স্বাধীনতা দিবসে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে আত্মপ্রকাশ মাওবাদীদের

85320-mb

ফের বাংলায় আত্মপ্রকাশ করল মাওবাদীরা। সেই সঙ্গে ম্লান হয়ে গেল মুখ্যমন্ত্রীর দাবি করা ‘জঙ্গলমহল হাসছে’।

জানা গিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার সকালে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় এলাকায় একটি সরকারি স্কুলে কালো পতাকা উত্তোলন করে মাওবাদীরা। শুধু তাই নয়, মাওবাদী মতাদর্শের পক্ষে নানাবিধ পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে অযোধ্যা পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। একইসঙ্গে উঠেছে সরকার বিরোধী স্লোগান।

চার বছর চুপ থাকার পর জঙ্গলমহলে চোখে পড়ল মাওবাদী কার্যকলাপ। এর আগে ২০১৩ সালে শেষবারের মতো মাওবাদী কার্যকলাপ দেখা গিয়েছিল রাজ্যের জঙ্গলমহল এলাকায়। তারপর আর মাওবাদীদের সক্রিয়তা দেখা যায়নি। এই ঘটনাকে রাজ্য সরকারের সাফল্য বলেই দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সাফল্যে যে ভাটা পড়তে চলেছে এদিনের ঘটনা তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

সূত্রঃ https://www.kolkata24x7.com/maoist-come-out-in-bengal-after-four-years.html


৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকা শ্রমজী‌বি মু‌ক্তি আন্দোল‌নের প্রধান নেতা আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু

নিষিদ্ধ ঘোষিত শ্রমজী‌বি মু‌ক্তি আন্দোল‌নের প্রধান নেতা আনোয়ার হোসেন দেবুর মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রোগাক্রান্ত ছিলেন তিনি।

বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, ৪৫ বছর ধরে আত্মগোপনে থাকা আনোয়ার হোসেন রবিবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃতুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী, ৬ মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা রবিবার রাতে মৃতদেহ আনতে রওনা হয়েছেন।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভরতপুর গ্রামে আনোয়ার হোসেন দেবুর বাড়ি। তার বাবার নাম মৃত আনসার আলী। যুবক বয়সে মাঠে কৃষি কাজ ও রাস্তায় মাটি কেটে জীবিকা নির্বাহ করা আনোয়ার হোসেন মাত্র ২২ বছর বয়সে যোগ দেন বিপ্লবী কমিউনিষ্ট (হক গ্রুপ) পার্টিতে। প‌রে শ্রমজী‌বি মু‌ক্তি আন্দোলন না‌মে দল গ‌ড়ে তো‌লেন। গোপন সংগঠনে তার নাম হয় দেবু। দ‌ক্ষিন প‌শ্চিমাঞ্চ‌লে ১৯৯৭ সা‌লের পর ১ দশ‌কের বেশী সময় ধ‌রে প্রাধান্য বিস্তার ক‌রে ছি‌ল তার এই দল‌টি। দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থিদলের আত্মসমর্পন প্রক্রিয়ার সমন্বয়কারী মীর ইলিয়াস হোসেন দিলিপের আহবানে সাড়া দিয়ে তিনি ২০০০ সালে আত্মসর্পন কর‌লেও চ‌ল্লিশ বছ‌রের বেশী সময় পলাতক জীবন যাপন ক‌রে‌ছেন। পরে শ্রমজীবী মুক্তি আন্দোলনের গোপন সংগঠন গণমুক্তি ফৌজে যোগদান করার কথা শোনা যায়।

অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আর পুলিশের নজরদারী এড়িয়ে দেবু বাহিনী নিয়ে ঝিনাইদহের পশ্চিমাঞ্চলে ঘাঁটি তৈরি করেন। গোপন দলগুলোর বহুধা বিভক্তির কারণে আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি ও পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির সাথে বহুযুদ্ধে অংশ নেওয়ার কথা শোনা যায়। অল্পদিনে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে জেলার আন্ডারগ্রাউন্ড মহলে।

কিছুদিন তিনি জনসমক্ষে চলাফেরা করলেও আবারো আত্মগোপনে চলে যান।

পুলিশ ও র‌্যাবসহ সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর আধুনিকায়নের ফলে জেলাব্যাপী চরমপন্থি দমনে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। আনোয়ার হোসেন দেবুর অনেক সহযোগী পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে নিহত হন। এমনকি তার আপন ভাই তপুও কিডন্যাপ হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি।

দেশব্যাপী ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের মধ্যে দেবু রাজবাড়ি ও ফরিদপুর এলাকায় আত্মগোপন করেন। উন্নত তথ্য প্রযুক্তির যুগেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি সরকারের কোন বাহিনী। দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকা নিঃসঙ্গ দেবু অবশেষে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন।

 


মাওবাদী মোকাবিলায় মোবাইল, সড়কে জোর কেন্দ্রের

498921-jpg_343336_1000x667

মাওবাদীদের মোকাবিলায় মোবাইল ফোনের যোগাযোগকে আরো গুরুত্ব দিতে চাইছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ইতিমধ্যে মাও প্রভাবিত এলাকায় ২০০০ মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করেছে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রক। দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী গত ৮ অগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে মাও প্রভাবিত ৬ রাজ্যের বৈঠকে ঠিক হয়েছে এই সব অঞ্চলে মোবাইল টাওয়ার  সড়ক ও বিমান পরিষেবার উন্নতির উপর জোর দেওয়া হবে। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে  এই সব এলাকায় সড়ক তৈরি যে আসলে মাওবাদীদের শায়েস্তা করার জন্য, এলাকার উন্নয়নের জন্য নয় তা একপ্রকার স্বীকার করে নেওয়া হল এই বৈঠকে।

সূত্রঃ satdin.in

 


ট্রেন থেকে সিপিআই(মাওবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রাক্তন সদস্য তুষার ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার

Naxalite-leader-Tusharkranti-Bhattacharya

সিপিআই(মাওবাদী)’র  কেন্দ্রীয় কমিটির প্রাক্তন সদস্য তুষার ভট্টাচার্যকে নাগপুরের কাছে চলন্ত ট্রেন থেকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করল গুজরাট পুলিস। মঙ্গলবার গ্রেফতার করল গুজরাট পুলিস। তুষারের  স্ত্রী নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা সোমা সেন  সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন এক পুরনো মামলায় গুজরাট পুলিস তাকে গ্রেফতার করেছে। ২০১০ সালের যে মামলায় এই মাওবাদী নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেই সময় তিনি জেলে ছিলেন বলে দাবি করেছেন সোমা। ২০০৭ সালে তুষার ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করে বিহার পুলিস। বেশ কয়েকবছর জেলে থাকার পর তিনি ছাড়া পান। সোমা সেন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যের কারণে তিনি অধিকাংশ সময় বাড়িতেই থাকতেন। হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী বাঙালি হলেও  তুষার তেলেঙ্গানাতেই মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসাবে উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে সংগঠনের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

ছবি – nagpur today এর সৌজন্যে

rahul-sharma-gujarat-ips

সূত্রঃ satdin.in


তুরস্কে মাওবাদী MKP ও HKO এর ৩ কমরেড যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন

DGQUNoXVoAEGkai

তুরস্কের বুর্জোয়া সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, দারসিম অঞ্চলের ওভাচিক এ দখলদারী সরকারী সেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে মাওবাদী MKP ও HKO এর ৩ কমরেড শহীদ হয়েছেন ।


কাশ্মীরের ঢঙেই এবার গোপন গোয়েন্দা পাঠিয়ে মাও দমন করবে ভারত ?

 

সম্প্রতি মাওবাদী হামলার ঘটনায় রীতিমত কপালে ভাঁজ পড়েছে কেন্দ্রের। এই বিষয়ে একটি রিভিউ মিটিংও হয়েছে। যেখানে ছিলেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এবার তাই মাওবাদীদের রুখতে ছত্তিসগড়ের মত জায়গায় গোপনে গোয়েন্দা পাঠাতে হবে বলেই মনে করছে কেন্দ্র। ঠিক যেভাবে জঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করতে কাশ্মীরে ছদ্মবেশে গোয়েন্দা পাঠানো হয়, সেভাবেই মাওবাদীদেরও এবার কড়া হাতে দমন করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র।

গত ৮ মে ১০টি মাও অধ্যুষিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্র। সিনিয়র সিকিউরিটি অ্যাডভাইসর কে বিজয় কুমার অন্তত আটটি মিটিং করেছেন। যার মধ্যে ছ’টিই ছত্তিসগড়ের অফিসারদের সঙ্গে।

এর আগে রাজনাথ বলেন, ‘সিলভার বুলেটে’ মাও দমন সম্ভব নয়। কোনও শর্ট কাটে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না। শর্ট টার্ম, মিডিয়াম-টার্ম ও লং-টার্ম সমাধান করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, বুলেটে সব সমস্যার সমাধান হয় না। গোয়েন্দাদের খুঁজে বের করতে হবে মাওবাদীদের টার্গেটগুলি। রাজ্যগুলিকেও মাওবাদী দমনের অপারেশনে যোগ দিতে হবে। মাও অধ্যুষিত জঙ্গলগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা, জল, খাবার দেওয়ার ব্যবস্থাতেও আরও জোর দেওয়ার কথা বলেন রাজনাথ।

সূত্রঃ https://www.kolkata24x7.com/on-government-priority-shadow-intelligence-officers-for-top-maoist-in-chattisgarh.html


ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের গেরিলা হামলায় নিহত পুলিশ অফিসার, আহত কনস্টেবল

498920-jpg_343339_1000x667

ছত্তিশগড়ে সশস্ত্র মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছে জেলা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর, জখম হয়েছেন এক কনস্টেবল। আইজি (দুর্গ রেঞ্জ) দীপাংশু কাবরা জানিয়েছেন, রবিবার দুপুরে ছত্তিশগড়ের রাজনন্দগাঁও জেলার গাটাপার থানার অধীনে মাওবাদী অধ্যুষিত জঙ্গলে মাওবাদী দমন অভিযানে নামে জেলা পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষিত ই-৩০ বাহিনী। রাজনন্দগাঁও শহর থেকে ১৫০ কিমি দূরে ভাবে গ্রামের কাছে জঙ্গল ঘিরে ফেলার পরে আচমকা বাহিনীকে নিশানা করে গোপন আস্তানা থেকে গুলি চালাতে শুরু করে মাওবাদীরা। সংঘর্ষে সাব-ইন্সপেক্টর যুগল কিশোর ভার্মার শরীরে গুলি লাগলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। জঙ্গলের ভিতরে পড়ে থাকা মৃত পুলিশ আধিকারিকের দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রসঙ্গত, রাজনন্দগাঁওয়ের এক বড় অংশ ঘেঁষে রয়েছে মহারাষ্ট্রের গোন্ডিয়া ও গাডচিরোলি অঞ্চল এবং মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট এলাকা। বেশ কয়েক বছর যাবত এই বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে প্রভাব বিস্তার করেছে মাওবাদীরা। সম্প্রতি বস্তার থেকে উদ্ধার হওয়া মাওবাদী নথি অনুসারে, এই অঞ্চলেই নয়া সদর ঘাঁটি গড়ে তোলার চেষ্টায় রয়েছে মাওবাদীরা।

সূত্রঃ

http://www.timesnownews.com/india/article/chhattisgarh-police-sub-inspector-constable-killed-in-encounter-with-maoists/69886