ভারতের মাওবাদীরা মোবাইলের ব্যবহার সম্পূর্ণ বাতিল করেছে

Maoist-surrendering

কেরালায় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে চলমান অপারেশনে পুলিশ এক নতুন ধরণের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, মাওবাদীরা নিজ ক্যাডারদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার জন্যে মোবাইলের ব্যবহার সম্পুর্ন বাতিল করেছে, এতে করে মাওবাদীদের অবস্থানগুলি চিহ্নিত করতে বা তথ্য সংগ্রহের জন্য নিয়োজিত গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে।

কেরল পুলিশের কয়েকটি জেলার বিশেষ দলগুলি (ওয়াইনাদ, পালক্কাদ, কোজিকোড এবং মালাপ্পুরাম) একত্রিত হয়েও তারা সিপিআই (মাওবাদী) ক্যাডারদের বিস্তারিত সন্ধান করতে সক্ষম হয়নি, যদিও এসময় মাওবাদীরা জনসাধারণের মাঝে সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান করেছিল।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনও ধরণের ট্র্যাকিং এড়াতে মাওবাদী বিদ্রোহীরা মোবাইল ফোনের বা অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগ ডিভাইসগুলি ব্যবহার করে বন্ধ করে দিয়েছে। এর বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে তারা মানব কুরিয়ার ব্যবহার করার মতো প্রচলিত যোগাযোগ পদ্ধতিগুলি ব্যবহারে আরও বেশি সক্রিয় হয়েছে”।

কানুর রেঞ্জের ইন্সপেক্টর জেনারেল বলরাম কুমার উপাধ্যায় বলেন, ওয়াইনাডের বন এলাকায় মাওবাদীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, “তারা জানে যে আমরা তাদের দমনে অঙ্গীকারবদ্ধ অপারেশন শক্তিশালী করেছি”।

আরেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ‘মাওবাদীরা তাদের সেল গুলোর সাথে যোগাযোগের জন্য লংহ্যান্ড নোট ব্যবহার প্রথায় ফিরে গেছে। মাওবাদীদের কাছ থেকে জব্দ করা নথিপত্রের বিশদ বিশ্লেষণ করে মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দ্বারা প্রদত্ত নির্দেশিকা পাওয়া গেছে’।

মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, মোবাইল ফোন বহন করা বা এর ব্যবহার করে কোন তথ্য ডাউনলোডের বিরুদ্ধে ক্যাডারদের সতর্ক করা করেছে। সকল গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা নিজেদের অবস্থান ট্র্যাকিং এড়াতে নিজ কর্মীদের খুব সতর্কতার সঙ্গে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করতে বলা হয়েছে।

সূত্রঃ http://www.newindianexpress.com/states/kerala/2018/dec/28/maoists-shun-mobile-phones-to-prevent-tracking-by-agencies-1917478.html

Advertisements

আসামের মানুষ বাঙালিবিরোধী নয়, দাবি উলফার

AssamD

আসামের মানুষ বাঙালি বা বাংলাদেশের বিরোধী নয়—এমন দাবি করেছেন সংযুক্তি মুক্তি বাহিনী আসামের (উলফা) চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়ার। উলফার এই আলোচনাপন্থী নেতা আগরতলায় প্রথম আলোর কাছে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগও করেন।

জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন তালিকা (এনআরসি) আর নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে উত্তাল আসামের রাজনীতি। অভিযোগ, বাঙালিবিদ্বেষ থেকেই আসামের নাগরিকেরা ৪০ লাখেরও বেশি ভারতীয়র নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে চাইছে।

ত্রিপুরার সাবেক কট্টর সশস্ত্র সংগঠন অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্সের (এটিটিএফ) প্রধান সুপ্রিমো রঞ্জিত দেববর্মার ডাকে ত্রিপুরায় এসেছিলেন উলফার আলোচনাপন্থীদের নেতা অরবিন্দ। আগরতলা থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে এসরাই গ্রামে দুই নেতাই ভারত সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগ করেন।

উলফা চেয়ারম্যানের দাবি, ‘আমরা মোটেই বাঙালিবিদ্বেষী নই। আসামের নাগরিকেরা বরং বাঙালিদের বন্ধু বলে মনে করেন।’ একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ‘আমাদের (আসামের নাগরিক ও বাঙালিদের) লড়াই লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ব্রিটিশ আমলেই শুরু হয়েছিল এই দ্বিজাতি তত্ত্ব। এখনো সেটাই অব্যাহত।’

একই সঙ্গে সম্প্রতি আসামের তিনসুকিয়ায় পাঁচ বাঙালি হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অরবিন্দ রাজখোয়ার। তিনি মনে করেন, এর পেছনে গভীর রহস্য রয়েছে। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওঁরা কিসের বাঙালি! গরিব মানুষ। খেতে পান না। নিজেদের মধ্যে কথাও বলেন আসামের ভাষায়। রাজনৈতিক লাভের প্রশ্নেই প্রাণ দিতে হয়েছে তাঁদের। উলফা করেনি। তাহলে করল কে? কে খুন করল তাঁদের?’ তাঁর অভিযোগ, ভারত সরকার ঘটা করে তাঁদের আলোচনার টেবিলে ডেকে আনলেও শান্তি আলোচনা সঠিক পথে এগোচ্ছে না। প্রতারণা করা হচ্ছে। কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁদের এই শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চল ফের অশান্ত হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন অরবিন্দ রাজখোয়ার।

এদিকে অরবিন্দের বক্তব্যকে সমর্থন করে সুপ্রিমো রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, ত্রিপুরাতেও একই ছবি। আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে বলেও জানান তিনি।

অস্ত্র ছাড়লেও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাবেক দুই নেতা বলেন, নিজেরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাবি আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে আর অস্ত্র হাতে নয়, শান্তিপূর্ণভাবেই লড়াই করবেন নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায়।


পশ্চিমবঙ্গে আবার মাওবাদী সক্রিয়তা বাড়ছে, উদ্বিগ্ন প্রশাসন

রাজ্যে আবার মাওবাদী সক্রিয়তা শুরু হয়েছে, খোদ লালবাজারের পুলিশি রিপোর্ট তেমনটাই বলছে। আর এই রিপোর্ট পাওয়ার পড়েই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। রিাপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, বন্ধ কলকারখানা, বিভিন্ন বস্তি এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপ শুরু হয়েছে। জানা যাচ্ছে বাইরে থেকে বিভিন্ন লোকজনদের আনাগোনা চলছে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায়। এ বিষয়ে পুলিশকে বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রের খবর। কেন আবার মাওবাদী কার্যকলাপ বাড়ছে, তার অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রশাসনের নজরে এসেছে বিভিন্ন এলাকার বন্ধ কলকারখানা, এলাকার মস্তান ও তোলা বাজিরদের অত্যাচারে অতিষ্ট মানুষজনকে কাছে টানছে মাওবাদীরা। এলাকায় এলাকায় সরকার ও প্রশাসনের নানা ব্যর্থতা তুলে ধরে প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও প্রশাসনের কাছে খবর এসেছে। এই রিপোর্ট প্রশাসনকে যথেষ্ট উদ্বেগে রেখেছে বলে সূত্রের খবর। এর মোকাবিলা করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন তেমনটাই খবর।

সুত্রঃ satdin.in


গণপতির পরিবর্তে সিপিআই(মাওবাদী)’র নতুন সম্পাদক ‘নম্বলা কেশব রাও’

maoists-at-convention_6e73cb82-58bb-11e7-9dcc-cc63e7fed987-800x445

শারীরিক কারণে cpi( মাওবাদী) এর সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন  মুপলা লক্ষণরাও ওরফে গণপতি। বেশকিছুকাল ধরেই গণপতির সরে যাওয়া বা অপসারণ নিয়ে মিডিয়ায় খবর হচ্ছিল। হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে,  গণপতিকে সরিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন নামবালা কেসবরাও ওরফে বাসবরাজ। ১০ নভেম্বর তারিখে  জারি করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিপিঅাই মাওবাদী দলের কেন্দ্রীয় কমিটি জানিয়েছে শারিরীক কারণে পদ থেকে সরে দাঁড়াতে ইচ্ছে প্রকাশ করেন গণপতি। দলের কেন্দ্রীয় কমিটি সেই ইচ্ছেকে সম্মতি দিয়েছে। ওয়ারঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের স্নাতক বাসবরাজই এতদিন দলের নম্বরটু হিসাবে পরিচিত ছিলেন।  বেশ কিছুদিন ধরেই সিপিঅাই মাওবাদী দলের তরফে প্রবীণ নেতৃত্বের জায়াগায় অপেক্ষাকৃত কম বয়সের নেতাদের নিয়ে অাসার কথা বলা হচ্ছিল। সেই কৌশলের অঙ্গ হিসাবেও এই পরিবর্তন হয়ে থাকতে পারে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।

সূত্রঃ satdin.in


কমিউনিস্ট গেরিলাদের দমনে ‘ডেথ স্কোয়াড’ গঠনের ঘোষণা দিল ফিলিপাইন প্রেসিডেন্ট

NPA2-800x445

ফিলিপাইনের মাওবাদী- নিউ পিপলস আর্মি'(NPA)

মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের দমনে একটি ‘ডেথ স্কোয়াড’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। বুধবার তিনি বলেছেন, মাদকবিরোধী যুদ্ধের চেয়ে এর ব্যাপকতা বেশি হবে। দুতার্তের এই বক্তব্যের পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের আশঙ্কা, দুতার্তের নতুন এই দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়বে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, মাদকের বিরুদ্ধ লড়াইয়ে এরই মধ্যে ডেথ স্কোয়াডগুলো ভয়ংকর পরিবেশ তৈরি করেছে। নতুন করে এই বাহিনী সৃষ্টিতে অবস্থা আরো নাজুক হবে।

পুলিশের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের হাতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি এই নিহতের সংখ্যা অন্তত তিন গুণ বেশি হবে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘দুতার্তের এই ঘোষণা বিদ্রোহী, বামপন্থী, বেসামরিক নাগরিক এবং সরকারের সমালোচকদের নির্বিচারে আটকের অধিকার দেবে। তাঁর এই ঘোষণা ফিলিপাইনের অবস্থা আরো নাজুক করে তুলবে।’

বার্তা সংস্থা এএফপির এক খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে দেয়া এক বক্তৃতায় রদ্রিগো দুতার্তে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের হিট স্কোয়াড হিসেবে পরিচিত ‘স্প্যারো ইউনিটসকে’ লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলেন। 

৫০ বছর ধরে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান চালাচ্ছে ফিলিপাইন সরকার। পূর্ববর্তী সরকারের মতো দুতার্তেও প্রথমে কমিউনিস্টদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু গত বছর সেনা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর ভয়াবহ হামলার পর সে আলোচনা বাতিল হয়ে যায়। কমিউনিস্টদের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুতার্তে কমিউনিস্ট পার্টি অব দ্য ফিলিপাইনস এবং ৩৮০০ সদস্যের সশস্ত্র শাখা নিউ পিপলস আর্মিকে (এনপিএ) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেন। মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট দুতার্তে তাঁর ভাষণে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের দমনে ‘স্প্যারো ইউনিট’ নামে বাহিনী গঠনের কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজের একটা বাহিনীর অভাব বোধ করছি। এ কারণে কমিউনিস্টরা এখনো মাথাচাড়া দিচ্ছে। সুতরাং আমি নিজের একটা স্প্যারো বাহিনী তৈরি করব।’

ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেলফিন লোরেনজানা গতকাল বুধবার জানান, তাঁরা এই বাহিনীর পরিকল্পনা নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা করবেন। কে এটা পরিচালনা করবে, কে এটা দেখাশোনা করবে এবং কারা এর লক্ষ্যবস্তু হবে, তা নিয়ে কাজ করবেন। এই আইন অপব্যবহারের বড় বিপদ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

দুর্তাতের এই পরিকল্পনায় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ‘হোসে মারিয়া সিসন’ এবিএস-সিবিএন টেলিভিশনকে বলেন, শুধু ১৯৭০ ও ১৯৮০ দশকের দিকে স্প্যারো ইউনিটের অস্তিত্ব ছিল। দুতার্তে তাঁর একাধিক ডেথ স্কোয়াডের কার্যকারিতা প্রমাণে অনেক স্প্যারো ইউনিট তৈরি করছেন, যা অবৈধ।


আসামে উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের সশস্ত্র আন্দোলনে যোগদান বাড়ছে

ULFA-2

বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম প্রথম আলো জানাচ্ছে, রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি হওয়ায় ভারতের আসাম রাজ্যে সশস্ত্র আন্দোলনে তরুণদের যোগদান বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মের এভাবে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ায় উদ্বিগ্ন পুলিশ, প্রশাসন।

আসামের স্বাধীন গোষ্ঠীর (উলফা আই) স্বঘোষিত সর্বাধিনায়ক পরেশ বড়ুয়ার ভাইয়ের ছেলে মুন্না বড়ুয়া সম্প্রতি বাড়ি থেকে পালিয়ে জঙ্গি দলে যোগ দিয়েছেন।

ছেলের সশস্ত্র আন্দোলনে যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন পরেশ বড়ুয়ার ভাই বিমল বড়ুয়া।

সাংবাদিকদের কাছে বিমল বড়ুয়া বলেন, ‘ছেলে জেনেবুঝেই স্বজাতিকে রক্ষা করার কাজে গিয়েছে। বিন্দুমাত্র দুঃখ নেই।’

আসামের গণমাধ্যম উলফা আই নেতা পরেশ বড়ুয়াকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তাঁর ভাইয়ের ছেলে স্বেচ্ছায় সশস্ত্র আন্দোলনে নাম লেখানোয় তিনি খুশি। আসাম জাতির জন্য এই আত্মত্যাগ তাঁকে গর্বিত করেছে বলেও নাকি পরেশ মন্তব্য করেছেন।

শুধু মুন্না বড়ুয়াই নন, রাজ্যে নতুন করে সশস্ত্র আন্দোলনে তরুণদের যোগদান বাড়ছে। উচ্চশিক্ষিত তরুণেরা নিজেদের পেশা ভুলে যোগ দিচ্ছেন জঙ্গলের জীবনে। এই প্রবণতায় বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক কুলধর শইকিয়া গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের সশস্ত্র আন্দোলনে যোগদান বন্ধে সব রকম তৎপরতা শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ। সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিবেশী রাজ্যগুলোকে সতর্ক করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন আসামের পুলিশপ্রধান। সেই সঙ্গে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।

এমনকি আসামের পুলিশপ্রধান তরুণদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, বন্দুকের নল দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে এই মত মানতে নারাজ উলফার আলোচনাপন্থী নেতা অনুপ চেটিয়া। তাঁর ভাষ্য, আসামের নাগরিকেরা আজ অস্তিত্বের সংকটে। নাগরিকত্ব বিল পাস হলে অনুপ্রবেশকারীতে ভরে যাবে আসাম। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতি তাই আস্থা নেই তরুণদের। এ কারণে তাঁরা হাতে অস্ত্র তুলে নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দিতে চায় ভারত সরকার। এ জন্য বিল আনা হয়েছে পার্লামেন্টে। বিলটি বর্তমানে যৌথ সংসদীয় কমিটির বিবেচনাধীন।

অনুপ চেটিয়াদের মতে, বিলটি পাস হলে সমস্যায় পড়বে আসামের নাগরিকেরা। তাই তাঁরা ‘বিদেশি অনুপ্রবেশ’ ঠেকাতে প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসছেন।


পশ্চিমবঙ্গে ‘মাওবাদী সাহিত্য’ পাওয়ার অভিযোগে গণ ও রাজ‌নৈ‌তিক আন্দোল‌নের কর্মী গ্রেফতার

404_09_06_13_ATS_arrests_7_suspected_Maoists_in_Mumbai_H@@IGHT_510_W@@IDTH_680

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুরের মাকলি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জঙ্গল লাগোয়া একটি ফুটবল মাঠে অভিযান চালিয়ে গণআ‌ন্দোলন ও রাজ‌নৈ‌তিক আন্দোল‌নের কর্মী টিপু সুলতান ওরফে স্বপন, অর্কদীপ গোস্বামী, সঞ্জীব মজুমদার ও সব্যসাচী গোস্বামী‌কে গ্রেপ্তার ক‌রে‌ছে পু‌লিশ। ওদের কা‌ছে “মাও‌য়িস্ট লিটা‌রেচার” পাওয়া গে‌ছে ব‌লে পু‌লি‌শের অভি‌যোগ। 

সব্যসাচী ও সঞ্জীব সোদপুরের বাসিন্দা। অর্কদীপ ওরফে বিজয়ের বাড়ির কলকাতার পর্ণশ্রী এলকায়। টিপু সুলতানের বাড়ি বীরভূমে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু লিফলেট ও প্রচার পুস্তিকা উদ্ধার হয়েছে। তাতে মাওবাদী রাজ্য কমিটির সম্পাদক আকাশের নাম রয়েছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গলমহলের আদিবাসীদের সশস্ত্র লড়াইয়ের ডাক দেওয়ার কথা লেখা রয়েছে ওই প্রচার পুস্তিকা ও লিফলেটগুলিতে। ধৃতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৯, ১২০, ১২১, ১২২, ১২৩, ১২৪এ-সহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এ দিন ধৃতদের গড়বেতা আদালতে তোলা হবে।

ধৃতদের সঙ্গে মাওবাদী যোগের কথা অস্বীকার করেছে এপিডিআর। সংগঠনের পক্ষ থেকে রঞ্জিত শূর বলেন, “আমরা ওঁদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেছি। আদিবাসীদের উন্নয়ন ও কয়েকটি সমীক্ষার কাজে গতকালই জঙ্গলমহলে গিয়েছিলেন সব্যসাচী-অর্কদীপরা। পুলিশ ওঁদের গ্রেফতার করেছে।” অবিলম্বে ধৃতদের মুক্তির দাবিও জানান তিনি।

সব্যসাচীর নাম এর আগেও কয়েক বার প্রকাশ্যে এসেছে। শীর্ষ মাওবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত। অর্কদীপ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে পড়েছেন। অন্য দিকে, বিশ্বভারতীতে স্নাতকোত্তর শেষ করে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হয়েছেন টিপু ওরফে স্বপন।

সূত্রঃ https://www.anandabazar.com/state/four-suspected-maoist-arrested-from-goaltore-dgtl-1.897719