প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা কমরেড নিজামুদ্দিন মতিন

 

বাংলাদেশের ফেসবুকে বামপন্থীদের বিভিন্ন পোস্ট ও দেশটির জাতীয় দৈনিক ‘ঢাকা ট্রিবিউন’ জানাচ্ছে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট রাজনীতির অন্যতম ব্যক্তিত্ব, মাওবাদী ধারার কমিউনিস্ট পার্টি ‘পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(এমবিআরএম)’ এর সম্পাদক কমরেড নিজামুদ্দিন মতিন ওরফে কমরেড ‘ক’ ওরফে কমরেড শাহিন গত ১২ই আগস্ট সকাল ১১টায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫বছর। তিনি দীর্ঘদিন যাবত কিডনি রোগে ভুগছিলেন। ১৯৫৫ সালে বরিশালের আলেকান্দায় জন্ম নেয়া মাওবাদী ধারার এই কমিউনিস্ট ব্যক্তিত্ত্ব মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৯ সালে তিনি সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে পুর্ব বাংলার শ্রমিক আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৭৫সালে কমরেড  সিরাজ শিকদারকে হত্যার সময়ে কমরেড নিজামুদ্দিন মতিন জেলে ছিলেন। সেখানেই বিভিন্ন কেন্দ্রের বিভ্রান্তি এড়াতে নিজেরা তৈরী করেন “সত্ত্বা” নামে একটি আলাদা গ্রুপ। পরে আবার মিশে যান মূলধারার সাথে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাবনা, টাংগাইল ফ্রন্টের দ্বায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট রাজনীতিতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর অসংখ্য লেখা থেকে “শামুরবাড়ির প্রতিরোধ” স্মৃতিচারণমুলক লেখাটা ‘লাল সংবাদ’ আজ প্রকাশ করেছে।

 

 
Advertisements

মাদারীপুরে সর্বহারা অধ্যুষিত শিবচরে নৌপুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধন

photo-1518355660

সর্বহারা অধ্যুষিত মাদারীপুরের শিবচরের প্রত্যন্ত এলাকায় নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সেক্রেটারি ও অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি নূর-ই আলম চৌধুরী (এমপি) এবং নৌপুলিশের ডিআইজি শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান (বিপিএমপিপিএম) এ ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।

গতকাল শনিবার বিকেলে শিবচর উপজেলার চরমপন্থী অধ্যুষিত নিলখী ইউনিয়নের কলাতলা এলাকায় নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় নৌপুলিশের ডিআইজি শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান বলেন, চরমপন্থী সর্বহারা অধ্যুষিত এলাকায় জেলা পুলিকে সহযোগিতা করতে নৌপুলিশ ফাঁড়ির যাত্রা শুরু হলো। চরমপন্থী যেই হোক এই এলাকায় কেউ কোনো কর্মকাণ্ড করে রেহাই পাবে না।’

উল্লেখ্য যে, শিবচর এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(MBRM) অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত।

সূত্রঃ http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2018/04/29/630720


কথিত বন্দুকযুদ্ধে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন) এর সদস্য নিহত

Rajbari-pic-2

বাংলাদেশের গণমাধ্যম banglatribune.com জানাচ্ছে, রাজবাড়ী জেলা সদরের জৌকুড়া বালু ঘাট এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ছাইদুল ওরফে আমির সরদার (৩২) নামে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন – MBRM) এর এক সদস্য নিহত হয়েছে। সোমবার (১৭ এপ্রিল)  দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি এসএলআর, ৩২ রাউন্ড গুলি, একটি দোনালা বন্দুক, ২৩টি কার্তুজ, ১টি ধারালো ছোরা, ৬টি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আসমা সিদ্দিকা মিলি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ বলছে, নিহত ছাইদুল পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানার চাচকিয়া গ্রামের তাহামুদ্দিন তনু সরদারের ছেলে। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি(মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন – MBRM) এর আঞ্চলিক কমান্ডার ছিল।

পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি জানান,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৌকুড়া এলাকায় ডিবি পুলিশ অভিযান চালায়। চরমপন্থী সর্বহারা সদস্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশের দিকে গুলি চালায়।  পুলিশও তাদের নিজেদের জানমাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। দু’পক্ষের গোলাগুলির এক পর্যায়ে চরমপন্থী সর্বহারার সদস্যরা পিছু হটে চরের বিভিন্ন দিকে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় ছাইদুলকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজবাড়ী সদর হাসপাতোলের জরুরী বিভাগে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাত পৌনে ৪টায় মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, নিহত চরমপন্থী  ছাইদুল পাবনা জেলায় ২টি হত্যা, ২টি অস্ত্র, ১টি অপহরণ মামলাসহ মোট ৭টি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলো।

 


কুষ্টিয়ায় কথিত বন্দুক যুদ্ধে ‘লাল পতাকা’র সদস্য নিহত

স

পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি(এমএল-লাল পতাকা)’র সক্রিয় সদস্য আব্দুল কুদ্দস ওরফে সাগর(৪৫) গত ৫ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের গড়াই নদীর চরে র‌্যাবের সাথে কথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহত  হয়েছে।

নিহত আব্দুল কুদ্দস ওরফে সাগর রাজবাড়ী জেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা এলাকার তারক আলীর ছেলে। তিনি এলাকায় বালুর ব্যবসা করতেন।

সাগর চরমপন্থী সংগঠন `লাল পতাকার’ সদস্য বলে র‌্যাব কর্মকর্তা মুহাইমিনুল হক জানান ।

সাগরের স্ত্রী চম্পা খাতুন bdnews24.comকে বলেন, গত ২৯ মার্চ রাত ১০টার দিকে বাড়ি থেকে রেব হন সাগর। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এদিকে র‌্যাব কর্মকর্তা মুহাইমিনুল বলেন, নাশকতা তৈরির উদ্দেশ্যে একদল সন্ত্রাসী ঘোড়াঘাট এলাকার গড়াই নদীর চরে গোপন বৈঠক করছে খবর পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা সেখানে অভিযান চালায়।

“র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। জবাবে র‌্যাবও পাল্টা গুলি করে। গোলাগুলির এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সাগরকে পাওয়া যায়।”

তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে মুহাইমিনুল জানান।

তিনি বলেন, গোলাগুলির ঘটনায় দুই র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।  

ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক ও গুলি উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে র‌্যাব।  

 


বাংলাদেশঃ যশোর কারাগারে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি’র ২ সদস্যকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে

photo-1510887646

চুয়াডাঙ্গা জেলার মনোয়ার মেম্বর হত্যা মামলায় পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির ২ আঞ্চলিক নেতা মোকিম ও ঝড়ুর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) রাত পৌনে ১২টায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সিনিয়র জেল সুপার কামাল আহমেদ।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু তালেব বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আসামিরা হলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের মৃত মুরাদ আলীর ছেলে আব্দুল মকিম (৬০) ও একই গ্রামের মৃত আকছেদ আলীর ছেলে ঝড়ু (৬২)।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে কারাগারের সামনে ও আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। জেলখানার মূল ফটকের সামনের রাস্তায় যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও প্রশাসনের অনুরোধে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ করতে দেখা যায়। পুলিশ ও কারারক্ষী ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থার লোকজনের উপস্থিতি দেখা যায়।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, দুই আসামির ফাঁসি কার্যকরের লক্ষে চলতি সপ্তাহে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুই জল্লাদকে যশোরে এনে মহড়া দেওয়া হয়। রাত ১১টার দিকে দুইটি এ্যাম্বুলেন্স, জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও সিভিল সার্জন কারাগারে যান।

সশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা ১৯৯৪ সালের ২৮ জুন চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মনোয়ার হোসেনকে হত্যা করে। এ ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই অহিম উদ্দিন বাদী হয়ে ২১ জনকে আসামি করে আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ একযুগ পর ২০০৬ সালে ৩ আসামির ফাঁসি, ২ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৬ আসামির বেকসুর খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেন আদালত। তবে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা উচ্চ আদালতে রিভিউ করলে এক আসামির ফাঁসি মওকুফ করা হয়।

সূত্রঃ http://www.banglanews24.com/national/news/bd/617868.details


বগুড়ায় পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি – সিসি’র পোস্টারিং

image-104436-1507384391

বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি – সিসি পোস্টারিং করেছে। গত শনিবার সকালের দিকে এলাকাবাসীর নজরে আসে এই পোস্টারগুলো।  

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সরেজমনি দেখা যায়, উপজেলার মথুরাপুর গ্রাম থেকে শিমুলকান্দি গ্রাম পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে ঘরের বেড়া, স্কুলের নামফলক ও গাছের সাথে এসব পোস্টার সাটানো হয়েছে। এরমধ্যে মথুরাপুর গ্রামে জয়নাল আবেদীনের ঘরের বেড়ায়, উলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম ফলকে ও শিমুলকান্দি গ্রামে রাস্তার পাশে গাছের সাথে পোস্টারগুলো শোভা পাচ্ছে।

পোস্টারে লাল রঙের ছাপা অক্ষরে লেখা রয়েছে, সর্বহারা পার্টির ৪র্থ জাতীয় কংগ্রেসের আহ্বান-শোষনহীন শ্রেণিহীন বিশ্বসমাজ কমিউনিজমের লক্ষ্যে সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য মার্কসবাদ লেলিনবাদ মাওবাদের মতবাদকে আঁকড়ে ধরুন। ঐক্যবদ্ধ হোন-একটি একক মাওবাদী পার্টি ও একটি নতুন ধরনের কমিউনিস্ট আর্ন্তজাতিক সংগঠন গড়ে তুলন। এছাড়া সরকার বিরোধী বিভিন্ন ধরনের স্লোগান রয়েছে। প্রচারে পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি।

মথুরাপুর গ্রামের মাদ্রাসা ছাত্র রাসেল মাহমুদ জানায়, সকাল বেলা ঘর থেকে বের হয়ে ঘরের বেড়ার সাথে এই পোস্টার লাগানো দেখেছে। কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে তা বলতে পারছে না। তবে পোস্টারে সরকার বিরোধী বিদ্রোহের ভাব প্রকাশ করা হয়েছে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আজাহার আলী ভূইয়া বলেন, কে বা কারা কখন এই পোস্টারগুলো লাগিয়েছে তা বলা সম্ভব হচ্ছে না।

মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ সেলিম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আশির দশকে এই এলাকায় সর্বহারা পার্টির আখড়া ছিল। ওই সময় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সর্বহারাপার্টি এলাকা থেকে বিদায় নিয়েছিল। কিন্ত আবারো পোস্টার লাগিয়ে এলাকায় সর্বহারা পার্টির আগমণের জানান দিচ্ছে। এ বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

ধুনট থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, কতিপয় অসাধু ব্যক্তি তামাসা করার জন্যই এ ধরনের পোস্টার প্রচার করেন। প্রকৃত পক্ষে এই এলাকায় সর্বহারা পার্টির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারপরও এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্রঃ dainikamadershomoy


৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকা শ্রমজী‌বি মু‌ক্তি আন্দোল‌নের প্রধান নেতা আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু

নিষিদ্ধ ঘোষিত শ্রমজী‌বি মু‌ক্তি আন্দোল‌নের প্রধান নেতা আনোয়ার হোসেন দেবুর মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রোগাক্রান্ত ছিলেন তিনি।

বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, ৪৫ বছর ধরে আত্মগোপনে থাকা আনোয়ার হোসেন রবিবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃতুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী, ৬ মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা রবিবার রাতে মৃতদেহ আনতে রওনা হয়েছেন।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভরতপুর গ্রামে আনোয়ার হোসেন দেবুর বাড়ি। তার বাবার নাম মৃত আনসার আলী। যুবক বয়সে মাঠে কৃষি কাজ ও রাস্তায় মাটি কেটে জীবিকা নির্বাহ করা আনোয়ার হোসেন মাত্র ২২ বছর বয়সে যোগ দেন বিপ্লবী কমিউনিষ্ট (হক গ্রুপ) পার্টিতে। প‌রে শ্রমজী‌বি মু‌ক্তি আন্দোলন না‌মে দল গ‌ড়ে তো‌লেন। গোপন সংগঠনে তার নাম হয় দেবু। দ‌ক্ষিন প‌শ্চিমাঞ্চ‌লে ১৯৯৭ সা‌লের পর ১ দশ‌কের বেশী সময় ধ‌রে প্রাধান্য বিস্তার ক‌রে ছি‌ল তার এই দল‌টি। দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থিদলের আত্মসমর্পন প্রক্রিয়ার সমন্বয়কারী মীর ইলিয়াস হোসেন দিলিপের আহবানে সাড়া দিয়ে তিনি ২০০০ সালে আত্মসর্পন কর‌লেও চ‌ল্লিশ বছ‌রের বেশী সময় পলাতক জীবন যাপন ক‌রে‌ছেন। পরে শ্রমজীবী মুক্তি আন্দোলনের গোপন সংগঠন গণমুক্তি ফৌজে যোগদান করার কথা শোনা যায়।

অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আর পুলিশের নজরদারী এড়িয়ে দেবু বাহিনী নিয়ে ঝিনাইদহের পশ্চিমাঞ্চলে ঘাঁটি তৈরি করেন। গোপন দলগুলোর বহুধা বিভক্তির কারণে আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি ও পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির সাথে বহুযুদ্ধে অংশ নেওয়ার কথা শোনা যায়। অল্পদিনে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে জেলার আন্ডারগ্রাউন্ড মহলে।

কিছুদিন তিনি জনসমক্ষে চলাফেরা করলেও আবারো আত্মগোপনে চলে যান।

পুলিশ ও র‌্যাবসহ সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর আধুনিকায়নের ফলে জেলাব্যাপী চরমপন্থি দমনে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। আনোয়ার হোসেন দেবুর অনেক সহযোগী পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে নিহত হন। এমনকি তার আপন ভাই তপুও কিডন্যাপ হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি।

দেশব্যাপী ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের মধ্যে দেবু রাজবাড়ি ও ফরিদপুর এলাকায় আত্মগোপন করেন। উন্নত তথ্য প্রযুক্তির যুগেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি সরকারের কোন বাহিনী। দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকা নিঃসঙ্গ দেবু অবশেষে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন।