ্ধ বামদের বদমাইশী ভুমিকা বিবেচ্য।

পেরুভিয়ান রাষ্ট্রের সীমান্ত সমস্যা রয়েছে যা যেকোন মুহুর্তে জ্বলে উঠতে পারে যেমনটা লাতিন আমেরিকান দেশগুলির অভিজ্ঞতা দেখায়। এই সমস্যাকে অবশ্যই গুরুত্বের সাথে তুলে ধরতে হবে।

ইয়াঙ্কি সৈন্যবাহিনী প্রেরন কেবল একটা সরল সম্ভাবনা নয় বরং ইতিমধ্যেই একটা বাস্তব সম্ভাবনা। তাদের উপস্থিতি অন্যান্য দেশে তাদের একইধরণের উপস্থিতির সাথে জড়িত বিশেষত সীমান্তে এবং একে ব্রাজিল কর্তৃক সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের পাসঙ্গিকতায় দেখতে হবে।

সাম্রজ্যাবাদী যুদ্ধ ও তাদের আগ্রাসন অব্যাহতভাবে বাড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে একাধিপত্যের জন্য এক বিশ্বমাত্রায় ষড়যন্ত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি অব্যাহতভাবে চলছে।

ফলতঃ গনযুদ্ধ হচ্ছে পরমভাবে প্রয়োজন এবং বিশ্বগণযুদ্ধ হচ্ছে একটা অনিবার্য পরিপ্রেক্ষিত।

এসকল সম্ভাবনাকে গুরুত্বের সাথে হিসেবে নিতে হবে রাজনীতিকে কমান্ডে রেখে গণযুদ্ধ পরিচালনা করতে এবং নির্দিষ্টত দেশব্যাপী ক্ষমতা দখলের দিকে চোখ রাখতে হবে যা নিজেকে তুলে ধরতে পারে এবং যাকে অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে। এসব কারণেই, আমাদেরকে মতাদর্শিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে।

ঘাঁটি বিকশিত করার মহা পরিকল্পনার পাইলট পরিকল্পনার প্রথম অভিযানের অর্থ হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াসমেত বৃহত্তম আলোড়ন। এটা পুরোনো রাষ্ট্রকে অধিক থেকে অধিকতরভাবে ভেঙে দিচ্ছে, যা পেরুতে অতীতে কারো দ্বারা এভাবে কেঁপে ওঠেনি। এখন এটা আমাদের ওপর বর্তায় দ্বিতীয় অভিযানের “প্রতিভাদীপ্তভাবে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক প্রতিষ্ঠা করা!”র ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা সম্পাদন করা। এটা বোঝা যে পাইলট পরিকল্পনা হচ্ছে ঘাঁটি বিকশিত করার প্রারম্ভিক যুদ্ধের মতো।

উপসংহারে, আট বছরের কাছাকাছি গণযুদ্ধের পর আমরা পঁয়তাল্লিশ হাজার এ্যাকশন করেছি যা তাদের উচ্চ গুণাগুণ প্রকাশ করে; সামরিকিকৃত পার্টি ইস্পাতকৃত হয়েছে; গণগেরিলা বাহিনী গড়ে ওঠেছে এবং তার সহিংসতা বাড়িয়েছে; আমাদের রয়েছে দরিদ্র জনগণের ক্রমবর্ধিত সমর্থনসমেত নয়া ক্ষমতার শত শত সংগঠন। গণযুদ্ধ আমাদের জনগণের শ্রেণীসংগ্রামকে তার সর্বোচ্চ রূপে উন্নীত করেছে, জনগণের নিজেদের সংগ্রামের ওপর যা নিজেকে আরোপ করে তাদেরকে প্রচুর পরিমাণে গণযুদ্ধে টেনে নিয়ে আসে। “গণযুদ্ধ দেশকে উল্টে দিচ্ছে, ‘পুরোনো গুবরে পোকা’ [ এল টপো ভিয়েখো] পুরোনো সমাজের অভ্যন্তরে গভীরভাবে পঁচে যাচ্ছে। কেউ একে থামাতে পারবেনা, ভবিষ্যত ইতিমধ্যেই আমাদের মধ্যে উপস্থিত,  পুরোনো ও পঁচা সমাজ চিরতরে ডুবে যাচ্ছে, বিপ্লব জয়যুক্ত হবে। গণযুদ্ধ জিন্দাবাদ!” আমাদের কর্তব্য হচ্ছে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, গনসালো চিন্তাধারার ব্যানারের অধীনে বিশ্ববিপ্লবকে সেবা করে গণযুদ্ধকে বিকশিত করা।

)  গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাও করার পথ এবং বিপ্লবী সমর্থনের ঘাঁটি

চেয়ারম্যান মাও গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাওয়ের পথ প্রতিষ্ঠা করেন। এর কেন্দ্রে রয়েছে ঘাঁটি এলাকা এটা হিসেবে নিয়ে যে শক্তিশালি সাম্রাজ্যবাদীরা ও তাদের প্রতিক্রিয়াশীল চীনা মিত্ররা প্রধান প্রধান শহরগুলিতে ঘাঁটি গেঁড়ে ছিল। বিপ্লবকে নিজের পরাজয় প্রত্যাখ্যান করতে ও সংগ্রামে টিকে থাকতে পশ্চাদপদ গ্রাম এলাকাগুলোকে অগ্রসর সুকঠিণ ঘাঁটি এলাকায় রূপান্তরিত করতে হয়েছিল, সেই ভয়ংকর শত্রুকে লড়তে যারা শহরকে ব্যবহার করে গ্রামাঞ্চলের ওপর হামলা চালাচ্ছিল, বিপ্লবের মহা সামরিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতি ঘাঁটিতে রূপান্তরিত করতে হয়েছিল  আর এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ধাপে ধাপে পুর্ন বিজয়ের দিকে নিয়ে গিয়েছিল।

এই মাওবাদী থিসিসের সঠিকতা থেকে সভাপতি গনসালো এক ঐক্যবদ্ধ গণযুদ্ধ পরিচালনা প্রতিষ্ঠা করেন যেখানে গ্রামাঞ্চল হবে সশস্ত্র এ্যাকশনসমূহের প্রধান মঞ্চঃ যেহেতু আমাদের দেশে এক নিরংকুশ সংখ্যাগুরু কৃষক জনগণ রয়েছে তাই সেখানেই আমাদের ঘাঁটি এলাকাসমূহ গড়তে হবে। যেমনটা চেয়ারম্যান মাও বলেছেনঃ “এমন ঘাঁটি এলাকাসমূহে সমর্থিত দীর্ঘস্থায়ী বিপ্লবী সংগ্রাম হচ্ছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে মৌলিকভাবে কৃষকদের গেরিলা যুদ্ধ। তাই, গ্রামাঞ্চলকে বিপ্লবী ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করার প্রয়োজনকে, কৃষকদের মধ্যে অধ্যবসায়ী কাজ করাকে এবং গেরিলা যুদ্ধকে অবহেলা করা হচ্ছে ভুল।” আরো এগিয়ে চেয়ারম্যান গনসালো মূর্ত করেন যে শহরে সশস্ত্র এ্যাকশন চালাতে হবে পরিপূরক হিসেবে, যেহেতু আন্তর্জাতিক ও আামাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা দেখায় যে তা সম্ভব। তিনি শিক্ষা নেন, উদাহারণস্বরূপ, ফিলিপাইনে, গেরিলাদের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তাহচ্ছে এই যে তারা নিজেদের গ্রামাঞ্চলে আটকে ফেলেছেন এবং শহরগুলোকে খালি ছেড়ে দিয়েছেন, বিশেষত রাজধানীকে, যার ফল হয়েছে গেরিলারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ব্রাজিলে, বিপ্লবীরা গ্রাম ও শহরে সশস্ত্র এ্যাকশন চালিয়েছেন, শুধু কোনটা প্রধান তা অবহেলা করেছেন। ভিয়েতনামে শহরাঞ্চলে গুরুত্বপুর্ণ সশস্ত্র এ্যাকশন পরিচালিত হয়েছে। তাই, লাতিন আমেরিকার শহরগুলির বিশেষত্বকে হিসেবে নিয়ে যেখানে শহরাঞ্চলে সর্বহারাশ্রেণী ও গরীব জনগণের শতকরা হার উচ্চ, জনগণ এ্যাকশন বিকশিত করতে প্রস্তুত গ্রামাঞ্চলেরগুলোর পরিপূরক হিসেবে। শহরে অবশ্য নয়া ক্ষমতা অথবা ঘাঁটি এলাকা গড়ে তোলা হয়না বরং বিপ্লবী গণ রক্ষী আন্দোলন (এমআরডিপি)-এর মাধ্যমে ফ্রন্ট বাস্তবায়ন করা হয় প্রতিরোধ কেন্দ্রসমূহসমেত যা গণযুদ্ধ চালায় ও ভবিষ্যত অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নেয় যা সংঘটিত হবে যখন গ্রামাঞ্চলের শক্তিসমূহ শহরগুলিকে আক্রমণ করবে শহরের ভেতরকার অভ্যুত্থানের সাথে সমন্বিতভাবে।

ঘাঁটি এলাকাসমূহ হচ্ছে রণনৈতিক ঘাঁটি যার ওপর গেরিলা বাহিনীসমূহ নির্ভর করে তাদের রণনৈতিক করণীয় সম্পাদনের জন্য এবং তাদের শক্তি সংরক্ষণ ও বর্ধিতকরণের লক্ষ্য অর্জনের জন্য আর সেইসাথে শত্রুকে খতম ও তার ওপর পাল্টা আঘাত হানার জন্য। এমন রণনৈতিক ঘাঁটি এলাকা ছাড়া কোন কিছু থাকবেনা যেখান থেকে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের রণনৈতিক করণীয়গুলোর কোনটিও বাস্তবায়ন করা যায়।

চেয়ারম্যান মাও ঘাঁটি এলাকা সৃষ্টির তিনটি কারণ তুলে ধরেনঃ বাহিনী গড়ে তোলা, শত্রুকে পরাজিত করা এবং জনগণকে সমাবেশিত করা। এগুলো আমাদের গণযুদ্ধে ১৯৮২তে মূর্ত করা হয়েছে শত্রুকে আঘাত হানার তার ভুমিকায় গেরিলা যুদ্ধের পরিচালনার পরিকল্পনা প্রয়োগ করার সময়, আমরা উতপাদনের পুরোনো সামন্তীয় সম্পর্ক ধ্বংস করায় নিশানা করেছিলাম। পুলিশ পোস্টসমূহের ওপর আক্রমন চালানো হয়েছে, ভুস্বামী শক্তির ওপর বাছাইকৃত খতম পরিচালনা করা হয়েছে আর পুলিশ বাহিনী গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে প্রাদেশিক রাজধানীসমূহে পুনসংগঠিত হয়েছে। পুরোনো ক্ষমতার কর্তৃপক্ষসমূহ ব্যাপকভাবে পদত্যাগ করেছে যা ক্ষমতাশুণ্যতা সৃষ্টি করেছে, যেখানে দশক দশক সহস্র জনকে সমাবেশিত করা হয়েছে। এটা এমন একটা পরিস্থিতিতে যে ঘাঁটি এলাকাসমুহ উদ্ভূত হয়েছে এবং গোপন গণকমিটিসমূহের আকারে মূর্ত হয়েছে। তাই, চীনা অভিজ্ঞতাকে গোঁড়ামীবাদীভাবে নেওয়া ভুল যেহেতু শর্ত অনুকুলে থাকলে এবং নীতিসমূহ কার্যকর থাকলে ঘাঁটি এলাকা গড়ে তোলার মতো পর্যাপ্ত কারণ আমাদের থাকে। এই থিসিসের সাথে একমত হতে ডানপন্থার সাথে এক সংগ্রাম চালাতে হয়েছিল যা বির্তক তুলছিল যে আমরা বিরাট শত্রুবাহিনীকে পরাজিত করিনি, যেখানে সমস্যাটা ছিল যে শত্রু বাহিনী তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিকল্পনাসমূহের পরাজয়ের ফল হিসেবে মাঠ থেকে পালিয়েছিল।

রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিসমূহ, সংগ্রামের ইতিহাস, পার্টির ভৌগোলিক বৈশিষ্ট এবং পার্টি, বাহিনী ও জনগণের বিকাশকে হিসবে নিয়ে সভাপতি গনসালো এক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন যেখানে ঘাঁটি এলাকাসমূহকে ঘিরে থাকবে গেরিলাজোনসমূহ, অপারেশন জোন ও এ্যাকশনের ক্ষেত্রসমূহ।

গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাওয়ের পথ এবং তার কেন্দ্র ঘাঁটি এলাকার প্রযোজ্যতাকে সমর্থন করা হচ্ছে মৌলিক গুরুত্বপুর্ণ, কারণ কেবল অভুত্থানের ভ্রাম্যমাণ গেরিলা থাকলে গণ গেরিলা বাহিনীর না থাকবে ঘাঁটি এলাকা পেছনে দাঁড়াবার জায়গা হিসেবে যা তাদের টিকিয়ে রাখে না সৃষ্টি হবে নয়া ক্ষমতা। আমরা ফুকোবাদের সমগ্রভাবে বিরোধি।

)  দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ

গণযুদ্ধ হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী কারণ তা শত্রু ও আমাদের উপাদানসমূহের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে উদ্ভূত হয় যা এই চারটি মৌলিক বৈশিষ্ট দ্বারা নির্ধারিত হয়ঃ প্রথম পরিকল্পনা হচ্ছে এই যে পেরু একটা আধাসামন্ততান্ত্রিক ও আধাউপনিবেশিক সমাজ যাতে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ গড়ে ওঠে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে এই যে শত্রু শক্তিশালি; তৃতীয়টি হচ্ছে এই যে গণ গেরিলা বাহিনী দুর্বল; আর চতুর্থটি হচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টি গণযুদ্ধকে নেতৃত্ব করে। প্রথম ও চতুর্থ বৈশিষ্ট থেকে আমরা পাই যে গণগেরিলা বাহিনী তড়িত গতিতে বৃদ্ধি পাবেনা এবং শীঘ্রই শত্রুকে পরাজিত করবেনা। এই বিশেষত্ব যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী চরিত্রকে নির্ধারণ করে।

শত্রু শক্তিশালি আর আমরা দুর্বল; এই বাস্তবতায় থাকে আমাদের পরাজয়ের বিপদ। শত্রুর একটা একক সুবিধা রয়েছে তা হচ্ছে তাদের বহুবিধ বাহিনীর বহুবিধ সংস্থান এবং যার ওপর তারা নির্ভর করে সেই অস্ত্রশস্ত্র। কিন্তু অন্য সকল দিক তাদের দুর্বল দিক রচনা করে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে ভুস্বামী-আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পঁচনশীল ক্ষমতাকে রক্ষা করা। তার রয়েছে এক বুর্জোয়া সামরিক লাইন; সে হচ্ছে একটা ভাড়াটিয়া বাহিনী। এর সচেতন শৃ্খংলা নেই এবং এর নৈতিকতা নিম্নমানের। এর রয়েছে অফিসার ও সৈনিকদের মধ্যে গভীর দ্বন্দ্ব, এবং এটা জনগণের কাছে সম্মান পায়না। অধিকন্তু, খোদ প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনীর ভিত্তি হচ্ছে শ্রমিক ও কৃষক উদ্ভূত যা একটা অন্যায় যুদ্ধের প্রক্রিয়ায় ভেঙে যেতে পারে। এছাড়া, পেরুভিয়ান সশস্ত্র বাহিনী কখনো কোন যুদ্ধে জয়ী হয়নি আর তারা হচ্ছে পরাজয়ে দক্ষ। অধিকন্তু, তারা বারংবার আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার সমর্থনের ওপর নির্ভর করেছে, কিন্তু আমরা দুনিয়ার নিপীড়িত জাতিসমূহ, জনগণ ও আন্তর্জাতিক সর্বহারার সমর্থনের ওপর নির্ভর করি, যারা হচ্ছে নয়া শক্তি।

গণ গেরিলা বাহিনীর রয়েছে এক দুর্বল দিক, তা হচ্ছে তার অপর্যাপ্ত বিকাশ, কিন্তু বাকী দিকগুলো মুল্যবাণ সুবিধা গঠণ করে; সে গণযুদ্ধ এগিয়ে নেয় নয়া ক্ষমতা সৃষ্টি করার জন্য; পরমভাবে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে তার রয়েছে এক সর্বহারা সামরিক লাইন; সে শ্রেণী উদ্যম, বিপ্লবী বীরত্ববাদ ও এক সচেতন শৃংখলার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তার নৈতিক মনোবল হচ্ছে উচ্চমানের আর অফিসার ও সৈনিকদের মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ একতা, এবং এটা একটা বাহিনী যা জনগণের নিজেদের নিয়ে গঠিত, প্রধানত দরিদ্র শ্রমিক ও কৃষকদের নিয়ে।

কিন্তু বস্তুগত বাস্তবতা হচ্ছে এই যে শত্রুর বাহিনী ও আমাদের বাহিনীর মধ্যে রয়েছে এক বিরাট অসামঞ্জস্য এবং আমাদেরকে দুর্বলতা থেকে সবলতায় যেতে একটা পর্যায়কাল প্রয়োজন, যাতে শত্রুর প্রতিকুলতাগুলি উন্মোচিত হবে আর আমাদের অনুকুলতাগুলি বিকশিত হবে। তাই, আমরা বলি যে আমাদের বাহিনী আপাত দুর্বল কিন্তু সারে এটা শক্তিশালি আর শত্রুর বাহিনী আপাত শক্তিশালি কিন্তু সারে দুর্বল। তাই, দুর্বল থেকে সবলে যেতে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালাতে হবে এবং এর রয়েছে তিনটি স্তরঃ প্রথম পর্বটি হচ্ছে শত্রুর রণনৈতিক আক্রমণ আর আমাদের বাহিনীর রণনৈতিক আত্মরক্ষা। দ্বিতীয় পর্বটি হবে শত্রুর রণনৈতিক সংহতকরণ আর  আমাদের পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি। তৃতিয়টি হবে আমাদের রণনৈতিক আক্রমণ আর শত্রুর রণনৈতিক প্রত্যাহার।

সভাপতি গনসালো আমাদের শিক্ষা দেন যে গণযুদ্ধ হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী, দীর্ঘ ও রক্তাক্ত কিন্তু বিজয়বাণ এবং বলেন যে এর সময়কাল হবে দীর্ঘস্থায়ী প্রকৃতির চৌহদ্দির মধ্যে বর্ধিত অথবা সংক্ষিপ্ত। সর্বহারা সামরিক লাইনের অভ্যন্তরে যে পরিমাণে আমরা লড়াই করবো তার ওপর সময় নির্ভর করবে, যেহেতু ডানপন্থা হচ্ছে প্রধান বিপদ যা যুদ্ধের মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

আজকে, আমরা দেখি যে আমরা শত্রুর রণনৈতিক আক্রমণ এবং আমদের রণনৈতিক আত্মরক্ষার পর্বে রয়েছি। গেরিলা যুদ্ধকে প্রয়োগ করে, পরবর্তী স্তরের জন্য ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে আমাদের অবশ্যই গণযুদ্ধকে শক্তিশালি করতে হবে, তার জন্য যত মূল্যই দিতে হোক যা লড়াইয়ের মাধ্যমেই কমিয়ে আনা যাবে।

. গণ গেরিলা বাহিনী গঠণ

গণযুদ্ধ পরিচালনা করতে আমাদের নির্ভর করতে হবে প্রধান ধরণের সংগঠণের ওপর যা হচ্ছে গণ গেরিলা বাহিনী, যেহেুতু পুরোনো রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড হচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীল সশস্ত্র বাহিনী আর পুরোনো রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে অবশ্যই তার প্রতিক্রিয়াশিল বাহিনীকে ধ্বংস করতে হবে। পার্টিকে এক শক্তিশালি বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হবে। “বাহিনী ছাড়া জনগণের কিছুই নেই”, যেমনটা চেয়ারম্যান মাও আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন।

বাহিনী গঠণকে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, গনসালো চিন্তাধারার ভিত্তিতে বিনির্মাণ হিসেবে আমাদেরকে দেখতে হয়। সংশ্লেষণে, সভাপতি গনসালো গণ গেরিলা বাহিনীতে মিলিশিয়ার অন্তর্ভুক্তকরণ করায় অবদান রাখেন। এর সৃষ্টি হচ্ছে সশস্ত্র জনগণের সমুদ্রের দিকে এক পদক্ষেপ এবং অসংগঠিত জনগণ থেকে সামরিকভাবে সংগঠিত জনগণের দিকে যাওয়ার এক সমাধান।

. রণনীতি ও রণকৌশল

সভাপতি গনসালো চেয়ারম্যান মাওয়ের রণনীতি ও রণকৌশলের সাতটি পয়েন্টের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তার কিছু বিশেষায়িত করেন। গণযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য এগুলোর প্রতি আমাদেরকে ঘনিষ্ঠ মনোযোগ দিতে হবে।

)  রণনীতি ও রণকৌশল সম্পর্কে

তিনি চেয়ারম্যান মাওয়ের এই থিসিস থেকে যাত্রা করেন যে একটা বিজ্ঞান হিসেবে রণনীতির কর্তব্য হচ্ছে সেই পরিচালক সামরিক অপারেশনসমূহের নিয়মসমূহ অধ্যয়ণ করা যা যুদ্ধের পরিস্থিতিকে তার সমগ্রতায় প্রভাবিত করে। অভিযান ও রণকৌশলসমূহের বিজ্ঞানের কর্তব্য হচ্ছে আংশিক চরিত্রের পরিচালক সামরিক অপারেশনসমূহের নিয়মসমূহ অধ্যয়ণ করা। তিনি সমগ্রভাবে দেশের প্রতিটি জোনে যুদ্ধ কীভাবে চালাতে হবে তার রণনৈতিক বিকাশ সাধন করেন, আন্তজাতিক পরিস্থিতির সাথে তার সম্পর্ককে হিসেবে নিয়ে। তিনি আমাদেরকে অক্ষ, উপঅক্ষ, আন্দোলনের দিশা এবং আন্দোলনের গতিধারার রূপরেখা প্রদান করেন যা যেকোন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের রণনৈতিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে এবং প্রতিবিপ্লব কর্তৃক চালিত সকল ধরণের রাজনৈতিক ও সামরিক অপারেশনের মোকাবেলা করতে আমাদের অনুমোদন দেয়। এই ভিত্তিতে তিনি জাতীয় সামরিক পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠা করেন যা হচ্ছে রণনৈতিকভাবে কেন্দ্রিভূত আর রণকৌশলগতভাবে বিকেন্দ্রিভূত, এই নীতি থেকে যাত্রা করে যে সকল পরিকল্পনা একটা মতাদর্শকে প্রতিফলিত করে, এই যে তাদেরকে উভয়ত বাস্তবতা ও অবশ্যই উদ্যমকে প্রকাশিত করতে হবে। স্তালিনকে গ্রহণ করে তিনি রণকৌশলের সাথে রণনীতির যোগ সাধন করেন এবং রণনৈতিক অপারেশন পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠা করেন যা হচ্ছে মূর্ত পথ যাতে রণনীতি রণকৌশলগত অপারেশনের সাথে সংযুক্ত হয়। ফলত, প্রতিটি কমিটিকে সমগ্র পার্টির সাধারণ রণনৈতিক অপারেশন পরিকল্পনার মধ্যে তার রণনৈতিক অপারেশন পরিকল্পনা বিশদ করতে হবে।

সঠিক দৃষ্টিভঙ্গী কমান্ডারের ন্যায্য সিদ্ধান্ত থেকে আসে; শত্রুর পরিস্থিতির অপরিহার্য স্বীকৃতি ও যতনশীল অধ্যয়ণ, প্রকৃত পরিস্থিতি ও এই দুইয়ের আন্তঃসম্পর্ককে ভিত্তি করে সকল সামরিক পরিকল্পনাকে হতে হবে। অর্থাত, আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে “দুই পাহাড়”; আমাদেরকে একটা রাজনৈতিক রণনীতি ও একটা সামরিক রণনীতি দ্বারা পরিচালিত হতে হবে।

পরিকল্পনাকে বিশদ করতে সর্বদাই নীচের সাধারণ বিষয়গুলিকে হিসেবে নিতে হবেঃ

বিপ্লব ও প্রতিবিপ্লবের মধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রেণীসংগ্রাম; মতাদর্শ; আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলন; রিম।

দেশে শ্রেণীসংগ্রাম; প্রতিবিপ্লব।

গণযুদ্ধের বিকাশ; এর ভারসাম্য; নিয়ম ও শিক্ষাসমূহ।

তদন্তের প্রয়োজনীয়তা।

গণযুদ্ধ ও এর বিনির্মাণ।

গণযুদ্ধ ও জনগণ।

দুই লাইনের সংগ্রাম।

কর্মসূচি প্রদান ও কালপঞ্জী।

দৃষ্টিভঙ্গী ও শ্লোগান, “দুঃখকষ্টের ঊর্ধ্বে উঠুন এবং বৃহত্তর বিজয় ছিনিয়ে আনুন!”

প্রায় আট বছরের গণযুদ্ধে আমাদের চারটি পরিকল্পনা ছিলঃ সূচনার পরিকল্পনা; গণযুদ্ধকে বিকাশের পরিকল্পনা; ঘাঁটি জয় করার পরিকল্পনা; এবং ঘাঁটি বিকশিত করার পরিকল্পনা।

)  যুদ্ধের মূল নীতি

সামরিক অপারেশনের সাথে বিজড়িত সকল নীতিমালাই একটা মূলনীতি থেকে উদ্ভূত হয়ঃ নিজেদের শক্তিকে রক্ষা করতে এবং শত্রুর শক্তিকে খতম করার জন্য সম্ভব সবকিছু করো। সকল যুদ্ধই একটা মূল্য আরোপ করে, অনেকসময় যা অত্যন্ত উচ্চ। আমাদের নিজেদের শক্তিকে রক্ষা করতে আমাদেরকে অবশ্যই শত্রুর শক্তিকে খতম করতে হবে; কিন্তু শত্রুকে খতম করতে আমাদেরকে অবশ্যই একটা মূল্য দিতে হবে সমগ্রকে রক্ষা করার লক্ষ্যে। সভাপতি গনসালো আমাদের শিক্ষা দেন আমাদেরকে যুদ্ধের সর্বোচ্চ মূল্য দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে, কিন্তু আমাদেরকে লড়তে হবে যাতে এটা সম্ভাব্য ক্ষদ্রতম মূল্য হয়। এটা একটা দ্বন্দ্ব এবং সমস্যাটা দৃষ্টিভঙ্গী ও ভাল পরিকল্পনা রচনার মধ্যে নিহিত। এটা প্রধানত নেতৃত্বের একটা প্রশ্ন।  তিনি আমাদেরকে নিয়ে যান “মৃত্যুর চ্যালেঞ্জ”, “বিপ্লবী বীরত্ব” এবং “মৃত্যুতে সাফল্য জয় করা” তে। যুদ্ধে আমরা সর্বদাই দুটি দিক দেখতে পাই, ধ্বংসাত্বক আর গঠণমূলক এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে প্রধান।

)  গেরিলা রণকৌশল অথবা মৌলিক রণকৌশল

“শত্রু যখন আগায়, আমরা পিছাই, শত্রুশিবির ফেলে হয়রান করি; শত্রু ক্লান্ত হলে আমরা তাকে আক্রমণ করি; পলায়নরত শত্রুকে পিছু ধাওয়া করি।” এই মৌলিক রণকৌশলকে অন্তর্ভুক্ত ও প্রয়োগ করতে হবে শত্রুর চারদিকে জাল ফেলে ও তাকে ধ্বংস করতে তার দুর্বল দিক খুঁজে বের করে।

)  “ঘেরাও দমন অভিযান ও পাল্টা-অভিযান হচ্ছে গণযুদ্ধের প্রধান ধরণ

এটা হচ্ছে একটা নিয়ম যে প্রতিবিপ্লব বিপ্লবকে চুর্ণ করার লক্ষ্যে গণ গেরিলা বাহিনীর প্রতিটি ইউনিটের বিরুদ্ধে অথবা ঘাঁটি এলাকাসমূহের বিরুদ্ধে “ঘেরাও দমন” অভিযান চালায়। গণগেরিলা বাহিনীর অপারেশনসমূহ পাল্টা অভিযানের রূপ গ্রহণ করে আর চেয়ারম্যান মাও “ঘেরাও দমন” অভিযানকে চুর্ণ করতে নয়টি ধাপ প্রতিষ্ঠা করেছেনঃ

সক্রিয় আত্মরক্ষা;

পাল্টা অভিযানের প্রস্তুতি;

রণনৈতিক পশ্চাদপসারণ;

রণনৈতিক পাল্টা আক্রমণ;

পাল্টা আক্রমণের সূচনা;

শক্তি কেন্দ্রিভূতকরণ;

চলমান যুদ্ধ;

দ্রুত নিষ্পত্তির যুদ্ধ; এবং,

ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ।

সভাপতি গনসালো এই নিয়মকে আমাদের গণযুদ্ধের পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করে অভিযানের পাঁচটি অংশ মূর্ত করেছেন যা আমাদেরকে অনুমোদন দেয় প্রতিক্রিয়াশীলদের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিকল্পনাকে পরাজিত করতে। প্রতিটি অভিযানের রয়েছে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য যা আকস্মিক আক্রমণ, শত্রুকে যখন যেখানে আমাদের প্রয়োজন সেই অনুপাতে আক্রমণ করার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তিনি পাঁচটি ধাপকে মূর্ত করেন যাকে অবশ্যই প্রতিটি সামরিক এ্যকশনকে অনুসরণ করতে হবে সর্বদাই রাজনৈতিক লক্ষ্যকে সেবা করে এবং স্রেফ এ্যাকশনের জন্য এ্যাকশনের ধারাকে বিরোধিতা করে। শত্রুর গতিবিধির সার ও বহিরাকৃতির মধ্যে পার্থক্যকরণের গুরুত্বের ওপর তিনি জোর দেন। গণযুদ্ধের লড়াইয়ের চারটি রূপও তিনি আমাদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেনঃ

গেরিলা এ্যাকশন, তার দুই ধরণ আক্রমণ (অ্যাসল্ট) ও এ্যামবুশসহ;

সাবোটাজ;

বাছাইকৃত খতম; এবং

প্রচার ও সশস্ত্র মিছিল, সেইসাথে তার বিচিত্র পদ্ধতিসমূহ।

)  গেরিলা যুদ্ধের রণনৈতিক ভুমিকা

চেয়ারম্যান মাও গেরিলা যুদ্ধকে এক রণনৈতিক স্তরে বিকশিত করেন। তার পূর্বে একে একটা রণকৌশলগত সমস্যা হিসেবে শুধূ বিবেচনা করা হতো যা যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করতো না; কিন্তু যদিও গেরিলা যুদ্ধ যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করেনা কারণ এর প্রয়োজন প্রচলিত যুদ্ধ, এটা যুদ্ধের অনুকুল ফলাফলের জন্য এক ঝাঁক রননৈতিক কর্তব্য সম্পাদন করে। আমরা গেরিলা যুদ্ধকে আত্মস্থ করি এক ব্যাপক মাত্রায় এক সাধারণীকৃত গেরিলা যুদ্ধ হিসেবে যা অবশ্যই দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধকে সমর্থন দেবে। সেখান থেকে, আমরা গেরিলা যুদ্ধের ছয়টি রণনৈতিক প্রশ্ন প্রয়োগ করিঃ

আত্মরক্ষাত্বক যুদ্ধের মধ্যে আক্রমণাত্বক অপারেশন চালানোয় উদ্যোগ, নমনীয়তা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মধ্যে দ্রুত নিষ্পত্তির যুদ্ধ এবং অন্তর্লাইনের যুদ্ধের মধ্যে বহির্লাইনে অপারেশন চালানো।

নিয়মিত যুদ্ধের সাথে সমন্বয়।

ঘাঁটি এলাকাসমূহের সৃষ্টি।

গেরিলা যুদ্ধে রণনৈতিক আত্মরক্ষা ও রণনৈতিক আক্রমণ।

গেরিলা যুদ্ধকে চলমান যুদ্ধে রূপান্তর করা।

কমান্ডের আন্তঃসম্পর্ক।

)  দশ সামরিক নীতিমালা

ডিসেম্বর ১৯৪৭-এ চেয়ারম্যান মাও পাণ্ডিত্যপুর্ণভাবে ১০ সামরিক নীতিমালার আকারে ২০ বছরেরও বেশি অনুসৃত ন্যায্য ও সঠিক রণনৈতিক লাইনের সংশ্লেষণ করেন। এটা তাঁর “বর্তমান পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়” নিবন্ধের তৃতীয় খণ্ডে পাওয়া যায়। আমরা এই নীতিমালা প্রয়োগ করি আর তার প্রয়োগকে বিস্তৃত করা খুবই গুরুত্বপুর্ণ।

)  রণনীতি ও রণকৌশলের প্রতিভাদীপ্ত সারসংক্ষেপ

চেয়ারম্যান মাও এই বাক্যে প্রতিভাদীপ্তভাবে গণযুদ্ধের রণনীতি ও রণকৌশলের সারসংকলন করেনঃ “তোমরা তোমাদের কায়দায় লড়ো, আমরা আমাদের কায়দায়ঃ যখন জিততে পারি তখন আমরা লড়ি আর যখন জিততে পারিনা তখন পশ্চাদপসারণ করি।”

“অন্য কথায়, তোমরা আধুনিক অস্ত্র দ্বারা সমর্থিত আর আমরা উচ্চ স্তরের বিপ্লবী সচেতনতাযুক্ত ব্যাপক জনগণের সমর্থনপুষ্ট; তোমরা তোমাদের উতকৃষ্টতার সর্বোচ্চ ব্যবহারসমেত লড়াই করো, আমরা আমাদের উতকৃষ্টতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে লড়াই করি। তোমাদের রয়েছে তোমাদের লড়ার পদ্ধতি আমাদের রয়েছে আমাদের। তোমরা যখন আমাদের ওপর আক্রমন করতে চাও আমরা তা করার অনুমোদন দেইনা, এমনকি আমাদের খুঁজেও পাবেনা। কিন্তু আমরা যখন তোমাদের আক্রমণ করি, আমরা লক্ষ্যভেদ করি, আমরা নিপুণ, নিশ্চিত আঘাত হানি এবং ধ্বংস করি। আমরা যখন ধ্বংস করতে পারি, আমরা তা করি দৃঢ় সিদ্ধান্তে; যখন আমরা ধ্বংস করতে পারিনা, আমাদের নিজেদের তোমাদের দ্বারা ধ্বংস হতে অনুমোদন দিইনা। যখন জেতার সম্ভাবনা আছে তখন লড়াই না করা হচ্ছে সুবিধাবাদ। যখন জেতার কোন সম্ভাবনা নেই তখন তাতে লেগে থাকা হচ্ছে হঠকারিতাবাদ। আমাদের রণনৈতিক সজ্জিতকরণ ও রণকৌশল আমাদের লড়ার আকাঙ্খাভিত্তিক। পশ্চাদাপসারণের প্রয়োজনীয়তার আমাদের স্বীকৃতি হচেছ প্রথমত আমাদের লড়ার প্রয়োজনের স্বীকৃতিভিত্তিক। আমরা যখন পশ্চাদপসারণ করি তখন তা করি ভবিষ্যত লড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে যাতে শত্রুকে আমরা চুড়ান্তভাবে ও সমগ্রভাবে ধ্বংস করতে পারি। কেবল ব্যাপক জনগণের সমর্থনের দ্বারাই আমরা এই রণনীতি ও রণকৌশলসমূহের বাস্তবায়ন ঘটাতে পারি। আর এসব প্রয়োগে আমরা গণযুদ্ধের শ্রেষ্ঠত্বের পুর্ণ প্রয়োগ ঘটাতে পরি এবং শত্রুকে পরাজিত অবস্থার নিষ্ক্রিয় পরিস্থিতিতে আটকে দিতে পারি, যদিও তারা অস্ত্রে উতকৃষ্টতর আর কোন্ পদ্ধতি তারা প্রয়োগ করলো তাতে কিছুই যায় আসেনা। আমরা সর্বদাই আমাদের হাতে উদ্যোগ টিকিয়ে রাখি। “গণযুদ্ধের বিজয় দীর্ঘজীবি হোক!”, সেপ্টেম্বব, ১৯৬৫।

এই নীতির প্রয়োগ আমাদের অনুমোদন দেয় গণযুদ্ধের শ্রেষ্ঠতর রণনীতির অপরাজেয়তা প্রদর্শনে, কারণ সর্বহারা শ্রেণী ইতিহাসের সর্বশেষ শ্রেণী হিসেবে যুদ্ধের নিজস্ব শ্রেষ্ঠ ধরণ সৃষ্টি করেছে এবং বুর্জোয়ারাসহ অপর কোন শ্রেণীই তার শ্রেষ্ঠতম রাজনৈতিক ও সামরিক রণনীতিবিদদের নিয়ে একে পরাজিত করতে সক্ষম নয়। প্রতিক্রিয়াশীলরা গণযুদ্ধের চেয়ে “উতকৃষ্টতর রণনীতিসমূহ” বিশদ করার স্বপ্ন দেখে, কিন্তু সেগুলো ব্যর্থতার দ্বারা নিন্দিত হয়, কারণ তারা ইতিহাসের বিরুদ্ধে। প্রায় আট বছর পর আমাদের গণযুদ্ধ বিজয় গর্বে ঝলক দিয়ে ওঠছে গণযুদ্ধের অপরাজেয়তা প্রদর্শন করে।

পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির জঙ্গী হিসেবে আমরা পার্টির সামরিক লাইন পুর্ণাঙ্গভাবে ও সমগ্রভাবে ধারণ করি যা সভাপতি গনসালো কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত, আন্তর্জাতিক সর্বহারার উচ্চতম সৃষ্টি মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের ভিত্তিতে যা গনসালো চিন্তাধারাসহকারে আমাদের সামরিক লাইন মূর্ত করেছে, আমাদেরকে এক অপারেজয় অস্ত্রে সজ্জিত করেছে যা হচ্ছে  গ্রামাঞ্চলকে প্রধান হিসেবে ও শহরকে পরিপূরক হিসেবে নিয়ে এক ঐক্যবদ্ধ গণযুদ্ধ। প্রধান ধরণের সংগ্রাম হিসেবে আমরা একে এগিয়ে নেই। চিরজীবি মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের সার্বজনীন প্রযোজ্যতাকে ঘোষণা করে এটা হচ্ছে বিশ্বের সামনে এক উজ্বল আলোকবর্তিকা ।

পার্টির সামরিক লাইন জিন্দাবাদ!

গণযুদ্ধ অপারেজয়!


কমরেড চারু মজুমদারের শহীদ বার্ষিকীতে বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের বিবৃতি

500x350_0718bd934ac49f1e112b30cd4cfd4285_charu_Majumder

শহীদ কমরেড চারু মজুমদার —লাল সেলাম!

মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ–জিন্দাবাদ!

সংশোধনবাদ ধ্বংস হোক-নিপাত যাক!

আজ ২৮ জুলাই কমরেড চারু মজুমদারের মৃত্যু বার্ষিকী।  ১৯৭২ সালের এই দিনে চারু মজুমদারকে হত্যা করা হয় জেলহাজতে।  প্রায় অচল এই মানুষটাকে রাষ্ট্র ভয় পেয়েছিল।কারণ প্রতিটা ঘরে ঘরে তখন একেকটা চারু মজুমদার জন্ম নিচ্ছিলো। ৭০ এর সেই উত্তাল দশকে চারু মজুমদার ভারত উপমহাদেশকে পথ দেখালেন। আদী ভারতীয় কমিউনিষ্ট আন্দোলনের সকল ধরনের সুবিধাদি লাইন ও নেতৃত্বের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে কমরেড চারু মজুমদার বিপ্লবী দিশা হাজির করলেন মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ(তৎকালে মাও চিন্তাধারা) এর আলোকে।  চীনের সর্বহারা বিপ্লবকে উর্দ্ধে তুলে ধরে কমরেড চারু মজুমদার এদেশে বিপ্লবী গণযুদ্ধের রাজনীতিকে হাজির করেন।  সকল ধরনের মধ্যপন্থাকে চূর্ণবিচূর্ণ করেন।  এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় বিপ্লবের সঠিক তাত্ত্বিক লাইন।  ভারতীয় বিপ্লবে চারু মজুমদার এক অবিস্মরণীয় নাম।  তাকে বাদ দিয়ে দক্ষিন এশিয়ার বিপ্লবকে ধারন করা যায় না।  তিনিই সর্বপ্রথম ভারতের বুকে সুবিধাবাদকে ঝেটিয়ে বিদায় করেন।  চারু মজুমদার বেঁচে থাকবেন আমাদের সংগ্রামের মাঝে।  আমরা তারই উত্তরসূরি।

বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন

b